somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এইতো সেদিন! (ছেলেবেলা) ১. ময়ুর পালক
এইতো সেদিন! একটা ময়ুর পালক দিয়েছিল তানিয়া। বইয়ের মধ্যে রেখেদিলে একদিন নাকি সেটার বাচ্চা হবে! তারপর কেটে গেল অনেক দিন। বাচ্চা হলনা। তখন সে বলেছিল, শুধু মা দিয়ে তো হবে না। বাবাও লাগবে। অনেক খুজে পেতে একটা বাবা পালক জোগাড় করা হল। আবারো কেটে গেল অনেকগুলো দিন! তবুও বাচ্চা হল না। কেউ কেউ বলল, ময়ুর পালকটা বাজা। ‘বাজা’ মানে জানিনা। তানিয়া বলল, দেখিতো কোথায় রেখেছিস?
বই খুলে দেখালাম!
-এএ মা!! এ তো ধর্ম বই।
-তাতে কি?
-এইসব আরবী লেখার মধ্যে শুয়ে ময়ুর পালকরা বাচ্চা বানাবে কি করে? !!!
সমস্যাটা কোথায় বুঝিনা! তবে এরপর তাদের ঠাই হয় আমার বাংলা বইএ। যেখানে ষড় ঋতুর বর্ণনা দিতে দিতে থেমে গেছে বসন্তে! তারপর আবারো কাটে অনেক অনেক দিন...

ময়ুর পালকদের বাচ্চা হয়েছিল কিনা জানিনা। বসন্ত নয়, তাদের ঋতুতো বর্ষা। তবে তানিয়ার বিয়ে হয় একদিন। একদিন দুএকটা বাচ্চাও হয়ে যায় তার!

ওদের ঘরে মনে হয় কোন আরবী লেখা টানানো নেই...

২. ভোকাট্টা
বাড়িটা ছিল আমাদের একতলা। ভোকাট্টা ঘুড়ি গুলো তাই সব সময় আশে পাশের দু-তিন তলা বাড়ির ছাদে গিয়ে পড়ত। অথবা আটকতো কোন নারিকেল গাছে।

এইতো সেদিন! একটা ঘুড়ি ভুল করে আটকিয়েছিল আমাদের আন্টিনার বাশে। যেন একটা সত্যিকারের ঈদ ছিল সেটা!! সুতা ধরে টেনে নামাতে নামাতে সেই বিচ্ছিরী এন্টিনাটা ছিড়ে ফেলল ঘুড়িটাকে। সেদিন হাতে জড়ানো সুতার একাংশ ভিজে গিয়েছিল জলে। অশ্রু!

জানেন? আজ হুঠ করে আবার একটা ঘুড়ি পড়েছে আমাদের ছাদে! এই ঢাকা শহরে!! এইতো এখন পড়ে আছে পড়ার টেবিলে। কোথা থেকে উড়ে এসেছে কে জানে? কিন্তু কই? কিছুই তো মনে হচ্ছেনা! আসলে আমার ছেলেবেলাটাও হয়তো ভোকাট্টা হয়ে চলে গেছে কোথাও। এই ঘুড়িটার মতই...

৩. তৃতীয় চিঠি
এইতো সেদিন! আরবী শেখানোর জন্য এক হুজুর রাখল বাবা। সপ্তাহে ছয়দিন চলত দুজনের আপ্রান ব্যর্থ চেষ্টা! শেখানোর। আর শেখার। কিছুই শিখতে পারিনি সে সময়। তবে হুজুরের একটা কথা মনে আছে এখনো। চিঠির কথা!

মানুষকে নাকি সারা জীবনে চারটা চিঠি পাঠানো হয়। যেগুলো তাকে কিছু একটা মনে করিয়ে দেওয়ার কথা!! প্রথম চিঠিটা আসে যখন তার প্রতথম দাঁত ওঠে। পরের টা, যখন তার গোফ ওঠে। তৃতীয় চিঠি টা আসে যখন তার প্রথম চুল পাকে। আর চতুর্থ টা, যখন আবার দাত পড়ে যায়! হুজুরকে বলেছিলাম, মেয়েদের তো গোফ ওঠেনা তাদের কাছে কি চিঠি একটা কম আসে? সে বলেছিল, তাদের কাছেও চিঠি আসে। তাদের মত করে।

আজ সকালে হুঠ করে তৃতীয় চিঠিটা পেয়ে গেলাম!! বেসিনের আয়নার সামনে ঝুকে দাড়িয়েছি। হঠাৎ দেখলাম একটা পাকাচুল ব্রৃদ্ধ! ক্ষনিকের জন্য। তারপর কালো হয়ে গেল সব চুল। শুধু একটা বাদে। এটাই বোধ হয় সেই চিঠি।

বার্ধক্যের যে বীজ বুকে নিয়ে জন্ম হয়েছিল অনেক অনেক দিন আগে। আজ সেটা অঙ্কুরিত হল...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28813200 http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28813200 2008-06-24 16:06:56
অপদার্থ কথা (ছেলেবেলা)
বাসায় নতুন কোন গৃহশিক্ষক নিয়োগ করার সময় বাবা একটা কথা সব সময়ই বলে, ‘স্যার, এই ছেলের খালি হাড্ডি গুড্ডি আমার, ছাল চামড়া মাংস সব আপনার!’ মফস্বল এলাকার স্যাররাও ছাল চামড়া আলাদা করার ওস্তাদ। পরের দিনই সেসব কাজের ইন্সট্রুমেন্ট, মানে বেত, নিয়ে হাজির। তার পর চলে ছাল চামড়া আলাদা করার ব্যপক কর্মকান্ড! রাতে বাবা বাড়ি এসে বলে, ‘দেখিতো, তোর পড়াশুনা কেমন হচ্ছে? এদিক আয়। জামা খোল!’ তখন জামা খুলে আমার গায়ের বিভিন্ন যায়গায় ‘পড়াশুনার’ চিহ্ন দেখাতে হয়। বাবা সন্তুষ্ট চিত্তে মার দিকে ফিরে বলে, ‘বুঝলে এইটা জাদরেল টিচার!’

মাঝে মাঝে গা দেখে বোঝা যায় যে, ‘পড়াশুনা’ আজ তেমন হয়নি। তখন আমাকে নিয়ে বসে ট্রানস্লেশন সেখাতে। তখন ‘ডাক্তার আসার আগে’ এমনকি ‘রোগী মরারও অনেক আগেই’ আমার ‘পড়াশুনা’ হয়ে যায়। এর পর বাবা বসে জেনেটিক্স নিয়ে। আমার মামারা কেন সব গাধা গরু। এবং কি ভাবে সেই জিন আমার মায়ের মাধ্যমে তার ছেলের জিন কে মডিফাই করে গাধাগরু বানিয়ে ফেলেছে, সেইসব এর বিশদ বর্ণনা!

এভাবে প্রতিটা দিন শেষ হয়। পরদিন সকালে যখন আমাদের মাস চুক্তির রিক্সাওয়ালা বাসার সামনে টুন টুন বেল বাজায়। স্কুলে নিয়ে যাবার জন্য। দেখা যায় আমি তখনো আমার জুতার ফিতা নিয়ে কসরত করছি। বাবা আবার ‘তুই একটা অপদার্থ’ বলে এসে আমার জুতার ফিতা বেধে দেয়। আর সাথে দেয় ফিতা বাধার ইন্সট্রাকশন। ঘটনাটা প্রায় প্রতিদিনই ঘটতে থাকে। তার পর কোন একদিন হুঠ করে ফিতা বাধা শিখে ফেলি আমি! অভ্যাস বসে আমার জুতার ফিতা বাধতে এসে ‘তুই একটা অপদার্থ’ বলার পর বাবা যখন দেখে ফিতা বেধে ফেলেছি তখন বাবা যেন একটু থমকেই যায়। হয়তো তার অপদার্থ ছেলেটা বড় হয়ে যাচ্ছে দেখেই! ততদিনে সকালে আমার জুতার ফিতে বেধে দেওয়া টা তার অভ্যাস হয়ে গেছে। বাবা বলে, ‘এহ হে! এভাবে বাধে নাকি!’ তার পর সেই গিট খুলে আবার বেধে দেয়।

আসলেই বাবার বেধে দেওয়া গিটে যে ভালবাসা টুকু থাকে সেটা তো আর আমার গিটে থাকেনা। তাই সেই সুযোগটা আমিও দেই তাকে। তারপর আবারো বরাবরের মতই আরেকটা দিন। আবারো সেই ‘পড়াশুনা’ আরো দু-দশবার অপদার্থ পরিগনিত হওয়া...। এভাবেই দিন গুলো কাটে। আমি বড় হই। বড় হতেই থাকি। সকাল বেলায় এই ফিতে বেধে দেওয়ার ছোট্ট নাটিকাও টি অভিনিত হতেই প্রতিদিনই।

এভাবেই কাটে অনেক অনেক দিন। একসময় আমার এইচ, এস, সি, পরীক্ষা। সেই ফিতা বেধে দেওয়ার খেলাটা তখনো চলছে। সকালে বাবা যথারীতি আমার জুতার ফিতা বেধে দিচ্ছে। এসময় পাশের বাসার আঙ্কেল এসেছে পরীক্ষার্থি কে একটু অভয় টভয় জানাতে। এসে দেখে এই অবস্থা! সে চক্ষু ছানাবড়া করে তাকিয়ে আছে। তার চোখে তখন বড় হরফে লেখা ‘কত্ত বড় অপদার্থ!’ তাকে দেখে আমি যারপরনাই লজ্জা পেয়ে গেছি। বাবা তখন জুতা থেকে চোখ উঠিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘বুঝলেন ভাই। আমার ছেলেটা একটা অপদার্থ!’

তার পর আমি পরীক্ষা দিতে যাই। পদার্থবিজ্ঞান!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28811102 http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28811102 2008-06-18 23:15:51
সাগর পাড়ের ছন্দ গুলো (কল্পগল্প)
বড় বড় ঢেউ গুলো পাড়ের কাছে এসে ভেঙে চুরে এক ধরণের সাদা ফেনা তৈরি করে। সেই সাদা ফেনা আবার চাঁদের আলোয় জ্বল জ্বল করতে করতে পেচিয়ে ধরে সাগড়ের পাড়। তারপর ঢেউ এর তালে তালে দুলতে থাকে একটা মুক্তা হারের মত। একটানা, একটা চিরায়ত ছন্দে। মা আর মেয়ে অবশ্য এসব খেয়াল করেনা। তাদের চোখ চলে যায় সেই মুক্তা হার পেরিয়ে আরো দূরে। যেখানে চাঁদের আলোয় চিক চিক করছে সেই কাল অন্ধকার সাগর। যার ওপাশেই আকাশ। মা আর মেয়ে অপেক্ষা করতে থাকে কখন সেই আকাশ ফুড়ে উদয় হবে একটা বিন্দু! অবশ্য আশেপাশের কিছু অসময়ের টুরিস্টও সেদিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু সেই আলো আধারীর মধ্যে মা-মেয়ের চোখে সেই আশা আর আশঙ্কার খেলাটা খেয়াল করে না তারা।

মাঝে মাঝে তাদের কেউ কেউ সাগর পাড়ের সেই সরব মৌনতা ভেঙে বলে ওঠে, “আরে আরে! কি কিউট একটা মেয়ে!! এই মেয়ে তোমার নাম কি?”। কিউট মেয়েটা বিপদে পড়ে যায়। আসলে তখনো তার তেমন কোন নামই রাখা হয়নি। ছুড়ি, বুড়ি, তমেশার বেটি বলেই চালিয়ে দেয় সবাই। তাই একদিন সেই টুরিস্টদের মধ্যে কেউ তার নাম রেখেদেয় স্বর্ণা। সোনা রঙের মুখটাকে হাসি হাসি করে সে নাম মেনে নেয় মেয়েটা। ততক্ষনে কালো বিন্দুটা উদয় হয়েছে সেই চকচকে আকাশ আর সাগর সন্ধিতে। মা আর মেয়ে তখন এগিয়ে গিয়ে সেই মুক্তা হারে পা ডুবিয়ে দাঁড়ায়।

