somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার গল্প! :P

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১. তেরই ফেব্রুয়ারি। সন্ধ্যা ৭ টা। তানিয়া একা বসে আছে। ওর মন আজ খুবই খারাপ। রাতের ফ্লাইটে তপু চলে যাচ্ছে। ৭ দিনের জন্য। খুব জরুরী কোনো ব্যবসায়িক কাজে। অনেক রিকোয়েস্ট করেছে ও। দুজনে একসাথে ভালোবাসা দিবসটা পালন করতে। তপু ওর কথা শুনেনি। প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছে দুজনের। অথচ বিয়ের আগে ও এরকম ছিলোনা। তানিয়া যা বলতো সবই করার চেষ্টা করতো। ওদের বিয়ে হয়েছে ৮ মাস। লাস্ট ভালোবাসা দিবসের কথাটা ওর মনে পরছে। আব্বু আম্মু বিদেশে ছিলো একটা ট্যুরে। ভোর ৫ টায় ও তপুকে ফোন করে। তপু ঘুমন্ত অবস্থায় ফোন রিসিভ করে। তানিয়া প্রচণ্ড ধমক দেয়। তুই এখনও ঘুমচ্ছিস ? আজকে না ভালোবাসা দিবস ? ১ ঘন্টার মধ্যে ফ্রেস হয়ে আমার বাসায় আয়, আজকে একসাথে ব্রেকফাস্ট করবো। তারপর দুজনে ঘুরতে বের হবো। এখুনি আসছি। বলে তপু লাইন কেটে দেয়। .....................।
২. ঠিক ৫৮ মিনিটের মাথায় তপু ওদের বাসার বেল টিপে। দারোয়ান ওকে বলে আপুমনি আপনার সাথে খাবে বলে নাশতা করেনি, তাড়াতাড়ি যান। বারান্দা থেকে সবই দেখছিলো ও। তপুকে খুব সুন্দর লাগছিলো ব্লেজারে। নেভিব্লু শার্ট আর কালো ব্লেজার। একটা সানগ্লাস হলে মানাতো খুব। তপুকে দোতালায় নিয়ে আসলো আয়া। এসেই তপুর অভিযোগ তুই এখনো রেডি হোস নি ? আর আমি ব্রেকফাস্ট না করে ঝরের বেগে ছুটে আসলাম। তানিয়া আয়াকে বললো ওকে হালকা নাস্তা দাও। আর তুই ড্রইং রুমে বোস, টিভি দেখ। আমার আধা ঘণ্টা লাগবে। শাওয়ার নিয়ে আসছি। তপু কিছুটা রাগ করলেও কিছুই বললোনা। ড্রইং রুমে এসে বসলো। আর নাস্তা দিতে মানা করে দিলো। আধ ঘন্টার কিছু পরে ওকে ডাকা হলো ডাইনিং রুমে। .....................।
৩. ডাইনিং রুমে এসে তপু ধাক্কা মতো খেলো। তানিয়াকে অপূর্ব লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো না ও এই তানিয়াকে চিনে। মনে হচ্ছিলো বেহেশত থেকে নেমে আসা কোনো পরি ওর সামনে টেবিলে বসে আছে। সারাটা ডাইনিং রুম ও আলোকিতো করে রেখেছে। ঐ মুহূর্তে নিজেকে খুব নগণ্য মনে হচ্ছিলো তানিয়ার কাছে। তানিয়ার ডাকে বাস্তবে ফিরে এলো ও। তানিয়া হাসছে!!! বলছে হা করে আমাকে না দেখে খেতে বোস, আমার খুব খুদা পেয়েছে। তানিয়ার হাসি আজও বরাবরের মতোই সুন্দর লাগছে। ...............।
৪. খেতে বসে তানিয়া বললো আজকের সব মেনুই আমার রাধা। তোকে ফোন করে রাঁধতে যাই। সবই তারাহুরার মধ্যে রাধা, তাই মজা না হলে আমার দোষ নেই। অসম্ভব আনন্দ নিয়ে সেদিন দুজনে ব্রেকফাস্ট করেছিলো। ব্রেকফাস্টের পর তানিয়া তপুকে একটা দামি সানগ্লাস গিফট করে। তপু খুব খুশি হয়। তপুও ওকে একটা আই-ফোন গিফট করে। বলে তোর জন্য ভাইয়াকে দিয়ে আনিয়েছি। অসম্ভব সুন্দর কেটেছিলো সেই দিনটা। ........................।
