somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ডয়েশে ভেলের ব্লগ যাচাই - এমন ভোটের মানে কি? - ২
প্রথমত: টুইটার জিনিসটাই অসহ্য। এটার রেজিস্ট্রেশনের কোন মা বাবা নাই। কেন যে একে অন্য সাইট এত বিশ্বাস করে? কিছু দিন আগে ডিসপোজেবল ইমেইল দিতো অনেক সাইট। ১০ মিনিট পরে ইমেইল নাই হয়ে যাবে। সেসব দিয়ে টুইটারে লক্ষ জাংক একাউন্ট তৈরী হয়েছে। যেগুলো দিয়ে ব্যক্তিপ্রচার থেকে পর্ণগ্রাফি সব কিছুরই প্রচার চলে। অবশ্য সমস্ত সাইট ডিসপোজেবল ইমেইল বন্ধ করে দিয়েছে। টুইটার চাপে পড়ে বন্ধ করলেও এর রেজিস্ট্রেশনে অলমোস্ট কিছুই লাগে না।

গতকাল টুইটারে রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে একটা আবিষ্কার করলাম। টুইটারের মত বড় সাইট খেয়াল করে নি যে জিমেইলে + চিহ্ন দিয়ে একটা পদ্ধতি আছে । @ চিহ্নের আগে + চিহ্ন দিয়ে যাই ইচ্ছা লিখলে জিমেইল সেই অংশটা ইগনোর করে। ফলে যে কেউ এই সুবিধায় হাজার হাজারও এড্রেস বানাতে পারবে, সবাই টুইটারের ফলোআপ ইমেইল পাবে । ভৈরিফাই করতে মেইল দিলে সেটাও পার হয়ে যাবে। উদাহরণ দেই

নামে একটা একাউন্ট খুললাম একটু আগে। এখন নিচের ইমেইলগুলো দেখুন

banglatest2011+
banglatest2011+
banglatest2011+
banglatest2011+

সব আসলে যাবে

টুইটারের উচিত ছিল সেই চেকটা দেয়। দেয় নাই। সো যাস্ট + দিয়ে দিয়ে যত খুশি একাউন্ট খুলুন। এখন আমি দেখলাম ২০ সেকেণ্ডের মধ্যে ৫ টা টুইটার একাউনট খুলে ফেলা সম্ভব।



যারা এখনো ইমন জুবায়েরের জন্য ভোট দিতে যাবেন। মনে রাখবেন ভণ্ডদের দেশে সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না। অযথা ২৪ ঘন্টা বসে না থেকে এরকম লক্ষটা টুইটার একাউন্ট বানান। আর একবার ভোট দেবার জন্য লগ আউট করে আবার ভিন্ন একাউন্টে লগইন করুন। উদাহরণ দেবার জন্য একই জিমেইলে ৫ টা টুইটার বানালাম।


আর প্যারালেল অনেকগুলো ভোট দেবার জন্য বারবার টুইটারে লগইন লগআউটে না গিয়ে ফ্লক, ক্রোম, সাফারি সহ একাধিক ব্রাউজার ব্যবহার করুন। পুরো পদ্ধতিতে হাজারও হাজারও ভোট দেয়া যাবে। আমি শিওর ঘরে ঘরে ভাগ্নেদের কিটক্যাট খাওয়ার বিনিয়মে এই কাজটি করালে অখ্যাত ব্লগও সেরা ব্লগে গৌরবে ভূষিত হতে পারে।

অফ টপিক: এখন আমি দেখলাম লগইন করতে টুইটারে ইমেইল ভেরিফিকেশনও লাগে না। বাহ! কেয়া মজা। মারো গণ্ডার লুটো ভাণ্ডার।

প্রুফ অফ কনসেপ্টের জন্য এটা টাইপ করতে করতে ৫ টা ভোট দেয়া হল আর টুইটে সাক্ষী রেখে দিলাম।
http://twitter.com/#!/banglavote1
http://twitter.com/#!/banglavote2
http://twitter.com/#!/banglavote3
http://twitter.com/#!/banglavote4
http://twitter.com/#!/banglavote5

@প্রতি ডয়েশে ভেল, আপনাদের সিস্টেমের দুর্বলতা প্রমাণ করার জন্য এটি যথেষ্ট। যদি ন্যুনতম লজ্জাবোধ থাকে তো এখনকার কনটেষ্টটি বাতিল করুন। তারপর সিস্টেম ঠিক করে তারপর আবারও প্রতিযোগিতায় আসুন। এই ঢাকাতেই অনেক ভাল কোম্পানী পাবেন যারা কয় রাত কাজ করে এখনকার সাইটের চেয়ে অনেক ভাল জিনিস দিতে পারবে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/29355888 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/29355888 2011-04-03 00:07:27
ডয়েশে ভেলের ব্লগ যাচাই - এমন ভোটের মানে কি?

সেরা ব্লগ যাচাই করতে পরিচিত বন্ধুদের বললাম। ইমন জুবায়েরের লেখার পাঠক বলে ফেসবুকেও ছড়ানোর কথাও মাথায় আসল।

প্রথম দিন ভোট দিতে গিয়ে প্রশ্ন জাগলো এটা কেমন সিস্টেম যে ফেসবুক টুইটার লাগে? নিজেদের সার্ভারে একটা রেজিস্ট্রেশন ডেটাবেজ বসানো কি এতই কঠিন? এরকম ভোটিং এ তাও লাগে না। আইপি দিয়ে মানুষ ট্র্যাক করলেই হয়।

জানলাম প্রতিদিন ভোট দিতে হবে। প্রতিদিন ভোট দেয়া তো সবার পক্ষে সম্ভব না। কেন দিতে হবে আমি বুঝি নি? ঘরে খেয়ে বসে থাকা ছাড়া কার এত সময় প্রতিদিন এটা করা। তবুও প্রতিদিন এত ব্লগারের ভোট সত্ত্বেও কেন আগাচ্ছে না।

আর আজকে একজন ইমেইল করল ডয়েশে ভেলের সিস্টেম নাকি যা তা। এটা বাগে ভর্তি। প্রথম কয়েকদিন ভোট দেবার পর জাভাস্ক্রীপ্ট মেরে ভোট বাটন ডিজেবল করা ছিল। অনেকেই ফায়ারবাগ টুল দিয়ে বাটন এনাবল করে দুটো ভোট দিয়েছে। শুনলাম পরশু এরা ফিক্স করেছে ক। অর্থাৎ এখন যদি কেউ চালাকি করে দুবার ভোট দিতে চায় কেউ বলবে ২৪ ঘন্টা এরর।

কিন্তু বজ্রআঁটুনি ফস্কা গেরো। নিশ্চিত হলাম ফায়ারফক্সের টেম্পার ডেটা নামে প্লাগইন লোড করে চাইলে অন্য ক্যাটেগরীর কারো ভোট দেবার নাম করে ভোট দেয়া যায়। ধরেন চাইনিজ ব্লগের একজনকে ভোট দিলেন। ওয়েবে এই ভোটটা যাবে ক্যাটেগরী আর ব্লগার আইডি - এরকম সংখ্যায়। উদাহরণস্বরূপ চাইনিজ ক্যাটেগরী আইডি ১৩। আর যে ব্লগ নির্বাচন করলেন সেটার আইডি ৩৯৯।

এখন টেম্পার ডেটা ভ্যারিয়েবল সার্ভারে পোস্ট করার আগে একটা ফর্ম দিবে। যেখানে ইচ্ছামত জিনিস বদলাতে পারবেন। এখন আপনি যদি ক্যাটেগরী ১৪ করেন(বাংলা) আর ব্লগার আইডি ৫৫৯ করেন(ইমন জুবায়ের) তা হলে ঠিকই ভোটটা ইমনজুবায়ের পাবে। এভাবে যেমন খুশী ভোট দিতে থাকলে এদের মানা নেই। এরর মেসেজও নেই।

বড় করে দেখতে ক্লিক করুন

এখন এটা দিয়ে ঘন্টাখানেক আগে দেখলাম ভালই কাজ করে। আর সঙ্গে সঙ্গে মনে হল ইমন জুবায়েরকে কিছু ভোট দেই। কিন্তু পরক্ষণেই খেয়াল হল আমরা লেট লতিফ। এরকম সোজা হ্যাকিং বহু আগেই অন্যরা ঠিকই জানে। আর এরই মধ্যে বহু জাল ভোট ঢুকে গেছে। নয়তো সামুর মতো ব্লগের সমর্থন পেয়েও মাত্র ২০ ভাগ ভোট পেতে নাভীশ্বাস। কম্পিউটারের দুনিয়ায় টুলের তো অভাব নাই। অন্য আরেক ব্লগারের পক্ষে কেউ হয়তো দিন রাত বট বসিয়ে রেখেছে।

আরেকটা কাণ্ড এই গাঁজাখুড়ি ভোটিং এ। যদি কেউ এরকম আটোমেটিক ভোটিং এর জিনিস বসায়ে রাখে তাহলে সার্ভার এমন বিজি হবে যে সুস্থ্য পদ্ধতিতে ভোটও দেয়া যাবে না।

কে জানে এই পোস্ট পাবার পরে ডয়েশ ভেলের প্রোগ্রামারদের মাথা ঠিক হবে কিনা। বাগ আছে বলে অস্বীকারও করতে পারে। কিন্তু যে সিস্টেমে এত গণ্ডগোল তার নিশ্চয়ই এমন প্রতিযোগিতা করার অধিকার নাই। আর তাতে যে অগ্রহনযোগ্য ফলাফল তা কি ইমন জুবায়ের ভাইয়ের মতো ব্লগার আর তার সমর্থকদের অপমান না?

আপডেট: স্ক্রিনশটে বাংলা ক্যাটেগরীর মান ১৪ র জায়গায় ১২ লেখা ।হয়েছে ভুল করে। মন্তব্যকারীদের আগাম ধন্যবাদ। আর সামহোয়ারইন কি পারে না ইমন জুবায়েরকে নিজেরাই বিশেষ সম্মাননা জাতীয় কিছু দিতে। টুইটারে যেমন খ্যাতিমানদের খাতির করে। উনার ব্লগে একটা ইউনিক ব্যাজ দেয়া হোক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/29355515 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/29355515 2011-04-02 12:59:05
অণু কবিতা: হিরোশিমা
একটি মৃত্যু সমান কতগুলো মোম?
অবুঝের হিরোশিমা কত বর্গ বোম?

জানুয়ারী ১, ২০১১
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/29306096 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/29306096 2011-01-12 03:50:09
ড. ইউনুসের পোভার্টি মিউজিয়াম
অতিথিরা এয়ারপোর্টেই মুগ্ধ হলেন। সাদা শাড়ী পরা বিধবা নারীরা হাত নাড়ছে। ইউনুস সাহেব নিজেও এসেছে। মনটা সামান্য খারাপ। ক্লিন্টন শেষ মুহুর্তে সফর বাতিল করেছে। অথচ তার মেয়ে পুওর পুওর বলতে অজ্ঞান ছিল। ইউনুসকে ঘিরে সিতারা বেগম, মুক্তার মিয়া সহ গ্রামবাসী গিজগিজ করছে।

অতিথিরা মিউজিয়ামের বাইরে গরীবদের দেখতে পেলেন। একজন সাদা গেঞ্জী লুঙ্গী পরা মাঝি স্বাগত জানিয়ে বললেন, আল্লাহ আমগো যে কপাল দিসে আপনেগো তো দেয় নাই
:ঠিক বলেছ মাঝি, চাইলেই গরীব হওয়া যায় না। কী কি আছে দেখার? মাঝির দিকে স্যাটেলাইট ক্যামেরা দেখে বিরক্ত হয়ে ইউনুস বললো, কাদের তুমি নৌকায় ফেরত যাও। তিনি ব্যাখ্যা করে বললেন, আমরা প্রায় চলে এসেছি। এখনো তো পাইলট প্ল্যান্ট। সামনেই দেখবেন জয়নুলের দুর্ভিক্ষের ছবি টাঙানো। উপরে লেখা দা পোভার্টি মিউজিয়াম।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোলিক খুব আনন্দিত। তার পাঁচ বছরের মেয়ে জেসি ছোটখাটো জলহস্তী। চীজ ,ফ্রাই হ্যাম, চকলেট খেয়ে শরীরে তিনশত পাউন্ড চর্বি। ডাক্তার বলেছে বায়ু পরিবর্তন দরকার। ওয়ালমার্টের স্যাম দুর থেকেই দেখছিল জায়গাটা আর ভাবছিল এখানে একটা সুপারস্টোর হলে মন্দ হতো না। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চড়া বেতনে কিউরেটর হয়েছে। তার সঙ্গে এগিয়ে যেতে নিয়নে লেখাটা চোখে পড়লো - হে দারিদ্র তুমি মোরে করেছ মহান তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান।

কিউরেটরের হাতে মিউজিয়াম পরিচিতি। তিনি সংক্ষেপে বললেন, প্রথমেই আপনারা যাবেন সুসজ্জিত কুড়েঘরগুলোতে। কৃষকদের মধ্যে গরীব পাবেন কয়েক ধরনের। না বুজতে পারলে ওদের জিজ্ঞেস করবেন।

বয়স অনুয়ায়ী তারা সাজানো। ওরা দু বেলা ভাত খায়, গুড়া মাছ খায়। মাসিক উপার্জন পনেরো ডলার করে। সে দিয়ে চারটি সন্তান সহ খেয়ে বেঁচে থাকে। ম্যাকডোনাল্ডের সিইও হা করে বললো, এতো খুব আশ্চর্যের। আমার বিগম্যাকের একবেলা মিলের চেয়ে সস্তা। ইউনুসের সঙ্গীটি বললেন,
হ্যা, ঐ দেখুন, জাল শুকাচ্ছে যেসব জেলে তাদের যেমন কোন জামা লাগেনা। ঐ একটুকরো কাপড় কাছা দিয়ে সারাদিন কাজ করে। তাদের স্ত্রীরা গ্রামীন চেকের শাড়ী পরে। রাতে ঘুমুবার জন্য পুরনো শাড়ীকে সেলাই করে গায়ে দেয়।

কিন্তু জনাব ইউনুস, গরীবরা তো যুদ্ধ করে স্বচ্ছল হতে চায়। কী করে গরীব থাকতে সাহায্য করলেন?
সেটা বুঝতে হলে আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট এবং সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা লাগবে। ঐ যে দেখুন অসুস্থ কলিম শেখ, শীতের রোদে থর থর করে কাঁপছে। নদীর পারে তার বাড়ি ছিল। ভাঙনে সব হারিয়ে সে কিছুই খেতে পেত না।

তার অভাব দেখে ক্ষুদ্র ঋণের জন্য নির্বাচিত হলো। আমরা চব্বিশ শতাংশ সুদে লোন দিলাম। শর্ত ছিল একটা মোবাইল কিনে কথার ব্যবসা করবে। কিন্তু আগেই জেনেছি গরীবরা মিথ্যেবাদী। ওরা শুধু ক্ষুধা মিটায়। কলিম অনেকদিন ভাল খায়নি। সে শেখফরিদ হোটেলে গিয়ে পাঙ্গাস মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়ে সব পয়সা শেষ করেছে। এখন ভিক্ষে করে সুদের টাকা দিতে হবে তার। আর নিশ্চিত ভাবে সে গরীব থাকবে।

স্যাম বললো, ইন্টারেস্টিং আমরা অবশ্য খুব কম দামে কাজ করাই মার্কিনীদের । একটা বেল্ট থাকে - কনভেয়ার বেল্ট। ক্রমাগত খদ্দেরদের জিনিস পত্র সেই বেল্ট দিয়ে আসে। ঘন্টা মেপে পয়সা দেই। বসে থাকতে দেই না। তোমাদের গার্মেন্টসগুলোও আমার বুদ্ধিতে মেয়েদের কাজ করাচ্ছে।

জোলিক এসেছে গরীবদের সহায়তা কর্মসূচী দিয়ে। সে বললো, তা সব দেশেই দরিদ্র মানুষরা ধনী হতে চায়। তখন কি তাদের মিউজিয়ামে রাখেন? ইউনুস হাসছিল। বললো, না, রাখিনা। দেশে মসজিদ হয়েছে। সেখানে মৌলভীরা বুঝিয়ে দিয়েছে, এটা আল্লাহর পরীক্ষা। অনেক গরীবদের জামা নেই কিন্তু টুপি আছে। আপনারা যেমন চার্চটাকে কায়দা করে বিজনেসে ঢুকিয়েছেন। আমরাও চাইছি।

সারাদিন পরিপাটি সাজানো মিউজিয়ামে চাষা, মজুর, ভিক্ষুক দেখে সবাই খুব প্রীত হলেন। ইউনুসের প্রশংসা হলো। কংকাল সার মানুষগুলো শুইয়ে রাখা ছিল ফুটপাথে। কেউ সুর করে গোঙাচ্ছিল। জোলিকের মেয়ে তাদের জন্য খুচরো পয়সা ছুড়ে দিয়ে খুব খুশী ছিল।

ভ্রমন শেষে দোচালা ঘরে টক পান্তা ভাত এবং শক্তি দইয়ের আয়োজনে সব মুগ্ধ। চেপা মাছও খেলেন তারা। গরীবদের খাবারের রেসিপি টুকে নিলেন তাদের স্ত্রীরা। মর্জিনা নামের এক কাজের মেয়ে রান্না পরিবেশন করছিল। আরব বাদশাহ আবদুল্লাহ টিপস দিতে মর্জিনাকে ডাকলেন। ছুতো করে ছেঁড়া জামার ভেতর কিশোরীটির তুলতুলে পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন, আমি এরকম গরীব মেয়েদের আমাদের দেশে কাজ দিতে চাই।

ফেরার সময় নোবেল বিজয়ী বললেন, প্রকল্প সবে শুরু হয়েছে। তার স্বপ্ন পুরো দেশটি একদিন মিউজিয়াম হবে। রাজনৈতিক দলগুলো তার সঙ্গে অনেক আগে থেকে একমত। তবুও তার জন্য অনেক কাজ বাকি। বিশ্বের ধনপতিদের সহায়তা ছাড়া তা সম্ভব নয়। ড. ইউনুসের দাদা খুব দরিদ্র ছিলেন। তার নামে দরিদ্রশ্রেষ্ঠ পদক চালু হবে খুব শিগগির।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/29267355 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/29267355 2010-11-05 22:48:43
এককোষী প্রাণী ও নিউরনের দর্পণ

