somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্ট অফ দা ইয়ার: মিন্থি রাজাকারের সত্যকথন

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধান্দাবাতিদের সাহস নাই। মিন্থি রাজাকারের আছে। তার প্রমাণ দেখেন :

মিন্থি রাজাকার

যুদ্ধাপরাধ?
২০০৭-১১-২৬ ০০:৪০:৪১


১৯৭১ ছিল নিদানের কাল। অনেক রক্তস্রোত আর ত্যাগের বিনিময়ে মুসলমানেরা ১৯৪৭ সালে যে আবাসভুমি ফিরে পেল ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদী সম্প্রসারণবাদীদের ষড়যন্ত্রে মাত্র ২৩ বছরের মাথায় তার অপমৃত্যু ঘটে। রাশিয়া আর ভারতের হাত এই খুনের রক্তে রঞ্জিত। সেই সাথে আমেরিকাও দায়ী। সপ্তম নৌবহর পাঠাতে চেয়েও পাঠায়নি। সেদিন ঢাকায় জাতিসংঘ বাহিনি নেমে গেলে শান্তিও ফিরতো, মুসলমানরাও বিপন্ন হতো না। রাশিয়া ভেটো দিয়ে সেই রাস্তা বন্ধ করে দেয়।

রাশিয়ার ষড়যন্ত্রে ১৯৬৫ তে মুসলিম প্রধাণ কাশ্মীর ছিনিয়ে নেয় ভারত। তারপরের টার্গেট ছিল পূর্ব পাকিস্তান। ১৯৬৬র ছয়দফা সেই যড়যন্ত্রের ফসল। আগরতলা যড়যন্ত্র মামলা মিথ্যা মামলা ছিল না। আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে সেসময় শেখ মুজিব গংরা জেল থেকে বের হন। শেখ মুজিবের মতো ভন্ড আর প্রতারক পৃথিবীর মানুষ কম দেখেছে। তার দল আওয়ামী লীগের ছাত্র উইং ছাত্রলীগ বরাবর আমেরিকার দালাল বলে পরিচিত হলেও ১৯৬৬ তে তারা ভোল পাল্টায়। শেখ মুজিবের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফরিদপুরের ভাষায় মিষ্টি কথা দিয়ে জাতিয়তাবাদী উন্মাদনা সৃষ্টির চেষ্টা সেদিন সফল হয়েছিল। কারণ দেশের ৯৭% মুসলীম সঠিক ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না। তারা বুঝতে পারে নি যে পৃথিবীর যেখানেই থাকুক মুসলমানদের আসল পরিচয় হচ্ছে তারা মুসলমান। আসল পরিচয় বাঙালী হতে গেলে ধর্মের বিষয়ে নিরপেক্ষ হতে হয়। ইসলামে ধর্ম নিরপেক্ষতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। শেখ মুজিব গং সেদিন সুরা কাফিরূনের অপব্যাখ্যা করেছিল। "তোমাদের ধর্ম তোমাদের কাছে, আমাদের ধর্ম আমাদের কাছে" এর মতলব কি? এর মতলব হচ্ছে তুমি তোমার ধর্মের পক্ষে, আমি আমার ধর্মের পক্ষে। এখানে নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই। (এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ শ্রদ্ধেয় মওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ওয়াজ শুনুন) আল্লাহর দুনিয়ায় কোন কিছুই নিরপেক্ষ নয়। কিন্তু ইসলামী জ্ঞানের অভাবে সেদিন জাতীয়তাবাদী মদেমত্ত মানুষেরা বোঝেনি। এই মদের ঘোরেই এদেশের মানুষ করে বসে এক ভয়ঙ্কর ভুল। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগকে একচেটিয়া জিতিয়ে দেয়। তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল পাকিস্তানে শান্তি আনতে। কিন্তু ভারতের সেবাদাস আওয়ামী লীগ আর নাস্তিক চক্র এই ম্যান্ডেট কে কাজে লাগায় দ্বিজাতিতত্ত্বের অর্জনকে বিকলাঙ্গ করতে।

এই ষড়যন্ত্রকে সেদিন সবচাইতে ভালো বুঝেছিলেন মওলানা আবুল আলা মওদুদী (র:) এর নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান। তারা মুসলীম লীগের মতো হাফ হার্ট নয় বরং সর্বস্ব নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। বদর বাহিনির সেদিনের ভুমিকার কারণ এদেশের মানুষ একদিন বুঝবে। যখন দেখা গেল আর কোনভাবেই পাকিস্থানকে একসাথে রাখা যাচ্ছে না তখনই তারা ইসলামের শত্রু ভারতীয় দালাল
খতমের মতো সিদ্ধান্ত নেয়। যারা পুরো ৯ মাস ঢাকা শহরে চুপচাপ ঘাপটি মেরে বসেছিলেন সেই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের থিংক ট্যাংকরা পরবর্তী বাঙালী জাতিয়তাবাদের দেশে মুসলীম জাহান আর ইসলামী মূল্যবোধের আরও অনেক বড় ক্ষতি করবে এই অনুমান ছিল আল বদর বাহিনির সেই সিদ্ধান্তের পেছনে। তাঁদের সেই অনুমান কতটা সঠিক ছিল তা আজকের বাংলাদেশকে এক নজর দেখলেই বোঝা যাবে। সেটা একটা যুদ্ধাবস্থা ছিল এবং ১৯৭১ এর ১৩/১৪ ডিসেম্বরে নিহতদের সেই যুদ্ধে একটা পক্ষ ছিল। তারা নিরপেক্ষ বা সিভিল ছিলেন না। সুতরাং সেদিন যা ঘটেছে সবই যুদ্ধের অংশ। তারা যুদ্ধাপরাধী নন। বদর বাহিনি দেশপ্রেমিক ছিলেন না। তারা ছিলেন মুজাহিদ। তারা লড়েছেন ইসলামের জন্য। ভূগোলের সংকীর্ণতা তাদের ছিল না। তাদের মূল্য লোকে একদিন বুঝবে। এদেশের লিখিত ইতিহাসে তাদের স্থান হবে তীতুমীর, হাজী শরিয়তুল্লাহ্দের পাশে।

এদেশ আর পাকিস্থান হবে না। সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে আসুন সবাই ইসলামী মূল্যবোধে দীক্ষিত হই। প্রতিবেশীর হক আদায় করি। তার হেদায়েত করি।


সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:০৬
৩৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×