somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সা. ইনের সুশীলদের নিজ নিজ নপুংশকতা দাবীর ভণ্ডামী
পোষ্টটি পড়ে সুশীলদের মাথা নষ্ট হয়ে গেল। তারা দেখলো, তারা নিজেদের ঘরেই তৈরী করছে এই রকম 'স্মার্ট' মেয়েদের। তাদের বন্ধুদের ঘরেও, আত্মীয়ের ঘরেও। মোদ্দা কথা, তাদের চারপাশে যেদিকে তাকায়, সেদিকেই শুধু দেখে এই সব 'স্মার্ট' মেয়ে। সুতরাং তারা মনে করলো, পোষ্ট লেখক এই দেশের সব মেয়েকে 'নষ্টা' বলেছে। তাই তারা কোন যুক্তি-তর্ক প্রদর্শন করার ধার না ধেরে শুরু করলেন কুৎসিত গালি বর্ষণ, যদিও সেই পোষ্টে কোন গালাগালি ছিল না। কারন তাদের মনে হয়েছে, পোষ্ট লেখক একজন ধর্ষক, এবং ধর্ষণ করার জন্যই এই পোষ্ট দিয়েছে।

তারা যে যথার্থ সুশীল, তা প্রমানের জন্য তাদের দাবী, তারা যখন রাস্তায় কোন অর্ধ-নগ্ন মেয়ে দেখে, তখন তাদের মধ্যে নপুংশকতা তৈরী হয়। সুতরাং তা দেখে তাদের দেহে এবং মনে কোন অনুভূতি তৈরী হয় না। এই লেখক যেহেতু পুরুষ, এবং এইসব মেয়ে দেখে প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়, তারচেয়ে বড় কথা ভন্ডামী না করে সেই নগ্ন সত্য সে ব্লগে পোষ্ট দিয়ে প্রকাশও করে, তাই সে হচ্ছে 'সাইকো'। সুতরাং নপুংশকেরা এক জোট হয়ে 'হিজড়া' গ্রুপ গঠন করে পোষ্ট লেখকের পুরুষ হওয়ার বিষয়ে মডারেটরের কাছে অভিযোগ জানায়।

পোষ্ট লেখক এখনো মনে করে, সে যা বলেছে, সত্য বলেছে। সত্যকে মেনে না নিয়ে সুশীলদের মত নিজের নপুংশকতা দাবী করার ভন্ডামী সে করে নাই। এই নষ্টা মেয়েগুলো সমাজের অপূরনীয় ক্ষতি করছে, অনেক দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি, যা পুরন হওয়ার নয়। এরা যারই বোন-মেয়ে-বউ হউক, এদেরকে শাসন করাই তাদের কর্তব্য হওয়া উচিত, নিজেদের নপুংশকতার ভন্ড দাবী করা কিংবা অন্যের পুরুষ হয়ে ওঠার জন্য গালির বৃষ্টি প্রদর্শন করা নয়। এই পোষ্ট লেখককে যদি গালি প্রদর্শন করার কারনে ব্যান করা হয়, তাহলে যাদের প্রথমে দেয়া গালির জবাবে গালি প্রদর্শন করেছে, তাদের যেন প্রথমে ব্যান করা হয়। সেটিই হবে ন্যায় বিচার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/29440456 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/29440456 2011-08-29 14:26:57
আমাদের নির্লজ্জ মন্ত্রী-আমলাগুলো পদত্যাদ করবে কবে?
চাল-তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। নাগালের মধ্যে নেই মৌসুমে উৎপাদিত সব্জির দামও। সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। কৃষক উৎপাদন করে দাম পায় না, সব টাকা চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্তভোগী মজুদদারদের হাতে। সরকারের বানিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে যাচ্ছে। প্রতিটা বৈঠকে ঘোষণা দেয়া হয় দাম কমার, কিন্তু উল্টো আরো বেড়ে যায় দাম। সিণ্ডিকেট ভাঙতে ব্যর্থ হওয়া কিংবা সিণ্ডকেটকে সুযোগ করে দেয়া এই নির্লজ্জ মন্ত্রী নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করা তো দূরের কথা, উল্টো ঘোষণা দেয় বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য নাকি বিশ্বের সব দেশের চেয়ে কম আছে।

সোমালিয়ার জরদস্যুদের হাতে মাসের পর মাস বন্দি হয়ে পড়ে আছে জাহানমনির নাবিকেরা। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদক্ষেপ বলতে শুধু বিবৃতি দেয়া। জাহানমনির নাবিক এবং তাদের স্বজনদের কান্নায় ভারি হয় বাংলার আকাশ-বাতাশ। নির্বিকার নির্লজ্জ্ব পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

দিনের পর দিন অবনতি হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। নাগরিক নিরাপত্তা বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। ৫০-৬০ জনের শঙ্ঘবদ্ধ একেকটি ডাকাত দল গ্রামের পর ডাকাতি করছে। নির্বিকার পুলিশ। আর ষরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য - দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক। অবশেষে নিজ দলের এমপির বাসায় ডাকাতি এবং নেতা খুনের পর তার উপলব্ধি - কিছুটা অবনতি হয়েছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কিন্তু পদত্যাগ? নৈব নৈব চ! আর আমাদের ষরাষ্ট্র-প্রতিমন্ত্রী? তার কাজ বিবৃতি দেয়া। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন নয়।

লিবিয়ায় চলছে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর যেখানে হাউজ-অব-কমন্সে জবাবদিহি করতে করতে অস্থির যে তার দেশের কতজন নাগরিককে এই পর্যন্ত লিবিয়া থেকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে, কতজন এখনো সেখানে রয়ে গেছে এবং কবে নাগাদ তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হবে, সেখানে আমাদের হস্তি সদৃশ পররাষ্ট্র সচীব সাংবাদিকদের জানান, লিবিয়ায় বাংলাদেশীদের কোন ধরনের সমস্যার খবর তার কাছে নেই। যেনো চোখ বন্ধ করে থাকলেই আর সমস্যা কাছে আসবে না। আজো বধি লিবিয়ায় অবস্থিত বাঙ্গালীদের ফিরিয়ে আনতে তারা কোন পদক্ষেপই নেয় নি। যে কজন বাংলাদেশী এ পর্যন্ত ফিরে এসেছে, তারা এসেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্যে। এতে সরকারের কৃতিত্ব শূন্য। এখনো পর্যন্ত এই ব্যর্থতার জন্য কেউ দায়িত্ব নেয় নি - পদত্যাগ তো দূরের কথা।

এত বড় কেলেঙ্কারী হয়ে গেলো শেয়ার বাজারে। সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ তাদের প্রত্যক্ষ মদদে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেল, নিঃস্ব হয়ে গেলো লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। অথচ বিকার নেই কারো মধ্যে। আজোবধি দায়িত্ব নিলো না এসইসি কিংবা ডিএসইর কোন কর্মকর্তা। আমাদের বুড়ো ভাম অর্থমন্ত্রীতো উল্টা তিরষ্কার করলো বিনিয়োগকারীদের। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়ে দিল, তেত্রিশ লাখ বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে গেলে এদেশের অর্থনীতিতে তার কোন প্রভাব পড়বে না। কাজেই তাদের কিছু আসে যায় না!

সরকারের ব্যর্থ ও অপদার্থ এই সব মন্ত্রী আমলারা কবে থেকে দায়িত্ব নেয়া শিখবে? কিংবা কোন দিনই কি শিখবে? কবে থেকে আমরা দেখতে পাবো সবাই তাদের নিজ নিজ ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করছে? সেই সুদিন এদেশে কি কোন দিন আসবে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/29339057 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/29339057 2011-03-06 06:48:51
এবার পাটকেলটির অপেক্ষা
ইতিমধ্যেই বাতির করা হয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটনের ঢাকা সফর। বাতিল হয়েছে ওয়াশিংটনে হাসিনার 'ওবামা-দর্শনের' সম্ভাবনা। প্রভাবশালী সিনেটর জন কেরী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডঃ ইউনুসের বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপের বিষয়ে। ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের অবনতি বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত তা নাকচ করে দেয় নি, বরং কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সর্বোপরি ৮ মার্চ ওয়াশিংটনে ডঃ ইউনুসের সাথে বৈঠকে বসছেন হিলারী ক্লিনটন গ্রামীন ব্যাংক সমস্যার বিস্তারিত জানতে।

নিজের মনকে স্বান্তনা দেয়ার জন্য বিবৃতি দিয়ে আর কি হবে। ঢিল ছোঁড়া হয়ে গেছে। এবার পাটকেলটি খাওয়ার পালা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/29338534 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/29338534 2011-03-05 11:15:43
ড. ইউনুসের অব্যাহতি - আওয়ামীলীগের প্রতিহিংসার নমুনা
শেখ হাসিনা নাকি তাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করে, তাই এই আক্রোশ। কিন্তু এই আক্রোশ কি দমিয়ে রাখতে পারবে একজন মহতী মানুষকে? ড. ইউনুস যদি রাজনীতিতে আসে, সেটা করার পূর্ণ অধিকার তাঁর আছে। এবং আছে যোগ্যতাও। রক্ত চোষার কথা যদি আসে তাহলে বলতে হয়, বড় দুই রাজনৈতিক দল জনগনের ঘাড়ে নল লাগিয়ে ঢক ঢক করে পান করেছে তাদের রক্ত, এবং এখনো করছে। ড. ইউনুস গরীব মানুষের উপকার করার জন্যই তাদের ধার দিয়েছে। রক্ত চোষার জন্য নয়।

ই্উনুস কেলেঙ্কারী আওয়ামীলীগের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বিরাট ভুল পদক্ষেপ। ড. ইউনুসের উপর শেখ হাসিনার এই প্রতিহিংসাই হয়ত জন্ম দেবে ভবিষ্যতে এদেশের জন্য ভালো কিছু।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/29337236 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/29337236 2011-03-03 07:23:18
দেশের এই দূর্দিনে এখন প্রয়োজন তৃতীয় কোন জোট
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দ্রব্যমূল্য সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে লিখতে লিখতে দেশের বুদ্ধিজীবীদের কলমের কালি শেষ হয়ে গেছে, বক্তৃতা দিতে দিতে শুকিয়ে গেছে নেতানেত্রীদের গলা। সেই দ্রব্যমূল্য আজ তখনকার দ্বিগুন হয়েছে। মধ্যবিত্তেরা লজ্জ্বায় কাঁদতেও পারে না। গৃহবধূরা আঁচলে মুখ ঢেকে ওএমএসের লাইনে দাঁড়াচ্ছে বলে বিবিসি রিপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনের চেষ্টাতো করেইনি, বরং দেশের মানুষ খুবই ভালো আছে বলে মন্তব্য করেছে। তারা নাকি জনগনের আয়-রোজগাড় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বানিজ্য মন্ত্রী মন্তব্য করেছে, দ্রব্যমূল্য সারা পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম আছে। শুধু এটা বলে নাই, সারা পৃথিবীর মানুষের তুলনায় আমাদের রোজগার কয়েকশ' গুণ কম আছে। তাদের কাছে সম্ভবত মানুষের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা শুনতে উপহাসের মত মনে হয়, তাই সাধারন মানুষকেও তারা উপহাসই করে।

দেশের মানুষের বিনিয়োগ করার মতো কোন জায়গা নেই, তাই তারা কিছু লাভের আশায় শেয়ার বাজারে গিয়ে বিনিয়োগ করেছে। জনগনের সেই টাকা তারা নিজ দলের কিছু মানুষকে লুট করার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রচণ্ড প্রয়োজন ছিল যেই সময়ে সরকারী শেয়ারগুলো বাজারে আনার, সেগুলো তখন না এনে কাল ক্ষেপন করেছে। প্রচণ্ড উত্তপ্ত বাজারে বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো টাকার যোগান দিয়ে গেছে দিনের পর দিন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক চোখ বন্ধ করে রেখেছে। আর বাজার পড়ে গিয়ে যখন বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে, সরকারের অর্থমন্ত্রীসহ সমস্ত হোমড়া-চোমড়ারা সাধারন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিজ দোষে পশ্চাৎদেশে বাঁশ খেয়েছে বলে উপহাস করেছে।

যেই বিদ্যুৎ ছিল নির্বাচন ইস্তেহারের ফার্স্ট প্রায়োরিটি, সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে প্রথম দুই বছর পূর্ববর্তীদের দোষারোপ করতে করতে মুখে ফেনা তুলে এখন ভুলেই গেছে। বরং কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করে জনগনের জায়গা দখল করে জাতীর পিতার নামে এয়ারপোর্ট করা তাদের কাছে সবচেয়ে জরুরী বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে। বাঙ্গালী শ্রমীকরা লিবিয়ায় দূর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছে। স্বজনদের কাছে ফোন করে তারা কান্নাকাটি করে তাদের দূরবস্থার কথা জানাচ্ছে। আর সরকারের পররাষ্ট্র সচীব তার কাছে এই সংক্রান্ত কোন খবর নেই বলে সাফ জানিয়ে দিচ্ছে। একজন মহিলা সহ জাহানমনির ২৬ জন নাবিক সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে মাসের পর মাস বন্দি হয়ে আছে, তারা বিবৃতি দেয়া ছাড়া আর কিছুই করেনি। জনগনের সমস্ত আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন তারা এভাবে জনগনকে দিয়েছে, এবং ভবিষ্যতেও দিয়ে যাবে।

আর আমাদের বিরোধী দল সামনের সারিতে ২টা চেয়ারের জন্য দিনের পর দিন সংসদ বর্জন করে যাচ্ছে, যেখানে তাদের দায়িত্ব ছিল জনগনের এই দুর্দশার জন্য সরকারকে জবাব দিতে বাধ্য করা। বরং তারা মধ্যবর্তী নির্বাচনের ডাক দিচ্ছে। ভাবখানা এমন, জনগন দুই বছরের মধ্যই তাদের সমস্ত কুকর্মের কথা ভুলে গেছে। যেহেতু আওয়ামীলীগের উপর মানুষ বিরক্ত, তাই মধ্যবর্তী নির্বাচন হলেই তারা জয় লাভ করে ক্ষমতায় বসে পড়বে - আরো ৩ বছর ধৈর্য্য ধরে বসে থাকার সময় কোথায়!

