somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘ বলেছে যাব যাব (হুমায়ূন আহমেদ এবং তাঁর ভক্ত দের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা পূর্বক)

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ ভোর ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উৎসর্গ
“............ জীবন বয়ে চলবে। আবার এক নতুন গল্প শুরু হবে নতুন চিত্রলেখা কে নিয়ে। কোন এক লেখক লিখবেন নতুন গল্প, আশা ও আনন্দের এক অপূর্ব সঙ্গীত।” - হুমায়ূন আহমেদ, মেঘ বলেছে যাব যাব।
আজ এই বইটা পড়লাম। পড়ার পর থেকে অদ্ভুত অস্থিরতা হচ্ছে! কেন যেন মনে হচ্ছে লেখক সত্যিই চান কেউ নতুন করে লিখুক চিত্রলেখা কে নিয়ে! তাই এভাবে শেষ করেছিলেন বইটা। তখন থেকে ছটফট করছি লেখার জন্য! হাত কাপছে, ভয় হচ্ছে! পারব তো আমি! উনি রাগ করবেন না তো! ওনার সব ভক্তরা তেড়ে আসবে নাতো!! সব ভয় ঝেড়ে লিখতে বসে গেলাম। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা আমার জীবনের প্রথম বইটা (যদি আদৌ বের হ্য়!ক্ষিন আশা মনে, তবু থাকতে দোষ কি!) আমি আমার প্রিয় লেখক কে উৎসর্গ করব, উনি যেমন সবাইকে খুব আয়োজন করে উৎসর্গ করেন ঠিক তেমন করে! আমার প্রিয় লেখক আজ অসুস্থ! কোন এক দূর দেশে তিনি চিকিৎসারত! জানিনা আমার শুরু করা উপন্যাস কবে শেষ হবে! বা আদৌ শেষ হবে কিনা! তাই ভাবলাম ওনার কথা মতই লিখি নাহয়! তাই সমস্ত সাহস সঞ্চার করে নতুন চিত্রলেখা কে নিয়ে নতুন করে লেখা শুরু করলাম। যেহেতু লেখার প্লট একি, বেজ টা একি তাই কৃতজ্ঞতার সাথে এবং ক্ষমা চেয়েই আমি এই সৃষ্টির(!!) নাম পরিবর্তন করছিনা। আমার লেখাটি যদি আপনি কখনও পড়েন আর আপনার যদি খুব রাগ হয় , তাহলে ঠিক আছে। সব মাথা পেতে নেব, কিন্তু তারআগে আপনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন। আপনি আরও হাজার বছর বাঁচুন, যাতে আমরা আপনার সৃষ্টি থেকে বঞ্চিত না হই।

আর সামুর যারা পড়ছেন তাদের বলছি, আমি অনেকটা দুঃসাহস করেই লেখাটা দিচ্ছি! মনে অনেক ভয়! নাজানি আপনাদের কেমন লাগবে! হয়ত আপনারা রাগ করবেন এই বলে যে আমি কেন এটা লিখছি!! তাদের কাছে আগে থেকেই দুঃখিত। যদি খুব খারাপ লাগে তাহলে পরের অংশ যা লিখব আর পোস্ট করবনা। এটাও ড্রাফটে নিয়ে নেব নাহয়!





চিত্রলেখা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। তার চোখ আটকে গেছে আকাশের সাদা মেঘ গুলোর উপর। সে কিছুতেই তার চোখ মেঘের উপর থেকে সরিয়ে নিতে পারছেনা। সে এতদিন তার এপার্টমেন্ট এর জানালা দিয়ে মেঘ দেখেছে, যেখান থেকে মেঘ গুলো শুধু ছুটে বেড়াত, কিন্তু আজ সেও মেঘের সাথে ছুটছে! তার খুব ইচ্ছে করছে মেঘ গুলো ছুয়ে দিতে, কিন্তু সেটা সম্ভব না কারন প্লেনে জানালা খোলার কোন সিস্টেম নেই। তবুও সে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ চোখ নিয়ে। মেয়ের এই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকা দেখছে শম্পা। মা, মেয়ের দিকে তাকিয়ে লিটনের হাসি পেয়ে গেল। দুজনেই এত মনযোগ দিয়ে কি দেখছে কে জানে!! লিটনের খুব ইচ্ছা হল এই মুহূর্তে একটা কিছু বলে শম্পাকে রাগিয়ে দিতে, শম্পা টা এখনও আগের মতই আছে। বিয়ের প্রায় ১৫ বছর হয়ে গেল তবুও! সেই আগের মতই ছেলেমানুষি রাগ, অভিমান!! তাঁর মাঝে মাঝে চিত্রলেখা কেও শম্পার থেকে বেশি mature মনে হয়!! সে আর কিছু বলল না। থাক, মা মেয়ে মনযোগ দিয়ে যা দেখছে দেখুক নাহয়। তাদের এক সাথে তেমন কোথায় যাওয়া হয়না, মেয়ের পড়াশুনা নিজের চাকরি এসবের জন্য। এবার কেমন করে যেন হয়ে গেল। অবশ্য তাঁর নিজের থেকে চিত্রলেখার দেশে যাওয়া নিয়ে বেশি আগ্রহ। আজ ১৫ বছর যাবত তাঁরা দেশের বাইরে, দেশে সেরকম আত্মীয় স্বজনও নেই যে তাদের জন্য আসবে। অবশ্য তাঁর নিজেরও একটা কৌতুহল আছে যেটা সে এখনও শম্পা বা চিত্রলেখা কে বলেনি। সময় হলেই বলবে।


