আমার প্রিয় পোস্ট
- কি চান নাকি সব পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিতে? হ্যাকিং টুল+বইয়ের সমাহার! সাথে জেনে নিন বাঁচার উপায় (৫০তম পোস্ট)

- হাসান জোবায়ের
- সাবেক ওয়ারিদ~বর্তমান এয়ারটেলের স্প্যামিং মেসেজে বিরক্ত? বিনা পয়সায় বন্ধ করে দিন এই সার্ভিস।
- রুদ্রপ্রতাপ
- ফ্রি এসএমএস ওয়ারিদে - যত ইচ্ছে তত
- র হাসান
- মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা, ১৬ বছর পরও কি আপনার এই বক্তব্য অনুদিত হবে না? - অমি রহমান পিয়াল
- যারা স্কেচ শিখতে চান আসুন তবে স্কেচ শিখি। (এক) - জেমিনি
- এই যুদ্ধাপরাধীকে প্রত্যাখ্যান করুন : দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (পিরোজপুর-১) - অমি রহমান পিয়াল
- ২০০৮ : আপনার চোখে ব্লগের বর্ষসেরা লেখা কোনটি? (আপডেট-১২ : একটি বিশেষ ঘোষণা) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- শাশ্বতকে নিয়ে একটা পুরনো লেখা, এবং... - আ-আল মামুন
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- পরাজিত পক্ষে আমি সবসময়ই কোনো না কোনো ভাবে উপস্থিত- - অপ বাক
- সকল ব্লগারের নামের লিস্ট ও লিংক এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে, আপনারা সহযোগীতা করুন - বহুরূপী মহাজন
- বৈশ্বিক খাদ্যসংকট: ভুখা বাঙালির ভাতের কষ্ট বনাম শতাব্দীর বৃহত্তম জোচ্চুরির ইতিহাস - ফারুক ওয়াসিফ
- মানুষ খেকো দানব [ভয়ংকর অভিজ্ঞতা] - শেষ পর্ব - ইউনুস খান
- সামহোয়্যারইন ব্লগের কোন অপশনের কাজ কি? (১) - ত্রিভুজ
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২২ ( মানুষ--নির্মলেন্দু গুণ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- জ্ঞানপিপাসুদের জন্য কিছু ফ্রি ই-বুক সাইট - রাকিব
- ফিরি ফিরি গান ডাউনলোড - মইন
- শুধু তোমার জন্য - জয়িতা
- ফায়ারফক্স এর আকর্ষণীয় কিছু ট্রিকস...... - মানচুমাহারা
- রাষ্ট্রীয় হট্টগোলের মধ্যে জোতির্ময় নন্দীর একটি কবিতা - জুয়েল বিন জহির
মরুজীবন। ৮। লাল বাহিনীর খপ্পরে
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৮
ভোর বেলা গোসল করে রেডি হয়ে মোবাইলটা খালি পকেটে নিয়ে যাচ্ছি মসজিদের দিকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য। একটু সামনে যেতেই দেখি লাল পুলিশের (আই.এস.এফ) গাড়ী একটা ঢুকছে গলির মাথায়। পাশের রোড দিয়ে চলে যাব কিনা চিন্তা করেও আবার মত পরিবর্তন করে দেখি নাই এমন একটা ভাব নিয়ে সোজা সামনে যেতে থাকি।
কাতারে বিদেশীদের কাছে লাল পুলিশ হচ্ছে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে অবৈধদের কাছে। রমজানের আগ থেকে এরা খুব জোরে-সোরে অভিযান চালাচ্ছে অবৈধ শ্রমীকদের ধরার জন্য। ভোর বেলায় রাস্তায় বের হয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। শ্রমীক দেখলেই ধরে ধরে আইডি কার্ড দেখছে। না পেলে সোজা হেডকোয়াটার। জেল-ভোগ এবং প্লেনের টিকেট জোগাড় করতে পারলে দেশে ফেরত। মজার বিষয় হলো, এদের কাছে কোন অস্ত্র নাই। কেউ পালানোর চেষ্টা করলে তার পেছনে শুরু হয় দৌড়। ধরতে পারলে সমানে চড়। প্রতিদিন সকালে বাঙ্গালী আর নেপালী গাড়ী ভরে ভরে নিয়ে যাচ্ছে আমার পাশের এলাকা থেকে। যায়গাটার নাম "ন্যাশনাল"। এটা কাতারে বাঙ্গালীদের আখড়া।
