আজ সকালে আরেকটি একই রকম অসুস্থতার ঘটনা মন কে বিষন্ন করে দিল । গতকাল বৃহস্পতিবার শিশু একাডেমী মিলনায়তনে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা ২০০৯ এর পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছিল ।
দীর্ঘলম্ফে প্রথম পুরস্কার পেয়েছিল গাইবান্ধার রাবেয়া সুলতানা। লাল টুকটুকে জামা পরে বিজয়ী রাবেয়া সুলতানা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছ থেকে যখন সনদ আর মেডেল নিয়ে মাথা নামিয়ে চলে যাচ্ছিল তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত ধরে ছবি তুলতে যাবার সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে রাবেয়া। আনন্দাশ্রু ভেবে ভুল করেছিল সবাই। কিন্তু করতালি থেমে যাবার পরও সে ক্রমাগত কাঁদছিল । এক সময় সবাই জানতে পারলেন শিশু রাবেয়ার পিতা অর্থাভাবে চিকিত্সাহীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে । মঞ্চ থেকে নামার পর রাবেয়া শুধু বলছিল, ‘বাবা বাঁচবেন না। মেডেল দিয়ে কী করব?’
গাইবান্ধার তুলসীঘাটের রাবেয়া সুলতানার স্কুলশিক্ষক আব্দুর রাজ্বাক জানিয়েছিলেন দুই ভাই আর দুই বোনের সংসারে রাবেয়া কনিষ্ঠতম। রোজগারের কেউ না থাকায় আত্মীয়স্বজন যে এক-দুই শ টাকা দেয়, সেটা দিয়েই খেয়ে না-খেয়ে দিন চলে যায়।
তারপরও জাতীয় ক্রীড়াপ্রতিযোগিতায় লং জাম্পে রাবেয়া প্রথম হয় সে তার প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তির জোরে। এরপর সাংবাদিকেরা জানতে চেয়েছিল সে সামনে কি খেলাটা চালিয়ে যেতে চায় কিনা । নিষ্পাপ শিশু রাবেয়া অকপট জবাব দিয়েছিল, ‘মেডেলটা আগে বিক্রি করব।’ ‘বাবার দুইটা কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। টাকা লাগবে অনেক।’
অনুষ্ঠান শেষে একদিকে সারা দেশ থেকে আসা পুরস্কৃত শিশুরা যখন অভিভাবকদের সঙ্গে আনন্দরত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মশগুল, রাবেয়া অসুস্থ বাবার জন্য অঝোরে কেঁদে চলছিল। পুরস্কারের মেডেলটা হয়তো সত্যিই বিক্রি করতে হবে রাবেয়াকে? কিন্তু কত টাকা পাবে?
রাবেয়ার বাবাকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাটা দিয়ে দিচ্ছি যদি কেউ সাহায্য পাঠাতে চান । হিসাব নম্বর ৯০৮৪, ইসলামী ব্যাংক, গাইবান্ধা শাখা [প্রথম আলো : Click This Link ]
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


