ইন্টারনেটে বসলেই ফিলিস্তিনিদের উপরে ইসরাইলের এত ভয়ংকর ও বর্বর আগ্রাসনে ছবি আর খবরগুলো দেখে আর কিছু করার মুড থাকে না। ব্লগে বা ফোরাম লেখা হচ্ছে না সেজন্য। সামান্য কিছু অর্থ সাহায্য পাঠানো, অনলাইনে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে প্রচারণা ও ইসরাইলী ও ইসরায়েলীদের সাহায্যকারী কোম্পানীগুলোর পণ্য বয়কট ছাড়া আর তেমন কিছুই করতে পারছি না। এই অক্ষমতা বেশ কিছুদিন ধরে ভাবাচ্ছে ...। আসলে আমাদের পক্ষে কতটা করা সম্ভব? বিশেষ করে এই সো কল্ড থার্ডওয়ার্ল্ড ইসলামিক কান্ট্রিতে বসে? সুতরাং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক তথ্য ঘেঁটেই সময় কাটছে। মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা বিষয়ক কিছু বই ডাউনলোড করলাম। ব্যক্তিগত লাইব্রেরীতে ফিলিস্তিনি সমস্যার উপরে একটা বই ছিলো সেটাও বের করলাম। বিভিন্ন রকম তথ্য ঘাঁটতে গিয়ে একটা দারুণ বিষয় আবিষ্কার করলাম। আজকের ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের উপরে যে নীপিড়ন চালাচ্ছে তা যতটা না সামরিক কৌশলের বলে তারচাইতে বেশী তথ্যগত কৌশল দ্বারা। তথ্য-প্রযুক্তি এবং মিডিয়া বলতে গেলে তাদের হাতের মুঠোয়। এত দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব দরবারে মোড়লগীরি করা আমেরিকার কোন মিডিয়ারও সাহস নেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কিছু বলে। হলিউডের অবস্থান আমেরিকায় হলেও বলতে গেলে এটি ইসরাইলের সম্পত্তি। ওখানে বসে বছরের পর বছর ধরে ফ্যান্টাসী, কার্টুন, এ্যাকশন ইত্যাদি মোড়কে বের হওয়া ছবি, কার্টুন এবং ফিচার ফ্লিমের সবই ব্যবহার করা হয়েছে প্রোপাগান্ডার কাজে। আর সেগুলোর ফলাফল স্বরুপই সম্ভবত ইসরাইলের এই ভয়াভয় অন্যায় ও যুদ্ধাপরাধের সমর্থক পাওয়া যাচ্ছে। ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি জরীপ দেখলাম প্রায় ৫ লাখের মত লোক অংশগ্রহন করেছে। সেখান থেকে থেকে প্রাপ্ত ডাটা থেকে দেখা যায় প্রায় অর্ধেক লোকই ইসরাইলের এই অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফেসবুকে বেশ কয়েকটি গ্রুপ পেলাম যেখানে ইসরাইলের পক্ষে ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। সেসবেও লাখ লাখ লোক যোগদান করেছে।
এই কয়দিন ফিলিস্তিন ও ইহুদীদের ইতিহাস ঘেঁটে যেসকল তথ্য পেয়েছি সেগুলোর জানার পর ঠিক কতজন ইসরাইলকে সমর্থন করতে পারে তা নিয়ে ভাবছি। আলোচ্য জরিপে আমেরিকা থেকে ১ লাখের বেশী ভোট গ্রহন করা হয়েছে। এর ভেতরে ৮৯ হাজার লোকই ইসরাইলের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ফেসবুকের গ্রুপগুলোতেও বেশীর ভাগ নাম দেখে বুঝা যায় এরা ইংলিশ পিপল। এর দ্বারা বলতে পারি ইংলিশ পিপলদের বিবেক বলতে কিছু নেই? মনে হয় না.... বস্তুত এদের বেশীর ভাগই মিডিয়ার দ্বারা প্রভাবিত। তবে এদের ভেতরে যারা বুদ্ধিমান তারা ঠিকই ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। টিভি এবং ইন্টারনেটে এরকম হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষেরও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বুদ্ধিমান মানুষের সংখ্যা পশ্চিমে কম। আর সেকারণেই হয়তবা এত দীর্ঘ সময় ধরে প্রশ্চিমারা মিডিয়ার দ্বারা দিনকে রাত আর রাতকে দিন বানিয়ে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। বুশের বিরুদ্ধে এত যুদ্ধাপরাধ ও গত কয়েক দশক ধরে ইসরাইলের এত অন্যায় অবিচারের স্বত্বেও মানুষ তাদের সমর্থন করেছে বা করছে।
(গ্রাফে ইসরাঈলের জন্য নীল রং ও ফিলিস্তিনের জন্য লাল রং ব্যবহার করা হয়েছে)
সোর্স: http://www.israel-vs-palestine.com/gz/?stats
আমরা যারা দূর হতে ফিলিস্তিনিদের এই দুর্যোগে দেখে কিছু করার কথা ভাবছি কিন্তু করার মত কিছু খুঁজে পাচ্ছি না তাদের বিষয়টা কী? আসলেই কিছু করার নেই? আপনার লেখা একটি ব্লগ পোস্ট বা আপনার ছুড়ে দেয়া একটি মন্তব্যও কী একেবারেই নিস্ফল? আপনি যে তথ্যটুকু জানার কারণে ইসরাইলের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন সেই তথ্যটুকু আরেকজনকে জানানোর পরও কি সে সচেতন হবে না? স্বভাবগত ভাবেই মানুষ অন্যায়ের পক্ষে বেশীক্ষন থাকতে পারে না। বুঝতে দিন সবাইকে, কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায়। সচেতনতার বীজ বপন করতে পারলে এমনিতেই এসব অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার হবে। হতে পারে অন্যায়কারীদের হাতে হাজারো পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট সহ যাবতীয় সব সুবিধা। অত্যাধুনিক সব প্রোপাগান্ডা মেশিন দিয়ে কতকাল তারা মিথ্যাচার চালিয়ে যেতে পারবে? তাদের এই অন্যায়গুলোর বিরুদ্ধে কিছু বলার উপায় নেই? আপনার আমার হাতের কাছে কমপক্ষে একটি ইন্টারনেট লাইন আছে যেখানে আমরা একত্র হতে পারি... নিজেদের হাতে থাকা তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপণ করতে পারি। এই যে আমরা হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন সাইটে জড়ো হয়ে ছোট ছোট প্রতিবাদ করছি এগুলো কি একেবারই নিরর্থক? আমাদের সকলের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় করা প্রতিবাদটুকু অনেক ছোট হলেও পৃথিবী জুড়ে এরকম ছোট ছোট প্রতিবাদের ঢেউ মিলেই একটি বিশালাকার সুনামী সৃষ্টি করতে পারে... যে সুনামী সকল মিথ্যাবাদী ও অন্যায়কারীদের অপশক্তিদের পৃথিবী থেকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দিতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