কয়েকদিন আগে ভোর বেলায় ন্যাশনালের ভেতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাস-স্ট্যান্ড যাচ্ছি কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। হঠাৎ শুনি পেছন থেকে চিৎকার - "ওকিফ"। ঘুরে দেখি এক নেপালী দৌড়াচ্ছে, পেছনে লাল পুলিশ। রাস্তাটা আমার তিন-চার হাত পেছনে বাঁক নিয়ে আরেক দিকে চলে গেছে। নেপালী সেই দিকে চলে যায় দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে। আর পুশিশ আমার পেছনে এসে দড়াম করে খায় এক আছাড়। উঠে আবার দৌঁড়। আমি সেদিকে না তাকিয়ে হাঁটতে থাকি সোজা। কারন তাকালেও বিপদ। আরেকদিনের ঘটনা। রাস্তার পাশে গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করছি। পাশে অনেকগুলো ছেলে-মেয়ে অপেক্ষা করছে স্কুল-বাসের জন্য। হঠাৎ এক মালবারী দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে রাস্তা ক্রস করে। পেছনে লাল পুলিশ। রাস্তার ওপারে গিয়ে মালবারী ধরা পরে। বেচারার কপাল খারাপ। পেছনে সিগনাল পড়ায় রাস্তাটা ছিল ফাঁকা। ধরেই ইচ্ছে মতো চড়। এরপর ধরে রাস্তার এই পাশে নিয়ে আসে গাড়ীতে উঠানোর জন্য। বাঙ্গালী এক লেবার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনাটা দেখছিল। এসে ওটাকে ধরেই এক চড়। "তুই কি দেখস? আইডি আছে?" নাই বলতেই সোজা গাড়ীতে। সন্ধ্যা বেলায় বাসায় ফিরে পাশের রুমে গিয়ে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি, সে অবৈধ শ্রমীক। তারা এখনো ঘটনা কিছু জানে না।
এই হেন লাল পুলিশের গাড়ী দেখে পাশের রাস্তা দিয়ে চলে যাওয়ার চিন্তাটা বাদ দেয়ার কারন হলো, চলে যেতে দেখলে পালাচ্ছি মনে করে দৌঁড়িয়ে ধরবে, এরপর কিছু জিজ্ঞেস না করেই প্রথমে দিবে মাইর। তাই সোজাই যেতে থাকি। পাশে যেতেই গাড়ীর গ্লাস নামিয়ে এক পুলিশ হাত বের করে শুধু বলে "আইডি কার্ড দাও"। বলি কার্ড বাসায় রেখে এসেছি, মসজিদে যাচ্ছি নামাজ পড়তে। বাসা কাছেই। বলে, ঠিক আছে, গাড়ীতে ওঠ। গাড়ীতে করে বাসায় নিয়ে আসে। এরা সাধারনত কারো বাসায় ঢোকে না। তিনজনে গার্ড দিয়ে আমাকে বাসায় ঢোকায়। রুমে এসে বলে, লাইট জ্বালাও। লাইট জ্বালিয়ে কার্ড বের করে দেখাই। ওয়াকি-টকিতে আইডি নাম্বার হেডকোয়াটারে চেক করে দেখে এই পাসপোর্ট সেখানে জমা আছে কি না। নিশ্চিত হয়ে বলে, ঠিক আছে। রুম মেট শুয়ে ছিল কম্বল মুড়ি দিয়ে। এই ভোর বেলায় লাইট জ্বালাতে দেখে আমাকে কিছু বলার জন্য লাফ দিয়ে উঠে। উল্টা তাকিয়ে পুলিশ দেখে নট-নরন-চরন। উঠে কোন কথা না বলে আইডি কার্ড বের