আমার প্রিয় পোস্ট

© ২০০৬ - ২০০৮ ত্রিভুজ

কোরান ও বিজ্ঞান - ১

২১ শে এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ১১:৫২

শেয়ার করুন:                   Facebook

কোরান ও বিজ্ঞান নিয়ে আমার এই লেখাটির এটি প্রথম পর্ব। এখানে কোরানে ১৪০০ বছর আগে নাজিল হওয়া কিছু আয়াত ও বর্তমান বিজ্ঞানের আবিষ্কার করা কিছু বিষয়কে পাশাপাশি দেখানোর চেষ্টা করেছি।

কোরানঃ "অতঃপর আমি নিদর্শন দিতেছি। ওই সকল তারকার যাহারা পিছনে হটিয়া যায়।" - ৮১:১৫
বিজ্ঞানঃ অন্যান্যসকল দরবর্তী গ্যালাক্সী আমাদের এই মিলকীওয়ে গ্যালাক্সি থেকে সর্বদা দুরে সরে যাচ্ছে।
১৯২০ এর দশকে বৈজ্ঞানিক এডুইন হাবল দূরবর্তী গ্যালাক্সিসমূহের তারকার আলো পর্যবেক্ষন করে দেখতে পান- সেগুলি সর্বদা পশ্চাদপসরণ করছে।

কোরানঃ "আকাশমন্ডলীকে আমিই সৃষ্টি করিয়াছি শক্তিদ্্বারা এবং নিশ্চই আমি উহাকে সম্প্রসারিত করিতেছি।" - ৫১:৪৭

বিজ্ঞানঃ সকল দিকের সব দূরবর্তী গ্যালাক্সিই প্রতিনিয়ত আমাদের মিলকীওয়ে গ্যালাক্সী থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। এর অর্থ দাড়ায়, মহাবিশ্ব সর্বদাই সম্পসারিত হচ্ছে।

কোরানঃ "কাফিরেরা কি দেখে না যে, এই আসমান যমীন সবকিছু মিলিত অবস্থায় ছিল, পরে আমি এইগুলিকে আলাদা আলাদা করিয়া দিয়াছি।" - ২১:৩০

বিজ্ঞানঃ মহাবিশ্ব বর্তমানে সম্প্রসারিত হচ্ছে, যার অর্থ দাড়ায়, আদিতে কোন এক সময় মহাবিশ্বের সমস্ত গ্রহ, নক্ষত্র তথা সমস্ত পদার্থ একত্রিত অবস্থায় ছিল, সম্ভবত কোন এক আদি বিস্ফোরণ থেকে এই সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছে। (বিগব্যাঙ)

কোরানঃ "তৎপর তিনি আসমানের প্রতি মন দিলেন, তখন উহা ধোঁয়া ছিল, পরে তিনি আসমান ও যমীনকে বলিলেন, 'আস, ইচ্ছায় কি অনিচ্ছায়', তাহারা বলিল, 'আমরা একান্ত অনুগতভাবেই আসিলাম।'" - ৪১:১১

বিজ্ঞানঃ সৃষ্টির পারম্ভে মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রিত ধোয়া উৎপন্ন হয়েছিল। অজানা কারনবশত এই ধোয়া বিভক্ত হয়ে বিশাল আকৃতির সব ধোয়ার মেঘে রূপান্তরিত হয়েছিল। পরবর্তিতে এক একটি ধোয়ার মেঘ রূপান্তরিত হয়েছে এক একটি গ্যালাক্সিতে। ধোয়া থেকেই সৃষ্টি হয়েছে এ মহাবিশ্ব সব গ্যালাক্সি তথা সম্পূর্ন মহাবিশ্ব।

সূত্রঃ
1. 'The Expanding Universe' written by John Gribbin in 'The Encyclopedia of Space Travel and Astronomy' by John Man.
2. 'To the Edge of Eternity' written by John Gribbin in 'The Encyclopedia of Space Travel and Astronomy' by John Man
3. Dawn of New Era' written by Sir Bernard Lovell in 'The Encyclopedia of Space Travel and Astronomy' by John Man.
4. 'ABC of Relativity', Bertrand Russell
5. 'A Brief History of Time',Stephen W. Hawking.
6. 'বাইবেল, করআন ও বিজ্ঞান' - মরিস বুকাইলি
7. 'আল কুরআন, দ্যা চ্যালেঞ্জ' - কাজী জাহান মিয়া।
8. 'Scientific Indications in the Holy Quran' by Board of Researcher under Chanrimanship of Dr. M. Shamsher Ali.
9. http://www.quran-islam.org/112.html


---
- পরের পর্ব

ইসলাম গ্রুপে প্রকাশিত।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: ধর্ম ও জীবন  বিভাগে ।

 