সাগর পাড়ের আর দশটা পরিবারের মত এই জেলে পরিবারেরও জীবনযাত্রায় কখনো ছন্দপতন হয়না। জোয়ার ভাটা আর পৌনপনিক ঢেউ এর মত সেটা ঘুরতেই থাকে, একটা একঘেয়ে পুনরাবৃত্তির আবর্তে। মাঝে মাঝে ঝড়বাতাসে তাদের ছাপড়া ঘর উড়িয়ে নেয়। কখনো বা ভাসিয়ে নেয় জলোচ্ছাসে। জাল বৈঠা মাটি চাপা দিয়ে তাদের ঠাই হয় সাইক্লোন সেন্টারে। তবে সময়ের ব্যপ্তি একটু বাড়িয়ে নিলেই দেখা যাবে সেই ছাপড়া ঘরটাও উড়ে যাচ্ছে একটা নির্দিষ্ট ছন্দে। সাইক্লোন সেন্টারের দরজাটাও খুলছে আর বন্ধ হচ্ছে সেই একই পৌনপনিকতায়। সাগর পাড়ের মানুষরা এসব ভাবার সময় পায়না।

বর্ষার শুরুতে চিংড়ির পোনা ধরার মৌসুম। এসময় তাদের জীবনে আরেকটা ছন্দ যুক্ত হয়। জোয়ান পুরুষরা সব চলেযায় ইলিশ আর লইট্যা ধরার ট্রলারে। বয়োবৃদ্ধ, শিশু, আর মহিলারা মেতে ওঠে চিংড়ি পোনা ধরার ‘উৎসবে’। মশারির মত একটা জাল, যাকে এরা বলে ‘লেট’, সেই লেট নিয়ে সবাই চলে আসে সৈকতে। অনেকটা নৌকার গুন টানার মত করে কাধের উপর দিয়ে জালের দড়িটা ধরে টানতে থাকে তারা। কখনো হাটু, কখনো মাজা পানিতে। তাদের গৃহস্থলির যা হাল, তাতে কাজকর্ম থাকার তেমন সুযোগ নেই। জেলে বৌরাও তাই এই লেট টানার কাজে যোগ দেয় পুরোদমে। সৈকত বরাবর আড়াআড়ি বিশ-তিরিশ ফুট যায়গা নিয়ে তারা টানতে থাকে জাল। একবয়ার বায়ে একবার ডাইনে। আবারো সেই চিরায়ত ছন্দে! মাঝে মাঝে দুজন মুখোমুখি হয়ে যায়। তখন সাগরের গর্জন উপেক্ষা করে টুকটাক দুয়েকটা কথা সেরে নেয় তারা। নেট টানতে টানতেই। কখনো নিজের সীমানার এক পাশে যাবার পর দেখা যায় পড়শী তখনো অন্য পাশে। গল্পের সুযোগ হারিয়ে একটু দমে যায় তারা। এর পর নিজের গতি হিসেব করতে থাকে যাতে পরের বার দেখা হয়ে যায় একই পাশে।

তমেশার মেয়েটা ছোট। আরো এক বছর পরে হয়তো তাকেও একটা ‘লেট’ ধরিয়ে দেওয়া যাবে। এখন সম্ভব না। অগত্যা মেয়েটা পাড়ে বসে থাকে একটা ‘সিলভারের’ গামলা নিয়ে। পনের বিশ বার টানা হয়ে গেলে তমেশা ফিরে আসে তার কাছে। নেট থেকে শেওলা ময়লা পানি ফেলে গামলায়। তার পর মা-মেয়ে মিলে সেখান থেকে খুজে বের করে চিংড়ির পোনা। রাতে ঘেরের লোকেরা সেসব কিনে নেয়। প্রতিপোনা দেড়টাকা-দুইটাকা দরে। এমনিতে তিরিশ চল্লিশটা পোনা ধরে সবাই। ভাগ্য ভাল থাকলে কোন কোন দিন আশি নব্বইটা পোনাও পাওয়া যায়। গামলা থেকে বেছে সেগুলো পানিভরা একটা প্যাকেটের ওঠায় তারা। তারপর ফিরে গিয়ে আবারো সেই ‘লেট’ নামক ঘানি টানতে থাকে।

তমেশার মেয়েটা চাইলে উঠে গিয়ে অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলা করতে পারে। কিন্তু তা সে করে না। একমনে গামলায় আটকাপড়া অন্য জাতের পোনাদের নিয়ে খেলা করতে থাকে। অবশ্য এই খেলাটা এত আকর্ষনীয় মনে করার কোন কারণ নেই। সে আসলে অপেক্ষা করে তমেশার ফিরে আসার জন্য। তমেশা ফিরে আসলে পোনা বাছতে বাছতে তাকে গল্প শোনায়। কখনো জল রাক্ষসের, কখনো জল রাজকন্যার, আবার কখনো ইয়া বর একটা চিংড়ি মাছের, যে মাছটা একবার একটা কাটা দিয়ে আটকে দিয়েছিল তার বাবার ট্রলার। এরকম দুই চারটা গল্পই জানে তমেশা। সেসব গল্প হাজার বার শোনা হয়েগেছে স্বর্ণার। তারপরও সে শুনতে চায় বারবার। জলরাজকন্যার গল্পটা সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে তার। এই গল্প যেদিন শোনে, সেদিন সে সবচেয়ে খুশি। যেমন আজ।

একটু আগে সওদাগর চাঁদসাগর রাজকন্যাকে উদ্ধার করেছে জলদানোর হাত থেকে। তার পরই তমেশা উঠে গেছে লেট টানতে। গল্প অবশ্য এখানেই শেষ। কিন্তু স্বর্ণা তার পরও বসে আছে। প্রতিদিনই থাকে। এরপর কি হল, তারপর কি হল? এসব প্রশ্ন করে করে পাগল করে তোলে তমেশা কে। তমেশা তখন বানিয়ে বানিয়ে আরো কিছু বলে। সেইটুকু হয় একেক বার একেক রকম। ওইটুক শোনাই আসল মজা। স্বর্ণা তার সোনা রাঙামুখ গামলার দিকে ঝুকিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে তার মায়ের ফিরে আসার। বির বির করে গামলায় আটকা পড়া মাছ গুলো কে গল্প শোনায় নিজেও। একসময় তমেশা ফিরে আসে।
দুজন মন দিয়ে চিংড়ি পোনা খুজতে থাকে গামলায়। একসময় স্বর্ণা প্রশ্ন করে, ‘এর পর কি হইল মা?’
‘কি আর হইবো সওদাগর রাজকন্যারে নিয়ে গেল বাড়ি?’
‘এরপর?’
‘এরপর তারা বিয়া করল!’
‘তারপর কি হইল?’
‘মর্‌ হারামজাদি! গল্প এখানেই শ্যাষ’
স্বর্না তাও বায়না ধরে, ‘বল না, বল না মা!’
‘এর পর তাগো একটা বাচ্চা হইল। ঠিক তোর মত’ বলে স্বর্ণার মুখের দিকে তাকায় তমেশা। মনে মনে ভাবে, আসলেই কি রাজকন্যারা তার স্বর্ণার মত হয়!
‘এরপর কি হইল?’
‘এরপর তারা সুখে শান্তিতে বাস করতে থাকলো’
‘সুখে শান্তি বাস করে কেমনে?’
চমকে উঠে চোখ তোলে তমেশা। একটা অচেনা ঘোলা চোখে মেয়েটাকে একবার দেখে নিয়ে বলে, ‘এইডা তো মা কইতে পারি না...’ একটা বড় ঢেউ এসে হুশ করে চাপা দেয় তার দীর্ঘ্যশ্বাস।

সে আবার বলে, ‘দেখতো! তর বাপে আসছে কিনা?’ গামলা থেকে মুখ উঠিয়ে স্বর্ণা তাকায় সেই আকাশ আর সাগর সন্ধিতে। না বোধক মাথা নাড়ে একবার। তমেশার ঘোলা চোখ পরিষ্কার হয়ে গেছে ততক্ষনে।

মা মেয়ের এই হঠাৎ থমকে যাওয়াতে সাগর পাড়ের ছন্দের কোন ব্যাত্যয় হয় না। একসময় তমেশা উঠে গিয়ে সেই ‘লেট’টাই টানতে থাকে। একই চিরায়ত ছন্দে। স্বর্ণাও উকি দেয় তার গামলায়। যে গামলার পানিতেও তখন উকি দিয়েছে আরেকটা স্বর্ণরাঙা চাঁদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28808167 http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28808167 2008-06-10 16:08:35
দুষ্টু প্রাচীর (আব্‌জাব)
ঘটনার শুরুটা করেছে হাসান। মহা বান্দর পোলা! ওর কাছে আইডিয়া চাইতে যাওয়াই ভুল হয়ে গেছে। আগের দুইবার আনিভার্সারী ডেট ভুলে যুথীর কাছে চরম প্যাদানী ধাতানী খেয়েছে। তাই এবার অনেক আগে থেকেই ফেসবুক, অর্কুট, টুইটার বিভিন্ন যায়গায় হাজার ধরনের আলার্ম সেট করে রেখেছিল। দুদিন আগে থেকেই সেই সব আলার্ট ওয়ার্নিং পেয়ে তার টনক নড়ে গেছে। কিন্তু এই দিনটাকে কিভাবে স্বরণীয় করে রাখা যায়? সেই বুদ্ধিতো আর কিছুতেই মাথায় আসেনা! অগত্যা সরনাপন্ন হয়েছে হাসানের। পোলাডা এত্ত ফাউল! ধরে নিয়ে গেল তাদের সন্ধ্যাকালীন আড্ডায়। বলে আয় তোর ব্যচেলর হুড হারানোর তৃতীয় শোক দিবস আগে পালন করে নিই। তারপর আর কি! কিছুক্ষন ধোয়া টানা আর পানীয় গ্রহন। ইফতেখার এইসব ছেড়ে দিয়েছে সেই তিন বছর হল। বলল এসব খাবেনা। সবাই রীতিমত ‘রে রে’ করে উঠলো। সিহাব তো অতি পুলকে একপেগ ড্রাই জীন ঢেলেইদিল ইফতেখারের গায়ে! ইফতেখার শেষে রেগেমেগে হাসান কে বলল, ‘তোরে আমি কি বললাম আর তুই শালা আমারে কোথায় নিয়ে আসলি। ধুরো, থাক তোরা! আমি গেলাম’। সিহাব বলে উঠল, ‘কোথায় নিয়ে আসলি, মানে? শালা বিয়ে করছস আর আর পুরা বঊ এর আচলের তলায় গিয়া ঢুকসস। আবাল কোথাকার’। একজন বলল ‘আচল না ব্লাউজ’!!

অবস্থা বেগতিক দেখে হাসান টেনে বাইরে নিয়ে আসলো ইফতি কে। ‘ওদের কথায় কিছু মনে করিস না দোস্ত। পেটে মাল পড়ছে তো। তাই একটু ইয়ে হয়ে আছে’। ইফতেখার একটু শান্ত হল যেন। হাসান বলতে থাকলো, ‘তোর আনিভার্সারির জন্য জব্বর এক প্লান করছি। এইযে এইটা নিয়ে যা’ বলেই বাশপাতা কাগজের একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিল। ইফতি হাতে নিয়েই বুঝলো ভিতরে বোতল! বলল, ‘তোর মাথা খারাপ হইসে!! এই জিনিস নিয়ে বাসায় যামু কেমনে বউতো পুরা কাইট্টা ফালাইবো আমারে!’