একটা এককোষী অ্যামিবাকে অণুবীক্ষণে দেখলে বেশ অবাক লাগে। এককোষী প্রাণী অথচ এমন ভাবে চলবে যেন সে খুব বোঝে। তাপমাত্রা একটু বাড়ালে ছুটতে থাকবে অন্যদিকে।চোখ নেই কিন্তু আলো বুঝবে। খাবার রেখে দিলে দু'পাশ দিয়ে ঘিরে ধরে খেয়ে ফেলবে। প্রাণীটার দু:খ হতে পারতো মাথা নেই বলে। কিন্তু মগজের অভাব বোঝার মতো মগজ তার নেই। ঝুট ঝামেলাও নেই। বিয়ে সাদী ছাড়া নিজেকে দু ভাগ করে বংশবৃদ্ধি করে। কিন্তু প্রশ্নটা গোড়াতে। এই যে প্রাণীর জীবনের একান্ত ইচ্ছে খাবে, সুবিধার জায়গায় যাবে আর বংশ বৃদ্ধি করবে এটা কেন হলো? এখন পর্যন্ত জীবজগতে ঐ নিজের স্বার্থটাই লেখা থাকে কোষের ভিতর।

অ্যামিবা অথবা নিচুশ্রেণীর প্রাণীগুলো ক্যালকুলেটরের মতো মনে হয়। বুদ্ধি আছে কিন্তু সব যুক্তি অনুযায়ী। খাওয়া পেয়েছ তো খাও। খাবার জমেছে তো বংশ বাড়াও। শীত বা গরম পেয়েছে তো পালাও। সব একলা চলো নীতি। অন্য অ্যামিব বলবে না - ভাই, টেবিলে ঠান্ডা জাউ জুড়ুচ্ছে, চলে দুজন মিলে খেয়ে আসি।

এসব বুদ্ধি দিয়ে জটিল পৃথিবীতে টিকে থাকা সহজ না। ধরা যাক চুলা ধরাচ্ছে গৃহিনী। এককোষী যদি জানতো চুলার নব ঘুরানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুন জ্বলে। সেই আগুনে তার মা মারা গেছে। তাহলে সে দেখেই সাবধান হতো। কিন্তু এদের বুদ্ধির দৌড় সে পর্যন্তই। বুদ্ধি নেই বলেই তাদের বাচ্চা কাচ্চা হয় মিলিয়ন মিলিয়ন। মরে বেঁচে টিকে থাকে অল্প কয়টা। এর মধ্যে অবশ্য অধিকাংশ ভাইবোনই খাবারের প্রতিযোগিতায় গিয়ে অক্কা পায়। আনাড়ি ডিজাইনারের মতো প্রথম দিকের জীবনগুলোর মধ্যে অপচয় ছিল অনেক বেশী।

মগজের গড়নের বর্ণনা অনেক বইপুস্তকে আছে। তবে টিভির ব্যবহার জানতে ইলেক্ট্রনিক্স না জানলেও চলে। মগজ খাটিয়ে কী কী করা যায় সেটা মগজ যার আছে ভালই জানে।

ভবিষ্যতে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সময় শিশুর মাথায় লাইব্রেরীর সফটকপি লোড করে বাড়ি ফিরবে। কথা ফোটার আগেই সব শিক্ষিত হবে। এখন পর্যন্ত এসব কল্পকাহিনী। শিশুরা খালি একটা মাথা নিয়ে জন্মায়। খিদে পেলে ট্যাঁ ট্যাঁ কাঁদে আর ঘুম যায়। যেন সেই অ্যামিবার মতো। খাদ্যগ্রহণ এবং কষ্ট পেলে কি করবে এর বাইরে কিছু জানা নেই। শিশুরা কয়েক মাস বেশ বোকা থাকে (তাদের বাবা মায়েরা অবশ্য ক্ষেপে যাবে)। তারপর তারা কথা বলতে শিখে যায়। শিখে যায় কোলে উঠতে, হাঁটতে এমন কি চকলেটের জন্য বায়না ধরতে । কী করে এই শেখাটা ঘটে?

২৮৬ কম্পিউটারের যুগ থেকে হৈচৈ চলছে মস্তিস্কের বিকল্প পাওয়া গিয়েছে। কম্পিউটারের বিজ্ঞানীদের কথা আর কি বলবো। বড় বড় সংখ্যা গুণভাগ করে ফলাফল চুম্বকের ডিস্কে সঞ্চয় করার দিন থেকে গায়ে ফুঁ দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মনে পড়ে যেদিন আইবিএমএর ডিপব্লু নামের দুনিয়ার সমান কম্পিউটার ক্যাসপারভ কে দাবায় হারালো - কী সে উষ্মা, যন্ত্রের বিজয়! অথচ এখন পর্যন্ত যা পারে সেটা হলো সরলতম কাজ।

এটা অবশ্য ঠিক মস্তিষ্কের ডানপাশের অংশটা কম্পিউটারের সঙ্গে খুব মিল। জায়গাটা যেন যোগবিয়োগ, গুণভাগ আর যুক্তির মারপ্যাচের দোকান। মাউস, কীবোর্ড যেভাবে ইউএসবি পোর্টে যুক্ত মস্তিষ্ক যুক্ত আছে ত্বক, চোখ, নাকের মতো সেন্সরগুলোর সঙ্গে। কম্পিউটার কি নেটওয়ার্কের অন্য কম্পিউটারের কষ্ট বোঝে? অন্যগুলোর হাত মুখ নড়ানো দেখে হাসে কাঁদে, দলবেধে বিদ্রোহ করে? প্রতিবেশী কম্পিউটার হ্যাং হলে সে তো তার ডিস্কে তো ইউটিউবের ছবি লোড করতেই থাকে। মানুষের পার্থক্যটা সেখানেই (অমানুষগুলো ছাড়া)

অন্য ভাবে বললে, মানুষের অন্তরে সহমর্মিতা আছে যেটা কম্পিউটারে নেই (ভাগ্যিস কম্পিউটার হুজুগে চলে না, আর পরীক্ষার ফলাফল গুনতে ভেউ ভেউ কেঁদে দেয় না)। একটা জিনিস কি দেখেছেন? ফুটবল খেলা দেখতে বসলে যখনই গোলে কিক হয়, নিজের অজান্তে পা উঠে যায়। নাটকে কেউ চা খেতে থাকলে তৃষ্ণা জাগে। যখন মাধুরী কাঁদতো, মনে পড়ে বড় আপাও ঝর ঝর করে কাঁদতো। আর ৩ বছরের ভাতিজিটা শাহরুখ খানের নাচকে এমনভাবে অনুকরণ করে যে অবাক লাগে। শৈশব থেকে অন্যদের দেখে শিখেই বড় হই এবং সামাজিক হই। আর এটা অফিসে আদালতে, বাসায়, আড্ডায় চলতেই থাকে। বাংলায় হুজুগ বলে একটা কথা আছে। দুজন মিছিলে আগুন জ্বালো বলতেই, শরীরের ভেতর রক্ত খেলে যায়। এই হুজুগটা কোথা থেকে আসে?

এই বিষয়টি যখন বিজ্ঞানীদের খুব ভাবাচ্ছে তখনই একটা ঘটনা নজরে আসে। বলাবাহুল্য মস্তিস্ক নিয়ে গবেষণা খুব ধীরগতির এবং সহজ নয়। চাইলেই কারো মগজ কেটে ল্যাবে ইলেক্ট্রিক মিটার ধরে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা সম্ভব না । মাথায় নানান যন্ত্রপাতি বসিয়ে ভিতরের রক্তচলাচল বৃদ্ধি মাপা অথবা মস্তিস্কের তরঙ্গ মেপে এসব জানতে হয়। এফ-এমআরআই এমন একটা পদ্ধতি। চাঁদের পাহাড়ের নামকরণের মতো, মানুষের মাথার ভিতরের প্যাচগুলোর দাঁত ভাঙা নাম দেয়া হয়ে গেছে। মস্তিষ্কের ছোট ছোট একক অংশকে বলা হয় নিউরন। ১০০ বিলিয়ন নিউরন নিয়ে মাথা গঠিত। নিউরনগুলোর কাজ জানতে এখানে ওখানে গবেষণা হচ্ছে। জানা গেছে কিছু নিউরন আছে নাটের গুরু। নাম মোটর নিউরন। এরা কী করে? যখনই হাত ছোড়া দরকার বা হাতে কিছু ধরতে হবে, তখন তারা দ্রুত সক্রিয় হয়ে ইনস্ট্রাকশন দেয়।

ইটালিতে ঘটনাটা ঘটেছিল। । সেখানে ম্যাকাক বানরের মাথায় এমআরআই প্রোব লাগানো হয়েছিল। দেখা গেছে বানরের দিকে কিছু বাড়িয়ে দিলে ঠিক ঠাক মোটর নিউরন উত্তেজিত হয়।

একদিন কাকতালীয় ভাবে দেখা গেল পাশের বানর হাত দিয়ে কিছু করতে থাকলে দর্শক বানরের মোটর নিউরনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ল্যাবে কোন এক বিজ্ঞানী আইসক্রিম নিয়ে ঢুকেছিল। মনিটরে দেখা গেল বিজ্ঞানীর আইসক্রিম খাওয়া দেখে বানরটার মোটর নিউরন এমন উত্তেজিত হলো যেন সে নিজে খাচ্ছে। বিষয়টি এমন অদ্ভুত যে আপনার সামনে অন্যরা যা করে, চুপচাপ বসে থাকলেও মগজে লুকানো ছোট ছোট আয়নায় তার অভিনয় হতে থাকে। কাজের সঙ্গে মিল রেখে নিউরনগুলো নাম দেয়া হয়েছে মিরর নিউরন বা দর্পণ নিউরন।

যখন ম্যারাডোনা খেলছে। আপনি উত্তেজিত হচ্ছেন । কারণ আর আপনার মনের দর্পনে খেলাটা অনুকরণ হচ্ছে। নাটকে কেউ কাঁদছে, আপনার দর্পণ সেই কান্নাটার প্রতিবিম্ব ভিতরে তুলে নিচ্ছে। যে কারণে শিশুর সামনে যখন মাথা নেড়ে গান করা হয় সে দ্রুত শিখে নেয়। পরীক্ষায় নকল ধরতে হেলিকপ্টার ভাড়া করে ছুটে বেড়ালেও - শেখার গোড়ায় নিউরনের কপিপেস্টের খেলা।


অনেক কিছুর উত্তর আসছে এ থেকে। যখন কবি স্মৃতিচারণ করে পাঠকের স্মৃতিতেও এই স্মৃতির বিমূর্ত একটা কপি চলে আসে। যখন সে বিদ্রোহী কবিতা পড়ে নজরুলের বিদ্রোহ তার মধ্যে সঞ্চারিত হয়। উল্লেখ্য অনেক পশুপাখীর মগজ থাকলেও বানর বা এপ ছাড়া অন্য প্রাণীদের দর্পন নিউরন তেমন নেই।



বলা হয়েছে মস্তিস্কে দর্পণ নিউরনের বিবর্তন যেদিন থেকে শুরু সেদিন থেকেই একক ভাবে গড়ে ওঠা প্রাণী সামাজিক হতে শিখেছে।


===========================================
উপরের ছবিটি টেক্সাসে জেনেটিক্যালি ক্লোন করা অ্যামিবার দলের
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/29266927 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/29266927 2010-11-05 00:36:20
ব্লগ ভিত্তিক সামাজিক প্রকল্পের আশ্চর্য অভিজ্ঞতা এবং একাত্তরের চিঠি প্রকল্প রিভার্স প্রকল্প সমাপ্ত করায় অংশগ্রহণ করার আহ্বান
প্রকল্পের শুরু যেভাবে
গ্রামীন ফোন-প্রথম আলোর একাত্তরের চিঠির সফটকপি না পেয়ে ১৫ এপ্রিল, ২০০৯ এ নিজেরা টাইপ করে এর সফটকপি বানানোর জন্য প্রস্তাব করি । সারা পৃথিবীজুড়ে চলছে সোশাল ওয়েবের জয় জয়কার । হাজার হাজার ইন্টারনেট ভিসিটরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াসে তৈরী হয়েছে উইকিপিডিয়া যা এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার কে হার মানিয়ে দিয়েছে । বিন্দু বিন্দু জলে হয় মহা সিন্ধু - এই প্রবাদের প্রমাণ হিসেবে তৈরী হয়েছি টেকনোরাতি বা ডিগে র মত নিউজ সাইট, ফ্লিকারে র মত ছবির পোর্টাল । বাংলা ব্লগারেরা যদি সবাই ১/২ পাতা করে টাইপ করে ফেলি তবে কেন দেড়শো পাতার একটা বই ডিজিটাইজড হয়ে যাবে না?

আমার পক্ষে এতগুলো পৃষ্ঠা টাইপ করা সম্ভব ছিল না বলে ভেবেছিলাম এটি প্রস্তাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়ে যাবে । কিন্তু আমি দেখেছি আমরা বাঙালিরা যতটা ভাবি তার চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ । সে কারণেই একাত্তরে পাকিস্তানী পেশাদার সেনাবাহিনীকে মাত্র নয় মাসেই ঠেকিয়ে দিয়েছিল মজুর -চাষা-ছাত্র-সৈনিকেরা একতাবদ্ধ দল, আর বন্যা-সাইক্লোনে আমাদের ঐক্যবদ্ধ ত্রাণকর্ম বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

প্রকল্পে ব্যাপক সাড়া
পরদিন থেকে ব্লগে একাত্তরের চিঠি ডিজিটাইজ করার বিষয়ে ব্যাপক সাড়া পাই । স্ক্যান করে ফেসবুকে একাত্তরের চিঠির গোটা বিশেক পৃষ্ঠা উঠিয়ে দেয় ব্লগার পথিক । আমি কিছু টাইপ করি । টাইপ করে ব্লগার অরণ্যচারী । এর পর পর নিভৃতচারী ব্লগার পাতলা খান যেটা করে তা রীতিমত অবিশ্বাস্য । সে নতুন টাইপ শুরু করেছে অথচ একটির পর একটি পাতা সে ডিজিটাইজ করে গেছে। অথচ নিজের নামটি সেখানে দেয়ার লোভ দেখিনি । নিজেই আমার দায়িত্বগুলো তার কাঁধে তুলে নিতে থাকে । মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তার আবেগটা আমি ভালবেসে ফেলি।

একাধিক ব্লগার যখন এতে আগ্রহ দেখাচ্ছিল তখন সমস্যা হলো প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে । কারণ একাধিক ব্লগার একই পৃষ্ঠায় ভুলে কাজ করলে শ্রমটাই মাটি । প্রকল জ্বিনের বাদশা যখন কমেন্টে বইয়ের দুটো চিঠি টাইপ করে দিয়েছে তখন টের পেলাম একটা ব্লগে নিয়মতি লিষ্টের আপডেট না দিলে কয়টা চিঠি হলো আর কয়টা চিঠি বাকি তা বোঝা যাচ্ছে না । পুরো বইয়ের স্ক্যানটি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও যাচ্ছিল না ।

পাতলা খান পুরো বইকে স্ক্যান করে ইমেইল করলো আমাকে । সঙ্গে সঙ্গে গুগল ইমেজে চিঠিগুলো তুলে দিলাম । সামহোয়ারইনের পুরনো ব্লগার রুবেল শাহ যোগ দিল এবং অনেকগুলো চিঠি টাইপ সে করেছে । ফা্রুক হাসান নামের আরেক ব্লগারের সঙ্গে পরিচয় এই প্রকল্পে আকাঙ্খা দেখে । টাইপ করা চিঠি পেলাম মাহবুবুল ইসলাম (সুমন) এর কাছ থেকে ।

ব্লগ ভিত্তিক প্রকল্পের ব্যবস্হাপনা
ব্লগে স্ট্যাটাস আপডেট দেয়াটা বিরাট মুশকিলের কাজ । সবাই তার ব্লগে টাইপ করা চিঠি তুলে দিতে থাকলেও কেন্দ্রীয়ভাবে প্রকল্পকে নিয়ন্ত্রন করা না গেলে মুশকিল। আমি নিজেই প্রকল্পের প্রস্তাবনার পাতাটা আপডেট করছিলাম । কিন্তু সমস্যা হলো স্ট্যাটাসের জন্য আমার ওপর নির্ভরশীলতার কারণে যখন কিছুদিনের ব্লগে আসতে পারিনি, স্ট্যাটাস ও জমে গেল । অনলাইনে খুজছিলাম স্প্রেডশিটের মত কিছু যা যে কেউ আপডেট করতে পারে । এডিটগ্রিড ডট কমে সেটা পেলাম এবং তখন থেকেই যে কোন ব্লগার সেখানে তার কাজের আপডেট দিতে পারে ।


কপিরাইট অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত
একাত্তরের চিঠি বইটির ডিজিটাইজ করা বা নিজেরা টাইপ করার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল কপিরাইট। হয়তো একারণেই আমাদের সদস্য রুবেল সামুর কাছে প্রকল্পটি স্টিকি করতে অনুরোধ করলেও কোন সাড়া মেলেনি। গ্রামীন-প্রথম আলো কখনোই নিজ থেকে ইউনিকোড টেক্স্ট উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেয় নি । অতি সম্প্রতি গ্রামীণ ফোনের গ্রাহকদের জন্য ৭১ এর চিঠিগুলো এখন মোবাইল ফোনে ডাউন লোড করতে দেয়া হচ্ছে তবে ৪০ টাকা চার্জ এবং ভ্যাট দিতে হবে । সিনিয়র ব্লগার রাগিব সহ অনেকেই কপিরাইটটি অনৈতিক বলে একে অস্বীকার করতে সমর্থন জানিয়েছেন । কপিরাইট বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের প্রকল্প পাতা দেখুন । উল্লেখ্য টাইপ করা একাত্তরের চিঠির প্রতিটি পাতার টেক্সট কপিরাইট মুক্ত ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং যে কোন ব্লগ এই পৃষ্ঠাগুলো প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে।

প্রকল্প সমাপ্ত করতে আপনার অংশগ্রহণ প্রয়োজন
প্রকল্পে মোন ১৩ পৃষ্ঠা ভুমিকা বাদ দিয়ে ১১৪ পৃষ্ঠার চিঠিকে ৩ টি খন্ডে পিডিএফ/ওপেন অফিস ফর্ম্যাটে সংকলনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছে পাতলা খান । তবে পাতলা খান সম্ভবত: পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়েছে ।

দ্বিতীয় খন্ড এবং তৃতীয় খন্ডের চিঠিগুলোর গোটা তিরিশ পৃষ্ঠা এখনো বাকি । প্রকল্পের লাইভ আপডেট পাবেন এখানে: http://www.editgrid.com/user/torpon/একাত্তরের_চিঠি_কন্টেন্ট_প্রকল্প.html আমি নিজে কম সময় দিতে পারছি বিধায় আমি আশা করবো আপনারা প্রত্যেকে ১ টি পৃষ্ঠা করে (যদি একাধিক পৃষ্ঠা জুড়ে চিঠি থাকে তবে পুরো চিঠিটি) টাইপ করলে ১ দিনের মধ্যে প্রকল্প শেষ হয়ে যায় ।

প্রকল্পে যোগদানের নিয়ম কানুন জানতে একাত্তরের চিঠি রিভার্স প্রকল্পের মুল পাতা দেখুন ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28973808 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28973808 2009-07-05 12:43:14
১৯৭১ এর চিঠি (পৃষ্ঠা নং ৮৭ এবং ৮৮) বাংলাদেশ
২৫/১০/৭১ রাত ১০টা