  • ১৯ টি মন্তব্য
  • ৮৮৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৮ জনের ভাল লেগেছে, ৪ জনের ভাল লাগেনি
১. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: ময়লানা সাব, অনুবাদগুলা চলিত ভাষায় করা যায় না? খটমটে সাধু ভাষা বুঝতে মাথা আউলা হয়ে যায়।
২. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: ভেতো ভাই... আমি যেখান থেকে অনুবাদগুলো তুলে দিয়েছি সেখানে এভাবেই ছিল। হাবিবুর রহমানের একটা অনুবাদ আমার কাছে রয়েছে.. কিন্তু সেটি একজন নিয়েছেন আমার কাছ থেকে। আর সাধুভাষার অনুবাদকে আমি চলিত ভাষায় রূপান্তরের রিস্কটা নিলাম না। ভাষার ব্যাপার... মিনিং চেঞ্জ হয়ে গেলে তো আবার আপনারা দুকথা শুনাতে পিছপা হবেন না। এমনিতেই ময়লানা সাব (শব্দটি হবে মাওলানা) বলে একটু টিটকারী দেবার চেষ্টা করলেন... আর নিজেকে মাওলানা দাবী করার মত যথেষ্ট জ্ঞান আমার নেই ভাই... সুতরাং কি লিখতে চেয়েছি যদি বুঝে থাকেন তাহলে শুধু শুধু কেন আর কথা বাড়াচ্ছেন?

সাইমুম ভাই আমিও জানি এটা নতুন কোন খবর নয়। তারপরও দিচ্ছি নতুন প্রযন্মের কথা চিন্তা করে যারা এখনো জানেন না। আর আত্নজাগরণের বিষয়েও বেশ কিছু টপিক লিখছি। আশা করি পাবেন কিছুদিনের ভেতর।

ধন্যবাদ।
৩. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৪
comment by: সাইমুম বলেছেন: চমৎকার। তবে এটা নতুন কোনো খবর নয়। বিজ্ঞানমনস্ক মুসলমান ক্যামনে সৃষ্টি হতে পারে, সেই ফর্মুলা পারলে দেন। যে দেশের মানুষ আজও ঘুম থেকে উঠে আড়াই হাজার বছরের সেই পুরনো লাঙ্গল চষে, তাদের জন্য বিজ্ঞান আর কোরানের মিলের সনদ সিশ্চয়ই আত্মজাগরণের মন্ত্র হতে পারেনা। ধন্যবাদ।
৪. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৬ রাত ৮:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: এবিষয়ক টপিক খুজতে এখানে যেতে পারেন যারা উৎসাহী...
http://www.usc.edu/dept/MSA/quran/scislam.html
৫. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ রাত ১:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: ভাগ্যিস বিজ্ঞান এসব আবিষ্কার করেছিল তা না হলে কোরআনে যে এসব ছিল জানতে পারতাম না।
আসলে বিজ্ঞান সব কিছুই আলোকিত করে, জানায়।
৬. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ রাত ২:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: আমার লেখা,
বিজ্ঞান কোরআনকে সত্য নাও প্রমানিত করতে পারে... আজ থেকে এক হাজার বছর আগে এমন অনেক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ছিল যেগুলো নতুন আবিষ্কার ভুল বলে... সুতরাং যদি কোরআনে এমন কিছু থাকে যেটা এখনকার বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সাথে কন্ট্রাডিকটরি... তাহলে বুঝতে হবে এটা আমাদের বোঝার ভুল... বিশ্ব জগতের স্রষ্টার না। এ ব্যপারে সাইমুম চমৎকার একটা পোস্ট লিখেছেন, পড়ে দেখতে পারেন:
Click This Link
৭. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ রাত ২:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: এবং বিজ্ঞান কোরআনকে সত্য প্রমানিত করে।
৮. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৫:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: হুম। এই পোস্টটা পড়েছেন নিশ্চয়ঃ
৯. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৫:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: হুম। এই পোস্টটা পড়েছেন নিশ্চয়ঃ
Click This Link
আচ্ছা কোরআনে কম্পিউটার, ইন্টারনেট আর ব্লগিং সম্পর্কে কিছু বলেছে?
১০. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৭:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: আরেকটি কথা বলা হয়নি সাজেদ... আপনার দেয়া লিংকটা শোহেইল সাহেবের লিখা... আমি প্রথম প্রথম উনার লেখাগুলো পড়তাম... কিন্তু একটি লিখায় একটি মন্তব্য করেছিলাম।
Click This Link
এটা পড়লেই একটা জিনিষ পাবেন.. তাহলো শোহেইল সাহেন মনে করেন গর্ভপাতের অধিকার, সমকামীদের অধিকার রক্ষা করা মানব প্রগতির একটি উদাহরন। এটি পড়ার পড় থেকে উনার লিখা পড়া ছেড়ে দিয়েছি। এধরনের প্রগতি থেকে দুরে থাকাই মঙ্গলজনক বলে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি। আর এধরনের প্রগতিশীলদের ব্যাপারেই লিখতে যাচ্ছি আমার পরবর্তি টপিক.... পড়ে নিবেন।
আবারো ধন্যবাদ।
১১. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৭:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: সাজেদ ভাই... কোরানে ব্লগিং সম্পর্কে কথা আছে কিনা এটা যে খুব হস্যকর প্রশ্ন যিনি এটি করেছেন তিনি বুঝতে না পারলেও একটি 6 বছরের শিশুও তা বুঝবে। আসলে কেউ যদি এভাবে চিন্তা করতে থাকে তাহলে এই প্রশ্ন ও করা যেতে পারে.. সুই, সুতা, হারিকেন, স্কুল ব্যাগ, বিজলী বাতি, ম্যাকডোনালড .... ইত্যাদি আছে কিনা? এরকম কোটি কোটি বিষয় আছে.. যা কোরানে বলা হয়নি.. বলাটাও সঙ্গত হত কিনা আপনিই ভেবে দেখুন... এইসব ছোট খাট বিষয় নেই.. তারমানে কিন্তু কোরানের অসারতা প্রমান নয়... এই ধরনের প্রশ্ন যারা করেন তাদের মাথায় কতটুকু ব্রেইন আছে... আদৌ আছে কিনা.. আমার সন্দেহ রয়েছে।

