জেনেটিক কোডের রিপ্রোগ্রামিং
১৭ ই জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৪:১৬
মানুষ হিসেবে আমাদের মন আজ 2006 এ এসে আধুনিক যুগে বাস করলেও আমাদের শরীরের বায়োলজি এখনও প্রস্তর যুগে পড়ে আছে। আমাদের কোষগুলো বা তাদের জেনেটিক কোডের কোন ধারনাই নেই যে আমরা এখন আর জঙ্গলে শিকার করে বা ফলমুল সংগ্রহ করে বেড়াই না, বরং আমাদের অনেকের সারাদিন কাটে চেয়ারে বসে কম্পিউটার কিবোর্ডে টাইপ করে। এই অসামঞ্জস্যতার একটা ফলাফল হচ্ছে মুটিয়ে যাওয়া, আমাদের শরীরের fat cell গুলোর ইনসুলিন রিসেপ্টর জিন প্রত্যেক ক্যালোরিকে সঞ্চয় করার চেষ্টা করে অথচ এই সহজ সত্যটা ওরা বুঝতে পারছে না যে চর্বি জমিয়ে উপকারের চেয়ে ক্ষতি অনেক বেশী হচ্ছে। আদিম যুগের মতো খাদ্যাভাবে পড়ার কোন সম্ভাবনা নেই সুতরাং জমানো ফ্যাটের সত্যিকার ব্যবহার আসলে দুরাশা। এরকম আরো কিছু সমস্যা আছে প্রকৃতি যাদের সুবিধাজনক সমাধান খুজে পায় নি, যেমন বুড়িয়ে যাওয়া বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (হার্ট বা লিভার ইত্যাদি) অকেজো হয়ে গেলে প্রাকৃতিক ভাবে প্রতিস্থাপন করা।
গত 2/3 বছরে বেশ কিছু সফল গবেষনার পর মনে হচ্ছে বায়োলজি একটা ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সামনে চলে এসেছে, জীববিদ্যা অচিরেই ইনফরমেশন সায়েন্সের একটা অংশ হয়ে বসবে। জেনেটিক্স নিয়ে আগে কয়েকটি লেখা দিয়েছিলাম যেখানে জেনেটিক কোড, জিন নিয়ে কিছু আলোচনা ছিল 1, 2), যাহোক সংক্ষেপে লিখলে ব্যাপারটা দাড়াচ্ছে এমন যে, মুটিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে বুড়ো হওয়া, বংশগত রোগ, ক্যান্সার, এমনকি ভাইরাসের আক্রমন এগুলোর অনেকগুলোর পেছনে দায়ী আমাদের জেনেটিক কোড, যা আমাদের 23000 জিনে লেখা আছে। জিন গুলোকে ধরা যেতে পারে এক একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম হিসেবে। আমাদের শরীরের সমস্ত কাজকর্ম নিয়ন্ত্রন করছে এই সফটওয়্যারগুলো, খাবার হজম করা থেকে শুরু করে সন্তান জন্ম দেয়া পর্যন্ত সবই। সমস্যা হচ্ছে বাসায় আমাদের কম্পিউটারের সফটওয়্যারগুলো আমরা কিছুদিন পরপর আপগ্রেড করলেও শরীরের এই সফটওয়্যারগুলো হাজার হাজার বছরেও তেমন বদলানো হয় নি।
তবে এখন বিজ্ঞান অবশেষে জিন আপডেট করার সক্ষমতা অর্জন করেছে, আগামী কয়েক বছরেই সাধারনের জন্য এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের সম্ভাবনা খুব উজ্জ্বল। এর মুলে আছে RNA interference মেকনিজম, যা স্পেসিফিক জিনকে বদলাতে পারে। যেমন উপরে উল্লেখিত ইনসুলিন রিসেপ্টর জিনকে বন্ধ করে দেয়া তাতে মুটিয়ে যাওয়া বন্ধ করা যাবে। Joslin Diabetes Center-এ ইদুরের ওপর গবেষনা করে দেখা গেছে জিন পরিবর্তনের পর প্রচুর খেয়েও ইদুরগুলো মোটা হয়ে যায় নি, এবং তাদের আয়ু প্রায় 20% বেড়ে গেছে। এই প্রযুক্তির আরেকটা দরকারী প্রয়োগ হচ্ছে therapeutic cloning বা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে নতুন করে জন্মানো। আমাদের বয়স যত বাড়তে থাকে অঙ্গগুলোতে তত বেশী জেনেটিক ভুল জমতে থাকে, ফলাফল হিসেবে এদের কাজেকর্মেও ভুল শুরু হয়, আমরাও বুড়িয়ে যেতে থাকি। এখানে যেটা করা যেতে পারে তা হলো, একটু বয়স হয়ে যাবার পর জেনেটিক কোডগুলোকে ভুল শুধরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে renew করে নেয়া। এমনকি আমাদের মস্তিষ্ককেও রিপ্রোগ্রাম করা সম্ভব, বড় কম্পানীগুলো যেমন IBM বেশ পরিমান বিনিয়োগ করেছে এসব গবেষনায়।