৫. রাত সাড়ে নয়টা। তপুকে নিয়ে ড্রাইভার চলে গেলো এয়ার পোর্টে। ও বারান্দা থেকে তপুকে বিদায় জানিয়েছে। তপু একবারের জন্যেও তাকায়নি ওরদিকে। কষ্টে ওর বুকটা ফেটে যাচ্ছে। তপুর এই পরিবর্তনে ও গত কিছুদিন ধরেই এভাবে কাঁদছে। যদিও ওর বাবা মা এমন জামাই পেয়ে মহা খুশি!!! ও আর থাকতে পারলো না। বাথরুমে গিয়ে শাওয়ার ছেরে অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলো। নিঃশব্দ কান্না ......। বিশ মিনিট পর ফ্রেশ হয়ে বের হলো। দেখলো ওর ফোন বাজছে। ধরলো না তানিয়া। আবারো বেজে উঠলো। এবারও ধরলোনা। ফোনটা ভেঙে ফেলতে ইচ্ছে করছে। রিং টোনটা অসোজ্ঝ লাগছে। তানিয়া ফোনটা তুললো ভেঙে ফেলবে বলে। আবার রিং বাজলো, তপুর ফোন......। কি ভেবে তানিয়া ফোনটা ধরলো। হ্যালো...। তপু বললো আমার ড্রয়ার থেকে শাড়িটা বের করো। তোমার ড্রয়ারে কসমেটিক্স আর জুয়েলারি রেখেছি। বিশ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে নিচে নামো। আমি অপেক্ষা করছি। .....................।
৬. তানিয়াকে খুব সুন্দর লাগছে শাড়িতে। তপু তানিয়াকে জরিয়ে ধরলো। বোকা মেয়ে তুমি কিভাবে ভাবলে তোমাকে ছেরে আমি ভালোবাসা দিবস কাটাবো ? আসো গাড়িতে ওঠো। আর বলো সারপ্রাইজটা কেমন লাগলো ? তানিয়ার এখনো বিশ্বাস হচ্ছেনা। তপু বললো কাল দুপুর বারোটায় আমাদের ফ্লাইট। মানে তুমি আর আমি একসাথে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছি। তানিয়া প্রশ্ন করলো তুমি না সিঙ্গাপুর যাও ? তপু বলে না তোমাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাবো ঘুরতে। ............।
৭. ধানমন্ডির এন্ডারসন আইস ক্রিম পার্লার। রাত বারোটা এক। তানিয়া বিশাল এক কেক কাটছে। ওর আব্বু-আম্মু , বন্ধু-বান্ধব আর তপুর বন্ধুরা উপস্থিত। তানিয়া বুঝতে পারছে তপু এই বিশাল সারপ্রাইজটা দিতেই এত অভিনয় আর কষ্ট করেছে। ওর খুব খুশি লাগছে। সবার সাথেই কিছুটা সময় কাঁটালো ও। এক ফাকে তানিয়াকে ডেকে তপু বললো চলো, দুজনে ঘুরতে বের হবো। আব্বু আম্মুকে বলে আসো মেহমানদের ম্যানেজ করতে। কিছুক্ষণ পর তানিয়া বিদায় নিয়ে বের হয়ে আসলো। তপু আর তানিয়া লং ড্রাইভে বের হলো। তপু বললো দেখো তারাগুলো কি জ্বলজ্বল করছে । কোথায় যাবে বলো ? আগামী ছয় ঘণ্টা আমরা শুধুই ঘুরবো। কালো গাড়িটা চলে যাচ্ছে। আজ ওরা দুজনেই খুবই খুশি.........................।


কপিরাইটঃ সামিউর।


• ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আমার প্রিয় একটা গানের ডাউনলোড লিংক দিলাম সাথে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:৪৯
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×