কোরানের কয়েকটি বিষয়ের সাথে কম্পিউটারের একটি তুলনা মুলক আলোচনা আজ রাতে দেব আশা করি। এখন অফিসে যাচ্ছি।

আস্ত আপনি সুন্দর লিখেছেন.. ঐ পোষ্টে আমিও একটি কমেন্টস করেছিলাম।.. সাইমুম ভাই ওখানে চমৎকার একটি বিষয় তুলে ধরেছিলেন।

ধন্যবাদ সবাইকে।
১২. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৯:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: আচ্ছা
১৩. ২৪ শে মে, ২০০৬ ভোর ৫:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: দুঃখিত,,, বাইবেল***
১৪. ২৪ শে মে, ২০০৬ ভোর ৫:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: এিভূজ, অপ বাক আমাকে বলেছিলেন 'বাইবের, কোরআন ও বিজ্ঞান'' বইটিতে বুকাইলি অনেক ভুল লিখেছে । বলতে পারবেন এর সত্যতা কতটুকু? আমি জানি না বলেই ...

Click This Link
১৫. ২৪ শে মে, ২০০৬ রাত ১০:০৫
comment by: অতিথি বলেছেন: শর্মী... এটা নিয়ে রিসার্চ করতে হবে... তবে মরিস বুকাইলির এই বইটি আমি কয়েকবার পড়েছি... আমার কাছে তেমনটি মনে হয়নি... আর মরিস বুকাইলি র এই বইটি বিশ্বব্যাপি সমাদৃত ...

আপনিও খুজুন তথ্য.... আমিও সময় পেলে সার্চ করে দেখব এব্যাপারে...
১৬. ১৮ ই মে, ২০০৭ রাত ১১:৪৭
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন: মন্তব্যগুলো সব হারিয়ে গিয়ে কি অবস্থা হয়েছে এটার... :/


আজ রাতে সময় করে আপলোড করে দেব ব্যকআপ থেকে...
১৭. ১২ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২৩
comment by: িনরুেদ্দশ নীহািরকা বলেছেন:

ওরে, জোস্ত জিনিস তোরে ভাই, বিজ্ঞান লইয়া এত্তদিন মাইনষে খালি খালি ফাল পাড়ছে, কোরআন পড়াইলে তো সব হয়া যাইতো.....।
১৮. ২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ৯:০৪
comment by: নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:

এই পোস্টের লেখক ও পাঠকদের প্রতি অনুরোধ জানাবো আমার এই পোস্টটি পড়ারঃ




শিরোনামঃ ধর্মে বিজ্ঞানঃ নিম গাছে আমের সন্ধান
লিংকঃ Click This Link
১৯. ২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ৯:১৩
comment by: নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন: কষ্ট যাতে না হয়, সেজন্য আমার পুরো পোস্ট এখানে তুলে দিচ্ছিঃ



শুরু করছি একটি পৌরানিক কাহিনী দিয়ে, মহাভারতে এটি পাওয়া যাবে, ভাগবতেও এ কাহিনী আছে। দেবতাকূল সমুদ্র মন্থনের মাধ্যমে অমৃত আহরণ করে যখন তা পান করতে যাবে, সে সময় দানবদের মধ্য থেকে একজন, নাম রাহু, দেবতা সাজে সেখানে উপস্থিত হয়ে দেবতাদের সাথে অমৃত পান আরম্ভ করে। কিন্তু দেবতাদের মধ্যে সূর্য এবং চন্দ্র হঠাৎই রাহুকে চিনতে পারায় তারা দেবতাদের জানিয়ে দেয় এবং দেবরাজ ইন্দ্র এককোপে রাহুর মস্তক ছিন্ন করে ফেলে। ঠিক সেই মুহুর্তে রাহু কর্তৃক পানকৃত অমৃত কেবল মস্তক হতে গলা পর্যন্ত এসেছিল বিধায় মস্তক পর্যন্ত অংশটুকু অমর হয়ে যায় এবং আকাশের একস্থানে অবস্থান করতে থাকে। সূর্য এবং চন্দ্রের কারণে ধরা পড়ে যাওয়ার কারণে তাদের প্রতি শুরু হয় ভীষণ শত্রুতা এবং যখনই তাদের সঞ্চারপথে রাহুর নাগালের মধ্যে আসে, তখনই রাহু সূর্য ও চন্দ্রকে গিলে খায়। যেহেতু রাহুর শুধু মস্তকই আছে, ফলে সে সূর্য-চন্দ্রকে হজম করতে পারে না বরং কিছুক্ষণের মধ্যেই তার কাটা গলা দিয়ে বের হয়ে পড়ে। যেসময়টুকু তার মুখের মধ্যে থাকে সে সময়েই হয় সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ।
বিভিন্ন জায়গার উপকথা, পুরাণ, প্রাচীণ গাঁথায় এরকম অসংখ্য কাহিনী আমরা পাই, যেখানে আমাদের চারপাশের প্রকৃতির বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো পড়লে আমরা বুঝতে পারি- এককালে মানুষ কি'করে বিভিন্ন ঘটনার উত্তর কল্পনা করেছে। কিন্তু সমস্যা হয় তখনই যখন মানুষ এসব নানা কাহিনীকে স্ব স্ব ধর্মের মোড়কে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা আরম্ভ করে এবং তার একটা সার্বজনীন রূপ দেয়ার চেষ্টা করে। আর এই সার্বজনীন রূপ দিতে গিয়ে আজকের বিজ্ঞানের যুগে এসে, বিজ্ঞানের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার সাথে সেইসব পৌরানিক কাহিনীর একটা যোগসূত্র বের করে ফেলে অনেকেই। উপরের ঘটনাটির একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেখেছিলাম তেমনি একটি আলোচনায়। সেটি এবার শুনা যাকঃ

