somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ডাউনলোড করুন বাংলা কুরআন সফটওয়্যার
চমত্কার এই সফটওয়্যারটির সাইজ মাত্র ১.৮৬ মেগাবাইট। এটা সরাসরি ডাউনলোড করতে পারবেন এই লিংক থেকে - Click This Link

সফটওয়্যারটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে পড়ুন আমার ব্লগের এই প্রবন্ধটি -
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28838833 http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28838833 2008-09-04 22:28:33
ইফতার - প্রণব ভট্ট Click This Link

গত কয়েক বছর পূজার ছুটিতে বাড়ি যাওয়া হয়নি দয়াময়র। এর মধ্যে তো টানা দু বছর সে দেশেই ছিল না। সে আর হেমন্ত এমএস করতে দেশের বাইরে গিয়েছিল। ওই পর্ব অবশ্য শেষ, তারা দেশে ফিরেছে। কিছুদিন তারা দেশে থাকবে। তারপর পিএইচডি করার জন্য আবার বাইরে চলে যাবে। সুতরাং এ বছর যদি পূজার সময় বাড়ি যাওয়া না হয়, তাহলে বেশ কয়েক বছর আর যাওয়া হবে না। হেমন্তকে সে আগেই বলে রেখেছে, হেমন্তরও কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি না থাকার কারণও আছে। দয়ামীয়কে সে ভালোবাসে প্রচণ্ড। এটা আপত্তি না করার পেছনে বড় একটা কারণ। দ্বিতীয় কারণটিও কম বড় নয়, এ দেশে হেমন্তর কেউ নেই। সুতরাং পূজার সময়টা সে যদি দয়াময়ীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে কাটায়, সেটা বউ নিয়ে নিজের বাড়িতে থাকার মতোই হবে।

পূজার সময় বাড়ি যাচ্ছে, এটা দয়াময়ীর ভেতরে উত্‍সাহ সৃষ্টি করেছে খুব। তার বাবা-মা দুজনই বেঁচে আছেন। খুব বড় না হলেও বড় দাদা ওই শহরেই ব্যবসা করছেন। ঠিকাদারি। দু দিদি অবশ্য দু জায়গায় ছড়িয়ে। দেশে ফিরে যাদের সঙ্গে কথা বলেছে দয়াময়ী, তারাও বলেছে এবারের পূজায় তারাও যাবে। বহুদিন পর সবাই একসঙ্গে হলে কী যে মজা হবে, সে তো বোঝাই যাচ্ছে!

তাদের দেশের বাড়ি সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায়। একসময় বেশ কয়েক ঘর হিন্দুর বসবাস ছিল সেখানে। এখন নানা কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো যে কয়েক ঘর আছে, তারা খুব জাঁকজমক আর হইচইয়ের সঙ্গেই পূজা করে। হয়তো সেটা ঠিক দয়াময়ীদের ছোটবেলার মতো হয় না। যেটুকু হয়, তাতেও আনন্দ অনেক। এই আনন্দের মধ্যে একটু খচখচানি শুধু থাকে - ছোটবেলার সব বন্ধুকে যদি একসঙ্গে পাওয়া যেত, সবার সঙ্গে যদি দেখা হতো!

হেমন্ত তাকে বলে, ‘খামোখা একটা আশা করলেই হবে না, সব পুরনো বন্ধুকে তুমি কী করে পাবে!’

‘পাব না। আমি জানি।’ দয়াময়ী বলে, ‘কিন্তু ভাবতে ভালো লাগে।’

হেমন্ত হাসে।

‘হেসো না। আমার কী মনে হয়, জানো?’ দয়াময়ী বলে, ‘আমার মনে হয় গেলাম বাড়িতে, শিমুলতলীতে, আর দেখলাম ছোটবেলার সব বন্ধু এসে হাজির। অঞ্জু, বীণা, জাহেদা, সালমা, আফরোজা, বেলী, নাগমা, শ্যামলী, সুমিত্রা … আরো কত কে!’

‘ওদের অনেকের সঙ্গে তোমার হয়তো আর কোনো দিন দেখা হবে না!’ হেমন্ত বলে।

‘কীভাবে হবে?’ দয়াময়ী জানায়, ‘ওদের অনেকে এখন দেশেই নেই। কেউ কেউ বিয়ের পর কোথায় ছড়িয়ে পড়েছে কিছুই জানি না! তবে কেউ কেউ তো এখনো আছে, তাই না?’

‘আর তাদের সঙ্গে দেখা হলে কী মজাটাই না হয়!’ হেমন্ত দয়াময়ীর মতো করে বলে।

দয়াময়ী সেটা বুঝতে পারে, ঠোঁট টিপে হাসে, ‘সেটা তুমি বুঝবে কী! শেষবার যখন গেলাম, পুরনো বন্ধু অনেকের সঙ্গে দেখা তো হলোই, লাইজু আপার সঙ্গেও দেখা হলো। স্কুলে আমাদের ইতিহাস পড়াতেন। আর কী ভালোই না বাসতেন আমাকে! পথে আমার সঙ্গে দেখা। আমাকে একদম জড়িয়ে ধরে বললেন - আরে ময়ী, তুই এত বড় হয়ে গেছিস! বলো, তখন কত ভালো লাগে!’

‘সে নাহয় বুঝলাম।’ হেমন্ত কৃত্রিম গম্ভীর গলায় বলে, ‘কিন্তু আমি ছাড়াও কেউ কেউ তোমাকে ময়ী বলে ডাকে, একি কথা, অ্যাঁ!’

‘ডাকে, ডাকে।’ দয়াময়ী হাসে, ‘কেউ কেউ কিন্তু শুধু দয়া বলেও ডাকে। আমার নামটা বড় আর পুরনো ধরনের। তাই ছোট করে দয়া বা ময়ী, বুঝেছ?’

‘বুঝলাম। ভালো। তবে আমার জন্য আর কিছুই থাকল না। দেখা গেল এবার শিমুলতলীতে গিয়ে তুমি আর ফিরলেই না। যারা তোমাকে দয়া বা ময়ী বলে ডাকত, তারা তোমাকে রেখে দিল!’

‘তুমি ছাড়িয়ে আনবে। তুমি আছ কেন!’

‘তাও বটে।’

‘শোনো, আগেভাগেই একটা কথা বলে রাখি। এবার কিন্তু শিমুলতলীতে গিয়ে খুব ঘুরব আমি। বন্ধুদের বাসায় যাব। আপাদের বাসায় যাব। লাইজু আপা, রেখা আপা, ওহাব স্যার …’

‘তোমার জাহানারা আপার বাসায় যাবে না?’

‘কী বললে!’ দয়াময়ী তখনই কঠিন চোখে হেমন্তর দিকে তাকায়। দেখে, হেমন্তর মুখে ফিচকে হাসি। তাকে অমন চোখে তাকাতে দেখে হেমন্তর ফিচকে হাসিটা একটু একটু করে মিলিয়ে যায়। সে গম্ভীর মুখে নিরীহ গলায় জিজ্ঞেস করে, ‘আমি বলছিলাম, তোমার জাহানারা আপার বাসায় যাবে না?’

‘তোমাকে না বলেছি, ওই মহিলার কথা তুমি কখনো আমার সামনে তুলবে না!’

‘কিন্তু তিনি তো তোমার হেডমিস্ট্রেস ছিলেন।’

‘থাকুক।’

‘শোনো।’ হেমন্তকে সিরিয়াস দেখায়, ‘তোমাকে কথাটা আরেকবার বলি। ওই ভদ্রমহিলা সম্পর্কে তুমি আমাকে অনেক কিছুই বলেছ। কিন্তু আমি আমার যুক্তি দিয়ে ওনাকে তোমার মতো করে দেখতে পারিনি। কোথাও তোমার একটা ভুল …’

‘আমার ভুল নেই কোথাও। ওই মহিলা আমাকে স্কুলে পড়ার সময় অনেক জ্বালিয়েছেন।’ দয়াময়ী গম্ভীর চোখে তাকায়, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করি তিনি আমাকে শুধু ছাত্রী হিসেবে দেখতেন না, দেখতেন হিন্দুছাত্রী হিসেবে।’

দুই.

দয়াময়ীদের স্কুলের নাম ছিল শিমুলতলী মডার্ন হাইস্কুল। সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি শহরে মেয়েদের জন্য দূরে থাক, ছেলেদের জন্যই সাধারণত এ রকম হাইস্কুল থাকে না! শিমুলতলীতে সেটা সম্ভব হয়েছিল এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির কারণে। তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে, নিজেরা পয়সা খরচ করে স্কুলটা করেছিলেন। শিক্ষক জোগাড় করার দায়িত্বও তারাই পালন করেছিলেন। তার পরের পর্ব ছিল স্কুলের জন্য সরকারি স্বীকৃতি আদায়। এর জন্যও অবশ্য কাঠখড় কম পোড়াতে হয়নি। তাও সম্ভব হয়েছিল। এর পেছনে একটা বড় কারণ ছিল, পরপর কয়েক বছর ধরে শিমুলতলী মডার্ন হাইস্কুলের ভালো রেজাল্ট।

দয়াময়ী ক্লাস ওয়ান থেকে ওই স্কুলের ছাত্রী। সে যখন ক্লাস সেভেনে, তখনই স্কুলের হেডমিস্ট্রেস হয়ে আসেন জাহানারা বেগম। পুরনো হেডমাস্টার চলে গেলে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি দেখেশুনে তাকে নিয়োগ দেন। এই হেডমিস্ট্রেস ছিলেন কড়াপ্রকৃতির মানুষ। বড় কড়াপ্রকৃতির। আগের প্রধান শিক্ষক রাজীব হোসেনের সঙ্গে তার কোনো তুলনাই চলে না। প্রথম দিনই অ্যাসেম্বলির সময় ছাত্রীদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ‘মেয়েরা শোনো, তোমাদের প্রথমেই একটা কথা জেনে রাখা দরকার। আমি নিয়মকানুনের সামান্য অবনতিও বরদাশত করব না। পান থেকে চুন খসে পড়ুক, এটা আমি পছন্দ করি না, বুঝতে পারছ?’

বুঝতে সময় লাগেনি দয়াময়ীদের। হেডমিস্ট্রেস নিজে ক্লাস নিতেন খুব কমই। দু-একটা যা নিতেন তাও ক্লাস নাইনের। তবু পুরো স্কুলে তার উপস্থিতি সব সময় টের পাওয়া যেত। তিনি আপাদমস্তক কালো বোরকা পরতেন। শুধু ক্লাসে এসেই বোরকা খুলতেন। বোরকা ছাড়া তাকে ক্লাসের বাইরে কেউ কখনো দেখেছে বলতে পারবে না, স্কুলের বাইরে দেখার তো প্রশ্নই ওঠে না। যদি এমন হতো, তিনি ক্লাস নেওয়ার সময়ও বোরকা পরে থাকতেন, তবে তার চেহারাটা কেমন, সেটা স্কুলের কারোরই জানা হতো না।

চেহারাটা ছিল অত্যন্ত গম্ভীর। তাকে কেউ কখনো হাসতে দেখেছে, এমন দাবি করতে পারবে না। স্কুল-বিল্ডিংয়ের এমাথা-ওমাথা ঘুরতেন তিনি। কড়া নজর রাখতেন চারদিকে। দেখতেন সবকিছু ঠিকঠাকমতো চলছে কি না, হচ্ছে কি না। একবার হেদায়েত স্যার ক্লাস এইটে ভাব-সম্প্রসারণ করতে দিয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলেন। তাকে প্রচণ্ড নাকাল হতে হয়েছিল হেডমিস্ট্রেসের হাতে, ‘আপনি কি বাসায় ঘুমানোর সময় পান না?’