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের প্রাকৃতিক কোডকে বদলানোর ( reprogram) চেষ্টা করা যেতে পারে, যেমন ক্যান্সার প্রতিরোধি কোড যোগ করতে পারি, অথবা বিশেষ ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুবিধাজনক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। ইনফরমেশন টেকনোলোজির অংশ হওয়ায় একটা সুবিধা হচ্ছে ক্লিনিকাল ট্রায়ালে যাবার আগে কম্পিউটারে পুরো প্রক্রিয়া সিমুলেট করে দেখা যেতে পারে। তবে তথ্য প্রযুক্তির আরো কিছু সুবিধা ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে, যেমন 1990-এ ডি এন এ-র প্রতি base pair সিকোয়েন্স করতে খরচ হতো 10 ডলার, এখন তা নেমে এসেছে এক সেন্টেরও কমে, এই খরচ যে আরও কমে যাবে বলা বাহুল্য।
উনবিংশ শতাব্দির শুরুতে ইউরোপে গড় আয়ু ছিল চল্লিশের নীচে, আরা এখন উন্নত বিশ্বে 80র কাছাকাছি, আমার ধারনা organ renew করা যখন সম্ভব হবে তখন এক লাফে মানুষের আয়ু (এবং তারুন্য) অনেক বেড়ে যাবে। সবার জন্য সহজলভ্য হতে হয়তো আরো 20 বছর লাগবে, ততদিন পর্যন্ত কষ্টে সৃষ্টে হলেও বেচে থাকার চেষ্টা করা উচিত।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অতিথি বলেছেন:
আমার ব্যপারটা খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছিল।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
উৎস,বরাবরের মতই- দারুন বিষয় নিয়ে আপনার দারুন পোষ্ট।
ভাবছি, প্রকৃতি সব প্রাণীকেই সময়ের সাথে আপগ্রেড করে, বেঁচে থাকার প্রয়োজনে এবং পরিবেশের দাবীতে। বিবর্তনবাদ অন্তত সেরকমই ধারণা দেয়। তাহলে মানুষের এই ব্যাপারগুলো আপগ্রেড হলো না কেন? নাকি সব প্রাণীদেরই এই ব্যাপারগুলো পরিবর্তিত হয় নি?
উৎস বলেছেন:
স্বরহীন, না আমি এই বিষয়ে কাজ করি না ... তবে কখনো করব না তা বলা যায় না। জেনেটিক কোড, কম্পিউটারের কোডের মতোই তথ্য নিয়ে কাজ করে, একটা পার্থক্য হচ্ছে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সিলিকন ভিত্তিক ট্রানজিস্টর, আর জিন এর ক্ষেত্রে কার্বন, নাইট্রোজেন ভিত্তিক এমিনো এসিড এবং প্রোটিন। থিওরেটিকালী এমন জেনেটিক মেশিন বানানো যেতে পারে যা যোগ-বিয়োগ, গুন ভাগ করতে পারে ইত্যাদি।
কনফুসিয়াস,
একটা গুরুত্বপুর্ন প্রশ্ন করেছেন। প্রকৃতি লক্ষ্যহীনভাবে কাজ করছে, তবে প্রকৃতির সারভাইভাল অফ ফিটেস্ট রুলের কারনে প্রতি জেনারেশনে যেসব পরিবর্তন ঘটে তার মধ্যে যে গুলো সেরা সেগুলো টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশী, সে অর্থে একধরনের আপগ্রেড প্রকৃতি অবশ্যই করছে, সমস্যা হচ্ছে
- যেহেতু প্রকৃতি উদ্দ্যেশ্যবিহীন ভাবে র্যান্ডম পরিবর্তন করছে, মানুষের জন্য সে সব পরিবর্তন কা িঙ্খত বা ভীষন প্রয়োজনীয় নাও হতে পারে।
