somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধ্যাত্‌ ব্যাটাছেলে! (আব্‌জাব)

১৮ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি অবাক কান্ড!! আজিব সব ব্যপার স্যপার কি আমাকে ঘিরেই ঘটে নাকি? গেছি চুরি করতে!!! তাও পিতাজানের অনুমতি নিয়েই। আমার গৃহ শিক্ষক, আমি এইস,এস, সি পড়া কালিন, কষ্ঠি দেখে, গ্রহ নক্ষত্র বিচার করে কিভাবে যেন আবিষ্কার করে ফেললেন। যে আমার বয়স আসলে ২ বছর কম হবে। মানে বিভিন্ন রকম সেশন জটে আমার জীবনের মুল্যবান যে ২ বছর বা তারো বেশী সময় বাড়তি খরচ হয়ে যাবে, সেই অনুযায়ী বয়স তো আর আল্লাহ পাক এক্সট্রা এলটমেন্ট দেবেন না। আর লিগালি এই জিনিষ একস্ট্রা পাবোই বা কোথায়? তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে চুরি করা হবে। মানে বয়স চুরি! সেই কাজেই আমি আর আমার এক (এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ) আঙ্কেল গেছি যশোর বোর্ড অফিসে।


অফিসে বিভিন্ন কিসিমের লোক বিভিন্ন রকমের ধান্দা নিয়ে হাজির হয়েছে। আমি বসে আছি একটা ক্লার্কদের রুমে। এই রুম পেরিয়েই অফিসার গোছের কারো কাছে যেতে হবে!! যিনি আমাকে দেখে টেখে বুঝতে পারবেন যে আমার বয়স ২ বছর খোয়া গেছে!! অফিসার সাহেব লাঞ্চে গেছেন। তাই আমি হেড ক্লার্কের টেবিলের সামনে এক চেয়ারে বসে আছি। আমার অপজিট পাশে এক মেয়ে বসে আছে। মেয়েটা মনে হয় বেশি লাজুক। সে বিয়ের অনুষ্ঠানের জামাইদের মত মুখ ঢেকে বসে আছে। খালি ডিফারেন্স হচ্ছে রুমালের বদলে ওড়নার একাংশ বব্যহৃত হচ্ছে এক্ষেত্রে। মেয়ে সুন্দরী। তার উপর লাজুক!! আমাদের হেড ক্লার্ক সাহেব বয়স্ক মানুষ। শশ্রু মন্ডিত, হুজুর! এই রকম ইমানদার লোক ও দেখি ফ্যাল ফ্যাল করে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে।


আমি কেবলি হুজুরের ভন্ডামি বিষয়ে মনে মনে কনক্লুশন টেনে ফেলবো। ওমনি হেড ক্লার্ক সাহেব মেয়েটাকে ধমক দিয়ে উঠলেন!! “ধ্যাত ব্যাটাছেলে!! তুই এত লজ্জা পাস ক্যান? নামা!! মুখ থেকে কাপড় নামা” কথা শুনে তো আমার প্রায় আক্কেল গুড়ুম। হুজুরের কি মাথা খারাপ হল?!!!


এর পর যে কাহিনি শুনলাম, তাতে আমার বাকি আক্কেলটা পুরাপুরি গুড়ুম হয়ে গেল। এই মেয়ে এস, এস, সি পরীক্ষা দিয়েছে মেয়ে হিসেবেই! সামথিং আক্তার, টাইপের নাম ছিল তখন। কিন্তু কলেজে উঠে হঠাৎ করে সে ব্যাটা ছেলে হয়ে গেছে!!! এখন তার নাম ‘মোস্তোফা সরোয়ার’!!! এই নাম চেঞ্জ করতেই তার বোর্ড অফিসে আগমন! তবে আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেলেও, আমি মানে মানে ২ বছর বয়স চুরি করে ফেলেছি!!! তাই আমার আয়ু ও বেড়ে গেছে আরো দুই বছর!! কথায় আছে না!! চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড় ধরা!!