চিত্রলেখার খুব ইচ্ছা সে দেশে আসবে, যে মানুষটি তার নাম রেখেছে তাঁকে দেখবে। ছোটবেলা থেকে সে হাসান এর নাম শুনে শুনে বড় হয়েছে, মা বাবার কাছে কত যে গল্প শুনেছে তার ইয়ত্তা নেই। কিভাবে জানেনা, ছোটবেলা থেকেই মানুষটার উপর তার কেমন যেন মায়া হয়ে গেছে! সে জানে মানুষটা বেঁচে নেই, তবু সে তাঁর জন্যেই দেশে আসছে, সে একবার হলেও একটি বারের জন্যও হলেও তাঁর কবরে ভালবাসা আর শ্রদ্ধা নিয়ে একটি গোলাপ রাখতে চায়।

চিত্রলেখা ভেতরে ভেতরে খুব উত্তেজিত। কিন্তু সেটা সে প্রকাশ করছেনা। বড় বড় চোখ করে এদিক ওদিক দেখছে। তাদের রিসিভ করতে আসবেন শম্পার মামাতো বোন শায়লা ও তাঁর husband মুনির। তাদের বিয়ের কয়েক মাস হয়েছে। বিয়েতে আসা হয়নি, এবার দেশে আসছে শুনে শায়লা বারবার করে বলে দিয়েছে যেন ওদের ওখানেই উঠে চিত্রলেখারা। চিত্রলেখা দেখল তাদের দিকে তাকিয়ে দুজন হাসি মুখ করে হাত নাড়ছে। চিত্রলেখার দুজনকেই বেশ পছন্দ হল, দুজনেরি কেমন সুখি সুখি চেহারা!

শায়লাদের বাসা মহাখালিতে। রাস্তায় জ্যাম কম থাকায় অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই তাঁরা বাসায় পৌঁছে গেল। শায়লাদের বাসাটাও চিত্রলেখার বেশ পছন্দ হল। ছোটখাটো কিন্তু খুব গুছানো বাসা। ঢাকা সুইজারল্যান্ডের মত গুছানো নয় তবু তার খারাপ লাগছেনা। সবকিছুই ঠিকঠাক কিন্তু চিত্রলেখা গরম টা সহ্য করতে পারছেনা। তার খালামনি বলেছে এসময় নাকি একটু গরম বেশি থাকে কিন্তু বৃষ্টি হলেই কমে যাবে। সে এখন বৃষ্টির অপেক্ষা করছে। মা,বাবা, খালামনি,খালু রা মিলে গল্প করছে। সে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া সেরে এসে তার নোটপ্যাড নিয়ে বসেছে আর খালুর থেকে তাঁর মডেমটাও নিয়ে এসেছে। এখন সে ফেসবুকে গিয়ে লিসার সাথে যোগাযোগ করবে। লিসা তার বেস্ট ফ্রেন্ড। নিশ্চই লিসাও তাকে খুব মিস করছে! সে লগইন করেই দেখল লিসা অনলাইন। সে লিসা কে নক করল-
‘হাই লিসু(খুব খুশি)’
‘হাই চিত্রু(খুব রাগী)’
‘মিস করছিস না?’
‘না একদম না (কপট রাগে মিথ্যা বললাম।)’
‘রাগ ঝেড়ে ফেল, শোন, কাল হাসান চাচুর বাসায় যাব। খুব excited!!!’
‘সত্যি বলছিস!! তোর মনের আশা পূরণ হয়ে গেল রে!’
‘কাল হবে। এখনও হয়নি। তোর জন্য কি নিয়ে আসব বল?’
‘বাবা বলেছে আমি কোন বিদেশি কে বিয়ে করতে পারবনা, অবশ্যই বাঙালি বিয়ে করতে হবে, তুই বরং দেশ থেকে একজন কে নিয়ে আসিস। :P
‘যাহ পাজি!’
‘যাবই তো! শোন মাম ডাকছে, এখন যাই। পরে কথা হবে। আর শোন, বাংলাদেশের ছেলেরা নাকি খুব সুইট হয়, পারলে একটা প্রেম করিস :p’
‘আমি তোর মত নাকি!! যা ভাগ বাই :/ ’
‘:p, ওকে বাই রে। ’
লিসা চলে গেল। চিত্রলেখা অফলাইন আপিয়ার করে দিল। নাহলে কেউ না কেউ নক করেই যাবে। সবার সাথে অহেতুক প্যাঁচাল পারতে তার ভাল লাগেনা। সে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। চাঁদনী রাত। কিন্তু আকাশে মেঘ আছে। কালো কালো মেঘ। মেঘ গুলো স্থির না, সবাই এক সাথে দল বেধে ভেসে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ তার মাথায় একটা লাইন আসলো, সে কিছু না ভেবেই সেটা স্ট্যাটাস দিয়ে দিল। সে জানে তার ফ্রেন্ড লিস্টে বাংলা বুঝে এমন মানুষ নেই বললেই চলে, তবু দিয়ে দিল-
“মেঘ বলেছে যাব যাব!!!”
মেঘ দেখতে দেখতে হাসান চাচুর বাসায় কে কে থাকতে পারে এই চিন্তা করতে করতেই সে ঘুমিয়ে গেল।