ভাগবতে আছে, "রাহুর মস্তক অমৃতের স্পর্শ লাভ করিবার ফলে অমর হইয়াছিল। তাই ব্রহ্মা রাহুর মস্তককে একটি ছায়া গ্রহরূপে স্বীকৃতি দিয়াছিলেন। রাহু যেহেতু চন্দ্র এবং সূর্যের চিরশত্রু, তাই অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্যের প্রতি ধাবিত হয়"। (ভাঃ ৮/৯/২৬), কিংবা "রাহু সূর্য এবং চন্দ্র উভয়ের প্রতিই বৈরীভাবাপন্ন এবং তাই সে প্রত্যেক অমাবস্যা ও পূর্ণিমাতে তাহাদের আচ্ছাদিত করতে চেষ্টা করে"। (ভাঃ ৫/২৪/২)

এই আলোচনার পরেই সেখানে আনা হলো চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত বিজ্ঞানের আলোচনা এবং দুটিতে অদ্ভুতভাবে মিল দেখিয়ে দাবী করা হলো, রাহু হলো ছায়া যা চন্দ্রের উপরে পড়ে, সব পূর্ণিমা তিথিতে চন্দ্রগ্রহণ হয় না- সব অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হয় না, কেবল যখন রাহু বা ছায়া পড়ে তখনই এই গ্রহণ হয়। অতএব, বিজ্ঞানের সমস্ত ব্যাখ্যা ভাগবতেই বিদ্যমান!!

ধর্মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাঃ
এই যে, ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞানকে খুঁজে বের করা- ধর্মের বিভিন্ন ঘটনা-ব্যাখ্যা-আলোচনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাঁড় করানো, বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারকে ধর্মের প্রাচীণ গ্রন্থের মাঝে খুঁজে পাওয়া এসবের উদ্দেশ্য জানতে বেশী চিন্তা করতে হয় না। যে সময়ে ধর্মসমূহের উদ্ভব, সে সময়টি বা যুগটি মানুষ পার হয়ে এসেছে অনেক আগেই। একসময় কোপার্নিকাস-ব্রুনো-গ্যালিলিও-হাইপেশিয়াদের মেরে, লাইব্রেরী পুড়িয়ে, পেশী শক্তি দিয়ে জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা সাময়িক স্তব্ধ করা গেলেও, মানুষকে পুরোপুরি আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। এখন এই যুগে মানুষের জ্ঞানজগতে বিচরণ হাজার বছর আগের কুসংষ্কারকে অগ্রাহ্য করতে চায় বারেবারে। আর উল্টোদিকে প্রতিটি ধর্মই যে শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দিয়ে এসেছিল, তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। একে টিকিয়ে রাখতে তাই আজকের বিজ্ঞানের সাথে একটা ব্লেণ্ডিং যাকে বলে মিলে-মিশে জগা-খিচুরী বানানোটা হয়ে ওঠে অপরিহার্য। এভাবে ধর্মসমূহ হয়ে ওঠে বিজ্ঞানময়, ধর্মগ্রন্থ হয়ে ওঠে সায়েন্স এনসাইক্লোপিডিয়া!!