আমার মনে হয় এখন সময় এসেছে সত্যিকারের পরিবর্তনের। এই দেশে এখন দরকার তৃতীয় কোন জোট, যারা মানুষের কথা ভাববে, মানুষের জন্য রাজনীতি করবে। চাই মাওলানা ভাষানীর মতো কোন নেতা, যারা রাজনীতি করে শুধুই মানুষের জন্য। মূদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ বিএনপি আর আওয়ামীলীগের জোটের হাত থেকে মানুষ এবার মুক্তি চায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/29336669 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/29336669 2011-03-02 12:26:40
মরুজীবন। ১১। পশ্চাৎদেশে দুই ঠোক্কর
এদেশে গাড়ী চলে রাস্তার ডান পাশ দিয়ে। দুইটি রাস্তা যেখান দিয়ে ক্রস করেছে সেখানে থাকে গোলচক্কর। এই গোলচক্করে কোন সিগনাল লাইট থাকে না। বড় রাস্তা হলে অত্যন্ত ভীড়ের সময় পুলিশ থাকে, অন্য সময় থাকে না। গোলচক্কর দিয়ে যাওয়ার নিয়ম হলো, বামদিকে তাকিয়ে সুযোগের সন্ধানে থাকতে হবে কখন সেখানে গাড়ী না থাকে। একটু ফাক পেলেই সুরুত করে চলে যেতে হবে। যতক্ষণ রাস্তা খালি না হবে ততক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। না করলে দূর্ঘটনা নিশ্চিত।

এই রকম এক গোলচক্করে এসে থেমেছি; সামনে থেকে একটা একটা করে গাড়ী যাচ্ছে আর অল্প অল্প করে এগুচ্ছি, হঠাৎ গাড়ীর পেছনে এক ধাক্কা। ইমার্জোন্সি সিগনাল দিয়ে নেমে এসে দেখি পেছন থেকে একটা পিকআপ এসে ধাক্কা মেরে আমার রিয়ার বাম্পারের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছে। ড্রাইভার কম বয়সী একটা বাঙ্গালী ছেলে। আমি চলে গিয়েছি ভেবে সে নাকি বামদিকে তাকিয়ে গাড়ী টান দিয়েছে, আমাকে খেয়ালই করেনি। বলি, দিন-দূপুরে কাজটা কি হলো? তার আক্ষেপ, ভাই আমার কপালটাই খারাপ, এই নিয়ে গত দুই বছরে ছয়-সাতবার একই ঘটনা ঘটল। কাল বাড়ী থেকে এসে আজই মাত্র কফিলকে (স্পন্সর) বলে-কয়ে গাড়ী নিয়ে বের হয়েছি, আর হয়ে গেলো এক্সিডেন্ট। এই কারনে জীবনে কিছু করতে পারলাম না। গাড়ীটার ব্রেক কোন সময় কাজ করে, কোন সময় করে না। কালই এটাকে ইস্তেমারার (রুট পারমিট) জন্য গ্যারেজে দেয়ার কথা।

কি আর করা। কাছের পার্কিং-এ গাড়ী পার্ক করে ট্রিপল নাইনে ফোন করে পুলিশ আসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। এদেশের আইন হলো পুলিশ না আসা পর্যন্ত দূর্ঘটনাস্থল ত্যাগ করা যাবে না। কাছের পার্কিং-এ গাড়ী পার্ক করে বসে থাকতে হবে। তারা এসে তদন্ত করে কে দোষী সেটা নির্ধারন করবে। এরপর দু'জন একসাথে মরুরে (পুলিশ ষ্টেশন) গিয়ে পেপার আনতে হবে। সেই পেপার দোষী গাড়ীর ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে নিয়ে গেলে তারা তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন একটি গ্যারেজের ঠিকানা দেবে যেখানে তাদের পেপার দিলে গাড়ী ঠিক করে দেবে। পেপার ছাড়া কোন গ্যারেজে গিয়ে পয়সা দিলেও কেউ গাড়ীর কাজ করবে না - পুলিশের নিষেধ।

এক ঘণ্টা পার করেও যখন পুলিশের দেখা নেই, তখন আবার ফোন করি ট্রিপল নাইনে - পুলিশ নাকি রাস্তায়। এরপর দুইঘণ্টা পার করেও যখন পুলিশের দেখা নেই, তখন দু'জনে ঠিক করি মরুরে চলে যাব সরাসরি। পুলিশের কাছে একজন দোষ স্বীকার করলেই ঝামেলা শেষ। মরুরে এসে ঘটনা বলতেই এক অফিসার বাইরে এসে দুই গাড়ী চেক করে পেপার দিয়ে দেয়। পরদিন এই পেপার নিয়ে ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে গেলে তারা গাড়ীর ছবি তুলে নিয়ে সানাইয়ায় (ইন্ডাষ্ট্রিয়াল এরিয়া) একটা গ্যারেজের ঠিকানা আর পেপার দিয়ে দেয়। পরদিন সকাল-সকাল গ্যারেজে গিয়ে পেপাল দেখালে মালবারী মালিক ঘণ্টা-দেড়েকের মধ্যে নতুন একটা বাম্পার লাগিয়ে ছেড়ে দেয়। পুরো ব্যাপারটার জন্য একটা পয়সাও খরচ করতে হয় নি। শুধু মরুরে রেভেনিউ ষ্ট্যাম্পের জন্য চব্বিশ রিয়েল দিতে হয়েছে, যদিও তারা ষ্ট্যাম্প লাগিয়েছে বিশ রিয়েলের। রেভেনিউ ষ্ট্যাম্পের জন্য পয়সা বেশী নেয়ার সিস্টেমটা বোধ হয় সব দেশে একই রকম।

সপ্তাহ-দুয়েক না যেতে আবারো ঠোক্কর। এবারো গোল-চক্করের জ্যামের মধ্যে। ভোর পাঁচটায় বেরিয়ে বিকেল পাঁচটায় বিধ্বস্ত অবস্থায় ফিরছি সাইট থেকে, তাও ঘরে না - অফিসে, আরো কিছু কাজ বাকী। জ্যামের মধ্যে একটু একটু করে আগাচ্ছি। পেছন থেকে ধুরুম করে ধাক্কা। এবারের ড্রাইভার এক আরবের ছেলে। একেবারেই অল্পবয়স। বোধ হয় লাইসেন্সই নেই। অভ্যাসমতো ফোনে বকবক করছে আর গাড়ী চালাচ্ছে। নেমে এসে বলে, কিছু হয়নি, চলে যাও। বলি, আগে পুলিশ আসুক, তারাপরতো যাওয়া-যাওই। বলে, পুলিশে ফোন করলে খামাখা সময় নষ্ট, তারচেয়ে একঘন্টা পর মরুরে চলে আস, আমি আসছি। গাড়ীর নাম্বার আর তার ফোন নাম্বার নিয়ে মরুরে চলে আসি। কিন্তু তার আসার খবর নেই। ফোন করি, তাও রিসিভ করে না। কি যন্ত্রনা!

পুলিশকে গিয়ে ঘটনা খুলে বলে গাড়ীর নাম্বার আর তার ফোন নাম্বার দেই। গাড়ীর বর্ণনা ঠিক আছে চেক করে বলে, তার গাড়ীর ইন্সুরেন্সের মেয়াদ নেই। তিনটা গ্যারেজ থেকে কোটেশন নিয়ে আরেকদিন আস। কথামতো কোটেশন নিয়ে গেলে পুলিশ নিজে তাকে ফোন করে। আধা ঘণ্টার মধ্যে তার বাবা এসে সর্বনিম্ন কোটেশন অনুযায়ী টাকা দিয়ে যায় ক্যাশ। সাইন করে টাকা নিয়ে চলে আসি। পরদিন সকালে একই গ্যারেজে গিয়ে আবার লাগাই একটা নতুন বাম্পার। এবারেরটার মেয়াদ কয়দিন আল্লাহই জানে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28901918 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28901918 2009-01-24 20:53:06
মরুজীবন। ১০। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে স্বাক্ষর সংগ্রহের অভিজ্ঞতা - কাপালিক হতাশ "আপনে অন্যদিকে যান।"
মাথার মধ্যে রক্ত উঠে যায়।
"একাত্তরে যারা হত্যা করেছে, লুট করেছে, বাড়ী-ঘরে আগুন দিয়েছে, ধর্ষণ করেছে, তাদের বিচার হোক সেটা চান না?"
"না চাইনা। কে করছে? কে সাক্ষী আছে? ৩৭ বছরে বিচার হইলো না, এহন হইবো কিয়ের বিচার? আপনেগো শেখ মজিব সবাইরে ক্ষমা কইরা গেছে না? তাইলে এহন কিয়ের বিচার?"
তার সাথের লোকদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনারা সাইন করবেন?"
"না। না। না"
"আন্তাজি কোন জাগাত সাইন করতাম? আমরা কিছু দেহিও নাই, জানিও না। কোনহান সাইন কইরা বেজালত পড়তাম?"

কথা হচ্ছিল কাতারের রাজধানী দোহার ন্যাশনাল এলাকায়। এটি বাঙ্গালীদের মিলনস্থল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং শুক্রবারে এখানে বাঙ্গালীরা জড়ো হয়। প্রায় সবাই শ্রমীক। একটু আগে ফর্ম ডাউনলোড করে ফটোকপি করেছি বিশটি। বাসা কাছেই হওয়ায় ভাবলাম কাজে নেমে পড়া যাক। এটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হলেও প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারনে আজ লোকজন নেই। ১৫/২০ জন চত্বরে ঘোরাফেরা করছে। আমার ধারনা ছিলো এই রকম একটা কাজে যাকে বলব সেই চোখ বন্ধ করে সাইন করে দিবে। হয়ত দু-একটা পাকিস্তানী জারজ সন্তান এর ব্যাতিক্রম হবে। কিন্তু ঘটনা দেখে সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছি। যুদ্ধপরাধী বিষয়টা নিয়েই মানুষ বিভ্রান্তিতে আছে। এরা ধরেই নিয়েছে আমি আওয়ামীলীগ কর্মী, আর যুদ্ধাপরাধী বলতে আমি পুরো জামাত এবং বিএনপির জোটটাকে বোঝাচ্ছি। বৃথাই এদের বোঝাতে চেষ্টা করি আওয়ামীলীগের সাথে আমার কোনই সম্পর্ক নেই, এবং যুদ্ধাপরাধী বলতে আমি শুধুমাত্র তাদের কথাই বলছি যারা একাত্তরে খুন-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগ-লুটতরাজের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলো, তারা জামাত-বিএনপি-আওয়ামীলীগ যে দলেরই হোক না কেনো। কিন্তু কে শোনে কার কথা!

কিন্তু আশার কথা হলো, এ ব্যাপারে তরুনদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার। তারাই শুধু দেখলাম এককথায় সাইন করে দিল। "কেন করুম না? যারা অপরাধ করছে অবশ্যই তাগো বিচার চাই।" এবারের জাতীয় নির্বাচনে তরুনদের ভোটই নাকি সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। এ কথার সত্যতাই আজ প্রমান পেলাম। বই-পুস্তকে ইতিহাসের এত বিকৃতির পরও তরুনদের দৃষ্টিভঙ্গি এতটা পরিষ্কার হয় কি করে, ভাবতে সত্যিই অবাক লাগে। হতাশা ঠেলে মনে আশা জাগে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যদি তাদের জীবদ্দশায় করা সম্ভব নাও হয়, আর বিশ বছর পরে যখন এই তরুন প্রজন্ম দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে, তখন এদেশের প্রতিটি মানুষের মনে নির্বাচনী জোটের হিসাব-নিকাশকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সমানভাবে যুদ্দাপরাধীদের জন্য থাকবে শুধুই ঘৃণা। তাদের কবরে গিয়ে সবাই থুথু দিয়ে আসবে। হয়ত সেটাই হবে তাদের সবচেয়ে বড় বিচার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28901557 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28901557 2009-01-23 23:09:30
মরুজীবন। ৯। কঠিন-কঠোর পথের আইন
দোহা এয়ারপোর্টের বাইরে এসে যখন রাতের শহর দেখতে দেখতে যাচ্ছি, খুব বেশী পর্থক্য মনে হয়নি ঢাকার সাথে। শুধু মনে হচ্ছিল শহরটা বেশ পরিষ্কার, আর রাস্তাগুলো খুবই চওড়া। কোন জানজট নেই, রিকশা নেই, এমনকি বাসও চোখে পড়ে না। সিগনালগুলোতে কোন পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে হাত উচিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে না গাড়ির চলাচল, তারপরেও কেউ তা অমান্য করে চলে যাচ্ছে না। এর কারনটা অবশ্য জেনেছিলাম পড়ে। আসলে রাস্তা-ঘাটের প্রচণ্ড কঠিন আইন এবং সেটার অক্ষরে অক্ষরে প্রয়োগের কারনেই এই অবস্থা। সেই আইনের কিছু নমুনা দেয়া যাক।

প্রতিটা গাড়ি রাস্তায় নামতে হলে অবশ্যই লাগবে রুট পারমিট। সেটা প্রতি বছর নবায়ন করতে হবে। এটাকে আরবীতে বলে "ইস্তেমারা"। গাড়ীর ইস্তেমারা শেষ হয়ে গেলে সেটাকে নবায়ন করার জন্য সময় দেয়া হয় এক মাস। দেরী হলে প্রতিদিন হিসেবে দিতে হবে জরিমানা। ইস্তেমারা লাগানোর আগে করতে হয় ফিটনেস চেক। সেজন্য একটা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া আছে। তারা খুটিয়ে খুটিয়ে চেক করে গাড়ির বডি থেকে ইঞ্জিন পর্যন্ত সব কিছু। কোথাও বিন্দুমাত্র সমস্যা থাকলে সেগুলো ঠিকঠাক করে আবার চেক করিয়ে নিতে হবে ফিটনেস সার্টিফিকেট। গাড়ির পেইন্টে কোথাও সামান্য ফাটা থাকলেও সেটা "মেজর ফল্ট"। আর ভেতরে সমস্যা হলে তো কথাই নেই। এই কারনে ঢাকার রাস্তার মতো লক্কর-ঝক্কর গাড়ির কোন কমতি দোহার রাস্তায় না থাকলেও সেগুলো সমন্ধে এই নিশ্চয়তা দেয়া যায় যে, গাড়ীর দোষে অন্তত দূর্ঘটনা ঘটবে না। এরপর করাতে হবে গাড়ীর সাধারন-বীমা। তৃতীয় পক্ষের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই এই বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোন দূর্ঘটনা ঘটলে যে গাড়ীর দোষ প্রমানিত হবে, সেই গাড়ীর বীমা কোম্পানী অন্য গাড়ীটি ঠিক করে দেবে। আর বীমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে দোষী গাড়ীর ড্রাইভারকে পকেটের টাকা দিয়ে অন্য গাড়ীটি ঠিক করে দিতে হবে। ফিটনেস রিপোর্ট এবং বীমার সার্টিফিকেট নিয়ে পুলিশ ষ্টেশনে গেলে তবেই হবে ইস্তেমারা।

এই তো গেলো গাড়ীর আইন। এবার আসি ড্রাইভারের কথায়। কেউ সিগনাল অমান্য করে চলে গেলে দিতে হবে ছয় হাজার রিয়েল জরিমানা। আর উল্টা রাস্তায় গাড়ী চালালে পঞ্চাশ হাজার রিয়েল। সীট বেল্ট না বাধলে, বা সামনের সীটে দশ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের বসালে, অথবা রাস্তার সর্বোচ্চ গতিসীমা অতিক্রম করলে জরিমানা পাঁচশ রিয়েল। সমান জরিমানা গাড়ী চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে। তবে মোবাইলের হেড-ফোন ব্যাবহার করলে কোন সমস্যা নেই। পাঁচশ রিয়েল জরিমানাগুলো ছাড়া বাকী সবগুলোর ক্ষেত্রেই রয়েছে জেলের ব্যবস্থাও। কাতারীদের সীটবেল্ট বাধা না থাকলে পুলিশ প্রায় সময়ই তাদের ওয়ার্নিং দিয়ে ছেড়ে দেয়। কিন্তু বিদেশী হলে সাথে সাথেই জরিমানা। এছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে কারো জন্য কোন ছাড় নেই। কোন গাড়ীতে যাত্রী বেশী তুললে দিতে হবে জরিমানা। জরিমানা হবে মালবাহী গাড়ীগুলো অতিরিক্ত লোড করলে। সব ধরনের গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট ওজন ঠিক করা আছে পরিবহনের জন্য। ওভারলোডিং হলেই জরিমানা তিন হাজার রিয়েল। এই একটা আইনের কারনেই এক ধাক্কায় কাতারের নির্মান খরচ বেড়ে গেছে অনেক।

রাস্তার সবচেয়ে মজার আইন হলো সর্বোচ্চ গতিসীমার আইনটি। রাস্তার আইনগুলো কেউ অমান্য করছে কিনা সেটা দেখার জন্য সব গুরুত্বপূর্ন সিগনালে এবং বড় রাস্তার মাঝে বসানো আছে রাডার এবং ক্যামেরা। কেউ গতিসীমা অতিক্রম করলে বা সিগনাল অমান্য করলে রাডার সেটা ডিটেক্ট করবে এবং সাথে সাথে কয়েকটা ছবি তুলে নিবে ক্যামেরা। গাড়ী এবং ড্রাইভার দু'জনেরই ছবি উঠে যাবে মুহূর্তে। ওয়েব সাইট থেকে অথবা এসএমএসের মাধ্যমে যে কেউ চেক করতে পারে তার কোন ট্রাফিক ভায়োলেশন হয়েছে কি না। বাধ্যতামূলকভাবে জরিমানা দিতে হবে ইস্তেমারার সময়। কোন মাফ নেই। অন্যথায় ইস্তেমারা লাগবে না। অনাদায়ে জেল। গতিসীমার আইনটি মজার বললাম এই কারনে যে, প্রায় সবাই এই আইন ভঙ্গ করলেও এতে ধরা খাওয়ার সংখ্যা খুবই নগন্য। দেশটা অত্যন্ত ছোট হওয়ায় কোন রাস্তার মাঝখানে কোন জায়গায় রাডার আছে তা সবার মুখস্ত। তাই সবাই আশির রাস্তায় নিশ্চিন্তে একশ-বিশ গতিতে গাড়ী চালায়। শুধু রাডারের সামনে এসে ভেজা বেড়ালটির মত গাড়ির গতি কমিয়ে সীমার মধ্যে নিয়ে আসে। পার হয়ে গেলে আবার একশ-বিশ! এ কারনে একমাত্র নতুন ড্রাইভাররা ছাড়া আর কেউই এতে তেমন ধরা খায় না। এত কঠিন যেই দেশের আইন, এবং যথাযথ যার প্রয়োগ, সেই দেশে কি দূর্ঘটনা ঘটা সম্ভব?