হেদায়েত স্যারের তখন তোতলামি আরম্ভ হয়ে গেছে, ‘জ্বি ম্যাডাম, জ্বি …’

‘তাও ভালো যে বাড়ি থেকে বালিশ নিয়ে আসেননি!’

হেদায়েত স্যার যেন পাথর হয়ে যান।

‘আপনার লজ্জা হওয়া উচিত, আপনার ছাত্রীরা লেখাপড়া করছে আর আপনি ঘুমাচ্ছেন।’

আরেকবার ক্লাস টেনের এক মেয়ে ক্লাসে লুকিয়ে গল্পের বই পড়ছিল। জানালা দিয়ে সেটা লক্ষ করে ভেতরে এসে মেয়েটাকে হাতেনাতে ধরে ফেললেন জাহানারা বেগম।

‘এটা দেখছি প্রেমের উপন্যাস! তোমাদের কি এখন প্রেমের উপন্যাসের ক্লাস চলছে?’

কেউ কিছু বোঝার আগেই মেয়েটি ভেউ ভেউ করে কাঁদতে আরম্ভ করেছে।

‘না, কাঁদলে চলবে না। আমাকে তোমার বোঝাতে হবে, তুমি ক্লাসে বসে এই বই কেন পড়ছিলে!’

মেয়েটার কান্না থামে না। পরের সিদ্ধান্ত ছিল আরো কঠিন। গার্জিয়ানকে ডেকে পাঠিয়ে মেয়েটাকে স্কুল থেকে টিসি দিয়ে বহিষ্কার করেন তিনি।

বিয়ের পর দয়াময়ী এসব গল্প করেছিল হেমন্তর কাছে। ছোটবেলার গল্প করতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই ভালোবাসে। হেমন্ত যদিও তেমন কিছু বলত না, সে বলত, ‘আমার কোনো ছোটবেলা নেই, আমার কোনো গল্পও নেই। আমি প্রচণ্ড কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছি।’

দয়াময়ী তার ছোটবেলার গল্প করত। তার বড়দা আর দু দিদির কথা, তার এলাকা আর স্কুলের বান্ধবীদের কথা, তার স্কুল আর স্কুলের শিক্ষকদের কথা। আরো নানা গল্প। জাহানারা বেগমের গল্প হেমন্তকে বিশেষভাবে শোনায় দয়াময়ী, ‘বুঝেছ, ওই মহিলাকে দেখলে আমাদের সারা শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যেত!’

‘এটা তো ভালো, খুব ভালো। শিক্ষকদের ভয় করবে না ছাত্রছাত্রীরা?’

‘ভয় না শ্রদ্ধা, কোনটা করবে?’

‘দুটোই।’

‘কেউ শ্রদ্ধা করত না, বুঝেছ? কেউ তাকে শ্রদ্ধা করত না। সবাই ভয় পেত।’

‘একটু বোধহয় মেজাজি ছিলেন, না?’

‘একটু মানে! তিনি ছিলেন চলমান বিভীষিকা। ছাত্রছাত্রীরা এক-আধটু দুষ্টুমি করবে না, অল্প-স্বল্প ফাঁকি দেবে না, বলো?’

‘আচ্ছা, একটু নাহয় বেশিই মেজাজি ছিলেন তিনি। কিন্তু তাই বলে স্যার ক্লাসে এসে ঘুমাবেন, ক্লাস টেনের ছাত্রী ক্লাসে বসে উপন্যাস পড়বে, এসব তাকে কেন মেনে নিতে হবে? বিশেষ করে তুমিই যখন বলছ মেজাজি ছিলেন তিনি! যদিও এসব সব স্কুলে সব সময়ই হয়।’

‘শুধু এটুকু! তোমাকে তো তার আসল কথা বলাই হয়নি!’

দয়াময়ীর আজও মনে আছে সব। কিছুই ভোলেনি। সে যখন ক্লাস সেভেনের শেষ দিকে, জাহানারা বেগম হঠাত্‍ একদিন তাদের ক্লাস নিতে এলেন। সেটা ছিল ইসিএ বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ ক্লাস। ওই ক্লাসে তারা গান গাইত, আবৃত্তি করত, নাটক করত, আরো কত মজা করত! জাহানারা বেগম ওসবের ধার দিয়েও গেলেন না, এক-এক করে সবার নাম জিজ্ঞেস করলেন, কার রোল নম্বর কত, সেটাও জেনে নিলেন। তারপর দয়াময়ীকে বললেন, ‘এই স্কুলে আরো অনেক হিন্দুধর্মের মেয়ে পড়ে, তুমি জানো?’

‘জ্বি ম্যাডাম।’ দয়াময়ী ভয়ে ভয়ে বলে।

‘কিন্তু আর কোনো ক্লাসে কোনো হিন্দু মেয়ে ফার্স্ট গার্ল না, একমাত্র তুমিই ফার্স্ট গার্ল, এটা জানো?’

এটা জানা ছিল না দয়াময়ীর, সে তাই না-সূচক মাথা নাড়ে।

‘এটা মনে রেখো।’ হেডমিস্ট্রেস বলেন, বলে দয়াময়ীর দিকে তাকিয়ে হাসেন। তারপর ক্লাসের অন্য ছাত্রীদের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘তোমরাও মনে রেখো।’

দয়াময়ীর বক্তব্য, তার প্রতি হেডমিস্ট্রেসের হাসিটা ছিল তাচ্ছিল্যের।

‘তাচ্ছিল্যের কেন হবে?’ হেমন্ত এটা অনেকবার জানতে চেয়েছে। দয়াময়ী বলেছে, ‘হাসিটা তো তুমি দেখনি, আমিই দেখেছি, আমিই জানি।’

‘আর তোমাকে যে বললেন, তুমিই একমাত্র ফার্স্ট গার্ল, হিন্দু মেয়ে হিসেবে এটা যে তোমাকে মনে রাখতে বললেন, এটাকে তুমি কী বলবে?’

‘এটাকে কি উত্‍সাহ দেওয়া বলতে চাও? আমার কাছে ওটাও তাচ্ছিল্য, বিদ্বেষের।’

‘কেন? আমার তো মনে হয় উনি তোমাকে তোমার পজিশন ধরে রাখার ব্যাপারে উত্‍সাহী করতে চেয়েছেন।’

‘আরে না, ওনার ভঙ্গিতেই তাচ্ছিল্য ছিল। তা ছাড়া ক্লাসের অন্য মেয়েদেরও বললেন আমার ব্যাপারটা মনে রাখতে। এর মানে কী? এটা কি আমার বিরুদ্ধে তাদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা না?’

‘উসকে যদি তিনি দিতে চান, দিতে পারেনই। তা হলেই তো তোমাদের মধ্যে লেখাপড়ার লড়াইটা জমবে। আর একজন শিক্ষকের সেটাই তো কাজ। সবাইকে সবার বিরুদ্ধে উসকে দেওয়া, যেন তাদের ভেতর একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতাটা শুরু হয়।’

দয়াময়ী হাসে।

‘হাসছ কেন?’

‘তুমি যা বলছ তার সবই ঠিক আছে। আমি মেনেও নিচ্ছ। কিন্তু আমার একটা কথা তোমাকে শুনতে হবে। একজন শিক্ষক পড়াশোনায় ভালো করার জন্য একজন ছাত্রীকে আরেকজনের বিরুদ্ধে উসকে দিতে পারেন। কিন্তু সেই উসকানিটা তিনি কি ধর্মীয় আইডেনটিটির নামে দেবেন?’

হেমন্ত চুপ হয়ে যায়।

‘উনি তো আরো নানাভাবে বলতে পারতেন। ওদের বলতে পারতেন-তোমাদের কি বুদ্ধি নেই, তোমাদের কি ভালো রেজাল্ট করার ক্ষমতা নেই, তোমরা কি দয়াময়ীকে ছাড়িয়ে যেতে পার না? কিন্তু তা তিনি করলেন না। এটা কি একজন শিক্ষকের কাজ?’

হেমন্ত মৃদু গলায় বলে, ‘আসলে একেক জনের ভঙ্গি একেক রকম …’

‘তার ভঙ্গিটা সাম্প্রদায়িক।’ দয়াময়ী জোর গলায় বলে, ‘তিনি হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে একটা স্পষ্ট বিভাজন করতে চাইতেন। তুমি এটা বুঝতে পারছ না!’

তিন.

দয়াময়ীর প্রথম অভিজ্ঞতাটা অবশ্য শিমুলতলী মডার্ন হাইস্কুলে নয়, বড়দি অঞ্জলির বিয়ের সময়। তাদের আর্থিক অবস্থা কোনো সময় তেমন ভালো ছিল না। অভাব ছিল না ঠিকই, তবে হাতে বাড়তি টাকাও থাকত না। কিছু জমি ছিল, বড়দির বিয়ের সময় সেই জমিতে টান পড়ল।

তাদের জমি আর সোবহান চাচার জমি একেবারে পাশাপাশি। গায়ে গা লাগানো। কিছুদিন আগে সোবহান চাচা জমি বিক্রি করেছেন। তিনি যে দাম পেয়েছেন, দয়াময়ীর বাবা বহু চেষ্টার পরও সে দাম পেলেন না। জমি বিক্রি করে তিনি হাসতে হাসতে বাসায় ফিরলেন, বললেন, ‘এরকমই হবে। কারণ সোবহান ভাইয়েরটা মুসলমানের জমি আর আমারটা হিন্দুর জমি।’

জমির এই রঙ নিয়ে ভাবনা যখন দয়াময়ীর মাথায়, ওই সময়ই শিমুলতলী হাইস্কুলে জাহানারা বেগমের আগমন।
একবার জাহানারা বেগম ক্লাসে এক-এক করে মুসলমান মেয়েদের জিজ্ঞেস করেন - কে কে নামাজ পড়ে আর কে কে পড়ে না। দেখা গেল, অনেকেই পড়ে না। যারা পড়ে না তাদের কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বললেন।

একবার রোজার সময় কড়া শাস্তি পেয়েছিল দয়াময়ী। রোজার সময় সাধারণত স্কুল বন্ধ থাকে। কিন্তু সেবার স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার সময় রমজান মাস। সকাল-বিকেল দুটো পরীক্ষা। একটা পরীক্ষা শেষে দয়াময়ী বন্ধুদের সঙ্গে ক্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে গল্প করছিল আর আমলকী খাচ্ছিল। সে একা খাচ্ছিল না, আরো তিন-চারজন খাচ্ছিল। হেডমিস্ট্রেস সেটা দেখতে পেয়ে এগিয়ে এলেন, বললেন, ‘কে কে রোজা?’

