মাননীয়, আলেম সমাজ দয়া করে আমাদের রাতের ঘুমের বারোটা বাজাবেন না।
এই এক নতুন সমস্যা, গ্রীষ্মের গরম শুরু হলেই আমাদের মাননীয় আলেম সমাজ রাতের পর রাত বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গিয়ে পাড়াবাসীকে ঘুমাতে না দিয়ে তাদের জাগিয়ের রেখে ইসলামের ভালো ভালো বিষয় নিয়ে পাঁচ- ছয়টি মাইক বাজিয়ে নসিহত করেন। কিন্তু একটি বিষয় ভেবে দেখেন না মানুষকে বিরক্ত করে কোন ভালো বিষয়ও ভালো লাগানো সম্ভব নয়। দিনে অফিস করে নানা ঝুট ঝামেলায় বাসায় ফিরে একটু বিশ্রাম নেবো তার ব্যবস্থাও নেই হলে বিদ্যুৎ নেই নইলে পানি নেই নানা হ্যাপা সামলে রাতে গরমের চরমতাকে মেনে নিয়ে যে একটু ঘুমাবো তাতে আবার বাদ সাধেন আমাদের আলেম সমাজ নইলে বিভিন্ন ব্যন্ড সংগীতের নামের আরেক দুষ্ট চক্র। রাতের পর রাত এই চলে, বিভিন্ন ভাবে শব্দ দুষণের প্রতিযোগীতা। যেন কার থেকে কে বেশী বিরক্তিকর শব্দ দূষণ করে এলাকাবাসীর রাতের ঘুমের বারোটা বাজানো যেতে পারে। তাদের তো আর আমাদের মতো সকাল হতেই নাকে মুখে দুটো গুজে দিয়ে অফিস করে বসের বা কায়েন্টের নানামুখী নাকানীচুবানী খেতে হয়না। রাত জাগা নিশাচরের মতো জেগে থেকে ভোরে ঘুমালেন আর বেলা ২টার নাস্তা করলেন। আমাদের তো আর সেই কপাল নেই।
তাই দয়া করে আমাদের দুঃখটা একটু বোঝার চেষ্টা করুন। সামনে তো বলতে পারিনা। তাই ব্লগের আশ্রয় নিলাম।
একটি ব্যপার দেখেছি, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান গুলো মানুষকে যত ভাবে বিরক্ত করে অন্যগুলো তার ধারে কাছে যেতে পারেনা। কি পূজা চার পাঁচ দিন যাবৎ হরদম লাগাতার মাইক বাজতেই থাকে কেউই যেনো দেখার নেই। কি ওয়াজ মাহফিল চলতেই থাকে। প্রশাসন ও কানে তুলো গুজে থাকে। চোখে ঠুলি পরে থাকে।
কোথায় আমাদের শিতি জনসমাজ তাদের প্রতিবাদ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে না তারা আরও ঝাপিয়ে পড়ে এই ভন্ডামী গুলোকে উস্কে দিতে। কেন ধর্মীয় ব্যপারটা পালন করা নিজের ভিতরে করা যায় না। আনন্দ প্রকাশ করতে অন্যকে বিরক্ত করতে হবে কেন???
আরেক উপদ্রব ব্যান্ড শো, গায়ে হলুদ বা বিয়ে সাড়া পাড়াকে জাগিয়ে রাখতে হবে। যেনো আমি সারা জীবন বিয়ে করে যন্ত্রনায় পুড়বো তোমরা কেন একরাত আমার জন্য পুড়তে পাড়বে না। এভাবে যদি সবাই চিন্তা করে তবে আমাদের বধির ও হৃদরোগী হতে বেশী দেরী নেই।
বিধাতার কাছে একটি প্রশ্ন আপনি আমাদের না দেখার জন্য চোখের উপর একটি পর্দা দিয়েছেন। কিন্তু কেন আমাদের কানের উপর এমন একটি ব্যবস্থা রাখলেন না। তবে তো যে যেমন চায় তেমন চেচিয়ে গেলে ও মাইক বাজাক , হর্ন বাজাক আমাদের বিরক্ত হতে হতো না।
তাই আমার দুটি দাবী হয় বিধাতা আমাদের কানের উপর এমন ব্যবস্থা করুন যাতে আমরা অপ্রয়োজনীয় শব্দ শুনা থেকে রেহাই পেতে পারি। অথবা সেই সকল অবুঝদের একটু বোধ শক্তি দিন।
মানুষ আর কবে মানুষ হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