তারপর হাসান আস্বস্ত করল যে কিছুই হবেনা। বরং বিয়ের আগে তাদের জীবনে কত মজা ছিল তার একটু ছোয়া তার বৌকেও দিয়ে দেওয়া যাবে। একটু নাকি ভিন্নতা আসবে। তার পর বিরক্তির সাথে বলল, ‘বিয়ে করা পাবলিকরা মনে হয় কাবিন নামায় সাইন করার সময় বোরিং নামায় ও সাইন করে ফেলে!! নাইলে বিয়ে করলে একটু ইয়ে টিয়েও করা যাবেনা এমন কথা মাথায় আসে কেমনে? এই প্যাকেট নিয়ে গেলে কাইট্টা ফালানোর কোন সম্ভবনা নাই। বরং জমবে আরো!!’

এইসব কুমন্ত্রনা শুনেই প্যাকেট হাতে দরজার সামনে এসে হাজির আমাদের ইফতেখার। এখন তো মনে হচ্চে এইসব হাবিজাবি এর চেয়ে একতোড়া ফুল নিয়ে আসলে হাজার গুন ভাল হত। ফিরে গিয়ে ফুল নিয়ে আসবে কিনা বুঝতে পারছেনা। তখন আবার হাসান এর কথা মনে হল। বেচারা মাইন্ড করবে। আর আসুক নাহয় একটু ভিন্নতা। ফি আমানিল্লা। বলে কলিং বেল চেপে দিল সে।

সারাদিন কয়েকবার কথা হলেও আনিভার্সারির প্রসঙ্গই তুলেনি যুথী। দেখতে চায় এবার ইফতি কি করে। কি আর করবে। নিশ্চই নতুন কোন ভেড়ামী। তাও কিছু করলেই মাফ। আর যদি মনেই না থাকে। তাইলে খবর আছে। ব্যাগ প্যাক করাই আছে। এখনি মা কে ফোন করবে গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। কলিং বেলের শব্দ শুনে দরজার দিকে এগোয় সে।

ইফতেখারের হাজার রকম বোকামির সাথে যুথী পরিচিত বললে ভুল হবে। কারন নিত্য নতুন বোকামি করায় ইফতির কোন জুড়ি নেই। তবে প্রতিবারই তার মুখে এক ধরনের চোর চোর ভাব চলে আসে। এই ‘ভাব’ ভাল ভাবেই চিনে যুথী। তাই দরজার ওপাশে একটা চোর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রথমে একটু খুশিই হল সে। আটলিস্ট ভুলে তো যায়নি। কিন্তু পরমুহুর্তেই চোরটা কি চুরি করেছে সেটা জানায় ব্যস্ত হয়ে উঠল। ইফতি নিজের দুই হাত পিছনে রেখে দিয়েছে। কিছু একটা লুকাচ্ছে যেন। ফুল নাকি? ফুল হলে দারুন হয়! কিন্তু তারপরও ইফতিকে ঝাড়ি দিতে হবে। ফুলে যুথীর আলার্জি... এইসব হাবিজাবি বলে। নাইলে চোরটার ভাব বেড়ে যাবে।

এসব ভাবতে ভাবতে একটা কপট রাগমিশ্রিত হাসি নিয়ে ইফতিকে জিজ্ঞেস করল, ‘কি ব্যাপার হাতে কি?’ ইফতির তখন অক্কা পাবার দশা। আমতা আমতা ‘ইয়ে... মানে..’ করতে করতে প্যাকেট টা দিল যুথীর হাতে! ফুল না দেখে প্রথমে একটা ধাক্কা খেল যুথী। তার পর হাতে নিয়ে যখন বুঝলো ভিতরে বোতল আর তার সাথে ইফতির গায়ে হোমিওপ্যাথি মার্কা গন্ধ। এইসব দুইএ দুইএ চার করে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো সে।

‘কি!! তুমি বারে গেছিলা?’ বলে কাছে এগিয়ে আসলো সে। কিছু একটা শুকলো যেন! তার পর বলল, ‘গিলেও তো এসেছো পেট ভরে। দূর হঊ! বের হউ এক্ষনি। কোন মাতাল টাতাল এর ঠাই নাই আমার বাসায়’। ইফতেখার কাচুমাচু হয়ে যায়। যুথী ঝাড়তেই থাকে, ‘শুধু গিলেছ নাকি আরো কিছু করে এসেছ। ওসব যায়গায় তো মেয়ে মানুষও নাকি থাকে। তাদের নাচ টাচ দেখে আসনি? একটু ধরে দেখনি? শুয়েও তো এসেছ মনে হয়। তোমরা তো শুকরের জাত! এইসব না করলে এই জিনিস হজম হবে কি করে? আর কত্ত বড় সাহস বাসায় ও নিয়ে এসেছ...’ ইফতেখারের হাতে দিয়ে দেয় সে প্যাকেট টা। মুখ চলতেই থাকে, ‘...নাচ দেখে কি খুব ভাল লেগে গেছে? আমি কি এখন এইটা খেয়ে একটু নেচে দেখাবো?...’ কথার ব্রাশ ফায়ার চলতেই থাকে। এদিকে জাত পাত তুলে গালি খেয়ে ইফতেখারেরও মেজাজ খারাপ হয়েছে। সে তো নির্দোশ! হাসান শালাই না...! সে আমতা আমতা করে বলল, ‘মানে আজ একটা বিশেষদিন তো তাই...’

ইফতির কথা শুনে একটু থামলো যুথী। ‘বিশেষ দিন বলে তুমি মাল টেনে বোতল হাতে বাসায় চলে আসবা!!’ যদিও দিনটা ইফতির মনে আছে দেখে সে একটু খুশি। ইফতি আমতা আমতা করে, ‘না মানে ভাবলাম...’। যুথী ভাবে নিশ্চই আবার হাসানের কাছ থেকে কোন আইডিয়া নিয়ে এসেছে। বলে, ‘তুমি ভাবলা, নাকি হাসান ভাবলো?’ ইফতি পাংশু মুখে বলল, ‘ইয়ে... হাসান...’ এর পর আর কোণ কথাই শুনলো না যুথী। বলল, ‘শোন এইসব খেয়ে আমাদের বাবু কে ছোবেনা বললাম। বুঝলা? কালকেও ছোবে না’... ‘কিন্তু আমিতো খাইনি’

আর কোন কথাই শোনে না যুথী। গজ গজ করতে করতে বোতল নিয়ে ফেলে রান্না ঘরের ময়লার বাক্সের কাছে। টেবিলে খাবার রাখাই ছিল। ইফতি খেয়ে দেয়ে একসময় চলে আসে তাদের বিছানায়। সেখানে একপাশে কোলবালিশ দিয়ে ইফতির জন্য যায়গা আলাদা করে অন্যপাশে শুয়ে আছে যুথী আর তাদের আট মাসের ছেলেটা। ইফতি যাতে বাবুকে ছুয়ে না ফেলে তার জন্য কোলবালিশ। যুথী একবার ভেবেছিল বাবুকে অন্যপাশে দিয়ে নিজে আগলে রাখবে। যাতে মাতালটা ছুয়ে না ফেলে। কিন্তু বাবু যদি পড়ে যায়? সেই ভয়ে আবার মাঝখানে শুইয়েছে। এখন অন্য দিকে মুখ করে আছে নিজে। বাবু ঘুমায়। ইফতেখার একটু উশখুশ করতে করতে এক সময় শুয়ে পড়ে তার নিজের যায়গায়। তার পরও তার উশখুশানি চলতেই থাকে।

অনেকক্ষন ঝিম মেরে থাকার পর, হাত বাড়িয়ে যুথীর পিঠে টোকাদেয় সে। এই টোকার অর্থ যুথী জানে। নষ্টামীর সাধ হয়েছে ইফতির! ইফতির হাতে জোরে একটা চিমটি কেটে দেয় সে। তার পর এদিকে ফিরে চেক করে, বাবুকে ছুয়ে ফেললো কিনা। ইশারায় বুঝিয়েও দেয় বাবুকে না ছোয়ার কথা! ইফতি আবারো হাত দেয়। আবারো চিমটি। চিমটি আর টোকার বিনিয়ময় চলতেই থাকে। মাঝখানের প্রাচীর এর উপর দিয়ে। একসময় ইফতি বেশ আশাবাদী হয়ে ওঠে। বড় ঝগড়াঝাটির পর এইসব জমে ভালো!! যত বড় ঝগড়া, তত জমজমাট ব্যবসা! এগিয়ে প্রায় উঠেই পড়ে কোলবালিশটার উপর। ঝুকে প্রায় ছুয়ে ফেলতে চায় যুথীকে। ততক্ষনে যুথীও এদিকে ফিরে গেছে। আর তখনি একটা সর্গীয় কন্ঠ হেসেওঠে। তার বাবা মায়ের এইসব নষ্টামির চেষ্টা দেখে! হাসি শুনে যুথীর মাথা থেকে এক ধাক্কায় সব নষ্টামির উবে যায়। ইফতি একটু হতাশই হয় যেন। আর প্রবল পিতৃস্নেহে তাকিয়ে থাকে তাদের মাঝে হঠাৎ জেগে ওঠা এই দুষ্টু স্নেহের প্রাচীরের দিকে।

একসময় বাবু আবার ঘুমায়। যুথী ইফিতিকে টেনে নিয়ে আসে রান্না ঘরে রাখা সেই বোতলের দিকে। তারপর এক সময় বলে, ‘এই শোন, আমরা কিন্তু কাল বাবুকে ছোব না। সকালেই ফোন দিব মা কে...’

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28807706 http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28807706 2008-06-09 11:00:09
হামাগুড়ি (কল্পগল্প) খুব সাধারণ ব্যপারই মাঝে মাঝে মানুষকে এমন ভাবিয়ে তোলে ভাবলে অবাক লাগে! এই যেমন এখন সুমন বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। আসলে একটু ভয় ভয়ই পাচ্ছে বুঝি। যে মামুলি ব্যপারটা এই অস্বস্তির সুচনা করেছে যেটা নিয়ে অন্য কোন পরিবেশে ভাবলে হয়তো নিজেই হেসে উঠতো। কিন্তু এখন এই ঝি ঝি নীরবতায় সব কিছু ঠিক ‘ভাল' লাগছে না।

এসেছে সে মনিরামপুর। যশোরের একটা থানাসদর। নামেই পৌরসভা। আসলে অজপাড়া গা। কয়েকটা দালান বাড়ি অবশ্য আছে। কোন হোটেল মোটেল নেই। পৌছতে পৌছতে পুরো রাত হয়ে গেছে। ঘড়িতে অবশ্য বাজে সাড়ে সাতটা। এখন দিন ছোট। অফিস থেকেই একটা ব্যবস্থা করেছে থাকার। অনেকটা পেইং গেস্ট এর মত। দুই দিনের ট্যুর। একটু আগে শিরিণ ফোন করেছিল। ঠিক মত পৌছেছে কিনা সেসব খোজ খবর নিল।

থাকার ব্যবস্থা ভালই। দক্ষিন মুখি একটা ঘর বরাদ্দ হয়েছে তার জন্য। ঘরের জানালা দিয়ে একটা জবা গাছ দেখা। গাছে অনেক গুলো জবা ফুটে আছে। রক্ত জবা। চাঁদের আলোয় মনে হচ্ছে কালো। সেদিকে তাকিয়ে ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে গেল সুমনের। তাদের নিজেদের বাড়িতেও এরকম একটা জবা গাছ ছিল। খুব ভোরে কখনো সুপ্রিয়াদি কখনো কাজলামাসি আসতো ফুল নিতে। পাঁচিলের ওপাশ থেকেই ফুল টেনে নিত। তার বাবা প্রতিদিন ফজরের নামাজে সময় বেগানা মেয়েছেলের ফুল নিয়ে টানা টানি দেখে বিরক্ত হত খুব। একদিন তো একটা দাঁ নিয়ে কুপিয়ে কেটেই ফেললো পুরো গাছ। তার বাড়ির গাছে উঠে হিন্দুমেয়েরা বেল্লেলা পনা করবে! আর গাছের ফুল নিয়ে সকাল বিকাল শীবের গাজন গাইবে! এইসব তার সহ্য হয়নি বেশিদিন...