গল্পের এইটুকু শুনে আপনাদেরও আক্কেল গুড়ূম গুড়ুম ভাব করতে থাকে তাহলে বাকিটা শুনলে নির্ঘাত গুড়ুম করে বসবে! কারন এর পরেও আবার আমার আশে পাশেই ছেলে হয়ে গেছে এক দুই জন না, রীতিমত ছয়, ছয় জন!! তাও এতে প্রত্যক্ষ ভাবে আমারই হাত ছিল!! আমার ফ্রেন্ডের বাবা, লাইভস্টক অফিসার। কি যেন বিজ্ঞানী টিজ্ঞানী গোছের কিছু নাকি!! তাদের বাসায় একে বারেই লেটেস্ট আমদানি করা বিদেশি মুরগী এনেছে। মোট ছয়টা, একটা খাচার মধ্যে থাকে। প্রতিদিন প্রত্যেকে আমাদের হাতের মুষ্টির মত সাইজের লাল লাল ডিম দেয়!! মুরগী গুলো থাকে একটা টিনের চালা দেওয়া খোয়াড়ে। আমরাও কখনো ডিম দরকার হলে বন্ধুর বাসা থেকে ডিম নিয়ে আসি। একদিন ডিম আনতে গিয়ে শুনি। সব মুরগী আর ডিম দিচ্ছেনা। মাত্র একটা দিচ্ছে। বাকিরা নাকি ছেলে হয়ে গেছে!!!

এই ঘটনার কিছু দিন আগে। আমার আরেক বন্ধুর তিন তলা বাসার ছাদ থেকে, আমরা টিনের চালায় বাজি পটকা ফুটালে কেমন ভাবে বাজির আওয়াজ আম্পলিফাই হয় তা টেস্ট করছিলাম সেই মুরগী খোয়াড়ের উপরে। তাতেই নাকি এই কান্ড!


আঙ্কেল বেশ হাসি মুখেই বিজ্ঞানী সুলভ আনন্দের সাথে আমার কাছে ব্যাখ্যা করলেন। ‘এগুলো সঙ্কর জাতের মুরগী। ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম ভাবে বানানো। এমনিতেই এদের হরমোন থাকে ইম্ব্যালান্স্‌ড! তার উপর বাজির শব্দে এরা এতই ভয় পেয়েছে! যে তাদের নাকি হরমোন সব ওলট পালট হয়ে গেছে। তাই অতিরিক্ত ‘মেল হরমোন’ এর প্রভাবে তারা সব গেছে ছেলে হয়ে!! শুধু একটা কিভাবে যেন তার নারীত্ব বজায় রেখেছে!!” এইটা নাকি খুবই ইন্টারেস্টিং সাইন্টিফিক ফেনমেনন। যা কিনা আমাদের কল্যানেই তার পক্ষে অভজার্ব করা সম্ভব হল!!


তাই তো বলি!! এই ব্যাপার, বুঝছি!!! তখন আমার কাছে ‘মোস্তফা সরোয়ারের’ রহস্য পানির মত ক্লিয়ার হয়ে গেল। কিন্তু কেন জানি আমি মেয়ে মুরগীটার জন্য একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম!! আহারে বেচারী!! পাঁচ, পাঁচটা মোরগের সাথে এক খোয়াড়ে থাকবে কি করে?!! তাই সে রাতেই আবার তিন তলার ছাদে উঠে খোয়াড়ের টিনের চালে বাজি ফেলে তার নারীত্ব ঘুচিয়ে দিলাম!!!


সব শেষে নারী পাঠক দের জন্য সতর্ক বানী!! দয়া করে বিষ্ফোরনের শব্দের কাছে যাবেন না। গেলেও বেশী ভয় পাবেন না। নইলে আবার ‘মোস্তফা সরোয়ার’ টাইপের নাম নিয়ে বোর্ড অফিসে দৌড়া দৌড়ী করা লাগতে পারে।


অবশ্য ছেলে হবার ব্যাপারটা অতটা খারাপ না!! ‘দ্য গ্রাস ইজ গ্রীনার হেয়ার’। সো...

বিদায়।

[প্রাইভেসি রক্ষার্থে নাম পাত্র পাত্রীর নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে]
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×