ত্রিদিব দস্তিদার মারা যাবার পর
২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৩
বেলাল চৌধুরীর ফোন, হ্যালো টোকন...
একটা শোক, একটা ইনফরমেশন! আমার বাসায় আমি আর কয়েকটা চড়ুই, রুম ভাগাভাগি করে শুই ভোরের চড়ুই আমাকে ডাকে কিন্তু আমি তো ঘুমাই, মনে একটা শালিক ছিল, তাও এখন নাই। তাই ঘুমোচ্ছিলাম, সকাল ছটায় বেলাল চৌধুরীর ফোন... অনেকদিন পর তখন, সেই মুহূর্তে ফিরে এল শালিকের মন!
বেলাল চৌধুরী বললেন, ‘গতরাতে ত্রিদিব এক্সপায়ার করেছে... ওর তো কেউ নেই, সৎকার করারও কেউ নেই, বন্ধুদের জানিয়ে দাও আর তুমি এক্ষুণি চলে আসো নয়াপল্টনে জোনাকির কাছে...’
প্রেসক্লাব যাই, গিয়ে দেখি ত্রিদিব দা নাই তবে বহুদিন আগে, পটিয়া থেকে এই শহরে ঢুকে-পড়া নিঃসঙ্গ এক জিপসি-কবির ডেডবডি পড়ে আছে, যদিও ‘ওর তো কেউ নেই, সৎকার করারও কেউ নেই’ এই মমতা সত্য নয়- কারণ, আরো পঞ্চাশজন আসঙ্গ নিঃসঙ্গতাপ্রার্থী তখন লাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা কারা? কেউ নয়?
শেষরাতে বৃষ্টির পর ভীষণ মেঘ হয়ে থমকে ছিল মৌরি*। আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল, সব্বাইকে বলি: দাহপূর্ব দেহ থেকে শাদাকাপড় সরাও, কেননা, ছাই হবার আগেই আমি দেখতে চাই- একদিন কবি যা জানিয়েছিলেন- অঙ্গে আমার বহুবর্ণের দাগ...
২০০৫
*মৌরি; বেলাল চৌধুরী কন্যা
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:৩৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
দেয়াল বলেছেন:
আপনার কোন প্রিয় পোষ্ট নাই দেখতেছি। নাকি রাক্ষসদের সাথে এখনও বনিবনা হচ্ছেনা?
লেখক বলেছেন: ব্লগে অামি নতুন এখনো ভাই...
ফয়েজ ০৮ বলেছেন:
দাহপূর্ব দেহ থেকে শাদাকাপড় সরাও
লেখক বলেছেন: কেননা, ছাই হবার আগেই আমি দেখতে চাই-
একদিন কবি যা জানিয়েছিলেন-
.............................................অঙ্গে আমার বহুবর্ণের দাগ...
পান্থ বিহোস বলেছেন:
শুধু মন্তব্য করার জন্যই লগিন করলাম।
--------------------------------------------
লেখাটা চুঁয়ে চুঁয়ে উপচে পড়ার বেদনা অনভূত হলো মনে।
-------------------------------------------------
প্রিয়তে জমা রাখলাম, মাঝে মাঝে পড়বো বলে...
লেখক বলেছেন: পান্থ... একদিন দেখা দিলে না, ঠিক?
অনন্যা রহমান বলেছেন:
মায়ের সাথে একদিন রিক্সায় করে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি পাশের রিক্সায় কবি- মায়ের পূর্ব পরিচিত ছিলেন কবি- মা এই ত্রিদিব বলে ডাকি দিতেই কবি বল্লেন দিদি, নতুন একটা কবিতা লিখেছি............."ভালবাসতে বাসতে ফকির করে দেব" আজো কবি সম্পর্কে কোন কথা শুনলে প্রথমেই স্মৃতিতে কবির সেই কথাগুলো ভেসে ওঠে.......ভালবাসতে বাসতে ফকির করে দেব।
শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি কবিকে। সেইসাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি লেখককে কবির শেষ সময়ের অজানা কিছু জানাবার জন্য।
লেখক বলেছেন: অনন্যা, ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য।
................ত্রিদিব দস্তিদার এর সেই বইটার নাম:
"ভালবাসতে বাসতে ফকির করে দেব" নয়। অাসলে বইটৃার নাম=
"ভালবাসতে বাসতে ফতুর করে দেব"
ভালো থাকবেন...
রাকিবুল হক ইবন বলেছেন:
টোকন দা ত্রিদিব দাকে নিয়ে আজ আপনি কলম ধরলেন, অনেক বড় ঋণ হতে জাতিকে এই জাতির সকল লেখকে কিছুটা হলেও বাঁচালেন। আর তরুন লেখরা ত্রিদিব দাকে খুব বড় লেখক মনে করতো-না বলেই মনে হয়। তারা আসলে সেইসব তরুনরা আসলে ত্রিদিব দস্তিদার জীবন ও কবিতা সর্ম্পকে না জেনে এইসব অনুভূতি ভিতরে লালন করে। আমি জানি, প্রকতৃ অর্থেই মনে করি যে আমার অনুভূতি আছে একজন কবি ভিতরে ভিতরে কতদূর নিজেকে পোড়ালে তারপর একটি দুটি কবিতা তার হাত হতে বের হতে পারে। নিঃসন্দেহে, এই দেশ এই কালের সীমানায় ত্রিদিব দস্তিদার মতো খুব কম কবিই নিজেকে টেলে দিয়েঁছে সূর্যাস্তের গোধূলির আগুন রঙের মতো রোমান্টিক আগুনের ভিতর নয়, বরং জ্বলন্ত দাউ দাউ সত্যিকারের আগুনের ভিতরে, তার নিজ জীবন ও তার কবিতাকে। টোকন দা একদিন আপনার _আয়ুর সিংহাসন_নামের বইটিতে আমাকে অটোগ্রাফ দিতে যেয়ে লিখেছিলেন_আমার আয়ুর সমান ভালোবাসা তোমাকে। আজ আমাদের অন্ধ চোখগুলির সামনে ত্রিদিব দা'র প্রতি আপনার ভালোবাসা তুলে ধরার জন্যে, আপনাকে আমিও আমার আয়ুর সমান ভালোবাসা জানালাম।( ইস্ যদি আজ আমি ৯০ বছর বয়সী একজন হতাম, তাহলে টোকন দাকে আমার এই ২৭ বছর জীবনের ভালোবাসার চেয়ে আরো দীর্ঘতর ভালোবাসা দিতে/ জানাতে পারতাম)
লেখক বলেছেন: এই লেখাটা লিখছিলাম,২০০৫ এ, ত্রিদিব দা মারা যাওয়ার পরদিন এবং কামিং শুক্রবারেই মুদ্রিত হয় সাময়িকীতে। "নার্স, অামি ঘুমোইনি" তে অাছে।
তোমাকে অনেক ভালোবাসা... ভালো থেকো...