এসব ভাবছিল সুমন। হঠাৎ করেই পাচিলের ওপাশ থেকে একটা হাত এসে টুক করে একটা ফুল ছিড়ে নিলো! ব্যপারটা ভাল করে দেখার জন্য কিছুটা এগিয়ে গেল সে। তখন সেই হাতটা উকি দিল আবার। এবার আর ফুল ছিড়লো না। কেমন যেন ইশারা করতে লাগলো। কিছু একটা বলতে চাইছে যেন! কমিউনিকেশনের ব্যপারে সুমন একটু কাঁচা। ইঙ্গিত-ইশারা এসব বোঝেনা তেমন। তারপরও চেষ্টা করতে লাগলো বোঝার। কয়েকবার ‘কে কে’ করে উঠলো। সাড়া এলনা কোন। তারপর এক সময় মনে হল কিছুটা যেন বুঝতে পারছে। হাতটা তাকে বলতে চাইছে। ‘এখানে থেকোনা। বেড়িয়ে পড় তাড়াতাড়ি’। অবশ্য মনের ভুলও হতে পারে। হাতটা হারিয়ে গেল এর পর। অন্ধকারে।

আর তখনই অস্বস্তি টা শুরু হল। অসংগতি গুলো চোখে পড়েছিল শুরুতেই। এবাড়িতে যখন সে ঢোকে, তখনই দরজা খুলে কেমন ঝুকে দাঁড়িয়ে ছিল বয়স্ক মহিলাটা। বুড়ো মানুষ অবশ্য এভাবেই দাঁড়ায়। বসার ঘরে টিভি। টিভি দেখছে এবাড়ির একটা মেয়ে। মেঝেতে মনে হয় কাজের মেয়ে বসে আছে। সেও টিভি দেখছে। তার অনাহুত উপস্থিতি তে যেন একটু বিরক্ত হল তারা। মেয়েটা টিভির সামনের সোফা ছেড়ে হামাগুড়ি দিয়ে চলে গেল রুমের অন্যপাশে। আরেকটা চেয়ারে উঠে বসল। ফুটফুটে একটা মেয়ে। কিন্তু পায়ে কোন সমস্যা আছে মনে হয়। এসব ভাবতে ভাবতে সে ফিরলো সেই বুড়ি মহিলার দিকে। বুড়িও দরজা আটকিয়ে ফিরে আসছে এদিকে। ঝুকে হাত দিয়ে মাটি ছুয়ে ফেলেছে প্রায়। যেন হামাগুড়ি দিচ্ছে। এজন্যই এ বয়সে লাঠি ব্যবহার করা উচিৎ। বুড়ির লাঠি মনে হয় আছে অন্য কোথাও। তার সাথে চোখাচোখি হতেই আবার উঠে দাড়ালো বুড়ি। একটু কুজো হয়ে।

ফ্রেশ ট্রেশ হয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়েও একই রকম ব্যপার দেখলো সুমন। বুড়িটা হামাগুড়ি দিয়ে সুড়ুত করে চলে গেল রান্না ঘরের দিকে। একটা মধ্যবয়সী লোকও অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এক রুম থেকে আরেক রুমে চলে গেল। হামাগুড়ি দিয়ে। সুমন একটু অবাক হল। এবাড়ির লোকদের সবারই কি পায়ে সমস্যা। দাড়াতে তো পারে ঠিকই। অবশ্য একটু ঝুকে দাড়ায়। আর পা ফেলতে গেলে টাল মাল করে। অস্বস্তিকর বিষয়। তাই রাতে খাবার সময় এই প্রসংগ তুললো না। অবশ্ টেবিলে কথাও হয়নি তেমন। আর তখন ব্যপারটা অত অস্বাভাবিকও মনে হয়নি। যতটা মনে হচ্ছে এখন।

রুমের বাইরে সর সর এক ধরনের শব্দ হল যেন। আবারো মনে হয় কেউ হামাগুড়ি দিচ্ছে। একটু তৃষ্ণা পায় তার। খাবার ঘরে পানি আনতে গিয়ে দেখে জগে পানি নেই। পিছন দিকে সরসর শব্দটা হয় এবার। চকিতে ফিরে দেখে মেঝের উপর দিয়ে ওপাশের রুমে ঢুকে গেল একটা লালচে শাড়ীর আচল। কোন ফাকে কাজের মেয়েটা হামাগুড়ি দিয়ে এসে টেবিলের ওপাশে হুট করে উঠে দাঁড়ায়। কুজো হয়ে। সুমন একটু চমকে উঠে। বলে, ‘জগে পানি নেই’। মেয়েটা নিঃশব্দে জগ নিয়ে চলে যায় পানি আনতে। প্রথমে একটু টালমাল হেটে এক সময় হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ে রান্না ঘরে। ওপাশের ঘরের দরজায় মেঝের দিক থেকে উকি দেয় সেই বুড়ির মুখ। সুমন দ্রুত নিজের ঘরে ফিরে যায়।

নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে এসব কোন ব্যপারই না। শুধু শুধুই উলটা পালটা ভাবছে সে। মশারি টানিয়ে খাটের উপর বসে। ডিমলাইট টা জ্বালিয়ে দিয়ে তাকায় জানালার দিকে। জানালার পাশের দেওয়ালে একটা টিকটিকি দাঁড়িয়ে আছে স্থির হয়ে। তাকিয়ে আছে তার দিকেই। আর তখনই পাচিলের ওপাশ থেকে জবা গাছটার কাছে উকি দেয় একটা হাত। তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা। অনেক গুলো হাত একসাথে তাকে সেই একই ইশারা করতে থাকে। এসময় বিছানাটা কেপে ওঠে একটু। তখন মশারির এপাশ থেকেও উকি দিয়েছে একটা হাত। কাজের মেয়েটা হামা গুড়ি দিয়ে এসে পানি ভরা একটা গ্লাস এগিয়ে ধরেছে মশারির ভিতরে। রুমের বাইরে সর সর শব্দ হচ্ছে। আরো কয়েকজন এগিয়ে আসছে মনেহয়। গ্লাসটা হাতে নেওয়ার পর মেয়েটা কেমন একটু কুজো হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় দরজায় উকি দেয় আরো কয়েকজন। হামা গুড়ি দিয়ে রুমে ঢুকে পড়তে থাকে। আতঙ্কিত হয়ে জানালার দিকে সরে যায় সুমন। তখন খেয়াল করে। জানালার দিকের দেওয়ালে সেই টিক টিকির সাথে হামাগুড়ি দিচ্ছে সেই বুড়িটাও। একসময় তারা সবাই হামাগুড়ি দিয়ে এসে তার খাটটাকে ঘিরে ধরে। কিছু চতুষ্পদী জন্তুর যেন।

২.
দুই দিন পর। রাত বাজে সাড়ে এগারটা। শিরিণের প্রচন্ড খিদে পেয়েছে। সুমনের আসার কথা। এখনো পৌছেনি। কত দেরি হবে কে জানে? ওকে রেখেই খেয়ে ফেলবে কিনা বুঝতে পারছে না। শুধু শুধু এতক্ষন বসে থাকাটা বোকামি হয়েছে। এসব ভাবছে সে। এমন সময় গেটে নক হল। পরিচিত নক। ঘুম জড়ানো একটা হাসি মুখ নিয়ে দরজা খুলতে যায় শিরিণ। ভিউয়ারে উকি দিয়ে ওপাশের পরিচিত মানুষ টাকে চিনতে পারে সে। সুমন তখন নিচু হয়ে কি যেন খুজছে সিড়ি ঘরের মেঝেতে। দরজা খুলে জিজ্ঞেস করে ‘কি খুজছো?’ কোন জবাব দেয়না সে। শুধু সর সর শব্দে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ে ঘরে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28807097 http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28807097 2008-06-07 12:42:36
দশ মাস দশ দিন (কল্পগল্প) মেয়েটা একটু পুলকিত হয়। মনে মনে আকাশ রাঙা এক জোড়া নবীন চোখ কল্পনা করে সে। একটু খুশি হয়ে ওঠে যেন। তারপর একটু ভেবে বলে, ‘উমম... আচ্ছা, আকাশ রঙের সাথে একটু সবুজ আভা থাকা চাই। কি দারুণই না লাগবে তাহলে!’

ছেলেটা খুশি হয়। চোখ দিয়ে একরাশ ভালবাসা ছড়িয়ে তাকিয়ে থাকে মেয়েটার দিকে। মেয়েটাও প্রতুত্তরে একটা মিষ্টি হাসি দেয়। আরেকটু চেপে বসে ছেলেটার দিকে। ছেলেটা তখন বলে, ‘আমাদের বাবুটার হবে টুক টুকে একটা গোলগাল মুখ’।
মেয়েটা যোগ করে, ‘আর যখন সে মিষ্টি করে হাসবে, দুগালে পড়বে এই এত্ত সুন্দর দুটো টোল’।

ছেলেটা এবার মেয়েটার হাত ধরে। টুন টুন করে কয়েকটা শব্দ হয় যেন। চুড়ির। মেয়েটা তার হাতের চাপ একটু বাড়িয়ে দেয়। এই চাপটুকু দিয়ে সে তার ভালবাসা বুঝিয়ে দেয় ছেলেটাকে। তারপর মেয়েটা বলে, ‘আচ্ছা, আমাদের বাবুর চুল কোকড়া হলে কেমন হবে বলতো?’
ছেলেটা একটু ভাবে। তারপর বলে, ‘কোকড়া চুল দেখতে ভালই লাগে আমার। কিন্তু কোকড়া চুলের মানুষ হয় একটু বদ মেজাজি। প্রতিদিন সকালে চুল আচড়াতে দিয়ে যেই চিরুনি আটকে যায় অমনি মেজাজ যায় বিগড়ে’। তারপর তারা দুজনেই ভেবে নেয় যে তাদের বাবুর চুল হবে সিল্কি। আর একটু লালচে কাল রঙের।

এর পর তাদের আলোচনা চলতেই থাকে। বাবু লম্বা হবে, নাকি মাঝারি উচ্চতার; ফর্সা, নাকি ট্যান; এসব হাজার বিষয়ে কথা বলে তারা। তারপর একসময় তারা দুজনেই বলে, ‘আমাদের হবে একটা ছেলে। যে তার সবুজাভ আকাশী চোখ দিয়ে জয় করে নেবে পৃথিবীর সব মেয়ের মন!’ এসব বলার পর ছেলেটা মেয়েটার বাম কানের কাছে একটা চুমু দেয়। তখন মেয়েটা তার টোল খাওয়া মুখে একটা মিষ্টি হাসি দেয়। ছেলেটাও একটু হাসে। মিষ্টি করে।

টেবিলের ওপাশ থেকে একটা ভরাট কন্ঠ বলে ওঠে, ‘স্পেসিফিকেশন সব নোট করা হয়েছে। আপনাদের বাচ্চাটা হতে যাচ্ছে ঠিক এরকম’। বলে একটা বাটনে চাপ দেয় সে। টেবিলের উপর ভেসে ওঠে একটা বাচ্চার হলোগ্রাফিক ইমেজ। বাচ্চাটা তার হবু বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে তার টোল খাওয়া গালে একটা মিষ্টি হাসি দেয়। আকাশী-সবুজ চোখে তখন তার রাজ্যের বিষ্ময়! মেয়েটার চোখে পানি চলে আসে। এবার হাতের চাপ বাড়িয়ে দেয় ছেলেটা। ভরাট কন্ঠটা মনে করিয়ে দেয় যে, তাদের বাচ্চাটা এক্সাক্ট এরকম হবেনা। নেচারাল কিছু বায়োলজিকাল মর্ফিং অ্যালাউ করা হবে। যাতে সব বাচ্চা একই রকম না হয়ে যায়।

