বাংলাদেশে প্রথম সেল ফোন সার্ভিস সিটিসেল শুরু করলেও গ্রামীণ ফোনই ছিলো আমার কেনা প্রথম ব্যক্তিগত সেল ফোন। এর পরে আরো অনেকগুলো নেটওয়ার্ক এখানে কাজ শুরু করেছে। একে একে সবগুলোই কেনা হয়েছে। কিন্তু প্রথম কেনা সেই সিমটার জন্য সবসময় একটা সেট বরাদ্দ রয়েছে। অন্য সেটগুলোতে হয়তো সিম বদল করে কথা বলা হয়েছে কিন্তু গ্রামীণেরটা ২৪/৭ অন। এর ভেতরে সিটিসেলের কিছু চমৎকার অফার দেখে ২০০৬ এ হাজার তিনেক টাকা দিয়ে কিনে ফেললাম আরেকটা সেট। যেহেতু সিটিসেলের সিম বদল করা যায় না, সেহেতু কেনার পর থেকে সেটা সবসময়ই অন থাকছে।
সিটিসেল কেনার আগে পর্যন্ত জানতাম সিটিসেলের নেটওয়ার্ক খুবই খারাপ। কিন্তু কেনার পর থেকে আজ পর্যন্ত সেরকম কিছু দেখলাম না। তারপরেও গ্রামীণটাই বেশী ব্যবহার করা হয়েছে। যতটা না নেটওয়ার্ক কাভারেজের জন্য তারচাইতে বেশী অধিকাংশের হাতে গ্রামীণ থাকা। তবে সেই দিন সম্ভবত পরিবর্তন হতে চলেছে...
সম্প্রতি গ্রামীণ ফোন তাদের দুই কোটি গ্রাহক হওয়ার কথা ঘোষনা করেছে। কিন্তু বর্ধিত এই গ্রাহককে ঠিক মত সেবা দেয়ার মত আপগ্রেড তারা করেনি। ফলাফল হিসেবে গ্রামীণ তাদের ভাল নেটওয়ার্ক সুনামটা হারাতে বসেছে। এদিকে এখন অনেক মানুষের হাতেই সিটিসেল দেখা যায়। সিটিসেলের একটা বিশেষ সুবিধা হলো এতে অন্য কোম্পানীর সিম লাগানো যায় না। যার ফলে যে একবার সিটিসেল নিয়েছে, তাকে সেটাই ব্যবহার করতে হয়। তবুও সিটিসেল কিভাবে এত পেছনে পড়ে আছে সেটাই অবাক লাগে.... সিডিএমএ মত ভাল প্রযুক্তি হাতে নিয়েও। সবচেয়ে বড় কথা এরা ছিলো বাংলাদেশে প্রথম সেলফোন নেটওয়ার্ক যা তাদেরকে লিডিং কোম্পানী হতে বিশেষ সাহায্য করতে পারতো। যাই হোক, সবচেয়ে খারাপ কাস্টমার ম্যানেজমেন্ট, দুর্বল মার্কেটিং এবং দক্ষ লোকবলের অভাব নিয়েও সিটিসেল এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কের ক্রমশ অবনতি সিটিসেলের গ্রাহক বাড়িয়ে দিচ্ছে সন্দেহ নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

