মন'রে কৃষি কাজ জানো না, এমন মানব জমিন রইলো পতিত, আবাদ করলে ফলতো সোনা

কেমিক্যাল আলীর পোস্টের সূত্র ধরেঃ আমাদের সমাজরুদ্ধতা

১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ১০:৫৯

শেয়ার করুন:                   Facebook



কেমিক্যাল আলীর একটা পোস্ট থেকে এই লেখার সূত্রপাতঃ
কেমিক্যাল আলীর পোস্ট



ছোট্ট একটা ভূমিকা দিয়ে শুরু করি। আমাদের দেশে চাকরী-বাকরী এবং পর্যায়ক্রমে সামাজিক স্ট্যাটাসের প্রতিভূ হয়ে গিয়েছে ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়ার। এই দুটো পেশার প্রতি এতো তীব্র অনুরাগ আমাদের সমাজে তৈরি হয়েছে যেটা এক ধরণের অবসেশনের পর্যায়ে পড়ে। ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রিমিয়ার ইনস্টিটিউট হচ্ছে মেডিক্যাল গুলো এবং বুয়েট। আমাদের সমাজের এই তীব্র একমুখীতা এবং অবসেশন এমন একটা পর্যায়ে যে ছেলে-মেয়ে বুয়েট/কিংবা মেডিক্যালে ভর্তি হলে বাবা-মা গর্বের চেয়েও অহংকারে ভোগেন বেশী। সামাজিক মর্যাদায় উঁচু পিঁড়ি আসীন হবার আনন্দই তাদের বেশী হয়। এটা একটা কমন ফেনোমেনন, '' আমার ছেলে বুয়েটে পড়ে''। আমাদের দেশে জ্ঞান আহরণ কিংবা কোন বিষয় ভালবেসে পড়ার চাইতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত একটা কিছুর পিছনে ছোটাটাই মূখ্য হয়ে দাঁড়ায়। কোন বিষয়ে পড়ে সেটার চেয়ে, বুয়েট কিম্বা মেডিকেল পড়ে সেটা মূখ্য হয়ে যায়। কেউ যাচ্ছে কর্ণেল এ বায়োসেন্সর নিয়ে গবেষণা করতে; কিন্তু তার পরিচিত মহলে একটা শ্রেণী সে আমেরিকা যাচ্ছে সেই খুশীতেই মাতোয়ারা থাকে; একটু অগ্রগামীরা সে কর্ণেলে যাচ্ছে সেটা নিয়ে মাতোয়ারা থাকে; এই হচ্ছে সুপারসমাজবদ্ধ কিম্বা সমাজারুদ্ধ মানুষের মানসিকতা।

আমার খুব মজার অভিজ্ঞতা আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ তে। অডিটোরিয়ামে সিনেমা দেখানো হবে তাই গিয়েছি। টিকেটে দায়িত্বে থাকা এক বিবিএ'র ছাত্রের কাছে টিকেট চাইলাম। সে জবাব দিলো ইংরেজীতে। আবার আরেকটা প্রশ্ন, আবার জবাব দিলো ইংরেজীতে। এটার কারণ সমাজ এবং ইনস্টিটিউট আরোপিত কিছু সুপারলেটিভনেস। আইবিএ বানাতে চায় কিছু দক্ষ ম্যানেজার, সুতরাং এটাই স্বাভাবিক।