দেয়াল বলেছেন:
যে যাই বলুক, ওই 'ভালবাসতে বাসতে ফকির করে দেব' ওইটাই ভাল শোনাচ্ছে। ধন্যবাদ অনন্যাদিকে। এরপর থাকবে শুধু করুণা, এবং বিক্রিযোগ্য পার্থনা।
লেখক বলেছেন: অবশ্য ফকির হলেই ফতুর কিংবা ফতুর হলেই ফকির...
পেন্সিল বলেছেন:
আমার স্মৃতিতে আজো আজিজ সুপার মার্কেটে ত্রিদিব দস্তিদার এর কথাগুলো রয়ে গেছে...এমন হঠাৎ করে কেউ এতোদূর যেতে পারে ভাবতেই পারিনি।
লেখক বলেছেন: একমত অামি...
বিপ্লব রহমান বলেছেন:
"আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল, সব্বাইকে বলি: দাহপূর্ব দেহ থেকে শাদাকাপড় সরাও, কেননা, ছাই হবার আগেই আমি দেখতে চাই- একদিন কবি যা জানিয়েছিলেন- অঙ্গে আমার বহুবর্ণের দাগ..."দীর্ঘশ্বাস।
-
লেখাটি প্রিয়তে নিলাম। অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: অামরা কিন্তু তারাই...
তিতির না কি পাখিবংশ
উড়তে উড়তে মেঘের মধ্যে
এক এক দলে হারাই...
রাকিবুল হক ইবন বলেছেন:
গুরু, কি দিলেন ইচ্ছা করেই এই লাইন কয়টি? নাকি আমার স্মৃতিই করছে প্রতারণা সঙ্গে আমারই।আমার মনে আছে এরকম ছিল লাইনগুলি__
আমরা কিন্তু তারাই
যারা কখনো তিতির নাকি বনহংস
প্রতর্কিত পাখিবংশ
অতিরিক্ত উঁড়তে গিয়ে মেঘের মধ্যে হারাই
.............
আমরা কিন্তু তারাই যারা কখনো বাধের উপর বিকেল হয়ে দাঁড়াই
................একদিন তো আর পারি-না আর কাউকে পাড়াই
( কবিতাটির নাম__মিলিনিয়াম প্রোয়ের্টি)
_____________________________________________তবে উপরে আপনার লেখা লাইনগুলি মনে পড়ছে এখন, এই লাইনগুলিও ছিল কবিতাটির ভিতরে। আমার জীবনে পঠিত বাংলাভাষায় এরকম নতুন শিল্প, এরকম নতুন আঙ্গিকে আর সব নতুন নতুন উপকরণ বা বিষয়ে লেখা এই বাংলাদেশে তা দূর্লভ। গ্রন্থটির নাম_আয়ুর সিংহাসন__ এই বইটি বাংলাভাষায় পড়া আমার জীবনের সেরা ৯ টি কবিতাগ্রন্থের মধ্যের প্রিয় একটি..অনেক রাত হয়েগেছে ঘুমাতে যাচ্ছি, পরে গুছিয়ে লিখবো আবার
লেখক বলেছেন: তোমার স্মৃতির সন্গে আমি একমত...
রাকিবুল হক ইবন বলেছেন:
৩২ পৃষ্ঠায় খড়, ৩৩ পৃষ্ঠায় আগুন আর ৩৪ পৃষ্ঠায় কী জানেন?৩৪ পৃষ্ঠায় চুপ করে অপেক্ষায় রয়েছে আপনার পাঠক, আর সেইসব পাঠকদের মধ্যে আমিই সেরা। আমার চেয়ে বেশি আপনার কবিতা সম্ভবত কেউ এতো এতো অতিরিক্তবার পরতে পারেনি, আমি দাবী করছি ভালোবাসার সঙ্গে তা
লেখক বলেছেন: অপেক্ষায় মেলে প্রেম, তাই জানি...
রাকিবুল হক ইবন বলেছেন:
গুরু, আ__লিখতে আপনার সমস্যা হচ্ছে কেন?? বিজয় সফটওয়্যার ইনস্টল করা নেই, যদিও ইনস্টল ছাড়াও ব্লগে মনে হয় লেখা সম্ভব। জি+এফ=আ
gf =আ
লেখক বলেছেন: হুম। এই তো... আ ... আ আ আ... লেখা শিখে ফেললাম, এর জন্য তুমি দায়ী, যদি দায়ী করা যায়
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