- প্রকৃতির এই পরিবর্তনের গতি খুবই ধীর। যেমন স্ট্যাটিস্টিকালী কালো থেকে সাদা চামড়ার জিনের উদ্ভব ঘটতে অন্তত 20 হাজার বছর সময় লাগতে পারে।
-প্রকৃতি কোন প্রজাতির কোন এক সদস্যে হয়তো দরকারী একটা পরিবর্তন আনলো, কিন্তু ঐ সময় জীবিত বাকী সদস্যরা তো সেটা পাবে না। যেমন, পৃথিবীতে অনেকেই আছে যাদের এইডস প্রতিরোধী জিন আছে, কিন্তু সবার নেই, বিবর্তনের দৃষ্টিকোন থেকে কয়েকজনের থাকাই প্রজাতির টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট, কারন এখন যদি এইডস প্যানডেমিক হয়ও মানুষ্য প্রজাতি বিলুপ্ত হবে না, ধরা যাক 90% মানুষ মারা গেল, এটা প্রকৃতির কাছে গ্রহনযোগ্য হলেও মানবিক দিক থেকে কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না।
-প্রকৃতি চায় যে আমরা বুড়িয়ে মরে যাই, নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা খালি করে, অন্যদিকে সচেতন মানুষ হিসেবে আমরা কখনোই মরতে চাইনা, একটা উদাহরন দিলাম, এরকম আরো অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে প্রকৃতি এবং মানুষের স্বার্থ পরষ্পর বিরোধী।
এসব কারনে এখন যেহেতু সুযোগ এসেছে আমরা নিজেদের বিবর্তনের দ্্বায়িত্ব আস্তে আস্তেনিজেরাই নেব, যাতে যখন খুশী যেমন দরকার তেমন আপগ্রেড করা যায়।
অতিথি বলেছেন:
আপনার লেখা সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই ।আমি শুরু থেকেই আপনার ফ্যান ।কিন্তু আমাদের মৃতু্য প্রকৃতিতে যে ব্যালেনস সৃষ্টি করে তাতে কি জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাঘাত ঘটাবে ?
উৎস বলেছেন:
সুমন,মানুষের হাতে এ মুহুর্তে যে প্রযুক্তি আছে তাতে পৃথিবীতে 15 বিলিয়ন লোকের খাওয়া পড়ার ব্যবস্থা অনায়াসে করা যায়, আমরা এখন মাত্র 6 বিলিয়ন ... তো আমরা যদি আপাতত মরা বন্ধ করে দেই তাহলে খুব সমস্যা হবে না, তবে অতি সত্তর অন্য গ্রহে কলোনাইজেশনের রাস্তা খুজতে হবে 15 বিলিয়ন হওয়ার আগেই। বাস্তবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বুড়িয়ে যাওয়া ধীর গতির করে দেবে, ঠিক বন্ধ করতে পারবে কি না বোঝা যাচ্ছে না।
তবে অন্য রাস্তা খোলা আছে, লিংকটা খুজে পেলাম না, MIT র সম্ভবত রোবোটিক্স ল্যাবের অধ্যাপক ভবিষ্যত বানী করেছেন 2020 বা 2025 সালের মধ্যে আমরা আমাদের ব্রেইনকে কম্পিউটারে পুরোপুরি ডাউনলোড করতে পারব, সচেতনতা সহ, এটা যদি সত্যি হয় তাহলে তো আর বায়োলজিকাল শরীরের দরকার হচ্ছে না। আমার জীবদ্দশায় ঘটলে আমি আমার বায়োলজিকাল শরীরটাকে আরক রসে ডুবিয়ে রাখব (এত বছরের সার্ভিসের জন্য ধন্যবাদ হিসেবে), তারপর সাইবার ওয়ার্লডে আশা করি আজীবন বেচে থাকতে পারব ... একটু ফিকশন আর কি।
উৎস বলেছেন:
স্বরহীন, না আমি এই বিষয়ে কাজ করি না ... তবে কখনো করব না তা বলা যায় না। জেনেটিক কোড, কম্পিউটারের কোডের মতোই তথ্য নিয়ে কাজ করে, একটা পার্থক্য হচ্ছে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সিলিকন ভিত্তিক ট্রানজিস্টর, আর জিন এর ক্ষেত্রে কার্বন, নাইট্রোজেন ভিত্তিক এমিনো এসিড এবং প্রোটিন। থিওরেটিকালী এমন জেনেটিক মেশিন বানানো যেতে পারে যা যোগ-বিয়োগ, গুন ভাগ করতে পারে ইত্যাদি।
কনফুসিয়াস,