বুয়েটের ব্যাপারে যেটা বলছিলাম। একসময় দেশের একমাত্র প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কারণে এতো বেশী সোসাইটি ভ্যালু র‌্যাপ আপ করেছে বুয়েট যে বাবা-মা, পরিজন থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের মানের চেয়েও, ইনস্টিটিউট গরিমায় ভোগে বেশী। সবার মাঝেই আমি কি গো হনুরে একটা ভাব আসে। এটা মেডিক্যালের ছেলে-মেয়েদের আরেকটু বেশী হয়। এটা আমাদের জীবনের সব ক্ষেত্রেই একইরকম ভাবে সত্য। জিলা শহরের সবচেয়ে বড় সরকারী স্কুলে, সেরা কলেজ, কিম্বা বুয়েট/মেডিক্যাল/ঢাবি ভর্তি হওয়ার পর বাবা-মা সন্তানের সাফল্যে যতখানি আনন্দিত হন, তারচেয়েও বেশী হন লোকজনকে বড় মুখ করে বলতে পারবেন ছেলে-মেয়ে অমুকে পড়ে, তমুকে পড়ে। কথাটা খারাপ শোনায়, কিন্তু এটাই সত্যি।

আমার বন্ধু ঢাবি জিওলজির ছাত্র ছিলো। সে একদিন বলছিলো, সে জিওলজিতে ভর্তি হওয়ায় তার বাবা-মা ভীষণ হতাশ হয়েছিলো। হতাশার কারণ ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে না।

সে কারণেই দেখেছি,'আমরা বুয়েট' এই ধরনের একটা মেমব্রেনে থাকার, অন্য সবার মাঝে নিজেকে একটু আলাদা ভাববার অভ্যাস বুয়েটিয়ানদের আছে।
কিন্তু এটা সেসব ছেলে-মেয়েদের দোষ বলে আমি মনে করিনা। এটা হচ্ছে আমাদের সমাজের দানাবাঁধা এক ধরণের শ্রেনীবৈষম্যের ফল। এটা ঠিক কারো ব্যক্তিগত অর্জন নয়।

=========================

এই জায়গাটায় আমার কষ্ট হয়। মেঘনাদ সাহা-জগদীশ-সত্যেন বোস-অজয় রায়- ললিত মোহন নাথ-জামাল নজরুল ইসলাম-মহলানবীশ এদের বংশধর হয়ে আমরা এখনো কুয়োর ব্যাঙ হয়ে রইলাম। বিংশ শতকের শুরুতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে রেঁনেসা কোলকাতায় শুরু হয়েছিল সেটার ফুটি-ফাটা ও আমরা অর্জন করিনি। জ্ঞানের চর্চা যে বিষয়ভিত্তিক সেই মূল সত্যই আমরা অনুধাবন করিনি। এখনো আমাদের সেরা ছাত্ররা ব্যাবসায় প্রশাসন, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডাক্তারী পড়তে চায়।
পদার্থ, গণিত, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান কেঊ পড়তে চায় না।

 

 

  • ১৭ টি মন্তব্য
  • ২৮৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:০৩
comment by: প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: ভাল লাগলো
২. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:০৮
comment by: অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন: লা-জওয়াব ।
৩. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:১১
comment by: মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন: পদাথ, গণিত, এসব বিষয়ে উন্নত বিশ্বে এখন কোন দাম নাই, রাশিয়ার প্রথম মহাকাশ যানের অভিযানের পর যেই হারে ফান্ডি হইছে গবেষণা আর এই সব পদাথ আর গাণিতীকদের, তাদের এখন খুবই করুন অবস্থা । হেই কথা কইয়া লাভ নাই,
যেইটা পইরা লাভ সেইটাই পড়তে হবে....
৪. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:১১
comment by: মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন: পদাথ বিদ্যা ডক্তরেট কইরা সি শিখায় এই রকম উদাহরণ ভুরি ভুরি আছে???
৫. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:২৪
comment by: শমশের আলম বলেছেন: ড্যাঞ্জিনিয়ার হইলে ভালা ঘুষ পাওয়া যায়, এল্লিগা এগো মার্কেট ভালো
৬. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:২৬
comment by: অঃরঃপিঃ বলেছেন: পাত্রের বাজারদরে ব্যবসায়ীরাই আগাইয়া। বুয়েটে না ভর্তি হইয়া তাই চকবাজারে দোকানদারি ক্যারিয়ার হিসেবে নিলে মন্দ না
৭. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:২৮
comment by: হযবরল বলেছেন: জব্বর কথা। বিয়ার মার্কেটে বুয়েট একসময় টপ আছিলো, টিউশনির মার্কেটেও। চকবাজারের ক্যারিয়ারটা ভালোই কইছেন সাথে লাকীর শরবত, স্টারের কাচ্চি, বড় বাপের পোলা খাওন যাইবো কাজের সাথে সাথে।
৮. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:৩৭
comment by: মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান বলেছেন:
৯. ১৭ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৫১
comment by: গন্ডার বলেছেন: দেশের সবচেয়ে মেধবী মানুষগুলো যদি নিজেদের অন্যদের থেকে একটু আলাদা ভাবে, তাহলে সেটা কি খুব দোষের
১০. ১৭ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৪
comment by: মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন: দোষের হবে ক্যান? সব বিষয়ে দোষ খুজতে গেলে তো ঠক বাছতে গা উজাড় ব্যপার হবে। তাছাড়া আমি তো আবার কোন গাঁয়েও বাস করিনা, করি শহরে...
১১. ১৭ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১:০০
comment by: মানবী বলেছেন: অনেক কিছু হয়ে গেছে বুঝতে পারছি, এক পোস্ট থেকে আরেক পোস্ট এ ঘুরছি!

