মোড়ের দোকানের সামনে দিয়া হাটতে যাইয়া শুনি দোকানদার আমারে ডাকতাছে। কাছে গেলে দোকানদার কইলো, "স্যার, আপ্নের বাকির খাতাটা অনেক বাইড়া গ্যাছে।" আমিতো টাস্কি খাইলাম। কইলাম, "ঐ মিয়া, ঐদিন না সব পরিশোধ কইরা দিয়া গেলাম।" দোকানদার তর্জনী আর মধ্যের আঙ্গুল দিয়া কেচির মতো কি জানি দেখাইলো। আমি জিগাইলাম, "মানে কি?" দোকানদার কইলো, "আপ্নের পোলা সিগারেটের প্যাকেট নিয়া আপের নামে লেইখা রাখতে কইলো।" কি রকম লজ্জা পাওয়া দরকার ভাবতে ভাবতে কিছু না কইয়াই ঐখান থিকা চইলা আইলাম। বাসায় ঢুইকাই দেখি বাবাজি আমার খুব মনোযোগ দিয়া বই পড়তাছে। তাই আর কিছু কইলাম না। রাইতে দিলাম বেজায় প্যাঁদানি। প্যাদানির চোটে স্বীকার করলো ও তো ভালো, ওর বাপও নাকি কোনদিন সিগারেট টানবো না। কয়েক দিন নজরে রাইখা দেখলাম পোলা আসলেই আর সিগারেট ফুকে না।
কয়েকদিন আরো অবাক হইলাম যখন দেখলাম পোলা আমার বাগান করতাছে। ভাবলাম পোলার এইবার সুমতি হইছে। বাগান করতাছে এইটা আর খারাপ কি। কিন্তু দিন কয়েক পর বাড়িতে পুলিশ আইলো। আমি তো পুরা থ। জিগাইলাম আমার বাড়িতে আসার কারন। কইলো, আমরা আপনার বাড়ি সার্চ করুম। আমি আর কিছু কইলাম ।না। একটু পর তারা পুরা বাড়ি সার্চ করতে আরম্ভ করলো। এক হাবিলদার চিল্লায় উঠলো, “স্যার পাইছি, পাইছি।’ আমি যাইয়া দেখি আমার পোলার সাধের বাগানের গাছ সব টাইনা টাইনা তুলতাছে। আমি তাগো ধমক মারলাম যেনো গাছ না তুলে। একটু পর দারোগা কইলো, “ভাইসাহেব, এইগুলি গাঁজার গাছ।”
কয়েকদিন পর জেলখানা থিকা আমার পোলারা ছাড়াইয়া নিয়া আইলাম। পোলা কথা দিলো আর কোন খারাপ কাজ সে করবো না। আসলেই দেখলাম পোলা একেবারে ভদ্র হইয়া গেছে। কয়েক দিন পর দেখি ঘরে ল্যাজবীহিন টিকটিকি ঘুরে। দেখলাম পোলা আমার খালি ল্যাজটা নিয়া নেয় টিকটিকি মারে না। ভাবলাম আগে ইন্দুর মারলে চেয়ারম্যান পুরষ্কার দিতো। আর এইবার মনে হয় টিকটিকির ল্যাজ দিলে টাকা দিবো। তার কয়েক দিন পোলা কয় সে নাকি চোখে ঝাপসা দেখে। সব নাকি ঘোলা ঘোলা লাগে। ডাক্তারের কাছে নিয়া গেলাম। ঐখানে দেখলাম দুই জমজ ভাই বইসা আছে। আমি আগে থিকাই কইলাম, “তুই কিন্তু ঠিকই দেখতাছস, ভাবিস না একজনরে তুই দুইটা দেখতাছোস, ওরা কিন্তু জমজ।“ পোলা কইলো, “কিন্তু একই রকম দেকতে চারজন হয় কিভাবে?” ডাক্তার ওরে ভালো মতো দেইখা ওরে বাসায় পাঠাইয়া দিয়ে কইলো পোলা নাকি টিকটিকির ল্যাজ পুরাইয়া নেশা করতো। আমিতো আসমান থিকা পরলাম। ভাবলাম আইজকা বাসায় যাইয়া নেই ওর একদিন কি আমার একদিন।
বাসায় ঢুকতেই গেটে পোলার লগে দেখা। দেখি গায়ে পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি, এক হাতে তজবি আর আরেক হাতে একটা পোটলা। দেইখা মনটা নরম হইয়া গেলো। পোলায় কইলো, “বাবা তাবলিগে যাইতাছি ৪০ দিনের লেইগা, দোয়া রাইখো।” আমি আর কিছু না কইয়া মাথায় হাত বুলাইয়া দোয়া করলাম। পোলা যাওয়ার পর শুনি ওর মায়ের চিৎকার। ওর গয়না আর আলমারীর সব টাকা নাকি উধাও।
(গল্পটা একটা ম্যাগাজিনে পরছিলাম, পুরাটা মনে নাই। যেইটুকু মনে আছে তাই লেইখা দিলাম)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

