
ফারুক দৌড়াতে দৌড়াতে বাইরে এসে কোন রকমে থামল। দ্রুত এদিক ওদিক তাকিয়ে লোকজনের ভিড়ে কাকে যেন খুঁজল। তাকে পাওয়া মাত্র ফারুক আবার দৌড়ানো শুরু করল। “স্যার, স্যার।” – সোমনাথ এর বহু পরিচিত শব্দ ও কন্ঠটি শুনতে পেরে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখল তার সামনে ফারুক হাঁপাচ্ছে। সোমনাথ ফারুকের চেহারা দেখে বুঝল কোন গুরুতর বিষয়। ফারুক অনুমতির অপেক্ষা না করেই হড়বড় করে বলা শুরু করল, “স্যার বেড-টেন এর আবার সেই পাগলামি করা শুরু করেছে, নিজে নিজে প্রলাপ বকছে, হাত পা ছুড়ছে, মনে হচ্ছে আবার কার্ডিয়াক এরেস্ট এ যাচ্ছে।”
সোমনাথ দৌড়িয়ে দশ নম্বর বেড এর সামনে আসল। সেই দিনের মত আবার ছেলেটার চেহারা পুরো রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। মনে হচ্ছে সব রক্ত মাথায় জমে গেছে, যে কোন স্বাভাবিক লোক দেখলে ভয় পেতে বাধ্য, যেমন সোমনাথ পেয়েছিল প্রথম বার। সোমনাথ সাথে সাথে ইঞ্জেকশন দেবার ব্যাবস্থা করল। কয়েক জন দিয়ে ধরে স্থির করে ইঞ্জেকশন দিল সোমনাথ, কিন্তু তাতে মনে হয় আরো হিতে বিপরীত হল, ছেলেটা অদ্ভুত ভঙ্গীতে আরো জোরে লাফাতে লাগল। তাকে বাঁচাতে হলে এখন শক দিতে হবে, এই ভেবে সোমনাথ তার শক মেশিন রেডি করল।
রেডি করার মাঝেই ইকো অনবরত পি পি করে স্তব্ধ হার্টের কথা জানান দিচ্ছে। সোমনাথ দ্রুত শক মেশিন বুকে লাগিয়ে ফারুককে নির্দেশ দিল –“কুইক ৩, ২, ১ – গো ...”।
১
সঞ্জীব হলফ করে বলতে পারবে শকটা সে খেয়েছে। প্রচন্ড ধাক্কা, তারপর হঠাৎ যেন সবকিছু স্থির হয়ে গেল। বীথিকার চিৎকারে সঞ্জীবের হুশ ফিরল। সেই সংঘাত পূর্ণ রাজপথ, চারপাশে ভীত পায়ের ছোটাছুটি, তার মাঝে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে সঞ্জীব।আবারও বীথিকার চিৎকার "সঞ্জীব পালা"।
বীথিকার চিৎকারে কি যেন ছিল, সঞ্জীবকে মুহুর্তের মধ্যে সজাগ করে তুলল, তার সমস্ত ইন্দ্রিয় যেন শিড়ঁদাড়া দিয়ে মস্তিষ্কে বিপদ সংকেত পাঠাচ্ছে, শরীরের প্রতিটি কোষের যেন মস্তিষ্কে বলছে “পালা সঞ্জীব, পালা”।
সঞ্জীব দু হাতে ভর দিয়ে উঠে দাড়াল, ডান চোখে ঝাপসা হয়ে গেছে রক্তের ধারায়, রিডিং গ্লাসটা হাত কয়েক দূরে দুমড়ে মুচড়ে পড়ে থাকতে দেখল সঞ্জীব। সেদিকে আর ভ্রুক্ষেপ না করে পিছনে ঘুড়ে তাকাল।