তারপর সে আরো বলে, ‘নেক্সট একটা ওভারী চেম্বার ফাকা হবে দশ দিন পরে। তারপর কালচার হতে প্রায় দশ মাস। অবশ্য এক্সাক্ট ডেটটা একটু এদিক ওদিক হতে পারে। তার মানে ঠিক দশ মাস দশ দিন পরে যোগাযোগ করছেন আপনারা’।

এরপর প্রয়োজনীয় ক্রেডিট ট্রান্সফার করে, ছেলেটা আর মেয়েটা একে অপরের হাত ধরে বেরিয়ে আসে দেশের সব চেয়ে বড় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম থেকে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28806067 http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28806067 2008-06-04 08:45:25
অনামিকা ও সূর্য রাঙা নখ (ছেলেবেলা)
একটু আগে নাইট গার্ড মিজান যখন তার ঘন্টায় দুইটা বাড়ি দিল। ঢং ঢং!! তখন ঘোর কেটে প্রথম সেই চাদরটা খেয়াল করলাম। একটু ভয়ও পেয়ে গেলাম যেন। আর তখনই দরজায় উকি দিল মা! মনটা একেবারে নেচে উঠলো! খুশিতে। তার পরও, ‘ধুর, মুর!...’ এসব বলে তাড়িয়ে দিলাম মাকে। শুধু শুধু রাত জেগে কষ্ট করছে, আর আমাকে ডিস্টার্ব করছে! আমার মা টা খুব বোকা।

মেন্দী দেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। আমার পিচ্চি বোন হল গিনিপিগ। আমি আর আমার ছোটবোন দুই জন মিলে গিনিপিগের দুই হাতে মেন্দী দিয়ে দেব। এর পর বিচার হবে কার ডিজাইন সেরা। বিচারক আমার মা। যদিও জানি সে কোন ডিসিশনই দিতে পারবে না। তারপরও কন্টেস্ট চলছে। আমার পালা শেষ। এখন ছোট বোনটা মেন্দী দিচ্ছে। বসে বসে দেখছি তার কারুকাজ। কোন ফাকে যেন মা টুক করে আমার বাম হাতটা নিয়ে অনামিকায় একটূ মেন্দী দিয়ে দিলো। আমি রে রে করে উঠি। বলি, ‘ধুর এইটা কি করলে!! এখনি তো লাল হয়ে যাবে’। মা বলে, ‘হোক’। আমি একরাশ বিরক্তি নিয়ে ফিরি আবার পিচ্চি বোনটার হাতের দিকে। মেন্দীর কারুকাজ দেখতে দেখতে ভাবতে থাকি দোস্তরা কে কি বলবে। যেমন সজীব বলবে, ‘কিরে শালা বিয়ে করলি নাকি’ সুমন বলবে, ‘মেয়েদের মত নখে...’। ধুরো, মা যে কি! সব সব সময় বোকামী করে। বিরক্ত হই।

তারপর যখন মেন্দী শুকায়, আমরা সবাই হাত পেতে বসি বিচারকের সামনে। তখন অবাক হয়ে খেয়াল করি- আমার অনামিকার নখে অসাধারণ একটা উজ্জ্বল লালচে কমলা রঙ ফুটেছে। পিচ্চি বোনটা বলে, ‘একেবারে সূর্যের মত!’ ওদের হাতের রঙ ঠিক এতটা সুন্দর হয়নি কেন জানি!

তার কিছুদিন পর বাড়ি ছেড়ে চলে আসি। আসলে আসতে হয়। বিদায়ের সময় যখন মাকে সালাম করি। মা কাঁদে না। কেমন যেন রাগী রাগী চোখে তাকিয়ে থাকে। যেন আমিই সেই দুর্বৃত্ত যে তার ‘খোকন’ কে কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে দূরে। হাটতে হাটতে প্রায় বড় রাস্তার কাছে চলে আসে মা। আর তার দুই হাত ধরে ছোট দুই বোন। রিক্সাটা বেশ কিছু দূর এগিয়ে যাবার পর পিছন ফিরি আমি। আমার সেই সূর্য রাঙা নখ, নখ ধারী অনামিকা, আর অনামিকা ধারী হাতটা নেড়ে বিদায় জানাই তাদের। দুর্বৃত্তের উপর রাগটা তখন আর ধরে রাখতে পারেনা মা। এবার কেঁদে ফেলে। আর কি অবাক কান্ড! তার সাথে যোগ দেয় আমার ছোট দুই বোনও। যারা কিনা বলতো, ‘তুমি গেলে খুব খুশি হব। একটা ঝগড়াটে কমবে!’ আসলে তখন ওরাও বোকা হয়ে যায় বোধ হয়। তিনটি বোকা মানুষকে পিছনে ফেলে অনেক দূরে চলে আসি আমি।

নতুন যায়গায় একটা ঘুপচি ঘরে বসে রাতের পর রাত পড়াশুনা করি। একদিন অনেক রাতে নখ কাটতে গিয়ে আটকে যাই অনামিকায় এসে। সূর্য রংটা সে হারাতে বসেছে প্রায়! বুকটা হু হু করে ওঠে। এসময় একটা তেলাপোকা উড়ে যায় দরজার দিকে। খুট করে একটু শব্দ হয় যেন। বেখেয়ালে বলে উঠি, ‘ধুরো আম্মু...’!!

সেবার আমিও বোকা হই। ঘড়িতে তখন রাত, ঠিক দুইটা...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28804576 http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28804576 2008-05-30 19:44:37
চতুষ্কোণমিতি (ছেলেবেলা) ১. রোদ বাক্স
আমি ঘুমাই এক অদ্ভুত চতুষ্কোনের পাশে। খুব ভোরে ‘সকাল’ এসে প্রথমে ঘুম ভাঙায় ঘুলঘুলিতে বাসা বাঁধা চড়ুই দম্পতির। কিছুক্ষন কিচ মিচ করে অফিসে চলে যায় তারা দুজনই। পরে অবশ্য একদিন তাদের দুইটা বাবু হয়, তখন মা টা মনে হয় চাকরি ছেড়ে দেয়। বাবা অফিসে যাবার পর তাই মা আর বাচ্চারা মিলে কিচ কিচ করতেই থাকে। ততক্ষনে সকাল টা এক ফালি রোদ হয়ে ঘুলঘুলি পেরিয়ে গিয়ে পড়ে ওপাশের দেয়ালে। একমনে আঁকিবুকি করতে করতে এগিয়ে যায় আলনাটার দিকে।

আলসী ভরা চোখের কোনা দিয়ে আমি দেখতে থাকি সেইসব আঁকিবুকি। পাশের বাড়ির মরজিনার মোরগ টা তখন আজান দেয়। ততক্ষনে আঁকিবুকিও প্রায় আলনা ছুই ছুই। এখনই সেই ঘটনাটা ঘটবে! আধবোজা চোখ দুটোকে জোর করে পুরো বুজিয়ে ফেলি। নিষ্ফল আশ্রয় খুজি কোল বালিশের নিচে। আর তখনই সকালটা, স্টেশনের সেই ছন্নছাড়া কুলির মত ধুম করে একটা চারকোনা রোদের বাক্স এনে ফেলে আমার গায়ে! সেই অদ্ভুত চতুষ্কোন দিয়ে। এক ধাক্কায় ছুটিয়ে ফেলতে চায় সবগুলো ঘুমের রেণু। আলসী আর রোদ বাক্সের মধ্যে কাড়া কাড়ি পড়ে যায় রেণুদের মালিকানা নিয়ে। হয়তোবা আলসী বেশী অলস বলেই একটু পরেই হাল ছেড়ে দেয়। আড়মোড়াটাকে ভেঙ্গে চুরে উঠে পড়ি আমি।

২. সাজ
অদ্ভুত চতুষ্কোনটা দিয়েই একটা চারকোনা জগৎ দেখি সবসময়। যে জগৎএর সব চেয়ে সুন্দর হল একটা চারকোনা আকাশ। আর আকাশের কিছু কোনহীন তুলা তুলা মেঘ। বর্ষাকালে ঐ পাশের কদম গাছটা বুদ্ধি করে কিছু ফুল ঝুলিয়ে দেয় চতুষ্কোনের উপর দিয়ে। আসলে আকাশটাকেই সাজিয়ে দেয় বুঝি। মেঘগুলোরও হয়তো সাজতে ইচ্ছে করে। কেঁদে কেটে তারা সেই দাবী জানায় গাছটাকে। গাছটা মুচকি হাসে। তার পর তাদেরও সাজিয়ে দেয়।

চতুষ্কোনের নিচ দিয়ে মাঝে মাঝে কয়েকটা শিমের লতা উকি দেয় ঘরে। ওপাশের শিমের মাচাটা বড্ড একঘেয়ে লাগে বুঝি তাদের কাছে। তাই রোদ বাক্স আর আলসীর যুদ্ধ দখতে চায় তারাও। নজরানা স্বরুপ মাঝে মাঝে আমার চারকোনা জগৎটাকে সাজিয়ে যায় কিছু বেগুনী শিমের ফুলে। আমিও মুচকি হাসি।

৩. টিফিন
কখনো কখনো কিছু প্লেন আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে ঢুকে পড়ে আমার চতুষ্কোনে। ওয়ার্নিং ওয়ার্নিং! দুটো চিল সাই করে উড়ে যায় তাকে তাড়িয়ে দিতে। প্লেনটা লেজগুটিয়ে পালায়! এক সময় চড়ুইদের বাবা টা অফিস থেকে ফিরে। তাদের ঘুল ঘুলির অ্যাপার্টমেন্টে। চিল দুটোও কোথায় যেন যায়। টিফিন ব্রেক!

৪. কোলাহল
মাঝে মাঝে সেই ‘আজান দেওয়া’ মোরগ টা বিপদে পড়ে যায়। এসে আশ্রয়নেয় চতুষ্কোনের কাছে সেই শিমের মাচার উপর। মরজিনার বর ওটাকে খেয়ে ফেলতে চায়। কেন যে চায়, বুঝিনা। হয়তো ওটা ডিম পাড়েনা তাই। কিন্তু মোরগ কি ডিম পাড়ে? ওটার কারণে নাকি মুরগী গুলোর বাচ্চা হয়না!! আরে ডিম পাড়বে মুরগী। বেচারা মোরগ কে নিয়ে কেন টানাটানি?! এইসব বুঝিনা আমি। মরজিনার বর রেগেমেগে বলতে থাকে, “আরে ঐটার তো মুরগীতে হবেনা, হুর পরী লাগবে”। এইসব কোলাহল ভাল লাগেনা আমার!

৫. অদ্ভুত চতুষ্কোন
তারপর এক সময় টিফিন ব্রেকের পর, চড়ুইটা আবার ফুড়ুত করে উড়ে যায়। মাঝে মাঝে তার সাথে আমিও বেরিয়ে পড়ি। সেই অদ্ভুত চতুষ্কোন দিয়ে চলে যাই ওপারের চারকোনা জগৎটাতে। শিমের মাচাকে নীচে, কদম গাছটাকে বায়ে আর দুঃখী মোরগটাকে তার রাগী স্ত্রীদের সাথে রেখে যোগ দেই আমার সেই ফাইটার চিলদের সাথে। দুপুরের ভাত ঘুমে!

ততক্ষনে রোদ বাক্সটাও মিইয়ে গেছে। অনেক আগেই...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28803096 http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28803096 2008-05-26 19:54:36
পাকনা পুলাপাইনের গল্প ১ (আব্‌জাব)
লাইফ ইজ সো আনফেয়ার!