একটা গুরুত্বপুর্ন প্রশ্ন করেছেন। প্রকৃতি লক্ষ্যহীনভাবে কাজ করছে, তবে প্রকৃতির সারভাইভাল অফ ফিটেস্ট রুলের কারনে প্রতি জেনারেশনে যেসব পরিবর্তন ঘটে তার মধ্যে যে গুলো সেরা সেগুলো টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশী, সে অর্থে একধরনের আপগ্রেড প্রকৃতি অবশ্যই করছে, সমস্যা হচ্ছে
- যেহেতু প্রকৃতি উদ্দ্যেশ্যবিহীন ভাবে র্যান্ডম পরিবর্তন করছে, মানুষের জন্য সে সব পরিবর্তন কা িঙ্খত বা ভীষন প্রয়োজনীয় নাও হতে পারে।
- প্রকৃতির এই পরিবর্তনের গতি খুবই ধীর। যেমন স্ট্যাটিস্টিকালী কালো থেকে সাদা চামড়ার জিনের উদ্ভব ঘটতে অন্তত 20 হাজার বছর সময় লাগতে পারে।
-প্রকৃতি কোন প্রজাতির কোন এক সদস্যে হয়তো দরকারী একটা পরিবর্তন আনলো, কিন্তু ঐ সময় জীবিত বাকী সদস্যরা তো সেটা পাবে না। যেমন, পৃথিবীতে অনেকেই আছে যাদের এইডস প্রতিরোধী জিন আছে, কিন্তু সবার নেই, বিবর্তনের দৃষ্টিকোন থেকে কয়েকজনের থাকাই প্রজাতির টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট, কারন এখন যদি এইডস প্যানডেমিক হয়ও মানুষ্য প্রজাতি বিলুপ্ত হবে না, ধরা যাক 90% মানুষ মারা গেল, এটা প্রকৃতির কাছে গ্রহনযোগ্য হলেও মানবিক দিক থেকে কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না।
-প্রকৃতি চায় যে আমরা বুড়িয়ে মরে যাই, নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা খালি করে, অন্যদিকে সচেতন মানুষ হিসেবে আমরা কখনোই মরতে চাইনা, একটা উদাহরন দিলাম, এরকম আরো অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে প্রকৃতি এবং মানুষের স্বার্থ পরষ্পর বিরোধী।
এসব কারনে এখন যেহেতু সুযোগ এসেছে আমরা নিজেদের বিবর্তনের দ্্বায়িত্ব আস্তে আস্তেনিজেরাই নেব, যাতে যখন খুশী যেমন দরকার তেমন আপগ্রেড করা যায়।
অতিথি বলেছেন:
সব রকমের রোগ -জরা দূর করা কি সম্ভব হবে কখনও ? কারণ রোগ তো নতুন নতুন নাম নিয়ে আসছে প্রতিদিন ।
উৎস বলেছেন:
কনফুসিয়াস,মিউটেশন সবসময়ই র্যান্ডম, প্রকৃতির কোন উদ্দ্যেশ্য নেই গন্তব্যও নেই। আমাদের শরীরে প্রতিটা কোষ বিভাজনেই আমাদের কোন না কোন জিনের পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা আছে। র্যান্ডম পরিবর্তন সবসময়ই হচ্ছে, কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ (যেমন ক্যান্সার), বেশীর ভাগই গুরুত্বহীন।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
উৎস,প্রকৃতি র্যান্ডমলি অথবা উদ্দেশ্যহীনভাবে পরিবর্তন করছে- এই জায়গায় একটু খটকা লাগছে। প্রয়োজন না থাকলেও কি পরিবর্তন করা হয়?
বরং এই কথাটা মনে ধরেছে, প্রকৃতি চায় যে আমরা বুড়িয়ে যাই, এবং মরে যাই।
তবে আপনার শেষের কথাটায় একটু ভয় পেলাম। মানুষের হাতে যদি সব রকম রোগ-জরা জয় করবার ক্ষমতা চলে আসে, তাহলে তার প্রথম সুবিধাভোগী দল হবে যারা এখন বিশ্বের ক্ষমতাবান। ভবিষ্যতে যারা পৃথিবী শাসন করবে তারা যে বুশ ব্লেয়ার শ্যারন বা সাদ্দামের চেয়ে চরিত্রবান হবেন তার নিশ্চয়তা নেই। এই ধরনের মানুষেরা আরো বেশি সময় ধরে পৃথিবী শাসন করবে ভাবতেই ভয় লাগছে।
সাইন্স ফিকশান হয়ে গেলো বোধহয়- কিন্তু আশংকা অমূলক নয়!