পিছনে এলোপাথারি গুলি ছুড়তে ছুড়তে দৌড়ে আসছে সশস্ত্র ক্যাডাররা, সাধারণ ছাত্ররা এখনো যে যেদিকে পারছে ছুটছে। রাস্তায় সঞ্জীবের মত কয়েকজন পড়ে আছে বিভিন্ন ভঙ্গিতে, যেন তারা এই নৃশংস কাজের প্রতিবাদে নিরবতা পালন করছে। সঞ্জীব দৌড় দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু পাশ থেকে ধাক্কা খেয়ে আবার মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ল। পিঠে কার যেন ছায়া অনুভব করল, অনেক কষ্টে ঘুরে তাকাল। কিন্তু ঘুরে তাকিয়ে মনে হল সময় যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।
তার চোখের সামনে ধরা অস্ত্রটি মনে হল যেন তাকে সম্মোহিত করে ফেলেছে। সঞ্জীব সাহায্যের জন্য চিৎকার করল, কিন্তু সেই শব্দ কেন যেন তার গলা থেকে বের হচ্ছে না। সঞ্জীবের শরীরের কোন অংশ কথা শুনছে না। সঞ্জীব বাঁচতে চায় কিন্তু তার শরীর এর ওজন যেন কয়েকশ টন হয়ে গেছে। সঞ্জীব স্পষ্ট দেখত পেল, বন্দুকের হ্যামারটা বারি খেল যেন তার বুকে সজোরে।
সারা শরীরে ব্যাথা ছড়িয়ে পড়ছে। সঞ্জীব এখনও চিৎকার করে চলছে, কিন্তু কোন শব্দ বের হচ্ছে না। সঞ্জীব ভাবল "তবে কি এইখানেই আমার ইতি? কিন্তু আমার যে অনেক কিছু করার ছিল, কত স্বপ্ন ছিল, আমার মায়ের কি হবে, তাকে দেখে রাখবে কে? আমার বোন এর বিয়ের সময় তাকে বিদায় দিবে কে? বীথিকাকে যে আমি ভালবাসি সে কথা কি অব্যক্তই রয়ে যাবে?"। ক্রমশ সঞ্জীবের দৃষ্টি ঘোলা হয়ে যাচ্ছে, চেষ্টা করেও চোখ খোলা রাখতে পারছে না। হঠাৎ মনে হলে সঞ্জীব যেন বিশাল খাদে পড়ছে, পড়ছেই, চিৎকার করছে, ঠায় খুঁজছে কিছু একটা ধরবার জন্য, কিন্তু পাচ্ছে না। অনন্ত গভীরতায় পতন যেন হচ্ছে তো হচ্ছেই, অসহায় সঞ্জীবের।
২
হঠাৎ করেই সঞ্জীব যেন আচমকা ধাক্কা খেল, ধড়ফড় করে উঠে বসল। চারপাশ অন্ধকার, শোঁ শোঁ আওয়াজ,সঞ্জীব কি বেঁচে আছে? তাড়াতাড়ি করে গালে হাত দিল, বুকে হাত দিল, নাহ্ গালে কোন কাটা নেই, বুকে কোন ক্ষত নেই। সঞ্জীব কাঁপুনি অনুভব করল। আশেপাশে হাতড়ালো কাঁপুনির উৎস খোঁজার জন্য। মোবাইলটা পেয়ে গেল, এখনও মোবাইলটা ভাইব্রেট করে চলছে, কলার বীথিকা। সঞ্জীবের মনে হল অশরীর কেউ এক জন তার সাথে মজা করছে, শীড় দাঁড়া বেয়ে নেম গেল কেমন এক অসুস্থ অনুভূতি। সঞ্জীব এক লাফে উঠে দাঁড়াল, সকল ইন্দ্রিয় তীব্র সজাগ, সেই অশরীর কে অনুভব করার জন্য প্রস্তুত তারা। সন্তপর্ণে এগিয়ে গিয়ে ঘরের লাইট টা জ্বালাল। বাথরুমের লাইটাও জ্বালাল।
আলোর উপস্থিতিতে সঞ্জীব অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ফোনটা সে রিসিভ করল -
বীথিকাঃ কিরে ঘুম থেকে উঠলি অবশেষে ?