এমনিতে অনিক ছেলেদের দলের সাথে খেলতে যায়না। আসলে ওরা নেয়নাও ওকে। তেমন কোণ খেলা পারেওনা সে। খেলতে না নিলেও একটু গল্প-সল্প যে করবে, তাও হয়না ইদানিং। এইটা হয়েছে সোহাগ ভাই এর কারনে। সে ক্লাস সিক্সে উঠে অন্য এক স্কুলে চলে গেছে। সেখান থেকে কি না কি জানি শিখে আসে প্রতিদিন! তার পর সেসব নিয়ে সব পোলাপাইন মিলে ফিসফিস-ফাসফাস করে সব সময়। অনিক যদি শুনতে যায় অমনি বলবে, “শোন অনিক, বড়দের কথার মধ্যে থাকবিনা”। অনিক বুঝেনা বড়দের আবার এমন কি কথা! তার উপর ঐযে রনি, ওতো অনিকের সাথেই পড়ে! ওকেতো ওরা দলে নেয় ঠিকই! এই কথা সোহাগ ভাই কে বলেও লাভ নাই। সবাই মিলে হাসাহাসি করবে। সব দোষ আম্মুর । এমনিতেই অনিক দেখতে একটু ছোট খাটো আর সুন্দর। তার উপর তার আম্মু এখনো মাঝে মাঝে তার কপালে কাজলের তিলক একে দেয়। আর তার উপর দিয়ে দেয় পাওডার। অনিক তখন সেই সাদা পাঊডার ওয়ালা কপাল নিয়ে লজ্জায় বাইরেই বেরই হতে পারেনা। সে যে বড় হয়েছে এইটা তার মা কেন যে বুঝেনা!! বলে এতে নাকি নজর লাগবে না!! কই রনির মা তো এমন করেনা। কিছু বলতে গেলে আবার বলবে, “আরে রনি কি আমার চাদের টূকরার মত নাকি? ওর দিকে নজর দিবেই বা কে?” নজর দিলে কি হয় সেটা অনিক বোঝে না। কিন্তু নজর ঠেকাতে গেলে যে বড়দের দলে প্রবেশাধিকার পাওয়া যায়না সেটা সে খুব ভাল করেই বোঝে। মাঝে মাঝে অভিমানে তার নিচের ঠোটটা বেঁকে যায়। এখনো একটু ছোট বলে সে এই অনুভুতিটা ভাযায় প্রকাশ করতে পারেনা। আবার বড়ো হয়ে গেছে বলে ঠোট বাকিয়ে কাঁদতেও পারেনা।

ছেলেদের দলে ঠাইনা পেয়ে অনিকের ঠাই হয় মেয়েদের দলে। পাশের বাসার বৈশাখী আপু যখন তানিয়াদের সাথে পুতুল পুতুল খেলে তখন তাকে দলে নেয়। অবশ্য আপুরাও মাঝে মাঝে ফিসির ফিসির শুরু করে। তখন তারাও তাকে দলে নেয় না। বলে, “শোন অনিক। মেয়েদের কথার মধ্যে থাকবিনা!” যাক্‌, আপু অন্তত তাকে ছোট বলেনা। এদলে ঠাই নাপাওয়ার কারণ সে ‘ছেলে’। এইটা জেনে অতটা খারাপ লাগেনা।

দিনকাল কাটছিল এভাবেই। কিন্তু হঠাৎ করে সেদিন অনিকের এক আজব অভিজ্ঞতা হয়েছে! যথারীতি সোহাগ আর পাভেল ভাইরা তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে ‘বড়োদের আলাপ’ থেকে। সে এসেছে বৈশাখী আপুর বাসায়। তানিয়ারা সেদিন আসেনি। অনিক এসেছে তার সেরা পুতুলটা নিয়ে। এইটা বৌ পুতুল! বানিয়ে দিয়েছে তার আম্মু। খুব সুন্দর পুতুল। তাই এটার দিকে সবার লোভ। এইতো কয়েক দিন আগে তানিয়া তার বর পুতুলের সাথে বিয়ে দিতে চাইলো এই বৌ পুতুলের। কিন্তু বিয়ের পর নাকি বৌকে শশুর বাড়ি থাকতে হবে। মানে তানিয়াদের বাসায়!! অনিক বুঝেছে এটা আসলে তার পুতুল হাতানোর বুদ্ধি। সে রাজি হয়নি। এর পর থেকে তাকে মেয়েরাও আর পুতুল খেলতে নেয়নি কিছু দিন। আজ সোহাগ ভাই আর আম্মুর দেওয়া ‘নজরঠেকানি’ তিলক এর উপর রাগ করে সে তার বৌ পুতুল নিয়ে এসেছে। বিয়ে দিয়েই দিবে। যা হয় হোক। কিন্তু আজ তানিয়া নাই। তার বর পুতুলটা সুন্দর ছিল। বৈশাখী আপুরও বর পুতুল আছে। তেমন সুন্দর না। কিন্তু কি আর করা। তার কন্যার কপাল খারাপ। এর সাথেই বিয়ে ঠিক ঠাক।
বেশ ফর্মালিটীজ করে বিয়ে টিয়ে হয়ে গেল। সেই বিয়েতে খাওয়ার ভান ও করলো অনিক মুখ দিয়ে চুক চুক এক ধরণের শব্দ করে! এখন নাকি বাসর ঘর সাজাতে হবে। সিগারেটের বাক্স দিয়ে বানানো আর গ্যান্দা ফুলের পাপড়ি দিয়ে সাজানো একটা খাটে বাসর সাজানো হল। অনিক ভেবেছিল এখানেই শেষ। কিন্তু বৈশাখী আপুবলে এখানে নাকি শেষ না!! এর পর তারা জানি কি কি করবে! বৈশাখী আপু ডানে বামে একটু তাকিয়ে নিয়ে তার পর অনিকের কানে কানে বলে দেয় সেটা। অনিক বলে,
-যাহ্‌ ঘেন্না!! এরকম করে নাকি কেউ?!!
-হ্যা করে।
-আমার বৌ কি আর বাচ্চা নাকি যে বরটা তাকে চুমু খাবে!
বৈশাখী আপু বিরক্ত হয়,
-আরে এই চুমু তো বাচ্চাদের মত না। অন্য রকম। এই চুমু খেতে হয় ঠোটে!
অনিক আবার বলে,
-যাহ ঘেন্না। বিয়ে করলেই এরকম করে নাকি সবাই?
-সবাই করে।
অনিক জিজ্ঞেস করে,
-তুমার আব্বু করছে নাকি তুমার আম্মুর সাথে? যখন বিয়ে করছিল?
বৈশাখী কেমন যেন একটু বিব্রত হয়। বলে,
-করার তো কথা। করছে মনে হয়।
-এরকম করলে গুনাহ হবে না?
-নাহ্‌ কোন গূনাহ হতে যাবে কেন। সত্তুর নেকি হয় উলটা!
-কিন্তু ঘিন্না যে?
-ঘিন্না হতে যাবে কেন? দাড়া দেখাই...
বলেই অনিককে কিছু বুঝতে না দিয়েই ঝুকে ঠোট দুটো অনিকের ঠোটে চেপে ধরে বৈশাখী। অনিক একটু ভ্যবাচ্যাকা খেয়ে যায় প্রথমে। তবে ঘিন্না লাগেনা তেমন। শুধু কেমন কেমন জানি লাগে! আর বুঝতে পারে বৈশাখী আপু কেমন যেন কেঁপে কেঁপে যাচ্ছে। একটু পরেই ছাড়া পায় সে। ততক্ষনে অনিকের কপালের তিলক বেশখানি জড়িয়ে গেছে বৈশাখীর কপালেও। একটূ বিহ্‌বল অবস্থায় কিছুটা কাঁপতে কাঁপতেই সে অনিককে বলে,
-তুই এখন যা। খবরদার এই কথা বলবিনা কাউকে!!

অনিক বাসায় চলে আসে সেদিন। তেমন কিছুই বলেনা কাউকে। তবে এই ব্যপার টা তাকে ভাবিয়ে তোলে বেশ। কিন্তু তার সত্তুর নেকি অর্জন চলতেই থাকে। বৈশাখী আপুর বসাতেই এর পরে একদিন দীপা আপুও চুমুদেয় অনিককে। দীপা আপু বৈশাখীর বান্ধবী। সেবার দীপা আপু অবশ্য অতটা কেঁপে যায়না। কিন্তু আপুর মনে হয় জ্বর আসে। অনিক বুঝতে পারে। অবশ্য তানিয়ার কিছুই হয়না। সে এইসব শুনে এমন হাসি দেয়। আর চুমু দিতে এগিয়ে এসে কয়েক বার হেসে ফেলে খিল খিল করে। আর বলে, “এমা... ঘিন্না’। টুক করে একটা চুমুও দেয় বোধ হয়। তার পর হাসতে হাসতে বৈশাখী আপুকে বলে।
-ধুরো কি যে বল। কিছুই হলনা তো?
বৈশাখী আপুবলে,
-তুই আসলে ছোট মানুষ। এইসব বুঝবিনা!!
এইসব বুঝতে চায়ওনা সে।

তবে অনিকের মাথায় চিন্তা চলতেই থাকে। আচ্ছা, সত্যিই কি গুনা হচ্ছে না? পাভেল ভাই কে জিজ্ঞেস করতে হবে। পাভেল ভাই ছোট বেলায় মাদ্রাসায় পড়েছে। ক্লাস সিক্স থেকে এসেছে তাদের এলাকার স্কুলে। সে হল ছোটদের মধ্যে হুজুর। সবার ইহকাল পরকাল বিষয়ক বিভিন্ন্য প্রশ্নের উত্তর দেয় সে।

মেয়েদের দলের এইসব কান্ড ভালও লাগেনা অনিকের। সে ভাবে, ধুর পুতুল বিয়ে দিয়ে কি বিপদেই না পড়লাম! আবার সাহস করে ছেলেদের দলের দিকে যায় সে। সোহাগ ভাই মনে হয় কোথা থেকে একটা ছবির বই নিয়ে এসেছে। সবাই মিলে ঘিরে ধরে দেখছে সেসব। আর কি যেন বলছে। মাঝে মাঝে হেসেও ঊঠছে তারা। অনিককে এগিয়ে আসতে দেখেই ছেলেরা সবাই ট-ভাষায় কথা বলতে শুরু করে। সেসব ভাসা ভাসা আসে অনিকের কানে, “বুটঝলিটি বিটৈশিটাখীর বিটুক নিটা ইটেই ছিটবিটির মিটেয়ের ....” অনিক ট-ভাষা বুঝে। ওরা বলছে, “জানিস বৈশাখীর বুক না এই ছবির মেয়ের...”। ভাষা বুঝলেও এইসব কথার অর্থ বুঝেনা সে। শুধু এইটুক বুঝে। কি কি যেন জল্পনা-কল্পনা চলছে বড়োদের মধ্যে। এলাকার মেয়েদের নিয়ে। যখনই সে তার প্রশ্নটা করতে যাবে পাভেল ভাই এর কাছে তখনই আবার সোহাগ ভাই খেকিয়ে ওঠে, “যাহ ভাগ, বড়োদের কথার মধ্যে আসবিনা খবরদার!!”

কান্না পায় অনিকের। তানিয়া দূর থেকে ডাকে অনিককে। দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে সে এগিয়ে যেতে থাকে মেয়েদের দলের দিকে। তানিয়া বলে,
-দীপা আপুর কাজিন আর বৈশাখী আপুর স্কুলের এক বান্ধবী এসেছে আজ। তোকে চুমু দিবে। হি হি হি!