দেখা গেল বেশ কয়েকজনই রোজা। কেউ কেউ রোজা না। তাদের সামান্য ধমক দিয়ে তিনি ছেড়ে দিলেন। কিন্তু যারা আমলকী খাচ্ছিল তাদের ক্লাসের ভেতর ১৫ মিনিট নিল-ডাউন করিয়ে রাখলেন। দয়াময়ীও বাদ গেল না। দয়াময়ী খুবই অবাক হয়েছিল। সে তখন ক্লাস এইটে। তার কী অপরাধ সে কিছুতেই বুঝতে পারছিল না। ইচ্ছে করেছিল হেডমিস্ট্রেসকে জিজ্ঞেস করতে। শেষ পর্যন্ত সাহস হয়নি। তার মনে হয়েছিল, জিজ্ঞেস করতে গেলে নিশ্চয়ই নতুন কোনো শাস্তি পেতে হবে।

আরো একটা বড় ব্যাপার ঘটেছিল দয়াময়ী ক্লাস এইটে বৃত্তি পাওয়ার পর। তারা অনেকেই বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছিল, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল শুধু দয়াময়ী। সে নিয়ে তাদের স্কুলে হইচই। সবাই প্রচণ্ড খুশি। দয়াময়ীর নিজেরও খুশির সীমা নেই। সেদিনই ঘটনাটা ঘটে। সে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে হইচই করে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছিল। স্কুলে ছিল টিউবওয়েল। একজন টিউবওয়েলে চাপ দিত, আরেকজন আঁজলায় করে জল খেত।

কিন্তু সেদিন তার কী যে হয়, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার আনন্দেই বোধহয়, তার আঁজলায় ভরে জল খেতে আর ইচ্ছে করে না। সে একছুটে চলে যায় স্কুলের টিফিনরুমে। সেখান থেকে গ্লাস নিয়ে এসে টিউবওয়েল থেকে জল খায়, তারপর আর গ্লাসটা যথাস্থানে রেখে আসেনি। সে খেয়াল করেনি কিংবা তার জানা ছিল না - গ্লাসটা ছিল হেডমিস্ট্রেসের। খবরটা পৌঁছে যায় হেডমিস্ট্রেসের কানে। হেডমিস্ট্রেস জাহানারা বেগম তাকে ডেকে পাঠান, ‘দয়াময়ী, তুমি পানি খেয়েছ আমার গ্লাসে!’

সে নিয়ে তুমুল কাণ্ড। জাহানারা বেগমের ধমকে দয়াময়ীর নাজেহাল অবস্থা। হেডমিস্ট্রেসের ধমক বন্ধ হয়েছিল, কিন্তু দয়াময়ীর কান্না যেন বন্ধ হওয়ার নয়। তার বন্ধবীরা বলছিল, ‘দয়াময়ী, তুই কান্না থামা।’

দয়াময়ীর কান্না আরো বেড়ে গিয়েছিল, ‘উনি আমাকে এভাবে বলবেন, এভাবে বকবেন!’

বাড়িতে ফিরেও একই কথা বলেছিল, ‘আমাকে এভাবে বকবেন কেন!’

‘তার আগে তুই বল, তুই কেন তার গ্লাস ধরলি? জল খেলি?’ বাবা বলেছিলেন।

‘কোনো মুসলমান মেয়ে খেলে কিন্তু কিছু হতো না।’

‘কেন হবে না, তারাও ছাত্রী।’

‘কিন্তু তারা মুসলমান। ম্যাডাম হিন্দুদের দেখতে পারেন না। তার গ্লাসে আমি খেয়েছি, গ্লাস তাই অশুচি হয়ে গেছে। জাত গেছে তার।’

‘কী যে বলিস না তুই! ওসব জাত যাওয়ার ব্যাপার মুসলমানদের মধ্যে আছে নাকি! ওসব আছে আমাদের মধ্যে। তুই ছাত্রী হয়ে শিক্ষকের গ্লাস ব্যবহার করেছিস, এটাই হলো কথা।’

এ কথাটা আরো অনেকেই বলেছিল। তাদের কারোর কথাই বিশ্বাস হয়নি দয়াময়ীর। সে নিজে যেটা বুঝেছে, যেটুকু বুঝেছে, সেটাই ঠিক - এভাবেই ব্যাপারটাকে সে নিয়েছিল। শুধু ওই ব্যাপারটা কেন, হেডমিস্ট্রেসের আরো যা যা ঘটনা, তার সবগুলোই যে ধর্মীয় গোঁড়ামি আর সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে পড়ে, এ নিয়ে সেই তখন থেকেই কোনো সন্দেহ ছিল না দয়াময়ীর। সন্দেহ তার এখনো নেই। এখনো কালো বোরকা পরা হেডমিস্ট্রেস জাহানারা বেগমকে সে চোখের সামনে দেখতে পায়। হিন্দুদের যিনি তাচ্ছিল্যের চোখে দেখেন, হিন্দুদের সংস্পর্শে পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করেন, তিনি কিসের শিক্ষক?

চার.

এতটা মজা হবে দয়াময়ী নিজেও তা বুঝতে পারেনি। হেমন্তকে নিয়ে শিমুলতলীতে পৌঁছেই সে খবর পায়, এদিক-ওদিক ছড়িয়ে থাকা তার বেশ কিছু বন্ধু এখন শিমুলতলীতে। এবার পূজার কিছুদিন পরই ঈদ। অনেকে আগেভাগেই চলে এসেছে ঈদের ছুটিতে, অনেকে এসেছে পূজায়।

হেমন্ত শুনে বলে, ‘ব্যস, তোমার আর চিন্তার কিছু নেই। আমারও চিন্তা গেল। তুমি বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত থেকো, আমি থাকি আমাকে নিয়ে।’

‘কী করবে তুমি?’

‘ঘুমাব ভোঁস ভোঁস করে। সবাই এ যুগের কুম্ভকর্ণের ঘুম দেখবে।’

‘বেশ।’ দয়াময়ী বলে। বলে সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তার দু দিদি এখনো এসে পৌঁছাননি। তাতে অসুবিধা নেই। বরং সুবিধাই। দিদিরা এলে বাসায় একটু বেশি সময় দিতে হবে। এখন সে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে অকাতরে সময় ব্যয় করতে পারবে। তা করেও সে। সকালে এক বন্ধুর তো দুপুরে আরেকজনের বাসায়, রাতে আরেক জনের।

শিমুলতলী অবশ্য বদলে গেছে অনেক। পুরনো অনেক কিছুই আর নেই। দয়াময়ীরা সবাই মিলে বসে সে গল্প করেও। তাদের সময়ে কেমন ছিল এ গ্রাম আর এখন কেমন। একটু একটু করে কখন কতটাই যে বদলে গেল সবকিছু, তারা টেরও পেল না! তারা অবশ্য এ কথাও বলে, তারা নিজেরাও অনেক বদলেছে। আফরোজা অবশ্য বলে, দয়াময়ী নাকি একটুও বদলায়নি। সেই আগের মতোই আছে।

‘চেহারা?’ দয়াময়ী জানতে চায়।

‘সবকিছু। তোকে দেখে এখনো আমার মনে হয় তুই স্কুলে পড়িস।’

‘হা ভগবান, একি বলিস! আমি সামনের বছর পিএইচডি করতে যাব।’

সালমা হেসে বলে, ‘তুই কি জানিস, সেটা আমাদের জন্য কত আনন্দ আর গর্বের?’

অঞ্জু শিমুলতলীতেই থাকে। সে বলে, ‘স্কুলের টিচাররা, যারা শিমুলতলীতে থাকেন, দেখা হলেই তারা তোর কথা
জিজ্ঞেস করেন। জিজ্ঞেস করেন - তুই ওনাদের কথা মনে রেখেছিস কি না।’

‘কারো কথা আমি ভুলিনি রে। লাইজু আপা, ওহাব স্যার …। শিমুলতলীতে কে কে আছে, বল তো?’

অঞ্জু এক-এক করে সবার কথা বলে, জাহানারা বেগমের নামও বলে। শুনে দয়াময়ীর ভ্রু কুঁচকে যায়, ‘ওই মহিলা এখানে থাকেন! উনি তো এখানকার নন।’

‘কিন্তু এখানেই সেটেল করেছেন। বাড়ি করেছেন জমি কিনে। একটু ভেতরের দিকে অবশ্য …’

‘ও। পূজার দাওয়াত দিতে হয় তাহলে!’ দয়াময়ী হাসে।

‘যাবি? খুব খুশি হবেন কিন্তু। তোর কথা দেখা হলেই জিজ্ঞেস করেন।’

‘তাই নাকি!’ দয়াময়ীর গলায় কৌতুক। পরমুহূর্তে তাকে গম্ভীর দেখায়, ‘কিন্তু তার সঙ্গে দেখা করতে আমি কখনোই যাব না।’

‘দয়া!’ মৃদু গলায় জাহেদা বলে, ‘তুই এখনো ওসব মনে রেখেছিস!’

‘কোনো দিনই ভুলব না।’

‘তোকে বলেছি আগে, আবারও একবার বলি - বোরকা পরতেন, আমাদের নামাজ পড়ার জন্য চাপ দিতেন, সব ঠিকই আছে তবু যতটা গোঁড়া তুই ম্যাডামকে মনে করিস, ততটা গোঁড়া আসলে উনি নন।’

‘এটা তোর ধারণা, তাই না? শোন, তোর ধারণা নিয়ে তুই থাক, আমার ধারণা নিয়ে আমাকে থাকতে দে। উনি শুধু গোঁড়া নন, সাম্প্রদায়িক, বুঝেছিস? এখন অন্য কথা বল।’

‘কী কথা?’

‘যেকোনো কথা, কিন্তু ওই মহিলার কথা না। ঠিক আছে? আমার মেজাজটা খারাপ হয়ে গেছে।’

পাঁচ.

সালমাদের বাসা থেকে বের হতে হতে দয়াময়ীর দেরি হয়ে যায়। আজ তার বিকেলের আগেই ফেরার কথা। দিদি আর জামাইবাবুরা ছেলেপুলে নিয়ে এসেছেন। আজ তারা একসঙ্গে বসে পূজার পরিকল্পনা করবে। দয়াময়ীকে অবশ্যই সেখানে থাকতে হবে। কিন্তু সালমাদের বাসায় আরো কয়েক বন্ধুর সঙ্গে গল্প করতে করতে দেরি হয়ে যায়। সালমারা বারবার অবশ্য বলছিল ইফতার করে যেতে। কিন্তু তাহলে তো আরো দেরি হয়ে যাবে।

সালমাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে দয়াময়ী রিকশা পায় না। ইফতারের সময় এ রকম হয়, রিকশা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় দয়াময়ীকে। শেষ পর্যন্ত একটা রিকশা জোটে। পথও কম নয়। রাস্তা ফাঁকা। দয়াময়ী ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে বাড়ির গেটের দিকে দ্রুত পা বাড়ায়। এ সময় পেছন থেকে এক মহিলা অসহায় গলায় বলেন, ‘একটু শুনবেন?’


সামান্য মাথা ঘোরায় দয়াময়ী। দেখে, কালো বোরকা পরে একজন দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে বেশ কয়েকটা প্যাকেট। বোরকা-পরা মহিলা বলেন, ‘আমি আসলে দয়াময়ী, মানে গৌতমবাবুদের বাসা খুঁজছিলাম। এদিকেই কোথাও, কিন্তু ঠিক চিনতে পারছি না। আপনি বলতে পারবেন?’

