গ্রহ:সূর্যের চারিকে ঘুড়ে বেড়ানো কতগুলি মহাজাগতিক বস্তু।এদের নিজস্ব কোন আলো নেই,সূর্যের আলোয় এরা আলোকিত হয়।
নিম্নতর (Inferior) ও উচ্চতর (Superior) গ্রহ: অবস্হান অনুযায়ী সূর্যের চারিপাশে ঘোরে প্রথমে বুধ,এরপরে শুক্র,পৃথিবী,মন্গল,গ্রহানু,বৃহস্পতি,শনি,ইউরেনাস,নেপচুন, ও প্লুটো।যে সব গ্রহ সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে অবস্হান করে তাদেরকে বলে নিম্নতর গ্রহ।অতএব বুধ ও শুক্র হলো নিম্নতর গ্রহ।
উচ্চতর গ্রহ:আর যে সব গ্রহ পৃথিবীর পরে অবস্হান করে তাদের কে বলে উচ্চতর গ্রহ।যেমন মন্গল,বৃহস্পতি,শনি ইত্যাদি উচ্চতর গ্রহ।
গ্রহদের সংযোগ (Conjunction) ও প্রতিযোগ (Opposition):গ্রহদের সংযোগ :সূর্য প্রদক্ষিনকালে যখন কোন গ্রহ সূর্য ও পৃথিবী একই সরল রেখায় অবস্হান করে তখন বলা হয় গ্রহটি সংযোগ স্হানে অবস্হান করছে।এটি দু রকমের হতে পারে,
ক)যে সংযোগকালে গ্রহটি সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে করে তখন তাকে বলা হয় নিম্নতর (Inferior Conjunction) সংযোগ।
খ)আবার যে সংযোগ কালে সূর্য গ্রহ ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্হান করে তাকে বলা হয় উচ্চতর (Superior Conjunction) সংযোগ।
প্রতিযোগ:কেবল মাএ উচ্চতর গ্রহদের বেলায় প্রতিযোগ অবস্হা ঘটে।যখন পৃথিবী সূর্য ও একটি গ্রহের মধ্যে একই সরল রেখায় অবস্হান করে তখন সেই অবস্হাকে বলা গ্রহটির প্রতিযোগ অবস্হান।এখানে একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে,যে নিম্নতর গ্রহ উচ্চতর সংযোগ ও নিম্নতর সংযোগে থাকতে পারে কিন্ত কখনোই প্রতিযোগ অবস্হানে আসতে পারে না।আবার উচ্চতর গ্রহরা প্রতিযোগ এবং উচ্চতর সংযোগ স্হানে আসতে পারে কিন্ত কখনোই নিম্নতর সংযোগ স্হানে আসতে পারে না।
পাঁত বিন্দু (Nodes):পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরার ফলে মনে হয়,সূর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিন করছে।সূর্যের এই আপাত পরিক্রমার কক্ষপথকে বলা হয় ক্রান্তিবৃত্ত।পৃথিবীর কক্ষপথের তল ও ক্রান্তিবৃত্তের তল একই হবে। কোন গ্রহের কক্ষপথের তল এই ক্রান্তিবৃত্তকে বা পৃথিবীর কক্ষপথের তলকে যে দুটি বিন্দুতে ছেদ করে,তাদের কে বলা হয় পাঁত (Nodes) বিন্দু।এই তলের দক্ষিন দিক থেকে উওর দিকে যেতে যে পাঁত বিন্দু পাওয়া যায় তাকে উপরিপাত (Ascending)বিন্দু বলে।আবার উওর থেকে দক্ষিনে যেতে পাঁত বিন্দু পাওয়া যায় তাকে নিম্ন (Descenoing)পাঁত বিন্দু বলে।
গ্রহের সংক্রমন (Transit):মাঝে মাঝে সৌর চাকতির উপর দিয়ে নিম্নতর গ্রহদের কালো বিন্দুর মত চলে যেতে দেখা যায়,একে বলা হয় গ্রহদের সংক্রমন (Transit)।এটি একটি বিরল ঘটনা, 2004 সালে শুক্র গ্রহের এই রকম একটি সংক্রমন দেখা গিয়েছিল।আর এটি তখনই ঘটে, যখন নিম্নতর গ্রহগুলি পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে একই সরলরেখায় থাকে।কিন্ত গ্রহদের কক্ষপথের তল ও পৃথিবীর কক্ষপথের তল সামান্য কোন করে থাকে,সুতারং পাত বিন্দু দুটি ছাড়া কখনোই একটি গ্রহ সূর্য ও পৃথিবীর একই সরল রেখায় থাকে না।আবার গ্রহটি পৃথিবী ও সর্যের মাঝখানে এলেই এ ঘটনা ঘটবে না,শুধুমাএ গ্রহটি নিম্নতর সংযোগ এবং পাত বিন্দুতে থাকলেই এই ঘটনা ঘটবে।
গ্রহদের দশা