লিটন ঘুম থেকে উঠে MAHITI CONSTRUCTION CO: এর মতিঝিল শাখায় ফোন করে তার জন্য একটা গাড়ি পাঠিয়ে দিতে বলল। সে প্রায় ১৪ বছর আগে এই কোম্পানির সিঙ্গাপুর শাখায় একজিকিউটিভ অফিসার প্রডাকশন ডিপার্টমেন্টে জয়েন করেছিল। এখনও সে নিজে একজন বড় অফিসার হিসেবে কোম্পানিতে আছে। আগের সময় টুকুন চিন্তা করলে তাঁর অবাক লাগে!! সে ছিল চাল চুলোহীন একজন। বিয়ের পর পড়ে গেল সমস্যায়! চাকরি হীন অভাবের জীবন! শম্পা এক খানে সে এক খানে!! কিভাবে কিভাবে যেন তাঁর চাকরি হয়ে গেল!! তাঁর তেমন কোন লিংক ছিল না যে তাকে ডেকে কেউ চাকরি দেবে! তবুও হয়ে গেল! এ বাপ্যারে সে খোঁজ করার চেষ্ঠা করেছে। খুব বেশি কিছু জানতে পারেনি, শুধু এই জেনেছে যে তাঁর চাকরি হয়েছে হিশামুদ্দিন গ্রুপ অব ইণ্ডাস্ট্রিজের মালিক হিশামুদ্দিন সাহেবের সুপারিশে!! সে আজও জানেনা এই ভদ্রলোক কে!! কেনই বা উনি তাঁর চাকরির জন্য সুপারিশ করেছেন! সেই কৌতূহল মেটাতেই তাঁর দেশে আসা, আর খুব ইচ্ছা সে নিজে গিয়ে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আসবে। সেজন্য সে অফিসে বলে রেখেছিল এ ব্যাপারে খোঁজ খবর করতে, অফিসে গেলেই সবকিছু জেনে ঠিকানা নিয়ে যাবে একদিন ভদ্রলোকের বাসায়।


