আমার প্রিয় পোস্ট

দ্য কাপালিক ইজ ব্যাক

মরুজীবন। ১০। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে স্বাক্ষর সংগ্রহের অভিজ্ঞতা - কাপালিক হতাশ

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:০৯

শেয়ারঃ
0 0 0

"একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ করছি। এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। আপনি কি সাইন করবেন?"
"আপনে অন্যদিকে যান।"
মাথার মধ্যে রক্ত উঠে যায়।
"একাত্তরে যারা হত্যা করেছে, লুট করেছে, বাড়ী-ঘরে আগুন দিয়েছে, ধর্ষণ করেছে, তাদের বিচার হোক সেটা চান না?"
"না চাইনা। কে করছে? কে সাক্ষী আছে? ৩৭ বছরে বিচার হইলো না, এহন হইবো কিয়ের বিচার? আপনেগো শেখ মজিব সবাইরে ক্ষমা কইরা গেছে না? তাইলে এহন কিয়ের বিচার?"
তার সাথের লোকদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনারা সাইন করবেন?"
"না। না। না"
"আন্তাজি কোন জাগাত সাইন করতাম? আমরা কিছু দেহিও নাই, জানিও না। কোনহান সাইন কইরা বেজালত পড়তাম?"

কথা হচ্ছিল কাতারের রাজধানী দোহার ন্যাশনাল এলাকায়। এটি বাঙ্গালীদের মিলনস্থল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং শুক্রবারে এখানে বাঙ্গালীরা জড়ো হয়। প্রায় সবাই শ্রমীক। একটু আগে ফর্ম ডাউনলোড করে ফটোকপি করেছি বিশটি। বাসা কাছেই হওয়ায় ভাবলাম কাজে নেমে পড়া যাক। এটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হলেও প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারনে আজ লোকজন নেই। ১৫/২০ জন চত্বরে ঘোরাফেরা করছে। আমার ধারনা ছিলো এই রকম একটা কাজে যাকে বলব সেই চোখ বন্ধ করে সাইন করে দিবে। হয়ত দু-একটা পাকিস্তানী জারজ সন্তান এর ব্যাতিক্রম হবে। কিন্তু ঘটনা দেখে সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছি। যুদ্ধপরাধী বিষয়টা নিয়েই মানুষ বিভ্রান্তিতে আছে। এরা ধরেই নিয়েছে আমি আওয়ামীলীগ কর্মী, আর যুদ্ধাপরাধী বলতে আমি পুরো জামাত এবং বিএনপির জোটটাকে বোঝাচ্ছি। বৃথাই এদের বোঝাতে চেষ্টা করি আওয়ামীলীগের সাথে আমার কোনই সম্পর্ক নেই, এবং যুদ্ধাপরাধী বলতে আমি শুধুমাত্র তাদের কথাই বলছি যারা একাত্তরে খুন-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগ-লুটতরাজের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলো, তারা জামাত-বিএনপি-আওয়ামীলীগ যে দলেরই হোক না কেনো। কিন্তু কে শোনে কার কথা!

কিন্তু আশার কথা হলো, এ ব্যাপারে তরুনদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার। তারাই শুধু দেখলাম এককথায় সাইন করে দিল। "কেন করুম না? যারা অপরাধ করছে অবশ্যই তাগো বিচার চাই।" এবারের জাতীয় নির্বাচনে তরুনদের ভোটই নাকি সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। এ কথার সত্যতাই আজ প্রমান পেলাম। বই-পুস্তকে ইতিহাসের এত বিকৃতির পরও তরুনদের দৃষ্টিভঙ্গি এতটা পরিষ্কার হয় কি করে, ভাবতে সত্যিই অবাক লাগে। হতাশা ঠেলে মনে আশা জাগে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যদি তাদের জীবদ্দশায় করা সম্ভব নাও হয়, আর বিশ বছর পরে যখন এই তরুন প্রজন্ম দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে, তখন এদেশের প্রতিটি মানুষের মনে নির্বাচনী জোটের হিসাব-নিকাশকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সমানভাবে যুদ্দাপরাধীদের জন্য থাকবে শুধুই ঘৃণা। তাদের কবরে গিয়ে সবাই থুথু দিয়ে আসবে। হয়ত সেটাই হবে তাদের সবচেয়ে বড় বিচার।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৭
ড়ৎশড় বলেছেন: আমাদের দেশের তরুনরা শিক্ষিত হচ্ছে।এই দেশের মানুষের মধ্যে চিন্তা চেতনায় সবকিছুতেই একটা অন্যরকম পরিবর্তন এসেছে।আমাদের মানসিকতার জরাজীনর্তা পিছে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে শিখেছি।অন্য দেশের সাথে নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পারছি।সবকিছু মিলিয়ে আমরা কিছু একটা করার স্বপক্ষে।দেখবেন এই দেশ অনেক এগিয়ে যাবে।ধন্যবাদ আপনাকে এই উদ্যোগে জন্য।অফটপিকঃএকজন কবিকে চিনতাম সাজ্জাদ হোসেন নামে।উনার প্রথম বইয়ের নাম ছিলো কাপালিক।আপনার নিক দেখে তার কথা মনে হলো।
২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৪

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ..চিন্তায় পরিবর্তন হচ্ছে..এটা সত্যিই সুখবর..