লাল মিয়া বলেছেন:
আরে ঐটা তো ক্ষণস্থায়ী । আইফেল টাওয়ার রুকুতে যাইবোগা আবার । আমি কই যৌবন দীঘর্ায়িত করার কথা ....
লাল মিয়া বলেছেন:
আচ্ছা 64 বছরের বৃদ্ধকে 24 বছরের যুবার ন্যায় বলশালী করার কি কোন বৈজ্ঞানিক তড়িকা আছে ?
অতিথি বলেছেন:
ইনডিউসড পরিবর্তনের হার বেড়েছে আমার জীবনযাত্রার মান পরিবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে- এর কোনটা কখন কাজে লাগবে বলা যায় না। চিরযৌবনের লোভ,আরোগ্যের চেষ্টা এসব থাকলেও আমার খটকা লাগে যেটা তা হলো, শরীরের কোষের বিভাজন থেমে যায় 135 কিংবা 140 বারের পর, এর পর শরীরের কোষ নতুন ভাবে বিভাজিত হয় না, যেকোনো একটা কোষের জেনেটিক পরিবর্তন কিভাবে বাকী কোষগুলোর জীনকে প্রভাবিত করবে?
উৎস বলেছেন:
রাসেল, কেবলমাত্র একটি কোষকে পরিবর্তন না করে, RNAi বা এরকম প্রসেসগুলো মিলিয়ন কোষকে পরিবর্তন করে।
উৎস বলেছেন:
ধন্যবাদ লালমিয়া, রাসেল, সুমন, কনফুসিয়াস, আস্তমেয়ে, স্বরহীন।
হিমু বলেছেন:
খাড়ন ওস্তাদ! আপনার আর মুখার জ্বালায় কিছু কইতে পারি না। মাগার আইজকা আমি কমু, আমার নাম হিমু, লেচকার এখন দিমু!কনফুসিয়াসের প্রশ্নের খেই ধরে বলি। এক বা একাধিক সিলেকশন প্রেশারে জীবজগতে বিবর্তন ঘটে, প্রথমে আচরণগত পরিবর্তন, এবং পরবর্তীতে জেনেটিক পর্যায়ে সে পরিবর্তনের ছাপ পড়ায়। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেই সিলেকশন প্রেশার যদি নিজেও থেমে যায়, বিবর্তনের রথ কিন্তু গড়গড়িয়ে কোন একদিকে চলতে থাকতে পারে। একটা খুব মজার উদাহরণ হচ্ছে সিকাডা ফড়িং। এদের দুটো প্রজাতি আছে, একটা 13 বছর পর পর, আর একটা 17বছর পর পর মাটির গর্ত ছেড়ে বেরোয়, একদম দিনক্ষণ মিলিয়ে। কেন এই বিদঘুটে অভ্যাস? বিজ্ঞানী দু'জনের নাম এই মূহুর্তে মনে পড়ছে না, তাঁরা একটা সমাধান দিয়েছেন এমন, সম্ভবত কোন এক অধুনালুপ্ত পর্যায়ক্রমিক খাদক, যারা একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর সিকাডাদের শিকারে হাজির হতো, তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্যেই সিকাডা ফড়িং এ ধরনের আচরণকে একেবারে জিনে স্ট্যাম্প মেরে নিয়েছে। সেই খাদকের হাত থেকে বাঁচার জন্যেই তারা একটু আগু পিছু করে একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর মাটির নিচ থেকে বেরোয়। শুধু তাই না, সিকাডারা বেরোয় মৌলিক সংখ্যক বছর পর পর! কারণ যৌগিক সংখ্যক বছর পর পর বেরোলে দ্্বিতীয় বা তৃতীয় বা কোন এক বার সেই খাদকদের টাইমিঙের সাথে সিকাডাদের টাইমিং মিলে যাবে, পরিণতি খুব একটা সুবিধার নয়। এখন সিকাডাদের সেরকম কোন খাদক নেই, কিন্তু জিনে গেঁথে যাওয়া তথ্যভিত্তিক অভ্যাস সিকাডারা ছাড়তে পারেনি। মানুষের ব্যাপারটাও তাই। আমাদের ভেতরে এখনও অনেক পুরনো সিলেকশন প্রেশারের ছাপ খুঁজে পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রোটিন বিশ্লেষণে।
অতিথি বলেছেন:
অনেক কিছু শিখলাম।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















অসাধারন লিখা।
এই কোড গুলোর ইনপুট কি হবে?