টগরের আজ ঘুম ভাঙতে দেরি হয়ে গেল। সে উঠে দেখে পলাশ এখনও পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে। সে জানে পলাশ ১১ টা ১২ টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকবে। সে এবছর কলেজে ভর্তি হল। পলাশেরও ভর্তি হবার কথা, কিন্তু পলাশ বরাবরই পড়াশুনায় অমনযোগী। সে এসএসসি পরীক্ষায় অংকে ফেল করেছে! তাই তাকে আবার পরীক্ষা দিতে হবে! অনেকেই তাদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে যে দু ভাইয়ের এক ভাই যদি গোল্ডেন জিপিএ ৫ পায়, অন্যজন কি করে একবারে ফেল করে!! টগর অবশ্য কারণটা জানে! তাদের সৎ মায়ের সংসার! তাদের বয়স যখন ৫ ছিল তখন তাদের বাবা লাবনি নামের একজন কে বিয়ে করে নিয়ে আসেন, আর তাদের মা রিনা অনেক আগেই বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন! অবশ্য এসব তার অত স্পষ্ট মনে নেই, সব তাদের ফুপু লায়লার থেকে শোনা। এসব মনে করতে তার ভালও লাগেনা কারন সেই সময়টা খুব খারাপ! সেই একি সময় হাসান চাচা মারা যান, সেই একি সময় থেকে রকিব চাচা নিখোঁজ, সেই একি সময়ে দাদিমা বাবার উপর রাগ করে সেই যে বড় ফুপুর বাড়ি গিয়েছিলেন আর ফিরে আসেননি। মায়ের সাথেও যোগাযোগ বন্ধ সেই সময় থেকেই!! এসব ভাবলেই টগরের খুব কষ্ট হয়। তার উপর সৎ মায়ের অত্যাচার! সারাদিন খারাপ ব্যবহার, কথা শোনানো আরও কত কি!! এসবের মধ্যে থেকে খুব কম মানুষই পারে ভালও রেজাল্ট করতে! সে পেরেছে কিন্তু পলাশ পারেনি!! এজন্য তার পলাশের উপর কোন রাগ নেই। পলাশের দিকে তাকিয়ে তার মায়া লাগছিল। এসময় লাবনির চিৎকার শুনতে পেল বাইরে,
‘এই যে, লাটসাহেবেরা, দয়া করে উঠুন, উঠে নাস্তা খেয়ে আমাকে ধন্য করুন। যতসব লাটসাহেবি! বাপের জায়গা মত চাম নাই, আর ব্যাটাদের লাটসাহেবি!
কিরে উঠবি, নাকি লাথি দিয়ে দরজা ভাঙ্গব?’
‘এই মহিলাকে কোনদিন যেন আমি কোপ দেই! সাত সকালে উঠে কচকচানি। ভাইয়া খবরদার দরজা খুলবিনা, দেখি বেটির পায়ে কত জোর!’
‘ছিঃ পলাশ, আমাদের মা হন উনি, আর তুই উঠলি কখন?’
‘কচকচানিতে ঘুমাই কেমনে বলত? আর তোর মা হলে যা গিয়ে কোলে উঠে থাক! যতসব’
‘শোন, শুধু শুধু অশান্তি করিসনা তো, বাবা আসার আগে উঠে পড়।‘
‘সাত সকালে ঐ বাজে লোকটার নাম নিসনা তো। ঐ লোক বউ এর চামচামো ছাড়া আর কি পারে করতে! তুই যা বাইরে আমি আসছি।’

টগর একটা নিঃশ্বাস ফেলে উঠে পড়ল। তাঁরা দু ভাই হাসান চাচার ঘর টা পেয়েছে, এখানে কোন বাথরুম নেই, তাই বাইরে গিয়ে হাত মুখ ধুতে হয়। অবশ্য তাঁরা এ বাসার ছেলে হিসেবে কোন সুযোগ সুবিধাই পাইনি। সব পেয়েছে লাবনির আগের পক্ষের মেয়ে লতা আর এ পক্ষের লুসি। মা টা এরকম হবার পরও লতা আর লুসির সাথে টগরের খুব মিল। দুজনি খুব লক্ষি মেয়ে। এ বাসায় ওদের যা একটু আদর , ভালবাসা আছে তাও ঐ দুজনেরি জন্য। বের হয়েই ওদের সাথে দেখা, দুজনি সেজে গুজে তৈরি স্কুলে যাবে বলে। টগর ওদের দেখে বলল- কিরে লতা পাতা, কই জাস?
বাহ ভাইয়া, তুমি জাননা নাকি! আর আমাকে পাতা বলবানা কিন্তু, আমি রাগ করব।
ঠিকাছে, আমার পাতা আপু, তোমাকে আর পাতা বলবনা কোনদিন।
লুসি রাগ করে চলে গেল।
লতা বলল, ‘হ্যাঁ রে ভাইয়া, মা আজও খুব রাগ দেখাল , নারে???’
‘ধুর বাদ দেত। তুইও কি পলাশ হলি নাকি? যা স্কুলে যা।’
‘মা টা যে কেন এমন করে!!’