প্রিয় তৌহিদ,

প্রথমেই বলে নিই যে বাংলাদেশের মুক্ত এলাকা থেকে তোমাকে লিখছি। এখান থেকে ভারতীয় সীমান্ত প্রায় ১৮ মাইল দুরে । আমি মুক্ত ভুমিতে নি:শ্বাস নিচ্ছি, খোদার ইচ্ছায় খুব ভালো লাগছে । এ জায়গাটি মুক্ত হয়েছে দুই সপ্তাহ আগে ।

এখন রাত দশটার কাছাকাছি সময় । একটা কুঁড়েঘরে আমি আমার বিছানায় শুয়ে আছি। মেঝে থেকে দুই ফুট নিচে খোঁড়া গর্তের মধ্যে কাঠের পাটাতনে পাতা বিছানা । বুলেট ও গো্লা থেকে রক্ষার জন্য আমার চারদিকে মাটির দেয়াল । একটা অল্প আলোর কুপি জ্বলছে । আমার "বন্ধু" পাঞ্জাবিরা মাত্র ৬০০ গজ দুরে । কুত্তার বাচ্চাগুলো আজ দিন/রাতে গোলাগুলি করেনি । আমার মনে হচ্ছে যেকোন সময় তারা সেটা শুরু করতে পারে । হয়তো এখনই, তারা সাধারণত এ রকম সময়ে গোলাগুলি করে। গাধাগুলো গতরাতে আমাদের ঘুমাতে দেয়নি। প্রায় ৪০টা গোলা নিক্ষেপ করেও আমাদের উপর ফেলতে পারেনি। লক্ষ্যভেদের কী নমুনা! আমরা আজ ওদের ওপর ৫০ টা গোলা নিক্ষেপ করেছি। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, একটা "কুকুর" মারা গেছে। কী অসামান্য লক্ষ্যভেদ! আসলে এরকম হাস্যকর ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটে। তুমি যদি বাংকারে থাকো তাহলে নিরাপদ থাকবে। হয়তো ভাগ্য খারাপ হলে একটা গোলা এসে তোমার উপর পড়তে পারে । তবে এর সম্ভাবনা খুবই কম।

অনেক দিন পর পুরনো মধুর দিনগুলোর কথা মনে পড়ল বলে তোমাকে লিখতে বসেছি। আমার মনে পড়ছে বন্ধুদের কথা, পরিবারের কথা, সর্বপরি আমার ঢাকা শহরের কথা।

তুমি জানো তৌহিদ এই দিনগুলোতে পুরনোদিনের কথা জানাবার মতো সময় পাইনি। সত্যি সত্যি জানিনা, আবার কখন তোমাকে দেখার সুযোগ পাব । শেষ যেখান থেকে তোমাকে লিখেছি সেখান থেকে এই স্হানের দুরত্ব ১৫০ মাইল।

লন্ডন কেমন? খুব বড় আর জমকালো নিশ্চয়ই। ওদের বুলেট এড়িয়ে যদি বাঁচতে পারি তাহলে তোমার সঙ্গে ওখানে দেখা করব। আমার জন্য সুন্দর একটা জায়গা ঠিক কোরো । করবে?
তুমি কি আমার বাড়িতে চিঠি লিখেছিলে? আরেকটু কষ্ট করো। তাদের বলো, তারা যেন তোমাকে চিঠি লিখে তাদের কুশল জানায় যাতে তুমি আবার সেটা আমাকে জানাতে পার । ছয় মাস চলে গেল, আমি তাদের কোন খবর পাই না।

আমার ঠিকানা
লেফট্যানান্ট আশফাক সামাদ
হেডকোয়ার্টার সেক্টর ৬
প্রযত্নে: পোষ্টমাষ্টার
চ্যাংড়াবান্ধা
জেলা: কুচবিহার
ভারত

বাসায় রুখসানা ও আর সবাই কেমন আছে? তাদের আমার শুভেচ্ছা জানিয়ো। নাজমুলকে আমার শুভেচ্ছা দিয়ো। দ্রুত উত্তর দিয়ো।
ভালবাসা

আসফি
*পূর্ববর্তী ইংরেজি চিঠির অনুবাদ।
(পৃষ্ঠা ৮৪, ৮৫, ৮৬ ইংরেজি চিঠি বিধায় ডিজিটাইজ করা হলো না।)
চিঠি লেখক: মুক্তিযোদ্ধা আশফাক সামাদ
চিঠি প্রাপক: তৌহিদ
সংগ্রহ: মেজর(অব<img src=" style="border:0;" /> কামরুল ইসলাম ভুঁইয়া।

==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
বইটি স্ক্যানের জন্য ব্লগার পথিক!!!!! এবং পাতলা খানের কাছে কৃতজ্ঞ।
একাত্তরের চিঠির অন্যান্য পৃষ্ঠার লিংক পাবেন লাইভ আপডেটের পাতায় ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28964293 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28964293 2009-06-14 01:43:21
১৯৭১ এর চিঠি (পৃষ্ঠা নং ৮৯) ডালু এমএফ
হেডকোয়ার্টার

জনাব মেজর সাহেব

আমার ছালাম নেবেন। পর সমাচার এই যে গত ২৭‌-১০-৭১ বিকেল তিন ঘটিকার সময় একটি পার্টি নিয়ে পেট্রোলে যাই এবং ফরেষ্ট অফিসের সামনে বড় উঁচু একটি পাহাড়ে উঠে অনেক নতুন ও পুরনো বাংকার দেখতে পেলাম। আর ফেফারি এলাকায় একটি পাহাড়ে তাদের ও পি পোষ্ট তৈরী করছে এবং টেলিফোনের তার লাগিয়ে মাটির সঙ্গে ফেলে তৈরী করছে। ওরা সব ঠিক করে যাওয়ার পর আমরা ওই টেলিফোনের তার সন্ধ্যা সাতটায় ৩৩ গজ কেটে আনি এবং ওরা যখন জানতে পারল আমরা ওদের ফোন লাইন কেটে দিয়েছি তখন আমাদের ওপর ওরা ফায়ার দেয় এবং আমরা ১৫০ রাউন্ড গুলি ফায়ার দিই। ষ্টেনগানে ৫০ রাউন্ড ফায়ার দিয়ে ফিরে আসি। খোদার ফজলে আমাদের কোন ক্ষতি হয়নি। আমরা নিরাপদেই ওদের টেলিফোন লাইন নষ্ট করে ৩৩ গজ তার নিয়ে এসেছি এবং ওই তার আপনাদের এখানে পাঠালাম।

ইতি
স্বা: মোহাম্মদ আলী
পানীহান্তা এমএফ ক্যাম্প

সংগ্রহ: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র থেকে।

==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
বইটি স্ক্যানের জন্য ব্লগার পথিক!!!!! এবং পাতলা খানের কাছে কৃতজ্ঞ।
একাত্তরের চিঠির অন্যান্য পৃষ্ঠার লিংক পাবেন লাইভ আপডেটের পাতায় ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28960860 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28960860 2009-06-06 07:41:51
১৯৭১ এর চিঠি (পৃষ্ঠা ৯৯ এবং ১০০) ছোট ভাই

স্নেহাশীষ নিয়ো । থানা সেল গঠন করে সত্বর নাম পাঠাতে হবে। মামাদের নেওয়ার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিইনি। জিনিসপত্র পাঠানো যাবে - ‌কিন্তু সময় সাপেক্ষ। শীতের বস্ত্র কেনার জন্য জনপ্রতি ১০ টাকা করে পাঠালাম । জনসাধারণকে বুঝিয়ে অন্যান্য খরচের ব্যবস্হা করতে হবে । এটা তো তোমরা ভালো করেই বুঝতে পার। আপাতত ৫০ টাকা পাঠালাম। দলীয় বিশ্বাসঘাতকদের শাস্তির ব্যবস্হা করেছে কি না জানিয়ো । হযরত আলী, রহিম আমাদের কাছে আছে । পরে যাবে। বাহককে ৫০ টাকা দিলাম। ব্যবসাসংক্রান্ত ব্যাপারে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার ২৪ দিনের পরবর্তী সাত দিনের কাজ আরম্ভ করবে এবং খবর জানাবে। নতুন সংকেত দিলাম। এগুলো ব্যবহার করেই চিঠি দিয়ো ।

ইতি
বড় ভাই
---------------------------------------------------------------------------
সংগ্রহে: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র থেকে।

=========================================
পৃষ্ঠা ১০০

১৭.১১.৭১
লেফটেন্যান্ট রফিক
(১) দুই‌‌-এক দিনের জন্য ভাঙাবাড়ীর ৮৯ এমএম মর্টার দিয়ে কাজ চালাও; আর বাইরেরটা সম্ভব হলে ওয়েল্ড করে নাও, না হলে এখানে পাঠিয়ে দাও । ভাঙাবাড়ীর দিকে একজন এমএফসি ও কাইসাবাড়ীতে একজন এফএফসি রাখতে পার। জিরোআরজে‌-২০(জাপানি সেট) সেটটা পাঠিয়ে দিয়ো আজকেই।
(২) ঐ দিনের প্লানিংটা এক দিনের(২৪ ঘন্টা) জন্য পিছিয়ে গিয়েছে।

এম জাহাঙ্গীর
‌‌‌‌‌‌‌‌--------------------------------------------------------------------------
৭ নয় সেক্টরের ভোলাহাট সাবসেক্টরের কমান্ডার সেকেন্ড লে. (পরে মেজর) রফিকুল ইসলামকে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়ে ১৭ নভেম্বর এই চিঠিটি লেখেন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে নবাবগঞ্জ থানা মুক্ত করতে গিয়ে শহীদ হন তিনি। চিঠি ২৬ মার্চ ২০০৫ তারিখে প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছিল।
সংগ্রহ: মেজর(অব: ) রফিকুল ইসলাম পিএসসি-র কাছ থেকে।

==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
বইটি স্ক্যানের জন্য ব্লগার পথিক!!!!! এবং পাতলা খানের কাছে কৃতজ্ঞ।
একাত্তরের চিঠির অন্যান্য পৃষ্ঠার লিংক পাবেন লাইভ আপডেটের পাতায় ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28957313 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28957313 2009-05-29 09:07:48
১৯৭১ এর চিঠি (পৃষ্ঠা ৯৭ এবং ৯৮) বাইখোরা, ত্রিপুরা
বেইস ক্যাম্প

Abdul Quayum Mukul
Patan, Gangarampur
West Dinajpur

প্রিয় মুকুল,

একটা বিরাট ট্র্যাজেডি ঘটে গেছে। যন্ত্রণায়, ক্লান্তিতে কাতর হয়ে আছি। আমাদের প্রিয় আজাদ শহীদ হয়েছে, সাতজন কমরেডের সাথে । অ্যামবুশে পড়ে, হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সামনাসামনি যুদ্ধ করতে করতে তারা শহীদ হয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার বেতিয়ার গ্রামের কাছে এই যুদ্ধ হয়েছে। আমাদের গেরিলারা ফায়ার করতে করতে ব্যাক করে আসার চেষ্টা করে। ৪০ জনের মতো যোদ্ধা গেরিলা দলে ছিল। একজন সিভিলিয়ান গাইড আর আজাদসহ মোট ছয়জন গেরিলা যোদ্ধা ‌- এই মোট সাতজন শহীদ হয়েছে। ১০-১২ জন কিছুটা বেশী আর অন্যরা সামান্য আহত হয়েছে। সকলের জন্য, বিশেষত: আজাদের জন্য আমার মত কেমন করছে, তা অনুমান করতে পারছ নিশ্চয়ই। তোমার মনের অবস্হা এই খবর জেনে কেমন হবে, সেটাও আমি বুঝতে পারছি। আজাদ সম্পর্কে কত কথা তো মাত্র সাত দিন আগেই হয়েছিল কলকাতায়। ছয়-সাত মাস পরে তোমার সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা উপলক্ষে কলকাতায় দেখা হলো । আমি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করছি। রণাঙ্গন থেকে দুই দিনের জন্য কলকাতায়। ফিরে গিয়ে আজাদকে তোমার কোন গল্প শোনাতে হবে, তা দুজনে মিলে ঠিক করছিলাম। মনে আছে নিশ্চয়ই। আর আগরতলা ফিরেই রাত শেষে ভোরের সংবাদ - আজাদ এবং আরও কয়েকজন কমরেড আর নেই। বড় বিপর্যয় হয়ে গেছে। এসব ঘটনা ১১ নভেম্বরের।
অ্যামবুশের পরে আমাদের গেরিলারা ফিরে এসে সীমান্তের এপারে ইনডাকশন ক্যাম্পে রিগ্রুপ করেছে। আমি ১২ তারিখেই সেখানে চলে যাই। সব খবর বিস্তারিত শুনলাম। এই ব্যাচের কমান্ডার মনজুর ভাই আগেই পৌছে গেছে। ইয়াফেজ, হেলাল - ওরা জীবিত ফিরতে পেরেছে। আমার মনটা আরও বেশী খারাপ এ জন্য যে, গেরিলা দলের ইনডাকশনের সবগুলো অপারেশন আমার তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে ।কিন্তু একবার দুইদিনের জন্য কলকাতায় গিয়েছি, যাতায়াত মিলে মাত্র চার দিনের জন্য বেইস ক্যাম্পের বাইরে আছি। আমাকে বাদ দিয়েই ইনডাকশনের ব্যবস্হা করে ফেলল! সামনের কয়েকজনের হাতে loaded arms ছিল। অথচ পেছনে বেশীর ভাগের arms-amunaition-ই প্যাক করা। আধা গেরিলা কায়দা আধা ফ্রন্টাল combat-এর কায়দা। সমস্যা হয়েছে তাতেই। তার পরেও যুদ্ধ করে, fire back করতে করতে প্রায় গোটা দলই সফলভাবে retreat করতে সফল হয়েছে। পাক আর্মি সিঅ্যান্ডবি রোডে ভারী সমরযান নিয়ে এসে অ্যামবুশ করছিল। হেভি মেশিনগান দিয়ে ফায়ার করে নির্বিচারে । এর মধ্যেও বেশীর ভাগ জীবিত ফিরে আসতে পেরেছে।
গেরিলা কমরেডরা এক-দুই দিন বিমর্ষ ছিল। তৃতীয় দিনে খুবই high moral ফিরে এসেছে। মনজুর ভাই বক্তৃতা করেছে। খুব সাহায্য হয়েছে তাতে। আমি কথা বলছি। পাশে কমান্ডারদের পেয়ে ওদের মনেবল চাঙা হয়েছে। নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ড্রিল করা শুরু হয়েছে। এবার যেন বিপর্যয় না হয়।
একটা enquiry committee করা হয়েছে। আমি তার সদস্য। পরশু আবার যাব এলাকায়। ভৈরব টিলা নামক পোষ্ট থেকে এলাকাটা দেখা যায়। দুজনকে ছদ্মবেশে দেশের বাইরে, বেতিয়ারা ও আশে পাশের গ্রামে সরেজমিনে খবর সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অনেক খবর লিখলাম। লিখে শান্তি পেলাম কিছুটা। চিঠিটা গোপন রাখবে।
আমি শিগগিরই ভেতরে যাব হয়তো । দেশ স্বাধীন হবেই। আমাদের সাধনা, জনতার জীবনপণ প্রচেষ্টা সফল হবেই। লাল সালাম।

ইতি
সেলিম।

চিঠির প্রেরক: মু্ক্তিযোদ্ধা সেলিম, পুরো নাম মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। ১৯৭১ সালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ন্যাপ, কমিউনিষ্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের নিয়ে গঠিত বিশেষ গেরিলাবাহিনীর একজন কমান্ডার এবং অপারেশন প্লানিং কমিটির (OPC) সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক।

চিঠির প্রাপক: মুকুল, তাঁর পুরো নাম আব্দুল কাইয়ুম মুকুল। ১৯৭১ সালে ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের পাটনে ন্যাপ, কমিউনিষ্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের জন্য যে ইয়ুথ ক্যাম্প স্হাপন করা হয়, সেই ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক।
চিঠিটি পাঠিয়েছেন: আব্দুল কাইয়ুম।

==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
বইটি স্ক্যানের জন্য ব্লগার পথিক!!!!! এবং পাতলা খানের কাছে কৃতজ্ঞ।
একাত্তরের চিঠির অন্যান্য পৃষ্ঠার লিংক পাবেন লাইভ আপডেটের পাতায় ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28955297 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28955297 2009-05-25 02:37:30
১৯৭১ এর চিঠি (পৃষ্ঠা নং ৯৬) ১১-‌১১-৭১
বৃহস্পতিবার

মা,

শতকোটি সালাম নিয়ো। যেদিন তোমাদের থেকে বিদায় নিলাম - সেদিনের স্মৃতি বারবার মনে পড়ে । ১ দিন ১ রাত নৌকায় গাদাগাদি হয়ে ও পরে ১ রাত হেঁটে আমরা এখানে এসেছি। এখানে পানির কষ্ট - অনেক দূরে যাই গোসল করতে। আমরা এখনও অস্ত্রপাতি পাই নাই। ভাইবোন, দাদা, বুজির কথা সব সময় মনে হয়। যুদ্ধ চলছে - অস্ত্র পেলে আমরাও যুদ্ধে যাব - তুমি প্রাণভরে দোয়া করবে - দেশ স্বাধীন করে তোমাদের মাঝে ফিরব। লতিফ, মোফাজ্জল, ডালু আমার প্রতি খেয়াল রাখে। আমার জন্য চিন্তা করবে না। দেশ স্বাধীন করেই তোমার ছেলে তোমার বুকে ফিরবে। তুমি শুধু দোয়া করবে। কাশেম, জায়েদা, হাশেম, মাসু ও আব্বুর প্রতি খেয়াল রাখবে।

ইতি
তোমার আদরের
জয়নাল

চিঠি লেখক: মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল। প্রকৃত নাম জয়নাল আবেদীন।
চিঠি প্রাপক: তাঁর মা। প্রযত্নে: বিন্দু ফকির, ফকিরবাড়ী, সাং-বেজগাঁও, পো: শ্রীনগর, জেলা: ঢাকা। বর্তমান জেলা: মুন্সীগঞ্জ।
চিঠিটি পাঠিয়েছেন: বুশরা আবেদীন।

==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
বইটি স্ক্যানের জন্য ব্লগার পথিক!!!!! এবং পাতলা খানের কাছে কৃতজ্ঞ।
একাত্তরের চিঠির অন্যান্য পৃষ্ঠার লিংক পাবেন লাইভ আপডেটের পাতায়
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28953510 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28953510 2009-05-21 01:32:11
১৯৭১ এর চিঠি (পৃষ্ঠা নং ৯৫) 10.11.71
স্নেহের মঞ্জুর,