দয়াময়ী কিছুক্ষণ বোরকা-পরা মহিলার দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর বলে, ‘আপনি কাকে চাইছেন? এটাই গৌতমবাবুদের বাড়ি।’

‘একজনকে পেলেই হলো। দয়াময়ী নিশ্চয় এখন নেই। গৌতমবাবু যদি থাকেন …’

‘আমিই দয়াময়ী।’

‘তুমি দয়াময়ী! তুমি! কী আশ্চর্য!’ মহিলা বোরকার নেকাব তুলে ধরেন, ‘তুমি দয়াময়ী, আর আমি কিনা তোমাকে চিনতে পারছি না! তুমি আমাকে চিনতে পারছ তো মা?’

‘পারছি।’ দয়াময়ী গম্ভীর গলায় বলে।

‘যাক। পেরেছ। তুমি কিন্তু একদম আগের মতোই আছ মা, প্রথমে খেয়াল করিনি।’

দয়াময়ী আরো গম্ভীর গলায় বলে, ‘হুঁ।’

দয়াময়ীর এই গাম্ভীর্য তাদেরই স্কুলের বোরকা-পরা হেডমিস্ট্রেস জাহানারা বেগম একদম খেয়াল করেন না। তিনি বলেন, ‘হয়েছে কি, ঈদের মার্কেটিং করতে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু পথে এত দেরি হয়ে গেল, আমার বাড়িটা আবার একটু ভেতরের দিকে। যেতে গেলে ইফতারের সময় পার হয়ে যাবে। হঠাত্‍ মনে হলো তোমাদের বাড়িটা এদিকে। তাই রিকশা ছেড়ে তোমাদের বাড়ি খুঁজতে আরম্ভ করলাম।’

‘কেন?’ দয়াময়ী অবাক গলায় জিজ্ঞেস করে, সে অবশ্য এখনো পুরোপুরি সহজ হতে পারেনি।

‘কেন আবার, ইফতার করব! যেকোনো বাসায়ই অবশ্য ইফতারের জন্য যাওয়া যায়। কিন্তু ছাত্রীর বাসা থাকতে অন্য বাসায় কেন যাব, বলো?’

দয়াময়ী অপলক তাকিয়ে থাকে। এ রকম একটা অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে, এটা তার কল্পনারও বাইরে ছিল।

‘শোনো।’ জাহানারা বেগম বলেন, ‘এখন তো পূজার সময় তোমাদের। নাড়ু, মোয়া - এসব নিশ্চয়ই আছে। দাও না, বেশ অন্য রকম একটা ইফতার হবে!’

বিশ্বাস করতে পারে না দয়াময়ী, ভাবতেও পারে না। ভাবে, বুঝি ভুলই শুনছে সে, ‘আপনি আমাদের বাসায় বসে নাড়ু-মোয়া দিয়ে ইফতার করবেন! আমাদের বাসায়!’

‘অসুবিধা হবে তোমাদের?’ জাহানারা বেগমকে সংকুচিত দেখায়, ‘আচ্ছা, আসল কথাই তো জিজ্ঞেস করা হয়নি। স্কুলে তোমাদের কী কড়া শাসনই না করতাম! সেই তুমি, তোমরা কত বড় হয়ে গেছ! দয়াময়ী, তুমি কেমন আছ, বলো তো?’

কেমন আছে সে-এই প্রশ্নের উত্তরে যে কী বলবে দয়াময়ী বুঝতে পারে না।


ডাউনলোড - Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28837580 http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28837580 2008-09-01 22:58:09
গল্প - রহস্য - হুমায়ূন আহমেদ
আপনি যদি গল্পটি পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করতে চান, তাহলে ভিজিট করুন আমার ব্লগের এই লিংকে - Click This Link



রহস্য জাতীয় ব্যাপারগুলিতে আমার তেমন বিশ্বাস নেই। তবু প্রায়ই এ রকম কিছু গল্প-টল্প শুনতে হয়। গত মাসে ঝিকাতলার এক ভদ্রলোক আমাকে এসে বললেন, তার ঘরে একটি তক্ষক আছে - সেটি রোজ রাত 1টা 25 মিনিটে তিনবার ডাকে। আমি বহু কষ্টে হাসি থামালাম। এ রকম সময়নিষ্ঠ তক্ষক আছে নাকি এ যুগে? ভদ্রলোক আমার নির্বিকার ভঙ্গি দেখে বললেন, কি ভাই বিশ্বাস করলেন না?
জ্বি না।
এক রাত থাকেন আমার বাসায়। নিজের চোখে দেখেন তক্ষকটা। ঘড়ি ধরে বসে থাকবেন। দেখবেন ঠিক 1টা 25 মিনিটে তিনবার ডাকবে।
আরে দুর! কি যে বলেন?

ভদ্রলোক মুখ কালো করে উঠে গেলেন। চারদিন পর তার সঙ্গে আবার দেখা। পৃথিবীটা এরকম, যার সঙ্গে দেখা হবার তার সঙ্গে দেখা হয় না। ভুল মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। আমাকে দেখেই ভদ্রলোক গম্ভীর মুখে বললেন, আপনি কি দৈনিক বাংলার সালেহ সাহেবকে চেনেন?
হ্যাঁ চিনি।
তাকে বাসায় নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি নিজের কানে শুনেছেন। বলেছেন একটা নিউজ করবেন।
ভালই তো। নিউজ হবার মতই খবর।
আপনি আসেন না ভাই, থাকেন এক রাত।
আমাকে শোনালে কি হবে?
আরে ভাই আপনারা ইউনিভার্সিটির টিচার। আপনাদের কথার একটা আলাদা দাম।
তাই নাকি?
আপনারা একটা কথা বললে কেউ ফেলবে না।
এই জিনিসটা নিয়ে খুব হৈ-চৈ করছেন মনে হচ্ছে?
না, হৈ-চৈ কোথায়? অনেকেই অবশ্যি শুনে গেছেন। বাংলাদেশ টিভির ক্যামেরাম্যান নাজমুল হুদাকে চেনেন?
জ্বি না।
উনিও এসেছিলেন। খুব মাইডিয়ার লোক। আপনি আসুন না।
আচ্ছা ঠিক আছে, একদিন যাওয়া যাবে।

ভদ্রলোকের চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি মুখভর্তি করে হাসলেন। টেনে-টেনে বললেন, চলেন চা খাই।
না, চা খাব না।
আরে ভাই আসেন না। প্রফেসর মানুষ, আপনাদের সঙ্গে থাকাটা ভাগ্যের ব্যাপার।
ভদ্রলোক হা হা করে হাসতে লাগলেন। যেতে হল চায়ের দোকানে।
চায়ের সঙ্গে আর কিছু খাবেন? চপ?
না।
আরে ভাই খান না। এই এদিকে দু’টো চা দে তো। এখন ভাই বলেন, কবে যাবেন?
আপনার সঙ্গে তো প্রায়ই দেখা হয়, বলে দেব একদিন।

চা খেতে খেতে ভদ্রলোক দ্বিতীয় একটা রহস্যের কথা শুরু করলেন। নাইনটিন সিক্সটিতে তিনি বরিশালের পিরোজপুরে থাকতেন। তার বাসার কাছে বড় একটা কাঁঠাল গাছ ছিল। অমাবস্যার রাতে নাকি সেই কাঁঠাল গাছ থেকে কান্নার শব্দ ভেসে আসত। আমি গম্ভীর হয়ে বললাম, সেই কান্নারও কি কোন টাইম ছিল? নির্দিষ্ট সময়ে কাঁদত? আপনার তক্ষকের মত?
ভদ্রলোক আহত স্বরে বললেন, আমার কথা বিশ্বাস করলেন না?
বিশ্বাস করব না কেন?
আমি কান্নার শব্দ গোটাটা টেপ করে রেখেছি। একদিন শোনাব আপনাকে।
ঠিক আছে।

বরিশালের ডিসি সাহেবও শুনেছেন। চেনেন উনাকে? আসগর সাহেব। সি এস পি। খুব খান্দানী ফ্যামিলি।
না, চিনি না।
ডিসি সাহেবের এক ভাই আছেন বাংলাদেশ ব্যাংকে। বিরাট অফিসার।
তাই বুঝি?
জ্বি। উনার বাসায় একদিন গিয়েছিলাম। খুব খাতির-যত্ন করলেন। গুলশানের বাসা। তিন তলা। উনি থাকেন এক তলায়। ওপরের দুটো তলা ভাড়া দিয়েছেন।
ভদ্রলোক আমার প্রায় এক ঘন্টা সময় নষ্ট করে বিদায় হলেন। আমার মায়াই লাগলো। ইন্ডেন্টিং ফার্মে সামান্য একটা চাকরি করেন। দেখেই বুঝা যায় অভাবে পর্যুদস্ত। চোখের দুষ্টি ভরসাহারা। বয়স এখনো হয়তো ত্রিশ হয়নি কিন্তু বুড়োটে দেখায়। বিচিত্র চরিত্র।

মাস খানেক তার সঙ্গে আমার দেখা হল না। তার প্রধান কারণ, যে সব জায়গায় তার সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা সে সব জায়গা আমি এড়িয়ে চলতে শুরু করেছি। নিউমার্কেটে আড্ডার জায়গাটিতে যাই না। কি দরকার ঝামেলা বাড়িয়ে? এই লোকটি পিচ্ছিল পদার্থ, সে গায়ের সঙ্গে সেঁটে যাবে। আর ছাড়ানো যাবে না। কিন্তু তবু দেখা হল। একদিন শুনলাম সে ইউনিভার্সিটি ক্লাবে এসে খোঁজ নিচ্ছে। ক্লাবের বেয়ারা বলল, গত কিছুদিন ধরে নাকি সে নিয়মিতই আসছে। কি মুসিবত।

একদিন আর এড়ানো গেল না। ভদ্রলোক বাসায় এসে হাজির।
কি ভাই আপনি তো আর এলেন না?
কাজের ব্যস্ততা …
আজকে আপনাকে নিতে এসেছি।
সে কি?
কবি শামসুল আলম সাহেবও আসবেন।
তাই বুঝি?
জ্বি। চিনেত তো শামসুল আলম সাহেব কে? দু’টো কবিতার বই বেরিয়েছে। পাখির পালক আর অন্ধকার জ্যোত্স্না।
তাই বুঝি?
জ্বি। আমাকে দু’টো বই-ই দিয়েছেন। খুবই বন্ধু মানুষ। বাড়ি হচ্ছে আপনার ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা।
ও।
উনার ছোট ভাইও গল্প টল্প লেখেন। আরিফুল আলম।

গেলাম তার বাসায়। ঝিকাতলার এক গলিতে ঘুপসি মত দু’কামরার বাড়ি। মেজাজ খুবই খারাপ। রাত দেড়টা পর্যন্ত বসে থাকতে হবে সময়নিষ্ঠ তক্ষকের ডাক শোনার জন্য। কত রকম যন্ত্রণা যে আছে পৃথিবীতে!