তারপরেও দূর্ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ দূর্ঘটনা। আর তার কারন আরবদের দূর্দান্ত স্বভাব। এদেশে এডভেঞ্চারের কোন সুযোগই নেই। দেশটার এমনিতেই নেই কোন প্রাকৃতিক বৈচিত্র, তার উপর আছে কঠোর ইসলামী আইন। তাই উঠতি বয়সের আরবদের একমাত্র এডভেঞ্চারের ব্যবস্থা হচ্ছে গাড়ী। সবারই আছে অন্তত একটি ল্যান্ডক্রুজার। সেই গাড়ী এরা চালায় জীবনের কোন তোয়াক্কা না করে যেভাবে খুশি সেভাবে। গোলচক্করে এমনভাবে গাড়ী ঘোরায় যে গাড়ীর দুই চাকা থাকে মাটিতে, বাকী দু'টো আকাশে। কোন সিগনাল না দিয়ে লাইন পরিবর্তন করে এক সূতা সামনে দিয়ে যখন ক্রস করে চলে যায়, গায়ের রক্ত হিম হয়ে আসে। প্রায়ই এমন দূর্ঘটনা ঘটে যে, তিন-চার গাড়ীর প্রায় কিছুই খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই প্রতিদিন ঘরে ফেরার সময় যখন শেষবারের মতো গাড়ী পার্ক করি, মনে মনে বলি, হে আল্লাহ্! তোমার হাজারো শুকরিয়া যে অক্ষত দেহে ঘরে ফিরিয়ে এনেছো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28898817 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28898817 2009-01-18 00:11:18
কুরআনে বর্নিত কাহিনী। ৬। ইব্রাহিমকে (আঃ) অগ্নিতে নিক্ষেপ
আমি তো এর পূর্বে ইব্রাহিমকে (আঃ) সৎপথের জ্ঞান দিয়েছিলাম এবং আমি তার সম্বন্ধে ছিলাম সম্যক অবগত। যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বললো, এই মুর্তিগুলি কি, যাদের পূজায় তোমরা রত রয়েছো? তারা বললো, আমরা আমাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি। সে বললো, তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের পিতৃ-পুরুষরাও রয়েছো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে। তারা বললো, তুমি কি আমাদের নিকট সত্য এনেছো, না তুমি কৌতুক করছো? সে বললো, না, তোমাদের প্রতিপালকতো আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক, যিনি ওগুলি সৃষ্টি করেছেন এবং এই বিষয়ে আমি অন্যতম সাক্ষী। শপথ আল্লাহর, তোমরা চলে গেলে আমি তোমাদের মূর্তিগুলি সম্বন্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা অবলম্বন করবো।

অতঃপর সে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল মূর্তিগুলিকে, তাদের বড় (প্রধান) মূর্তিটি ব্যতীত, যাতে তারা তার দিকে ফিরে আসে। তারা বললো, আমাদের উপাস্যগুলির প্রতি এরূপ করলো কে? সে নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারী। কেউ কেউ বললো, আমরা এক যুবককে ওদের সমালোচনা করতে শুনেছি, তার নাম ইব্রাহিম (আঃ)। তারা বললো, তাকে উপস্থিত কর লোক সম্মুখে, যাতে তারা সাক্ষ্য দিতে পারে।

তারা বললো, হে ইব্রাহিম (আঃ)! তুমিই কি আমাদের উপাস্যগুলির উপর এরূপ করেছো? সে বললো, সে-ইতো এটা করেছে, এইতো এদের প্রধান; এদেরকে জিজ্ঞেস কর যদি এরা কথা বলতে পারে।

তখন তারা মনে মনে চিন্তা করে দেখলো এবং একে অপরকে বলতে লাগলো, তোমরাই তো সীমালংঘনকারী। অতঃপর তাদের মস্তক অবনত হয়ে গেলো এবং তারা বললো, তুমি তো জানই যে, এরা কথা বলে না। সে বললো, তবে কি তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর ইবাদত কর যারা তোমাদের কোন উপকার করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না? ধিক্ তোমাদেরকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত কর তাদেরকে! তবে কি তোমরা বুঝবে না?

তারা বললো, তাকে পুড়িয়ে দাও এবং সাহায্য কর তোমাদের দেবতাগুলিকে যদি তোমরা কিছু করতে চাও। আমি বললাম, হে অগ্নি! তুমি ইব্রাহিমের (আঃ) জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও। তারা তার ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করেছিল; কিন্তু আমি তাদেরকে করে দিলাম সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ।

আর আমি তাকে ও লুতকে (আঃ) উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সেই দেশে (সিরিয়ায়) যেথায় আমি কল্যাণ রেখেছি বিশ্ববাসীর জন্য। এবং আমি ইব্রাহিমকে (আঃ) দান করেছিলাম ইসহাক (আঃ) এবং অতিরিক্ত পৌত্ররূপে ইয়াকুবকে (আঃ); আর আমি প্রত্যেককেই করেছিলাম সৎকর্ম পরায়ণ। আর আমি তাদেরকে করেছিলাম নেতা; তারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথপ্রদর্শন করতো; তাদের কাছে আমি অহি প্রেরণ করেছিলাম সৎকর্ম করতে, নামাজ কায়েম করতে এবং যাকাত প্রদান করতে; তারা আমারই ইবাদত করতো।

সূরাঃ আম্বিয়া
আয়াতঃ ৫১-৭৩]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28890609 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28890609 2008-12-30 22:15:56
কুরআনে বর্নিত কাহিনী। ৫। জাকারিয়া (আঃ) এর সন্তান লাভ
এটা তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের বিবরণ তাঁর দাস জাকারিয়ার (আঃ) প্রতি। যখন সে তার প্রতিপালককে আহ্বান করেছিল নিভৃতে।

সে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার অস্থি দুর্বল হয়েছে, বার্ধ্যক্যে আমার মস্তক শুভ্রোজ্জ্বল হয়েছে; হে আমার প্রতিপালক! আপনাকে আহ্বান করে আমি কখনো ব্যর্থকাম হই নাই। আমি আশংকা করি আমার পর আমার স্বগোত্রীয়দের (দ্বীনকে ধ্বংস করে দিবে) আমার স্ত্রী বন্ধ্যা, সুতরাং আপনি আপনার নিকট হতে আমাকে দান করুন উত্তরাধিকারী। যে আমার উত্তরাধিকারিত্ব করবে এবং উত্তরাধিকারিত্ব পাবে ইয়াকুবের (আঃ) বংশের, এবং হে আমার প্রতিপালক! তাকে করুন সন্তোষভাজন।

তিনি (আল্লাহ্) বললেন, হে যাকারিয়া (আঃ)! আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি। তার নাম হবে ইয়াহইয়া (আঃ); এই নামে আমি পূর্বে কারো নামকরণ করি নাই। সে বললো, হে আমার প্রতিপালক! কেমন করে আমার পুত্র হবে যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা ও আমি বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি! তিনি বললেন, এই রূপই হবে; এটা আমার জন্য সহজ সাধ্য; আমি তো পূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি যখন তুমি কিছুই ছিলে না। যাকারিয়া (আঃ) বললো, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটি নিদর্শন দিন! তিনি বললেন, তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি (সুস্থাবস্থায় থাকা সত্বেও) কারো সাথে ক্রমাগত তিন দিন বাক্যালাপ করবে না। অতঃপর সে কক্ষ হতে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের নিকট আসলো ও ইঙ্গিতে তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে বললো।

আমি বললাম, হে ইয়াহইয়া (আঃ)! এই কিতাব দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করো; আমি তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান। এবং আমার নিকট হতে হৃদয়ের কোমলতা ও পবিত্রতা; সে ছিল মুত্তাকী। পিতা-মাতার অনুগত এবং সে উদ্ধত (স্বেচ্ছাচারী) ও অবাধ্য ছিল না। তার প্রতি ছিল শান্তি যে দিন সে জন্ম লাভ করে, ও শান্তি থাকবে যেদিন তার মৃত্যু হবে ও যেদিন সে জীবিত অবস্থায় পুনরুজ্জীবিত হবে।

সূরাঃ মারইয়াম
আয়াতঃ ২-১৫]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28889927 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28889927 2008-12-29 20:34:21
কুরআনে বর্নিত কাহিনী। ৪। মূসা (আঃ) এবং বানী ইসরাঈল
মূসার (আঃ) এর বৃত্তান্ত তোমার কাছে পৌঁছেছে কি? সে যখন আগুন দেখলো, তখন তার পরিবারবর্গকে বললো, তোমরা এখানে থাকো, আমি আগুন দেখেছি; সম্ভবতঃ আমি তোমাদের জন্যে তা হতে কিছু জ্বলন্ত আঙ্গার আনতে পারবো অথবা ওর নিকট কোন পথ প্রদর্শক পাবো।

অতঃপর সে যখন আগুনের নিকট আসলো তখন আহ্বান করে বলা হলোঃ হে মূসা (আঃ)! আমিই তোমার প্রতিপালক, অতএব তোমার জুতা খুলে ফেল, কারন তুমি পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় রয়েছো। এবং আমি তোমাকে মনোনিত করেছি; অতএব যা ওহী প্রেরণ করা হচ্ছে তুমি তা মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর।

আমিই আল্লাহ্, আমি ছাড়া কোন মা'বুদ নাই; অতএব আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম কর। কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, আমি এটা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফল লাভ করতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতে বিশ্বাস করে না ও নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তাতে বিশ্বাস স্থাপনে নিবৃত্ত না করে, নিবৃত্ত হলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।

(আল্লাহ্ বলেন) হে মূসা (আঃ)! তোমার দক্ষিণ হস্তে ওটা কি? সে বললোঃ এটা আমার লাঠি; আমি এতে ভর দিই এবং এটা দ্বারা আঘাত করে আমি আমার মেষ পালের জন্যে বৃক্ষ পত্র ফেলে থাকি এবং এটা আমার অন্যান্য কাজেও লাগে।

আল্লাহ্ বললেন, হে মূসা (আঃ)! তুমি এটা নিক্ষেপ কর। অতঃপর সে তা নিক্ষেপ করলো, সাথে সাথে তা সাপ হয়ে ছুটতে লাগলো। তিনি বললেন, তুমি একে ধর, ভয় করো না, আমি একে এর পূর্ব রূপে ফিরিয়ে দিবো। এবং তুমি তোমার হাত বগলে রাখো, এটা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অপর এক নিদর্শন স্বরূপ। এটা এই জন্যে যে, আমি তোমাকে দেখাবো আমার মহা নিদর্শনগুলোর কিছু। ফির'আউনের নিকট যাও, সে সীমালংঘন করেছে।

মূসা (আঃ) বললো, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কর্ম সহজ করে দিন। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। আমার জন্য করে দিন একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হতে। আমার ভাই হারুনকে (আঃ)। তার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন। এবং তাকে আমার কর্মে অংশী করুন। যাতে আমরা আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি প্রচুর। এবং আপনাকে স্মরণ করতে পারি অধিক। আপনি তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।

তিনি (আল্লাহ্) বললেন, হে মূসা (আঃ)! তুমি যা চেয়েছো তা তোমাকে দেয়া হলো।

এবং আমি তো তোমার প্রতি আরো একবার অনুগ্রহ করেছিলাম। যখন আমি তোমার মায়ের অন্তরে ইঙ্গিত দ্বারা নির্দেশ দিয়েছিলাম যা ছিল নির্দেশ করবার। এই মর্মে যে, তুমি তাকে সিন্ধুকের মধ্যে রাখো, অতঃপর তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও যাতে দরিয়া ওকে তীরে ঠেলে দেয়, ওকে আমার শত্রু ও তার শত্রু নিয়ে যাবে; আমি আমার নিকট হতে তোমার উপর ভালবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম, যাতে তুমি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হও।

যখন তোমার ভগ্নি এসে বললোঃ আমি কি তোমাদেরকে বলে দিবো কে এই শিশুর ভার নেবে? তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়; এবং তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে; অতঃপর আমি তোমাকে মনোঃপীড়া হতে মুক্তি দিই, আমি তোমাকে বহু পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদীয়ানবাসীদের মধ্যে ছিলে, হে মূসা (আঃ)! এর পরে তুমি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলে।

এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছি। তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনসমূহসহ যাত্রা শুরু কর এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করো না। তোমরা দু'জন ফিরাউনের নিকট যাও, সে তো সীমালংঘন করেছে। তোমরা তার সাথে নম্র কথা বলবে, হয়ত সে উপদেশ গ্রহণ করবে, অথবা ভয় করবে।

তারা বললোঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আশংকা করি যে, সে আমাদেরকে দ্রুত শাস্তি দিতে উদ্যত হবে অথবা অন্যায় আচরণে সীমালংঘন করবে।

তিনি বললেন, তোমরা ভয় করো না, আমি তো তোমাদের সঙ্গে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি। সুতরাং তোমরা তার নিকট যাও এবং বলঃ অবশ্যই আমরা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসুল, সুতরাং আমাদের সাথে বানী ইসরাইলকে যেতে দাও এবং তাদের কষ্ট দিয়ো না, আমরা তো তোমার নিকট এনেছি তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে নিদর্শন এবং শান্তি তাদের প্রতি যারা সৎ পথের অনুসরণ করে। আমাদের প্রতি অহি প্রেরণ করা হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্যে, যে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।

ফিরআউন বললো, হে মূসা (আঃ)! কে তোমাদের প্রতিপালক?

মূসা (আঃ) বললো, আমাদের প্রতিপালক তিনি যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার যোগ্য আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথ নির্দেশ করেছেন।

ফিরআউন বললো, তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কি?