আমার বিপ্লবী অভিনন্দন ও ভালোবাসা নিয়ো এবং সবাইকে দিয়ো। আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছ ।

শুনলাম তোমরা অতিসত্বর দেশের ভিতর যাচ্ছ। তবে তার অসুবিধাও আছে। যদি একান্ত কোন কারণে যাওয়া হয়ে না ওঠে কয়েক দিনের মধ্যে, তবে একদিন দেখা হলে খুবই খুশি হব। আমি কাল এসেছি এখানে এবং আগামী ২০ শে পর্যন্ত অবশ্যই এখানে আছি। তত দিন থাকলে একদিন ছুটি নিয়ে আসতে পারবো আশা করি।

আমি মোটামুটি ভালোই আছি। তোমাদের তথা আমাদের সবারই সাফল্য কামনা করি। শুভেচ্ছা রইল।

ইতি
তোমাদের
আমিন ভাই

পুন: ভিতরে ঢোকার দিন তোমার ছোট ভাই-এর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। খুবই আনন্দ পেয়েছি।

চিঠি লেখক: আমিন । এটা তাঁর ছদ্ম নাম। প্রকৃত নাম অনিল মুখার্জি। বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা।
চিঠি প্রাপক: মনজুরুল আহসান খান। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি
চিঠিটি পাঠিয়েছেন: প্রাপক নিজেই।
==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
বইটি স্ক্যানের জন্য ব্লগার পথিক!!!!! এবং পাতলা খানের কাছে কৃতজ্ঞ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28953000 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28953000 2009-05-19 23:13:09
১৯৭১ এর চিঠি (পৃষ্ঠা ৯৩ এবং ৯৪) ০২/১১/৭১ ইং

শ্রদ্ধেয় আব্বা,

আসসালামু আলাইকুম । আশা করি আল্লা তায়ালার অসীম রহমতে ভাল আছেন। আপনাদের দোয়ায় আমিও ভাল আছি। পর সমাচার এই যে, গত ৫ই জুন মুক্তিবাহিনীতে অংশগ্রহণের জন্য বাড়ি হতে ভারতের উদ্দেশ্য রওয়ানা হলে আলগী বাজারে এসে বড় ভাইয়ের কান্নাকাটির ফলে বাড়ি চলে যেতে হয়েছিল। কিন্তু দেশ ও বাঙালির এই চরম দুর্যোগ মুহূর্তে ও পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের জঘন্যতম অত্যাচার আমরা চোখ মেলে সহ্য করতে পারি না। আপনি তো জানেন শেখ মুজিবুর রহমান একজন মহান নেতা। সারা বাংলার জনগণ তাকে ভোট দিয়েছে, আপনিও তাকে বাংলার যোগ্য ও সাহসী নেতা হিসেবে ভোট দিয়েছেন। দেশের স্বার্থে তিনি যদি প্রাণ দিতে প্রস্তুত থাকেন, তবে তার ডাকে আমরা যদি পিছপা হয়ে যাই, তবে কোন দিনই দেশের মুক্তি আসবে না। তাই দেশের স্বার্থে প্রতিটি যুবক-কিশোরকে মুক্তিবাহিনীর ট্রেনিং নিয়ে পাকিস্তানিদের মোকাবেলা করা দরকার বলে মনে করে বাড়ি থেকে চলে এসেছি - আব্বা, আপনাকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে এসেছি, সেই জন্য আমাকে মাফ করে দিবেন।

ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছি, আপনি একসাথে মা ও বাবার দায়িত্ব পালন করেছেন। নানা ধরণের আবদার ও অনেক দুষ্টুমিতে আপনি রাগাহ্নিত হয়েছেন, আবার স্নেহভরে মায়ের মত কোলে তুলে নিয়েছেন। যদি দেশ স্বাধীন হয় তবে বীরদর্পে আপনার নিকট ফিরে আসব। আর যদি কোন যুদ্ধে শহীদ হই তবে আমাকে মাফ করে দিবেন। বড় ভাইকে বোঝাবেন, যাতে আমার জন্য কোন চিন্তা না করে। হয়তো বা বোনেরাও ছোট ভাই হিসেবে অনেক কান্নাকাটি করে - তাদেরকেও সান্ত্বনা দিবেন। আসার সময় মুতি ভাইকে বলে এসেছি। আমার কাছে ১৬ টাকা ছিল মতু ভাই আসার সময় ২০ টাকা দিয়ে বলেছে, তুই যা আমিও আসছি। জানি না মুতি ভাই কোথায় আছে, কী করছে। ইন্ডিয়া এসে দেশের অনেকের সাথে দেখা হয়েছে। আমার গ্রামের আপ্তাব উদ্দিন ভূইয়া এমএলএ একটি ক্যাম্পের দায়িত্বে আছে। তার সাথে এক সপ্তাহ ছিলাম। ২০ দিন অস্ত্র ট্রেনিং শেষ করার পর বর্তমানে তাড়াইল-এর ক্যাপ্টেন আ. মতিন সাহেবের ক্যাম্পে আছি। ক্যাম্পের নাম ই-কোম্পানি, ৩ নং প্লাটুন, ৩ নং সেক্টর। ক্যাম্পটি আগরতলার কাছে মনতলায় অবস্হিত। বাড়ি থেকে আসার সময় ও ট্রেনিং সেন্টারে অনেক কষ্টই হয়েছে। বর্তমানে খাওয়া দাওয়া সবকিছুই ভালো ।প্রতিমাসে কিছু বেতনও পাচ্ছি । প্রায়ই বর্ডারে ডিউটি করতে হয় । গত ২৮ তারিখে সিলেটের মনতলার কমলপুরে একটি অপারেশনে গিয়েছিলাম। পাকিস্তানিদের সাথে আমাদের জয় হয়েছে। আমাদের এখানে রায়পুরায় ১৪ জন আছি। আমাদের গ্রামের জহির, আ. হাই ও আবদুল্লা আমার সাথে আছে। এলাকার অনেকেই ট্রেনিং শেষে বাড়ি চলে যাচ্ছে । কিন্তু আমাদের ক্যাপ্টেন সাহেব আমাদের ছাড়ছেন না । তিনি বলেন, আমরা দেশ স্বাধীন করতে এসেছি। দেশ স্বাধীন করে আমরা একসাথে দেশে যাব। জানি না কবে দেশ স্বাধীন হবে, কবে দেশে আসতে পারব। সময় কম। ব্যারাক ডিউটির সময় হয়েছে। ডিউটিতে চলে যাব। পরে সুযোগ পেলে সব কিছু জানাব ।
আমার জন্য সবাইকে দোয়া করতে বলবেন। আল্লাহ আপনাদের সকলের মঙ্গল করুক।

ইতি-
আপনার স্নেহের পুত্র -
নজরুল ইসলাম (নয়াব মিয়া)

চিঠি লিখেছেন: মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম (নয়াব মিয়া)।
চিঠি প্রাপক: বাবা আলাউদ্দিন আহমেদ (দুদু মিয়া)
চিঠি পাঠিয়েছেন: লেখক নিজেই। বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম ও পোষ্ট: রায়নগর(মতিনগর), উপজেলা, রায়পুরা, জেলা: নরসিংদী।
==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
বইটি স্ক্যানের জন্য ব্লগার পথিক!!!!! এবং পাতলা খানের কাছে কৃতজ্ঞ।
‌]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28952493 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28952493 2009-05-18 21:25:29
১৯৭১ এর চিঠি(পৃষ্ঠা ৯১ এবং ৯২) প্রিয় ছোট ভাই,

আমার স্নেহ নিয়ো । তোমার চিঠি পেয়ে বেশ উদ্বিগ্ন হলাম। তোমার যে তিন বোনের কথা লিখেছ, ওদের নাম পাঠাও। বিশ্বাসঘাতকদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যু। ডাক্তার এবং সিরাজ সম্পর্কে আমাদের এই অভিমত। তবে যদি সম্ভব হয় ওদের যেভাবে পার আমাদের কাছে পাঠাবার ব্যবস্হা কোরো। না পারলে সিদ্ধান্ত তোমরাই নেবে।

আগে যে নির্দেশাদি দিয়েছি, তা ঠিকমতো পালন করছ না। সকল নির্দেশ ভাল রকম বুঝে পালন করতে চেষ্টা করবে।

তোমাদের জন্য ডিম এবং মুরগি সত্বর পাঠাবার ব্যবস্হা করব। সময় কিছু লাগবে। যেসব ব্যাপারে জানতে চেয়েছি, তা সত্বর জানাবে। তোমার সাংসারিক খরচের জন্য ১০০(একশত) টাকা পাঠালাম। আহারের সংস্হান অবশ্যই স্হানীয়ভাবে করতে হবে। নখলার বড় বোন দুজনকে যোগাযোগ করতে বোলো। ওরা নীরব কেন?
আমরা ভালো আছি। তোমাদের কুশল কামনা করি।

ইতি
বড় ভাই

সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র
---------------------------------------------------------------
পৃষ্ঠা ৯৩
‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌---------------------------------------------------------------
আম্মা,

সালাম নিবেন। আমরা জেলে আছি। জানি না কবে ছুটব। ভয় করবেন না । আমাদের ওপর তারা অকথ্য অত্যাচার করেছে। দোয়া করবেন। আমাদের জেলে অনেকদিন থাকতে হবে। ঈদ মোবারক।

কামাল

চিঠি লেখক: কামাল । পুরো নাম মোস্তফা আনোয়ার কামাল
চিঠি প্রাপক: মা আনোয়ারা বেগম। স্বামী: মো. শির মিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলে কামাল এবং তাঁর পিতা ২১.১১.১৯৭১ তারিখে শহীদ হন।
চিঠিটি পাঠিয়েছেন: ডা. মুনিরা ইসলাম চৌধুরী, ৩৬ চামেলীবাগ, শান্তিনগর থেকে।
==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
বইটি স্ক্যানের জন্য ব্লগার পথিক!!!!! এবং পাতলা খানের কাছে কৃতজ্ঞ।

প্রকল্পের সর্বশেষ আপডেট: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28952251 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28952251 2009-05-18 12:16:02
১৯৭১ এর চিঠি(পৃষ্ঠা ৭৩ এবং ৭৪) তারিখ: ০৪.১০.১৯৭১

মাগো,
সবেমাত্র রণাঙ্গণ থেকে ফিরে এসে শিবিরে বিশ্রাম নিচ্ছি। একটা বিস্তীর্ণ এলাকা শত্রুমুক্ত করতে পেরে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছি। মনটা তাই বেশ উৎফুল্ল। হঠাৎ মনে পড়ল তোমাকে। বাড়ি থেকে আসার পর এই প্রথম তোমাকে লিখছি। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তোমায় লিখতে পারিনি। বাঙ্কারে বসে আছি। বাইরে ভীষণ বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি আর বাতাসের শব্দ মিলে একটা চাপা আর্তনাদ ভেসে আসছে।

মাগো, আজ মনে পড়ছে বিদায় নেবার বেলায় তোমার করুণ হাসিমুখ। সাদা ধবধবে শড়িটায় বেশ মানিয়েছিলো তোমাকে। সেদিনের পূর্ব দিগন্তের সূর্যটা বেশ লাল মনে হয়েছিলো। আমার কি মনে হয়েছিল জানো মা? অসংখ্য বাঙালির রক্তে রঞ্জিত ওই লাল সূর্যটা। ওর প্রতিটা কিরণচ্ছটা পৃথিবীতে জন্ম দিয়েছে অগ্নিশপথে বলীয়ান, স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত এক একটা বাঙালি সন্তান। মাগো--তোমার কোলে জন্মে আমি ধন্য। শহীদের রক্ত রাঙা পথে তোমার আদুরে ছেলেকে এগিয়ে দিয়েছে। ক্ষণিকের জন্যও তোমার বুক কাঁপেনি, স্নেহের বন্ধন--দেশমাতৃকার ডাক উপেক্ষা করতে পারোনি। মা, তুমি শুনে খুশি হবে তোমারই মত অসংখ্য জননী তাঁদের স্নেহ ও ভালোবাসার ধন-পুত্র-স্বামী, আত্মীয়-সর্বস্ব হারিয়েও শোকে মুহ্যমান হয়নি; বরং ইস্পাতকঠিন মনোবল নিয়ে আজ অগ্নিশপথে বলীয়ান।
মাগো, বাংলার প্রতিটি জননী কি তাদের ছেলেকে দেশের তরে দান করতে পারে না--পারে না এ দেশের মা-বোনেরা ভাইদের পাশে এসে দাঁড়াতে? তুমিই তো একদিন বলেছিলে, সেদিন বেশি দূরে নয়-যেদিন এ দেশের শিশুরা মা-বাবার কাছে বিস্কুট-চকলেট না চেয়ে চাইবে পিস্তল-রিভলবার। সেদিনের আশায় পথ চেয়ে আছে বাংলার প্রতিটি সন্তান, যেদিন বাংলার স্বাধীনতা সূর্য প্রতিফলিত হবে, অধিকারবঞ্চিত, শোষিত, নিপীড়িত, বুভুক্ষু সাড়ে সাত কোটি জাগ্রত বাঙালীর আশা-আকাঙ্ক্ষা। যে মনোবল নিয়ে প্রথম তোমা থেকে বিদায় নিয়েছিলাম, তা আজ শতগুনে বেড়ে গেছে। শুধু আমার নয়, প্রতিটি বাঙালি খুনের হানছে মাতোয়ারা। তাই তো বাংলার আনাচকানাচে এক মহাশক্তিতে বলীয়ান তোমার অবুঝ শিশুগুলোই আজ হানাদার বাহিনীকে চরম আঘাত হেনেছে--পান করছে হানাদার পশুদের তাজা রক্ত। ওরা মানুষ হত্যা করছে--আর আমরা পশু হত্যা করছি।
মা, মাগো। দুটি পায়ে পড়ি মা। তোমার ছেলে ও মেয়েকে দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে ঘরে আটকে রেখো না। ছেড়ে দাও স্বাধীনতার উত্তপ্ত রক্তপথে। শহীদ হয়ে অমর হব; গাজী হয়ে তোমারই কোলে ফিরে আসব মা।
মাগো--জয়ী আমরা হবই। দোয়া রেখো। জয় বাংলা।

তোমারই
দুলাল
স্ক্যানকৃত চিঠির লিংক: ৭৩ , ৭৪
------------------------------------------------------------------------
চিঠি লেখক: মুক্তিযোদ্ধা দুলাল। তাঁর বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
ফুলবাড়িয়ার সম্মুখসমরে তিনি প্রথম আহত হন এবং পরে মারা যান। আহত হবার সময় চিঠিটি তার পকেটে ছিল। এটি পরে, মুক্তিযুদ্ধচলাকালে প্রকাশিত জাগ্রত বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধচলাকালে পত্রিকাটি ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে প্রকাশিত হতো।

চিঠি প্রাপক: মা। তাঁর পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
চিঠিটি পাঠিয়েছেন: এস এ কামাল, সম্পাদক, জাগ্রতবাংলা।
==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
বইটি স্ক্যানের জন্য ব্লগার পথিক!!!!! এবং পাতলা খানের কাছে কৃতজ্ঞ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28952223 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28952223 2009-05-18 11:19:46
১৯৭১ এর চিঠি(পৃষ্ঠা নং ৯০) আজিজ ভাই,

সালাম নিবেন ও আর সবাইকে দিবেন । পাকিস্তান মিলিটারির পাল্লায় আমরা পড়েছি, না পাক মিলিটারি আমাদের পাল্লায় পড়েছে, তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। তবে ওদের সঙ্গে আমাদের প্রায়ই দেখা হচ্ছে এবং সামনে আরও হবার সম্ভাবনা আছে বুঝতে পারছি। ২৬‌-‌১০‌-৭১ তাং চরকুলিয়ার যুদ্ধে আমরা সর্বমোট(একশত আটান্ন) জন হানাদারকে মেরেছি এবং প্রায় এক শতাধিককে জখম করেছি। কোথাও থেকে সাহায্য পাইনি। যাক, আতি ভাইকে আপনার কাছে পাঠালাম। সাচিয়াদহ হাট আদায় না করলে আমাদের সত্যিকারে নানা রকম অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তাই খাজা মিয়াকে বলবেন, যাতে আমাদের লোক হাট আদায় করতে গেলে কোন রকম বাধা-বিপত্তি না করে। ভাল আছি। এইমাত্র দু:সংবাদ পেলাম। তাই আবার চরকুলিয়া দৌড়াচ্ছি।

ইতি
ফহম উদ্দিন আহমেদ
জোনাল অফিসার
নর্থ খুলনা জোন
সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র থেকে।

স্ক্যান পৃষ্ঠার লিংক: Click This Link (Large).JPG
==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
বইটি স্ক্যানের জন্য ব্লগার পথিক!!!!! এবং পাতলা খানের কাছে কৃতজ্ঞ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28952191 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28952191 2009-05-18 09:34:40
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির উপর প্রামাণ্য চিত্র এবং অনলাইনে তার সমগ্র চিত্রকর্মের লিংক
বিবিসিতে প্রচারিত লিওনার্দো দা ভিঞ্চি (২০০৪) প্রামাণ্য চিত্র
বিবিসিতে লিওনার্দোকে নিয়ে দেখানো হয়েছিল এক অসাধারণ জীবন কাহিনী। আড়াই ঘন্টার এই প্রামাণ্য চিত্রে লিওনার্দোর শৈশব থেকে মৃত্যু অবধি লিওনার্দোকে দেখানো হয়েছে। এখানে পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করা হয়েছে লিওনার্দোর আবিস্কার সমূহকে, যেমন, ট্যাঙ্ক, গ্লাইডার, জলপোষাক, প্যারাস্যুট ইত্যাদি।তার কল্পণার সঙ্গে এই জিনিসগুলোর বাস্তবে কতটুকু মিল ছিল তা দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিল এই ডকুমেন্টারিটি। ইউটিউবে এটি ১৮ টি খণ্ডে পাওয়া যায়।