ভদ্রলোক আমাকে বসার ঘরে বসিয়ে অতি ব্যস্ততার সঙ্গে ভেতরে চলে গেলেন। বসার ঘরটি সুন্দর করে সাজানো। মহিলার হাতের সযত্ন স্পর্শ আছে। ভদ্রলোক বিবাহিত জানতাম না। এ নিয়ে তার সঙ্গে কখনো কথা হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার স্ত্রী ঘরে এসে ঢুকলেন। খুবই অল্প বয়েসী তরুণী এবং অসম্ভব রূপসী। আমি প্রায় হকচকিয়ে গেলাম।

আমার স্ত্রী লীনা। আর লীনা, উনি হুমায়ূন আহমেদ। এর কথা তো তোমাকে বলেছি।
লীনা হাসি মুখে বললো, জ্বি আপনার কথা প্রায়ই বলে।
লীনা একটু চায়ের ব্যবস্থা কর।

লীনা চলে গেল ভেতরে। ভদ্রলোক নিচু গলায় বললেন, লীনার গল্প-উপন্যাস লেখার শখ আছে। কয়েক দিন আগে সাপ নিয়ে একটা গল্প লিখেছে। মারাত্মক গল্প ভাই। আপনাকে পড়ে শোনাতে বলবো। আমি বললে পড়বে না। আপনিও কাইন্ডলি একটু বলবেন।
আমি বললাম, গুণী মহিলাতো!
ভদ্রলোকের চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।
তা ভাই, কথাটা অস্বীকার করব না। গানও জানে। নজরুল গীতি। ভালো গায়। বাড়িতে টিচার রেখে শিখেছে।
তাই নাকি?
জ্বি, শোনাবে আপনাকে। একটু প্রেসার দিতে হবে আর কি। আপনি একটু রিকোয়েস্ট করলেই শোনাবে। কাইন্ডলি একটু রিকোয়েস্ট করবেন।
ঠিক আছে, করব।

চা এসে পড়ল। চায়ের সঙ্গে বড়া জাতীয় জিনিস। বেশ খেতে। আমি বললাম, কিসের বড়া এগুলি? ডালের নাকি?
ভদ্রলোক উচ্চস্বরে হাসলেন, নারে ভাই, কুলের বড়া। হা-হা-হা। কত রকম অদ্ভুত রান্না যে জানে! মাঝে মাঝে এত সারপ্রাইজ হই। খেতে কেমন হয়েছে বলেন? চমত্কার না?
ভাল, বেশ ভাল।
আরেক দিন আসবেন, চাইনীজ সুপ খাওয়াবো। চিকেন কর্ন সুপ। চাইনীজ রেস্তোরাঁর চেয়ে যদি ভালো না হয় তাহলে কান কেটে ফেলবেন। হা-হা-হা।

আমি মেয়েটার লেখা একটা ছোট গল্প শুনলাম, দু’টি কবিতা শুনলাম। ভদ্রলোক মুগ্ধ ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইলেন। বার বার বললেন, ইস শামসুল আলম সাহেব আসলেন না। দারুণ মিস্ করলেন, কি বলেন ভাই?
রাত এগারোটার দিকে বললাম, তা হলে আজ উঠি?
তক্ষকের ডাক শুনবেন না?
আরেক দিন শুনব।
আচ্ছা, ঠিক আছে। ভুলবেন না যেন ভাই। আসতেই হবে।

ভদ্রলোক আমাকে এগিয়ে দিতে এলেন। রাস্তায় নেমেই বললেন, আমার স্ত্রীকে কেমন দেখলেন ভাই?
ভাল, গুণী মহিলা।
ভদ্রলোকের চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ধরা গলায় বললেন, বাঁদরের গলায় মুক্তার মালা। ঠিক না ভাই?
আমি কিছু বললাম না। ভদ্রলোক কাঁপা গলায় বললেন, গরীব মানুষ, স্ত্রীর জন্যে কিছুই করতে পারি না। কিন্তু এই সব নিয়ে লীনা মোটেই মাথা ঘামায় না। বড় ফ্যামিলির মেয়ে তো। ওদের চাল চলনই অন্য রকম।

আমি রিকশায় উঠতে উঠতে বললাম, খুব ভাগ্যবান আপনি।
ভদ্রলোক আমার হাত চেপে ধরলেন। যেন আবেগে কেঁদে ফেলবেন।
ভাই, আরেকদিন কিন্তু আসতে হবে। তক্ষকের ডাক শুনতে হবে। আসবেন তো? প্লীজ।

তক্ষকের ডাকের মত কত রহস্যময় ব্যাপারই না আছে পৃথিবীতে!


গল্পটি পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করতে চাইলে ভিজিট করুন আমার ব্লগের এই লিংকে - Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28836886 http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28836886 2008-08-31 01:48:58
রিজিউম করুন আপনার ডাউনলোড
ইন্টারনেটে ফ্রি ডাউনলোডযোগ্য প্রচুর নাটক সিনেমা পাওয়া যায় এমন একটা সাইট হল মিডিয়াফায়ার। কিন্তু এ জাতীয় অধিকাংশ সাইটের মতোই এতে আপলোড করা ফাইলসমূহের কোন হট লিংক থাকে না। এতে প্রতিটা আপলোড করা ফাইলের জন্য একটা রেফারেন্স লিংক থাকে যে লিংকটা ব্রাউজারে চালু করলে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্রাউজারের রিকোয়েস্টের ভিত্তিতে সার্ভার থেকে আপনাকে একটা ডাউনলোড লিংক দিবে। কিন্তু এই লিংকটা হবে অস্থায়ী এবং অবিতরণযোগ্য। অর্থাত্‍ নির্দিষ্ট সময় পরে এটা আর কাজ করবে না এবং যতক্ষণ কাজ করবে ততক্ষণও এটা যে কম্পিউটার থেকে পাওয়া গেছে শুধুমাত্র সেই কম্পিউটারেই কাজ করবে। শুধু মিডিয়া ফায়ার না, বর্তমানে অধিকাংশ ফাইল স্টোরেজ সাইটের পদ্ধতি মোটামুটি একই রকম।

এখন আপনার ইন্টারনেট কানেকশন যদি খুব ফাস্ট হয়, তাহলে আপনি এসব সাইট থেকে কয়েকশ মেগাবাইট সাইজের ফাইল কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই ডাউনলোড করে ফেলতে পারবেন। কিন্তু আপনার স্পীড যদি কম হয় অথবা ফাইলের সাইজ যদি অনেক বড় হয় তাহলে আপনার পক্ষে সম্পূর্ণ ফাইলটা একবারে ডাউনলোড করা সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি দেখবেন যে ফাইলটা কিছু সময় পরে আর ডাউনলোড হচ্ছে না। এমন কি ডাউনলোড রিজিউমও করা যাচ্ছে না। এর কারণ হচ্ছে এই সময়ের মধ্যেই ফাইলটার ডাউনলোড লিংক পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থাত্‍ এরকম অবস্থায় ডাউনলোড রিজিউম করার জন্য আপানাকে ঐ ফাইলের রেফারেন্স লিংকটা অর্থাত্‍ যে লিংকটা ব্যবহার করে আপনি প্রথমবার ডাউনলোড লিংকটা পেয়েছিলেন সেই লিংকটা পুনরায় ব্রাউজারে চালাতে হবে। এরফলে আপনি ফাইলটার একটা নতুন ডাউনলোড লিংক পাবেন। আপনি যদি ভালোভাবে লক্ষ করেন তাহলে দেখতে পাবেন যে পূর্বের ডাউনলোড লিংক এবং এই ডাউনলোড লিংক ভিন্ন। এবার আপনি যেই ডাউনলোড ম্যানেজার দিয়ে ফাইলটা ডাউনলোড করছিলেন (ধরে নিচ্ছি Internet Download Manager) তার ডাউনলোড লিস্ট থেকে ঐ ফাইলটার নামের উপর রাইট ক্লিক করে Properties এ ক্লিক করুন। এবার এই Properties উইন্ডোর Referer বক্সে ঐ রেফারেন্স লিংকটা এবং Address বক্সে নতুন ডাউনলোড লিংকটা প্রবেশ করিয়ে এরপর Resume বাটনে ক্লিক করুন। দেখবেন কোন ঝামেলা ছাড়াই পুনরায় ডাউনলোড শুরু হয়ে গেছে।

মাঝে মাঝে ইন্টারনেট ডাউনলোড ম্যানেজার ব্যবহার করে মিডিয়া ফায়ার থেকে ডাউনলোডের সময় কিছু কিছু ফাইল 99.99% ডাউনলোড হয়ে এরপর আর ডাউনলোড হয় না। সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতি পর পর দুইবার প্রয়োগ করলেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। IDM ছাড়াও অন্যান্য ডাউনলোড ম্যানেজারেও এই পদ্ধতি সুন্দরভাবে কাজ করে। কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে ফাইলটা করাপ্টেড হওয়ারও সম্ভবনা থাকে। বিশেষ করে ফাইলটা যদি *.rar ফাইল হয় তাহলে IDM ছাড়া অন্য কোন সফটওয়্যার যেমন Orbit Downloader দিয়ে এই পদ্ধতি প্রয়োগ না করাই ভালো।

আরো বিস্তারিত বিবরণ সহ মূল প্রবন্ধটা আছে আমার ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে - Click This Link

এই লেখাটা আমার হলেও বুদ্ধিটা আমি পেয়েছিলাম ব্লগার মাহবুব জামান আশরাফীর কাছ থেকে ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28835838 http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28835838 2008-08-28 01:42:03
রিজিউম করুন আপনার ডাউনলোড
ইন্টারনেটে ফ্রি ডাউনলোডযোগ্য প্রচুর নাটক সিনেমা পাওয়া যায় এমন একটা সাইট হল মিডিয়াফায়ার। কিন্তু এ জাতীয় অধিকাংশ সাইটের মতোই এতে আপলোড করা ফাইলসমূহের কোন হট লিংক থাকে না। এতে প্রতিটা আপলোড করা ফাইলের জন্য একটা রেফারেন্স লিংক থাকে যে লিংকটা ব্রাউজারে চালু করলে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্রাউজারের রিকোয়েস্টের ভিত্তিতে সার্ভার থেকে আপনাকে একটা ডাউনলোড লিংক দিবে। কিন্তু এই লিংকটা হবে অস্থায়ী এবং অবিতরণযোগ্য। অর্থাত্‍ নির্দিষ্ট সময় পরে এটা আর কাজ করবে না এবং যতক্ষণ কাজ করবে ততক্ষণও এটা যে কম্পিউটার থেকে পাওয়া গেছে শুধুমাত্র সেই কম্পিউটারেই কাজ করবে। শুধু মিডিয়া ফায়ার না, বর্তমানে অধিকাংশ ফাইল স্টোরেজ সাইটের পদ্ধতি মোটামুটি একই রকম।

এখন আপনার ইন্টারনেট কানেকশন যদি খুব ফাস্ট হয়, তাহলে আপনি এসব সাইট থেকে কয়েকশ মেগাবাইট সাইজের ফাইল কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই ডাউনলোড করে ফেলতে পারবেন। কিন্তু আপনার স্পীড যদি কম হয় অথবা ফাইলের সাইজ যদি অনেক বড় হয় তাহলে আপনার পক্ষে সম্পূর্ণ ফাইলটা একবারে ডাউনলোড করা সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি দেখবেন যে ফাইলটা কিছু সময় পরে আর ডাউনলোড হচ্ছে না। এমন কি ডাউনলোড রিজিউমও করা যাচ্ছে না। এর কারণ হচ্ছে এই সময়ের মধ্যেই ফাইলটার ডাউনলোড লিংক পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থাত্‍ এরকম অবস্থায় ডাউনলোড রিজিউম করার জন্য আপানাকে ঐ ফাইলের রেফারেন্স লিংকটা অর্থাত্‍ যে লিংকটা ব্যবহার করে আপনি প্রথমবার ডাউনলোড লিংকটা পেয়েছিলেন সেই লিংকটা পুনরায় ব্রাউজারে চালাতে হবে। এরফলে আপনি ফাইলটার একটা নতুন ডাউনলোড লিংক পাবেন। আপনি যদি ভালোভাবে লক্ষ করেন তাহলে দেখতে পাবেন যে পূর্বের ডাউনলোড লিংক এবং এই ডাউনলোড লিংক ভিন্ন। এবার আপনি যেই ডাউনলোড ম্যানেজার দিয়ে ফাইলটা ডাউনলোড করছিলেন (ধরে নিচ্ছি Internet Download Manager) তার ডাউনলোড লিস্ট থেকে ঐ ফাইলটার নামের উপর রাইট ক্লিক করে Properties এ ক্লিক করুন। এবার এই Properties উইন্ডোর Referer বক্সে ঐ রেফারেন্স লিংকটা এবং Address বক্সে নতুন ডাউনলোড লিংকটা প্রবেশ করিয়ে এরপর Resume বাটনে ক্লিক করুন। দেখবেন কোন ঝামেলা ছাড়াই পুনরায় ডাউনলোড শুরু হয়ে গেছে।