কাপালিক চরিত্রটা আসলে বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্টি। একটা দারুন রহস্যময় চরিত্র। রহস্য ভালো লাগে, তাই নামটা সেখান থেকে ধার করা।

২. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৪
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: আশা হারাবেন না, প্লিজ।
৩. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৫
লুকার বলেছেন:

মনে হয় কিছু প্রারম্ভিক কাজ করে নিলে স্বাক্ষর চাওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত হতো। যেমন স্টপ জেনোসাইড, মুক্তির গান এধরণের ছবি দেখিয়ে, চিত্র প্রদোর্শনী করে তারপর বলতেন স্বাক্ষর করতে।
২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫৯

লেখক বলেছেন: প্রথম কথা, কাপালিক এখনো ফকির, তাই ল্যাপটপ নাই যে রাস্তায় নিয়া নিয়া ঘুরবে।

দ্বিতীয় কথা, যেই লোকটা গলার রগ ফুলিয়ে বলল, "আপনে আরেক দিকে যান", তাকে আপনি জেনোসাইডের ভিডিও দেখান, আর চোখের সামনে আরেক বার জেনোসাইড করে দেখান, কোন লাভ হবে না। তার জোটবদ্ধ নির্বাচনী হিসাবে আপনি কোন হেরফের ঘটাতে পারবেন না। সেটা শেষ পর্যন্ত এসে আওয়ামীলীগ-বিএনপিতে ঠেকবে নিশ্চিত।

আমার মনে হয়, একমাত্র নতুন প্রজন্মকেই সম্ভব সচেতন করা, অন্য কাউকে না। আমি নিশ্চিত, এদেশের অসংখ্য মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। আফসোস, তারা এই দেশেরই মানুষ..এই দেশের..বাঙলাদেশের..কিভাবে সম্ভব, আমার হিসেব মেলে না..

৪. ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫৫
হাসান মাহবুব বলেছেন: লুকার,ভাল বলেছেন।সামনে আমাদের একটা ফেসবুক গ্রুপের পক্ষ থেকেএইধরনের একটা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।সম্ভবত ৬ তারিখে।রবীন্দ্র সরোবর,ধানমন্ডিতে।
২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন: ভালো উদ্যোগ নি:সন্দেহে।

৫. ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৭
মজিদ বিশ্বাস বলেছেন: আপনার প্রথমদিক কার কথা ভালই মনে হচ্ছিল যখন আপনি বলছিলেন যে যুদ্ধাপরাধী বলতে আমি জামায়াত বিএনপিকে বুঝাচ্ছি না। কিন্তু একটু পরেই আবার তরুনদের কথা তুলে আপনি বুঝিয়ে দিলেন যে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত আর বিএন পি তে। কারণ তরুনরা জামায়ত বি এনপিকে পরাজিত করেছে। আরেকটু সর্তক হয়ে লিখুন। সুভকামনা।
বিচার হয়ে গেলেই বাংলাদেশ একটা বিশাল রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু আপনি কি মুক্তি যুদ্ধবিষয়ক প্রতি মন্ত্রী সাহেবে কথা শুনেছেন? যদি শুনতেন তবে ওই কঠিন শীতের মধ্যে সাইনের জন্য বের হতেন কিনা সন্দেহ। শেস পর্যন্ত আওয়ামীলীগ যে একটা মূলো ঝুলিয়ে রাখবে প্রতমিন্ত্রীর আচরণে আমার কাঝে তাই মনে হয়েছে।
২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৫৯

লেখক বলেছেন: বক্তব্য বুঝতে ভুল করলে সেইটা কাপালিকের দোষ না। তরুনদের কথা আসছে শুধু এইটা বোঝাতে যে, তাদের এই ব্যাপারে কোন শুচিবাই নাই। বিচার চাওয়ার সাথে ভোটের সম্পর্ক তারা এক করে দেখে না। এখানে তাদের কথাটা এসেছে শুধুই কথা প্রসঙ্গে। আপনিও বোধ হয় সম্পর্কটা গুলিয়ে ফেলছেন।

কে কি বলেছে আমি ঠিক জানি না, কারণ খবর দেখার অত সময় পাই না। কিন্তু যে যাই বলুক, আর যাই করুক, আমি শুধু আমার দাবীটা আদায় করতে চাই। যুদ্ধাপরাধীদের যাতে বিচার হয়।

৬. ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৯
হাফিজুর রহমান মিতু বলেছেন: ওরা এমনই বলবে । হতাশ হবার কিছু নাই ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮২২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
অসীম ঘৃণা ভন্ডামীর প্রতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