রাজা হাঁকলেন---মন--তির--ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই!
পাঠশালায় পড়া না পারা ছেলের মত কাঁচুমাচু মুখ করে মন্ত্রী বললেন--
প্রে-প্রে-প্রে-জেন্ট স্যার।
--হুম প্রেজেন্ট,তা-তো দেখতেই পাচ্ছি।শোন মন্ত্রী,আমার শখ
হয়েছে ক্রিকেট খেলার।
মন্ত্রী মাথা চুলকে বললেন--ক্রি-ক্রিকেট,এই বুড়ো-বয়সে আপনার
ক্রিকেট কি শোভনীয়?
রাজা হাঁকলেন---মন--তির--ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই!
--কেন শোভনীয় নয় কেন?তুমি কি মহারাজ রনজিত সিংজী,ডব্লু-জি
-গ্রেসের নাম শোননি?তাছাড়া গাভাসকার-বর্ডার-হ্যাডলিরা
যদি আধবুড়ো বয়সে ক্রিকেট খেলতে পারে,আমিই-বা কেন বুড়ো
বয়সে পারব না?
--তা হয়ত পারবেন,আপনি রাজা বলেই তো সবই পারেন।কিন্তু
বুড়ো বয়সে হাত-পায়ের ভেলকি দেখাতে গিয়ে,শেষে না হাড়গোড়
ভাঙে।
----মন--তির--ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই!আমার হাড় ভাঙবে না
-
তোমার ঘাড় ভাঙবে সেটা আমি মাঠেই দেখিয়ে দেব।
---আ--আ--আমি?না মহারাজ আপনার যতখুশি ক্রিকেট খেলুন-গে,
আমি ততক্ষণ বরং রাজকার্যে---।
--ছাড়ো তো রাজকার্য।রাজা ধমক দিয়ে মন্ত্রীকে থামালেন।বললেন
---রাজকার্য মানে কি অ্যাঁ,রাজকার্য মানে কিনা রাজার কার্য।অর্থাৎ
রাজা যা করেন।ভাল করে ব্যাকরণও শেখনি দেখছি!তা-হলে
মানেটা কি দাঁড়াল,আমি মানে রাজা এখন যা করব তাই রাজকার্য।
মন্ত্রীর মাথায় উকুনের ঘরবাড়ি,চুলকোয় আর চুলকোয়।রাজা বলেন
--আমি এখন ক্রিকেট খেলব,মানে সেটাই এখন রাজকার্য।আর
তুমি মন-তিরি,তোমার ডিউটি রাজকার্যে সহায়তা করা।তারমানে
হলো গিয়ে,আমি ক্রিকেট খেলব আর তুমি আমাকে সাহায্য করবে,
মানে কিনা তুমিও খেলবে।এখন একটা কমলালেবু পেলে হয়।
--আ-আ-গ-গেঁ,কমলালেবু ?
--হ্যাঁ কমলালেবু,মন-তিরি তুমি যেমন করেই হোক রাণীমার মানে
তোমাদের রাণীমার বাগান থেকে একটা কমলালেবু চুরি করে নিয়ে
এসো।
--কমলালেবু দিয়ে কি হবে মহারাজ?
--কেন ক্রিকেট খেলব।
---কমলালেবু দিয়ে ক্রিকেট,ফিক-ফিক।
-মন--তির--ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই-ই!আমার সামনে মেয়েদের মত
ফিক-ফিক করে হেসো না-তো।হাসতেই হাসতেই যদি হয়,পুরুষ মানুষের
মত হা-হা করে হাসবে।
মন্ত্রী কান ছুঁয়ে বললেন ভুল হয়ে গেছে মহারাজ।কিন্তু কমলালেবু
দিয়ে কি ক্রিকেট খেলা হবে।
--হবে না মানে আলবাত হবে,বাতাবিলেবু দিয়ে যদি ফুটবল খেলা
হয় তবে কমলালেবু দিয়েও ক্রিকেট খেলা হবে।
--তা ঠিক বলেছেন,কিন্তু কমলালেবু চুরি করতে হবে কেন?
রাজার মুখভার।মাথা চুলকে গলার স্বর খাদে নামিয়ে বললেন--
মানে এই বয়সে খেলাধূলা করতে দেখলে রাণীমা,মানে তোমাদের
রাণীমা ভয়ানক রাগ করবেন।
মন্ত্রী বুদ্ধিমানের হাসি হেসে বললেন--বুঝেছি মহারাজ ,বুঝেছি,
খুউব বুঝেছি,কিন্তু ব্যাট,ব্যাট কিসের হবে?
রাজা মাথা চুলকে বললেন,সিংহাসনের হাতল হলে কেমন হয়?
সিংহাসনের কাছে রাজাও থাকছে,আবার রাজার হাতে ব্যাটও
থাকছে,কি বল?
---অপূর্ব মহারাজ,পেন্নাম করতে ইচ্ছে হয়।
লুকিয়ে রাজবাড়ির ছাদে উঠলেন রাজা এবং মন্ত্রী।রাজার হাতে
সিংহাসনের হাতল,মন্ত্রীর হাতে কমলালেবু।মন্ত্রী বললেন--সব-ই
তো হলো উইকেট নেই যে।
--তাতে কি হয়েছে আমিই তো তোমার সামনে উইকেটের মত
খাড়া হয়ে আছি।তুমি আমাকে লক্ষ্য করে কমলালেবু মানে কিনা
বল,ছোঁড়।
---জোরে ছুঁড়ব মহারাজ?
--হ্যাঁ--হ্যাঁ,শত্রুপক্ষের মন্ত্রী ভেবে ছোঁড়।
রাজার হুকুম পাওয়া মাত্র জোরে কমলালেবু ছুঁড়লেন মন্ত্রী।রাজাও
সপাটে সিংহাসনের হাতল চালালেন।কিন্তু দুর্ভাগ্য সিংহাসনের
হাতলের,দুর্ভাগ্য কমলালেবুর আরো দুর্ভাগ্য রাজার নাকের।
মন্ত্রীর ছোঁড়া কমলা লেবু সোজা গিয়ে লাগল রাজার নাকে।দরদর
করে রক্ত ঝরে পড়ল।মন্ত্রী বললেন--হাউজ দ্যাট!
রাজা বললেন--রক্তারক্তি কান্ড।
(পরের কথা আগামী পোস্ট-ক্রিকেট খেলার নিরাপদ পদ্ধতি-শেষাংশে।)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


