somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুমারিত্বের পরিচয় ঘ্রাণে

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিনের আলো ফিকে হয়ে আসে। মেয়েটিকে দেখে পিছু নেয় ছেলেটি। এক সময় দ্রুত টপকে যায় তাকে। যাবার সময় ওর শরীরের এক ঝলক ঘ্রাণ নাকে এসে লাগে ছেলেটির। ঘ্রাণটা তার মন কেড়ে নেয়। এবার সে পিছনে ফেরে। ভাবে এই হয়তো সেই নারী যাকে সে সারা জীবন ধরে খুঁজে এসেছে। মেয়েটির পিছু পিছু এগোতে থাকে সে। এবার তার লৰ্য হয় মেয়েটির মনোরঞ্জন।

না, কোন মানব-মানবীর ব্যাপার নয় এটা। এখানে বলা হচ্ছে ৰুদে ইতর প্রাণীদের কথা। এভাবে শরীরের এক ঝলক ঘ্রাণ নিয়ে পুরুষ প্রাণীটা প্রকৃত অর্থে তার জীবনসঙ্গিনী বা প্রেমিকাকে নির্বাচন করে না, বরং নির্ণয় করে সেই স্ত্রী প্রাণীর কুমারিত্ব। এই কৌশল প্রয়োগ করে তৃণভূমির প্রণয়শীল ইঁদুর, বাদামী মূষিক, টিকটিকি, এমনকি কাঁচপোকা, মাকড়সা ও মৌমাছি পর্যনত্ম। প্রণয়ের ৰেত্রে এ ধরনের ঘ্রাণ নেয়ার গুরুত্ব আছে। অনেক পুরম্নষ তার সম্ভাব্য সঙ্গিনীটি কুমারী কিনা, কুমারী না হয়ে থাকলে কতবার দৈহিকভাবে মিলিত হয়েছে স্রেফ ঘ্রাণ নিয়েই তা নির্ণয় করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে পুরম্নষ জাতের মেটে ইঁদুর (লেমাস সিবিরিকাস) সদ্য সঙ্গম করা স্ত্রী ইঁদুরের চেয়ে কুমারী ইঁদুরের ঘ্রাণ বেশি পছন্দ করে। মনে হয় পুরম্নষরা ঘ্রাণকে একটা নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করে। স্ত্রী জাতের মধ্যে যাদের একাধিক পুরম্নষসঙ্গী আছে তাদের শরীরের ঘ্রাণ কুমারীর ঘ্রাণ থেকে অতিমাত্রায় আলাদা। কারণ উভয়ের শরীরে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল তৈরি হয়।

কীটপতঙ্গের জগতও যৌনতার ঘ্রাণে মাতোয়ারা থাকে। লীফ মাইনার ফ্লাই নামে এক ধরনের মাছি আছে। এদের স্ত্রী জাতের মাছিরা সঙ্গম না করা অবস্থায় ডাইমিথাইল মোনাডিকেন নামে এক ঘ্রাণময় কেমিক্যাল উৎপাদন করে। কিন্তু সঙ্গমের পর এর মাত্রা কমে যায়। মৌমাছিদের মধ্যেও দেখা গেছে, সঙ্গমের পর স্ত্রীজাতের মৌমাছির শরীর থেকে একধরনের কেমিক্যালের ৰরণ ঘটে যা কুমারীদের শরীর থেকে হয় না।

বিভিন্ন গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, অনেক প্রজাতির বেলায় শরীরী ঘ্রাণ সফল প্রজননের জন্য একানত্মই প্রয়োজনীয় হতে পারে। প্রাণীরা তাদের যৌনতার অবস্থা গোপনে ঘ্রাণের মাধ্যমে তিনভাবে প্রকাশ করে থাকে। প্রথমত, দেখা হবার পর স্ত্রী জাতের প্রাণীরা এমন ঘ্রাণ উৎপাদন করতে পারে যা অন্য পুরম্নষদের তাড়িয়ে দেবে। দ্বিতীয়ত, স্ত্রীরা সঙ্গম করার পর পুরম্নষকে প্রলুব্ধকারী ফেরোমন ৰরণ করা বন্ধ করে দিতে পারে। জিপসী মথের বেলায় এমনটা ঘটতে দেখা যায় যাতে করে গর্ভবতী স্ত্রী অন্যান্য প্রণয়লিপ্সুু পুরম্নষদের দ্বারা উত্ত্যক্ত না হয়ে নিশ্চিনত্মে চলে ফিরে বেড়াতে পারে। সর্বশেষ, পুরম্নষ বা যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত থাকাকালে সঙ্গিনীর গায়ে কেমিক্যালের প্রয়োগ ঘটাতে পারে। গোপনে এমন ঘ্রাণ গায়ে ঘষে দিতে পারে যাতে করে প্রতিদ্বন্দ্বীরা পরবতর্ীকালে তাদের সঙ্গিনীর সঙ্গে মিলিত হওয়া থেকে বিরত থাকে।

ফলের মাছি ড্রোসোফিলিয়া মেলাপোগাস্টার যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত অবস্থায় পুরম্নষরা স্ত্রীদের গায়ে ৭-ট্রাইকোসিন নামে এক জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ স্থানানত্মর করে। স্রেফ শরীরী সংস্পর্শের দ্বারা দুই বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে ফেরোমোন স্থানানত্মরের এটাই একমাত্র জানা দৃষ্টানত্ম।

প্রশ্ন হচ্ছে পুরম্নষরা কেন সঙ্গিনীর কুমারিত্ব নির্ণয় করতে যায়? কোন স্ত্রীটি অন্যের সঙ্গে প্রজনন করেছে সেটাই বা কেন তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন হয়? সে প্রশ্নের জবাব নির্ভর করছে প্রত্যেক প্রাণীর নিজ নিজ প্রজনন ব্যবস্থার ওপর। একগামী প্রাণীরা একটা সময়ে একজনের সঙ্গেই কেবল মিলিত হয়। এ অবস্থায় কোন স্ত্রীর যৌনতার অবস্থা উভয় লিঙ্গের জন্য কল্যাণজনক সেই সঙ্কেত দেয়ার জন্য তারা ফেরোমোন ব্যবহার করে থাকে। এর অর্থ পুরম্নষদের উপযুক্ত স্ত্রীকে খুঁজে বের করতে সময় অপচয় করতে প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে স্ত্রীদেরও একসঙ্গে বহু পুরম্নষের দ্বারা হয়রানির শিকার হতে হয় না। আবার যেসব প্রাণী বহুগামী অর্থাৎ একসঙ্গে একাধিক পুরম্নষ একটি স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয় সেখানে কুমারী স্ত্রীকে খুঁজে বের করা স্বভাবতই সুফলদায়ক। সেটা অবশ্য পুরম্নষদের দিক থেকে দেখলে। আর স্ত্রীদের বেলায় সেই সুফলটা তত পরিষ্কার নয়। অগ্রহণযোগ্য সঙ্গিনী হিসেবে চিহ্নিত হলে সেই স্ত্রী প্রাণীটির পৰে সেরা পুরম্নষ সঙ্গীকে খুঁজে বের করা সম্ভব নাও হতে পারে।
সূত্র: ইন্টারনেট
১২টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×