মা একটি শব্দ যা নিজের অস্তিত্বকে মন এ করিয়ে দেয়.একটু আগে বৃষ্টির টেলিপেথির কমেন্ট এ লিখে এলাম ।আমাদের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে যোগ যোগ হয় নিজের অজানিতে মায়ের সাথে.।
আমার মা..মমতাময়ী ম...।কিন্তূ বন্ধুগণ মমতাময়ীই এর চেয়ে তার রণরঙ্গিনী মূর্ত্তি চোখে ভাসে।.হ্যা হ্যা হাসবেন না,আমার মা খুব রাগী দুর্জনেরা বলে তার কিছুটা আমিও পেয়েছি এত আমার দোষ নয় বলেছি তো এ gene এর দোষ.একটু তো পাবই..একটু নয় আমরা মায়ের কাছ থেকেই বেশী পাই.আমাদের সব গুনাবলী বাবা থেকে বেশী আসে ময়ের কাছ থেকে. ।
মা এর কথা লিখেও শেষ হবে না যিনি আমাকে গর্ভে ধারণ করেছেন এতটা দিন সেই মা তো সবার প্রিয় হবেই আর মা জননীর,যে মা স্কুল থেকে না ফেরা পর্যন্ত খেতেন না গলায় কাঁটা ফুটবে তাই মাছ খেতে দিতেন না.।.যিনি রাতের পড় রাত জেগে থেকেছেন । কোনো কিছু দিয়েও তার এই ঋণ শোধ হবার নয় ।
আমি স্মৃতিচারণ করতে পছন্দ করি.।.একেকটা ঘটনা একেকটা গল্প এখন ।
মা আমার পাশে থাকেন মানে আমি ৬ তলায় মা ৪ তলায় দেবী দর্শনের মতন রোজ একবার দর্শন না দিলে টেলিফোন যেই না ধরব রাগী গলায় বলবেন কি রে এলি কিনা জানাবি না ?.
আমার মা এর কথা বলতে অনেক দিন আগের একটি ঘটনা মন এ পড়ল ।.তখন আমি পিজি তে ট্রেইনিং এ করছি.সকাল এ যাই দুপুরে আসি.বাবা তখন বেঁচে আমার ছোট দু বোন ওরা আমার খুব ভক্ত একজন তো আমার পছন্দ করা ছেলে ছাড়া বিয়েই করবে না ।
একদিন এর ঘটনা .আমি মাত্র পিজি থেকে বাড়ি ফিরে এসেছি.গাড়ি থেকে নামতেই মা.পেছনে এক বোন.,আমি তো হাসি মুখে কিছু বলতে যাব অমনি বাঘিনীর গর্জন তোমার বোন কোথায়? পেছনে বোন দাঁড়ানো আর বলছেন বোন কই বললাম ওই তো.।
আরে এ নয় ঐটি বুঝলাম তার কোলের সন্তানটিকে বলছেন আমি ভালমানুষের মতন বলি কেন আছে না বাসায়? আর যায় কোথায়
শুরু হলো বর্ষণ আমি কি আর করা কেবল শুনলাম।
মা কে শান্ত করি বলি দেখছি তুমি শান্ত হও তো মা.।বোন কে নিয়ে গেলাম আড়ালে বললাম কি হয়েছে রে .ও যা বলল আমি শুনে মাথায় হাত দিলাম এখন কি করব..।
ওর কাছে শুনলাম ছোটটি গেছেন আমার কাজিন এর বিয়ের সাক্ষী হতে কোথায় তা ও জানে না...।.এত বড় সাহস !!!!!!!!!আমার নিজেরই মাথা ঘুরছে বলে কি ও..সাথে ওর প্রিয় বান্ধবীটি আছে।
আমি তো ভাবছি কি করি মায়ের চেয়ে বোনটির চিন্তা করছি বেশী কারণ ও একটু দুষ্ট বোকা আর সুন্দরী বলা চলে.....আবার তিনি খুব জনসেবা করতেও পছন্দ করেন নিজের জীবন বাজি রেখে হলেও
মা কে বললাম আমি গাড়ি নিয়ে আর বোন কে নিয়ে যাচ্ছি। তুমি চিন্তা কর...। কত কি যে শুনলাম ও আজ এলে আর বাইরে যেতে দেবে না, বিয়ে দেখবে, পড়াশোনা বন্ধ শুনে ছোটটি ভয় পাচ্ছে বললাম, ওরে পাগলি রাগ করে এসব বলছে এখন বল হয়েছে কি.?