কিছু নমুনা দেখিঃ
কোরানঃ "অতঃপর আমি নিদর্শন দিতেছি। ওই সকল তারকার যাহারা পিছনে হটিয়া যায়।" - ৮১:১৫
বিজ্ঞানঃ অন্যান্য সকল দরবর্তী গ্যালাক্সী আমাদের এই মিলকীওয়ে গ্যালাক্সি থেকে সর্বদা দুরে সরে যাচ্ছে।
১৯২০ এর দশকে বৈজ্ঞানিক এডুইন হাবল দূরবর্তী গ্যালাক্সিসমূহের তারকার আলো পর্যবেক্ষন করে দেখতে পান- সেগুলি সর্বদা পশ্চাদপসরণ করছে।

কোরানঃ "আকাশমন্ডলীকে আমিই সৃষ্টি করিয়াছি শক্তিদ্বারা এবং নিশ্চই আমি উহাকে সম্প্রসারিত করিতেছি।" - ৫১:৪৭
বিজ্ঞানঃ সকল দিকের সব দূরবর্তী গ্যালাক্সিই প্রতিনিয়ত আমাদের মিলকীওয়ে গ্যালাক্সী থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। এর অর্থ দাড়ায়, মহাবিশ্ব সর্বদাই সম্পসারিত হচ্ছে।

কোরানঃ "কাফিরেরা কি দেখে না যে, এই আসমান যমীন সবকিছু মিলিত অবস্থায় ছিল, পরে আমি এইগুলিকে আলাদা আলাদা করিয়া দিয়াছি।" - ২১:৩০
বিজ্ঞানঃ মহাবিশ্ব বর্তমানে সম্প্রসারিত হচ্ছে, যার অর্থ দাড়ায়, আদিতে কোন এক সময় মহাবিশ্বের সমস্ত গ্রহ, নক্ষত্র তথা সমস্ত পদার্থ একত্রিত অবস্থায় ছিল, সম্ভবত কোন এক আদি বিস্ফোরণ থেকে এই সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছে। (বিগব্যাঙ)

কোরানঃ "তৎপর তিনি আসমানের প্রতি মন দিলেন, তখন উহা ধোঁয়া ছিল, পরে তিনি আসমান ও যমীনকে বলিলেন, 'আস, ইচ্ছায় কি অনিচ্ছায়', তাহারা বলিল, 'আমরা একান্ত অনুগতভাবেই আসিলাম।'" - ৪১:১১
বিজ্ঞানঃ সৃষ্টির প্রারম্ভে মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রিত ধোয়া উৎপন্ন হয়েছিল। অজানা কারনবশত এই ধোয়া বিভক্ত হয়ে বিশাল আকৃতির সব ধোয়ার মেঘে রূপান্তরিত হয়েছিল। পরবর্তিতে এক একটি ধোয়ার মেঘ রূপান্তরিত হয়েছে এক একটি গ্যালাক্সিতে। ধোয়া থেকেই সৃষ্টি হয়েছে এ মহাবিশ্ব সব গ্যালাক্সি তথা সম্পূর্ন মহাবিশ্ব।

কোরানঃ সূর্য তার নিজ অক্ষে ঘুরিতেছে। ইহা পরাক্রমশালী প্রভুর নির্ধারিত। আমি চন্দ্রকে যথাস্থানে বসিয়ে দিয়েছি এমনকি চন্দ্রটি শীর্ণ খেজুর পাতার মতো হয়ে যায়। সূর্য চন্দ্রকে ধরতে পারে না ও রাত্রিও দিনকে আতিক্রম করতে পারে না। তারা নিজ নিজ কক্ষ পথে চলতেছে। (৩৬: ৩৮, ৩৯, ৪০)
বিজ্ঞানঃ সূর্য তার নিজ অক্ষে ঘুরছে...স্থির ভাবে। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষ পথে ঘুরছে... বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল.. সবার কক্ষপথ আলাদা। সূর্য এদের মাঝখানে।

কোরানঃ হে জ্বিন ও মানবমণ্ডলী, যদি তোমরা প্রবেশ করিতে পার আসমান ও জমিনের এলাকায়, তাহা হইলে উহাতে প্রবেশ কর৷ তোমরা উহাতে প্রবেশ করিতে পারিবে না মহাবমতা ব্যতিরেকে। (৫৫:৩৩)
বিজ্ঞানঃ মহাশূন্য বিজয়ের কথা এখানে আয়াতে ইঙ্গিত দেয়া আছে। অর্থাৎ আল্লাহ বলছেন, তোমরা মহাৰমতা অর্জন করেই কেবল উহাতে প্রবেশ করতে পারবে৷ বলাবাহুল্য, এই মহাৰমতা হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকর্ষের বাধা অতিক্রমকারী দ্রম্নতগামী প্রযুক্তি অর্জন৷ বিগত শতকের শেষ দিকে মানুষ এই প্রযুক্তি করায়ত্ত করে এবং সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করে৷


একটু দেখলেই বুঝা যায় এরকম বিজ্ঞানীকিকরণের ক্ষেত্রে দুটি কাজ সচেতনভাবে করা হয়, দুধরণের বিচ্যুতি, বিজ্ঞানের কোন স্বীকৃত তথ্যক কোরানজাত করতে গিয়ে প্রথম বিচ্যুতি ঘটানো হয় অনুবাদে ও দ্বিতীয় বিচ্যুতিটি ঘটে ব্যাখ্যায়। যেমন,

অনুবাদগত বিচ্যুতিঃ উপরের নমুনা থেকে দেখি, ৮১:১৫ ও ১৬ এর অনুবাদ করাঝয়েছে এভাবে: "অতঃপর আমি নিদর্শন দিতেছি। ওই সকল তারকার যাহারা পিছনে হটিয়া যায়"। জহুরুল হকের অনুবাদে আমরা পাই, "আমি স্বাক্ষী মানছি গ্রহ-নক্ষত্রদের। যারা চলে থাকে, অদৃশ্য হয়ে যায়"। আরো তিনটি অনুবাদ দেখি: "YUSUFALI: So verily I call to witness the planets - that recede, Go straight, or hide;
PICKTHAL: Oh, but I call to witness the planets, The stars which rise and set,
SHAKIR: But nay! I swear by the stars, That run their course (and) hide themselves,"

