ভ্রমন কাহিনী আমি খুব একটা পড়ি না। কারণ একটাই, পড়লেই যেতে ইচ্ছে করে। ব্লগে এসে অবশ্য অনেক ভ্রমন কাহিনী পড়া হয়েছে। আবার সাহস করে নিজেও মাঝে মাঝে লেখার চেষ্টা করেছি। ভ্রমন কাহিনী আমাকে দিয়ে হয় না.. তবুও লিখি... ইদানিং ডায়েরী লেখা হয়না.. ডায়েরী লেখার অভ্যাসটা কাটাতে পারিনি.. তাই লিখে ফেলা....
অফিসিয়াল ট্যুরে আছি দুইদিন হলো। আমার জোনের ক্যাম্পগুলো সব ঘুরে দেখা। এর আগেরবার যতগুলো পরিদর্শনে গিয়েছি, সবগুলোই বেশ মজার হয়েছিলো। বাঙালীর ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আমার ধারনা ততটা উচুঁ নয়... কিন্তু আর্মিদের ম্যানেজমেন্টে আমি মুগ্ধ! অফিসিয়াল কাজগুলো খুবই নিঁখুত ভাবে সেরে ফেলা এখানে সাধারণ ঘটনা। পরের সময়টুকু পিকনিক পিকনিক! এক অফিসার অবশ্য আমাকে বলেছে আর্মিদের নিজেদের ভেতরে মোটেও এই ওয়েদার বিরাজ করে না। সেখানে কঠিন কমান্ডের আওতায় থাকে সব। সম্ভবত সিভিলিয়ানদের সাথেই এক্সট্রা খাতির। আমার যাওয়া প্রতিটা পরিদর্শন টিমে আমি একাই ছিলাম সিভিলিয়ান। তাই এক্সট্রা খাতিরটা আমার জন্য বেশী উপভোগ্য ছিলো।
ছবি: ভোরের পানিতে শুধুই ঝিলমিল ঝিলমিল
যাত্রা করার জন্য খুব ভোর সবসময়ই ভালো। প্রতিবারের মত এবারো খুব ভোরে ভোরে শুরু হয় এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাত্রা। আসার আগে শুনেছিলাম উপজেলা সদর হলেও এটা পুরোই অজপাড়াগাঁ। পুরো উপজলাটাই নাকি একটা সেচ প্রকল্প। মূল এলাকায় এসে আবাক হবার পালা শুরু। এত সবুজের মাঝে এর আগে কখনো এসে পড়িনি। প্রথমবারের মত 'ধনধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা' কথাটার মূল অর্থ বুঝতে পারলাম।
ছবি: বাঁধের ভেতরে... সবুজ সবুজ এবং সবুজ ...
চারপাশে শুধু সবুজের সমারোহ! এর মাঝে রাস্তা ও রাস্তার পাশে পানি নিষ্কাষন ব্যবস্থা। রাস্তা-ঘাট খুবই ভাল এবং পরিকল্পিত ভাবে করা। রাস্তাঘাট বেশী ভাল হওয়ার একটা খারাপ দিকটা হলো গাড়ি স্পিডে চলছিলো যা আমার ছবি তোলায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিলো।
উপজেলা কম্প্লেক্সে এসে মোটামুটি একটা ধাক্কা খেলাম। এরকম অঁজপাড়াগায়ে এধরনের অফিস কম্প্লেক্স আশা করিনি। সবুজ সবুজ আর সবুজের মাঝে প্রচুর জায়গা নিয়ে একদম আধুনিক অফিস এলাকা।
ছবি: উপজেলা অফিস কম্প্লেক্স...
উপজেলা কম্প্লেক্সে শুধুই আধুনিক বিল্ডিংই নয়, আছে সুন্দর টলটলে পানির দীঘি, ক্রিকেট পিচ। ক্রিকেট পিচটা নাকি নিউজল্যান্ড থেকে একজন বেড়াতে এসে করে দিয়ে গিয়েছিলো। পুরোপুরি ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে করা... প্রয়োজনীয় সব উপকরন সেই সাহেবই আনিয়েছে...
ছবি: অফিস কম্প্লেক্সের এক পাশের দৃশ্য... সন্ধ্যার পর এই ঘাটে নাকি জম্পেস আড্ডা হয়... বললেন TNO..
ঢাকার যেকোন সুদৃশ্য অফিস থেকে আমার বেশী ভাল লাগলো। কারণ একটাই... অফিস বাউন্ডারীর বাইরের তাকালে শুধু সবুজই চোখে পড়ে। এধরনের অফিসে অফিস করার সৌভাগ্য ঢাকারবাসীর কোনদিনও হবে না..
ছবি: অফিস বাউন্ডারীর বাইরে সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ.....
জার্নি করে ক্লান্ত হওয়ার বদলে ফুরফুরে হয়ে গেলাম। পরিবেশটা এতই সুন্দর.... কাজকর্মও মনিটর করা হয়ে গেল একপশলা।
ছবি: অপারেটরস রুম... আজকে ব্রেক... আগামীকাল ভোর থেকে মিশন শুরু....
হালকা খাওয়া দাওয়ার আয়োজন চলছে... আঙ্গুর আপেল চিপস কোক দেখে কিছুটা বিরক্ত লাগছে... গ্রামের তাজা বাতাসের সাথে তাজা কাঁচা আম লবন-মরিচ দিয়ে দিলে ষোলকলা পূ্র্ন হতো... আগামীকালটাও এই এলাকায় কাটাতে পারলে মন্দ হয় না.. কেন যে সার্ভার রুমে বড় ধরনের একটা গোলযোগ দেখা দিচ্ছে না
--
পরের পর্ব....
---
২৮ এপ্রিল, ০৮
লেখটার শিরোনাম পরিবর্তন করে "চলতে চলতে" থেকে "আমার লাটিমবেলা" করলাম.... হটাৎ একজনের (মানচু) সাথে চ্যাট করতে গিয়ে "লাটিমের মত ঘুড়ে বেড়াচ্ছি" বলার পর নামটা মাথায় আসলো...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