মাঝে মাঝে ইন্টারনেট ডাউনলোড ম্যানেজার ব্যবহার করে মিডিয়া ফায়ার থেকে ডাউনলোডের সময় কিছু কিছু ফাইল 99.99% ডাউনলোড হয়ে এরপর আর ডাউনলোড হয় না। সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতি পর পর দুইবার প্রয়োগ করলেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। IDM ছাড়াও অন্যান্য ডাউনলোড ম্যানেজারেও এই পদ্ধতি সুন্দরভাবে কাজ করে। কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে ফাইলটা করাপ্টেড হওয়ারও সম্ভবনা থাকে। বিশেষ করে ফাইলটা যদি *.rar ফাইল হয় তাহলে IDM ছাড়া অন্য কোন সফটওয়্যার যেমন Orbit Downloader দিয়ে এই পদ্ধতি প্রয়োগ না করাই ভালো।

আরো বিস্তারিত বিবরণ সহ মূল প্রবন্ধটা আছে আমার ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে
- http://tohamh.wordpress.com/2008/08/27/resume_download/

এই লেখাটা আমার হলেও বুদ্ধিটা আমি পেয়েছিলাম ব্লগার মাহবুব জামান আশরাফীর কাছ থেকে ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28835512 http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28835512 2008-08-27 11:05:23
জন্মদিনে আবার ...
এখনও যে ব্যস্ততা কমেছে, তা নয়, বরং একটু বেড়েছে। কারণ সিরত স্কুলের প্রথম সাময়িকী পরীক্ষার তারিখ দেওয়া হয়েছে - কাজেই প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে। তবে যেহেতু গত সপ্তাহে ভার্সিটির মিড সেমিস্টার এক্সাম শেষ হয়েছে এবং লিবিয়ানে মোবাইল ফোনের বদৌলতে এখন ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছি, সেজন্যই শত ব্যস্ততার মধ্যেও আবার একটু পরিচিত সাইটগুলোতে উঁকিঝুঁকি মেরে গেলাম। ও হ্যাঁ, এতদিন পরে আজ আসার আরো একটা কারণও হয়তো আছে, সেটা হল আজ আমার জন্মদিন।

কে জানে, এই উপলক্ষে লেখা শুরু করে আবার নিয়মিত হতে পারব কি না?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28797376 http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28797376 2008-05-13 16:46:33
শাইখ সিরাজের মোবাইল নাম্বার প্লীজ! খুবই জরুরী! দুর্যোগ সংক্রান্ত!
লিবিয়ার সিরতের অধিবাসীরা বাংলাদেশের সিডর আক্রান্ত জনগণকে সাহায্য করার জন্য টাকা তুলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১০০০ ডলার উঠেছে। এখন তারা চাচ্ছে এই টাকাগুলো চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার তহবিলে পাঠাতে। সেজন্যই শাইখ সিরাজের নাম্বারটা দরকার।

দূতাবাসের মাধ্যমেও অবশ্য টাকা পাঠানো হবে। কিন্তু এই টাকাটা শুধুমাত্র সিরতবাসীদের উদ্যোগ। সেজন্যই এটা ভিন্নভাবে পাঠানো হচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28748629 http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28748629 2007-11-30 21:32:28
সুসংবাদ - caebd.com এ আমার তিনটা প্রবন্ধ একসাথে জনপ্রিয় লিস্টে! http://www.caebd.com নামে কম্পিউটার ও ইলেক্ট্রনিক্সের উপর নতুন করে সাইট তৈরি করেছেন। এই সাইটটিতে যে কেউ রেজিস্ট্রেশন করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লেখা জমা দিতে এবং যেকোন লেখার উপর মন্তব্য করতে পারবে।

সাইটটি চালুর পর প্রথম কয়েকদিনের মধ্যেই আমি এতে চারটা লেখা জমা দেই। চারটা প্রবন্ধই প্রকাশিত হয়। কিন্তু তখন জুয়েল ভাই প্রতিদিন এত বেশি সংখ্যক নিজের পুরানো প্রবন্ধগুলো সেখানে প্রকাশ করছিলেন যে, আমার গুলো সেগুলোর নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছিল। কাজেই আমি সেখানে লেখা বন্ধ করে পূর্বের মতো বিজ্ঞানী ডট কমেই লিখে যেতে থাকি। কিন্তু জুয়েল ভাইয়ের ভাইয়ের অনুরোধে পরবর্তীতে আমি আবারও caebd তে লেখা শুরু করি।

caebd তে নতুন করে লেখা শুরু করে আমি পরপর তিনটা লেখা জমা দেই। প্রবন্ধগুলো হল - হ্যকিং টিপস - পাসওয়ার্ড ছাড়াই আনলক করুন নকিয়া 1110!, ফ্রি ডাউনলোড করুন কুরআনের নতুন একটি বাংলা অনুবাদ, ডাউনলোড করুন বাংলা কুরআন সফটওয়্যার]। মজার ব্যাপার হল, তিনটা প্রবন্ধই এখন সেরা দশ জনপ্রিয় প্রবন্ধের তালিকায় আছে। এর মধ্যে wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28735088হ্যকিং টিপস - পাসওয়ার্ড ছাড়াই আনলক করুন নকিয়া 1110! প্রবন্ধটি সেরা দশের মধ্যে প্রথম স্থানে আছে। আমার মতো অভাজনের পক্ষে এটা একটা খুশির সংবাদ বৈকি!


আরও পড়ুন :

টেকনোলজি টুডেতে আমার দুটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে - পড়ুন প্রথম প্রবন্ধ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28741817 http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28741817 2007-11-01 15:56:17
আমার বাংলা ই-বুক সংগ্রহের এক বছর - সংগ্রহে দুই শতাধিক বই - তালিকা এখানে - দ্বিতীয় পর্ব
এই এক বছরে আমর কম্পিউটার বাংলা বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইশোরও বেশিতে এবং এগুলো দখল করে আছে হার্ডডিস্কের 1. গিগাবাইট। নিচে আমার সংগ্রহে থাকা বইগুলোর একটা তালিকা দিলাম। এর মধ্যে যে বইগুলো আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে, সেগুলোর পাশে ব্র্যাকেটে চমত্‍কার লিখে দিলাম। যারা এখনও সেগুলো পড়েননি, তাদের প্রতি অনুরোধ, দেরি না করে এগুলো ডাউনলোড করা শুরু করে দিন। তা না হলে সাহিত্যের একটা ইন্টারেস্টিং অধ্যায় মিস করবেন।

আজ শুধু মুহম্মদ জাফর ইকবালের বইগুলোর তালিকা দেওয়া হল। আমার কাছে যেগুলো বেশ ভালো লেগেছে, সেগুলোর পাশে ভালো এবং যেগুলোকে অসাধারণ মনে হয়েছে, সেগুলোর পাশে চমতকার লিখে দিলাম।

আমার সংগ্রহে থাকা বাংলা বইয়ের (পিডিএফ) তালিকা - হম্মদ জাফর ইকবাল (25)


সায়েন্স ফিকশন

টুকি এবং ঝায়ের (প্রায়) দুঃসাহসিক অভিযান (চমত্‍কার, চমত্‍কার, চমত্‍কার)
বিজ্ঞানী সফদর আলির মহা মহা আবিষ্কার (ভালো)
কপোট্রনিক সুখ দুঃখ (ভালো)
ওমিক্রণিক রূপান্তর (ভালো)
বেজি (চমত্‍কার, চমত্‍কার)
বিজ্ঞানী অনিক লুম্বা
একজন অতিমানবী
মহাকাশে মহাত্রাস
ফোবিয়ানের যাত্রী
নয় নয় শূণ্য তিন
ত্রিনিত্রি রাশিমালা
যারা বায়োবট
মেকু কাহিনী
রুহান রুহান
জলমানব
মেতসিস
ক্রুগো
ইরন
পৃ


কিশোর উপন্যাস + উপন্যাস + আত্মজীবনীমূলক + কলাম

হাত কাটা রবিন (চমত্‍কার, চমত্‍কার)
দীপু নাম্বার টু
বৃষ্টির ঠিকানা
আমি তপু

রঙ্গিন চশমা

নিঃসঙ্গ বচন



আপনারা যদি এই বইগুলো ডাউনলোড করতে চান, তাহলে মূর্ছনাতে যেতে পারেন। এই তালিকার অধিকাংশই মূর্ছনাতে পাবেন। যদি সেখানে রেজিস্ট্রেশন করা ঝামেলার মনে করেন, তাহলে সেখানকার অধিকাংশ বই সরাসরি সুমন আহমেদের ইস্নিপস ডাউনলোড সেন্টার থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। কারণ সুমন আহমেদ হচ্ছেন মুর্ছনার অ্যাডমিন এবং মূর্ছনার অধিকাংশ বই তারই আপলোড করা। আর তার স্ক্যান কোয়ালিটিও অসাধারণ!

লিংক :
মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস
মুহম্মদ জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন


আরো পড়ুন - আমার সংগ্রহে হুমায়ূন আহমেদের 78 টি বইয়ের তালিকা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28739810 http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog/28739810 2007-10-25 21:27:07
ঈদ স্পেশাল প্রেমের গল্প - সে ভালোবাসে, নাকি বাসে না - ইমদাদুল হক মিলন
রবি বলল, টায়ার্ড হওয়ার কথা আমার। আমি ড্রাইভ করেছি। তুই তো শুধু বসে থেকেছিস।

কোথায় বসে থাকলাম? তোর বকবকানি শুনেছি না! এত কথা শুনলে কেউ টায়ার্ড না হয়ে পারে! এখন মনের মতো থাই ফুড খেয়ে টায়ার্ডনেস কাটাব। রবি, নো বকবক।

কিন্তু আমার সমস্যা তো মিটছে না।

কী সমস্যা সেটাই তো বলছিস না। শুধু ঘুরে বেড়ালি। এ কথা, সে কথা। আমি এতবার জানতে চাইলাম, তাও বললি না। এখন বল।

দাঁড়া, খেতে খেতে বলি।

রবি ওয়েটারকে ডাকল। কিউজ মি!

