somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হা ঈশ্বর। এও হয়। এও শুনতে হয়।

১৯ শে মে, ২০০৭ রাত ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ ক্রিকইনফোতে মাশরাফি মুর্তাজা’র উপর একটা লিখা পড়ছিলাম। সিদ্ধার্থ মঙ্গা’র লিখা। অনেকদিন পর ক্রিকইনফোতে একটা ভাল লিখা পেলাম। পড়ছিলাম আর ভাল লাগছিল। মাশরাফির জন্য ভাল লাগছিল। গর্ব হচ্ছিল। নতুনভাবে মনের কোণে সুলুক সন্ধান করছিলাম। নড়াইলের ছেলে, চিত্রা নদীর পাড়ের ছেলে মাশরাফি। আমাদের মাশরাফি।

চিত্রা নদীতে সাঁতার কেটে বড় হওয়া ছেলে মাশরাফি। নড়াইলের রাস্তায় বাইক নিয়ে উড়ুক্কুবাজ ছেলে মাশরাফি। এই বয়সে একটা টেস্ট টিমের মূল বোলার, বাম হাঁটুতে তিনটে অপারেশন, ডান হাঁটুতে একটা, গোড়ালির লিগামেন্ট ইনজুরি দুবার, ব্যাক স্ট্রেস, কাঁধের ইনজুরি সব কিছুর সাথে যুদ্ধ করে আজ বাংলাদেশের সেরা বোলার। সম্ভবত পৃথিবীর সেরা বোলারের একজন হওয়ার পথে। নিজের ভালো-খারাপ দুটো দিকই খুব ভালভাবে অনুভব করতে পারা একটা মানুষ।

আচ্ছা কেউ কি বলে দেয়, তোমার বাড়ীর পাশের চিত্রা নদী তোমাকে ভালোবাসতে হবে। নিজের নদী অনুভব করবার কথা কি মুখ ফুটে উচ্চারণ করতে হয়। নিজের মায়ের হাতে মাছ, ভাত, পেঁয়াজ, সব্জি কাটার পর একটা গন্ধ থেকে যায়। হাত ধোয়ার পরও একটা গন্ধ থাকে। সেই উষ্ণ গন্ধটা সবাই চেনে। পাঠ্যপুস্তকে লেখা থাকেনা, কিম্বা স্কুলে হোমওয়ার্ক দেয় না, যে যাও মায়ের হাতের মিষ্টি গন্ধটা নাও।

এটা আমরা সহজাত প্রবৃত্তির বশেই করি। আমার বাসার পাশেই কনগ্যারী নদী। একটু জেদী, একটু চটুল কিন্তু সহজিয়া, আমি বুঝতে পারি। বই না পড়েই, নদীর পানির অম্ল-ক্ষার মাত্রা না জেনেই, নদীর দৈর্ঘ্য না জেনেই আমি অনুভব করতে পারি নদীকে।


একসময় বিটিভি যখন ছিলো একমাত্র চ্যানেল, তখন দিনের বেলা মাঝে মাঝে টেস্ট ট্রান্সমিশন চলতো। তখন আমি অনেক ছোটো ক্লাস থ্রি হবে হয়তো। কয়েকটা গান খুব বেশী প্রচার হতো।

‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’ গানটা কানে গেলেই মনে হতো, আমাদের সবার, সারা দেশের প্রাণভোমরা ঐ একটা ফুলে। ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ এই গান অনুভব করবার জন্য, শুনবার জন্য আমার বাসায় কিন্তু কোন টিভি ছিলনা। ছিলনা কোন প্লেয়ার।
কিন্তু গানগুলো অনুভব করেছি।

এখন আমার আইপড আছে। সেখানে কিন্তু এই গানগুলো নেই। কিন্তু আমার মাথায় গানগুলো মাঝে মাঝেই বাজে। আমি নিজের সাথে বোঝাপড়া করি। আমি ইতিউতি তাকাই, কিন্তু দেখতে পাইনা কোন পুস্তক, কোন ধ্বজাধারী ভাষণ কিম্বা আধহাত মোটা কোন হরলাল রায়ের রচনা বই যেখানে লিখা আছে;
এগুলো আমাদের রক্তের দামে লিখা স্বরলিপি। এগুলো আমাদের ছিন্নভিন্ন বাংলার এক চিলতে উঠোন।

আমি হতাশ হই। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার বাসার পাশের নদীটা থেমে গেছে অভিমান করে। আমি লজ্জিত হই, যখন শুনি কেউ বলছে;


৭১ নিয়ে আমার কোন আগ্রহ ছিলনা
জানিনা কারণ আমাদের হোমওয়ার্ক ছিলনা
জানিনা কারণ বিরক্ত বোধ করতাম ৭১ নিয়ে ধান্ধাবাজী দেখে,
জানিনা কারণ ভোট পাওয়ার জন্য নেতারা এটাকে ব্যবহার করেন।

ভোট পাওয়ার জন্য সবাই মাথায় কাপড় দেন, কই সবাইতো মাথায় কাপড় দেবার আগ্রহ হারায় না।
ভোটের জন্য মসজিদ বানায়, মন্দির বানায়, কলতলা বাঁধিয়ে দেয়, ইসলাম বেচে, শরিয়ত বেচে, ক্রিকেট বেচে, জগন্নাথ বেচে;

কই আমরাতো আগ্রহ হারাই না।

আমি নুয়ে যাই,
আমার নদী থেমে যায়,
এবং আমার আকাশ চিরে অতিবেগুনী রশ্মিরা হানা দেয়,
গোপন অলিন্দে;

কত লক্ষ মারা গেলে পরে আমরা অনুভব করতাম, এটা একটা যুদ্ধ ছিল। একত্রিশ লাখ, এক কোটি, দু কোটি, সাত কোটি, পুরো জনগোষ্ঠী। একটা সংখ্যা কত বড় হলে সেটা আমাদের চোখে পড়ে, আমাদের আগ্রহ তৈরি করে।

আমি বিস্ময়াহত, আমি স্তব্ধ।
আমার কবরের এপিটাফ বোধ করি,
অনেক বেশী প্রাণোচ্ছল হবে। কারণ সে জানেনা,
সে মৃতের উপরে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০০৭ রাত ২:৪৩
৮৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×