একইভাবে, ৫১:৪৭ এর অনুবাদ করা হয়েছে, "আকাশমন্ডলীকে আমিই সৃষ্টি করিয়াছি শক্তিদ্বারা এবং নিশ্চই আমি উহাকে সম্প্রসারিত করিতেছি"। জহুরুল হকের অনুবাদে এটি অনেকটা এমন : "আর মহাকাশমণ্ডল, আমরা তা নির্মাণ করেছি হাতে, আর আমরাই বিশালতার নির্মাতা"। ইংরেজী অনুবাদে পাই: "YUSUFALI: With power and skill did We construct the Firmament: for it is We Who create the vastness of pace.
PICKTHAL: We have built the heaven with might, and We it is Who make the vast extent (thereof).
SHAKIR: And the heaven, We raised it high with power, and most surely We are the makers of things ample. "

এরপরে আসি সূর্য ও পৃথিবীর গতিসংক্রান্ত আয়াতের অনুবাদে। ৩৬:৩৮ এর অনুবাদে এখানে বলা হয়েছে, "সূর্য তার নিজ অক্ষে ঘুরিতেছে"। জহুরুল হকের অনুবাদ: "সূর্য তার গন্তব্যপথে বিচরণ করে"। এবং ইংরেজী অনুবাদে পাই: "YUSUFALI: And the sun runs his course for a period determined for him:
PICKTHAL: And the sun runneth on unto a resting-place for him.
SHAKIR: And the sun runs on to a term appointed for it; "

এরকম আরো দেখানো যেতে পারে, আশা করি আপনার নিজেও কয়েকটি অনুবাদের সাথে মিলিয়ে দেখলেই বুঝবেন।

ব্যাখ্যাগত বিচ্যুতিঃ এখানে আরো মজা, কেননা সবচেয়ে বড় জোচ্চুরী ঘটে এখানেই। "গ্রহ-নক্ষত্ররা চলে ও অদৃশ্য হয়" (৮১:১৫) এই অনুবাদের বদলে "তারারা পিছু হটে" এই অনুবাদ ধরলেও যখন এর সাথে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে অন্য গ্যালাক্সিসমূহ দূরে সরে যাচ্ছে বিজ্ঞানী হাবলের এই আবিষ্কারের যোগসূত্র বের করা হয়, তখন হাসবো না কাঁদবো সহসা বুঝে আসে না। আবার যখন "সূর্য চন্দ্রকে ধরতে পারে না ও রাত্রিও দিনকে আতিক্রম করতে পারে না। তারা নিজ নিজ কক্ষ পথে চলতেছে" (৩৬:৪০) এর ব্যাখ্যায় বলা হয় তারা মানে পৃথিবী, গ্রহ সমূহ নিজ নিজ কক্ষে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, তখন ব্যকরণ নতুন করে শিখতে ইচ্ছে করে। প্রশ্ন এসে খেলা করে, বিশেষ্যের (সূর্য, চন্দ্র বা রাত্রি ও দিন) পরে যে সর্বনাম (তারা) বসে, সেই সর্বনাম কোন বিশেষ্যকে নির্দেশ করে! "আসমান যমীন সবকিছু মিলিত অবস্থায় ছিল, পরে আমি এইগুলিকে আলাদা আলাদা করিয়া দিয়াছি" (২১:৩০) এর ব্যাখ্যায় যখন বিগব্যাঙ থিওরি খুঁজে পাওয়া যায়, তখন মনে আসে এখন না থাক সৃষ্টির আদিতে নিশ্চয় আসমান বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নিশ্চয় ছিল। আরেকবার বিগব্যাঙ থিওরি খুঁজে দেখি শুরুতেই পৃথিবীর (যমীন) সৃষ্টি হয়েছিল কি-না। "হে জ্বিন ও মানবমণ্ডলী, যদি তোমরা প্রবেশ করিতে পার আসমান ও জমিনের এলাকায়, তাহা হইলে উহাতে প্রবেশ কর" (৫৫:৩৩) এর ব্যাখ্যায় যখন বলা হয় মানুষের চন্দ্রে অভিযান সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বানী কোরানেই করা হয়েছে, তখন আর হাসি চেপে রাখতে পারি না, মনে পড়ে যায় সেই গল্পের কথা, যেখানে অর্ধশিক্ষিত এক গ্রাম্য যুবক বকলম গ্রামবাসীদের নিজের মত টেলিগ্রাম অনুবাদ করে শুনিয়েছিল!!