প্রথম পর্ব টি এখানে
১৮ টি পর্ব প্লে লিস্ট হিসাবে দেখুন


ভিডিও গুলোর হাইকোয়ালিটি mp4 ডাউনলোডের জন্য আমার পূর্ববর্তী ব্লগ দ্রষ্টব্য
লিওনার্দোর অনলাইন গ্যালারীর লিংক সমূহ
১. ১৪৮০ এর আগের পেইন্টিং
২. ১৪৮০ এর পেইন্টিংসমূহ
৩. ১৪৯০ এর পেইন্টিংসমূহ
৪. ১৫০১-১৫২০ এর পেইন্টিংসমূহ
৫. ওয়ার্কশপে এর অনুলিপি
৬. এঙ্ঘিয়ারীর যুদ্ধ
৭. পেইন্টিং এর স্টাডি(১)
৮. পেইন্টিং এর স্টাডি(২)
৯. মানুষের মাথার স্টাডি
১০. বিবিধ স্টাডি
১১. এনাটমি স্টাডি
১২. প্রকৃতি স্টাডি
১৩. প্রকৌশলী থীম স্টাডি
১৪. মানচিত্র
১৫. স্হাপত্যকলার স্টাডি
১৬. ভাস্কর্য এবং ভাস্কর্যের স্টাডি
------------------------------------------------------
ব্লগার সৈয়দা তাহমিনা বেগম সীমার ইতালীর কালজয়ী চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ব্লগটিতে পোষ্ট করতে চেয়েছিলাম এখান কার লিংকগুলো। কিন্তু মডারেশনের শৃঙ্খল দেখে আলাদা পোষ্ট শ্রেয় মনে করলাম।
------------------------------------------------------
ইলাস্ট্রেশনে ব্যবহৃত চিত্র:
মানবভ্রুনের স্টাডি
অংকন কাল: ১৫০৯‌-১৫০১৪ খ্রিষ্টাব্দ।
মাধ্যম: লাল এবং কালো চকের ওপর কলম এবং কালির ওয়াশ।
বর্তমানে উইন্ডসরের রয়্যাল লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28945184 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28945184 2009-05-01 23:37:41
১৯৭১ এর চিঠি (পৃষ্ঠা নং ৩২) শ্রী হেমেন্দ্র দাস পুরকায়স্হ শ্রদ্ধাস্পদেষু,

আপনাদের খবর অনেক দিন পাইনি। বাঁশতলা ক্যাম্প দেখাবর পর সেই ছেলেদের মুখগুলো সমানেই চোখের ওপর ভাসছে। তাদের মধ্যে যে সাহস, শৃঙ্খলা ও উদ্দীপনা দেখেছি তা আমার জীবনে এক নতুন ইঙ্গিত বয়ে এনেছে। কত লোকের কাছে যে সে কাহিনী বলেছি তা বলার নয়। তাদের কিছু জিনিস দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু শুনছি তারা শিগগিরই youth camp-এ চলে আসবে এবং সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করা হবে। তাই আমাকে সেগুলো জোগাড় করতে মানা করা হলো।

আমি ক্যাম্পের মেয়েদের জন্য কিছু শাড়ি সংগ্রহ করেছি । আপনি প্রয়োজনমত তা বিলি করার ব্যবস্হা করে দেবেন। কাকিমার জন্য একখানা লালপাড় শাড়ি পাঠালাম - তিনি যেন তা ব্যবহার করেন। বাচ্চাদের জন্য সামান্য কিছু জামাকাপড় পাঠালাম‌ - অল্প ওষুধ ও ফিনাইল পাঠালাম, আশা করি কাজে লাগবে। আমি সেলা ক্যাম্পে যাবার পর বালাট, ডাউকী, উমলারেম (আমলারেং) প্রভৃতি ক্যাম্পে ঘুরেছি।

অবস্হা দুর্দশার চরম সীমায়, খালি মুক্তিবাহিনীর ছেলেরাই অন্ধকারের আশার আলো বয়ে আনে। ভগবান তাদের স্বাস্হ্য ও দীর্ঘজীবন দিন - এই প্রার্থনা জানাই।

আপনার শরীর কেমন আছে? কাকীমা কেমন আছেন? ক্যাম্পের ও মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা কেমন আছেন? আজ এখানেই শেষ করি
আপনারা আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম নেবেন।
ইতি
অঞ্জলি

সংগ্রহ: স্মৃতি ও কথা '৭১ থেকে।
স্ক্যান কপির লিংক
==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
বইটি স্ক্যানের জন্য ব্লগার পথিক!!!!! এবং পাতলা খানের কাছে কৃতজ্ঞ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28943477 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28943477 2009-04-28 08:36:35
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের আপডেট -২
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসেবে পুরো বইটির উল্লেখ যোগ্য অংশ ইউনিকোড টেক্স্টে রুপান্তর করা হয়েছে। বাকি অংশ শেষ করার জন্য পুরো বইটির স্ক্যান সম্পন্ন হয়েছে । প্রকল্পের অগ্রগতির জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। প্রকল্পটি সম্মন্ধে অথবা কপিরাইট বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরের জন্য প্রকল্পের মূল পাতা এবং তার কমেন্ট গুলো দ্রষ্টব্য।
‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌-------------------------------------------------------------------
একাত্তরের চিঠির বইটির স্ক্যান আর্কাইভ
১. পৃষ্ঠা ৩৩‌ থেকে ১২৭ পাবেন এখানে। সৌজন্যে: ব্লগার পাতলা খান
২. ১৩-৩৫ পৃষ্ঠা ব্লগার পথিক!!!!!!! এর ফেসবুকে
** নিচে অবশিষ্ট পাতার তালিকায় ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত অবশিষ্ট ছবিগুলোর লিংক দেয়া হল।

ডিজিটাইজড সম্পন্ন হয়েছে ১৩‌‌-২৯, ৩০‌‌‌‌-৩১, ৩৪‌-৩৫, ৫৩ সহ মোট ৩১ পৃষ্ঠা একাত্তরের চিঠিগুলোর ব্লগের লিংক পাবেন প্রকল্পের পাতায়

প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী ব্লগাররা
কন্টেন্ট টাইপ করে টেক্স্টে রুপান্তরে অংশগ্রহণকরেছেন: পাতলা খান, অরণ্যচারী, জ্বিনের বাদশা, রুবেল শাহ, মাহবুবুল ইসলাম (সুমন) এবং তর্পন।

অবশিষ্ট পাতা সমূহ***
পৃষ্ঠা: ২৩ http://i34.tinypic.com/15rmsdv.jpg [ডিজিটাইজড হয়েছে]
পৃষ্ঠা: ২৪ http://i34.tinypic.com/4k8z2u.jpg [ডিজিটাইজড হয়েছে]
পৃষ্ঠা: ৩০ http://i38.tinypic.com/14vikiq.jpg [ডিজিটাইজড হয়েছে]
পৃষ্ঠা: ৩১ http://i34.tinypic.com/15yvsld.jpg [ডিজিটাইজড হয়েছে]
পৃষ্ঠা: ৩২ http://i35.tinypic.com/a1pjbq.jpg [ডিজিটাইজড হয়েছে]
পৃষ্ঠা: ৩৩ http://i34.tinypic.com/2qm249d.jpg

সর্বশেষ প্রাপ্ত স্ক্যান গুলোর
পৃষ্ঠা ৩৬ থেকে ১২৭

প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে চাইলে
ক. যে কোন একটি চিঠি বেছে নিন।
খ. প্রথমে প্রকল্পের পাতায় কমেন্টে দেখে নিন কেউ একই পৃষ্ঠায় কাজ করছে কিনা।
গ. কমেন্টে আপনি যে পৃষ্ঠা টাইপ করছেন তা লিখে দিন।
ঘ. ঠিকমত বানান এবং ফর্ম্যাট চেক করে আপনার ব্লগে তা প্রকাশ করুন ।ব্লগের টাইটেল দিন : ১৯৭১ এর চিঠি( পৃষ্ঠা নং ....)
ঙ. প্রকল্পের কমেন্টে ব্লগের লিংক দিন যাতে আপডেটে লিংকটি প্রকল্পের পাতায় প্রকাশ করা যায়।

অংশগ্রহণকারীকে যথাযথ ক্রেডিট দেয়া হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28942204 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28942204 2009-04-25 00:24:28
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের আপডেট -১
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসেবে নিচের পৃষ্ঠাগুলো ডিজিটাইজ করা হয়েছে। প্রকল্প সম্মন্ধে অথবা কপিরাইট বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরের জন্য প্রকল্পের মূল পাতা এবং তার কমেন্ট গুলো দ্রষ্টব্য।
‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌-------------------------------------------------------------------
সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী ডিজিটাইজড পৃষ্ঠা সমূহের তালিকা
প্রথম আলোতে প্রকাশিত *
প্র. আ. ১ Click This Link সৌজন্যে: পাতলা খান
‌প্র. আ. ২ Click This Link সৌজন্যে: পাতলা খান
‌প্র. আ. ৩ Click This Link সৌজন্যে: পাতলা খান
‌প্র. আ. ৪ Click This Link সৌজন্যে: অরণ্যচারী
‌প্র. আ. ৫ Click This Link সৌজন্যে: তর্পন
প্র. আ. ৬ Click This Link সৌজন্যে: তর্পন
একাত্তরের চিঠি বইতে প্রকাশিত **
পৃষ্ঠা: ১৩ Click This Link সৌজন্যে: পাতলা খান
পৃষ্ঠা: ১৪ (‌=প্র. আ. ৬) Click This Link সৌজন্যে: তর্পন
পৃষ্ঠা: ১৫ Click This Link সৌজন্যে: পাতলা খান
পৃষ্ঠা: ১৬, ১৭ (একই পত্র) Click This Link সৌজন্যে: পাতলা খান
পৃষ্ঠা: ২০ Click This Link সৌজন্যে: তর্পন
পৃষ্ঠা: ২৫, ২৬ (=প্র.আ. ২) Click This Link সৌজন্যে: পাতলা খান
পৃষ্ঠা: ২৯ (=প্র.আ. ৩) Click This Link সৌজন্যে: পাতলা খান
বইতে প্রকাশিত চিঠি ** কিন্তু স্ক্যানে পৃষ্ঠা জানা যায় নি
মুক্তিযোদ্ধা বাদশার চিঠি: Click This Link (সর্বশেষ চিঠি) সৌজন্যে: তর্পন
শহীদ আবুল কালামের চিঠি: Click This Link ২৫ নং কমেন্ট। ‌সৌজন্যে: জ্বিনের বাদশা

নিচের পাতাগুলো ডিজিটাইজড করতে ইচ্ছুক ব্লগারদের কে প্রকল্পের পাতায় পৃষ্ঠা নং উল্লেখ করে কমেন্ট করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
স্ক্যান কৃত পাতা টাইপ করতে হবে:
পৃষ্ঠা: ১৮ http://i34.tinypic.com/ev521i.jpg [ডিজিটাইজ করা হয়েছে]
পৃষ্ঠা: ১৯ http://i33.tinypic.com/xgcufr.jpg [ডিজিটাইজ করা হয়েছে]
পৃষ্ঠা ২১ http://i34.tinypic.com/2vsj1bt.jpg [ডিজিটাইজ করা হয়েছে]
পৃষ্ঠা: ২২ http://i38.tinypic.com/21njncw.jpg [ডিজিটাইজ করা হয়েছে]
পৃষ্ঠা: ২৩ http://i34.tinypic.com/15rmsdv.jpg
পৃষ্ঠা: ২৪ http://i34.tinypic.com/4k8z2u.jpg
পৃষ্ঠা: ২৭ http://i34.tinypic.com/2cglv0i.jpg [ডিজিটাইজ করা হয়েছে]
পৃষ্ঠা: ২৮ http://i36.tinypic.com/2wr0lfb.jpg [ডিজিটাইজ করা হয়েছে]
পৃষ্ঠা: ৩০ http://i38.tinypic.com/14vikiq.jpg
পৃষ্ঠা: ৩১ http://i34.tinypic.com/15yvsld.jpg (৩০/৩১ একই পত্র)
পৃষ্ঠা: ৩২ http://i35.tinypic.com/a1pjbq.jpg
পৃষ্ঠা: ৩৩ http://i34.tinypic.com/2qm249d.jpg
পৃষ্ঠা: ৩৪, http://i33.tinypic.com/swdzrb.jpg
পৃষ্ঠা: ৩৫ http://i34.tinypic.com/ouciv7.jpg (৩৪/৩৫ একই পত্র)
স্ক্যানকৃত ১৩-৩৫ পৃষ্ঠা নেওয়া হয়েছে ব্লগার পথিক!!!!!!! এর ফেসবুক থেকে Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28941639 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28941639 2009-04-23 12:59:00
১৯৭১ এর চিঠি (পৃষ্ঠা নং ২০) প্রিয় মোয়াজ্জেম সাহেব,

তসলিম। আশা করি খোদার রহমতে কুশলে আছেন। কোন মতো বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে (মুরগী যেমন তার ছানাগুলো ডানার তলে রাখে) বেঁচে আছি । পত্রবাহক আপনার পূর্বে দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী আপনার কাছেই যাচ্ছে । শ্বাপদশংকুল ভরা এ দুনিয়ার পথ। নিজের হেফাজতে যদি রাখতে পারেন তবে খুবই ভালো - নতুবা নিরাপদ স্হানে (চিতলমারীর অভ্যন্তরে কোন গ্রামে ) পৌছানোর দায়িত্ব আপনার । বিশেষ কিছু দরকার মনে করি না। মানুষ মানুষ কে হত্যা করে আর মানুষের সেবা মানুষেই করে। হায়রে মানুষ! আমার অনুরোধ আপনি রাখবেন জানি - তা সত্ত্বেও অনুরোধ থাকল।

ইতি আপনাদের
আ. হা. চৌধুরী

চিঠি লেখক: আবদুল হাসিব চৌধুরী ১৯৭১ সালে তার ঠিকানা আমিনা প্রেস, কোর্ট মসজিদ রোড, বাগের হাট।

চিঠি প্রাপক: মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মো: মোয়াজ্জেম হোসেন। বাগেরহাটের পি সি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি শত্রুপক্ষের গুলিতে নিহত হন। অর্থনীতি বিষয়ে তার কিছু বই বিভিন্ন কলেজে পাঠ্য রয়েছে।
চিঠিটি পাঠিয়েছে: মোয়াজ্জেম হোসেন ফাউন্ডেশন, বাগেরহাট।


‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌==========================================
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসাবে প্রকাশিত
একাত্তরের চিঠি বইয়ের ১৬‌ থেকে ২০ পাতার স্ক্যান /পাতলা খানের সৌজন্যে প্রাপ্ত
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28941487 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28941487 2009-04-23 01:03:26
একাত্তরের চিঠির ডিজিটাইজড্ কন্টেন্ট ‌‌-১ একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট রিভার্সিং: একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনার পর আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি । সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী পাতলা খান, অরণ্যচারী এবং তর্পনের করা ৭ টি ডিজিটাইজ করা চিঠির এখানে প্রকাশ করা হল।

যদি আপনার কাছে "একাত্তরের চিঠি" বইটি থেকে থেকে থাকে, তাহলে স্ক্যান করে দিন। স্ক্যান করা এবং অথবা টাইপ করার জন্য আপনাকে যথাযথ ক্রেডিট দেওয়া হবে।
----------------------------------------------------‌‌‌‌
পআ ১:
১৬ জুলাই পঞ্চগড় সীমান্তবর্তী ভারত থেকে মা রাফিয়া খাতুনকে এই চিঠি লিখেছিলেন ৬ নম্বর সেক্টরের সি কম্পানির আব্দুর রউফ ওরফে ববিন। মায়ের আঁচলঘেঁষা এই মানুষ্টির বাংকার জীবনের বর্ণনা পড়ার পর না-দেখা সেই মা ও তাঁর ছেলের জন্য মনটা কেমন হু হু করে উঠে।
১৬.৭.১৯৭১

মা,
মুক্তিসেনাদের ক্যাম্প থেকে লিখছি। এখন বাইরে বেশ বৃষ্টি হচ্ছে। তাঁবুর ফাঁক দিয়ে দেখতে পাচ্ছি সমস্ত দিগন্ত মেঘলা মেঘলা। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে কিনা, তাই মনটা ভাল না। আচ্ছা মা, সারা রাত এমনি চলার পর পূর্বয়াকাশে যে লাল সূর্য উঠে, তার কাঁচা আলো খুব উজ্জ্বল হয় তাই না? এই মুহূর্তে আমার ছোতবেলার কথা মনে পড়ছে। বর্ষা এলে তুমি বাইরে যেতে দিতে না, একদিন তোমার অজান্তে বাইরে আসতেই পিছলে পড়ে পায়ে চোট লাগে, তখন তুমি চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিলে। ওষুধ দিয়ে ভর্তি হয়েছিল টেবিলটা, আমার বেশ মনে আছে। তখন থেকে একা বাইরে যেতে সাহস পেতাম না। ভয় লাগত, বাইরে গেলেই পড়ে যাব। কিন্তু আজ! আজ আমার অনেক সাহস হয়েছে, রাইফেল ধরতে শিখেছি। বাংকারে রাতের পর রাত কাটাতে হচ্ছে, তবু ভয় পাই না।শত্রুর আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে প্রচণ্ড পাল্টা আক্রমনে শিরায়-উপশিরায় রক্তের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। মা, সত্যি তোমাকে বঝাতে পারবনা। ছোটবেলার কথা মনে পড়লে কেমন যেন লাগে। কিন্তু আমার একি আশ্চর্য পরিবর্তন, কারণ আমি আমার স্বদেশ, আমার বাংলাকে ভালবাসি। মা, কৈশরে একদিন আব্বা আমাকে সৈয়দপুরে নিয়ে গিয়েছিল, স্পেশাল ট্রেন দেখাতে। সেখান থেকে আমি হারিয়ে যাই। তখন একলা একলা অনেক্ষন ঘুরেছিলাম। ধীরে ধীরে সন্ধ্যার ঘনঘটা নেমে এসেছিল, আমার কেমন যেন কান্না পাচ্ছিল। মনে হয়েছিল, আমি হারিয়ে গাছি। তখন মনে হয়েছিল, আর কনো দিনই হয়তো তোমার কাছে ফিরে যেতে পারবনা। তখন কাঁদতে কাদতে স্টেশনের দিকে আস্তে শুরু করেছিলাম। রাস্তায় হাজারী বেলপুকুরের হাই-ই আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। দেখি সেখানে কিছুক্ষন পর আব্বা গালেন। পরদিন এসে সমস্ত কথা শুনতে না শুনতে আমাকে বুকে জড়িয়ে তুমি কাঁদছিলে। অথচ সেদিন তুমি তো কাঁদলে না মা! আমি রণাঙ্গনে চলে এলাম। গুলি, শেল, মর্টার নিয়ে আমার জীবন। ইয়াহিয়ার জঘন্যতম অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁরাবার জন্য দুর্জয় শপথ নিলাম। এখন বাংকারে বাংকারে বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়। কখনো বা রাতের অন্ধকারে শত্রুর ঘাঁটির ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালাই।এ যুদ্ধু ন্যায়ের যুদ্ধ, মা, জয় আমাদের হবেই হবে।

মাগো, সেদিনের সন্ধ্যাটাকে আমার বেশ মনে পড়ছে। আজকের মত মেঘলা মেঘলা আকাশ সেদিন ছিল না। সমস্ত আকাশটা তারায় ভর্তি ছিল। তুমি রান্না ঘরে বসে তরকারি কুটছিলে। আমি তোমাকে বললাম, 'মা,আমি চলে যাচ্ছি।' তউমি মুখের দিকে তাকালে। আমি বলেছিলাম, 'মা, আমি মুক্তি বাহিনীতে চলে যাচ্ছি।' উনুনের আলোতে তোমার মুখটা স্পষ্ট দেখতে পেলাম। তোমার চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তুমি দাঁরিয়ে আশীর্বাদের ভঙ্গিতে তাকালে। আমার ঘরের পেছনে বেলগাছটার কিছু পাতা বাতাসে দোল খেয়ে আবার স্থির হয়ে গেল। মা, সেদিন সন্ধ্যাতেই তুমি আমাকে হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিলে। মা, মনে হচ্ছে কত যুগ পাড়িয়ে গেছে, আর একটি দিন ইতিহাসের পাতার মত রয়ে গেছে। কত আশা, কত আকাঙ্খা অন্যায়ের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিন্তু মা দিনান্তের ক্লান্তে নিত্যকার মতো সেই সন্ধ্যাটা আবার আসবে তো?

