বিডিআর বিদ্রোহের প্রথম থেকে এই পর্যন্ত বলতে গেলে টানা-ই (মাঝখানে ৩ ঘন্টা ঘুম বাদে) টিভি আর ইন্টারনেটের দিকে চোখ রেখেছি। প্রথম দিনই টিভিতে দেখলাম বিডিআর এর জওয়ানদের বক্তব্য। তারা খুব উত্তেজিত। ততক্ষনে হয়তো সব সেনা অফিসারকে মেরে শেষ করে ফেলা হয়েছে.. কিন্তু তাদের চোখে অনুশোচনা লেশমাত্র নাই। তারা দৃপ্ত কণ্ঠে তাদের দাবী দাওয়া তুলে ধরছে। অফিসাররা গাড়িতে চড়ে তাদের গাড়ি নাই। অফিসাররা বেশী সুযোগ সুবিধা পায়, তাদের সুযোগ সুবিধা কম। সেনাবাহীনি মিশনে যায় যুদ্ধ করতে.. তাদেরকে নেয় না.... সেনা বাহিনী সব চুরি করে খেয়ে ফেলছে... তারা ভাগে পাচ্ছে না...... ইত্যাদি ইত্যাদি। বুঝলাম সেনাবাহিনী সব চুরি করে খেয়ে ফেলছে.. তাই বলে কী বিডিআর সৈনিকদের সেটার বিচার করাতে হবে? সেনা অফিসাররা প্রথম শ্রেণীর অফিসার আর তারা কেন চতুর্থ শ্রেনী বা তৃতীয় শ্রেণী এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে দেখলাম। প্রথম শ্রেণীর অফিসার হওয়ার যৌগ্যতা নেই বলেই যে তারা সৈনিক এটা বুঝার মত জ্ঞানও তাদের নেই। আর তাই এর দায়টা সেনাবাহিনীর ঘাড়ে চাপানো হোক। প্রথম শ্রেণীর অফিসার বেশী সুযোগ সুবিধা পায় তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা তা পায় না, এটাকে সেনা কর্মকর্তাদের দোষ হিসেবে ঘোষণা করা হোক। আর এই দোষের শাস্তি হিসেবে তাদেরকে মেরে স্যুয়ারেজ লাইনে ফেলে দেয়া হোক।
বিডিআর এর এই তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদেরকে আর দোষ দিয়া কী লাভ? আমরা শিক্ষিত আর সচেতন নাগরিকরা কী করছি? মিডিয়ার প্রচারণা আর বুদ্ধিমান বাঙালীর হুজুগ মিলে এখন বিডিআর হলো বাংলার হিরো। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী কেন প্রথম প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের মত সুবিধা পায় না এই প্রশ্ন এখন আমাদের মত বুদ্ধিমান মানুষও তুলতে শুরু করেছে। বিডিআর এর আর কী দোষ? এতজন সামরিক অফিসারকে মেরে ফেলা হয়েছে সেটা নিয়ে ততটা আক্ষেপ নেই যতটা বিডিআরের অধিকার নিয়ে আছে। টিভি চ্যানেলগুলোতে সেনাবাহিনী নিয়ে মেনিপুলেটেড খবর প্রকাশিত হতে থাকে.. আর আমরা সেগুলো দেখে উত্তেজিত হই। "শালার আর্মি দেশটারে শ্যাষ করে দিলো!".. এগুরোর মরনই ভাল। স্যুয়ারেজ লাইনের শেষ মাথায় অফিসারদের লাশ ভেষে ওঠে.. তা দেখে আমরা বলি "মরছে ভালই হইছে, দেশের খরচ কমলো...."... মাত্র নাকি ৯টি লাশ পাওয়া গিয়েছে। বাদ বাকী ১৩৭ জনেরও লাশের অপেক্ষায় আমরা। বিডিআর কি দ্যাখাইলো রে....... জাতীয় বীর বিডিআর!!
সেনা অফিসারদের মত খারাপ বস্তুগুলো পৃথিবী থেকে দূর করার জন্য বিডিআরকে জাতীয় বীর ঘোষণা করা হউক। আর ২৫ ফেব্রুয়ারীকে জাতীয় বীরত্ব দিবস ঘোষণা করা হউক!!
--
বি:দ্র: সিরিয়াস পাঠকরা কিছু মনে করবেন না... হুজুগে বাঙালীর নির্বুদ্ধিতায় প্রচন্ডরকম বিরক্ত হয়ে লেখাটা লিখেছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

