কয়েকদিন আগেই বলেছিলাম যে আরো নতুন নাটক দেখতে যাচ্ছি আমরা। সেই নাটকের দ্বিতীয় এপিসোড দেখলাম। আমার মতে পুরোপুরিই অযৌক্তিক ভাবে বলাকা ভাস্কর্যে হামলা চালানো হয়েছে। কেন করা হলো? কারা করলো? এই প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে সময়। সামনে নির্বাচন। আওয়ামীলিগের তরফ থেকে নেত্রীর ছেলে 'জয়' ঘোষনা করেছেন বাংলাদেশে ইসলামিজমের এখন জয়জয়কার চলছে। এই এলাকায় বোরখা বিক্রি বেড়ে যাওয়া নাকি সেটার প্রমাণ। এই দেশে বোরখা বা হিজাব করা যাবে না.. আমেরিকান সেনা কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে আওয়ামীলিগ এসে এইসব হিজাবওয়ালাদের দেখে নিবে ঘোষনা করে দিয়েছে। তুরষ্কের মত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে হবে আমাদের যেখানে হিজাব নিষিদ্ধ হবে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে বাংলাদেশী হিজাবওয়ালাদের আবার আমেরিকানরা 'মডারেট' মুসলিম মনে করে। তাদের কাছে এদেরকে সন্ত্রাসী প্রমাণ করতে গত বেশ কিছু বছর ধরেই আওয়ামীলিগের নেত্রী ও বুদ্ধিজীবি ও উচ্ছিষ্ট ভোগীরা প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেক লবিং টবিং করে বাংলাদেশকে একবার ব্লাক লিষ্টে ফেলতেও সক্ষম হয়েছিলেন প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। দু:খজনক ভাবে হিলারী ক্লিনটনের লবিং এ সেই লিষ্ট থেকে মুক্ত হয়েছিলাম আমরা। তারপর তো কতকিছু... তাও ফলাফল প্রায় শূণ্য... এভাবে তো চলবে না! কিছু একটা করতে হবে!!
নাটকের প্রথম দৃশ্যে দেখা গেল একদল লোক কল্পিত বাউলের মূর্তি ভাঙছে। দোষ চাপানো হলো সেনাবাহিনীর উপর। কিছুদিনের ভেতরেই ঘোষনা দেয়া হলো সেনাবাহিনী মৌলবাদীদের আস্তানা হয়ে গিয়েছে। আমেরিকান সেনাকে সাথে নিয়ে আমাদের ভবিষ্যত আওয়ামী নেতা জয় বাংলাদেশী সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলেন। সেনাবাহিনীকে আক্রমন করার অযুহাত পাওয়া গেল... এবার?
নাটকের দ্বিতীয় দৃশ্যে 'আল বাইয়িন্যাত' নামের একটা দল গিয়ে হামলা করলো বলাকা ভাষ্কর্যে। সাথে সাথে ব্লগ, নিউজপেপার সব জায়গায় ঐ তথাকথিত ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। নিউজ, ব্লগপোস্ট ইসলাম বিদ্বেষীদের মন্তব্য দেখে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে তারা এই ঘটনায় যারপর নাই আনন্দিত!
এখন ঘটনা হলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা ঐ বকের ভাস্কর্য (লক্ষ করে দেখুন এবার কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষী শিবির ওটাকে ভাষ্কর্য বলছে না, মূর্তি বলছে) ভেঙ্গে কি ইসলাম কায়েম হলো? এবং লক্ষনীয় বিষয় হলো কারা সেই স্লোগানগুলো দিয়েছে? তাদের অতীত ইতিহাস কী?
তাদের পরিচয় দেয়ার আগে একটু নিকট ও দূর অতীত ঘেঁটে দেখি। প্রথমে নিকট অতীতে যাই.... সামহোয়্যারইন ব্লগে আমি মূলত ইসলাম বিদ্বেষীদের ইসলাম নিয়ে বানোয়াট প্রচারনা ও ফালতু অপপ্রচারের জবাব দিতে জয়েন করেছিলাম। সেই গোষ্ঠী পৃথিবীর সব কিছু মেনে নিলেও ইসলামকে মেনে নিতে নারাজ। কিন্তু কিছুদিনের ভেতরেই অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম যে এরা ইসলামী সব গোষ্ঠীকে ঘৃনা করলেও কাদিয়ানীদের ঘৃনা করে না। বরং কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে আমি এবং আশরাফ রহমান পোস্ট করায় এরা আমাদের পাল্টা আক্রমন করে কাদিয়ানীদের পক্ষে কথা বলা শুরু করলো। এই বিষয়টা পত্রিকায়ও দেখেছি.. এদের সমমনারা কাদিয়ানীদের স্বার্থ রক্ষ্যায় সবসময় তৎপর! দূর অতীতের দিকে তাকালেও প্রচুর নজীর পাওয়া যায়। পুরো বিশ্বে যারা ইসলামকে সমূলে নির্মূল করতে এক পায়ে খাঁড়া তারাই আবার কাদিয়ানীদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে গলার রগ ফুলিয়ে ফেলে!
যাই হোক, ফিরে আসি ভাষ্কর্য ভাঙ্গার বিষয়ে। ভাষ্কর্য ভাঙার এবারের নাটকটা খুব বেশী কাঁচা হয়ে গিয়েছে। আমাদের এই ইসলাম বিদ্বেষী ও কাদিয়ানীদের বন্ধু শিবির সম্ভবত ভুল করেই 'আল বাইয়িন্যাত'-কে সিলেক্ট করে ফেলেছে। আচ্ছা এবার বলেন দেখি 'আল বাইয়িন্যাত' কারা? তাদেরকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবে আমার সাথে কে কে একমত? হাত তুলেন....
'আল বাইয়িন্যাত' নামের এই গ্রুপটাকে সমূলে নির্মূল করা হোক। বাংলাদেশে এদের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক।
---
একই সাথে ব্যক্তিগত ব্লগ , প্রথম আলো ব্লগ , আইডি ফোরাম ও ইসলাম গ্রুপে প্রকাশিত।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