ইতি
তোমার স্নেহের
ববিন
পাতলা খানের সৌজন্যে Click This Link
------------------------------------------------------------
পআ ২:
জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলির বদৌলতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সাফি ইমাম রুমি এখন আর আমাদের কাছে অপরিচিত কেউ নয়া। কোনোদিন না দেখা এই মানুষটিকেই এখন মনে হয় আমাদের পরিবারের কোন সদস্য। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তাহমিদ সাঈদকে এই চিঠিটি লিখেছিলেন রুমী। সম্পর্কে তিনি রুমীর মামা। মূল চিঠিটি ইংরেজীতে লেখা, এখানে দেওয়া হলো তার বাংলা অনুবাদ।

প্রানপ্রিয় পাশা মামা,
অবাক হয়ো না! এটা লেখা হয়েছে আর তোমার কাছে পৌছেছে। আর পড়ার পর চিঠিটা নষ্ট করে ফেলো। এ নিয়ে আম্মাকেও কিছু লিখোনা। তাহলে তাদের বিপদে পড়তে হবে। তারাহুড়া করে লিখলাম। আমার হাতে সময় খুব কম। বেস ক্যাম্পের উদ্দেশে কাল এখান থেকে চলে যেতে হবে।

আমরা একটা ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ লড়ছি। আমরা জয়ী হব। আমাদের সবার জন্য দোয়া কোরো। কী লিখব বুঝতে পাড়ছি না--কত কী নিয়ে যে লেখার আছে! নৃশংসতার যত কাহিনী তুমি শুনছ, ভয়াবহ ধ্বংসের যত ছবি তুমি দেখছ, জানবে তার সবই সত্য। ওরা আমাদের নৃশংসতার সঙ্গে ক্ষতবিক্ষত করেছে, মানব ইতিহাসে যার তুলনা নেই। আর নিউটন আসলেই যথার্থ বলেছেন, একইধরনের হিংস্রতা নিয়ে আমরাও তাদের উপর আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দেব।

জানি না আবার কখন লিখতে পারব। আমাকে লিখ না। সোনার বাংলার জন্য যা পারো কর।

এখনকার মত বিদায়।
ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাসহ
রুমী

পাতলা খানের সৌজন্যে প্রাপ্ত ------------------------------------------------------------
পআ ৩:
২৭ জুন ময়মনসিংহের অজ্ঞাত এক স্থান থেকে মা আনোয়ারা বেগম কে এই চিঠি লিখেছিলেন ভোলা জেলার সদর উপজেলার আব্দুর ওদুদ পন্ডিতের ছেলে ওমর ফারুক। তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় করাচি থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদেন। চিঠিতে ফারুক মামে লিখেছিলেন, 'স্বাধীনতা আসিলেই আমি আপনাদের কলে ফিরিয়া আসিব।' স্বাধীনতা ঠিকই এসেছিল, কিন্তু ফারুকের আর মায়ের কোলে ফেরা হয়নি। চার মাস পর অক্টোবরে 'বাংলার স্বাধীনতাসংরামের' জন্য লড়াই করতে করতে গাইবান্ধার নান্দিনায় শহিদ হন ওমর ফারুক।

মা,
আমার শত সহস্র সালাম ও কদমবুসি গ্রহন করিবেন। আমার কাছেও তদ্রুপ রহিল। এত দিনে নিশ্চয় আপনারা আমার জন্য খুবই চিন্তিত। আমি আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের দোয়ায় বাংলাদেশের যেকোন একস্থানে আছি। আমি এই মাসের ২০ হইতে ২৫ তারিখের মধ্যেই বাংলাদেশে আসিয়াছি। যাক, বাংলাদেশে আসিয়া আপনাদের সাথে দেখা করিতে পারিলাম না। আমাদের নানাবাড়ীর (...) বাড়ীর খবরাখবর নিম্নের ঠিকানায় লিখিবেন। আমি বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য আসিয়াছি (আশা করি বাংলায় স্বাধীনতা আসিলেই আমি আপনাদের কলে ফিরিয়া আসিব।) আশাকরি, মেয়াভাই ও নাছির ভাই ইএবং আমাদের স্বজন বাংলার স্বাধীনতাসংগ্রামে লিপ্ত। যাক, বর্তমানে আমি ময়মনসিংহ আছি। এখান থেকে আজই অন্য জায়গায় চলিয়া যাইব। দোয়া করিবেন।
পরিশেষে

আপনার স্নেহ মুগ্ধ
ফারুক
পাতলা খানের সৌজন্যে প্রাপ্ত ----------------------------------------------------------------
পআ৪: Click This Link
ওয়াসেকা তখন ছোট্ট মেয়ে। এতই ছোট যে পড়তে পর্যন্ত পারে না। তারপরেও মেয়েকে উদ্দেশ্য করে এই চিঠি লিখেছিলেন চট্টগ্রামের রাজনীতিবিদ আতাউর রহমান খান। কারণ মনে শঙ্কা ছিল, মেয়ে বড় হওয়া পর্যন্ত দুনিয়ার আলো-হাওয়া দেখার সুযোগ নাও পেতে পারেন তিনি

১৬ই জুলাই ১৯৭১ ইং
মামণি আমার,
তুমি যখন ইনশাল্লাহ পড়তে শিখবে, বসতে শিখবে তখনকার জন্য আজকের এই চিঠি লিখছি। তোমরা (...) নিশ্চয়ই। অনেক অভিমান জমা, আব্বু তোমাকে দেখতে কেন আসে না? মামণি, আব্বু আজ তোমার জন্মদিনে তোমাকে বুকে নিয়ে বুক জুড়াতে পারছি না, এই দুঃখ তোমার আব্বুর জীবনেও যাবে না।। কী অপরাধে তোমার আব্বু আজ তোমার কাছে আসতে পারে না, তোমাকে কোলে নিয়ে আদর করতে পারে না, তা তুমি বড় হয়ে হয়তো বুঝবে, মা। কারণ আজকের অপরাধ তখন অপরাধ বলে গণ্য হবে না। আজকে এ দেশের জনসাধারণ তোমার আব্বুর মতই অপরাধী, কারণ তারা নিজেদের অধিকার চেয়েছিল। অপরাধী দেশবরেণ্য নেতা, অপরাধী লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক – এ দেশের সব বুদ্ধিজীবী কারণ তারা এ দেশকে ভালোবাসে। হানাদারদের কাছে, শোষকদের কাছে এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কিছুই নেই। এই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সেই দণ্ড এড়াবার জন্য লাখ লাখ লোক দেশ ত্যাগ করেছে। সেই দণ্ড এড়াবার জন্য তোমার আব্বুকে গ্রামে – গ্রামে, পাহাড়ে – জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। তাই আজ বুক ফেটে গেলেও আব্বু এসে তোমাকে নিয়ে আদর করতে পারছে না। মনের মণিকোঠায় তোমার সেই ছোট্ট মুখখানি সব সময় ভাসে, কল্পনায় তাকে চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিই। আর তাতেই তোমার আব্বুকে সান্ত্বনা পেতে হয়।

আব্বু, নামাজ পড়ে প্রত্যেক ওয়াক্তে তোমার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ রহমানুর রাহিমের কাছে মোনাজাত করি, তিনি যেন তোমার আম্মুকে আর তোমাকে সুস্থ রাখেন, বিপদমুক্ত রাখেন।

মামণি, তোমার আম্মু লিখেছে, তুমি নাকি এখন কথা বলো। তুমি নাকি বলো, 'আব্বু জয় বাংলা গাইত।' ইনশাল্লাহ সেই দিন আর বেশি দূরে নয় আব্বু আবার তোমাকে জয় বাংলা গেয়ে শোনাবে। যদি আব্বু না থাকি, তোমার আম্মা সেদিন তোমাকে জয় বাংলা গেয়ে শোনাবে। তোমার আম্মু আরো লিখেছে তুমি নাকি তোমাকে পিট্টি লাগালে আম্মুকে বের করে দেবে বলে ভয় দেখাও। তোমার আম্মু না ভীষণ বোকা। খালি তোমার আর আমার জন্য কষ্ট করে। বের করে দিলে দেখো আবার ঠিক ঠিক ফিরে আসবে। আমাদের ছেড়ে থাকতে পারবে না। তোমার আম্মু দুঃখ পেলে এখন আর কাউকে বলবে না। একা একা শুধু কাঁদবে।তুমি আদর করে আম্মুকে সান্ত্বনা দিও কেমন? তুমি আমার অনেক অনেক চুমো নিও।

ইতি
আব্বু


অরণ্যচারীর সৌজন্যে প্রাপ্ত । Click This Link
‌‌‌‌‌‌‌‌‌
--------------------------------------------------------------
পআ৫:
এক সহযোদ্ধার মাধ্যমে মাকে এই চিঠি পাঠান নারায়নগঞ্জের বন্দর উপজেলার ইসহাক খান। তাঁর মা ফযজনের নেসা তখন থাকতেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আটোমোরে। ইসহাক খান বর্তমানে কিশোরগঞ্জের ভৈরব খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

মাগো,

তুমি আমায় ডাকছিল? আমার মনে হলো, তুমি আমার শিয়রে বসে কেবলই আমার নাম ধরে ডাকছ, তোমার অশ্রুজলে আমার বক্ষ ভেসে যাচ্ছে, তুমি
এত কাঁদছ? আমি তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারলাম না ।তাই আমায় ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে গেলে।
স্বপ্নে একবার তোমায় দেখতে চেয়েছিলাম, তুমি আমার বড় আবদারের ছেলের আবদার রক্ষা করতে এসেছিল। কিন্তু মা, আমি তোমার সঙ্গে একটি কথাও বললাম না। দু চোখ মেলে কেবল তোমার অশ্রুজলই দেখলাম। তোমার চোখের জল মোছাতে এতটুকু চেষ্টা করলাম না ।

মা, তুমি আমায় ক্ষমা করো ‌ তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে গেলাম । তোমাকে এতটুকু ব্যথা দিতেও তো চিরদিন আমার বুকে বেজেছে। তোমাকে দু:খ দেওয়া আমার ইচ্ছে নয়। আমি স্বদেশ জননীর চোখের জল মুছাবার জন্য বুকের রক্ত দিতে এসেছি। তুমি আমায় আশীর্বাদ করো, নইলে আমার মনোবাঞ্ছা পূর্ন হবে না। একটিবার তোমাকে দেখে যেতে পারলাম না । সে জন্য আমার হৃদয়কে ভুল বুঝো না তুমি । তোমার কথা আমি এক মুহুর্তের জন্য ভুলিনি, মা। প্রতিনিয়তই তোমার আশীর্বাদ প্রার্থনা করি ।

আমার অভাব যে তোমাকে পাগল করে তুলেছে, তা আমি জানি । মাগো, আমি শুনেছি, তুমি ঘরের দরজায় এসে সবাইকে ডেকে ডেকে বলছ ‌‌- "ওগো, তোমরা সবাই আমার "ইসহাক" - শূন্য রাজ্য দেখে যাও"

তোমার সেই ছবি আমার চোখের ওপর দিনরাত ভাসছে । তোমার এই কথাগুলি আমার হৃদয়ের প্রতি তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে কান্নার সুর তোলে । মাগো, তুমি অমন করে আর কেঁদো না । আমি সত্যের জন্য, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি তাতে আনন্দ পাও না?

কী করবো, মা? দেশ যে পরাধীন। দেশবাসী যে বিদেশির অত্যাচারে জর্জরিত। দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভারে অবনত, লাঞ্ছিতা, অবমানিতা?
তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে, মা? একটি সন্তানকেও তুমি কি মুক্তির জন্য উত্‍ সর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে? আর কেঁদো না, মা। যাবার আগে আর একবার তুমি আমায় স্বপ্নে দেখা দিয়ো। আমি তোমার কাছে জানু পেতে ক্ষমা চাইব । আমি যে তোমার মনে বড় ব্যথা দিয়ে এসেছি, মা। ইচ্ছে করে ছুটে গিয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আসি। তুমি আদর করে আমাকে বুকে টেনে নিতে চাইছ, আমি তোমার হাত ছিনিয়ে চলে এসেছি। খাবারের থালায় নিয়ে আমাকে কত সাধাসাধিই না করেছ।, আমি সেদিন ফিরে চলে এসেছি।

না, আর পারছি না। ক্ষমা চাওয়া ভিন্ন আর আমার উপায় নেই । আমি তোমাকে দুদিন ধরে সমানে কাঁদিয়েছি। তোমার কাতর ক্রণ্দন আমাকে এতটুকু টলাতে পারে নি। কী আশ্চর্য মা? তোমার ইসহাক নিষ্ঠুর হতে পারল কী করে? ক্ষমা করো মা, আমায় তুমি ক্ষমা করো।

ইতি
ইসহাক।
Click This Link


‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌
‌--------------------------------------------------------
পআ ৬:
'জানি, তুমি আমাকে যেতে দিবে না ।' তাই মাকে না বলেই যুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন ফরিদপুরের চাঁদ বোয়ালমারীর এ বি এম মাহবুবুর রহমান। তারপর ৫ এপ্রিল ভারতের ২৪ পরগনার ৮ নম্বর সেক্টর হেড কোয়ার্টারের বসিরহাট সাব‌ ডিভিশনে বসে মাকে চিঠিটি লিখেছিলেন মাহবুব। আনন্দের কথা 'মাতৃভূমি সোনার বাংলাকে শত্রুমুক্ত' করে একদিন ঠিকই দেশে ফিরেছিলেন তিনি।

৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাল
মাগো,
তুমি যখন এ পত্র পাবে, আমি তখন তোমার থেকে অনেক দুরে থাকব। মা, জানি, তুমি আমাকে যেতে দিবে না, তাই তোমাকে না বলে
চলে যাচ্ছি । তবে যেদিন মা‌-বোনের ইজ্জতের প্রতিশোধ এবং এই সোনার বাংলাকে শত্রুমুক্ত করতে পারব, সেদিন তোমার ছেলে তোমার কোলে
ফিরে আসবে।
দোয়া করবে, মা, তোমার আশা যেন পূর্ণ হয়।

ইতি
তোমারই
হতভাগা ছেলে

পুনশ্চ: সেই গাঢ় অন্ধকারে একাকী পথ চলেছি। শরীরের রক্ত মাঝে মাঝে টগবগিয়ে উঠছে, আবার মনে ভয় জেগে উঠছে, যদি পাকসেনাদের হাতে ধরা পড়ি, তবে সব আশাই শেষ(..) যশোর হয়ে নাগদা বর্ডার দিয়ে ভারতে প্রবেশ করি। পথে একবার রাজাকারদের হাতে ধরা পড়ি। তারা শুধু টাকা‌-পয়সা ও চার-পাচটা হিন্দু যুবতী মেয়েকে নিয়ে আমাদের ছেড়ে দেয়। তখন একবার মনে হয়েছিল, নিজের জীবন দিয়ে মেয়েদের ওদের হাত থেকে রক্ষা করি । কিন্তু পরমূহূর্তে মনে হয়, না, এদের উদ্ধার করতে গেলে প্রাণটাই যাবে, তাহলে হাজার মা বোনের কী হবে?
রাত চারটার দিকে বর্ডার পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করি। বাল্যবন্ধু শ্রী মদনকুমার ব্যানার্জি ইতনা কলোনি, শিবমন্দির, বারাসাত, ২৪ পরগনা - এই ঠিকানায় উঠলাম । এখানে এক সপ্তাহ থেকে ওই বন্ধুর বড় ভাই শরত্‍ চন্দ্র ব্যানার্জি আমাকে বসিরহাট মহকুমা ৮ নম্বর সেক্টর মেজর ডালিমের তত্ত্বাবধানে আমাকে মুক্তিযুদ্ধে ট্রেনিংয়ে ভর্তি করে দেন। সেখানে পরিচয় হয় ব.রেজিমেন্টের আবুল ভাইয়ের সঙ্গে। ট্রেনিং ক্যাম্পে এক সপ্তাহ থাকার পর কর্ণেল ওসমান গণির নির্দেশে আমাদের উচ্চ ট্রেনিং (...)