হযবরল বেলেছেন: "এটা আমাদের জীবনের সব ক্ষেত্রেই একইরকম ভাবে সত্য। জিলা শহরের সবচেয়ে বড় সরকারী স্কুলে, সেরা কলেজ, কিম্বা বুয়েট/মেডিক্যাল/ঢাবি ভর্তি হওয়ার পর বাবা-মা সন্তানের সাফল্যে যতখানি আনন্দিত হন, তারচেয়েও বেশী হন লোকজনকে বড় মুখ করে বলতে পারবেন ছেলে-মেয়ে অমুকে পড়ে, তমুকে পড়ে। কথাটা খারাপ শোনায়, কিন্তু এটাই সত্যি।"

আসলেই সত্যি কথা.

হযবরল বলেছেন "এখনো আমাদের সেরা ছাত্ররা ব্যাবসায় প্রশাসন, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডাক্তারী পড়তে চায়।
পদার্থ, গণিত, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান কেঊ পড়তে চায় না।"
কিন্তু আমরা সবাই জানি এগুলোর বাইরে যে সাবজেক্টগুলো তা কতো জরুরী. একটি আরেকটির সম্পূরক. ইতিহাস, বাংলা, ভূগোল, পদার্থ বিদ্যা, রসায়ন, জীব বিদ্যা, গনিত, বাংলা, ইংরেজী, সাংবাদিকতা, ফিলোসফি, আইন, বানিজ্য, অর্থনিতী আরো সব সাবজেক্ট গুলো না থাকলে ডাক্তারী, ইন্জিনীয়ারিং অর্থহীন আর প্রগতিহীন.


১২. ১৭ ই মে, ২০০৭ দুপুর ২:২৮
comment by: মুনতাসির হাসান বলেছেন: জনাব এরশাদ এইটা কোথায় পাইলেন যে গণিত, পদার্থ এইসব বিষয়ে উন্নত বিশ্বে কোন দাম নাই? উন্নত বিশ্ব কোনটা?
যুক্তরাষ্ট্রে কম্পু সায়েন্স, পদার্থ আর গণিতে পিএইচডি করা হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন। GRE স্কোর সবচেয়ে বেশী লাগে পদার্থতে, তারপর গণিতে। এখন আমারে কন গণিত, পদার্থের অবস্থা যদি করূণই হয় তয় সারা দুনিয়ার সবচেয়ে মেধাবীগুলা এই বিষয় পড়তে যায় ক্যান? পিএইচডি কইরা C শিখনোর জন্য?
এখন আপনে যদি কন যে এমবিএ ডিগ্রী ধারী পিএইচডি ডিগ্রীধারীর চেয়ে বেশী বেতন পায়, এইটা তো নতুন কিছু না। এইরকম তো সবসময়ই হয়া আসছে। গবেষণা আর কেরাণীগিরি করা তো এক না।
১৩. ১৭ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৮
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: ভালো লেগেছে, সুন্দর বিশ্লেষন
১৪. ১৭ ই মে, ২০০৭ রাত ১১:১২
comment by: হযবরল বলেছেন: ধন্যবাদ সবাইকে।

