মন'রে কৃষি কাজ জানো না, এমন মানব জমিন রইলো পতিত, আবাদ করলে ফলতো সোনা

আজাইরা-১১
২৯ শে মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৫:২৮
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা গণহারে সবাইরে মামু কইতাম। শ্রাবণের লাইগা রামপুরায় ২০টা পোলা খাড়াইত। সবাইরেই কইতাম, '' কি মামু, কেমন আছ?''। কারোর নাম আর জানা হইল না, অথচ দেখলে এখনো হুংকার দিমু, '' মামু '' বইলা। মেয়েদের কখনো বলতে শুনি নাই, একজন আরেকজনরে '' মামী'' বইলা ডাকতে।
বাসের হেল্পার, ড্রাইভার, থেইকা লাইব্রেরিয়ান, কার্জন হলের সামনে খাইস্টা আইসক্রিম ওয়ালা, ডাইলপুরি বিক্রেতা সব মামা। লাইব্রেরীর লোকজন একটু ইনসাল্ট অনুভব করলো, '' ড্রাইভার ও মামা, আমরাও মামা ''। দুর্বার আন্দোলন। সব জায়গায় কাগজ সাঁটানো, '' মামা সম্বোধন করিবেন না''। জাত্যাভিমানের প্রশ্নে কোন আপোষ নয় গুরু। কয়দিন লাইব্রেরী গিয়া, ম কইয়া ব্রেক মারছি।
জাবি তে অবশ্যি রিকশাচালকদের কে ভালবেসে মামা বলে পুলাপাইন।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে ।
নজমুল আলবাব বলেছেন:
কি কইতে চান মামু?
হযবরল বলেছেন:
কইলাম মামু ডাকটা সবচাইতে প্রিয় ।
হাসিব বলেছেন:
লাইব্রেরিতে মামু কওন যাইত না এটা ঠিক । তয় ওরা আমারে পড়ালেখায় যতটা হেল্প করছে অনেক কম টিচারই সেটা করছে । যারা পড়ালেখা করতে যায় তাদের কোনরকম 'বেআইনী 'হেল্প করতে কখনো পিছপা হইতে দেখি নাই কখনো ।
অতিথি বলেছেন:
এখনো কই।
হযবরল বলেছেন:
লাইব্রেরীর মামুরা ভালো আছিলো। ওরা কেন জানি ফার্স্ট ইয়ার থেকেই মনে করতো আমি শিক্ষক হইতে যাইতাছি । আমারে এক্সেস দিতো ভিতরে গিয়া সার্চ কইরা বই নেওনের।
হাসিব বলেছেন:
ঐজন্যই বললাম যারা সত্যিকারের পড়ালেখা করতো তাদের নানারকমভাবে তারা হেল্প করতো । আমারে বহুত বই উঠায়া দিছে নিজেদের কার্ডে । পার্সোনাল বই নিয়েও ঢুকতে দিতো ।
হযবরল বলেছেন:
হ আর লাইব্রেরীর বই, লাইব্রেরীর মেশিনে বাবুলদা কপি কইরা দিতো, ফাটাইয়া ।
অতিথি বলেছেন:
আমি জন্ম থেকেই পড়ালেখা বিমুখ। আমি লাইব্রেরীতে যাইতাম ওই যে নামাজ ঘরের উলটা দিকের রুমে। হে হে ---
অতিথি বলেছেন:
বাবুলদা এখন ও আছে কি? মেডিক্যালের সামনে একটা ফটোকপির দোকান লইছিল শুনছিলাম।
অতিথি বলেছেন:
এই খানে তো সবাই দেখি লাইব্রেরী ওয়ালা পাবলিক।আমি জীবনে একবার গেসিলাম তারপর অক্সফোর্ড ডিকশনারী ঘাটাঘাটি কইরা আয়া পড়ছি। তারপর লাইব্রেরী কার্ড ও রিনিউ করি নাই।চরম বাজে ছাত্র।
হযবরল বলেছেন:
তার মানে লাইব্রেরীর পিছনে ''আসনে '' বইতা, মাঝে মাঝে বিয়োগ কইরা আইতা।
মাশীদ বলেছেন:
খবর কি হযু মামু? ক্যামন আছেন?
হযবরল বলেছেন:
ভাল আছি সিংহপুর মামী, আপনে কেমন ?