বিজ্ঞান বনাম কোরানঃ
মজা এখানেই শেষ নয়। আরেকটি মজার ব্যাপার হলো, এ ধরণের বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনায় আড়ালে আবডালে থেকে যায় কোরান- হাদীসের আরো কিছু সুরা, আয়াত, হাদীস। একইভাবে সেখানে ঘুণাক্ষরেও আনা হয় না বিজ্ঞানের অন্য কিছু স্বীকৃত আবিষ্কারের কথা। আর কোনক্রমেই যদিবা এসব কেউ নিয়েও আসে, সাথে সাথে ফতোয়াও হাজির হয়ে যায়ঃ "এসব কোরান-হাদীস বুঝার সামর্থ্য আমাদের মত অর্বাচীনের নেই, কোন কোনটি আবার নাকি বিয়োণ্ড হিউম্যান ইমাজিনেশন", কিংবা আক্রমণ চলে আসে বিজ্ঞানের উপরেই: "বিজ্ঞান কি সব কিছু কখনো জানতে পারে?" এই আক্রমণের সাথে সাথে অবশ্য কোরান ও বিজ্ঞানের যোগসূত্র বের করার হার কমা শুরু করে না।

যাহোক, এমন ফতোয়া আসবে ধরে নিয়েই আসুন কিছু কোরান-হাদীস পর্যালোচনা করিঃ

১৮: ৮৬: পরে যখন তিনি সূর্য অস্ত যাবার স্থানে পৌঁছলেন, তিনি এটিকে দেখতে পেলেন কালো জলাশয়ে অস্তগমন করছে, আর তার কাছে পেলেন এক অধিবাসী। আমরা বললাম- "হে যুলক্কারনাইন, তোমরা শাস্তি দিতে পার অথবা এদের সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার"।
১৮: ৯০: পরে যখন তিনি সূর্য উদয় হওয়ার জায়গায় পৌঁছলেন তখন তিনি এটিকে দেখতে পেলেন উদয় হচ্ছে এক অধিবাসীর উপরে যাদের জন্য আমরা এর থেকে কোন আবরণ বানাই নি।

এখানে কথক আল্লাহ যুলক্বারাইন সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বলছেন, তিনি সূর্য উদয় স্থলে একবার গেলেন এবং আরেকবার গেলেন সূর্য অস্তের স্থানে। যেখানে গিয়ে যুলক্বারাইন দেখে সূর্যের কালো জলাশয়ে অস্ত যাওয়াও প্রত্যক্ষ করেন। এখান থেকে মনে প্রশ্ন আসে, তখন কি আরবের মানুষ জানতো না যে পৃথিবী গোলাকৃতির, কেননা, সমতল হলেই পৃথবীতে সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার দুদিকে দুটি স্থানের প্রয়োজন পড়ে। (শানে নুযুল দ্রষ্টব্যঃ কাফিরেরা তাওরাত-ইঞ্জীলে উল্লেখিত আশ্চর্য মানুষ সম্পর্কে মুহম্মদ সা কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যে ব্যক্তি গোটা বিশ্ব ভ্রমণ করেছিলেন উভয় দিকে মানে পশ্চিমে ও পূর্বে)।

এরপরে আরো কটি সুরায় কিছু আয়াত দেখলে একই প্রশ্ন আবারো উকিঝুকি মারতে থাকে মনে:
২১: ৩১: আর পৃথিবীতে আমরা পাহাড় পর্বত স্থাপন করেছি, পাছে তাদের সঙ্গে এটি আন্দোলিত হয়; আর ওতে আমরা বানিয়েছি চওড়া পথঘাট যেন তারা সৎপথ প্রাপ্ত হয়।
২১: ৩২: আর আমরা আকাশকে করেছি এক সুরক্ষিত ছাদ। কিন্তু তারা এর নিদর্শনাবলী থেকে বিমুখ থাকে।
১৫: ১৯: আর পৃথিবী- আমরা তাকে প্রসারিত করেছি, আর তাতে স্থাপন করেছি পর্বতমালা, আর তাতে উৎপন্ন করেছি হরেক রকমের জিনিস সুপরিমিতভাবে।
৭৮: ৬, ৭: আমরা কি পৃথিবীটাকে পাতানো বিছানো রূপে বানাইনি? আর পাহাড় পর্বতকে খুঁটি রূপে?
২: ২২: যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে ফরাশ (couch) বানিয়েছেন, আর আকাশকে চাঁদোয়া (canopy).....
৩১: ১০: তিনি মহাকাশমণ্ডলীকে সৃষ্টি করেছেন কোন খুঁটি ছাড়াই,- তোমরা তো দেখতেই পাচ্ছ; আর তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা পাছে এটি তোমাদের নিয়ে ঢলে পড়ে।

এসব যখন পড়ি, তখন আধুনিক বিজ্ঞান আকাশ সম্পর্কে কি বলে তা মনে আসলেই বিপদ। যখন মহাশূণ্যে নিয়ত গতিশীল জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর বিচরণের দিকে তাকাই তখন কোরানের এই আকাশমণ্ডলী যাকে খুটি ছাড়াই আল্লাহ মানুষের ছাদ বা চাঁদোয়া হিসাবে সৃষ্টি করেছেন, যার আবার ৭টি স্তরও বিদ্যমান, সম্পর্কে ধাধায় পড়ে যাই। আর, জমিন বা পৃথিবীকে পাতানো বিছানো হিসাবে তৈরী করে সেখানে পাহাড়-পর্বত দিয়েছেন, যার দরুন পৃথিবী হেলেও পড়ে না, নড়াচড়াও করতে পারে না। এ আল্লাহর অসীম দয়া নিসন্দেহে, কিন্তু এখন যখন পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, এত বড় বড় পর্বতমালা থাকার পরেও শুধু নড়াচড়া নয় প্রতি ২৪ ঘন্টায় এক ডিগবাজীর সাথে সাথে ৩৬৫ দিনে সূর্যের চারদিকে নেচে বেড়াচ্ছে এই পৃথিবী, তখন আল্লাহর জ্ঞানের পরিধি নিয়ে মন সন্দেহগ্রস্ত হয়ে উঠতে চায়!


