somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেই বেশ্যা মেয়েটির কথা মাঝে মাঝেই মনে পড়ে!(১৮+)

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৯:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯১ এর কথা। আমি তখন ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর সেকেন্ড ইয়ার এ পড়ি। থাকি জহির রায়হান ছাত্রাবাসে। একদিন আমার ফুফাত ভাইয়ের কেব্‌ল ফ্যক্টরীর হেড মিস্ত্রীর অনুরূধে তার ছোট ভাইয়ের বিয়েতে বর যাত্রী হলাম সংগে ক্যামেরা। মূলত ক্যামেরার জন্যে ই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দাওয়াত পেলাম। কনের বাড়ী ঢাকার দক্ষিনখান এ। বিয়ে বাড়ীতে যা হয়, অনেক হই হুল্লোড় আর ছবি তুললাম। একটা সুন্দরী বেয়াইন ও ছিল যা না বললে মিথ্যা বলা হবে। মূলত সুন্দরী বেয়াইন এর সাথে আড্ডা আর ছবি তুলতে তুলতে ই বর-কনের সাথে সদরঘাটের দিকে রওয়ানা হলাম। বর কনে কে নিয়ে বরিশাল যাবে আর আমার গন্তব্য সদরঘাট পর্যন্ত। তার পর আমাকে ছাত্রাবাসে ফিরতে হবে পরের দিন ক্লাস টেস্ট আছে।
তখন রামপুরা থেকে সদরঘাট পর্যন্ত মুড়ীর টিন জাতীয় কিছু বাস চলত। ভাবলাম তাতে করে গুলিস্হান গিয়ে ৬ নম্বর বাসে সাত রাস্তা নেমে হোস্টেলে। কিন্ত বাসে যত্রীদের এতটাই ভীড় ছিল যে আমার পক্ষে উঠা সম্ভব হলনা। আস্তে আস্তে হাঁটা শুরু করলাম গুলিস্হানের দিকে। একটু সামনে আসতে ই দেখলাম ইংলিশ রোড। বিভিন্ন সাইন বোর্ডে ইংলিশ রোড লেখা দেখে মনে একটা কৌতুহল জাগল তখনকার দিনে ঢাকার বিখ্যাত পতিতালয়ের ব্যপারে। হাঁটছি আর উকি ঝুঁকি মারছি গলির এ দিক সেদিক। ঠিক কোন জয়গাতে পতিতালয় আমি জানতামনা। এক সময় দেখলাম একটা বাড়ীর সামনে অনেক মানুষের জটলা। আর বাড়ীর গেটে,সিড়ীতে, বেলকনীতে বিভিন্ন ধরনের মেয়ে কেউ শাড়ী পড়া, কেউ স্যালোয়ার কামিজ ওড়না বিহীন ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপ্‌স্টিক মেখে বিভিন্ন ভঙীতে খদ্দের কে আকৃষ্ট করায় ব্যস্ত। কেওবা ইশারা করছে ভিতরে যাওয়ার জন্যে।
আমি খুব মনোযোগ দিয়ে ওদের কে দেখছিলাম আর অনেক রকম চিন্তা করছিলাম। এমন সময় কেউ একজন বলে উঠল পুলিশ! পুলিশ! মূহুর্তের মধে স্হানটা ফাঁকা হয়ে গেল আমি একা রয়ে গেলাম। আমি কিছু ভেবে উঠার আগে ই কয়েকটা মেয়ে আমাকে চ্যং দোলা করে ভিতরে নিয়ে গেলো। আমার তখন কি যে অবস্হা বলে বোঝাতে পারবনা। ভয়ে আমার আমার শরীর কাঠ হয়ে যাচছিল আর ভাবতেছিলাম আজকে ই বুঝি আমার কৌমার্যের যবনিকা হবে কোন এক ব্যশ্যার কাছে।নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলাম কেন আসলাম এখানে। ওরা আমাকে তল্লাশী করে সংগে যা টাকা পয়সা ছিল নিয়ে নিল এমনকি প্যান্টের পকেটে থাকা রুমালটা।বললাম এবার আমাকে যেতে দাও। সংগে সংগে একজন আমার কান ধরে বলল কোথায় যাবি নাগর? এই খানে চুপ করে বস্‌।ভয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। আমার দুপাশে তাকিয়ে দেখলাম ছোট ছোট পর্দা দিয়ে ঘেরা কিছু খুপরি। এর সব গুলোতে ই বিভিন্ন শ্রেনীর নাগররা তাদের পছন্দ মত ব্যশ্যাদের নিয়ে আনন্দ লীলায় মেতে আছে। কোন কোন পর্দার নীচে দিয়ে নগ্ন দুই জুড়া পা দেখা যাচ্ছে। আবার কোন কোন পর্দার ভিতর থেকে যৌন লীলায় মত্ত যুগলের অস্ফুট শব্দ আসিতেছে। ওখানকার পরিবেশটা এতটাই শ্যাত্‌ শ্যেতে যে আমার দাড়িয়ে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। বেশ কিছুক্ষণ পর একজন সর্দার্ণী গোছের মহিলা আরেকজন যুবতীকে আমাকে দেখিয়ে বলল এই ডিস্‌কো ছেঁড়ারে চোদা(নাওযুবিল্লাহ)। আমি ঐ মহিলার কাছে হাত জোড় করে মাফ চাইলাম। কিন্ত সে কিছুতেই মানবেনা, তার ভাষায় ঐ মেয়ের সাথে আমার যৌন ক্রীয়া করতেই হবে না হলে বড় সর্দারনী যেতে দিবেনা। আমি অনেক অনুনয় করে বুঝাতে চেষ্ঠা করলাম আমি এ কাজ কিছুতেই করবনা।
এক পর্যায়ে ওকে বললাম তুমি সর্দারনীকে বলো আমি তার সাথে যৌন ক্রীয়া করেছি।
এ কথা বলার সাথে সাথে তার সেকি গর্জণ"হারামীর বাচ্চা আমরা বেহালালী পয়সা খাইনা" অর্থাৎ আমার সাথে কাজ না করে পয়সা নিলে তা তার জন্যে বেহালালী। আমি থ মেরে গেলাম বলে কি মেয়েটা? পরক্ষণেই আমার দুচোখ দিয়ে পানি এসে গেল এ জন্যে যে আর বোধ হয় এখান থেকে বেরুতে পারবনা এ পাপ কাজ সম্পন্ন না করে। অনেক চেষ্ঠা করে এক সময় ওরা ব্যর্থ হল এবং আমাকে ঘাড় ধরে এক ধাক্কা দিয়ে গেট দিয়ে বের করে দিল।

এখনো মাঝে মাঝে ঘটনাটা মনে পড়ে আর ভাবি সেই দেহ পসারিনীর যেটুকু হালাল হারাম ধারনা আছে কোন কোন সময় আমাদের তা ও হয়ত থাকেনা। থাকলে আমাদের দেশে ঘুষ আর দূর্নীতি অনেক কমে যেত।

এটা আমার বাস্তব অভিঞতা। আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম যা আমার একান্ত কাছের দু এক জন বন্ধু ছাড়া আর কারো সাথে এর আগে শেয়ার করিনি।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:৩৩
২২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×