হাসিব বলেছেন:
আমরা তখন থার্ড/ফোর্থ সেমিস্টারে পড়ি । পড়ার চাপে মারা যাবার অবস্থা । সকাল আটটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত লাইব্রেরী । মাঝখানে শুধু খাওয়া আর চা খাওয়ার জন্য বেরনো । ঘুমানোও হতো তিনতলার ভেতরের রুমে টেবিলের আড়ালে চারটা চেয়ার একত্র করে । দ্রোহী মনে হয় বাটু কিসিম । তো, রাসেল নামে আমার এক বন্ধু ঠিক করলো গোসল না করলে লাইব্রেরীটারে ঠিক বাসাবাড়ী বাসাবাড়ী মনে হচ্ছে না । যেই বলা সেই কাজ । বোতলে করে পানি ভরে ভরে সে ঠিকই তিনতলার চিপা বাথরুমে গোসল করে ফেললো একদিন । এইকথা মনে করে এখনো হাসাহাসি করি আমরা বন্ধুরা ।
অতিথি বলেছেন:
হ-- আমি বাট্টু! মাত্র 4 ফুট 18 ইঞ্চি!!আমরা বাথরুমের ওইখানে বিড়ি ব্রেক লইতাম। বেশী উৎসাহী দুই একজন সেই সময় বোতলে পানি ভরে কোলাকুলিরত জুটিদের গায়ে নিক্ষেপ করে বিমলানন্দ অনুভব করতো।
হযবরল বলেছেন:
পুরোদস্তুর কবি হয়ে গেছে সিংগপুর বিবাগে
মন্তব্যেও লিখছে ছন্দে ছন্দে
যদিও নয় মনের আনন্দে।।
মাশীদ বলেছেন:
আপনি কবি হইলেন কিসের বিবাগে?এই ডিজিটাল বনবাসে?
ক্যান আপনার মনে দোলা লাগে
আর এমন কাব্য আসে?
হযবরল বলেছেন:
আমার মন তো দুলতেই আছে, থামাথামি নাই। নতুন কইরা আর কি দুলুম? খালি রবি ঠাকুরের গানের মত বনে যাওয়াটা বাকী।লাইব্রেরীতে বইসা একদিন পড়ছি, তাও শখ কইরা @ হাসিব , দ্রোহী ।
অঃরঃপিঃ বলেছেন:
মা.মা.মাম্মানিক মামা, জা জা জানি না সারেগামামামারে মামা, জানি না সারেগামা
করিস কেনো বাহানা...
খুব ছোট থাকতে বড় মামা আমারে কোলে নিয়া এই গানটা গাইত।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
লেখাটা ওরকম ছিলো-"মামা না ডাকার জন্যে ধন্যবাদ।"
আমি বহুবার অভ্যাসের কারণে মামা ডাকতে গিয়ে থমকে গেছি। অবশ্য অনেকবার ডেকেও ফেলেছি! :-))
রাগ ইমন বলেছেন:
মাশীদ , কুয়ালালামপুরকে কুয়াকাটা করে ফ্যাল । আর নাইলে দেশে চলে আয় । জানতে চাই ও আছে । ফাটায় ফেলি
রবিনহুড বলেছেন:
""...ওই আমি বন শিকারে যামু... বন্দুক লইয়া রেডী হইলাম আমি আর মামু....""
রাগ ইমন বলেছেন:
মাশীদ , কুয়ালালামপুরকে কুয়াকাটা করে ফ্যাল । আর নাইলে দেশে চলে আয় । জানতে চাই ও আছে । ফাটায় ফেলি
অতিথি বলেছেন:
হযবরলঃআপনার শেষ 10টা পোস্টে 156টা মন্ব্য আছে। গড়ে 15.6 টা মন্তব্য পুতি পোস্টে। আর সারা ব্লগের সমস্ত পোস্টের গড় মন্তব্যের পরিমান 10 থেকের কম। আপনি বেশ পপুলার ব্লগার দেখা যাচ্ছে।
হযবরল বলেছেন:
ভাগ্নে-ভাগ্নী সকল ভাল আছি। ধন্যবাদ আশার আলো, আশা দিলেন ব্লগিং আরো কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার।

