গহদের সম্প্রসারন (Elongation):গ্রহদের সম্প্রসারন বলতে বোঝায় পৃথিবীর সাপেক্ষে গ্রহ ও সূর্যের মধ্যকার কৌনিক দুরত্ব।নিম্নতর গ্রহদের বেলাতে নিম্নতর সংযোগ ও উচ্চতর সংযোগ স্হলে এই কৌনিক দুরত্ব পৃথিবী থেকে নিম্নতর গ্রহটির কক্ষপথে একটি স্পর্শক টানলে স্পর্শকটি কক্ষপথকে যে দুটি বিন্দুতে স্পর্শ করে,গ্রহটি তখন যদি সেই স্পর্শ বিন্দুতে থাকে তখন তার সম্প্রসারন হবে সবচেয়ে বেশী।নিম্নতর গ্রহদের বেলায় এই মান সব সময় সুক্ষ কোন হয়। আবার উচ্চতর গ্রহরা যখন উচ্চতর সংযোগ স্হানে থাকে তখন এই সম্প্রসারন হবে শূন্য ডিগ্রী।কিন্ত গ্রহটি যখন নিজস্ব কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে যখন প্রতিযোগ স্হানে আসবে তখনই এই কৌনিক দুরত্ব হবে 180 ডিগ্রী।কাজেই উচ্চতর গ্রহদের বেলায় এই সম্প্রসারন 0 ডিগ্রী থেকে 180 ডিগ্রীর মধ্যে থাকবে।যখন এই সম্প্রসারন 90 ডিগ্রী হবে তখন তাকে বলা হয় সমচতু স্পোর্নতা (Quadrature) বা বর্গীকরন।
গ্রহের সাইডরিয়েল (Sidereal) কাল ও সিনোডিক (Synodic) কাল:
সাইডরিয়েল কাল:গ্রহ যে গতিতে নিজস্ব কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে সেই গতিবেগকে বলা হয় সাইডরিয়েল গতিবেগ,এবং এই গতিতে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিন করতে গ্রহটির যে সময় লাগে তাকে বলে সাইডরিয়েল সময়কাল।
সেনোডিক কাল: পৃথিবী ও তার নিজস্ব কক্ষপথে সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে।তাই গ্রহ ও পৃথিবীর আপেক্ষিক গতির জন্য পৃথিবী থেকে গ্রহটির গতিবেগ তার প্রকৃত গতি বেগের থেকে অন্যরকম মনে হয়, একে বলে সিনোডিক গতি।এবং সে সময় কাল অন্তর অন্তর গ্রহটিকে পৃথিবী থেকে একই জায়গায় দেখা যায় তাকে বলা হয় সিনোডিক কাল।বুধ গ্রহটিকে নিম্নতর সংযোগ স্হলে পৃথিবী থেকে যদি আজ দেখা যায়,তাহলে আবার 116 দিন পরে আবার বুধকে নিম্নতর সংযোগ স্হানে দেখা যাবে। এই 116 দিন কে বলা হয় সিনোডিক কাল। যদিও আমাদের কাছে মনে হবে,যে শুধু 116 দিনে বুধ সূর্যকে একবার প্রদক্ষিন করেছে, কিন্ত প্রকৃত পক্ষে বুধ 88 দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিন করে।
সিনোডিক ও সাইডরিয়েল কালের মধ্যে সম্পর্ক হলো এই রকম:
1 1 - 1
সিনোডিক কাল = সাইডরিয়েল কাল + পৃথিবীর সাইডরিয়েল কাল, ওপরের (-) চিন্হটি নিম্নতর গ্রহদের জন্য, এবং নীচের (+) চিন্হটি উচ্চতর গ্রহদের জন্য।
উত্কেন্দ্রিকতা (Eccentuiely):এটি একটি গানিতিক রাশি।যার মান থেকে বোঝা যায় একটি বক্র কক্ষপথের চরিএ। সাধারনত একে e অক্ষর দিয়ে বোঝানো হয়। e এর মান 1 হলে কক্ষপথটি অধিবৃক্ত (Parabola) হবে। যদি e এর মান 1 এর কম হয় তাহলে কক্ষপথটি উপবৃক্তাকার (Ellipse) হবে। এবং e এর মান 1 এর বেশী হলে কক্ষপথটি পরাবৃক্ত (Hyperbola) হবে।
গ্রহরা উপবৃক্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে বলে সূর্য থেকে এদের দুরত্ব পরিবর্তিত হতে থাকে। কেনানা উপবৃক্তের দুটি ফোকাস বিন্দুর মধ্যে একটিতে থাকে সূর্য।সূর্য থেকে কোন একটি গ্রহের নিকটতম দুরত্বকে বলে পেরিহিলিয়ন (Perihelion), আর সর্বাধিক দুরত্বকে বলে (Aphelion) ।মগন্গল যখন সূর্য থেকে সবচেয়ে দুরে থাকে তখন ধীর গতিতে চলে আবার যখন সূর্যের কাছে আসে তখন গতি বেড়ে যায়। যদি সূর্য ও মন্গল কে একটি রেখা দ্বারা সংযুক্ত করা যায় তাহলে সেই সংযোগকারী রেখাটি কক্ষপথের তলে নির্দিস্ট সময়ে নির্দিস্ট পরিমান ক্ষেএফল অধ্যুষিত করবে তা উভয়ের মধ্যে দুরত্ব যাই হোক না কেন। এর জন্য গ্রহরা সূর্যের কাছে এলে এদের গতিবেগ বেড়ে যাবে, দুরে গেলে গতিবেগ কমে যাবে।আর সব গ্রহদের বেলায় এই কথা প্রযোজ্য।কক্ষপথ উপবৃক্তাকার হবে ও গ্রহরা নির্দিস্ট ক্ষেএফল অধ্যুষিত করবে,এই দুটিই হলো গ্রহদের গতিবিধির মূলনীতি।
ছবি সৌজন্যে:http://www.google.com

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