স্ক্যান কপির লিংক
‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌------------------------------------------------


ঝালকাঠি, মিলিটারি ক্যান্টনমেন্ট ২৪/৭/৭১, বাংলা ৬ শ্রাবণ, ১৩৭৮

স্নেহের ফিরোজা,

তোমাকে ১৭ বত্‍সর পূর্বে সহধর্মিণী গ্রহণ করিয়াছিলাম। অদ্যাবধি তুমি আমার উপযুক্ত স্ত্রী হিসাবে সংসারধর্ম পালন করিয়া আসিয়াছ। কোন দিন তোমার উপর অসন্তুষ্ট হইতে পারি নাই। আজ আমি (...) তোমাদের অকুল সাগরে ভাসাইয়া পরপারে চলিয়াছি । বীরের মত সালাম ‌- ইনশাল্লাহ জয় আমাদের হইবে, দুনিয়া হইতে লাখ লাখ লোক চলিয়া গেছে খোদার কাছে । কামনা করি যেন সব শহীদের কাতারে শামিল হইতে পারি । মনে আমার কোন দু:খ নাই। তবে বুক জোড়া কেবল আমার বাদল। ওকে মানুষ করিয়ো। আজ যে অপরাধে আমার মৃত্যু হইতেছে খোদাকে স্বাক্ষী রাখিয়া আমি বলিতে যে এই সব অপরাধ হইতে আমি নিষ্পাপ। জানি না খোদায় কেন যে আমাকে এই রূপ করিল।
জীবনের অর্ধেক বয়স চলিয়া গিয়াছে, বাকি জীবনটা বাদল ও হাকিমকে নিয়া কাটাইবে । (...) পারিলাম না । (...) বজলু ভাইয়ের বেটা ওহাবের
কাছে ১৫ হাজার টাকা আছে । যদি প্রয়োজন মনে কর তবে সেখান হইতে নিয়া নিয়ো।

ইতি তোমারই বাদশা
(বাবা হাকিম, তোমার মাকে ছাড়িয়া কোথাও যাইয়ো না)
====================================
স্ক্যান করা চিঠিসমূহ

পআ১: Click This Link
পআ২: Click This Link
পআ৩: Click This Link
পআ৪: Click This Link
পআ৫: Click This Link
পআ৬: Click This Link

মুক্তিযোদ্ধা বাদশার চিঠি: এখানে ক্লিক করুন
প্রথম আলোতে প্রকাশিত চিঠির জন্য যৌবনযাত্রা ফোরামের sensei এর কাছে কৃতজ্ঞ। ফেসবুকে প্রাপ্ত কয়েকটি অসম্পুর্ণ স্ক্যান কপির জন্য দেখুন http://tinyurl.com/chithi1
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28940217 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28940217 2009-04-19 22:32:21
১৯৭১ এর চিঠি (চিঠি নং ৬) 'জানি, তুমি আমাকে যেতে দিবে না ।' তাই মাকে না বলেই যুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন ফরিদপুরের চাঁদ বোয়ালমারীর এ বি এম মাহবুবুর রহমান। তারপর ৫ এপ্রিল ভারতের ২৪ পরগনার ৮ নম্বর সেক্টর হেড কোয়ার্টারের বসিরহাট সাব‌ ডিভিশনে বসে মাকে চিঠিটি লিখেছিলেন মাহবুব। আনন্দের কথা 'মাতৃভূমি সোনার বাংলাকে শত্রুমুক্ত' করে একদিন ঠিকই দেশে ফিরেছিলেন তিনি।

৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাল
মাগো,
তুমি যখন এ পত্র পাবে, আমি তখন তোমার থেকে অনেক দুরে থাকব। মা, জানি, তুমি আমাকে যেতে দিবে না, তাই তোমাকে না বলে
চলে যাচ্ছি । তবে যেদিন মা‌-বোনের ইজ্জতের প্রতিশোধ এবং এই সোনার বাংলাকে শত্রুমুক্ত করতে পারব, সেদিন তোমার ছেলে তোমার কোলে
ফিরে আসবে।
দোয়া করবে, মা, তোমার আশা যেন পূর্ণ হয়।

ইতি
তোমারই
হতভাগা ছেলে

পুনশ্চ: সেই গাঢ় অন্ধকারে একাকী পথ চলেছি। শরীরের রক্ত মাঝে মাঝে টগবগিয়ে উঠছে, আবার মনে ভয় জেগে উঠছে, যদি পাকসেনাদের হাতে ধরা পড়ি, তবে সব আশাই শেষ(..) যশোর হয়ে নাগদা বর্ডার দিয়ে ভারতে প্রবেশ করি। পথে একবার রাজাকারদের হাতে ধরা পড়ি। তারা শুধু টাকা‌-পয়সা ও চার-পাচটা হিন্দু যুবতী মেয়েকে নিয়ে আমাদের ছেড়ে দেয়। তখন একবার মনে হয়েছিল, নিজের জীবন দিয়ে মেয়েদের ওদের হাত থেকে রক্ষা করি । কিন্তু পরমূহূর্তে মনে হয়, না, এদের উদ্ধার করতে গেলে প্রাণটাই যাবে, তাহলে হাজার মা বোনের কী হবে?
রাত চারটার দিকে বর্ডার পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করি। বাল্যবন্ধু শ্রী মদনকুমার ব্যানার্জি ইতনা কলোনি, শিবমন্দির, বারাসাত, ২৪ পরগনা - এই ঠিকানায় উঠলাম । এখানে এক সপ্তাহ থেকে ওই বন্ধুর বড় ভাই শরত্‍ চন্দ্র ব্যানার্জি আমাকে বসিরহাট মহকুমা ৮ নম্বর সেক্টর মেজর ডালিমের তত্ত্বাবধানে আমাকে মুক্তিযুদ্ধে ট্রেনিংয়ে ভর্তি করে দেন। সেখানে পরিচয় হয় ব.রেজিমেন্টের আবুল ভাইয়ের সঙ্গে। ট্রেনিং ক্যাম্পে এক সপ্তাহ থাকার পর কর্ণেল ওসমান গণির নির্দেশে আমাদের উচ্চ ট্রেনিং (...)

স্ক্যান কপির লিংক
‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌----------------------------------------------------------
৭১ এর চিঠির কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রকাশিত

চিঠি নং ২. Click This Link
চিঠি নং ৩. Click This Link
চিঠি নং ৪. Click This Link
চিঠি নং ৫. Click This Link
চিঠি নং ৬. Click This Link
মুক্তিযোদ্ধা বাদশার চিঠি: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28939458 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28939458 2009-04-17 23:35:44
১৯৭১ এর চিঠি (চিঠি নং ৫) এক সহযোদ্ধার মাধ্যমে মাকে এই চিঠি পাঠান নারায়নগঞ্জের বন্দর উপজেলার ইসহাক খান। তাঁর মা ফযজনের নেসা তখন থাকতেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আটোমোরে। ইসহাক খান বর্তমানে কিশোরগঞ্জের ভৈরব খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

১.৮.৭১
মাগো,

তুমি আমায় ডাকছিল? আমার মনে হলো, তুমি আমার শিয়রে বসে কেবলই আমার নাম ধরে ডাকছ, তোমার অশ্রুজলে আমার বক্ষ ভেসে যাচ্ছে, তুমি
এত কাঁদছ? আমি তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারলাম না । তাই আমায় ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে গেলে।

স্বপ্নে একবার তোমায় দেখতে চেয়েছিলাম, তুমি আমার বড় আবদারের ছেলের আবদার রক্ষা করতে এসেছিল। কিন্তু মা, আমি তোমার সঙ্গে একটি কথাও বললাম না। দু চোখ মেলে কেবল তোমার অশ্রুজলই দেখলাম। তোমার চোখের জল মোছাতে এতটুকু চেষ্টা করলাম না ।

মা, তুমি আমায় ক্ষমা করো ‌ তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে গেলাম । তোমাকে এতটুকু ব্যথা দিতেও তো চিরদিন আমার বুকে বেজেছে। তোমাকে দু:খ দেওয়া আমার ইচ্ছে নয়। আমি স্বদেশ জননীর চোখের জল মুছাবার জন্য বুকের রক্ত দিতে এসেছি। তুমি আমায় আশীর্বাদ করো, নইলে আমার মনোবাঞ্ছা পূর্ন হবে না। একটিবার তোমাকে দেখে যেতে পারলাম না । সে জন্য আমার হৃদয়কে ভুল বুঝো না তুমি । তোমার কথা আমি এক মুহুর্তের জন্য ভুলিনি, মা। প্রতিনিয়তই তোমার আশীর্বাদ প্রার্থনা করি ।

আমার অভাব যে তোমাকে পাগল করে তুলেছে, তা আমি জানি । মাগো, আমি শুনেছি, তুমি ঘরের দরজায় এসে সবাইকে ডেকে ডেকে বলছ ‌‌- "ওগো, তোমরা সবাই আমার "ইসহাক" - শূন্য রাজ্য দেখে যাও"
তোমার সেই ছবি আমার চোখের ওপর দিনরাত ভাসছে । তোমার এই কথাগুলি আমার হৃদয়ের প্রতি তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে কান্নার সুর তোলে । মাগো, তুমি অমন করে আর কেঁদো না । আমি সত্যের জন্য, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি তাতে আনন্দ পাও না?

কী করবো, মা? দেশ যে পরাধীন। দেশবাসী যে বিদেশির অত্যাচারে জর্জরিত। দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভারে অবনত, লাঞ্ছিতা, অবমানিতা?

তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে, মা? একটি সন্তানকেও তুমি কি মুক্তির জন্য উত্‍সর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে? আর কেঁদো না, মা। যাবার আগে আর একবার তুমি আমায় স্বপ্নে দেখা দিয়ো। আমি তোমার কাছে জানু পেতে ক্ষমা চাইব । আমি যে তোমার মনে বড় ব্যথা দিয়ে এসেছি, মা। ইচ্ছে করে ছুটে গিয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আসি। তুমি আদর করে আমাকে বুকে টেনে নিতে চাইছ, আমি তোমার হাত ছিনিয়ে চলে এসেছি। খাবারের থালায় নিয়ে আমাকে কত সাধাসাধিই না করেছ।, আমি সেদিন ফিরে চলে এসেছি। না, আর পারছি না। ক্ষমা চাওয়া ভিন্ন আর আমার উপায় নেই । আমি তোমাকে দুদিন ধরে সমানে কাঁদিয়েছি। তোমার কাতর ক্রণ্দন আমাকে এতটুকু টলাতে পারে নি।

কী আশ্চর্য মা? তোমার ইসহাক নিষ্ঠুর হতে পারল কী করে? ক্ষমা করো মা, আমায় তুমি ক্ষমা করো।

ইতি
ইসহাক
Click This Link
----------------
৭১ এর চিঠির কন্টেন্ট প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রকাশিত ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28938613 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28938613 2009-04-15 23:00:03
একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট রিভার্সিং: একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা একাত্তরের চিঠি বইটির কোন অফিসিয়াল সফট কপি কোথাও নেই । স্ক্যান করে কিছু পাতা পাওয়া যাচ্ছে ফেসবুক সহ নানান জায়গায়।

আমার প্রস্তাব হলো
১. চলুন প্রত্যেকে এক দুই পাতা করে টাইপ করে পুরো বইটি ডিজিটাইজ করে ফেলি।
২. আমি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্ক্যান করা বইয়ের লিংক জুড়ে দিচ্ছি। যদি এর চেয়ে ভাল স্ক্যান কপি থাকে জানাতে পারেন।
৩. আপনারা স্ক্যান করা পাতা দেখে টাইপ করে পর্যায়ক্রমে একেকটি চিঠি এখানকার কমেন্টে জুড়ে দিন । আমি ব্লগে আপডেট করে দেব সময় করে।
৪. যদি মনে করেন কমেন্টে আটবে না তবে নিজের ব্লগে তুলে দিন ।
ব্লগের টাইটেলটি হওয়া উচিত্‍ নিচের মত । চিঠি সনাক্তকরণের জন্য চিঠির নং অথবা বইয়ের পৃষ্ঠাকে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন

১৯৭১ এর চিঠি (চিঠি নং .... )

৫. বলা বাহূল্য প্রত্যেক ব্লগার তার কষ্টের জন্য ক্রেডিট পাবেন।
৬. যাদের কাছে বইটি আছে, তারা স্ক্যান অথবা সরাসরি টাইপ করে আপডেট করে দিন।
৭. যারা সময় নিয়ে করতে চান, তারা কমেন্টে বলে দিতে পারেন কোন পাতা বা কোন চিঠিটিতে কাজ করছেন। যাতে একই কাজ দুজন করে সময় নষ্ট না করেন।

=========================================
এটি কী কপিরাইট ভঙ্গ হবে?
"একাত্তরের চিঠি"র সংকলনের উদ্যোগ এবং সংকলনের জন্য প্রকাশকের মুদ্রিত কপি ক্রয় করে প্রকাশকের শ্রমের স্বীকৃতি দেয়া হোক। কিন্তু গবেষণা অথবা রেফরেন্সের প্রয়োজনে এর ডিজিটাল টেক্স্ট কন্টেন্টও দরকার । ডিজিটাল টেক্স্ট কন্টেন্ট কখনো মুদ্রিত পুস্তকের বাজার নষ্ট করে না। ( প্রথম আলো পত্রিকার কন্টেন্ট অনলাইনেও প্রকাশিত হয়, তাতে সেই পত্রিকার কাটতি কী কমে যায়? )। সুতরাং প্রকাশকের উচিত্‍ নিজ থেকেই এই উদ্যোগ নেয়া। শুধুমাত্র মুনাফা লাভের উত্‍স হিসেবে গণ্য করার কারণে যদি এর ডিজিটাল কন্টেন্ট প্রকাশ না করা হয় অথবা প্রকাশ কে বাধা দেয়া হয় তবে এটি অন্যায় । তখন এর কপিরাইট মেনে চলার কোন মানে হয় না ।। বলাবাহুল যে কোন চিঠির কপিরাইট পত্রলেখকের ছাড়া অন্য কারো হতে পারে না।ব্লগার আছহাবুল ইয়ামিনের মন্তব্য অনুসারে , ... প্রকাশক এখানে লেখাগুলো সংকলন করা আর কিছু বানান শুদ্ধি করা ছাড়া কিছুই করেনি। এক্ষেত্রে লেখব স্বত্ব বিক্রি বা দান না করলে তারা কিভাবে স্বত্ব দাবী করে??? আবার, কিছু লেখা আবার মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর থেকে সংগৃহীত। কিছু চিঠির লেখক বেঁচে নেই। সেসবের স্বত্বও কিভাবে দাবী করে তারা??". রাগিবের মতে, "প্রথম আলো কি জেনে শুনে "কপিরাইট আমাদের" এর মতো হাস্যকর দাবী করেছে, নাকি না বুঝেই কপিরাইট নোটিশ চোথা মেরেছে, কে জানে। কারণ এসব চিঠির মালিকেরা সত্ত্ব বিক্রি না করলে কোনো ভাবেই কপিরাইট প্রথম আলো পেতে পারে না।"

প্রত্যেকে তাদের টাইপ করা কন্টেন্টটির কপি নিজেদের কম্পিউটারে রাখতে ভুলবেন না । যদি কখনো কপিরাইটের দোহাই দিয়ে ব্লগ কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করা হয় তবে সেটি অবশ্যই অন্যত্র প্রকাশ হবে।

===========================================
সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী ডিজিটাইজড পৃষ্ঠা সমূহের তালিকা
একাত্তরের চিঠি বইটিতে প্রথম চিঠি শুরু হয়েছে ১৩ নং পৃষ্ঠা থেকে । এর আগে সম্পাদকীয়কে যুক্তিসঙ্গতকারণে বাদ দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের লাইভ আপডেট পাবেন এখানে: http://www.editgrid.com/user/torpon/একাত্তরের_চিঠি_কন্টেন্ট_প্রকল্প.html

তাছাড়া পৃষ্ঠানুযায়ী আপডেট দেখুন একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট প্রকল্পের আপডেট -৩
===========================================
চিঠির পিডিএফ সংকলন
মোট ১১৪ টি চিঠিকে ৩ টি সংকলনে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৩‌ থেকে ৫০ পৃষ্ঠার চিঠির প্রথম পিডিএফ সংকলন ডাউনলোড করুন

==========================================
অংশগ্রহণকারী ব্লগার
১. পাতলা খান
২. রুবেল শাহ
৩. অরণ্যচারী
৪. জ্বিনের বাদশা
৫. মাহবুবুল ইসলাম (সুমন)
৬. ফা্রুক হাসান
৭. তর্পন

** যদি অবশিষ্ট কোন পৃষ্ঠা টাইপ করতে চান অথবা আপনার নামটি বাদ পড়ে যায় তবে কমেন্টে জানান ।
===========================================
স্ক্যান করা চিঠির আর্কাইভ
৩৩ থেকে ১২৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পৃষ্ঠা স্ক্যান করেছেন পাতলা খান
১৩-৩৫ পৃষ্ঠা পাওয়া গিয়েছিল ব্লগার পথিক!!!!!!! এর ফেসবুকে

===========================================
সর্বশেষ আপডেট:

১৩‌ থেকে ৫০ পৃষ্ঠার চিঠির প্রথম পিডিএফ সংকলন ডাউনলোড করুন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28938344 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28938344 2009-04-15 11:56:23
সেনাবাহিনীর সাইট নিয়ে দুই মাস আগে সামুতে পোষ্ট দিয়েছি, এরা কই থাকে? দু মাস আগে সামহোয়ারইন এ সেনাবাহিনীর সাইট নিয়ে হুশিয়ারি
গত ফেব্রুয়ারীতে সেনাবাহিনীর সাইটে গিয়ে দেখতে পাই খুব কমন একটি পাসওয়ার্ড দিলে এর এডমিনে ঢুকে পড়া যায় । আমি সঙ্গে সঙ্গে এদের সাইট এডমিনের কাছে ইমেইল করি এবং এখানে বিস্তারিত পোষ্ট করি
Click This Link

সে সময়ই দেখতে পাই আর্মীর চীফের একাউন্টে ঢুকে অন্যদের মেসেজ পাঠানো যায় ।


বিদেশে যেখানে এসব সাইট সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় আচ্ছাদিত থাকে সেখানে এই সাইটটির দায়িত্ত্ব পেয়েছে অনভিজ্ঞ এবং অখ্যাত একটি কোম্পানী । একই সময় কথা উঠেছিল তাদের অফিসিয়াল সাইটে কেন কোন শোকবার্তা থাকবে না। যা হোক এর পরে দুতিন দিন সাইটটি ডাউন হয়ে থাকে । তারপর দায়সারা গোছের একটা নোটিশ দেয় ...তাদের নিহত অফিসার দের নামে । যেন বিডিআর সেন্টিমিন্টটি সামলানোই একমাত্র বিষয় ছিল

এ দেশ থেকে সফটওয়্যার রপ্তানী করে সুনাম অর্জন করেছে এমন শখানেক অথবা বেশী কোম্পানী আছে । সিকিউরিটি নিয়েও ভাল জানে এমন লোক আছে । তবে তাদের সাইটটি কেন এমন অদক্ষ কোম্পানীর হাতে গেল? কেন বার বার বলার পরও একে তারা গা করে নি?

তুর্কি হ্যাকারদের দ্বারা সাইট হ্যাকড

Click This Link
যা হোক ।

আজ হ্যাকাররা যখন একে মুছে দিয়ে নিজেদের কন্টেন্ট দিয়ে নোটিশ দেয় তখন কোনরকম অবাক বা সহমর্মিতা দেখানোর প্রয়োজন বোধ করি না ।

এরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গাফিলতে করবেন । শত্রুদের তখ্য উন্মুক্ত ভাবে বিতরণ করবেন । তারপর অমূল্য ক্ষতি হয়ে যাবার পর ব্লাডি সিভিলিয়ানদের নির্বাচিত সরকার প্রধানকে জড়িয়ে ধরে "সেনাবাহিনী নষ্ট করে ফেলছে" বলে হাউ মাউ করে কাঁদবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28935539 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28935539 2009-04-09 00:44:49
পদ্মা সেতুর নামকরণ কী জগৎজ্যোতি সেতু হতে পারে? দেশের একটি বৃহত্‍ স্হাপনা জগৎজ্যোতির নামে হোক
জগৎজ্যোতিকে স্বাধীন বাংলা বেতারে বারবার দেশের সর্বোচ্চ বীর খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ ঘোষণা দিয়ে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের দু:খজনক ইতিহাস আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি । অবিলম্বে তার নাম এবং বীরত্বের ইতিহাস পাঠ্য পু্স্তক সহ নানান প্রকাশনায় ছড়িয়ে দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শণ করা উচিত্‍।

আমার মতে সুনামগঞ্জ বা সিলেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের একটি উল্লেখযোগ্য স্হাপনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতির নাম সংযুক্ত করা হোক।

পদ্মা সেতুর নামকরণ কী "জগৎজ্যোতি দাস সেতু" অথবা "জগৎজ্যোতি সেতু" হতে পারে?


