ছোটবেলায় একটা কার্টুন দেখে সজারুর প্রেমে পড়েছিলাম। সজারুটা বেশ নাদুস নুদুস টাইপ ফুরফুরে ছিলো। খুব্বি স্মার্ট! সবসময় স্পাইক করে। রেগে গেলে হালুম.. দু:খিত হালুম না... ~~ক্রাক~~ করে গোলগাল একটা কাটার বল হয়ে যেতো। দেখতে মোটেও বোরিং না!
তো সজারু বাস্তবে দেখার অনেক ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও কখনো দেখা হয়ে ওঠেনি। ঢাকা চিড়িয়াখানার মত বোরিং জায়গায়ও কয়েকবার গিয়েছিলাম শুধুই সজারু দেখার জন্য। ঢাকা চিড়িয়া খানার বোরিং পরিবেশে সজারুরা অস্বস্তি বোধ করার কারণেই হোক আর আমার কপালে সজারু দর্শন না থাকার কারণেই হোক, সজারু দর্শন হয়ে ওঠেনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘটনাটা ঘটেই গেল... এই আনন্দজনক ঘটনাটার জন্য অবশ্য আমাকে কোন চিড়িয়াখানায় যেতে হয়নি।
সার্ভার রুম থেকে ফিরে ক্যান্টিন থেকে চিপস চিবুতে চিবুতে হাঁটছিলাম। পাহাড় জঙ্গলের মাঝে করা এই অতি প্রাচীন গ্যারিসনের পরিবেশ এখনো তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে.. সুতরাং কাঠবেড়ালী, শেয়াল, বনবিড়াল ইত্যাদির দেখা পাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। ডানে পাহাড় আর বাঁয়ে ঘন জঙ্গল রেখে একাকী হাঁটছিলাম। হটাৎ নজরে পড়লো গোলগাল টাইপ একটা প্রাণী। রেটল স্ন্যাকের মত শব্দ করে দৌঁড়ে সামনের ল্যাম্প পোস্টের দিকে চলে গেল। বাংলাদেশে রেটল স্ন্যাক থাকার কথা না.. কিন্তু কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। ভাল করে তাকিয়ে দেখি গোলগাল প্রাণীটার গা থেকে বের হয়ে এসেছে অসংখ কাটা। সাথে আরো বড় দু'টো... ঘাস থেকে কি যেন খাওয়ার চেষ্টা করছে। সজারুটা শেষ পর্যন্ত দেখা হয়েই গেল... তাও একদম বুনো সজারু......
(মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে সজারুর ছবি তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি মোবাইলের চার্য শেষ। পরেরবার সময় করে ক্যামেরা সহ সজারু ছবিতোলার মিশনে বের হতে হবে।)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