লতার মন টা খারাপ হয়ে গেল। ভাইয়া দের জন্য ওর খুব কষ্ট হয়। ও জানে ওরা ওর আপন ভাই না, তবুও ওদের জন্য ওর খুব কষ্ট হয়। মা যে কেন ওদের ভালবাসে না!! কই ওতো ভাইয়া দের আপন বোন না, তবুও তো ওকে ভাইয়ারা কত আদর করে! মা কেন পারেনা!! যত আদর সব শুধু দু বোনের জন্য, কিন্তু ভাইয়া দের দু চোখে দেখতে পারেনা! বাবা টাও অমন! শুধু মায়ের কথা শুনে আর ভাইয়া দের বকাঝকা করে!! লতা লায়লা ফুপুর থেকে শুনেছে ওদের আসল মা রিনা নাকি খুব ভাল মহিলা ছিলেন, ওর খুব ইচ্ছা করে টগর ভাইয়া আর পলাশ ভাইয়া কে ওনার কাছে রেখে আসতে! কিন্তু পারেনা!!
টগর দেখছে লতা মাথা নিচু করে গভীর ভাবে কি যেন চিন্তা করতে করতে গেটের দিকে যাচ্ছে। মেয়ে টাকে দেখে টগরের মায়াই হল! বেচারি! মায়ের ব্যবহারের জন্য নিজে লজ্জিত!! আচ্ছা, এমন হয় কেন মাঝে মাঝে?? লাবনি যেমন, তাঁর মেয়ে গুলোরও তেমনি নিষ্ঠুর হবার কথা! কিন্তু তানা, দুজনি কি মায়াবতী হয়েছে!! প্রকৃতি মনেহয় ইচ্ছা করে এমন করে যাতে সব ব্যাল্যান্স হয়। সে অন্যের ছেলে দের কষ্ট দিচ্ছে কিন্তু তাঁর মেয়েরাও ঐ কষ্ট পেয়ে
যাচ্ছে!!! কি অদ্ভুত! কি অদ্ভুত!!!

এসব অদ্ভুত চিন্তা ভাবনা করতে করতেই মুখ হাত ধুতে লাগল। এসময় শুনল বাইরে লাবনি আর পলাশের চেঁচামেচি! এ প্রায় রোজকার ব্যাপার! প্রতিদিনই এ দুজনের কিছু না কিছু নিয়ে বেজে যায়! তারপর এক সময় বাবা এসে এতে যোগ দেয়, পলাশের ভাগ্য ভাল হলে বাবার বকা খেয়ে চুপ হয়, ভাগ্য খারাপ হলে মার খেতে হয়! অন্যদিন হলে টগর যেত পলাশকে থামাতে, আজ আর ইচ্ছা করছে না। সে নাস্তা না করেই বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল।

বাড়ি থেকে বের হয়ে টগরের কলেজের কথা ভেবে খারাপ লাগা শুরু হল। কলেজে যাওয়া তাঁর জন্য খুব জরুরী কারন বাবা তাঁকে টিউশনির জন্য কোন টাকা দেবেন না, তাই লেকচার গুলো সে মিস করতে চায়না। অবশ্য সে পরে কারও থেকে তুলে নিয়ে স্যারের কাছে নিয়ে গিয়ে বুঝিয়ে নিতে পারে! তাই নাহয় করবে সে!আজ তাঁর কলেজে যাবার মন নেই! সে ভাবছে সাইবার ক্যাফেতে যাবে কিনা। নিজের হাত খরচের জন্য সে একটা টিউশনি যোগার করেছে, ক্লাস ২ এর এক পিচ্চিকে সপ্তাহে চারদিন পড়াতে যায়। মাসে দুহাজার করে পায়। এর বেশির ভাগ টাকাই সে পলাশের পিছে খরচ করে ফেলে! তাই ওর বন্ধু কাব্যকে বলে নেটে ইনকামের একটা ব্যবস্থা করেছে। কাব্য এসব করে ভালই টাকা কামায় , ওর নিজের বাসায় ইন্টারনেট কানেকশনও আছে। সেখান থেকেই ও টগরের জন্য একটা কাজ জুটিয়ে দিয়েছে ডাটা এন্ট্রির। কাজ কিভাবে করতে হবে সেটাও টগর ওর থেকে শিখে নিয়েছে। মাসে কত সময় কাজ করবে সেই অনুসারে পেমেন্ট, সেটাও যায় কাব্যের আকাউনটে। ওখান থেকে কাব্য ওকে টাকা দিয়ে দেয়। যে সময়ে ওর অন্য বন্ধুরা ফেসবুক,মিগ নিয়ে ব্যস্ত সে সময় ও এসব নিয়ে ব্যস্ত! অবশ্য কাব্য জোর করে ওর একটা অ্যাকাউনট খুলে দিয়েছে ফেসবুকে আর বলেছে এসময় ফেসবুকে একটা অ্যাকাউনট না থাকা মানে নাকি আনস্মার্টনেসের ব্যাপার! কিন্তু টগর বুঝে পায়না কেন!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:৪৪
৬৫টি মন্তব্য ৬০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×