মম বিরক্ত হলো। কিউজ মি আবার কী? এক্সকিউজ মি।

পুরোটা বলতে টায়ার্ড লাগছে। এ জন্য সংক্ষেপ।

ওয়েটার সামনে এসে দাঁড়াল। রবি মমর দিকে তাকাল। তাকিয়ে আর চোখ সরায় না।

মম বলল, কী হলো?

তোকে যা লাগছে না! নীল শাড়ি, এত সুন্দর মেকাপ। একদম ঐশ্বরিয়া, একদম।

রবির কথা পাত্তা দিল না মম, ওয়েটার দাঁড়িয়ে আছে। অর্ডার দে।

আমি এসব পারি না। তুই দে।

কী খাবি?

শোন বাবা, তোর জন্মদিন, যা ইচ্ছা অর্ডার দে। নো প্রবলেম।

টাকা-পয়সা আছে, নাকি খাওয়ার পর আমাকে পে করতে হবে?

আমার কাছে না থাকলে তুই করবি! তোর টাকা আর আমার টাকা একই। অর্ডার দে, আমি ওয়াশরুম থেকে আসছি।

ওদের কথাবার্তা শুনে ওয়েটার মুচকি মুচকি হাসছিল। রবি উঠে যেতেই সিরিয়াস মুখ করে মমর দিকে তাকাল, ইয়েস, ম্যাডাম।

মম মেনু ঘাঁটতে ঘাঁটতে কয়েকটা আইটেমের কথা বলল।

খাবার দেখে খুশিই হলো রবি। মজার মুখভঙ্গি করল। অর্ডার তো ভালোই দিয়েছিস। তার মানে বন্ধুর পকেটটা আজ খালি করবি।

মম তার অসাধারণ সুন্দর চোখ তুলে রবির দিকে তাকাল। রবি, আজ আমার জন্মদিন।

সেটা ঠিক আছে। কিন্তু তোকে না বলেছি, এ রকম চোখ করে আমার দিকে তাকাবি না। আমার অসুবিধা হয়।

কী অসুবিধা?

বলব না। খা বাবা, খা। আমিই পে করব।

রবির প্লেটে খাবার তুলে দিল মম। নিজে নিল। খেতে খেতে বলল, কিন্তু সমস্যাটা বলছিস না কেন?

এখন বলতেই হবে। এখন আর না বলে উপায় নেই। ইয়ে মানে, মম, আমি ডট ডট পড়েছি আর কী!

ডট ডট পড়েছিস মানে? ডট ডট পড়া অর্থ কী?

বুঝিসনি?

না।

তোর সমস্যা হচ্ছে তোকে সবকিছু একেবারে পানির মতো পরিষ্কার করে বলতে হয়। ডট ডট মানেটা হচ্ছে ইয়ে আর কি! ইয়ে ...

ইয়ে মানে কী?

ইয়েও বুঝিস না? আরে ইয়ে মানে হচ্ছে ওই ইয়ে আর কি! প্রেম প্রেম। আই অ্যাম ইন লাভ।

মম খুবই খুশি হলো। সুন্দর চোখ আরও সুন্দর হলো তার। মিষ্টি মুখখানি উদ্ভাসিত হয়ে গেল। সত্যি?

সত্যি।

হ্যান্ডশেকের ভঙ্গিতে ডান হাত বাড়িয়ে দিল মম। কনগ্রাচুলেশন্স।

রবিও হাত বাড়াল। মমর হাত ধরে বলল, থ্যাংকস।

কিন্তু মেয়েটা কে? কোথায় থাকে? তোর সঙ্গে পরিচয় হলো কবে? আমাকে তো কিছুই বলিসনি?

বলি বলি করেও বলা হচ্ছিল না।

একটা একটা করে বল। নাম কী?

ইয়ে, নাম হচ্ছে অন্তরা। অন্তরা। কয়েক দিন আগে পরিচয় হয়েছে।

দেখতে কেমন?

অসাধারণ সুন্দর। রিয়েলি অসাধারণ। রানী মুখার্জি টাইপ। সিডি কিনতে গিয়েছিলাম রাইফেলস স্কয়ারে। ওখানে পরিচয়।

তোকে পছন্দ করেছে? নাকি ওয়ান সাইডেড?

আরে না, আমাকে খুবই পছন্দ করেছে। ফোনে রোজ তিন-চারবার করে কথা হচ্ছে।

মম খুবই খুশি, রিয়েলি?

রিয়েলি।

আমার খুবই মজা লাগছে। এত দিনে তোর একটা গতি হলো।

কিন্তু সমস্যাটা তো শুনছিস না?

এরপর আর কী সমস্যা?

আমি এখনো তাকে কিছুই বলতে পারিনি।

মানে?

মানে প্রপোজ করা হয়নি। কীভাবে বলব, আমি তোমাকে ভালোবাসি বা ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব কীভাবে বলতে হয় জানি না তো! তুই আমাকে হেল্প কর।

আমি কী হেল্প করব?

শিখিয়ে দে, কীভাবে প্রপোজ করতে হয়।

তুই একটা সম্পূর্ণ গাধা। এসব কাউকে শিখিয়ে দিতে হয়? হিন্দি সিনেমায়, আমাদের টিভি নাটকে দেখিস না কীভাবে নায়কেরা প্রপোজ করে?

হিন্দি সিনেমা আমি দেখি না। কোন কোন সিনেমা দেখা যায় বলে দে। আজই দেখে ফেলি। মানে দেখতে শুরু করি।

থাক, এত পরিশ্রমের দরকার নেই। আমিই শিখিয়ে দিচ্ছি।

না না, শুধু শেখালে হবে না। পুরোপুরি একটা রিহার্সেল করাতে হবে। খাওয়া শেষ করে আমাদের ফ্ল্যাটে চল। মা আর বাবা দশ দিনের জন্য গেছে গ্রামের বাড়িতে। বুয়া দুটোকে ছুটি দিয়ে দিয়েছে। ফ্ল্যাটে আমি একদম একা। ওখানে গিয়ে রিহার্সেল করি। কারণ আজই তাকে আমি প্রপোজ করতে চাই। আজ বিকেলেই সে আমাদের ফ্ল্যাটে আসবে।

আচ্ছা, ঠিক আছে। এখন খা। গাধা কোথাকার! একটা মেয়েকে কীভাবে প্রপোজ করতে হয় তাও জানে না।

বাড়িতে ঢুকে গাড়ি পার্ক করে রবি বলল, একটু দাঁড়া, মম। আমি দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলে আসি।

দারোয়ানের সঙ্গে আবার কী কথা?

বললাম না ঝুমু আজ বিকেলে আমাদের ফ্ল্যাটে আসবে। আসলে যেন আমাকে ইন্টারকম করে।

মম অবাক, ঝুমু আবার কে?

ওই যে ওই মেয়েটা।

তুই না ওর নাম বললি অন্তরা?

রবি সরল মুখ করে হাসল। ভালো নাম অন্তরা। ডাকনাম হচ্ছে ঝুমু।

ও। আসার আগে তোকে ফোন করবে না?

তা তো করবেই।

তাহলে দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলার কী আছে?

তবু একটু বলে আসি। তুই দাঁড়া। এক মিনিট।

এক-দেড় মিনিটের মধ্যেই ফিরল রবি। মমকে নিয়ে তাদের ফ্ল্যাটে এল। ফ্ল্যাটে ঢুকে মম কোনো কথা বলল না। কিচেনে ঢুকে দু মগ কফি করল। দু হাতে মগ দুটো ধরে ড্রয়িং রুমে এল। একটা মগ রবির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, আয় কফি খেতে খেতে তোকে সব শেখাই। নে, ধর।

রবি কফির মগ নিল। চুমুক দেওয়ার আগেই বলল, তাড়াতাড়ি কর, তাড়াতাড়ি। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কিন্তু এসে পড়বে।

রবির মুখোমুখি বসে কফিতে চুমুক দিল মম। কিন্তু নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে প্রপোজ করাটা কি ভালো দেখাবে?

রবি এক চুমুক কফি খেল। এটা আমিও ভেবেছি। কিন্তু ও আসতে চাইছে, না করি কী করে। যা ইচ্ছা হোক গিয়ে। আমি আর দেরি করতে পারছি না। আজই যা বলার বলে ফেলব। তুই আমাকে শিখিয়ে দে।

কথাগুলো বলতে হবে খুব সুন্দর করে, বুঝলি?

আচ্ছা, ঠিক আছে। সুন্দর করেই বলব।

গলার আওয়াজ থাকবে স্নিগ্ধ।

স্নিগ্ধ আওয়াজটা কী রকম?

নরম ধরনের আর কি! আর মুখটা সব সময় হাসি-হাসি।

তুই একটু দেখিয়ে দে।

ঠিক আছে। দাঁড়া।

কফির মগ রেখে উঠে দাঁড়াল রবি। মমও তার মগ রাখল। অভিনয় করে দেখাতে লাগল রবি কীভাবে অন্তরাকে প্রপোজ করবে। বলল, অন্তরা তোর ফ্ল্যাটের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। কলিং বেল বাজাল। তুই দরজা খুলেই বললি, ‘আজকের আগে এত সুন্দর করে কেউ আমাদের কলিং বেল বাজায়নি। তোমার আঙ্গুলের ছোঁয়ায় কলিং বেলের আওয়াজও মিষ্টি হয়ে গেছে।’ কিন্তু গলার স্বর অতি নরম, অতি স্মিগ্ধ। মুখটা হাসি-হাসি।

বুঝলাম। তারপর?

বলবি, ‘ফ্ল্যাটে কেউ নেই। শুধু আমরা দুজন। তুমি কি আমার রুমে গিয়ে বসবে, নাকি ড্রয়িং রুমে? আই মিন, তুমি যেখানে কমফোর্ট ফিল কর।’

আরে, এসব কায়দা আমি জানি। এসব শেখাতে হবে না। আসল কথা বল। প্রেমের কথাটা বলব কী করে?

সেই দিকেই তো যাচ্ছি। ওকে কোথাও বসিয়ে, না না বসাবার দরকার নেই, আগে থেকেই জিনিসটা তোর হাতে রাখবি।

কোন জিনিস?

ফুল, ফুল। একটা টকটকে লাল গোলাপ হাতে ধরে রাখবি। কিন্তু সেই হাতটা রাখবি পেছনে। আচমকা ফুলটা তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলবি, ‘আমার হৃদয় তোমাকে দিলাম।’

এতেই হয়ে যাবে?