মূসা (আঃ) বললো, এর জ্ঞান আমার প্রতিপালকের নিকট লিপিবদ্ধ আছে; আমার প্রতিপালক ভুল করেন না এবং বিস্মৃতও হন না।

যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে করে দিয়েছেন তোমাদের চলবার পথ, তিনি আকাশ হতে বারি বর্ষণ করেন এবং তা দ্বারা বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করেন। তোমরা আহার কর ও তোমাদের গবাদি পশু চরাও; অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে বিবেক সম্পন্নদের জন্যে। আমি মৃত্তিকা হতে তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিবো এবং তা হতে পুনর্বার বের করবো।

আমি তো তাকে আমার সমস্ত নিদর্শন দেখিয়েছিলাম; কিন্তু সে মিথ্যা আরোপ করেছে ও অমান্য করেছে। সে বললো, হে মূসা (আঃ)! তুমি কি আমাদের নিকট এসেছো তোমার যাদু দ্বারা আমাদেরকে আমাদের দেশ হতে বহিষ্কার করে দেয়ার জন্যে? আমরাও অবশ্যই তোমার নিকট উপস্থিত করবো এর অনুরূপ যাদু, সুতরাং আমাদের ও তোমার মাঝে নির্ধারণ কর এক নির্দিষ্ট সময় ও এক মধ্যবর্তী স্থান, যার ব্যতিক্রম আমরাও করবো না এবং তুমিও করবে না। মূসা (আঃ) বললো, তোমাদের নির্ধারিত সময় উৎসবের দিন এবং যেই দিন পূর্বাহ্ণে জনগণকে সমবেত করা হবে।

অতঃপর ফিরআউন উঠে গেল, এবং পরে তার কৌশলসমূহ একত্রিত করলো এবং তৎপর আসলো।

মূসা (আঃ) তাদেরকে বললো, দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না, করলে তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দ্বারা সমূলে ধ্বংস করবেন; যে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে সেই ব্যর্থ হয়েছে।

তারা নিজেদের মধ্যে নিজেদের কথা সম্বন্ধে বিতর্ক করলো এবং তারা গোপনে পরামর্শ করলো। তারা বললো, এই দু'জন অবশ্যই জাদুকর, তারা চায় তাদের জাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে বহিষ্কৃত করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থার অস্তিত্ব নাশ করতে। অতএব তোমরা তোমাদের যাদু ক্রিয়া সংহত কর, অতঃপর সারিবদ্ধ হয়ে উপস্তিত হও এবং যে আজ জয়ী হবে সেই সফল হবে।

তারা বললো, হে মূসা (আঃ)! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা আমরাই নিক্ষেপ করি। মূসা (আঃ) বললো, বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর; তাদের যাদুর প্রভাবে অকস্মাৎ মূসার (আঃ) মনে হলো যে, তাদের দড়ি ও লাঠিগুলি ছুটাছুটি করছে।

মূসা (আঃ) তার অন্তরে কিছু ভীতি অনুভব করলো। আমি বললাম, ভয় করো না, তুমিই প্রবল। তোমার ডান হাতে যা আছে তা নিক্ষেপ করো, এটা তারা যা করেছে তা গ্রাস করে ফেলবে, তারা যা করেছে তা তো শুধু জাদুকরের কৌশল; যাদুকর যেখানেই আসুক সফল হবে না।

অতঃপর যাদুকররা সিজদাবনত হলো ও বললো, আমরা হারূন (আঃ) ও মূসার (আঃ) প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম।

ফিরআউন বললোঃ কী, আমি তোমাদের অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তোমরা মূসাতে (আঃ) বিশ্বাস স্থাপন করলে! দেখছি সে তো তোমাদের প্রধান, সে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে; সুতরাং আমি তো তোমাদের হস্তপদ বিপরীত দিক হতে কর্তন করবোই, আর তোমরা অবশ্যই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার শাস্তি কঠোরতর ও অধিক স্থায়ী।

তারা বললো, আমাদের নিকট যে স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে তার উপর এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর উপর তোমাকে কিছুতেই আমরা প্রাধান্য দিবো না, সুতরাং তুমি কর যা তুমি করতে চাও, তুমি তো শুধু এই পার্থিব জীবনের উপর কর্তৃত্ব করতে পারো। আমরা আমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান এনেছি যাতে তিনি ক্ষমা করেন আমাদের অপরাধ সমূহ এবং তুমি আমাদেরকে যে যাদু করতে বাধ্য করেছো তা; আর আল্লাহ্ শ্রেষ্ঠ ও স্থায়ী।

যে তার প্রতিপালকের নিকট অপরাধী হয়ে উপস্থিত হবে তার জন্যে তো আছে জাহান্নাম, সেথায় সে মরবেও না, বাঁচবেও না। আর যারা তাঁর নিকট উপস্থিত হবে মু'মিন অবস্থায় সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে আছে উচ্চ মর্যাদা। স্থায়ী জান্নাত যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং এই পুরষ্কার তাদেরই যারা পবিত্র।

আমি অবশ্যই মূসার (আঃ) প্রতি প্রত্যাদেশ করেছিলাম এ মর্মে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রজনীযোগে বহির্গত হও এবং তাদের জন্যে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে এক শুষ্ক পথ নির্মান কর; পশ্চাৎ হতে এসে তোমাকে ধরে ফেলা হবে এই আশংকা করো না এবং ভয়ও করো না। অতঃপর ফিরআউন সৈন্য বাহিনীসহ তাদের পশ্চাদ্ধাবন করলো, অতঃপর সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করলো। আর ফিরআউন তার সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করেছিলো এবং সৎপথ দেখায় নাই।

হে বানী ইসরাঈল! আমি তো তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু হতে উদ্ধার করেছিলাম, আমি তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তূর পর্বতের দক্ষিণ পার্শ্বে এবং তোমাদের নিকট মান্না ও সালাওয়া প্রেরণ করেছিলাম। তোমাদেরকে আমি যা দান করেছি তা হতে ভাল ভাল বস্তু আহার কর এবং এই বিষয়ে সীমালংঘন করো না, করলে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ অবধারিত এবং যার উপর আমার ক্রোধ অবধারিত সে তো ধ্বংস হয়ে যায়। এবং আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে।

হে মূসা (আঃ)! তোমার সম্প্রদায়কে পশ্চাতে ফেলে তোমাকে ত্বরা করতে বাধ্য করলো কিসে? সে বললো, এই তো তারা আমার পশ্চাতে এবং হে আমার প্রতিপালক! আমি ত্বরায় আপনার নিকট আসলাম, আপনি সন্তুষ্ট হবেন এই জন্যে। তিনি বললেন, আমি তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলেছি তোমার চলে আসার পর এবং সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে।

অতঃপর মূসা (আঃ) তার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গেল ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে; সে বললো, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে এক উত্তম প্রতিশ্রুতি দেন নাই? তবে কি প্রতিশ্রুত কাল তোমাদের নিকট সূদীর্ঘ হয়েছে, না তোমরা চেয়েছো তোমাদের প্রতি আপতিত হোক তোমাদের প্রতিপালকের ক্রোধ, যে কারণে তোমরা আমার প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে?

তারা বললো, আমরা তোমার প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করি নাই; তবে আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল লোকের অলংকারের বোঝা এবং আমরা তা অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করি, অনুরূপভাবে সামেরীও নিক্ষেপ করে। অতঃপর সে তাদের জন্যে গড়লো এক গো-বৎস, এক আবয়ব, যা হাম্বা রব করতো; তারা বললো, এটা তোমাদের মা'বুদ এবং মূসার (আঃ) মা'বুদ কিন্তু মূসা (আঃ) ভুলে গেছে।

তবে কি তারা ভেবে দেখে না যে, ওটা তাদের কথায় সাড়া দেয় না এবং তাদের কোন ক্ষতি অথবা উপকার করবার ক্ষমতাও রাখে না?

হারূন (আঃ) তাদেরকে পূর্বেই বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! এটা দ্বারা তো শুধু তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে; তোমাদের প্রতিপালক দয়াময়, সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে চল। তারা বলেছিল, আমাদের নিকট মূসা (আঃ) ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এর পূজা হতে কিছুতেই বিরত হবো না।

মূসা (আঃ) বললো, হে হারূন (আঃ)! তুমি যখন দেখলে যে, তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তখন কিসে তোমাকে নিবৃত্ত করলো আমার অনুসরণ হতে? তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করলে? হারূন (আঃ) বললো, হে আমার সহোদর! আমার দাড়ি ও কেশ ধরে আকর্ষণ করো না; আমি আশংকা করেছিলাম যে, তুমি বলবেঃ তুমি বানী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছো ও আমার বাক্য পালনে যত্নবান হও নাই।

মূসা (আঃ) বললো, হে সামেরী! তোমার ব্যাপার কি? সে বললোঃ আমি দেখেছিলাম যা তারা দেখে নাই; অতঃপর আমি সেই দূতের (জিবরাঈলের) পদচিহ্ন হতে একমুষ্টি (ধূলা) নিয়েছিলাম এবং আমি তা নিক্ষেপ করেছিলাম, আর আমার মন আমার জন্যে শোভন করেছিল এইরূপ করা।

মূসা (আঃ) বললো, দূর হও, তোমার জীবদ্দশায় তোমার জন্যে এটাই রইলো যে, তুমি বলবেঃ আমি অস্পৃশ্য (আমাকে স্পর্শ করবে না) এবং তোমার জন্যে রইলো এক নির্দিষ্ট কাল, তোমার বেলায় যার ব্যতিক্রম হবে না এবং তুমি তোমার সেই মা'বূদের প্রতি লক্ষ্য কর যার পূজায় তুমি রত ছিলে; আমরা ওকে জ্বালিয়ে দিবই, অতঃপর ওকে বিক্ষিপ্ত করে সাগরে নিক্ষেপ করবই। আমাদের মা'বূদ তো শুধুমাত্র আল্লাহই যিনি ছাড়া অন্য কোন (সত্য) মা'বূদ নাই, তাঁর জ্ঞান সর্ববিষয়ে ব্যাপ্ত।

পূর্বে যা ঘটেছে তার সংবাদ আমি এভাবে তোমাদের নিকট বিবৃত করি এবং আমি আমার নিকট হতে তোমাকে দান করেছি উপদেশ। এটা হতে যে বিমুখ হবে সে কেয়ামতের দিনে মহা ভার বহন করবে। তাতে তারা স্থায়ী হবে এবং কিয়ামতের দিন এই বোঝা তাদের জন্যে কত মন্দ!

সূরাঃ ত্বা-হা
আয়াতঃ ৯-১০১]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28889446 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28889446 2008-12-29 00:02:44
কুরআনে বর্নিত কাহিনী। ৩। জ্ঞানী খিজির (আঃ)
স্মরণ কর সে সময়ের কথা, যখন মূসা (আঃ) তার সঙ্গীকে বলেছিলঃ দুই সমুদ্রের মধ্যস্থলি না পৌঁছে আমি থামবো না, আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকবো। তারা যখন উভয়ের সংগম স্থলি পৌঁছলো, তারা নিজেদের মাছের কথা ভুলে গেল; ওটা সুরঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল।

যখন তারা আরো অগ্রসর হলো, মূসা (আঃ) তার সংগীকে বললোঃ আমাদের নাস্তা আন, আমরা তো আমাদের এই সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। সে বললোঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখণ্ডে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? শয়তানই ওর কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল; মাছটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজের পথ করে নেমে গেল সমুদ্রে। মূসা (আঃ) বললো, আমরা তো এই স্থানটির অনুসন্ধান করছিলাম; অতঃপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললো।

অতঃপর তারা সাক্ষাত পেল আমার দাসেদের মধ্যে একজনের, (খিজির)-এর যাকে আমি আমার নিকট হতে অনুগ্রহ দান করেছিলাম ও যাকে আমি আমার নিকট হতে শিক্ষা দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান। মূসা (আঃ) তাকে বললোঃ সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা হতে আমাকে শিক্ষা দিবেন এই শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করবো কি? সে বললো, তুমি কিছুতেই আমার সঙ্গে ধৈর্যধারন করে থাকতে পারবে না। যে বিষয় তোমার জ্ঞানায়ত্ত নয়, সে বিষয়ে তুমি ধৈর্যধারণ করবে কেমন করে? মূসা (আঃ) বললোঃ আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করবো না। সে বললোঃ আচ্ছা, তুমি যদি আমার অনুসরণ কর-ই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করো না, যতক্ষণ না আমি সে সম্বন্ধে তোমাকে কিছু বলি।

অতঃপর তারা যাত্রা শুরু করলো, পরে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করলো তখন সে তাতে ছিদ্র করে দিল। মূসা (আঃ) বললোঃ আপনি কি আরোহীদেরকে নিমজ্জিত করে দেবার জন্যে তাতে ছিদ্র করলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন। সে বললোঃ আমি কি বলি নাই যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না? মূসা (আঃ) বললোঃ আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না ও আমার ব্যাপারে অত্যধীক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না।

অতঃপর তারা চরতে লাগলো। চলতে চলতে তাদের সাথে এক বালকের সাক্ষাত হলে সে তাকে হত্যা করলো; তখন মূসা (আঃ) বললোঃ আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন হত্যার অপরাধ ছাড়াই? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন। সে বললোঃ আমি কি তোমাকে বলি নাই যে, তুমি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্যধারন করতে পারবে না? মূসা (আঃ) বললোঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি, তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না; আপনার কাছে আমার ওজর-আপত্তি চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছে।

অতঃপর উভয়ে চলতে লাগলো। চলতে চলতে তারা এক জনপদের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছে খাদ্য চাইলো; কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করলো; অতঃপর সেখানে তারা এক পতনোন্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলো এবং সে (খিজির) ওটাকে সুদৃঢ় (উত্তোলন) করে দিল; মূসা (আঃ) বললোঃ আপনি তো ইচ্ছে করলে এর জন্যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন। সে বললোঃ এখানেই তোমার ও আমার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হলো; (তবে) যে বিষয়ে তুমি ধৈর্যধারন করতে পার নাই আমি তার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি।

নৌকাটির ব্যাপারে (কথা এই যে,) ওটা ছিল কতিপয় দরিদ্র ব্যাক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করতো; আমি ইচ্ছা করলাম নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে, কারণ ওদের সম্মুখে ছিল এক রাজা যে বল প্রয়োগে নৌকা সকল ছিনিয়ে নিত। আর কিশোরটির পিতা-মাতা ছিল মু'মিন। আমি আশংকা করলাম যে, সে বিদ্রোহাচরণ ও কুফরীর দ্বারা তাদেরকে বিব্রত করবে। অতঃপর আমি চাইলাম যে, তাদের প্রতিপালক যেন তাদেরকে তার পরিবর্তে (এমন) এক সন্তান দান করেন, যে হবে পবিত্রতায় মহত্তর ও ভক্তি ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর।

আর ঐ প্রাচীরটি-ওটা ছিল নগরবাসী দুই পিতৃহীন কিশোরের, এর নিম্নদেশে আছে তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ন। সুতরাং তোমার প্রতিপালক দয়াপরবশ হয়ে ইচ্ছা করলেন যে, তারা বয়প্রাপ্ত হোক এবং তারা তাদের ধনভাণ্ডার উদ্ধার করুক; আমি নিজের থেকে কিছু করি নাই; তুমি যে বিষয়ে ধৈর্য ধারনে অপারগ হয়েছিলে, এটাই তার ব্যাখ্যা।

সূরা - কাহ্ফ
আয়াতঃ ৬০-৮২








সাঈদ ইবনে যুবাইর (রাঃ) বলেনঃ আমি ইবনে ইব্বাসকে বললাম, নওকুল বিক্কালী বলে থাকে খিযিরের সাথে সাক্ষাতকারী মূসা বনী ইসরাইলের মূসা ছিলেন না। এ কথায় ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর শত্রু মিথ্যে কথা বলছে। উবাই ইবনে কা'ব আমাকে (ইবনে আব্বাস) বলেছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ মূসা বনী ইসরাইলের মধ্যে বক্তৃতা করছিলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, মানব জাতীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জানে কে? জবাবে তিনি বললেন, আমি সবচেয়ে বেশি জানি। আল্লাহ্ তাঁর উপর রুষ্ট হলেন। যেহেতু তাঁকে এ জ্ঞান দেয়া হয়নি। আল্লাহ্ তাঁকে অহীর মাধ্যমে বললেনঃ দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলি আমার এক বান্দা অবস্থান করছে, সে তোমার চেয়ে বেশি জানে। মূসা (আঃ) বললেনঃ হে আমার রব! আমি তাঁর কাছে কেমন করে পৌঁছতে পারি? আল্লাহ্ বললেনঃ একটা মাছ সঙ্গে নাও এবং সেটা থলির মধ্যে রাখো (তারপর রওনা হয়ে যাও)। যেখানে সেটাকে হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তাকে পাবে। কাজেই তিনি একটা মাছ নিলেন। সেটা থলিতে রাখলেন, তারপর চলতে লাগলেন।