==================
জগৎজ্যোতি নিয়ে পুর্ববর্তী পোষ্টটি.... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28934533 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28934533 2009-04-06 22:25:11
সংশপ্তক মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি আমাদের ক্ষমা করুন! বীরশ্রেষ্ঠ নিয়েও চলেছে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের খেলা ভাস্কর চৌধুরীর লেখাটি পড়ে জগৎজ্যোতির সম্মন্ধে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠি। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যে আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ উপাধী থেকে প্রতিশ্রুতিভঙ্গ শুরু। স্বাধীন বাংলা বেতারে প্রচারিত প্রতিশ্রুতিতে এই মুক্তিযোদ্ধাকে বীর শ্রেষ্ঠ ঘোষণার কথা বার বার বলা হলেও মাত্র কয়েক মাস পরে '৭২ এর ৬ এপ্রিল প্রথম গেজেটে একমাত্র বীরশ্রেষ্ঠ উপাধী পায় মুন্সী আবদুর রউফ । বলাবাহুল্য ৩ জনকে বীরউত্তম, ১৪ জনকে বীরবিক্রম এবং ২৫ জনকে বীরপ্রতীক হিসেবে ঘোষণা দেয়া হলেও জগৎজ্যোতির দুরের কথা কোন গণ মুক্তিবাহিনীর যোদ্ধা এতে ছিল না । কেন? তবে কী এখানে অলিখিত বিধান ছিল যে জগৎজ্যোতির মত গণবাহিনীর সংশপ্তক যোদ্ধারা যতই বীরত্ব প্রদর্শণ করুক তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় উপাধী প্রযোজ্য নয়? পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ৬ ডিসেম্বর ৬ জন বীরশ্রেষ্ঠের নাম যুক্ত হয়। দেখা যায় জিয়া সহ সর্বমোট ৬৮ জন বীরউত্তম খেতাব পায় । কাদের সিদ্দিকী সহ মাত্র ২ জন আসে গণবাহিনী থেকে! (সুত্র: বীরশ্রেষ্ঠ , বীরউত্তমবীরবিক্রম , এবং বীরপ্রতীক দের তালিকা)।

জগৎজ্যোতি কে বীরশ্রেষ্ট উপাধি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকেস্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগঠক বেলাল মোহাম্মদ জানান, শহীদ জগৎজ্যোতিকে বীরশ্রেষ্ট খেতাব দেওয়ার ঘোষনা দেওয়া হয়েছিল একাধিকবার এবং তার বীরত্বগাথা প্রচার হচ্ছিল সম্মানের সঙ্গে। জাতির অস্তিত্ব রক্ষার এই যুদ্ধে জগৎজ্যোতির প্রত্যুতপন্নমতিত্ব, প্রাকৃতিকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন দায়িত্বরত এলাকায় নতুন নতুন রণকৌশল ও দুঃসাহসী সফল অপারেশনের কারণে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে একাধিকবার তার বীরত্বগাঁথা প্রচার হচ্ছিল সম্মানের সঙ্গে। আর একারণে তার প্রতি চরম ক্ষুদ্ধ ছিল পাক হায়েনারা।

জগৎজ্যোতি দাস বীরবিক্রম
’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভাটি বাংলার গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি দাস। বাবা মা আদর করে ডাকতেন শ্যাম নামে। যদিও কোন কোন তথ্যে সে কোন উপাধি পায় নি কিন্তু বীর বিক্রমদের তালিকা অনুযায়ী সেক্টর ৫ থেকে তাকে বীরবিক্রম উপাধী দেয়া হয়

কমিউনিষ্ট আদর্শে দিক্ষিত হলেন
হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের জীতেন্দ্র দাসের কনিষ্ঠ পুত্র জগৎজ্যোতি। শৈশব থেকে জ্যোতি শান্ত স্বভাবে হলেও ছিলেন প্রতিবাদী, জেদি, মেধাবী ও সাহসী । স্কুল জীবনেই জ্যোতি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৬৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করার পর সুনামগঞ্জ কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন এবং তেজোদীপ্ত, বিপ্লবী ও স্পষ্টভাষী ছাত্র নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন । ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে বিশেষ দায়িত্ব পালনে ভারতের গৌহাটির নওপং কলেজে ভর্তি হন। সেখানে অবস্থানকালে অনেকগুলো অঞ্চলের ভাষা আয়ত্ব করেন এবং ধীরে ধীরে নকশাল পন্থীদের সঙ্গে জড়িত হন। এখানে অস্ত্র গোলাবারুদ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা নিয়ে আবার দেশে ফিরে আসেন।

যুদ্ধ শুরু হলো
’৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে যখন সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয় । পাকবাহিনীর বর্বরোচিত হামলা ও নৃশংস হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে রূখে দাড়ানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেন জগৎজ্যোতি । যোগ দেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইকো-১ ট্রেনিং ক্যাম্পে। বাংলার ভাটি অঞ্চলের সুনামগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোনা এবং হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চল নিয়ে গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের ৭ নং সেক্টর। এ সেক্টরের কমান্ডারের দায়্ত্বি পান তৎকালীন মেজর শওকত আলী। ৭ নং সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের দায়্ত্বি দেওয়া হয় বর্তমান বিশিষ্ট নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে। তার অধীনেই প্রথমত জগৎজ্যোতি বিভিন্ন আক্রমণে অংশগ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে প্রশিক্ষিত চৌকস যোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত হয় গেরিলা দল, যার নাম দেওয়া হয় ফায়ারিং স্ট্কোয়াড ‘দাস পার্টি’।

কয়েকটি সফল অপারেশন
জগৎজ্যোতি ইংরেজি, হিন্দি, গৌহাটির আঞ্চলিক ভাষায় পারদর্শী হওয়ার সুবাদে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সঙ্গে তার যোগাযোগ সহজতর হয় । এর ফলে দাস পার্টির জন্য ভারতীয় মিত্র বাহিনীর জগৎজ্যোতি আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহে সমর্থ হন । দাস পার্টির উল্লেখযোগ্য একটি অপারেশন ছিল পাকবাহিনীর বার্জ আক্রমণ । ’৭১-এর ১৬ অক্টোবর পাকবাহিনীর সেই বার্জটিতে আক্রমণ চালিয়ে বার্জটি নিমজ্জিত করে। দাস বাহিনীর গেরিলা অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানী শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস শুরু করে। পরবর্তীতে পাহাড়পুর অপারেশন, বানিয়াচংয়ে কার্গো বিধ্বস্ত করা, বানিয়াচং থানা অপারেশনসহ বেশ ক’টি ছোট বড় অপারেশন দাস পার্টির যোদ্ধারা সফল ভাবে সম্পন্ন করে।

বদলপুর অপারেশন
বদলপুর অপারেশন ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি একটি বিশাল সাফল্য । জগৎজ্যোতির সঙ্গে ছিল বানিয়াচংয়ের মোহাম্মদ আলী মমিন, আমির হোসেন, খালেক মাস্টার, হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়া, আজমিরীগঞ্জের রাশিদুল হাসান চৌধুরী কাজল, মতিউর রহমান, নিত্যানন্দ দাস, ইলিয়াছ চৌধুরী, আঃ রশীদ, নিপেন্দ্র দাশ, ছাতকের আয়ুব আলী, আঃ মজিদ ও দিরাই উপজেলার আহবাব হোসেন এবং নীলু। জগৎজ্যোতির দল আজিমিরীগঞ্জ, মারকুলি, গুঙ্গিয়ারগাঁও প্রভৃতি অঞ্চলে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। বদলপুরে শত্রুসেনারা দাস পার্টির প্রতিরোধের মুখে পাকসেনারা শক্তি বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়। গুলি ছোড়ার জন্য হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয় । রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জগৎজ্যোতি র পাশে ছিল ইলিয়াস নামে আরেকজন অসীম সাহসী যোদ্ধা।

শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়ে গেলেন
পাক ক্যাম্প থেকে মাত্র ২০০ গজ দুরে রাজাকার/পাক সেনাদের আক্রমণে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে দাস পার্টি। রণাঙ্গণে পরিস্হিতির ভয়াবহ চিন্তা করে এক পর্যায়ে জ্যোতি তার দলকে ফিরে যাবার নির্দেশ দিয়ে একটি মাত্র এলএমজি নিয়ে নিজে একাই যুদ্ধ চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন । এজন্য জ্যোতি সহযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিনকে নির্দেশ দেন যাতে অন্যরা তাদের জীবন বাঁচিয়ে নিরাপদ স্হানে সরে যায় । এরপর দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন মাত্র দুইজন, জ্যোতি ও ইলিয়াছ। সুস্হির এবং দৃঢ় মনোবলের সঙ্গে তারা যুদ্ধ করতে থাকে একটানা কিন্তু হঠাৎ ইলিছাস পাঁজরে গুলিবিদ্ধ হন। জ্যোতি পিছু না হটে তার মাথার লাল পাগড়ি খুলে শক্ত করে ইলিয়াসের বুকে‌ এবং পিঠে বেঁধে দেয়, যাতে তার রক্তক্ষরণ থেকে যায়। ইলিয়াছ সেই অবস্হায় মেশিনগান নিয়ে ক্রমাগত গুলি ছুড়তে থাকে পাক হানাদারদের ওপর।

অবিশ্বাস্য হলেও তিন দিক থেকে আক্রমণ সত্ত্বেও দক্ষ যোদ্ধা জ্যোতির কাছে ভিড়তে পারেনি পাকসেনারা। যুদ্ধের এক পর্যায়ে ম্যাগজিন লোড করে শত্রুর অবস্থান দেখতে মাথা উঁচু করতে মুহুর্তে ১টি গুলি জগৎজ্যোতির চোখে বিদ্ধ করে( একটু সুত্র দাবী করে তার পাঁজর বিদ্ধ করে)। মেশিনগান হাতে উপুড় হয়ে পাশের বিলের পানিতে নিশ্চল হয়ে ঢলে পড়েন জ্যোতি ।

জনসমক্ষে ঝুলিয়ে রাখা হলো
রাজাকারেরা রাতে জ্যোতির মৃতদেহ (একটি সুত্রে বলা হয় তিনি তখনও বেঁচে ছিলেন) খুজে পেয়ে পাকবাহিনীকে খবর দেয় । তাকে আজমিরীগঞ্জ বাজারে নিয়ে যায়। রাজাকাররা জ্যোতি হত্যার ঘটনা ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য তার দেহ কে আজমিরীগঞ্জ গরুর হাটে একটি খুঁটির সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। তারপর চলে মৃতদেহ অবমাননা । একটি সুত্র দাবী করে জ্যোতি তখনও জীবিত ছিল এবং তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয় । হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি পরা জ্যোতির নিথর দেহটি কোন সৎকার ছাড়া ঝুলিয়ে রেখে পরে একসময় ভাসিয়ে দেওয়া হয় কুশিয়ারা নদীতে। কিন্ত্ত তার সহযোদ্ধারা তার মৃত্যুতে পিছু হটেনি । জগৎজ্যোতি ছিল তাদের কাছে জীবনের বিনিময়ে দেশের জন্য যুদ্ধ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত । জগৎজ্যোতির বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের কাহিনী সিলেটের সেই অঞ্চলের মানুষের কাছে এখনে মুখে মুখে ফেরে ।

বিস্মৃতির অতলে জগৎজ্যোতি
ছিটে ফোটা দু একটি লেখা ছাড়া খুব কমই আলোচনায় এসেছে এই মহান বীর । মইদুল হাসানের "মূলধারা একাত্তরে" পড়েছিলাম আওয়ামীলীগের একটি অংশ ছাত্রইউনিয়ন সহ দলের বাইরের কোন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতির পক্ষে ছিল না ।

জগৎজ্যোতির কমান্ডার সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দেশের ক্ষমতাশীল দলের কান্ডারীদের একজন হয়ে তার ভাগ্য বদলেছেন । চ্যানেল আইতে তৃতীয় মাত্রা সহ একাধিক টিভি অনুষ্ঠানে তাকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে দেখেছি ।কিন্তু এই যোদ্ধার নাম ভুলেও বলতে দেখিনি । হয়তো পুরনো কাহিনী বলে সবাই ভুলে গেছে ।

সামহোয়ারইন থেকে শুধু একটি কথাই বলতে পারি, আমাদের ক্ষমা করুন জগৎজ্যোতি!

সূত্র:

ক. ভাটিবাংলায় মুক্তিযুদ্ধ এবং দাস পার্টি , রাশেদ আহমেদ খান, দৈনিক সমকাল, ৮ ডিসেম্বর ২০০৬।
খ. মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শহীদ তিন ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতিদাস, তালেব ও গিয়াস ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28934259 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28934259 2009-04-06 12:42:42
সামহোয়ারইন এর দৃষ্টি আকর্ষণ: পোষ্ট এবং কমেন্টে ব্লগারের আইপি হ্যাশ প্রকাশ করুন
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28934140 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28934140 2009-04-05 23:42:09
সামহোয়ারইন, স্প্যামার ঠেকাতে আইপি হ্যাশ প্রকাশ করুন একটি বিশেষ গোষ্ঠির মত প্রকাশের উদ্দেশ্যে একই ব্যক্তি অনেকগুলো একাউন্ট খুলে সংকলিত পোষ্টের পাতাটি দখল করে নিতে পারে, বিভিন্ন নামে প্লাস/মাইনাস দিতে পারে। একই উপায়ে কমেন্ট ফ্লাডিং ও হচ্ছে অহরহ। আমি দেখেছি কিছু ব্লগার পোষ্টে একই রকম কমেন্ট করছে একই কায়দায়। দেখলে মনে হয় যে কমেন্ট পোষ্ট করছে সে আসলে ডজন খানেক ভিন্ন নামে লগ ইন করছে

এখন দুটো উপায়ে পরিস্হিতির উন্নতি করা যায় ।
ক. একই আইপি থেকে মাত্র একজন কে রেজিস্টার করতে দেয়া।
খ. আইপি সবার সামনে উন্মুক্ত করে দেয়া যাতে সন্দেহজনক ব্লগার কে রিপোর্ট করা সম্ভব হয় ।

প্রখম উপায়টি বাস্তব সম্মত নয় । প্রাইভেট নেটওয়ার্কে একটি আইপিতে একাধিক ব্যবহারকারী থাকতে পারে । প্রক্সি ব্যবহার কারীরা আবার সত্যিকারের আইপি লুকিয়ে প্রক্সির আইপিতে ব্রাউজ করতে পারেন ।

দ্বিতীয় পদ্ধতিটি ভাল এবং একসময় জনপ্রিয় ছিল। নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে আইপি টি এখন আর প্রকাশ করা হয় না । এজন্য আমার প্রস্তাবনা হল আইপির বদলে তার হ্যাশ কোড টি প্রকাশ করা হোক। হ্যাশিং হল এক ধরণের একমুখী এনক্রিপশন । অন্যান্য এনক্রিপশনের চেয়ে হ্যাশের তফাৎ হলো হ্যাশ কোড দেখে বলার উপায় নেই কাকে হ্যাশ করে এটা জেনারেট করা হয়েছে কিন্তু যদি দুটো হ্যাশ মিলে যায় তবে নিশ্চিত যে তাদের মূল শব্দ একই । কৌতুহলী পাঠকরা অনলাইনে হ্যাশ জেনারেট করার জন্য এখানে দেখতে পারেন। নানান আইপি দিয়ে দেখুন। যদি একই আইপি হয় হ্যাশও একই হবে । এখানে md5 নামক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে । এরকম অনেক পদ্ধতি আছে যা এখানে বর্ণনা করতে বিরত থাকলাম ।

মোদ্দা কথা আইপি হ্যাশিং করলে যে কোন আইপির বদলে ৮ থেকে ৩২ বাইট এর কোড জেনারেট হবে এবং । এরকম একটি হ্যাশ কে প্রকাশ কোড বা প্রকাশক কোড নামে যদি প্রতিটি পোষ্ট এবং কমেন্টের পাশে দেয়া হয় তবে যে কেউ বুঝতে পারবে স্প্যামিং বা ফ্লাডিং এর উত্‍স কি একই কিনা ।

হ্যাশিং সামহোয়ারইন এর ইঞ্জিনিয়ার কাছে পরিচিত হওয়ার কথা । এখানে মাত্র ১ লাইন পিএইচপি প্রোগ্রাম দিয়ে হ্যাশ করার উপায় বলে দেয়া আছে : http://us.php.net/manual/en/function.hash.php

প্রাইভেট নেটওয়ার্কের একাধিক কম্পিউটার আইপি ব্যবহার করে, সুতরাং তাদের হ্যাশও মিলে যাবে, তাই না?
ঠিক।আইপি দিয়ে ট্র্যাকিং নিখুত পদ্ধতি নয় কিন্তু জানা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে কার্যকর । একাধিক ব্লগারের পোষ্টে যদি একই আইপি হ্যাশ/প্রকাশ কোড দেখতে পান তবে তারা একটি অফিস বা প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে এটাও হতে পারে । একই প্রকাশ কোড মানে যে স্প্যামার সেটা নিশ্চিত না হলেও কমেন্ট বা পোষ্টের ধরণ দেখে বুঝতে কষ্ট হবে না এটা কতটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত
ডাইনামিক আইপি তে এটা কী কার্যকর হবে?
ডাইনামিক আইপি তে ভিন্ন হ্যাশ/প্রকাশ কোড হবে । বার বার আইপি পরিবর্তন করা ঝামেলার । এখন হয়তো একই লোক আরামে ১০ টা পোষ্ট করে যাচ্ছে ভিন্ন নামে । প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি তার জন্য কাজটা কষ্টকর করে দেবে ।

হ্যাশ কৃত কোড কি ক্র্যাক করা যাবে ?
না ।এটি একমুখী প্রক্রিয়া, মানে জেনারেটেড হ্যাশ থেকে উত্‍স জানা প্রায় অসম্ভব। আর শুধু আইপির মত তথ্য হ্যাক করার জন্য কে প্রচুর সময় খরচ করতে যাবে?
উপসংহারে বলতে চাই যে সামহোয়ারইন প্রতিটি পোষ্ট এবং কমেন্টে আইপির হ্যাশ কোড বা "প্রকাশ কোড" যুক্ত করুক । এতে সব না হলেও অনেক ক্ষেত্রেই স্প্যামার বা ফ্লাড কারীকে সনাক্ত করণ সম্ভব হবে । যারা ইচ্ছেমত একাউন্ট তৈরী করে সামহোয়ার এর পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে তারাও সতর্ক হতে বাধ্য হবে ।

সহায়ক সাইট: http://www.miraclesalad.com/webtools/md5.php , http://us3.php.net/md5 , Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28933631 http://www.somewhereinblog.net/blog/torpon/28933631 2009-04-04 20:48:40