সঞ্জীবঃ উউম
বীথিকাঃ এখনও উঠিস নাই? ৭ টায় কিন্তু ভার্সিটিতে হাজির থাকতে হবে।
সঞ্জীবঃ উউম
বীথিকাঃ উউম কিসের? এখন কিন্তু প্রায় ৬ টা বাজে। তাড়াতারি উঠ, না হলে কিন্তু পৌঁছাতে পারবি না।
সঞ্জীবঃ হুম, উঠসি, রেডি হয়ে আসতেছি তখন কথা হবে। রাখি।
সঞ্জীব কোন রকমের প্রতি উত্তরের অপেক্ষা ছাড়াই লাইন কেটে দিল, বীথিকার সাথে কথা বলার সময় বার বার স্বপ্নের ঘটনা মনে পড়ছিল।সঞ্জীবের এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে ওইটি স্বপ্ন ছিল, মনে হচ্ছে এইটাই বরং স্বপ্ন, বাস্তব নয়। এই চিন্তা করতে করতে সঞ্জীব ব্রাশ নিয়ে বাথরুমে ঢুকল, ভার্সিটির জন্য রেডি হতে।
৩
সঞ্জীব ইদানিং খুব বাজে স্বপ্ন দেখছে। একদিন মানসিক রোগী তো আরেক দিন গুলি খেয়ে মরছে। কিন্তু স্বপ্ন গুলো এত সত্য মনে হয় যে, সঞ্জীবের নিজেরই মনে হয় ওই গুলো সত্য, এই বাস্তবতাই বরং ঘোর। শুয়ে থেকে এই গুলো ভাবতে ভাবতে প্রায় চোখ লেগে এসেছিল সঞ্জীবের। কিন্তু হতচ্ছাড়া কলিং বেল টা যেন সেই চিন্তার ধারায় বাঁধ বসালো।
সঞ্জীব ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুলে দেখল তার সামনে বিথীকা দাঁড়িয়ে আছে। বিথীকাকে হঠাৎ দেখতে পেয়ে অবাক হল সঞ্জীব। তাই দরজা থেকে সরে দাঁড়িয়ে বিথীকাকে ঘরে ঢুকতে বলার কথা মাথায়ই আসল না।
“কই, ভিতরে ঢুকা যাবে না?” – বিথীকার কথায় আবার সম্বিত ফিরে পেল সঞ্জীব। ঢুকতে দিল বিথীকাকে। বিথীকাকে বসতে দিয়ে কিছু হাল্কা খাবার আনতে গেল সঞ্জীব ভিতরের রুমে।
“ধন্যবাদ তোকে।” আপেল টা টুকে নিতে নিতে বলল বিথীকা। অন্যমনস্ক হয়ে পড়া সঞ্জীব প্রথমে কথাটি বুঝতে না পেরে আপন প্রশ্ন করল “হু?”। “ও আচ্ছা ও কিছু না” – পর মূহূর্তে বুঝতে পেরে নিজ থেকেই উত্তর টা দিল। বিথীকা নিজ থেকেই সঞ্জীবের খুব কাছে এসে বলল “আসলে আমি অন্য একটা কথা বলতে এসেছি তোকে...”। বিথীকার কথায় কি যেন ছিল তা যা সঞ্জীবকে সরাসরি বিথীকার চোখের দিকে তাকাতে বাধ্য করল। কামনার চাউনী জিইয়ে রেখেই বিথীকা সঞ্জীবকে বলল – “আমি তোকে ভালবাসি রে,” একে অন্যের দিকে চেয়ে থাকল অনেক ক্ষণ। “তোকে অনেক ভা ... ” কথাটা শেষ করতে পারল বিথীকা, সঞ্জীবের ঠোঁট তার ঠোঁট কে চেপে ধরায়। অনেকক্ষন পর দুজনের ঠোঁটের মধ্যে কিছু দূরত্ব সৃষ্টি হল। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকল, হতে থাকল চোখের ভাষায় কথা। অনেক ক্ষন পর সঞ্জীব বলল, “আমিও তোকে ভালবাসিরে, অনেক ...” এইবার সঞ্জীব কথা শেষ করতে পারল না। ঢেউ উঠল যেন নিস্তরঙ্গ সাগরে, ওরা দুজন নিজেদের মাঝে হারিয়ে যেতে থাকল।
৪
একটা ঢেউ আসছে, তারপর আরেকটা! সেই ছন্দ সঞ্জীব যেন উপলব্ধি করতে পারছে। কিন্তু সঞ্জীব কিছু ক্ষণ পর বুঝতে পারল সেই ছন্দের সাথে আরেকটা বিদঘুটে ছন্দও চলছে। সেই বিদঘুটে ছন্দ টা সঞ্জীবের চিন্তা শক্তি লোপ করে দিতে থাকল।
