এক প্লেট ডিম!!! (আব্জাব)
২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:০৪
মেজাজ চরম খারাপ হয়ে গেছে। একটা থাপ্পড় মারা দরকার। কিন্তু থাপ্পরটা আমার সামনের এই গর্ধবটাকে মারবো নাকি নিজেকেই মারব তা ঠিক ঠাওর করে উঠতে পারছিনা। এদিকে থাপ্পর একেবারে হাতের তালুতে এসে হাজির হয়েছে! আরেকটু দেরি করলেই আঙ্গুল চুইয়ে নিচে পড়ে যাবে। এর মধ্যেই হঠাৎ করে কে বা কারা যেন আমার কানে কিছু সুমন্ত্রনা দিয়ে দিলো! কাধের দুই ফেরেশ্তার মধ্যে কেউ হবে। বলল, “বাবা ধৈর্য ধর। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন”। এই বিদেশ বিভুইতে মাথা গরম করে কিছু না করাই ভাল। আমিও কিভাবে যেন তার উপদেশে কান দিলাম! অবশ্য কান দিয়ে লাভই হয়েছে। নতুন সূত্র আবিষ্কার করে ফেলেছি। রাগের সূত্র!!! এই সূত্র মতে। রাগ যেমন কমতে কমতে নাই হয়ে যেতে পারে। তেমনি বাড়তে বাড়তে একটা থ্রেসহোল্ড ভ্যালু পার হবার পর, হুঠ করে নাই হয়ে যেতেও পারে!!
কাহিনীর সূত্রপাত হয়েছে আমার এক বন্ধুর বোনের বিয়েকে উপলক্ষ করে। ঠিক এসব কারনেই আমি বিয়ে সাদির অনুষ্ঠানে যাইনা। গেলেও বাবা-মা জোর করে ধরে নিয়ে যায়। আর আমি কোন রকমে কিছু মিছু খেয়েই বাসায় দৌড় দেই। মানে বিয়ের অনুষ্ঠান আমার কাছে হচ্ছে শুধুই একটা গ্রান্ডফিস্ট! তবে সাথে একটা পেইন আছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা মেয়েরা মনে হয় বেশি স্মার্ট হয়ে যায়। সাজ গোজ করার কারনে তাদের কনফিডেন্স লেভেলও থাকে তুঙ্গে! আপনি যদি বর পক্ষের হন তাহলে কনে পক্ষের মেয়েরা, আর যদি কনে পক্ষের হন তাহলে বর পক্ষের মেয়েরা আপনাকে হেনস্তা করতে একেবারে উঠে পড়ে লাগবে। মানে অপর পক্ষের ছেলেরা যে একেবারেই মদন এবং খ্যাত তা প্রমান করা যেন তাদের পবিত্র দায়িত্ব! আর আপনি যদি একটু ভোলা ভালা বা আমার মত আসলেই মদন হন তাহলে তো কথাই নেই! যেসব ভদ্র ‘সাত চড়ে রা করে না’ টাইপ মেয়েরা, যারা সহজে ছেলেদের ঘাটে না, এমনকি তারাও একে বারে উঠে পরে লাগবে। আপনি যে খ্যাত্ সেই প্রমানিত সত্য টাকে আবারো প্রমান করার জন্যে। অন্তত আমার অভিজ্ঞতা এরকমই। তাই আমি ও পথ মাড়াইনা। তবুও এই বিয়েতে যাবার কুবুদ্ধিটা যে কিভাবে আমার মাথায় উদয় হল তা একটা রহস্য! যাই হোক, এবার আসল গল্পে আসি।
ডেস্টিনেশন চট্টগ্রাম(সবাই বলে চিটাগাং!)। রওনা দিয়েছি রাতে। কুমিল্লার দিকে এসে আমাদের বাস কোন একটা হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে ভিড়েছে। আর হেল্পারটা কি বেয়াদব!! থেমেই লাইট দিয়েছে জ্বালিয়ে। আরে বাপ, যাদের খিদা লাগছে তারা নেমে গিয়ে খাউকগা। আমার মত নিরীহ ঘুমন্ত যাত্রীদের উপর কেন এই টর্চার। ফ্রেন্ডরা নেমে গেছে। আমি জিদ ধরে বসে আছি। শালা যতই লাইট দাউ, ঘুমাবই! কি সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিলাম! এই অনভিপ্রেত ব্রেক কি বাদ কি হয় দেখে যেতে হবে না? কিন্তু পেটের মধ্যে ছুচোরা ডন দেওয়া শুরু করেছে। তাদের ডন বৈঠকে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে, শেষ মেষ যেতেই হল রেস্টুরেন্টের মধ্যে।