বোন মা কে বলেছে বান্ধবীর বাসায় আছে আর বান্ধবী র মা কল করে বান্ধবীকে খুঁজছে । যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয় এমন একটি প্রবচন আছে .তারপর থেকেই মা লাফাচ্ছেন।
বললাম, কোথায় গেছে বলো ও বলল . মন এ হচ্ছে শাহবাগ .। ড্রাইভের কে বললাম মা কে বলতে পারবে না আমরা কোথায় যাচ্ছি .।
ওর কথা মত শাহবাগ মিউজিয়াম এ এলাম ঢুকতেই আমার বোন এর দেখা সাথে মামাত ভাইটি,ওনারা চটপটি খাচ্ছেন বলল, খাবে আস.।.দিলাম এক ধমক চলো বাসায় মা তোমাকে আজ দেখাবে ওর অবস্হা শেষ.কেঁদেই ফেলে এমন বললাম, মামাত বোনের কথা ওর বিয়ে হয়ে গেছে ,ওরা কাজী অফিস থেকে এখানে এসেছে আর বান্ধবী টি..কই ? এত প্রশ্নে ও ঘাবড়ে গেল, বলল বান্ধবী প্রেম করতে গেছে বাড়ি থেকে বার হয়ে এসেছে আমার বোন এর কথা বলে।প্রেম করছে চন্দ্রিমা উদ্যানে ওকে না নিয়ে সে যেতে পারবেনা কারণ বান্ধবী মানে রিনার মা দারোগা পুলিশ করবে তাই বললাম চল ওখানে আমরা চারজন এলাম চন্দ্রিমা উদ্যানে।
কি বলব এ এক নতুন অভিজ্ঞতা হলো সেদিন.।.জোড়ে জোড়ে ছেলে মেয়ে বসে,.দাঁড়িয়ে .কেউ বা হাতে হাত.আরো কত কি.।.ওদের দেখে লজ্জা পাচ্ছিলাম সব স্কুল কলেজ পালানো ছেলে মেয়ে ।ওর বান্ধবীকে কি করে এতজনার মাঝে খুঁজি আমরা নাম ধরে বলে এক একজনার পাশ দিয়ে যাচ্ছি আর ডাকছি..কিছুতেই পাচ্ছিনা..ক্লান্ত আমি দানাপানি কিছুই পেটে পরেনি আজ ।
মেজাজ খিচরে গেল.বললাম ওকে না নিলেও চলবে তুই চল কিন্তূ উনি তো কিছুতেই ওকে না নিয়ে ফিরবে না.কারণ ওনার কথার দাম আছে না.!!!!!!!!!!!!
এর মাঝে হটাথ চিত্কার শুনে এগিয়ে গেলাম ভাইটি নেই.দেখি কিছু দুরে আমার কাজিন কে ঘিরে একটি মেয়ে একটি ছেলে র কিছু টোকাই আর বাদাম ওয়ালা ,বললাম কি হয়েছে? যা শুনলাম আমাদের এই মার খাবার অবস্থা, তবুও এগিয়ে গিয়ে বললাম দেখুন ভাই আমরা একজন কে খুঁজছি.আরে আমাকে বলতে দিল না বলল, তাই বলে কি উকি দেবে ? আমার জিজ্ঞাস্য দৃষ্টি ভাইটির দিকে, ও তো ভয়ে শেষ আমার ভ্রাতা মেয়েটিকে রিনা ভেবে ভালো করে মুখ দেখতে গিয়েছিল.।..আর যায় কোথা লোক জড়ো করে ফেলেছে মেয়েটির প্রেমিকটি .।.যাই হোক ক্ষমা চেয়ে নিলাম.সরে এলাম ।