এবারে নিচের আয়াত দেখিঃ

৩৬: ৪০: সূর্যের নিজের সাধ্য নেই চন্দ্রকে ধরার, রাতেরও নেই দিনকে অতিক্রম করার। আর সবকটিই কক্ষপথে ভাসছে।

এখানে সূর্য ও চন্দ্রের সংঘর্ষের সম্ভাবনা নেই বলে যখন ঘোষণা করা হয়, তখন হঠাতই মনে হয় সূর্য, চন্দ্র, পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথের কথা জানলে কি এই সংঘর্ষের কথা উঠতে পারে? মনে পড়ে এক বালকের কথা, যে অবাক হয়ে তার বাবাকে প্রশ্ন করে যে, আচ্ছা বাবা- একই আকাশে সূর্যও পূর্ব থেকে পশ্চিমে যাচ্ছে, চন্দ্রও। তাহলে ওদের মধ্যে ঠোকাঠুকি হয় না কেন? বাবা বলতে পারেন, ভিন্ন কক্ষপথের কথা অথবা বলতে পারেন আল্লাহর কুদরতের কথা। আল্লাহ নিজে তো নিজের কুদরতের কথা ঘোষণা করবেনই।

সূর্য নিজ অক্ষে ঘুরছে দাবী করা হয়েছে যে আয়াতটি দিয়ে সেটি হলো ৩৬: ৩৮, সেটির PICKTHAL কর্তৃক অনুবাদ হচ্ছে: "And the sun runneth on unto a resting-place for him". এই রেস্টিং প্লেসের বিষয়টি আমরা এবার দেখি সহীহ বুখারী হাদীসেঃ
"হযরত আবূ যর গিফারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী করিম সা. আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আবূ যর, তুমি কি জান যে, অস্ত যাওয়ার পরে সূর্য কোথায় যায়?" আমি উত্তর করলাম, "আমি জানি না, একমাত্র আল্লাহর রাসুল সা. ই ভালো বলতে পারেন"। তখন তিনি বললেন, "অস্ত যাবার পরে সূর্য আল্লাহর আরশের নিচে অবস্থান করে এবং আবার পূর্বদিকে উদয় হওয়ার জন্য আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় থাকে। এমন দিন আসবে যখন সূর্য উদয়ের অনুমতি পাবে না এবং তখন পৃথিবীতে কেয়ামত নেমে আসবে"। (ভলিউম ৪, বুক ৫৪, হাদীস ৪২১)

এবারে মুহম্মদ সা. ও তাঁর সমসাময়িক আরববাসীদের বিজ্ঞানের দৌড় সম্পর্কে ধারণা করা আমাদের জন্য কিছুটা সহজ হলো বিধায়। মুহম্মদ সা এর বিজ্ঞান দৌড়ই বা বলি কেমনে, ওনাকে তো শিখিয়েছেন আল্লাহ স্বয়ং!!

এমনতো অসংখ্যই আছে। ভুরি ভুরি। কোনটা বাদে কোনটা লিখবো? জ্বিন, ফেরেশতা এসব আর রূপকথার দেও-দানবের কোন পার্থক্য নেই। তার উপরে নদীর দুভাগ হওয়া, বোরাকে করে সপ্ত আসমান পরিভ্রমণ, লাঠির সর্প হয়ে যাওয়া, হাতের ইশারায় চাদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া, হাতের স্পর্শে কুষ্ঠরোগ ভালো হয়ে যাওয়া প্রভৃতি ঘটনাকে চিত্তাকর্ষক পৌরাণিক কাহিনী বলা যেতে পারে, যেখানে বিজ্ঞান না টানাই হয়তো সবার জন্য মঙ্গলজনক।

যে লাউ সে-ই কদুঃ
এবারে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের সাথে বিজ্ঞানের সংযোগ দেখি:
ভাগবত ২/১৬/১৭: হে মাতঃ হে স্বায়ম্ভুব মনুর কন্যা! আমি পূর্বেই বর্ণনা করিয়াছি যে, কাল হইতেছে পরমেশ্বর ভগবানের শক্তি, প্রকৃতির সাম্য, অব্যক্ত অবস্থা বিক্ষুব্ধ হওয়ার ফলে, যাঁহার থেকে সৃষ্টির শুরু হয়।
বিজ্ঞানঃ এই শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে প্রকৃতির সাম্য, অব্যক্ত অবস্থা বিক্ষুব্ধ হওয়ার ফলে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ শব্দটির অর্থ বিস্ফোরণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি বৃহৎ বিস