তাঁর সঙ্গে ইউশা ইবনে নূন নামক এক যুবকও ছিলেন। তাঁরা সমুদ্র কিনারে একটি পাথরের কাছে পৌঁছে গেলেন এবং তার উপর মাথা রেখে দু'জনে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় মাছটি থলির মধ্যে লাফিয়ে উঠলো। থলি থেকে বের হয়ে সেটা সমুদ্রের পানিতে পড়ে গেল। আর যেখান দিয়ে মাছটি চলে গিয়েছিল, আল্লাহ্ সেখানে সমুদ্রের পানির প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং সেখানে একটি নালা বানিয়ে দিয়েছিলেন। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর তাঁর সাথী তাঁকে মাছটির কথা জানাতে ভুলে গেলেন। সেই দিনের অবশিষ্ট সময় ও সেই রাত তাঁরা চললেন। পরের দিন মূসা (আঃ) বললেনঃ "এ সফরে বেশ ক্লান্তি অনুভূত হচ্ছে, এখন আমাদের খাবার আনো। (সূরাঃ কাহাফ-৬২)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আসলে আল্লাহ্ যে স্থানে সাক্ষাতের কথা বলেছিলেন (অর্থাৎ যেখানে মাছটি পানিতে পড়ে গিয়েছিল) সে স্থান ছেড়ে যাবার পর থেকেই মূসা (আঃ) ক্লান্তি অনুভব করছিলেন। তখন তাঁর খাদেম তাঁকে বললেন, "আপনার মনে আছে যে পাথরটার পাশে আমরা বিশ্রাম করেছিলাম, সেখানেই মাছটি অদ্ভূতভাবে সমুদ্রে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু আমি মাছটির কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। আসলে শয়তান আমাকে এ কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। তাই আমি আপনাকে তা জানাতে পারিনি।" (সূরাঃ কাহাফ - ৬৩) রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, মাছটি সমুদ্রে চলে গিয়েছিল তার পথ বানিয়ে। মূসা (আঃ) ও তাঁর খাদেমকে তা অবাক করে দিয়েছিল। মূসা (আঃ) বললেনঃ "এটিই তো আমরা খুঁজছিলাম।" (সূরাঃ কাহাফ-৬৪) কাজেই তাঁরা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করতে করতে সেই জায়গায় এসে পড়লেন।

রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, তারা দু'জন নিজেদের পদরেখা অনুসরণ করতে করতে আগের পাথরটার কাছে ফিরে আসলেন। সেখানে এক ব্যাক্তিকে কাপড় জড়িয়ে বসে থাকতে দেখলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম দিলেন। জবাবে খিজির তাঁকে বললেন, তোমাদের এ দেশে সালামের প্রচলন হলো কেমন করে? মূসা (আঃ) বললেন, আমি মূসা। (খিজির জিজ্ঞেস করলেনঃ) বনী ইসরাইলের (নবী) মূসা? মূসা বললেনঃ হ্যাঁ, আমি বনী ইসরাইলের নবী মূসা। আমি এসেছি এ জন্য যে, আপনি আমাকে সেই জ্ঞানের শিক্ষা দিবেন যা আপনাকে শিখানো হয়েছে। তিনি (খিজির) জবাব দিলেন, তুমি আমার সাথে সবর করতে পারবে না (সূরাঃ কাহ্ফ-৬৭) হে মূসা! আল্লাহ্ তোমাকে জ্ঞান দান করেছেনঃ এমন জ্ঞান, যার (সবটুকুর) সন্ধান তুমি পাওনি। আল্লাহ্ আমাকেও জ্ঞান দান করেছেন, এমন জ্ঞান যার (সবটুকুর) সন্ধান আমিও পাইনি। মূসা (আঃ) বললেন, "ইনশা আল্লাহ্ আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন এবং আমি আপনার কোন হুকুমের বরখেলাফ করবো না।" (সূরাঃ কাহ্ফ-৬৯) খিজির তাঁকে বললেনঃ "যদি তুমি আমার সাথে চলতে চাও তাহলে আমাকে কোন কথা জিজ্ঞেস করো না যতক্ষণ না আমি নিজেই তা তোমাকে জানাই।" (সূরাঃ কাহ্ফ-৭০) কাজেই তারা দু'জন রওনা হয়ে গেলেন।

তাঁরা সমূদ্র কিনার ধরে চলতে লাগলেন। তাঁরা একটি নৌকা দেখতে পেলেন। তাদেরকে নৌকায় করে নিয়ে যাবার ব্যাপারে নৌকার মাঝিদের সাথে আলাপ করলেন। তারা খিজিরকে চিনতে পারল। তাই তাদেরকে বসিয়ে গন্তব্যস্থলি নিয়ে গেলো কিন্তু এর বিনিময়ে কোন পারিশ্রমিক নিল না। যখন তাঁরা দু'জন নৌকায় চড়লেন, খিজির কুড়াল দিয়ে নৌকার একটা তক্তা উড়িয়ে ফেললেন। মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, এরা তো বিনা ভাড়ায় আমাদের বহন করলো। অথচ আপনি এদের নৌকাটির ক্ষতি করলেন। খিজির বললেনঃ আমি কি আগেই তোমাকে বলি নাই যে আমার সাথে চলার ব্যাপারে তুমি কোন ক্ষেত্রে সবর করতে পারবে না? মূসা (আঃ) বললেন, আমি যেটা ভুলে গিয়েছিলাম সেটার ব্যাপারে আমার কাছে কৈফিয়ত তলব করবেন না, আর আমার ব্যাপারে অত্যধীক কড়াকড়ি করবেন না।

রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ মূসা (আঃ) প্রথমবার ভূলে গিয়েই এটা করেছিলেন। এরপর আসলো একটা চড়ুই পাখি। পাখিটা বসলো নৌকার এক কিনারে। ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে এক বিন্দু পানি পান করলো। এ দৃশ্য দেখে খিজির মূসা (আঃ) কে বললেনঃ এই চড়ুইটা সমূদ্র থেকে যতটুকু পানি খসালো, আমার ও তোমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় এতটুকুই। এরপর তাঁরা নৌকা ত্যাগ করে সমুদ্রের তীর ধরে হাঁটতে লাগলেন। পথে খিজির দেখলেন একটি ছোট ছেলে অন্য ছেলেদের সাথে খেলা করছে। তিনি হাত দিয়ে ছেলেটিকে ধরলেন। দেহ থেকে তার মাথাটা আলাদা করে দিলেন। তাকে হত্যা করলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি একটা নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করলেন, অথচ সে কাউকে হত্যা করেনি? আপনি তো একটা অন্যায় কাজ করে ফেলেছেন। তিনি তাঁকে বললেন, আমি কি আগেই বলিনি যে আমার সাথে তুমি ধৈর্য ধরে চলতে পারবে না? মূসা (আঃ) বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোন প্রশ্ন করি তাহলে আপনি আমাকে আর সংঙ্গে রাখবেন না। পরে তাঁরা সামনের দিকে চলতে লাগলেন।

চলতে চলতে তাঁরা একটি জনবসতিতে গিয়ে পৌঁছলেন। সেখানকার লোকদের কাছে খাবার চাইলেন। তারা দু'জনের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করলো। সেখানে তাঁরা একটা দেয়াল দেখতে পেলেন। দেয়ালটি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। খিজির দাঁড়ালেন। নিজের হাতে দেয়ালটি গেঁথে সোজা করে দিলেন। মূসা (আঃ) বললেনঃ এই বসতির লোকদের কাছে আমরা খাবার চাইলাম, তারা আমাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করলো। আপনি চাইলে এ কাজের মজুরী নিতে পারতেন।

খিজির বললেনঃ বাস্, এখান থেকে তোমার ও আমার মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলো। এখন আমি তোমাকে সেই বিষয়গুলোর তাৎপর্য বুঝিয়ে দেব যেগুলোর ব্যাপারে তুমি ধৈর্য ধারন করতে পারনি। সেই নৌকাটির ব্যাপার ছিল এই যে, সেটির মালিক ছিল কয়েকটা গরীব লোক। সাগরে গতর খেটে তারা জীবন ধারন করতো। আমি নৌকাটিকে দাগী করে দিতে চাইলাম। কারণ হচ্ছে, সামনে এমন এক বাদশাহর এলাকা রয়েছে যে প্রত্যেকটা নৌকা জোর করে কেড়ে নেয়। তারপর সেই ছেলেটির কথা। তার বাপ-মা ছিল মুমিন। আইম আশংকা করলাম, ছেলেটি পরবর্তীকালে তার নাফরমানী ও বিদ্রোহাত্মক আচড়নের মাধ্যমে তাদেরকে কষ্ট দেবে। তাই আমি চাইলাম, আল্লাহ্ তার পরিবর্তে তাদেরকে যেন এমন একটি সন্তান দেন, যে চরিত্রের দিক দিয়ে তার চেয়ে ভালো হবে এবং মানবিক স্নেহ ও দয়ার ক্ষেত্রেও তার চেয়ে উন্নত হবে। আর এ দেয়ালটার ব্যাপার এই যে, এটা হচ্ছে দুটো এতিম ছেলের যারা এই শহরে বাস করে। এই দেয়ালের নিচে তাদের জন্য সম্পদ লুকানো রয়েছে। তাদের পিতা ছিলেন নেককার ব্যাক্তি। তাই তোমার রব চাইলেন, ছেলে দু'টি বড় হয়ে তাদের জন্য রাখা সম্পদ লাভ করবে। তোমার রবের মেহেরবানীর কারনে এটা করা হয়েছে। আমি নিজে কিছু করিনি। এই হচ্ছে সেই সব বিষয়ের তাৎপর্য , যে জন্য তুমি ধৈর্য ধারণ করতে পারনি।

রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, ভালো হতো যদি মূসা (আঃ) আরো একটু সবর করতেন। তাহলে আল্লাহ্ তাদের আরো কিছু কথা আমাদের জানাতেন।

বুখারী
হাদিস নং-৪৭২৫ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28888005 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28888005 2008-12-25 23:25:25
কুরআনে বর্নিত কাহিনী। ২। যুলকারনাইন
তারা তোমাকে যুলকারনাইন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে; তুমি বলে দাওঃ আমি তোমাদের নিকট তার বিষয়ে বর্ণনা করবো।

আমি তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায় ও পন্থা নির্দেশ করেছিলাম।

সে এক পথ অবলম্বন করলো। চলতে চলতে যখন সে সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌঁছলো তখন সে সূর্যকে এক পংকিল (কর্দমাক্ত) জলাশয়ে অস্তগমন করতে দেখলো এবং সে তথায় এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলো; আমি বললামঃ হে যুলকারনাইন! তুমি তাদের শাস্তি দিতে পার অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার। সে বললোঃ যে কেউ সীমালংঘন করবে আমি তাকে শাস্তি দিবো, অতঃপর সে তার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে এবং তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দিবেন। তবে যে বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে তার জন্য প্রতিদান স্বরূপ আছে কল্যাণ এবং তার প্রতি ব্যবহারে আমি নম্র কথা বলবো।

আবার সে এক পথ ধরলো। চলতে চলতে যখন সে সূর্যোদয় স্থলে পৌঁছলো তখন সে দেখলো ওটা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্যে সূর্য-তাপ হতে আত্মরক্ষার কোন অন্তরাল আমি সৃষ্টি করি নাই। প্রকৃত ঘটনা এটাই, তার (আসল) বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি।

আবার সে এক পথ ধরলো। চলতে চলতে সে যখন পর্বত প্রাচীরের মধ্যেবর্তী স্থলে পৌঁছলো, তখন তথায় সে এক সম্প্রদায়কে পেলো যারা তার কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। তারা বললোঃ হে যুলকারনাইন! ইয়াজুজ ও মা'জুজ পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করছে; আমরা কি তোমাকে কর দিবো এই শর্তে যে, তুমি আমাদের ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর গড়ে দিবে? সে বললোঃ আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তাই উৎকৃষ্ট; সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দ্বারা সাহায্য কর, আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যস্থলে এক মযবুত প্রাচীর গড়ে দিবো।

তোমরা আমার নিকট লৌহপিণ্ড সমূহ আনয়ন কর; অতঃপর মধ্যবর্তী ফাঁকাস্থান পূর্ণ হয়ে যখন লৌহস্তুপ দুই পর্বতের সমান হলো তখন সে বললোঃ তোমরা হাঁপড়ে দম দিতে থাকো; যখন ওটা অগ্নিবৎ উত্তপ্ত হলো তখন সে বললোঃ তোমরা গলিত তাম্র আনয়ন কর, আমি ওটা ঢেলে দিই ওর উপর। এরপর ইয়াজুজ ও মা'জুজ তা অতিক্রম করতে পারলো না এবং ভেদ করতেও পারলো না। যুলকারনাইন বললোঃ এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ; যখন আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে তখন তিনি ওটাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবেন এবং আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি সত্য।

সুরা কাহ্ফ
আয়াতঃ ৮৩-৯৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28887424 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28887424 2008-12-24 21:03:55
কুরআনে বর্নিত কাহিনী। ১। ইসা (আঃ) এর জন্ম
(হে রাসুল (সাঃ)) বর্ণনা কর এই কিতাবে উল্লেখিত মারইয়ামের কথা, যখন সে তার পরিবারবর্গ হতে পৃথক হয়ে নিরালায় পূর্ব দিকে এক স্থানে আশ্রয় নিলো। অতঃপর তাদের হতে নিজেকে আড়াল করবার জন্যে সে পর্দা করলো; অতঃপর আমি তার নিকট আমার রূহকে (জিবরাঈল (আঃ)) পাঠালাম, সে তার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করলো।

মারইয়াম বললোঃ তুমি যদি আল্লাহকে ভয় কর - তবে আমি তোমা হতে দয়াময়ের আশ্রয় নিচ্ছি। সে বললোঃ আমি তো শুধু তোমার প্রতিপালক প্রেরিত তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করবার জন্য। মারইয়াম বললোঃ কেমন করে আমার পুত্র হবে! যখন আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করে নাই ও আমি ব্যভিচারিণীও নই। সে বললোঃ এই রূপই হবে; তোমার প্রতিপালক বলেছেনঃ এটা আমার জন্য সহজসাধ্য এবং তাকে আমি এই জন্যে সৃষ্টি করবো, যেন সে হয় মানুষের জন্যে এক নিদর্শন ও আমার নিকট হতে এক অনুগ্রহ; এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।

অতঃপর সে গর্ভে সন্তান ধারন করলো ও তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলো। প্রসব বেদনা তাকে এক খেজুর বৃক্ষ তলে আসন নিতে বাধ্য করলো; সে বললোঃ হায়! এর পূর্বে আমি যদি মরে যেতাম ও লোকের স্মৃতি হতে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতাম। ফেরেশতা তার নিম্ন পার্শ্ব হতে আহ্বান করে তাকে বললোঃ তুমি দুঃখ করো না, তোমার পাদদেশে তোমার প্রতিপালক এক নহর সৃষ্টি করেছেন। তুমি তোমার দিকে খেজুর গাছের কাণ্ড নাড়া দাও, ওটা তোমাকে সুপক্ক তাজা খেজুর দান করবে। সুতরাং আহার করো, পান করো ও চক্ষু জুড়িয়ে নাও; মানুষের মধ্যে কাউকেও যদি তুমি দেখো তখন বলোঃ আমি দয়াময়ের উদ্দেশ্যে মৌনতাবলম্বনের মানত করেছি; সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে বাক্যালাপ করবো না।

অতঃপর সে সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হলো; তারা বললোঃ হে মারইয়ম (আঃ) তুমি তো এক অদ্ভূত কাণ্ড করে বসেছো! হে হারুন ভগ্নী, তোমার পিতা অসৎব্যক্তি ছিল না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিণী। অতঃপর মারইয়ম (আঃ) ইঙ্গিতে সন্তানকে দেখালো; তারা বললোঃ যে কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলবো?