এরশাদ সাহেবের বক্তব্যে নিয়ে উনি থাকুক এটা নিয়ে বিতর্কে যাওয়ার কোন মানে নেই অন্তত আমার কাছে ।

এই পোস্ট কোন বিতর্ক শুরু করবার জন্য না। কেমিকেল আলী'র পোস্টে যে কথাগুলো সে বলেনি সেটা বলা। নো এপার্টিহেড, নো ডিসক্রিমিনেশন। আমাদের জীবনের বেড়ে ওঠার অনুষঙ্গ এই বিষয়গুলো। আলাপ করতে হবে খোলামনে, এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য, নতুন ধরণের ডগমায় ভোগার জন্য না।

মেধাবী আমরা সবাই, কেউ চর্চা করে কেউ করেনা। কেউ সুযোগ পায়, কেউ পায় না। প্রত্যেকেই যার যার নিজস্বতায় অনন্য, ততখানিই অনন্য যতখানি তার পক্ষে ধারণ করা সম্ভব। বেড়ে ওঠার এই প্রক্রিয়ার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এগুলো আধার এর কাজ করে। এই আধার নিয়ে, আরাধনা করতে পারেন কিন্তু অবরুদ্ধ হয়ে থাকাটা, বোকামীর নামান্তর।
১৫. ১৭ ই মে, ২০০৭ রাত ১১:১৮
comment by: অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন: এতো সুন্দরভাবে ঠিক মনের কথাগুলো বলে দেয়ার জন্যে কৃতজ্ঞ ।
১৬. ০২ রা জুন, ২০০৭ ভোর ৬:০৬
comment by: হযবরল বলেছেন: ইউরোপ , আমেরিকা সবার চেয়ে এগিয়ে থাকার মূল কারণ হচ্ছে মৌলিক বিষয়ে গবেষণায় সাফল্য। মৌল বাদ দিয়ে যৌগে যাবার কোন রাস্তা নেই।

যে কোন জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞানে অবদান রাখতে পারে তখনই যখন মৌল বিষয়ের বুনিয়াদ মজবুত হয়। আমাদের দেশে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং গণিতে এখনো পরনির্ভর। স্থিতিবিদ্যা, গতিবিদ্যা কিম্বা ক্যালকুলাসে একটা অংক নেই যেটা আমাদের দেশীয়
প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যা হতে উদ্ভূত।

একটি ৮ ইঞ্চি চওড়া, ৬ ইঞ্চি গভীর নয়ানজুলি'তে পানির প্রবাহ(লিটার/সেকেন্ড) কত হলে আসিমুদ্দি মিয়ার ২২ হেক্টর জমিতে(২০ টি সমান বর্গাকারে ভাগ করা) সকাল ৬টা-সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পানি সরবরাহ করা যাবে। পানির দৈনিক বিল ১০ টাকায় সীমাবদ্ধ রাখা একটি শর্ত।

১৭. ০২ রা জুন, ২০০৭ সকাল ৭:৪৩
comment by: যুঞ্চিক্ত বলেছেন: হযু, ভালা লিখছ!

 



 


জন্ম চট্টগ্রাম। শৈশব এবং কৈশোর চট্টগ্রামে। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ ঢাকা শহরের বুকে। কর্ণেল অরেলিয়ানোর মত বত্রিশটা বিফল বিপ্লবের নায়ক...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫৪৬৬১