আমার প্রিয় পোস্ট

বন্ধু ইমরোজের ভালোবাসা মানে এবং...

২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১:৩১

শেয়ার করুন:                   Facebook

সহব্লগার ইমরোজ তাঁর 'ভালোবাসা মানে' শিরোনামে ব্লগ পোস্টটি [wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/Imrozblog/28739068] লিখে দিয়ে আবারো সহস্রবার গুলিয়ে যাওয়া বিষয়টি নিয়ে বিপদে ফেলে দিলেন। তাও ভালো, তিনি ভালোবাসার মাত্র ১৬রকম মানের লিস্ট দিয়েছেন। আমি শিওর প্রতি দিন প্রতি মুহুর্তে ভালোবাসার আরো নতুন নতুন মানে খুঁজে পাবেন জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত। হয়তো আরো কিছু লিস্ট আমরা দেখতেও পাবো এবং এক সময় তার করার মত আর সময় থাকবেনা অথবা লিস্ট করারই মানে থাকবেনা অথবা এমন সব মানে খুঁজে পাবেন যা প্রকাশ করার মত ভাষা এখনো তৈরীই হয়নি। সম্ভবতঃ প্রকাশ করার ভাষা নেই বলেই এই নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনাগুলোর কোন কুলকিনারা নেই। কেজানে?

মানবিক বোধ, অনুভুতি, সত্য-মিথ্যা, ভালোবাসা-ঘৃণা সব কিছুরই ইন্টাপ্রিটেশন যার যার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস, জ্ঞান আর উপলব্ধির উপর নির্ভর করে। অন্যান্য ব্লগার বন্ধুরাও তাদের নিজেদের খুঁজে পাওয়া মানেগুলোও শেয়ার করেছেন তাদের মন্তব্যে। বেশ মজার সব মন্তব্য। একজন বললেন "বিয়ের পর বুজবেন ভালোবাসা কি ?" তার উত্তরে ইমরোজ বললেন "আগের ভালবাইস্যা লই, হেরপর বিয়া, বহুত দেরী।" প্রথমজন বিয়ে আর ভালোবাসার বৈরীতার ইঙ্গিত দিয়েই ফেলেছেন আর ইমরোজও এমন ভাবে বল্লেন যেন তিনিও ব্যাপারটি আঁচ করতে পারেন আর সেজন্যেই বিয়ের আগে যতটুকু ভালোবাসা যায় তিনি বেসে নেবেন। ভালোবাসা আর বিয়ের বৈরীতার বিষয়টি কতটুকু প্রকট বা আদৌ আছে কি না আমার নিশ্চিতভাবে জানা নেই, তবে ইমরোজের স্ট্র্যাটেজিটাও মন্দ না।

আগে ভালোবাসা পরে হিসেব নিকেশ আর তার মানে খোঁজা।

ভালোবাসার মানে যাই হোক, ইংরেজী ভাষাভাষি মানুষেরা "love" আর "love making"শব্দগুলো প্রায় পাশাপাশি দিয়ে অবস্থাটা আরো ঘোলাটে করে ফেলেছেন। আরো মনে হয় তাদের চাইতে আমরা শব্দগুলো নিয়ে বিপদে পড়েছি যারা ইংরেজী গুলিয়ে ফেলি।


সে যাই হোক আমিও যে কিছু বলতে চাই? যদি অভয় দেন। মানুষের সামনে কথা বলতে এমনিই হাঁটু কাঁপে সঙ্গত কারনেই। আমি জানি আমি কতটুকু মুর্খ। ব্লগে সরাসরি কারো সামনে দাঁড়াতে হয়না বলেই, আর পঁচা ডিমে গা গন্ধ হওয়ার ভয় নেই বলেই এটুকু লিখার সাহস করছি। তারপরও নিজের কথা এড়িয়ে কিছু জ্ঞানী-গুণি মানুষের কিছু কথা শেয়ার করছি বার বার মনে যেগুলো ঘুরে ফিরে আসে। তাদের রেফারেন্স দিতে পারবোনা। ক্ষমা করবেন।

একজন বললেন "ভালোবাসা হচ্ছে সেই অনুভুতি যার জন্যে তুমি কম খাও যাতে তোমার প্রিয়জন বেশী আর ভালো খেতে পারে। এটা সেই অনুভুতি যার জন্যে তুমি নিজের জন্যে কমদামী পোশাক কেনো যাতে তোমার প্রিয়জন ভালো আর দামী পোশাকটি পড়তে পারে। এটা সেই অনুভুতি যার জন্যে তোমার সন্তানের স্কুলের গেটে ঘন্টা পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে পার। এটা সেই অনুভুতি যার জন্যে সেবিকা ভাড়া করার টাকা থাকা সত্ত্বেও তোমার অসুস্থ প্রিয়জনের পাশে থেকে নিজে সেবা কর।"