শিশুটি বললোঃ আমি তো আল্লাহর দাস; তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন, আমাকে নবী করেছেন। যেখানেই আমি থাকি না কেন, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যত দিন জীবিত থাকি, তত দিন নামাজ ও যাকাত আদায় করতে। আর আমার মাতার প্রতি অনুগত থাকতে এবং তিনি আমাকে করেন নাই উদ্ধত (অহংকারী) ও হতভাগ্য। আমার প্রতি ছিল শান্তি, যেদিন আমি জন্ম লাভ করেছি ও শান্তি থাকবে যেদিন আমার মৃত্যু হবে ও যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবো।

এই মারইয়ম তনয় ঈসা (আঃ); আমি বললাম সত্য কথা, যে বিষয়ে তারা বিতর্ক করে। সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়, তিনি পবিত্র, মহিমাময়; তিনি যখন কিছু স্থির করেন তখন বলেনঃ 'হও' এবং তা হয়ে যায়। আল্লাহই আমার প্রতিপালক এবং তোমাদের প্রতিপালক, সুতরাং তাঁর ইবাদত করো, এটাই সরল পথ।

সুরা মারইয়াম
আয়াত ১৬-৩৬]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28886769 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28886769 2008-12-23 16:49:24
মরুজীবন। ৮। লাল বাহিনীর খপ্পরে
কাতারে বিদেশীদের কাছে লাল পুলিশ হচ্ছে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে অবৈধদের কাছে। রমজানের আগ থেকে এরা খুব জোরে-সোরে অভিযান চালাচ্ছে অবৈধ শ্রমীকদের ধরার জন্য। ভোর বেলায় রাস্তায় বের হয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। শ্রমীক দেখলেই ধরে ধরে আইডি কার্ড দেখছে। না পেলে সোজা হেডকোয়াটার। জেল-ভোগ এবং প্লেনের টিকেট জোগাড় করতে পারলে দেশে ফেরত। মজার বিষয় হলো, এদের কাছে কোন অস্ত্র নাই। কেউ পালানোর চেষ্টা করলে তার পেছনে শুরু হয় দৌড়। ধরতে পারলে সমানে চড়। প্রতিদিন সকালে বাঙ্গালী আর নেপালী গাড়ী ভরে ভরে নিয়ে যাচ্ছে আমার পাশের এলাকা থেকে। যায়গাটার নাম "ন্যাশনাল"। এটা কাতারে বাঙ্গালীদের আখড়া।

কয়েকদিন আগে ভোর বেলায় ন্যাশনালের ভেতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাস-স্ট্যান্ড যাচ্ছি কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। হঠাৎ শুনি পেছন থেকে চিৎকার - "ওকিফ"। ঘুরে দেখি এক নেপালী দৌড়াচ্ছে, পেছনে লাল পুলিশ। রাস্তাটা আমার তিন-চার হাত পেছনে বাঁক নিয়ে আরেক দিকে চলে গেছে। নেপালী সেই দিকে চলে যায় দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে। আর পুশিশ আমার পেছনে এসে দড়াম করে খায় এক আছাড়। উঠে আবার দৌঁড়। আমি সেদিকে না তাকিয়ে হাঁটতে থাকি সোজা। কারন তাকালেও বিপদ। আরেকদিনের ঘটনা। রাস্তার পাশে গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করছি। পাশে অনেকগুলো ছেলে-মেয়ে অপেক্ষা করছে স্কুল-বাসের জন্য। হঠাৎ এক মালবারী দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে রাস্তা ক্রস করে। পেছনে লাল পুলিশ। রাস্তার ওপারে গিয়ে মালবারী ধরা পরে। বেচারার কপাল খারাপ। পেছনে সিগনাল পড়ায় রাস্তাটা ছিল ফাঁকা। ধরেই ইচ্ছে মতো চড়। এরপর ধরে রাস্তার এই পাশে নিয়ে আসে গাড়ীতে উঠানোর জন্য। বাঙ্গালী এক লেবার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনাটা দেখছিল। এসে ওটাকে ধরেই এক চড়। "তুই কি দেখস? আইডি আছে?" নাই বলতেই সোজা গাড়ীতে। সন্ধ্যা বেলায় বাসায় ফিরে পাশের রুমে গিয়ে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি, সে অবৈধ শ্রমীক। তারা এখনো ঘটনা কিছু জানে না।

এই হেন লাল পুলিশের গাড়ী দেখে পাশের রাস্তা দিয়ে চলে যাওয়ার চিন্তাটা বাদ দেয়ার কারন হলো, চলে যেতে দেখলে পালাচ্ছি মনে করে দৌঁড়িয়ে ধরবে, এরপর কিছু জিজ্ঞেস না করেই প্রথমে দিবে মাইর। তাই সোজাই যেতে থাকি। পাশে যেতেই গাড়ীর গ্লাস নামিয়ে এক পুলিশ হাত বের করে শুধু বলে "আইডি কার্ড দাও"। বলি কার্ড বাসায় রেখে এসেছি, মসজিদে যাচ্ছি নামাজ পড়তে। বাসা কাছেই। বলে, ঠিক আছে, গাড়ীতে ওঠ। গাড়ীতে করে বাসায় নিয়ে আসে। এরা সাধারনত কারো বাসায় ঢোকে না। তিনজনে গার্ড দিয়ে আমাকে বাসায় ঢোকায়। রুমে এসে বলে, লাইট জ্বালাও। লাইট জ্বালিয়ে কার্ড বের করে দেখাই। ওয়াকি-টকিতে আইডি নাম্বার হেডকোয়াটারে চেক করে দেখে এই পাসপোর্ট সেখানে জমা আছে কি না। নিশ্চিত হয়ে বলে, ঠিক আছে। রুম মেট শুয়ে ছিল কম্বল মুড়ি দিয়ে। এই ভোর বেলায় লাইট জ্বালাতে দেখে আমাকে কিছু বলার জন্য লাফ দিয়ে উঠে। উল্টা তাকিয়ে পুলিশ দেখে নট-নরন-চরন। উঠে কোন কথা না বলে আইডি কার্ড বের করে। সে পাশের রুমে অবৈধ ইন্টারনেট টেলিফোনের দোকান চালায়। আমার সাথে লাইট নিয়ে একবার বড় ধরনের ঝগড়ার পর বলেছিলাম, পুলিশ খবর দিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিব। এখন ভেবেছে আমি বোধ হয় পুলিশ নিয়ে এসেছি। ভয়ের চোটে একবার নতুন আইডি কার্ড দিয়ে আবার পুরানটা বের করে দিয়ে বলে "এইটা পুরান"। পুলিশ বলে, লাগবে না। এই ব্যবসা ধরতে পারলে ২৫ হাজার রিয়েল জরিমানা, সেই সাথে ব্যাগ-এন্ড-ব্যাগেজ বাড়ী ফেরত। আমি যেতে পারি কি না জিজ্ঞেস করে বের হয়ে চলে আসি।

গেইট দিয়ে যখন বের হচ্ছি, পুলিশরা বের হয়ে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করে, এইখানে কোন অবৈধ লোক থাকে? বলি যে জানি না। গেইটের পাশের রুমে নক করে আইডি চেক করে তারা চলে যায়। পেছনের রুমে একজন অবৈধ শ্রমীক থাকে। বাইরের লাইট না জ্বালানোয় সেই রুমটা দেখে নাই। সেই সাথে ইন্টারনেটের রুমটাও। অল্পের জন্য দু'টো পরিবার রক্ষা পেয়েছে। সন্ধ্যায় যখন বাসায় ফিরি, সবাই আমাকে ঘিরে ধরে। "ভাই, এইটা একটা কাজ করলেন? লাল পুলিশেরে বাড়ী চিনাইলেন? আইডি কার্ড নিয়া বাইর হইবেন না!" বলি, চিন্তা কইরেন না। এইবার থিকা বাথরুমে গেলেও আইডি কার্ড নিয়া যাব, ইনশাল্লাহ্।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28880581 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28880581 2008-12-09 22:08:11
হোস্টেড ব্লগে বাংলা এম্বেডিং - কিভাবে সম্ভব ?
এই সমস্যাটা সমাধানের কোন সহজ উপায় কি কারো জানা আছে? কেউ একটা ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ হোস্ট করলে টেমপ্লেটে সা.ইনের মতো একটা বাংলা এডিটর কিভাবে এম্বেড করা যায়? ডেভেলপাররা কেউ একটু সাহায্য করবেন দয়া করে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28865121 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28865121 2008-11-05 18:42:38
এই রমজানে আমাদের কৃচ্ছতায় অনাহারির মুখে জুটুক এক মুঠো খাবার
দেশে চলছে আকাল। খাবারের দাম আকাশ-ছোঁয়া। নিম্ন-বিত্ত মানুষেরা খাবারের কথা ভুলে গেছে অনেক আগেই। এবার মধ্যবিত্তের পালা। রমজানে বিশেষ ইফতারি দূরের কথা, দুইবেলা খাবার জোটানোই এখন দুস্কর। প্রতিবারের মত এবারও রমজানের আগে নিশ্চয়ই শুরু হয়ে যাবে কালোবাজারীদের ভেলকী। ইফতারের বিশেষ খাবারগুলোর দাম এবার নিশ্চয়ই আকাশ ছাড়িয়ে দৃষ্টিসীমার বাইরেই হারিয়ে যাবে। সেইগুলোর পেছনে না ছুটে আমরা বরং সিয়ামের মূল উদ্দেশ্যের দিকে মনোযোগ দেই।

প্রতিদিনের ইফতারের খরচ বাঁচিয়ে সেই টাকায় একজন অনাহারিকে এক মুঠো চাল কিনে দেই। আমাদের কৃচ্ছতায় একটা পরিবারের মুখে অন্তত এক বেলা আহার জুটুক। সেইটাই হবে সত্যিকারের ইবাদত। অন্যথায় নিষ্প্রয়োজন সারা দিন না খেয়ে থেকে এই কষ্ট করা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28833636 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28833636 2008-08-22 16:44:57
ফিরে আসা ছাগু বিশেষজ্ঞ অচল ব্লগারকে স্বাগতম
সেই আড্ডাখানা সকলের জন্য উন্মুক্ত না হওয়ায় নতুন অচলদের আমদানীর হার ইউরোপের কিছু দেশের জন্মহারের মতই নিম্নমুখী হইতে থাকে। ফলে এইসব বিছিষ্ট লেখকেরা পাঠকের অভাব বোধ করিতে থাকেন। কাকের মাংস কতদিনই বা আর কাকের মুখে রোচে! সুতরাং তাহাদের অতিরিক্ত উৎসাহ কমিতে থাকে। ভালো কিছু লেখা ছাড়া গড়পড়তা পোষ্টের পাঠসংখ্যা স্বাভাবিক ৪০-৮০ তে নামিয়া আসে। অচলেরা আবার এইখানে আসিয়া উকি-ঝুকি মারিতে থাকেন।

কথা-বার্তা ছাড়া হঠাৎ আসিয়া লিখা শুরু করিলে এত বড় বিছিষ্ট ব্লগারের ইজ্জ্বতে লাগে, তাই আরেকবার সাধিলেই খাইবোর মত অবস্থায় বসিয়া থাকিয়া শুধুই বিভিন্ন পোষ্টে কমেন্ট লিখিতে থাকেন। কোন পোষ্ট না লিখাটাই এইবার পরতিবাদ। যেহেতু নিজেদের মহাজ্ঞানী এবং ওভারস্মার্ট ভাবেন, তাই সেই কমেন্টও তাহারা যাহার-তাহার ব্লগে করেন না - নতুনদের ব্লগে তো নয়ই। নিজেদের বিছিষ্টতা তো বজায় রাখিতে হইবে!

সম্প্রতি আমাদের এই রকমের এক ছাগু বিশেষজ্ঞ যিনি নিজেকে ছাড়া আর সকলকেই ছাগু মনে করেন, দীর্ঘদিন বিভিন্ন পোষ্টে কমেন্টাইয়া আর থাকিতে না পারিয়া অবশেষে তাহার ছাগুত্ববাদ সকলকে জানাইতে সচেষ্ট হইয়াছেন। আসুন আমরা এই ছাগু বিশেষজ্ঞকে সা. ইনে স্বাগত জানাই। সেই সাথে অন্য অচলদেরও লজ্জ্বা ভাঙ্গিয়া আবার এইখানে তাহাদের ছাগুত্ববাদসহ অন্য সকল তত্ত্ব জাহির করিয়া সা. ইনের "মানহীন" পাঠকদের ধন্য করিতে এবং সা. ইনকে বহুদূর আগাইয়া লইয়া যাইতে সাহায্য করি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28830910 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28830910 2008-08-14 19:20:04
গুগল হ্যাকিং: দেখুন লাইভ সিকিউরিটি ভিডিও
গুগল ওয়েব সাইটে যান।
সার্চ বক্সে লিখুনঃ inurl:/view.index.shtml
সার্চ দিন।
এইবার যেইসব লিঙ্ক গুগল আপনাকে দিবে সেইগুলো চোখ বন্ধ করে ক্লিক করুন। দেখুন কোন জায়গার সিক্রেট ক্যামেরার ভিডিও পাওয়া যায়।

আর অবশ্যই কি পেলেন সেটা এইখানে জানান। শুভ হ্যাকিং!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28830899 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28830899 2008-08-14 18:57:59
ঘুষখোরদের জন্য ইন্দোনেশিয়ান থেরাপী এবং আমাদের প্রেক্ষাপট
এই থেরাপী অনুসারে সাজাপ্রাপ্ত ঘুষখোরদের জেলখানায় উজ্জ্বল রঙের একটি বিশেষ ইউনিফর্ম পড়ানো হবে, যা জেলের সাধারন কয়েদীদের থেকে তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করবে। পেছনে বড় করে লেখা থাকবে তাদের নাম, মামলার সংখ্যা, এবং সাজার মেয়াদ। ফলে দূর থেকেও সহজেই তাদের সনাক্ত করা যাবে।এই থেরাপীর ফলে সমাজের উঁচু আসনে থাকা এইসব ঘুষখোরদের পাবলিকলি (শব্দটার একটা ভালো বাংলা বলেন তো!) টিজ করার দারুন একটা সুযোগ পাবে। ইন্দোনেশিয়ানরা আশা করছে, চোর-ছ্যাচ্ছরদের দ্বারা এই রকম পাবলিক হ্যারাসমেন্টের (আবারো বাংলা সমস্যা রে ভাই!) ভয়ে ঘুষখোর এবং ঘুষ প্রদানকারীরা (তাদের জন্যও একই চিকিৎসা) হয়ত এবার ঘুষ লেনদেন থেকে বিরত থাকবে।

কেমন হবে এই দারুন ব্যাবস্থাটি আমাদের দেশে প্রয়োগ করা হলে? আসুন কল্পনা করা যাক।

জেলের ভেতরে কমলা রঙের শাড়ী পড়ে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত দুই নেত্রী গালে হাত দিয়ে পাশাপাশি বসে আছে। জামার পেছনে বড় করে লেখা তাদের নাম এবং সাজার মেয়াদ শাড়ীর আঁচল দিয়ে ঢেকে বৃথাই পরিচয় লুকানোর চেষ্টা করছে। শাড়ীর রঙই অন্য কয়েদীদের কাছে তাদের পরিচয় প্রকাশ করে দিচ্ছে। অন্য নারী কয়েদিরা তাদের টিজ করছে - কেউ হয়ত পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে শাড়ীর আঁচল সরিয়ে দিয়ে নাম-ধাম-ইতিহাস প্রকাশ করে দিচ্ছে, মাথার চুল ধরে টান দিচ্ছে, দুষ্টোমি করে মাথায় মৃদু আঘাত করছে। ভাবী আপাকে অভিযোগ করছে, দেখলেন আপা কাজটা কি করলো? এত বড় নেত্রী হয়েও আমাদের কাছে এদের কোন শ্রদ্ধা নাই!