করে। সে পাশের রুমে অবৈধ ইন্টারনেট টেলিফোনের দোকান চালায়। আমার সাথে লাইট নিয়ে একবার বড় ধরনের ঝগড়ার পর বলেছিলাম, পুলিশ খবর দিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিব। এখন ভেবেছে আমি বোধ হয় পুলিশ নিয়ে এসেছি। ভয়ের চোটে একবার নতুন আইডি কার্ড দিয়ে আবার পুরানটা বের করে দিয়ে বলে "এইটা পুরান"। পুলিশ বলে, লাগবে না। এই ব্যবসা ধরতে পারলে ২৫ হাজার রিয়েল জরিমানা, সেই সাথে ব্যাগ-এন্ড-ব্যাগেজ বাড়ী ফেরত। আমি যেতে পারি কি না জিজ্ঞেস করে বের হয়ে চলে আসি।
গেইট দিয়ে যখন বের হচ্ছি, পুলিশরা বের হয়ে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করে, এইখানে কোন অবৈধ লোক থাকে? বলি যে জানি না। গেইটের পাশের রুমে নক করে আইডি চেক করে তারা চলে যায়। পেছনের রুমে একজন অবৈধ শ্রমীক থাকে। বাইরের লাইট না জ্বালানোয় সেই রুমটা দেখে নাই। সেই সাথে ইন্টারনেটের রুমটাও। অল্পের জন্য দু'টো পরিবার রক্ষা পেয়েছে। সন্ধ্যায় যখন বাসায় ফিরি, সবাই আমাকে ঘিরে ধরে। "ভাই, এইটা একটা কাজ করলেন? লাল পুলিশেরে বাড়ী চিনাইলেন? আইডি কার্ড নিয়া বাইর হইবেন না!" বলি, চিন্তা কইরেন না। এইবার থিকা বাথরুমে গেলেও আইডি কার্ড নিয়া যাব, ইনশাল্লাহ্।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মরুজীবন ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ত্যাগের এ ঈদে ত্যাগ হোক সকল দু:খ/বেদনা আমাদের এজীবন থেকে। এ আশাই রইলো।
কাপালিক বলেছেন:
ঈদ মোবারক সবাইকে!
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
আচ্ছা অবৈধভাবে আসে না আসার পর মেয়াদ শেষ হলে অবৈধ ধরা হয়?কাতারে দুইদিন বেড়িয়েছিলাম (পোস্ট আছে, দেখতে পারেন।)
কিছু মনে করবেন না, ন্যাশনাল জায়গাটা কিন্তু তুলনামূলকভাবে বেশী নোংরা। কেন?
লেখক বলেছেন: অবৈধ ভাবে এখানে আসার কোন সুযোগই নেই। আসার পরে যদি কেউ কোম্পানী থেকে পালায়, তখন কোম্পানী তাকে ক্যান্সেল করে দিলে অবৈধ হয়। মেয়াদ শেষ হলে যদি কোন কারনে ভিসা রিনিউ করা না হয়, তাহলেও অবৈধ ধরা হবে। তবে রিনিউর জন্য তিন মাসের সুযোগ দেয়া হয়। এরকম ঘটনা সাধারনত ঘটে না।
কাতারে এসেছিলেন শুনে ভালো লাগলো। আগে জানলে দেখাও করা যেতো। রাজধানী দোহার পুরনো জায়গাগুলো সবই আসলে নোংরা। এখানে কাতারীরা থাকে না, বিদেশী শ্রমীকই সব। তাই এই দিকে কেউ তেমন নজর দেয় না। ন্যাশনাল জায়গাটা আরো বেশি নোংরা কারন এই এলাকার পুরোটাই বাঙ্গালীদের দখলে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















সম্ভবত বর্তমান সময়ে দেশের অর্থনীতির চাকা আপনাদের পাঠানো রেমিটেন্সই চালু রেখেছে। অথচ আমাদের রাজনীতিক ও বর্তমান সরকার সকলেই অপচয়ে মেতেছে। এসব ভাবলে ভাল নাগে না।
তবুও তো বাঁচতে হবে। নিজের জন্য পরিবারের জন্য, সর্বোপরি দেশের জন্য............ আল্লাহ আপনাদের প্রতি সহায় হোন এই কামনা করি। ঈদের শুভেচ্ছা রইল।