আরেকজন এটি ডিফাইন করতে গিয়ে বললেন "একটি বনের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্যে তার কাছে বারবার যাওয়াটা সেই বনের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। ভালোবাসাটা আর থাকেনা যখনই আমরা হিসেব করতে শুরু করি বনে গাছের সংখ্যা, তা থেকে প্রাপ্য কাঠের পরিমান, তার দাম আর যখনই প্রস্তুতি নিতে শুরু করি বনের মালিকানা নেয়ার সেই কাঠ বিক্রীর উদ্দেশ্যে।" সম্ভবতঃ বার্ট্রান্ড রাসেলের বইতে পরেছিলাম। বহুবার দেখেছি আপাতঃ ভালোবাসার মানুষেরা একজন আরেকজনের মালিকানা নিতে গিয়ে শত্রুতেও পরিণত হয়েছেন।

আমরা শুধুই স্বেচ্ছায় নিজেকে সঁপে দিতে পারি। কেউ ছিনিয়ে নিতে আসলেই সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মেই। প্রকৃতির এই নিয়মটিই কতবার নিজের অলক্ষ্যে ভুলে যাই। হায়...

চিকিৎসা আর শরীরতত্ত্ববিদরা ভালোবাসাকে শরীরে বিশেষকিছু হরমোনের আনাগোনা আর তার পরিমান দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। তারা কোন ভালোবাসার কথা বলেছেন জানিনা। শুধু এই টুকু বলতে পারি কোন হরমোনের আধিক্যে বা অভাবের কারনে আমার প্রিয় বনটিকে কেটে সাফ করতে পারবোনা, পারবোনা আমার প্রিয়জনকে বঞ্চিত করে ভালো পোশাক, খাবার দাবার, গান, কবিতা, কোনকিছুই উপভোগ করতে। তাকে বাদ দিয়ে জীবন যাপন করবোনা কোন হরমোন থাকুক আর নাই থাকুক। বাঁচি তার জন্যেই, তাদের জন্যেই। এই মানুষের জীবনে ফিরে আসতে ইচ্ছে করবে আবার শুধু যদি আমার ভালোবাসার মানুষদেরও ফিরে আসার গ্যারান্টি পাই। নয়তো নয়। পরম ভালোবাসার একটি জীবনের প্রাপ্তি নিয়েই অনন্ত পাড়ি দেবো।

 

 

  • ৫ টি মন্তব্য
  • ১৫২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ২:১৬
comment by: ভিন্ন দৃষ্টি বলেছেন: ভালোবাসা... হুম... ৩ বেড, ৩ বাথ, ৩ বারান্দা, ড্রইং, ডাইনিং সেপারেট (একসাথে হলে সুপরিসর হতে হবে- অন্তত ২৫ ফুট), সার্ভেন্ট কোয়ার্টার, সার্ভেন্ট বাথ, ষ্টোর। ২৪ ঘন্টা পানির নিশ্চয়তা। সাথে গ্যাস আর বিদ্যুৎ তো থাকছেই।


তবে ভালোবাসা পূর্নতা লাভ করবে যদি পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েটা সুন্দরী আর সুভাষিনী হয়।
২. ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৩:১১
comment by: রাশেদ বলেছেন: স্বাগতম।
৩. ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৩:৪৪
comment by: লতিফ হোসাইন বলেছেন: ধন্যবাদ রাশেদ। ওয়ালাইকুম স্বাগতম। :)
আপনার লেখা দেখতে চাই। কয়েকজন মানুষের আড্ডায় একসাথে থাকার ইচ্ছে হলো বলেই এই ব্লগে আসা। তার মধ্যে আপনিও একজন।
৪. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৩৯
comment by: হমপগ্র বলেছেন: ভাইয়া,
দুঃখিত আপনার ব্লগটা আগে চোখে পরে নি। আমাকে নিয়ে এত সুন্দর লেখা দেবার জন্য আপনার কাছে অনেক ধন্যবাদ।
অনেক ভাল থাকবেন।
৫. ২১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:১১
comment by: চারণ কবি বলেছেন: কোন এক কবি’র (কবির নামটা মনে আসছেনা) কবিতায় ”ভালবাসা” বিষয়ে খুব মজার মজার কথা ছিল! কবিতার বিষয়বস' ছিল একজন ব্যক্তি বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন, একজনকে জিজ্ঞাসা করায় সে শুরু করলো-”ভালবাসা পাবে তুমি স্বদেশের বক্ষে, ভালবাসা পাবে তুমি মা বাবার চক্ষে. . . ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন ব্যক্তিটি বিরক্ত হয়ে যে কথাগুলো বললো যার শেষ লাইনগুলো সম্ভবতঃ এরকম- ” আপাততঃ এ শহরে ভালো কোন পাড়াতে, ভালো বাসা পাওয়া যাবে, কিছু কম ভাড়াতে?” হাঃ হাঃ হাঃ ঐযে বিয়ের পর ভালবাসা’র সংজ্ঞা বিষয়ে অনেকে অনেক কথা বললেন, কিন' আমি বলবো - ভা্‌ইরে, বিবাহ করিয়া নতুন সংসারটাকে আরো পাকা পোক্ত করার জন্য একটি ভালো বাসা (কম খরচে) খুঁজে পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়... সবাইকে ধন্যবাদ।

 



 


উত্তর জানিনা শুধুই প্রশ্ন। অনেক প্রশ্ন।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১২৬২