দারুন ব্যাপার হতো নিঃসন্দেহে! কিন্তু আমরা জানি, সেসব কিছুই ঘটবে না। সরকার প্রধান তো দূরের কথা, আমাদের মন্ত্রী-এমপিদেরও কখনো টিজ করে লজ্জ্বা দেয়ার সুযোগ একজন হামদু চোরা পাবে না। যেই অভিযোগেই তাদের আটক করা হোক না কেন, আমাদের আদালত কখনোই তাদের সাজা দিয়ে জেলে আটকে রাখতে পারবে না। বরং সরকার আঁতাত করে তাদের রক্ষা করবে। কোন এক অদৃশ্য আঙ্গুলী হেলনে একে একে সবাইকে জামিন দেয়া হবে। তারা আবার ভোটে দাঁড়াবে এবং জনগন তাদের ভোট দিয়ে সংসদেও পাঠাবে। কিছু মানুষ বসে বসে শুধু আফসোস করবে এই হঠকারীতা দেখে, কিন্তু তাদের আসলে বসে বসে দেখা আর ভাবা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।

তার চেয়ে আসুন বরং আমাদের মনের আদালতে বিচার করে তাদের শাস্তি দেই। কমলা রঙের ইউনিফর্ম পড়িয়ে সাধারন বন্দিদের কাছে প্রতি মুহূর্তে অপমানিত হওয়ার জন্য জেলে পাঠাই। সেখানে তাদের নিয়ে কি ধরনের হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে, তা এখানে লিখি। নিজেদের বিবেকের কাছে অন্তত কৈফিয়ত দেই, যে আমার যতটুকু ক্ষমতা আছে, এদের বিরুদ্ধে আমি তা প্রয়োগ করেছি। আমি নিজেকেও একই দলে নিয়ে যাইনি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28830476 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28830476 2008-08-13 16:57:53
সামরিক যুদ্ধের পাশাপাশি চলছে সাইবার-যুদ্ধ
আইটি সেক্টরে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইস্টোনিয়া গত বছরের এপ্রিল-মে মাসে রাশিয়ার দ্বারা একই রকমের আক্রমনের শিকার হয়। ইস্টোনেশিয়ায় সোভিয়েত আমলে নির্মিত একটি সেনা সৃতিস্তম্ভ রাজধানী থেকে একটি সামরিক এলাকায় স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে ইস্টোনিয়া এবং রাশিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত পর্যায়ে চলে আসে। সারা স্টোনিয়ায় প্রচন্ড বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় রাশিয়ার হ্যাকাররা তাদের অফিসিয়াল এবং বানিজ্যিক সাইটগুলো গনহারে বন্ধ করে দিয়ে প্রচন্ড ক্ষতি সাধন করে। সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে ইস্টোনিয়ায় কঠিন আইন থাকলেও হ্যাকাররা রাশিয়ার ভূক্ষন্ডে অবস্থান করার তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি।

পৃথিবী দিনদিন যতই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে, ততটাই যুকির মুখে পড়ছে সাইবার নিরাপত্তা। ইস্টোনিয়া এই ঝুকি মোকাবেলায় প্রাক্তন সোভিয়েত স্টেটগুলোকে রাশিয়ার আক্রমনের হাত থেকে বাঁচাতে সহযোগীকার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা তাদের উপর আক্রমনের মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতা অন্য দেশগুলোর আইটি বিশেষজ্ঞদের সাথে শেয়ার করছে এই সাইবার যুদ্ধের মোকাবেলায়। এ বছরের শুরুতে ন্যাটো ইস্টোনিয়ার রাজধানীতে একটি সাইবার প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষন কেন্দ্র চালু করেছে। ইস্টোনিয়া কয়েক বছর আগে ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28830154 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28830154 2008-08-12 17:29:56
একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং আওয়ামীলীগের সেনা আতঙ্ক
জরুরী আইনের অধীনে সদ্য সম্পন্ন হওয়া সিটি-কর্পোরেশন এবং পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একক বিজয় প্রমান করে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে। জরুরী আইনের অধীনে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মানুষ ভোট দিয়েছে, যেখানে ভোট প্রদানের হার ছিল প্রায় ৭০%। এই প্রথমবারের মতো কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং অরাজগতা ছাড়া একটি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, এবং বড় দলগুলো তাদের স্বভাবমতো নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ফলাফল বর্জন করার মত সুযোগ পায়নি। নির্বাচনে অসৎ প্রার্থী জয়ী হয়েছে, কিন্তু ৫,০০০ দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকের কেউই নির্বাচনে কোন ধরনের কারচুপি হওয়ার অভিযোগ তোলেনি। সুতরাং বলা যায়, এই নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি সুষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আন্তরিক ইচ্ছাই প্রকাশ পেয়েছে।

তাহলে এই সরকারের অধীনে একই ভাবে জরুরী আইনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হলে, এবং আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে সেনা মোতায়েন করা হলে এবং তাদের হাতে গ্রেফ্তার করার ক্ষমতা থাকলে আওয়ামীলীগের ভয়টা কিসের? জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে অন্য নির্বাচনেই বা তাদের কিসের আপত্তি? তাহলে কি "নির্বাচনে জয়ী হলে সুষ্ঠ নির্বাচন হয়েছে, আর পরাজিত হলে কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বর্জন" - এই হীন নীতির প্রয়োগ করার অক্ষমতাই সেনা সদস্য মোতায়েনের পেছনে আওয়ামীলীগের আপত্তির প্রধান কারন?

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সিলেটের মতো জায়গায়ও কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা না হওয়া কি জরুরী আইনের প্রয়োজনীয়তাই প্রমান করে না? আওয়ামীলীগ কি আসলেই মনে করে, শুধুমাত্র ঘুষখোর পুলিশ প্রসাশনের মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব? নাকি সেনা মোতায়েনের ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, এবং সেখানে হেরে গেলে কারচুপির অভিযোগ করে ফলাফল বর্জন করার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আতঙ্কই তাদের মনে প্রবল?

বড় দলগুলো এই ধরনের হীন মানসিকতা পরিহার করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুস্থ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল সহযোগীতায় এগিয়ে আসবে, এবং নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগনের মতামতকে সম্মান জানিয়ে একটি গনতান্ত্রিক সরকার গঠনে সাহায্য করে নাভিশ্বাস উঠে যাওয়া এই জাতীকে আর পিছিয়ে না দিয়ে সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিবে - এটাই তাদের কাছে আমাদের মতো সাধারন মানুষের প্রত্যাশা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28829401 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28829401 2008-08-10 16:55:43
মরুজীবন-৭: তুমারা বাল গিরতাহে?
এই রকম একটা শব্দ হচ্ছে "বাল"। সেলুনে গিয়েছি চুল কাটাতে। নরসুন্দর যখন এগিয়ে এসে বলে, "বাল কাটায়েগা?", এখনো প্রথমটা ভ্যাবচ্যাগা খেয়ে যাই। প্রশ্নটার আসল মানে যখন মাথায় ঢুকে যে সে আসলে জানতে চাচ্ছে চুল কাটাবো কি না, ততক্ষনে মিনিমাম দুই সেকেন্ড সময় পার হয়ে গেছে। যতবারই সেলুনে ঢুকি, ততবারই এই ধাক্কাটা খেতে হয়।

সেদিন এক পাঠানের সাথে গাড়ীতে যাচ্ছি। সে চালাচ্ছে, আমি চুপ করে পেসেঞ্জার সিটে বসে আছি। হঠাৎ সে জানতে চায়, কেয়া সোচতাহে? এ্যায়সে সোচেগা মে পুরা বাল সফেদ হো যায়েগা। আমি হেসে ফেলি। বলি, ইয়ে জবানা মে হার বাচ্চা সফেদ বাল কো সাথ পয়দা হোতাহে। ম্যায় তো বুড্ডা হোগিয়া। এই জমানায় সব পোলাপান পাকা চুল নিয়ে দুনিয়াতে আসে বলেছি মনে করে সে হেসে ফেলে, যদিও মনে মনে আমি বাল-পাকনা পোলাপানের কথা চিন্তা করেই আসলে হাসতে থাকি।

নতুন এক সাইটে এক কমবয়সী পাঠান সপ্তাহ দুয়েক যাবৎ পকলিন দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছে। সারাদিন শুধু দুইজনে একসাথে সাইটে থাকায় তার সাথে বেশ বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। একদিন দুপুরে একসাথে দু'জনে যাচ্ছি মসজিদের দিকে। হঠাৎ সে বলে, মেরা তুমকো এক বাত পুছনেকা হ্যায়। বললাম, বলো। সে বলে, তুমারা বাল গিরতাহে? হো হো করে হেসে ফেলি। ভাবি, চুল পড়লে পড়তে পারে, বাল পড়ার কথা তো কখনো শুনি নাই! বলি, নেহি গিরতাহে। সে মাথায় হাত দিয়ে দেখায়, বলে, দেখো মেরা কিতনা বাল গিরতাহে। পুরা খালি হো গিয়া। তুম ইসকা কোই দাওয়াই জানতাহে? বলি, এর কোন ওষুধ নাই বোধ হয়। বেশি করে দুধ খাও। কাজ হতে পারে। বিয়ের চিন্তায় বেচারা অস্থির। টাক মাথার বরের ভাগ্য কোন দেশেই ভালো না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28828172 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28828172 2008-08-06 23:06:02
কাপালিক মন্তব্য করার অনুমতি হারাইছে
তার খালি বলার আছিল, ভাই, বহুত দিন বৃষ্টি দেহি নাই। প্রচন্ড রৌদ্রে আর গরমে রোজ পাঁচটা থিকা চাইরটা পর্যন্ত যখন বারবার সে ঘামে ভিজে জবজবা হয় আর শুকায়, তখন নিজের দেশের খোলা রাস্তায় বৃষ্টিতে ভিজতে তার বড্ড ইচ্ছা হয়, কিন্তু সেই উপায় তার নাই। আপনের বৃষ্টির ছবি গুলান বড়ই সৌন্দর্য হইছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28827671 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28827671 2008-08-05 17:04:40
কুয়েত ফেরত বাঙ্গালী শ্রমীকদের যে কারনে আমি সহমর্মীতার বদলে জুতা-পেটা করার পক্ষপাতি
বাংলাদেশী শ্রমীকরা কুয়েতে যেই নজিরবিহীন ভাংচুর এবং অচলাবস্থা সৃষ্টির ঘটনা ঘটিয়েছে, তার পেছনে তাদের কারন ছিল "যথাযথ বেতন এবং ভাতা প্রদানের দাবী" জানানো। এই কাজটা করার জন্য তারা যথাযথ পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিয়েছে ভাংচুরকে। কাজটা করার সময় তাদের মাথায় একবারও আসেনি যে তারা অবস্থান করছে বাংলাদেশে নয়, মধ্যপ্রাচ্যের একটা দেশে, যেখানে অপরাধ এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হয়, যার কারনে পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় খুব উপরের সাড়িতে এদের অবস্থান। এই সব দেশে অপরাধ মূলক কর্মকান্ড ঘটেনা তা নয়। অপরাধ অবশ্যই ঘটে, কিন্তু আমাদের সাথে পার্থক্য হলো, সেখানে ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে সাথে সাথে সেই অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এসব দেশের সরকার তার নাগরীকদের সবচেয়ে বেশী যেই সেক্টরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে সেটা হচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। খুঁজলে বোধ হয় সব ঘরেই একজন করে পুলিশ পাওয়া যাবে। এসব দেশের আইন-কানুন এতই কঠিন যে মানুষ অপরাধ করবে কি, চিন্তা করলেই ভয়ে আধমরা হয়ে যায়। সে আইন আবার আমাদের মত শুধুই খাতা-কলমের না, বাস্তবে তা প্রয়োগও করা হয় ১০০ ভাগ।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ কাতারে কিছু মাইনর অপরাধের শাস্তি কি হতে পারে তার উদাহরন দেই। রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় সিগনাল অমান্য করলে জায়গা অনুযায়ী ৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ রিয়েল পর্যন্ত জরিমানা। গাড়ি চালানোর সময় সীট-বেল্ট না বাধলে ৫০০ রিয়েল জরিমানা। কোন ট্রাক ওভারলোড করে রাস্তায় বের হলে ৩,০০০ রিয়েল জরিমানা। সেই সাথে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ৩ পয়েন্ট মাইনাস। মোট ১৪ পয়েন্ট মাইনাস হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল এবং ড্রাইভার সোজা জেলে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ২৫,০০০ রিয়েল জরিমানা এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরত। ড্রাইভিং টেস্টের সময় চোখের সামনে দেখলাম এক নেপালী খাতায় ভরে পুলিশকে ৫০০ রিয়েল ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করায় তাৎক্ষনিকভাবে গ্রেফতার করে দেশে পাঠিয়ে দিল। এইসব দেশে মেজর কোন অপরাধ করলে তার শাস্তি কি হতে পারে এবার সেটা কল্পনা করেন। কুয়েতে যারা ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা কি ঘটনাটা ঘটানোর আগে সেখানকার আইন-কানুন কিছুই জানতো না বলে মনে হয়? অবশ্যই জানতো, এবং জেনে-শুনেই করেছে। বরং ঘটনাটা ঘটানোর আগে একবার চিন্তাও করেনি এটা তার নিজের পরিবার এবং দেশের প্রতি কি ভয়াবহ পরিনতি বয়ে আনতে পারে। এই চিন্তা না করার পেছনে কারন হচ্ছে বাঙ্গালীর মজ্জাগত স্বভাব।

আসা যাক "যথাযথ বেতন এবং ভাতা" প্রসঙ্গে। বাঙ্গালী শ্রমীকেরা যখন বিদেশে যায়, বিন্দুমাত্রও চিন্তা করেনা কোথায় যাচ্ছে, কেনো যাচ্ছে। সেখানে তার কাজ কি হবে, কত বেতন দেয়া হবে, যে ভিসায় সে যাচ্ছে তা পালন করার মতো যোগ্যতা তার আছে কি না। বেশিরভাগ শ্রমীক নিরুপায় হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যায় এ কথা সত্যি। কিন্তু তাই বলে তো পেটে ভাত নেই বলে আগুনে ঝাপ দিলে কোন লাভ নেই, বরং আগুনে পুড়ে যাবে। এরা যখন বিদেশে যাওয়ার দেয়ার কথা চিন্তা করে, মনে মনে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে যে কোন স্বপ্নপুরীতে যাচ্ছে, সেখানে গেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। একবার পৌঁছাতে পারলে শুধু টাকা আর টাকা। দুনিয়ার সব সুখ এই টাকায় কিনে ফেলা যাবে। কিন্তু আসার পরে যখন আগুনের তাপটা গায়ে লাগে, তখন বাস্তবতা বুঝতে পারে। কিন্তু ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে অনেক।

