মিন্থি রাজাকার
যুদ্ধাপরাধ?
২০০৭-১১-২৬ ০০:৪০:৪১
১৯৭১ ছিল নিদানের কাল। অনেক রক্তস্রোত আর ত্যাগের বিনিময়ে মুসলমানেরা ১৯৪৭ সালে যে আবাসভুমি ফিরে পেল ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদী সম্প্রসারণবাদীদের ষড়যন্ত্রে মাত্র ২৩ বছরের মাথায় তার অপমৃত্যু ঘটে। রাশিয়া আর ভারতের হাত এই খুনের রক্তে রঞ্জিত। সেই সাথে আমেরিকাও দায়ী। সপ্তম নৌবহর পাঠাতে চেয়েও পাঠায়নি। সেদিন ঢাকায় জাতিসংঘ বাহিনি নেমে গেলে শান্তিও ফিরতো, মুসলমানরাও বিপন্ন হতো না। রাশিয়া ভেটো দিয়ে সেই রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
রাশিয়ার ষড়যন্ত্রে ১৯৬৫ তে মুসলিম প্রধাণ কাশ্মীর ছিনিয়ে নেয় ভারত। তারপরের টার্গেট ছিল পূর্ব পাকিস্তান। ১৯৬৬র ছয়দফা সেই যড়যন্ত্রের ফসল। আগরতলা যড়যন্ত্র মামলা মিথ্যা মামলা ছিল না। আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে সেসময় শেখ মুজিব গংরা জেল থেকে বের হন। শেখ মুজিবের মতো ভন্ড আর প্রতারক পৃথিবীর মানুষ কম দেখেছে। তার দল আওয়ামী লীগের ছাত্র উইং ছাত্রলীগ বরাবর আমেরিকার দালাল বলে পরিচিত হলেও ১৯৬৬ তে তারা ভোল পাল্টায়। শেখ মুজিবের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফরিদপুরের ভাষায় মিষ্টি কথা দিয়ে জাতিয়তাবাদী উন্মাদনা সৃষ্টির চেষ্টা সেদিন সফল হয়েছিল। কারণ দেশের ৯৭% মুসলীম সঠিক ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না। তারা বুঝতে পারে নি যে পৃথিবীর যেখানেই থাকুক মুসলমানদের আসল পরিচয় হচ্ছে তারা মুসলমান। আসল পরিচয় বাঙালী হতে গেলে ধর্মের বিষয়ে নিরপেক্ষ হতে হয়। ইসলামে ধর্ম নিরপেক্ষতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। শেখ মুজিব গং সেদিন সুরা কাফিরূনের অপব্যাখ্যা করেছিল। "তোমাদের ধর্ম তোমাদের কাছে, আমাদের ধর্ম আমাদের কাছে" এর মতলব কি? এর মতলব হচ্ছে তুমি তোমার ধর্মের পক্ষে, আমি আমার ধর্মের পক্ষে। এখানে নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই। (এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ শ্রদ্ধেয় মওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ওয়াজ শুনুন) আল্লাহর দুনিয়ায় কোন কিছুই নিরপেক্ষ নয়। কিন্তু ইসলামী জ্ঞানের অভাবে সেদিন জাতীয়তাবাদী মদেমত্ত মানুষেরা বোঝেনি। এই মদের ঘোরেই এদেশের মানুষ করে বসে এক ভয়ঙ্কর ভুল। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগকে একচেটিয়া জিতিয়ে দেয়। তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল পাকিস্তানে শান্তি আনতে। কিন্তু ভারতের সেবাদাস আওয়ামী লীগ আর নাস্তিক চক্র এই ম্যান্ডেট কে কাজে লাগায় দ্বিজাতিতত্ত্বের অর্জনকে বিকলাঙ্গ করতে।
এই ষড়যন্ত্রকে সেদিন সবচাইতে ভালো বুঝেছিলেন মওলানা আবুল আলা মওদুদী (র
খতমের মতো সিদ্ধান্ত নেয়। যারা পুরো ৯ মাস ঢাকা শহরে চুপচাপ ঘাপটি মেরে বসেছিলেন সেই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের থিংক ট্যাংকরা পরবর্তী বাঙালী জাতিয়তাবাদের দেশে মুসলীম জাহান আর ইসলামী মূল্যবোধের আরও অনেক বড় ক্ষতি করবে এই অনুমান ছিল আল বদর বাহিনির সেই সিদ্ধান্তের পেছনে। তাঁদের সেই অনুমান কতটা সঠিক ছিল তা আজকের বাংলাদেশকে এক নজর দেখলেই বোঝা যাবে। সেটা একটা যুদ্ধাবস্থা ছিল এবং ১৯৭১ এর ১৩/১৪ ডিসেম্বরে নিহতদের সেই যুদ্ধে একটা পক্ষ ছিল। তারা নিরপেক্ষ বা সিভিল ছিলেন না। সুতরাং সেদিন যা ঘটেছে সবই যুদ্ধের অংশ। তারা যুদ্ধাপরাধী নন। বদর বাহিনি দেশপ্রেমিক ছিলেন না। তারা ছিলেন মুজাহিদ। তারা লড়েছেন ইসলামের জন্য। ভূগোলের সংকীর্ণতা তাদের ছিল না। তাদের মূল্য লোকে একদিন বুঝবে। এদেশের লিখিত ইতিহাসে তাদের স্থান হবে তীতুমীর, হাজী শরিয়তুল্লাহ্দের পাশে।
এদেশ আর পাকিস্থান হবে না। সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে আসুন সবাই ইসলামী মূল্যবোধে দীক্ষিত হই। প্রতিবেশীর হক আদায় করি। তার হেদায়েত করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