রেস্টুরেন্টে গিইয়ে দেখি আমার বন্ধুরা এক নতুন আইটেম খাচ্ছে!! আইটেমের নাম ‘এক প্লেট ডিম’। আইটেম নতুন হলেও জিনিস পুরানো। ডিম ভাজা!! আপনি যদি গিয়ে বলেন একটা ডিম মামলেট বা ভাজি দাও তাহলে হবে না। এরা একটা দুইটা ডিম বেচেনা!! কিনলে একেবারে এক প্লেট ডিম, নাইলে নাই। এক প্লেট দিমের দাম ২০ টাকা। এতে কয়টা ডিম থাকে তা অবশ্য রহস্য! আমি যেতে যেতে সেই এক প্লেটের অবশিষ্ট আছে অল্পই। কি আর করা, খিদা পেটে সেই বাকি পয়েন্ট সামথিং প্লেট(!!) ডিমই মুখে পুরে দিলাম।
আমার খাওয়া শেষ হবার আগেই আমার বন্ধুদের খাওয়া শেষ। তার চলে গেছে। কেউ একজন বিল দিচ্ছে। ভাজা ডিম খেয়ে আমার হাতে তেল লেগে গেছে। আমি তাড়া হুড়া করে গেছি হাত ধুতে। কিন্তু বিধি বাম!! হাত ধোবার পর দেখি হাত আরো বেশি তৈলাক্ত!! সেই তেল আবার ডিমের তেল না!! গরুর তেল। গরু গরু গন্ধ!! মানে কেউ একজন তার হাতের তেল দিয়ে গেছে বেসিন এর সাবান আর ট্যাপের গায়ে। আর আমি সেই তেল দুই হাত দিয়ে উপর্যূপরি মর্দন করে ফেলেছি! মেজাজ পুরা খিচড়ে গেছে!! এই অতিরিক্ত রাগের কারনেই পানি পিপাসা পেয়েছে। এমনিতেও তাড়া হুড়ায় পানি খেতে মনে নাই।
ঐতো আমাদের টেবিলেই এখন অর্ধেক খালি মিনারেল ওয়াটারের বোতলটা দেখা যাচ্ছে। তবে বন্ধুরা যাবার পরও টেবিল ফাঁকা না। এক ভদ্রলোক আর তার সাথে এক মেয়ে এসে বসেছে। ভাগ্নি বা মেয়ে-টেয়ে হবে। আমি একটু ইতস্তত করে চলে গেলাম টেবিলের কাছে। আর মেয়েটার দিকে আমার লাজুক লাজুক মধুর(!!!) একটা হাসি ছুড়ে দিয়ে নির্বিকারে (আসলে কাপা হাতে!) গ্লাসে পানি ঢালতে লাগলাম। এমন সময় লোকটা বলল, “টেবিল টা মুছ! আর এক প্লেট ডিম নিয়ে আয়!!!” হায়রে কপাল!! আমার চেহারা মাঝি-রাখাল মার্কা তা জানতাম এখন দেখি বয়-বেয়ারা হিসেবেও দারুন চলে যাই! শালার বেকুব! ‘এক প্লেট ডিমের’কথা জানিস কিন্তু এই রেস্টুরেন্টের বয় বেয়ারা রা যে লাল রঙের ইউনিফর্ম পরে থাকে তা খেয়াল করিসনি?!!
রাগে দুঃখে আমার কান্না আসার অবস্থা। তার মধ্যে বেকুবটাকে থাপ্পর মারতে ইচ্ছা হচ্ছে। বেশ কয়েকটা থাপ্পর এসে জমেছে আমার হাতের ডগায়। তারপর সেই ফেরেস্তাদের কথা শুনেই কিনা আমি চুপ করে থাকলাম! তারপর চোখ গরম করে ওই বেকুবের দিকে তাকিয়ে একবার আস্তে আস্তে ডানে বামে মাথা নাড়লাম। ততক্ষনে রাগের থ্রেসহোল্ড লিমিট ক্রস করেছে। হুঠ করেই, রাগ বিদায় হয়েছে। হাতের থাপ্পর গুলো আঙ্গুল চুইয়ে টুপ টুপ করে পড়েছে পায়ের কাছে! তার সাথে মান ইজ্জত অবশিষ্ট যা ছিলো তাও। ব্যপারটা আর কেও খেয়াল না করলেও মেয়েটা খেয়াল করেছে নির্ঘাত!!
বিয়েতে গিয়ে কি হল তা নাহয় বলবো আর কোন দিন। কি আর হবে? নিশ্চই বুঝতে পারছেন। আবারো একটা করুন গল্প! এই রকমই।
বিদায়...
প্রকাশ করা হয়েছে: আব্জাব বিভাগে ।
যীশূ বলেছেন:
দারুণ নিদারুণ গল্প!
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ!