বিরক্ত লাগে অনিকের। তার পরও এগিয়ে যেতে থাকে। হয়তো ছেলেদের দলের উপর অভিমান করেই আবার মেয়েদের দলে ভিড়ে সে। এখন তার অনেক কাজ। একে একে কাজলের তিলক একে দিতে হবে সবাইকে। দুঃখটা বাড়তে বাড়তে তার নিচের ঠোট প্রায় বাকিয়ে ফেলে যেন! আচ্ছা কি এমন বলে অই ‘বড়’ ছেলেদের দল? বুকের গহীনে অজানা একটা ভাষায় কে যেন বলতে থাকে।

লাইফ ইজ সো আনফেয়ার!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28800589 http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28800589 2008-05-20 21:33:12
পোশাকে যায় চেনা ২ (আব্‌জাব)
তো এই কাজিন এর প্রসংগ তুলেছে আমার স্টুডেন্ট কারণ তার মতে আমিও নাকি কম বস না!! তাই তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে!! তখন কেবল শীত শুরুর দিকে। আমি আমার সেই ছেড়া ফতুয়া গায়ে বসে আছি স্টুডেন্ট এর টেবিলে। এই গল্প শুনে আমার আরো শীত লাগা স্টার্ট করেছে। কিছুটা কাঁপছিও মনে হয়। দেখে স্টুডেন্ট এর মায়া হয়েছে। সে কোথা থেকে যেন একটা জ্যাকেট নিয়ে হাজির। দিলো আমাকে গিফট করে! আমি গাই গুই করি। সে বলে আরে নেন নেন বঙ্গ থেকে কেনা মাত্র ১৫০ টাকা নিসে দাম। দাম কম শুনে আস্বস্ত হই। আর আমার আসলে একটা হাফ সোয়েটার ছাড়া কোন শীতের পোশাকও ছিলনা।

এই স্টুডেন্টরা ভোজনরসিক পরিবার। প্রতিদিনই রঙ বেরং এর নাস্তা দেয়। হলে থেকে থেকে ওরস্যালাইন মার্কা ডাল আর পুইশাক ভাজি খেতে খেতে পেটে চর পড়ে গেছে। তাই টিউশনীতে এসে খাবার দিলে ভদ্রতা করেও কিছু পাতে রাখিনা। এমনকি স্টুডেন্ট এর প্লেটও মেরে দেই মাঝে মধ্যে। স্টুডেন্ট এর মনে হয় আমার উপর মায়া হয়। তাই বেশির ভাগ সময় সেও কিছু খায়না! আমাকেই দিয়ে দেয় সব। তো এইরকম একদিন প্রথম দফায় বেশি কিছু ফল ফ্রুট আর চিকেন স্যুপ দিলে খাইয়ে। সেসব খেয়ে পড়ানো শেষে যখন উঠতে যাবো তখনই আবার দেখি গরুর মাংস দিয়ে বানানো এক ধরণের স্যান্ডুইচ এসে হাজির। আমার পেট তখন ভরা। দুয়েকটা মুখে দিয়েছি। সব খাওয়ার যায়গা নেই। কিন্তু ছেড়ে যেতেও ইচ্ছা হচ্ছেনা। লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে যেই বলতে যাব, “এক কাজ কর একটা প্যাকেটে দিয়ে দেও”। তার আগেই স্টুডেন্ট কি মনে করে যেন হেসে উঠলো। আমি বললাম হাসো কেন? উত্তর- “বুঝলেন স্যার, আপনার আগে যে পড়াতো আমাকে সে প্রতিদিন নাস্তার যতটুকু বাকি থাকতো সেটূকু একটা প্যাকেটে নিয়ে যেত। পরের দিকে তো টিফিন বাটিও নিয়ে আসতো!! হি হি হি”। আমি মনে মনে হাফ ছাড়ি। যাক, আল্লা বাচাইসে!! আর দুই সেকেন্ড পরেইতো আমিও এই কাম কইরা বসতাম। আগের স্যার এর জন্য মায়া লাগলো। আহারে বেচারা। তার কষ্টটা আমি বুঝবো না তো কে বুঝবে?

কিন্তু এর পরই তো মাথায় বিভিন্ন ক্যালকুলেশন শুরু হয়ে যায়। আচ্ছা আমি কি কি কাজ করেছি এত দিনে, যে গুলো নিয়ে এই স্টুডেন্ট পরের স্যারের কাছে হাসাহাসি করতে পারে? ফলাফল হতাশা ব্যাঞ্জক। এই সব চিন্তা করতে করতে বাসা থেকে বেরুতে গিয়ে খেলাম দরজার চৌকাঠে গুতা!! আমি নাহয় একটু লম্বা। কিন্তু আগে তো চৌকাঠে গুতা খাইনাই! ঘটনা কি? আমি স্টুডেন্ট এর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বললাম, “ব্যপারটা কি বলতো? আমার মাথাটা কি উচু হয়ে যাচ্ছে নাকি দিনে দিনে?” এই সময় স্টুডেন্ট এর বান্দর ছোট ভাই বলে, “মনে হয় স্যান্ডেলের নিচে টায়ার লাগানোতে এমন হইসে!” হায়রে আমার টায়ার ওয়ালা স্যান্ডেল।

পরের দু সপ্তাহ শীতও পড়ে ছিল বেশ। আমার কাছে আবার এই স্টুডেন্ট এর দেওয়া টা ছাড়া আর কোন জ্যাকেট নাই। তার উপর তাদের বাসায় নাকি সেই কাজিন ও এসে হাজির হয়েছে। আমার সাথে মিট করতে চায়। এই সব বিভিদ অসস্তি কর এবং ভীতিকর কারণ হেতু আর পরের দুই সপ্তাহ টিউশনীতে যাইনি।

তবে মজার ব্যপারটা ঘটে ছিল আরো এক বছর পর। তত দিনে পাশ করে ফেলেছি। একটা নতুন স্যান্ডেলও কিনে ফেলেছি। কিন্তু কি ভাবে যেন সেই জ্যাকেটের ডান পকেটের কাছে বড় একটা ফূটা হয়ে গেছে। সেই ফুটা আবার সাদা সুতা দিয়ে শেলাই করা হয়েছে। একদিন চাকরী সুত্রে ধানমন্ডি তে গেছি। গায়ে সেই স্টুডেন্ট এর দেওয়া কালো জ্যাকেট। হঠাৎ করে দেখি সে এসে সামনে হাজির হাজির। আমার জ্যাকেটের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এত বড় জ্যাকেটটা আমি সারবো কোথায়? শুধু সেই ছেড়া অংশটাই হাত দিয়ে কোণ রকমে ঢেকে ঢুকে সে যাত্রা কাটিয়ে দেই।

মজার ব্যপার হল এখনো আমার সেই জ্যাকেট ছাড়া আর কোণ জ্যাকেট নাই। দেখি, পরের শীতে একটা কিনবই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28799820 http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28799820 2008-05-19 13:24:14
পোশাকে যায় চেনা-১ (আব্‌জাব)
হলের পোলাপাইন এর এই এক দোষ। টিউশনী করে যা পাবে সব দিয়ে ঠাটারী বাজারের স্টারে গিয়ে মুরগীর টিক্কা অথবা ঢাকাকলেজের সামনে গ্যালাক্সিতে গিয়ে পেস্তা বাদাম দিয়ে ... খেয়ে শেষ করে ফেলবে। পোশাক আশাক এর দিকে তাই কারো নজর নেই। সেরকম ট্রেডিশনও নেই। কেউ যদি এক দিন ভুল করে জামাটা জাস্ট একটু ইন করে চলে আসে তাইলেই শেষ। পুরাটা দিন পচানি খেতে হবে অন্য সবার কাছে। তাই এখানে যার স্যান্ডেল যত ছেড়া। সে তত বস। স্যান্ডেল এর বদলে হাওয়াই চপ্পল পড়লে আরো বস!

তো এইরকম বস পাবলিক সেজেই রওনা দিলাম AIUB এর দিকে। আমার কন্টেস্টের টি শার্ট টা আগের দিন কোন এক কারণে আমি পাইনি। পেয়েছি বুয়েট থেকে মাইক্রোতে উঠার সময়। গায়ে তাই যথারীতি আমার সেই বাম পকেট ছেড়া রঙ জ্বলা ফতুয়া। মনে একটা আশা ছিল কন্টেস্টের জামা পড়ে গেলে দারোয়ান হয়ত কিছু বলবে না। কিন্তু মাইক্রো এর মধ্যে যে জামা চেঞ্জ করে নিব সে উপায় নেই। আমাদের মাইক্রোতেই উঠেছে বুয়েটের নারী কন্টেস্টান্ট দল। তাদের সামনে আমার এই ‘ভেরি অ্যাট্রাক্টিভ’ বডি বের করে ফতুয়া খুলে গেঞ্জী পরতে সাহস হচ্ছেনা। ‘জ্যাটাক’ আর ‘এক্স’ এর অ্যাড গুলা আমিও তো দেখেছি নাকি?

সময়মত পৌছে গেলাম বনানীর ভার্সিটি পাড়ায়। টীমমেট দের বললাম আমারে ঘিরে হাটতে যাতে দারোয়ান না বুঝে যে আমি খালিপা। এই ভাবে কোন রকমে সেই যাত্রা রক্ষা পেলেও অই দিন আমার চোখ গেল খুলে! মনে হল! হায়, এ কোন দেশে আসিলাম!! কত বর্ণের কত গন্ধের এবং কত ভাবের মেয়ে যে এ দেশে আছে এইটা এই ভার্সিটি পাড়ায় না আসলে জানতামই না সারা জীবন। তারা যখন সামনে দিয়ে যায় তাদের দিকে তাকালে তাদের চোখে একটা ভাষা ফুটে উঠে। চোখ দুটো যেন ইংরেজীতে আমাকে বলতে থাকে, “হোলি কাউ!! হট ইজ দিস!!”। আমি একটু লজ্জা পেয়ে যাই। তার পর আবার গ্রাম থেকে আসা মজনু মিয়া যেভাবে প্রথম শহরের বিজলী বাতি দেখে সেভাবে তাদের দেখি। এইটা দেখতে দেখতে আমার সোল পরিশুদ্ধ হতে থাকে। কিন্তু এদিকে ডান পায়ের স্যান্ডেলের সোল বিট্রে করে। বড়ই বিপদ! আমার স্যান্ডেল সোলহীন হলেও আমি যে হৃদয়হীন ফেলনা না সেটা বুঝানোর জন্য তাড়াতাড়ি আমার সেই ফতুয়ার উপর দিয়েই কন্টেস্টান্ট দের গেঞ্জীটা পড়ে ফেলি।

সে যাত্রায় ভালয় ভালয় ফিরে আসতে পারলেও স্যান্ডেল বেচারার বিট্রেতে খুবই মেজাজ খারাপ হয়। তাই সেই শালাকে পিটিয়ে পাটিয়ে একটু টাইট দেওয়ার জন্য দিয়ে আসি হলের রেসিডেন্ট চর্মকারের কাছে। পরদিন সকালে ক্লাসে যাবার আগে স্যান্ডেল নিতে গিয়ে দেখি স্যান্ডেল দুটাকে দেখতে একেকটা মোষের মত লাগছে!! ঘটনা ব্যাখ্যা করে চর্মকার। “স্যার সোল দুইটা পুরা নষ্ট হয়ে গছিল। তাই খুলে পুরা বাদ দিয়ে দিসি”। আমি বলি “বাদ দিছ ভাল কথা মানিক, কিন্তু এইটা কি বাত্তি লাগাইছো পাঁচ ইঞ্চি উচা! এমনিতেই লম্বার চোটে ফ্যানে বাড়ি খাই!!”... “স্যার একে বারে খাটি জিনিস দিছি। টায়ার, মাইক্রো বাসের টায়ার!!”