এই আসাটা কিভাবে হয় দেখা যাক। কোন একটা কোম্পানীর হয়ত কিছু দক্ষ শ্রমীক দরকার, যেমন মেসন বা কার্পেন্টার। তারা যখন সরকারের কাছে শ্রমীক নেয়ার আবেদন জানায়, তখন সরকার তাদের পলিসি অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমীক নেয়ার অনুমতি (ভিসা) দেয়, যেমন নেপাল থেকে ২ জন, শ্রীলঙ্কা থেকে ১ জন, বাংলাদেশ থেকে ২ জন ইত্যাদি। এই পেপারগুলো কোম্পানীর লোকজন তখন সংশ্লিষ্ট দেশের পরিচিতি কাউকে দিয়ে দেয় শ্রমীক এনে দেয়ার জন্য। বিশেষ করে ছোট কোম্পানীগুলো ট্রাভেল এজেন্সীর ঝামেলা এড়াতে এই ধরনের কাজ বেশী করে। কোম্পানীর মধ্যবর্তী কেউ হয়ত কিছু পয়সার বিনিময়ে কোন দালালকে ভিসাগুলো দিয়ে দেয়। এই দালালেরা তখন নিজের আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতজনদের মোটা অঙ্কের পয়সার বিনিময়ে এইসব ভিসায় বিদেশে আসার সুযোগ করে দেয়। এক্ষেত্রে ভিসা অনুযায়ী কাজের যোগ্যতার কোন বিচার করা হয় না, বরং বিচার করা হয় টাকার পরিমানের।

এইভাবে কোন কিছু না জেনে যখন ইন্টারমিডিয়েট-পাস-করে-বেকার-হয়ে-ঘরে-বসে-থাকা একজন মোবারক ১২০০ রিয়েল বেতনের আশ্বাস পেয়ে কার্পেন্টার হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে চলে আসে, তখনই ঘটে বিপত্তি। কোম্পানী দেখে, তার সদ্য আসা স্কিলড কার্পেন্টার আসলে হাতুড়ি কিভাবে ধরতে হয় সেটাই ভালো ভাবে জানে না, সাটারিং করা দূরে থাক। তখন আবার নতুন লোক আনার ঝামেলা এড়াতে, কিছুটা বা মানবতার খাতিরে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে তাদের কাজে রাখা হয় অদক্ষ শ্রমীক হিসেবে। ১২০০ রিয়েলের জায়গায় সঙ্গত কারনেই তার বেতন ধার্য্য করা হয় ৬০০ রিয়েল, সাথে কাজ শিখলে বেতন বাড়ার আশ্বাস। স্বাভাবিকভাবেই এটা মোবারকের কাছে "ন্যায্য বেতন দেয়ার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ"। এই মোবারকেরা বিদেশে এসে কি ধরনের আচার-আচরন এবং জীবন যাপন করে পুরো বাঙ্গালী জাতীর মুখে কলঙ্ক লেপন করে সেটা অন্য এক সময় বলা যাবে। এরাই কিছুদিন পর আইনের নিষেধের কোন তোয়াক্কা না করে যখন লুকিয়ে বাইরে কাজ করা আরম্ভ করে এবং দেখে যে বাইরে কাজ করলে কোম্পানীর চেয়ে ৩ গুন পয়সা পাওয়া যায়, তখনই এরা কোম্পানী থেকে পালিয়ে অবৈধ শ্রমীকের খাতায় নাম লেখায়। আর যদি না-ও পালায়, প্রতিক্ষন "ন্যায্য বেতন" না পাওয়ার রাগে ফুসতে থাকে। একসময় এরাই "বহুত কামাইছি, কি করবো? বেশী হইলে বাইত পাডায়া দিব" মনোভাব নিয়ে অতি উৎসাহে ভাংচুর করতে ঝাপিয়ে পড়ে।

এরা একবারও চিন্তা করে না এই ভাংচুরের ফলে সরকার তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি না করে বরং গন হারে সব বাঙ্গালী শ্রমীক দেশে ফেরত পাঠাবে এবং নতুন শ্রমীক নেয়া বন্ধ করে দেবে। এটা শুধু কুয়েতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং সমগ্র গালফেই ঘটবে। এরা যদি ভাংচুর করার আগে একবারও চিন্তা করতো যে তারা যা করছে তার পরিনাম শুধু সে একাই ভোগ করবে না, সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যাক্তিটির উপার্জন বন্ধ হওয়ায় অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে তার পুরো পরিবার, এবং শুধুই তার নিজের পরিবারই না, বিদেশে অবস্থানকারী প্রতিটি বাঙ্গালী শ্রমীকের পরিবার, নতুন করে যাদের বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল যা এবার বন্ধ হচ্ছে তাদের পরিবার, তাহলে কোনভাবেই তারা পারতো না এই সহিংস পথ অবলম্বন করতে। বরং তারা সমস্যার কথা সেদেশে তার দেশের রাষ্ট্রদূতকে জানাতো, কাজ না হলে বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাও করতো, অহিংস পদ্ধতিতে আমৃত্যু অনশন করতো, কিন্তু নিজের দেশ এবং পরিবারকে এইভাবে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতো না।

অর্থনৈকিভাবে চরমতম পঙ্গু একটি দেশের লাখ লাখ পরিবারকে যারা শুধুমাত্র নিজেদের উশৃঙ্খল স্বভাবের কারনে চরমতম হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাদের প্রতি এই কারনেই সহমর্মীতার কোন প্রশ্নই আমার মনে উদয় হয় না, বরং এদের দেখা মাত্রই দুই গালে চপেটাঘাতই এদের ন্যায্য পাওনা বলে মনে হয়।

--------------------------------------------------------------------
আমার ইংরেজি ব্লগ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28827005 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28827005 2008-08-03 18:36:54
আসুন সা. ইনে গালিবাজ ব্লগারদের প্রতিহত করি
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যখন অন্য ব্লগারটা এই সব অখাদ্য পোষ্ট পড়ে ভদ্র ভাবে যুক্তি প্রদর্শন করে এদের ভুলটা ধরিয়ে দেয়, এরা তখন রাগে অন্ধ হয়ে যুক্তির বদলে যুক্তি প্রদর্শন না করে অত্যন্ত কুৎসিৎ ভাষায় গালি প্রদর্শন করে। এতই নোংড়া এবং কুৎসিৎ এদের গালাগালি যা বস্তির মানুষেরাও মুখ দিয়ে বের করতে লজ্জ্বা পাবে। কিন্তু এইসব গালাগালি টাইপ করে ব্লগারদের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিতে এদের বিন্দুমাত্রও লজ্জ্বা হয় না। কোন পরিবেশ থেকে উঠে এসে এরা এখানে ব্লগিং করতে এসেছে, সেটা তখন প্রকাশ হয়ে পড়ে।

এই সব কুৎসিৎ কমেন্ট বেশির ভাগ সমই অন্য ব্লগারদের চোখে পড়ে না। তাই এদের কুৎসিৎ রূপটা জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য প্রয়োজন পড়ে প্রথম পাতায় পোষ্ট দিয়ে সবাইকে জানানোর। কিন্তু এইখানেই আপত্তি সা. ইন কর্তৃপক্ষের। তাদের ব্লগে তারা অন্য ব্লগারদের যতই গালাগালি করুক, সেটাতে কোন সমস্যা নেই। সেটা তার ব্লগারিক অধিকার। গালি আপনাকে সে দিতেই পারে। কিন্তু তাই বলে আপনি প্রথম পাতায় পোষ্ট দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেবেন? সেটা কখনোই সহ্য করা হবে না। নৈব নৈব চ! কারন সেটা হয়ে যাবে "ব্যাক্তি আক্রমন"। কেউ তার ব্লগে সমষ্ঠি আক্রমন করলে সেটা জায়েজ, কিন্তু আপনার "ব্যাক্তি আক্রমন" কখনোই নয়। এটা করলে আপনার কপালে জুটবে সা. ইনে ব্যান খাওয়ার হুমকী সম্বলিত নোটিশ।

ব্লগে কারো পোষ্ট দেয়ার অর্থ হচ্ছে সবাইকে সেই লেখা পড়ার আহ্বান জানানো। সুতরাং সেই লেখা মানুষ পড়বে এবং মতামত জানাবে সেটাই কাম্য। কিন্তু সেই কমেন্টে মতের অমিল হলে যদি যুক্তির বদলে গালি প্রদর্শন করা হয়, তাহলে আমরাও কি পাল্টা গালি প্রদর্শন করে তার জবাব দেব? রাস্তার কুত্তার কামড় খেয়ে সেই কুত্তাকে উল্টা কামড় দেয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে? আমার মনে হয় না। তাহলে এক্ষেত্রে ব্লগারদের করনীয় কি?

যেহেতু এদের বাবা-মা এদের ভদ্রতা শিক্ষা দেয়নি, এবং পাবনা মেন্টাল হসপিটালেও এত পাগলের জায়গার সঙ্কুলান করা আমাদের মতো গরীব দেশের সরকারের পক্ষে সম্ভব না, সেহেতু এদের শিক্ষা দেয়া ব্যবস্থা নেয়া ব্লগারদেরই পবিত্র দায়িত্ব বলে আমার মনে হয়। কিভাবে এদের সেই শিক্ষা দেয়া যায়? এব্যাপারে আপনার পরামর্শ কি?


আমার মতামতঃ

# এই সব গালিবাজদের প্রতিহত করার জন্য একটা টিম গঠন করা হোক। টিমের নাম আপনারা ঠিক করেন।

# এই টিমের কি কি কাজ হতে পারে? সর্বপ্রথম কাজ হলো "বিয়োগ চিহ্ন" প্রদান। এই সব পোষ্টে যত বেশী মাইনাস রেটিং প্রয়োগ করা যায়, এই সা. ইনের জন্য ততই মঙ্গল।

# যেহেতু এদের গালি শুনলে বমি পায়, সেহেতু আসুন কুন্ঠিত না হয়ে সেইখানে উদারভাবে বমি করি। যত বেশি পেট সেইখানে খালি করা যায় ততই মঙ্গল। বমিই হোক এই টিমের সিম্বল।

বমি কিভাবে করবেন? কমেন্ট [img |http://www.tinyloader.com/smily/small/প.gif] কোডটি লিখুন। "প" এর জায়গায় লেখুন ১৩১। ব্যাস! বমির এনিমেটেড স্মাইলী চলে আসবে। img এর পরে একটা স্পেস আছে, সেটা রিমুভ করতে হবে। (এইখানে যত খুশি বমি করা প্রাকটিস করে নিতে পারেন, কোন অসুবিধা নাই!)

আর কি পদক্ষেপ নেয়া যায় আপনারাই ঠিক করুন। আসুন এই সব কুরুচীপূর্ণ ব্লগারদের সা. ইনে প্রতিরোধ করি এবং ব্লগে সুস্থ একটা পরিবেশ বজায় রাখি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28826670 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28826670 2008-08-02 22:20:32
সা. ইনে রুচিশীল কমেন্টের নমুনা Click This Link

এই পোষ্টে কিছু রুচিশীল কমেন্টের নমুনা আছে। দেখুন এবং ধন্য হউন। এরাই সা. ইনের গর্ব। কিন্তু এদের পরিচয়টা প্রকাশ করতে পোষ্ট দিলে সা. ইন থেকে ব্যান!

সুতরাং সাধু সাবধান!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28826304 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28826304 2008-08-01 17:55:35
মরুজীবন-৬: ফ্রি স্টাইল ফিলিপিনো
এদের জীবনযাত্রা ইউরোপীয় ধাঁচের - ফ্রি স্টাইলের। ধর্ম খ্রিষ্টান। ছেলে-মেয়ে দুই-ই এখানে সমানভাবে উপস্থিত। এদের ইনকামের রেঞ্জটা মোটামুটি ৩-৪ হাজার রিয়েলের মধ্যে। ভারতীয় উপমহাদেশের লোকজন যেখানে ২-৪ 'শ রিয়েল সিট ভাড়া দিয়ে পুরনো আমলের ভাঙা একতলা বাড়ীতে কোন মতে গাদাগাদি করে থাকে, সেখানে এরা কয়েকজন মিলে আস্ত একটা দুপ্লেক্স ভিলা ভাড়া নিয়ে নেয়। অনেক সময় একই ফ্ল্যাটে ছেলে-মেয়ে সব একসাথে থাকে। যা আয় করে তা এদেশেই শেষ। ভবিষ্যতের চিন্তা তেমন একটা নেই। চাকরী জোগাড় করা এদের জন্য কোন ঘটনাই না, এদেশে না হলে অন্য কোন দেশে। ভদ্র এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় সবাই এদের পছন্দ করে। সারা পৃথিবীতেই এরা এখন সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

এরা যে কখন সঙ্গী বদল করে তার কোন ঠিক নেই। পরস্পরের উপর বিশ্বাস এদের একদম কম। আমার এক ফিলিপিনো বন্ধু, নাম এলপিডিও, বয়স ৩৮, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার - এখনো সে বিয়েই করেনি। কবে করবে তারও কোন ঠিক নেই। বেচারা তার সর্বশেষ গার্লফ্রেন্ড নিয়ে খুবই হতাশ। সে একদিন গার্লফ্রেন্ডকে ফোন করে জানতে পারে সে বাসায়ই আছে। অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাসায় ফেরার সময় দেখে আরেক ছেলের সাথে এক রেস্টুরেন্ট থেকে বের হচ্ছে। সুতরাং ঝগড়া এবং সম্পর্কচ্ছেদ। বিরক্ত হয়ে নারীসঙ্গই ছেড়ে দিয়েছে। এখন সে Gay।

পোষ্টের সব ছবি এখানে
কাতার সমন্ধে আরো পোষ্ট এখানে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28820653 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28820653 2008-07-15 20:58:24
আমার নতুন ব্লগ এবং ওয়ার্ডপ্রেসের ধাক্কা
প্রথম যখন গুগলের এনালাইটিক সার্ভিসটা দেখি, ভাবলাম এটা আমার ব্লগে যোগ করতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেসে গিয়ে দেখি, এই ধরনের কোন কাস্টমাইজেশনই সেখানে সম্ভব না! বিল্ট-ইন যেসব ফিচার দেয়া আছে তা ছাড়া থার্ড পার্টি কোন সুবিধাই যোগ করা সম্ভব না। তারপরেও ওয়ার্ডপ্রেসই ব্যবহার করি এর চমৎকার ফিচারগুলোর জন্য।

কয়েকদিন আগে একটা পোস্ট দেখি - মিলিয়ন ডলার ব্লগিং। ব্লগ লিখে নাকি মিলিয়ন ডলার আয় করা যায়! পোষ্টটা পড়ে ভাবলাম দেখা যাক একটা চেষ্টা করে। মিলিয়ন ডলার না হয় বাদ দিলাম, কিছু ফুটা পয়সা ইনকাম করা গেলেও মন্দ কি? নতুন একটা ব্লগ খোলার চিন্তা করে ওয়ার্ডপ্রেসে গিয়ে ফের ধাক্কা। এরা পয়সা কামানোর কোন ধান্দাই সহ্য করে না!

অগত্যা সরনাপন্ন হতে হলো ব্লগারের। এখানে বিস্তর স্বাধীনতা। যা খুশি করো কোন অসুবিধা নাই। কিন্তু সমস্যা হলো, বিল্টইন ফিচার বলতে কিছুই নাই। এমনকি ব্লগে কেউ আজোবধি এসে উকি দিল কিনা, সেটাও জানার কোন বুদ্ধি নাই। যা কিছু দরকার, টেম্পলেট কাস্টমাইজ করো। ভরসা হলো, অগনিত সাইট আছে শুধু ব্লগারের ব্লগারদের সাহায্য করার জন্য।

অনেক কষ্টের পর নতুন ব্লগ গেইনিং আইডিয়াস এর মোটামুটি গ্রেড ভিম দাড়া করাইছি। সাবজেক্ট হইলো অনলাইনে কেমনে পয়সা কামান যায়। দেখা যাক, এই বার আমার নিজের পয়সা কামানোর কি হয়! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28817857 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28817857 2008-07-07 21:56:23
সামহোয়ারইনে সংকলিত পোষ্ট হওয়ার যোগ্যতা কি ?
এই পাতার মডারেটরই বা কারা? তাদের যোগ্যতাটাও জানা দরকার।

পোষ্টটির ছবি দিলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28813587 http://www.somewhereinblog.net/blog/ukiblog/28813587 2008-06-25 17:19:24