সঞ্জীব উঠে বসল, হাতড়ে বিছানার কোনায় কাঁপতে থাকা মোবাইলটা তুলে নিল। মোবাইলটা হাতে নিয়ে স্বপ্নের কথা চিন্তা করে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। সঞ্জীব আবারও শুনতে পেল সেই বিদঘুটে শব্দটা, এখনও কলিং বেল টা বেজেই চলছে। মোবাইলটা খুলে কলার এর নাম দেখতেই কয়েকটা হার্ট বিট মিস করল সঞ্জীব, পাল পিটিশন বেড়ে গেল।
“ওই দরজা খোল, তোর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি!” ফোন কানে দিতেই ওই পাশ থেকে চিৎকার শোনা গেল। সঞ্জীব লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে প্রায় উড়তে উড়তে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে বিথীকাকে ভিতরে আসতে বলল। বিথীকাকে বসতে দিয়ে তার জন্য খাবার আনতে ভিতরের রুমে গেল সঞ্জীব।
৫
“ধন্যবাদ তোকে।” আপেল টা টুকে নিতে নিতে বলল । “ও কিছু না” – সঞ্জীবের উত্তর যেন মুখস্ত। “আসলে আমি অন্য একটা কথা বলতে এসেছি তোকে”– বিথীকার পরের কথা যেন সঞ্জীবের কাছে ঘোরের মত মনে হল। সঞ্জীব আর নিজেকে সামলাতে পারল না। একহাতে বিথীকাকে কাছে টানল, মুখ ডুবিয়ে দিতে চাইল বিথীকার মুখে। বিথীকা সঞ্জীবের এই আকস্মিক আচরণে হতভম্ব হয়ে গেছে, তাই নিজেকে ছাড়িয়ে নিওয়ার চেষ্টাতে একটু দেরি করল। আর এই সময়ে সঞ্জীব নিজেকে আরও একটু ঘনিষ্ঠ হল, দু হাতে আকর্ষণ করল ওকে। বিথীকা সঞ্জীব এর কাছে থেকে মুক্তি মেলানোর জন্য হাসফাস করছে, কিন্তু পেরে উঠছেনা। বিথীকা তার গায়ের সব শক্তি এক করে সজোরে ধাক্কা দিল সঞ্জীবকে। অবশেষে মুক্তি মিলল বিথীকার।
মুক্তি পেয়ে অসহায় বিথীকা রুদ্রমুর্তি ধারণ করল, তার দুচোখের আগুন দিয়ে সঞ্জীব কে পুরিয়ে দিচ্ছে, সঞ্জীব সেই দৃষ্টির কাছে হার মানল। সঞ্জীব বুঝতে পারছে না বিথীকার এই রূপ, কোথাও একটা ভুল হয়েছে, নিজেকে খুব নিচু মনে হতে থাকে ওর।
“এমন করছিস কেন? তুই না আমাকে ভালবাসিস?” সঞ্জীবের গলা থেকে বিস্ময় মেশানো কিছু শব্দ বের হয়ে আসল। বিথীকা তার রুদ্র মূর্তি ধরে রেখে বলল – “আমি তোকে ভালবাসিনা, তোকে ঘৃণা করি, ছি! তোর কাছে এই ব্যাবহার আমি আশা করিনি, নর্দমার কীট! আমি তোর মত শয়তান কে ভালবাসব? আমি রুমনকে ভালবাসি।” বিথীকার এক একটি কথা সঞ্জীবের হৃদয় এফোড় ওফোড় করে দিচ্ছিল, শেষ কথাটা সব কিছু শেষ করে দিল। সঞ্জীব কিছুক্ষণ ভাবলেশহীন চোখে তাকিয়ে থাকল বিথীকার দিকে, পর মূহুর্তে ক্রোধে ফেটে পড়ল।
বিথীকাকে ধরে উঠিয়ে বিষম ভাবে ঝাকাতে থাকল আর আক্রোশের প্রশ্ন ছুড়ে যেতে থাকল, “তুই আমাকে ঘৃণা করিস? আমি কি খারাপ? তোর কাছে কি আমার এই পাওনা ছিল?”