হ্যাঁ। কিন্তু সঙ্গে আর একটা কাজও করতে হবে। অপলক চোখে তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

রবির মুখে করুণ একটা ভঙ্গি ফুটে উঠল। এই একটা সমস্যা হয়ে গেল। আমি অপলক চোখে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারি না। চোখে পলক পড়ে যায়।

মম রেগে গেল। এ জন্যই বলি তুই একটা সম্পূর্ণ গাধা। আয়, একবার প্র্যাকটিস কর। ওই ওখান থেকে একটা ফুল নিয়ে আয়।

ওগুলো তো তোর জন্মদিনের জন্য কিনে রেখেছি। তাড়াহুড়ো করে চায়নিজ খেতে চলে গেলাম, এ জন্য নেওয়া হয়নি। তোকে দেওয়াও হয়নি।

কোনো অসুবিধা নেই। ওখান থেকে একটা গোলাপ নে। অন্যগুলো বাড়ি যাওয়ার সময় আমি নিয়ে যাব।

আচ্ছা, ঠিক আছে।

রবি একটা লাল গোলাপ নিল।

মম বলল, হাতটা পেছনে লুকা।

ফুল ধরা হাত পেছনে লুকাল রবি।

এবার আমার চোখের দিকে তাকা।

রবি তাকাল।

এবার বল।

মমর চোখের দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে ফুল ধরা হাত তার দিকে বাড়িয়ে দিল রবি। সুন্দর উচ্চারণে বলল, আমার হৃদয় তোমাকে দিলাম।

মমর বুকের ভেতর কোথায় যেন কী রকম একটা কাঁপন লাগল এ কথায়। শরীর কী রকম কাঁটা দিল। চোখ বদলে গেল মমর, মুখ বদলে গেল। নিজের অজান্তেই হাত বাড়িয়ে রবির গোলাপ সে নিল। রবির মতো করেই তার চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের অজান্তেই যেন বলে ফেলল, আমার হৃদয়ও আজ আমি তোমাকে দিলাম।

মমর কথা বলার ভঙ্গি, তাকিয়ে থাকা, চোখ ও মুখের পরিবর্তন খেয়াল করল রবি। সে একটু থতমত খেল। অন্তরা কি তোর মতো করে বলবে?

মম যেন অন্য এক জগত্‍ থেকে ফিরল। একটু যেন বিব্রত সে। বলল, তা আমি কী করে বলব? তবে অন্তরার জায়গায় আমি হলে এভাবেই বলতাম।

এ সময় রবির মোবাইল বাজল। রবি ব্যস্ত ভঙ্গিতে পকেট থেকে মোবাইল বের করে ধরল, হ্যালো।

তার পরই মুখটা উজ্জ্বল হয়ে গেল তার। ও তুমি? এসে পড়েছ? কোথায়? আরে তাই নাকি? দারোয়ানকে বলা আছে। চলে এসো, চলে এসো।

মোবাইল অফ করে হাসিমুখে মমর দিকে তাকাল রবি। অন্তরা এসে পড়েছে।

মম চিন্তিত হলো। এত তাড়াতাড়ি এসে পড়ল? কিন্তু আমাকে নিয়ে তো একটা ঝামেলা হয়ে যাবে।

কী ঝামেলা?

মেয়েরা খুব ঈর্ষাকাতর হয়। তোর একা ফ্ল্যাটে এভাবে আমাকে দেখলে অন্তরা ভুল বুঝতে পারে। তোদের প্রেম আজই শেষ হয়ে যেতে পারে।

এটা তো আমি ভাবিনি! এখন তাহলে কী হবে?

গেস্টরুম দেখিয়ে মম বলল, আমি ওই রুম ভেতর থেকে বন্ধ করে বসে থাকি। অন্তরা চলে যাওয়ার পর বেরোব।

ঠিক আছে, ঠিক আছে। তুই ওই রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ কর, আর আমি দরজা খুলে অন্তরার জন্য দাঁড়িয়ে থাকি।

ঠিক আছে। তবে আমি যেভাবে বলেছি ঠিক ওভাবে সব করবি। ওকে?

ওকে, ওকে।

দৌড়ে গেস্টরুমে ঢুকল মম। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দরজায় কান পেতে দাঁড়িয়ে রইল। সে যেভাবে যা শিখিয়ে দিয়েছে রবি ঠিক সেভাবে সব কথা বলতে পারে কি না জানার আগ্রহ।

রবির উত্সাহী গলা শোনা গেল মিনিটখানেক পর। আরে, এসো এসো। আমি তোমার জন্য দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছি।

তারপর দরজা বন্ধ করার শব্দ পেল মম। নিশ্চয় অন্তরা ভেতরে ঢুকেছে, রবি দরজা বন্ধ করেছে।

আবার রবির গলা শোনা গেল। শোনো অন্তরা, দরজা খুলে রাখা কথাটার অন্য একটা অর্থও আছে।

অন্তরা বলল, কী অর্থ?

আমি তোমার জন্য আমার হৃদয়ের দরজাও খুলে রেখেছি।

অন্তরা মুগ্ধ হলো, তুমি এত সুন্দর করে কথা বলো, শুনলে বুকের ভেতরটা কেমন তোলপাড় করে। হৃদয়ে দোলা লাগে।

হৃদয় শব্দটা শুনলেই হৃদয়ে দোলা লাগে, ঠিক না?

বন্ধঘরের ভেতর মমর চেহারা তখন বদলাতে শুরু করেছে। একেবারেই অন্য রকমের একটা অনুভূতি তার হচ্ছে। অন্তরা মেয়েটার কথা যেন সে সহ্য করতে পারছে না। কী রকম একটা রাগ, কী রকম একটা জেদ, নাকি অচেনা এক ঈর্ষাবোধ নিজের ভেতর জেগে উঠতে দেখছে মম। অস্থির লাগছে তার, খুবই অস্থির এবং দিশেহারা লাগছে।

কেন, এমন হচ্ছে কেন মমর?

বাইরে তখন আবার শোনা গেল রবির গলা। একটু যেন জোরে কথা বলছে রবি। আমার নাম রবিন। কিন্তু এখন আর কেউ রবিন ডাকে না। রবি বলে ডাকে সবাই।

অন্তরা বলল, রবিই সুন্দর। রবির কিরণ। অর্থাত্‍ তোমার কিরণে আমার জীবন উজ্জ্বল হয়ে যাবে।

মম মনে মনে বলল, ইস, রবির কিরণ! জীবন উজ্জ্বল হয়ে যাবে! কোথাকার কে হঠাত্‍ করে এসে জীবন উজ্জ্বল করছে। কী তোর জীবন রে!

রবি বলল, এই গোলাপ তোমাকে দিলাম। এ কোনো গোলাপ নয়, এ আমার হৃদয়। আমার হৃদয় আমি তোমাকে দিলাম। তুমি গ্রহণ করো। আমার হৃদয় তুমি গ্রহণ করো। আর তোমার হৃদয় দাও আমাকে।

এবার আর সহ্য করতে পারল না মম। কোনো কিছুই মাথায় রইল না তার। পাগলের মতো দরজা খুলে ছুটে বেরোল সে। না, রবি, না। আমার ফুল তুই অন্য কাউকে দিতে পারবি না। না। না।

রবি হো হো করে হেসে উঠল।

রবির হাসি পাত্তা দিল না মম। এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল, কোথায়? সে কোথায়?

সে মানে? অন্তরা?

হ্যাঁ। কোথায় গেল?

কোথাও যায়নি। কোথাও থেকে আসেওনি। সে আছে আমার অন্তরে।

কী বলছিস তুই? আমি পরিষ্কার তার গলা পেলাম। তোর সঙ্গে এতক্ষণ ধরে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলল।

সেই মিষ্টি গলার কথাটা তুই শুনবি?

কিছুক্ষণ আগে অন্তরা যে ভঙ্গিতে, যে সুরে কথা বলেছে, অবিকল সেই ভঙ্গি, সেই সুরে রবি বলল, আমিই অন্তরা। রবির অন্তরে বাস করি।

অন্য সময় হলে রবির এই মেয়েলি স্বর আর ঢং দেখে হেসে মরে যেত মম। এখন উল্টো অবস্থা হলো তার। কেমন কান্না পেল। কাঁদো-কাঁদো গলায় বলল, ও, তাহলে এসব তোর চালাকি! রবি, রবি, আমি কিছু বুঝতে পারছিলাম না। আমার এমন লাগছিল কেন? এখনই বা এমন লাগছে কেন? আমিই তোকে সব শিখিয়ে দিয়েছি, তারপর তুই যখন ওসব কথা বলছিলি, আমার মনে হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল, আমার সম্পদ যেন কেউ ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলাম না। আমার এমন হচ্ছিল কেন, রবি?

রবি গম্ভীর গলায় বলল, এটাই আমি চেয়েছি। মম, অন্তরা বা ঝুমু বলে কাউকে আমি চিনি না।

সত্যি?

সত্যি। আমি চিনি তোকে। আমি চাই তোকে। আর কাউকে না, কাউকে না।

মমর চোখে-মুখে তখন আশ্চর্য এক ঘোর লেগেছে। কণ্ঠে লেগেছে অচেনা এক মাদকতা। রবির মতো করেই সে বলল, আমিও, আমিও তোকে চাই। শুধু তোকে, শুধু তোকে। তোকে ছাড়া আর কাউকে আমি ভাবতে পারি না। কাউকে না।

কিন্তু এত দিন আমরা কেউ কাউকে বলিনি কেন?

কী জানি। আজকের আগে এই অনুভূতিই আমার হয়নি।

সত্যিকার প্রেম কখনো কখনো এইভাবে চাপা পড়ে থাকে। তাকে তুলে আনতে হয়। আমি এই তোলার কাজটা আজ করেছি।

এত দিন করিসনি কেন? আরও আগে করিসনি কেন?

অনেক আগে থেকেই প্ল্যান করে রেখেছি, তোর জন্নদিনে এভাবে তোকে আমি জাগিয়ে তুলব।

কিন্তু অন্তরা যে ফোন করল?

অন্তরা না, ওটা আমাদের দারোয়ান।

কী?

হ্যাঁ। দারোয়ানকে বলেছিলাম, সে যেন আমার মোবাইলে একটা ফোন করে। একদম সাজানো নাটক। ওই যে তোকে দাঁড়াতে বলে আমি দারোয়ানের কাছে গেলাম না!

মম কাতর, অসহায় গলায় বলল, এখন কী হবে, রবি?

কী হবে মানে? আজ থেকে আমাদের নতুন পরিচয়। প্রেমিক-প্রেমিকা। কদিন পর আমি হচ্ছি বর, তুই হচ্ছিস কনে। বছর দেড়েক পর তুই হচ্ছিস মা, আমি হচ্ছি বাবা।

রবিকে আলতো করে একটা ধাক্কা দিল মম। যাহ্।

একটু থেমে বলল, এই, আমার কেমন যেন লজ্জা লাগছে। রবি, আমি তোর দিকে তাকাতে পারছি না। একদম তাকাতে পারছি না।

রবি দুহাতে মমর মুখটা তুলে ধরল। আমিও পারছি না। তবু জোর করে তাকাচ্ছি। শোন, আজ সকালে তোর জন্য ফুল কিনতে গিয়ে একটা ফুলের পাপড়ি ছিঁড়েছি আর বলেছি, সে ভালোবাসে, নাকি বাসে না! প্রথমে একবার ইংরেজিতে বলেছি, শি লাভস মি, শি লাভস মি নট। ইংরেজিটা বলতে ভাল্লাগছিল না। বাংলায় বলতে গিয়ে দেখি, বাহ্, বেশ জমে গেল। ‘সে ভালোবাসে’ কথাটায় এসে পাপড়ি শেষ হলো। তখন থেকেই জানি তুইও আমাকে ভালোবাসিস। তোর মুখ থেকে কথাটা শোনার জন্য এত কিছু। নারী চরিত্রে অভিনয়ও করতে হলো।

দুহাতে রবির গলা জড়িয়ে ধরে মম বলল, ভালোবাসা প্রমাণের জন্য ফুলের পাপড়ি ছেঁড়াছেঁড়ি করে তো মেয়েরা।

মমর গ্রীবার কাছে মুখ রেখে রবি বলল, ছেলেরাও করে।

সৌজন্যে - প্রথম আলো


# আপনি সম্ভবত এই পোস্টগুলোও পছন্দ করবেন -
সায়েন্স