আরে এই হালায় করছে কি!! স্যান্ডেলের নিচে মাইক্রোবাসের টায়ার লাগায়া দিসে! কিন্তু আমার সেই টায়ার ওয়ালা স্যান্ডেল হলে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। তাই সেটা আর পরে চেঞ্জ করা হয়নি। কিন্তু তার পর এক দিন বাধ্য হই সেটা চেঞ্জ করতে।

টিউশনি তে যাবার পর স্টুডেন্ট বলল.... সে আরেক গল্প পরে বলবোনে।
(চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28799261 http://www.somewhereinblog.net/blog/tomaderblog/28799261 2008-05-18 09:01:37
ঘর (কল্পগল্প) তিন চামচ বসাক পাতার রস, আধা চা চামচ লেবু, আর তিন দানা লবন। শুনে স্যালাইন বা কোন সুস্বাদু রান্নার মশলার রেসিপি যাই মনে হোক। এটা আসলে একটা ‘ঔষধ’। কবিরাজি টাইপ। এই ওষুধের নাকি মহা গুন। দুনিয়ার সব রোগ এই এক ওসুধেই সারে!! শুধু লবন দানার সংখ্যা একটু হেরফের করলেই হবে। যেমন হাইপারটেনশনের জন্য লবন হবে চার দানা। জন্ডিস হলে কোন লবনই লাগবে না!
যুঁথীর দাদি আবারো এই জিনিশ বানিয়ে এনেছে! এমনিতেই হইচই হোট্টগোলে মাথা খারাপ হবার জোগাড়। তার মধ্যে আবার যদি এই জিনিশ খেতে হয়। তাহলে খবরই আছে। এই মহৌষধ শুধু একবারই খেতে বাধ্য হয়েছে যুঁথী। তার এস এস সি পরীক্ষার সময়। যাকে বলে, একে বারে ইমোশনাল ব্লাক মেইল!

টেনশনে তখন যুথীর হাত পা প্রায় পেটের মধ্যে সেধিয়ে যাবার অবস্থা! যাবার আগে সে গেছে দীদার কাছে একটু দুয়া চাইতে। ব্যাস, দীদা আঁচলের তলা থেকে তার মহৌষধ বের করে বলে, “খেয়ে নে। টেনশন কমবে। নইলে দুয়া পাবি না!!!”

সেবার যাবার আগে বমি টমি করে, বাবা মা কে অশেষ টেনশনের মধ্যে ফেলে পরীক্ষা দিতে গেলেও, শেষ মেশ যুথী বোর্ড স্টান্ড করে ফেলল!! তা সে বসাক পাতার কল্যানে, নাকি তার সাথে ফ্রী পাওয়া দুয়ার কল্যানে সেটা অবশ্য গবেষণার বিষয়।

আজকেও মনে হয় আবার ব্লাক মেইল হওয়া লাগবে! এমনিতেই বাসার মধ্যে লোকজন কিল বিল করছে। তার মধ্যে বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি। এই নিয়ে টানা তিন দিন। আজকেই মনে হয় ফোর্স সব চেয়ে বেশি। চাইলেও কেও বাইরে যেতে পারছে না।

যুথীর বিয়ে হয়েছে আজ।কলমা পড়া শেষ। অবশ্য ‘কবুল কবুল’ বলা লাগেনি। সে বাংলায় স্পষ্ট করে বলেছে, “আমি রাজি”। এই বিয়েটা অবশ্য প্রাইমারী। বড় করে আয়োজন করা হবে পরে। যুঁথী কে অবশ্য বরের বাসায় নিয়ে যাবার কথাছিল। কিন্তু বাগড়া বাধিয়েছে বৃষ্টি। তার শশুর বাড়ির এলাকাতে নাকি মাজা পানি উঠেছে! এখন যেতে হলে নৌকা লাগবে! অবশ্য তাতে ভালই হত। নৌকায় করে বৃষ্টির মধ্যে শশুর বাড়ি যাওয়া হতো!!! রাস্তায় নৌকাও নাকি চলছে দুয়েকটা! তবে ঐ সব নৌকায় ছউনি নেই। নতুন বৌ তো আর আলগা নৌকায় শশুর বাড়ি যেতে পারেনা!

তাই যুথীদের বাসাতেই বাসর ঘরের আয়োজন করা হবে। এই নিয়ে সবচেয়ে বেশি হই চই করছে শারমিন। যুথীর প্রিয় এবং মহা ফাজিল বান্ধবী। মহা ফাজিল হলে কি হবে এই মেয়ে মহা কাজের ও। সে কিভাবে যেন বাসর সাজানোর জন্য ফুল জোগাড় করে ফেলেছে!! কদম ফুল!!! কদম ফুল দিয়ে কিছু সাজানো যায় এই কথা যুঁথী কোন দিন শুনেনি। কদম ফুলের গন্ধ টাওতো বিশ্রী। তবে তার সমাধান করা হয়েছে। কদম ফুলের উপর রোজ স্প্রে ছড়ানো হয়েছে। এখন নাকি কদম ফুল দিয়ে গোলাপের সুগন্ধ বের হচ্ছে!

সমস্যা শুধু একটাই। যুথীর ঘরের খাট টা সিঙ্গেল! পুরোপুরি সিঙ্গেল না, একটু বড় হবে। তবু দুজনের উপযোগী না কোন মতেই। ব্যপারটা আপত্তি কর হলেও কিছুই নাকি করার নেই। এই ঘোর বর্ষার মধ্যে এর চেয়ে বেশি কিছু আয়োজন করা সম্ভব না! সাফ বলে দিয়েছে শারমিন।

দীদার কাছে দুয়া চাইতে গিয়ে আবারো সেই মহৌষধ খেয়ে ফেলেছে যুঁথী। আসলে বাধ্য হয়েছে। এখন পেট উল্টিয়ে বমি আসছে। শারমিন ও এসেছে দীদার ঘরে। বলল, “বুঝলি সিঙ্গেল খাটই তো ভাল! সারা রাত জড়াজড়ি করে তোর বরের লোমশ বুকে মাথা রেখে শুয়ে থাকবি!! ভাবতেই আমার কেমন থ্রীল হচ্ছে!! হি হি হি” বলেই সেই খচ্চর মার্কা হাসি দিচ্ছে সে। এমনিতেই বমি পাচ্ছিল এখন গা ও জ্বলছে। আবার বলছে, “আহা মুখটা এমন তেতো করে রেখেছিস কেন? হুট করে বাসরের আয়োজন। কোন সেফটি মেজার ও তো নেই। শেষে দেখা যাবে কদিন পর কোলে ট্যা টো বাচ্চা নিয়ে হানিমুনে যাওয়া লাগবে। তাই তো দাদি কে বলে আমি মহৌশধের ব্যবস্থা করালাম। মধু চন্দ্রিমার ব্যপারতো! তাই লেবুর রসের বদলে মধু দিয়ে দিয়েছি, হেঃ হেঃ হেঃ” । এই মেয়ে কি পাগল হয়ে গেছে!! দীদাকে এই সব বলেছে নাকি!! ভাবে যুথী। দীদা কেমন যেন ফোকলা মুখে রাঙা হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। ধেত!

[বর পর্ব]
নিজেকেই এখন কনের মত মনে হচ্ছে ইফতেখারের! যেন বিয়ে করে তার বর তাকে শশুর বাড়ি নিয়ে এসেছে। সে বসে আছে বাসর ঘরে। যে কোন সময় বর দরজা খুলে ঢুকে পড়বে!!! বৃষ্টি আর বন্যায় প্লান প্রোগ্রাম সব ভজঘট হয়ে গেছে। তার মধ্যে এই ঘরে ফুলসজ্জার আয়োজনটা করেছে যে কোন বেআক্কেল! কদম ফুল ঝুর ঝুর করে সারা খাটে ছড়িয়ে দিয়েছে! ক্লান্তি তে একটূ হেলান দিয়েছিল বালিশে এখন সেই ঝুর ঝুরে ফুল গায়ের মধ্যে ঢুকে বিশ্রী ভাবে ফুটছে। এখন তো মনে হচ্ছে পাঞ্জাবী তে দাগ হয়ে যাবে! কদম ফুলে দাগ হয় কিনা কে যানে? তীব্র গোলাপের সুবাস পাওয়া যাচ্ছে ঘরে। তবে কোথাও দেখা যাচ্ছেনা! ব্যালকনিতে কি গোলাপ গাছ আছে? অবশ্য বর্ষাকালের গোলাপে তো এত সেন্ট হবার কথা না! পানিতেই ধুয়ে যায় বেশির ভাগ।

এই সব চিন্তা করছে সে মন কে ব্যস্ত রাখার জন্য। প্রচন্ড তৃষ্ণা পেয়েছে তার। পানির না। নিকোটিনের! সেই দুপুরে এ বাড়ী এসেছে সে। কথা ছিলে সন্ধার পর পরই সব কাজ সেরে বউ নিয়ে নিজের বাড়ী চলে যাবে। কিন্তু পাকে চক্রে পড়ে এখানেই থেকে যেতে হচ্ছে। এতক্ষনে মনে হয় নিচের ঠোট নীলচে রঙ ধারন করেছে। একটু পর হাত পা ও কাঁপবে। দেখে মনে হবে সে ড্রাগ আডিক্ট! যদিও মামুলি সিগারেটের ব্যপার!! তার স্মার্ট ফ্রেন্ড হাসান অবশ্য আন্টি স্মোকিং চিউইং গাম নিয়ে এসেছে সাথে। বিয়ের বরের নাকি সিগারেট খাওয়া ঠিক না। শশুর বাড়িত ভাবমুর্তি খুন্য হবে। বিকালের দিকে তার হাতে একটা দিয়ে বলল, “নে মুখের মধ্যে পুরে নে। একে বারে খাটি জিনিশ। ইন্ডিয়া থেকে একদম নিজ হাতে এনেছি।" আন্টীস্মোকিং লেখা থাকলে কি হবে। আসলে এইটাই নাকি নিকোটিনের বাসা!! একটা খেলেই তিন দিনের প্রয়োজনীয় নিকোটিন রিজার্ভ হয়ে যাবার কথা!

সাহস করে একটা মুখেও দিয়েছিল ইফতেখার। ইয়াক থু!!! মনে হয়েছে মুখে গুল দিয়েছে। একে বারে টপ ব্রান্ডের ‘হক্কা গুল’। ওই সময় জোর করে খেয়ে ফেললে আর এই অবস্থা হত না এখন। অবশ্য ঐ জিনিশ আরো একটা আছে তার কাছে। সেই টাই মুখে পুরে দেয় সে।

কিছুটা আরাম লাগছে এখন। ঘুমও পাচ্ছে খুব। যুথী মনে হয় ইহ কালে আর আসবে না! আহা! বাসর ঘরে বৌএর মুখ না দেখেই বুঝি ঘুমিয়ে পড়া লাগবে। একটু ঘুরে ফিরে দেখতে থাকে সে। যুথীর ঘরটা। সিডি প্লেয়ার আছে একটা। কিছু রবীন্দ্রসংগীতের সিডিও আছে। তারই একটা নিয়ে মৃদু ভলিউমে ছেড়ে দেয় সে। এই গুল মার্কা চিউইং গামের কারনেই কিনা, ঘুম এখন আরো তীব্র আকার ধারন করেছে। আর জেগে থাকা সম্ভব না! সিডি প্লেয়ার এর পাশেই একটা নোটবুক থেকে একটা পাতা ছিড়ে নেয় সে। তার পর খস খস করে কি যেন লিখে ফেলে..

[বাসর পর্ব]
কিছুটা সুস্থ বোধ করছে যুঁথী। এখন যাওয়া যেতে পারে ঘরে। কেমন যেন অদ্ভুত অনুভুতি হচ্ছে তার! অপরিচিত এবং অদ্ভুত। আনন্দও না আবার উতকন্ঠাও না!! মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটতে চলেছে। আবশম্ভবী কিছু, তার প্রতিটি কোষে সেই বার্তা পৌছে গেছে যেন। প্রতিটা ক্রমোজম প্রস্তুত হয়ে গেছে সেই তীব্র আনন্দময় অজানা ক্ষনটার জন্য! ব্যপারটা অবশ্য দীদার সেই অদ্ভুত টোটকার জন্যেও হতে পারে!

শারমিন প্রায় এক রকম জোর করে তাকে ঢুকিয়ে দিয়েছে ঘরটাতে। বাইরে তখনো বৃষ্টি হচ্ছে অঝর ধারায়। কেমন যেন শীত শীত পরিবেশ। ইফতি হাত পা গুটি সুটি করে ঘুমিয়ে আছ