“ছাড় আমাকে” – ব্যাথায় কুঁকড়ে যাওয়া বিথীকার চিৎকার সঞ্জীবের কানে গেল না। বিথীকা সঞ্জীবের এ ভয়ংকর রুপ দেখে ভয় পেয়ে গেল, আবারও সঞ্জীবের হাত থেকে মুক্তি পেতে চাইল। হঠাৎ করেই সঞ্জীব এর উপর প্রচন্ড ঘৃণা ভর করল, বিথীকাকে সজোরে ধাক্কা দিল, বিথীকা নিজের উপরে ভর রাখতে পারল না। বেমক্কা ধাক্কা খেয়ে ভারসাম্য না রাখতে পেরে, হুড়মুড় করে গিয়ে পরল টেবিলের উপরে, কাঁচের টেবলে বাজে ভাবে বারি খেয়ে মাটিতে সজোরে পরে গেল বিথীকা। পরে আর নড়ল না, নিথর ভাবে পরেই রইল। সঞ্জীব কিছুক্ষণ পরে খেয়াল করল বিথীকা উঠার চেষ্টা করছে না।
৬
সঞ্জীবের ভিতরে থেকে কেমন যেন দলা পাকানো অনুভূতি অনুভব করছে, সেই অনুভূতি ক্রমেই আক্রোশ কে ভয়ে রূপ দিচ্ছে। সঞ্জীব হাটতে চাইল কিন্তু মনে হল শরীর তার মাথার নির্দেশ মানছে চাচ্ছে না, অনেক কষ্ট ধীর পদক্ষেপ এ বিথীকার দিকে আগাতে থাকল। বিথীকার সামনে এসে দাঁড়িয়ে দেখল বিথীকার চোখে আকস্মিতা আর ভয় ফুটে আছে। কেউ যেন হঠাৎ ছবি তুলে বিথীকার সেই মুহুর্তের চেহারাটা ফ্রেম বন্দী করে ফেলেছে – তাই ভয়টা হারিয়ে যাচ্ছে না। আর সে ছবির পটভূমি ধীরে ধীরে বিথীকার রক্তে লাল রং ধারন করতে থাকল। সঞ্জীব বিথীকাকে ধরে দেখল বিথীকা নড়ছে না, শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে, সারা গা ঠান্ডা হয়ে গেছে। সঞ্জীবের ভিতর থেকেই কে জানি জানান দিল এই ঘটমান নির্মম বাস্তবতার। সঞ্জীব হতভম্ব, আজান্তেই তার চোখের বাঁধ খুলে দিল কে যেন, বুকের বাম পাশে কে যেন হাতুড়ি দিয়ে পিটাতে লাগল, সুই ফুটাতে থাকল। সঞ্জীব ব্যাথায় হাত দিয়ে চেপে ধরল তার বুকের বাম পাশ। হঠাৎ করেই দম নিতে কষ্ট হচ্ছে, বাতাসের জন্য হাসফাস করতে থাকল তার ফুসফুস। চারদিকের আলো কমে আসছে ক্রমশ। এক সময় সঞ্জীব সেই কালো অন্ধকারে হারিয়ে ফেলল নিজেকে।
৭
লাফ দিয়ে জেগে উঠল বিথীকা। দ্রুত মাথার পিছনে হাত দিল। নাহ্ পুরাটাই দুঃস্বপ্ন ছিল। কিন্তু স্বপ্নটাকেই বাস্তব মনে হচ্ছিল বিথীকার। বিছানা থেকে উঠতে চাচ্ছে বিথীকা। মাথাটা ভীষণ ব্যাথা করছে, এই অবস্থায় ঘুম আসবেনা তার। উঠতে গিয়ে থেমে গেল এক অশুভ চিন্তায়, “এই ব্যাথাকি স্বপ্নের কারনে?” চিন্তাটায় যেন তার চারপাশে অশরীরী কোন এক অস্তিত্বের উপস্থিতি জানান দিল। বিথীকা প্রায় লাফ দিয়ে বিছানা ছেড়ে ঘরের লাইট জ্বালাল। “নাহ্, কিচ্ছু নেই –” নিজেকে আশ্বস্ত করতে নিজেকেই শোনাল বিথীকা। পর মূহুর্তে নিজের অজান্তেই মুখ দিয়ে হাসি বের হয়ে এল নিজের বোকামি চিন্তা করে।
ভার্সিটির জন্য বের হবার আগে বিথীকা মোবাইলটা বের করে একটা নাম্বারটা ডায়াল করল। অপেক্ষা করছে অপর প্রান্তের জন্য। বেশ কিছুক্ষন পরে ওপ্রান্ত থেকে মোবাইল ধরতেই বিথীকা বলল, “কিরে ঘুম থেকে উঠলি অবশেষে ?”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