মুহিব বলেছেন:
ওহ্। আরো গপ্প লিখুন এমনি করে
লেখক বলেছেন: গল্প নারে ভাই সত্যি ঘটনা!! ![]()
এস রহমান বলেছেন:
দুঃখে আমার কান্না আসার অবস্থা।
লেখক বলেছেন: ভাইরে আপনি ছাড়া কেউ আমার দুঃখ বুঝলোনা। ![]()
আরিফুর রহমান বলেছেন:
হাহাহাহাহাহাহহা
লেখক বলেছেন: ![]()
![]()
রোডায়া বলেছেন:
হা হা হা ...
লেখক বলেছেন:
মিশ্র প্রতিকৃয়া!!
লেখক বলেছেন: রাজামশাইর জয় হোক!!
মিসকল বলেছেন:
কাঁদেন কাঁদেন ভাইজান,দেখবেন এক সময় কোন কিছুই খারাপ লাগবে না।
যাহোক নতুন কিছু ঘটলে আমাদের জানাইয়েন।
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: দুক্কু পাওয়া জন্য ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: সমবেদনার জন্য ধন্যবাদ!
ঊশৃংখল ঝড়কন্যা বলেছেন:
আহারে !!! হা হা হা হা হা হা !!! হি হি হি হি হিঃ !!!
লেখক বলেছেন: আপনি বড় নির্দয়!! ![]()
লেখক বলেছেন: আপনার অণুগল্প গুলো দারুণ লাগে!
রবিউলকরিম বলেছেন:
অভিজ্ঞতা বটে!
লেখক বলেছেন: সেটাই
লেখক বলেছেন: হায় হায় দিলেন লজ্জা পাইয়ে!!
এস্কিমো বলেছেন:
দারুন লিখেছেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ! ![]()
বিহংগ বলেছেন:
(আবজাব) বলছেন কেন?জীবনান্দের মতে-এসবিইতো যতিহীন জীবনের দীপ্তিমান সুষমা"
আবজাব -না, মেনে নিতে পারলাম না।
লেখক বলেছেন: হায় হায়!! আরো লজ্জা পাইয়ে দিচ্ছেন!!!
![]()
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
আহারে!! কী করুণ দশা!! শুনে( পড়ে)-ই খারাপ লাগছে, আপনার দুঃখে সমব্যথী হলাম।
লেখক বলেছেন: যাক আরো একজন সমব্যথী পাওয়া গেল !! ![]()
ঊশৃংখল ঝড়কন্যা বলেছেন:
হিহিহি ! "বড় নির্দয়" দেখেই তো এমন নিক দিয়েছি ! কিন্তু ঐ সময় একটা কথা বলতে ভুলে গেছি সেটা হলো ...আপনি খুব-ই সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন ঘটনাটা। আসলেই ভাল লেখক। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: এই টুক্ টাক আব্জাব লিখি আরকি। ভাল লেগেছে শুনে ভাল লাগলো
অনেক ধন্যবাদ! ![]()
লেখক বলেছেন: ডিম এনেদিবো মানে!! ঐ বেটার মাথা ফাটাইনি শুধু ওর সাথে সুন্দরী মেয়েছিল বলে!
আমি আবার সুন্দরীদের সামনে দূর্বল হয়ে যাই! ![]()
লেখক বলেছেন:
এর জন্য ![]()
আর 'হাহাহাহা' এর জন্য ![]()
আর লেখা ভাল লাগার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ!!
![]()
লেখক বলেছেন: ঘটনা তো সত্যি কিন্তু 'নিদারুণ সত্যি' কথাটা কোনটা?
লেখক বলেছেন: আসেন ভাই কোলাকুলি করি।
লেখক বলেছেন: ![]()
আমি পিচ্চি না!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিতমা! ![]()
লেখক বলেছেন: হাইসেন না হাইসেন না!!
দেখা যাবে আপনিও কবে ভিক্টিম হয়ে গেলেন!! ![]()
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
হা হা হা.......চমৎকার লিখেছেন।আমি তো মনে করেছিলাম মেয়েটার সাথে কিছু একটা...
আপনি অসাধারন লিখেন।
পরেরটার অপেক্ষায়।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!
আমি আপনার অপেক্ষায় থাকলাম।
পরের লেখাতে। ![]()
লেখক বলেছেন: ডিম নিয়ে না তো আমাকে নিয়ে 'কাহানী' ![]()
ঝুমী বলেছেন:
"এমন সময় লোকটা বলল, টেবিল টা মুছ! আর এক প্লেট ডিম নিয়ে আয়!"হাঃ হাঃ...
পড়ে বেশ হাসি পেল, যদিও আপনার প্রেস্টিজ গেল!!!
খুবই ভালো লিখেছেন।+
লেখক বলেছেন: আমার প্রেস্টিজ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ! ![]()
আশাকরি আবার আসবেন এদিকে! ![]()


