এই সব হইচইয়ে রিনা কে দেখলাম ,একটু দুরে.কোনো রকমে পালাতে পারলে বাঁচি সব কিছু শান্ত করে গাড়িতে উঠলাম আবার ভয় ঢুকলো মাকে গিয়ে কি বলব ।রিনা কে ওর মায়ের কাছে বুঝিয়ে বাড়ি ফিরলাম। ভাইটিকেও ছেড়ে দিলাম।কারণ ও আর আস্ত থাকবে না জানি । বাড়ি ফিরে .মা কে বললাম ও কোথাও যায়নি বাইরে দোকানে গিয়েছিল। মা কি শুনে আমার কথা ওকে নিয়ে গেলেন ভেতরে পরের কথা জানিনা। কারণ আর একটু হলে নিজেই বকুনি খেতাম কিন্তূ সবার সামনে এমন একটি চড় মারলেন ওতেই ও শেষ ।. আর মায়ের মুখ দেখে বুঝেছিলাম এতে তিনি কষ্ট পেয়েছেন বেশী।ওর তক্ষুনি বিয়ে দেন বাবা এলে লেখা পড়া স্টপ এর জের আমার উপর ও পরছিল ।জানিনা মা কি ভেবে নিয়েছিল কোলের সন্তান কে পেয়ে শান্ত হয়েছিলেন.আর আমি আর এক বোন পালিয়ে বেঁচেছিলাম.।পরে ওর কাছে সব শুনে খুব হাসি পেয়েছিল।
মা ছিলেন যেমন মমতাময়ী তেমন ভালো ও বাস আজ ৭০ এর কোঠায় তিনি কখনো ফিরতে দেরী করলে অস্থির হন ।ছুটির দিন তার হাতে একটু ভাত না খেলে আজ অতৃপ্তি থেকে যায় ।.
খোকা মা কে শুধায় ডেকে,এলেম আমি কথা থেকে
কোনখানে তুই কুড়িয়ে পেলি আমারে ?
মা শুনে কয় হেসে কেদে খোকা রে তার বুকে বেধে-
ইচ্ছে হয়ে ছিলি মনের মাঝারে
.
সব সন্তানই বোধ হয় এমন ইচ্ছে হয়ে থাকে.
আমি বলব আমরা কি উপলব্ধি করি একজন মায়ের মা হওয়ার কষ্ট।.দীর্ঘ ৯মস ১০ দিন যার গর্ভে আমরা একটি রক্ত বিন্দু থেকে ভ্রুণ তার পড় ফিটাস তার পড় ছোট্ট শিশু হই।
এই দীর্ঘ পথে মার কত কষ্ট হয় তার রক্ত থেকে পুষ্টি নিয়ে বড় হয় একটি শিশু।তার এই কষ্টের মুল্য আমরা কি দিতে পারি? না পারিনা.প্রসব যন্ত্রণার কষ্ট যে কি তা কেবল মারাই জানেন ।আমি ভাবি একেক বার এত কষ্ট করেও কেন বার বার মা হতে যায়..।.ওই যন্ত্রণা প্রত্যেক মায়ের জন্যই সুখের আনন্দের..কিন্তূ খুব খুব কষ্টকর ।
একটি শিশু জন্মের পড় মুখ দিয়ে যে শব্দটি করে তা হচ্ছে মা..।..মা একটি অর্থবহ শব্দ.।
এই দীর্ঘ ৯ টি মাস যে আমাকে আরামে যত্নে নিজের মাঝে পুষে রেখেছে সে তো পৃথিবীর অমুল্য রতন আমার কাছে.মা মানে বিরাট কিছু যার সাথে নাড়ির টান ।.আমরা ভুলে যাই.।.মা আমার অস্তিত্ব আমি মায়ের অংশ এটা ভাবতেই আনন্দ্দ হয়.।
কত রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন মা.।.আমরা কি পারব তার সেই সব কষ্ট গুলো ফিরিয়ে দিতে? পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
আসলে অন্য রকম লেখার কথা ছিল কিন্তূ বিষাদময় কিছু আর ভালো লাগেনা.।
আর লিখবই না ভেবেছিলাম কিন্তূ ফাইরুজ তা যে কি কাল দিল ঢুকিয়ে মাথায় ।
চন্দ্র যে তুই মোর সুর্য যে তুই
আমার আঁখিতে তারা যে তুই
সুখী হয় মন মোর তোকে দেখে....
আবার ও ক্ষমা চাইছি কারণ বানান ভুলে আমি পারদর্শী.আর আপনারাও প্রত্যক্ষ করেছেন বহুবার
আমার এই লেখাটি বৃষ্টি আর ফাইরুজ কে উত্সর্গ করলাম ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



