আজকে কোন সরকারি ছুটির দিন নয়। তবুও পুরো ঢাকা অচল হয়ে আছে। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সব বন্ধ। ঢাকার রাস্তায় কেউ নামার সাহস পাচ্ছে না। ঢাকা শহর আজ বন্ধ! এই অনাকঙ্খিত ঘটনার পেছনে খুব বড় কোন কারণ নেই... শুধুই সামান্য বৃষ্টি। যে বৃষ্টি নিয়ে কবিরা কাব্য করেন সেই বৃষ্টিই ঢাকার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে? অবাক লাগে ভাবতে যে তেমন কোন বড় ঘটনা ছাড়াই একটা দেশের রাজধানী শহর অচল হয়ে গিয়েছে। এরকম নজীর আর কোথাও আছে?
ছবিঃ ২৮ জুলাই, বৃষ্টিতে অচল ঢাকা (কৃতজ্ঞতা, ব্লগার ইচ্ছে )
ভিডিওঃ কিছুদিন আগে একটা চাইনিজ রেস্তরায় খেতে ঢুকেছিলাম.. তখন বৃষ্টি শুরু হলো। খেতে খেতেই রাস্তার এই অবস্থা হয়েছিলো।
এই ভিডিওটা আজকের। ওসমান মাহিন নামের একজন ইউটিউবে আপলোড করেছেন।
এক ভদ্রলোক আছেন যিনি ঢাকা শহরের অস্তিত্ব নিয়ে বেশ চমৎকার সব লেকচার দিয়ে বেড়ান। উদ্দেশ্য ঢাকাকে রক্ষা করা। তাঁর বক্তব্য থেকে জানতে পারলাম আগামী দশ বছরের ভেতরে ঢাকার স্যুয়ারেজ লাইন কলাপস করবে। দুঃখজনক এই ঘটনা যদি ঘটেই যায় কি হতে পারে? আজকে সামান্য বৃষ্টির কারণে যে জলাবদ্ধতা আপনি দেখতে পাচ্ছেন এরচাইতেও ভয়াভয় অবস্থা সৃষ্টি হবে না? কল্পনা করুন দৃশ্যটা, ঢাকার শহরের সকল রাস্তা ডুবে যাচ্ছে স্যুয়ারেজ আবর্জনাতে। পানি তাও ধীরে ধীরে নেমে যাবে.. কিন্তু সেই আবর্জনা? অবশ্য সেই ভয়াভয় আবর্জনা ঢাকা বাসী দেখে যাওয়ার আগেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে। স্যুয়ারেজ সিস্টেম কলাপস করার পর আবর্জনা রাস্তার উপর আসার আগেই ওয়াসার পানি বণ্টন সিস্টেমটাকে ধ্বংস করে দিবে। রাতারাতি ভয়াভয় সব ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে নগরবাসী। পরিনতি স্রেফ মৃত্যু! স্যুয়ারেজ সিস্টেম কলাপস্ হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে যদি এখনি পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তা হলে মৃত্যুর আগেই একবার নরক দর্শন হয়ে যাবে ঢাকাবাসীর।
আমাদের ভাগ্য যদি খুব ভাল হয় তা হলে সরকার হয়তোো এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিবে। কিন্তু এক স্যুয়ারেজই আমাদের জন্য হুমকি নয়। আরো বহুবিধ হুমকি রয়েছে। এরভেতরে সবচাইতে ভয়াভয়টি হচ্ছে ভূমিকম্প। ঢাকার শহরে যেভাবে অপরিকল্পিত নগরায়ন হয়েছে এবং বিল্ডিং কোড না মেনে স্থাপনা তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে তাতে করে ভূমিকম্পের ক্ষতি আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অনেকের মতে মাঝারী মানের একটা ভূমিকম্পই ঢাকা শহরের ৬০ ভাগ বিল্ডিং ধ্বসে ফেলার জন্য যথেষ্ঠ। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানা যায় ঢাকা শহরের ঠিক মাঝ বরাবর টেকটোনিক প্লেটের একটি সংযোগস্থল আছে। মানে দুই প্লেটের মাঝের ফাটলটা আমাদের শাহবাগের নিচ দিয়ে ঢাকা শহরকে আড়াআড়ি ভাগ করে দিয়ে গিয়েছে। যার ফলে ভূমিকম্প হলে সেটার ধ্বংসের পরিমাণও অনেক বেশি হবে। আবার ঢাকা শহরের বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য অতিরিক্ত পানি পাম্প করার কারণে ভূ-গর্ভস্থ যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে তাতে করে পুরো শহর রাতারাতি ডেবে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এই এলাকায় প্রতি ১১০ বছর পরপর বড়ধরনের একটা ভূমিকম্প হওয়ার কথা। শেষবার এখানে এরকম বড় ভূমিকম্প হয়েছে ১৮৯৭ সালে তথা ১১২ বছর আগে। সুতরাং যেকোন সময় এই এলাকায় বড় একটি ভূমিকম্প হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ডেটা এনালাইসিস করেও জানা যায় তেমন একটি ভূমিকম্প আমাদের এখানে হতে যাচ্ছে। অথচ অপেক্ষমাণ এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন প্রস্তুতি আমাদের নেই।
এছাড়াও আরো অনেক বিষয় আছে যাতে বুঝা যায় পরিত্যক্ত নগরী হওয়ার পথে আছে আমাদের প্রিয় ঢাকা নগরী। তেমনটিই যদি হয়, তা হলে বিকল্প রাজধানী নিয়ে এখনি ভাবা উচিত। একই সাথে এই বিষয়টি নিয়ে জনসেতনতা তৈরিতে সবার এগিয়ে আসতে হবে। তাতে হয়তো ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কম হবে, রক্ষা পাবে অনেক জীবন।
--
প্রাসঙ্গিক পোস্ট-
# প্রসংঙ্গ ভূমিকম্প: জনগণ ও সরকারকে এখনই সচেতন হতে হবে
# ভূমিকম্পে আমাদের করণীয় কি?
# প্রসঙ্গ ভূমিকম্পঃ আমাদের ভবিষ্যত কি অন্ধকারের দিকে...?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


