ভারত প্রসঙ্গে
০৫ ই মে, ২০০৭ রাত ১০:৫৮
বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভারত আসলে একটা ইন্টারেস্টিং ইস্যু৷ দেশের একটা বড় জনগোষ্ঠি, অনুমান করি হয়তো অর্ধেকের চেয়ে বেশী, ভারতকে বন্ধুভাবাপন্ন দেশের চেয়ে বরং সন্দেহজনক প্রতিবেশী হিসেবে দেখে থাকে৷ না আমি জামাত পন্থি ৩/৪% লোকের কথা বলছি না, তাদের ক্যালকুলেশন আলাদা৷ গত কয়েকদিন ব্লগে বেশ কয়েকজন ব্লগার ভারতের ব্যাপারটা সামনে আনতে চাচ্ছেন, তা আনাই উচিত৷ গত এক বছরে ব্লগের একটা গুনগত পরিবর্তন হয়েছে৷ বলতে গেলে অনেক বড় পরিবর্তন, যারা আমার মতো গত বছর এই ব্লগে ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ব্লগটা ছিল পুরোপুরো জামাত শিবিরদের আখড়া৷ এদেরকে ঠিক কারা খবর দিয়েছে জানি না, তবে এরা শুরু থেকেই আছে, আবার সবাই সবার সাথে লিংক্ড৷ মানে সবাই এক নেটওয়ার্কের, ওদের জালের বাইরের জামাতি কম৷ তো পরিবর্তনটা হচ্ছে জামাতি আস্ফালন আর নেই বললেই চলে, ওরা স্থায়ীভাবে সাইডলাইন্ড হয়েছে, যেমনটা হওয়ার কথা৷ এটা সম্ভব হতো না, যদি না আমরা সমস্যাটা সরাসরি মোকাবেলা না করতাম৷
ভারতের প্রসঙ্গটাও এরকম খোলামেলা আলোচনা করা উচিত৷ কারন এখানে ইনফরমেশনের সহজলভ্যতা এবং স্বচ্ছতার জন্য রাজনৈতিক কুট কৌশল বেশ কঠিন৷ যেটা সত্য সেটা লুকিয়ে ধানাই পানাই করে পার পাওয়া অসম্ভব৷ তবে ভারতের ইস্যুটা বেশ জটিল, কারন ভারতের সব কাজকর্ম একজন বাংলাদেশীর কাছে বন্ধুসুলভ বলে মেনে নেয়া কঠিন৷ মুক্তিযুদ্ধের ইস্যুর মতো সাদাকালোতে ভাগ করা যায় না৷ যেমন ফারাক্কা বা হালের টিপাই বাধ সন্দেহ নাই বাংলাদেশের জন্য হুমকি, এবং একদম কিছু না করলে সেটাও ভুল হবে৷
তবে কি করা উচিত সে আলোচনার আগে, ভারত বিরোধিতা নিয়ে কিছু গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করা যেতে পারে৷ যেমন ভারত যদি একটা মুসলিম প্রধান দেশ হতো তাহলেও কি ভারতের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম থাকতো? মনে হয় না৷ আবার যদি এমন হতো ভারত মুসলিম দেশ কিন্তু আমরা হিন্দুপ্রধান দেশ হতাম, তাহলে? ভারত বিরোধিতার সুত্রপাত পাকিস্তান আমলে, ভারতের জন্য যতটা না ভারত বিরোধিতা তার চেয়ে বেশী বিরোধিতা ভারত হিন্দু প্রধান দেশ বলে৷ এখনকার পাকিস্তান নিয়ে একটা মন্তব্য দেখেছিলাম (সম্ভবত টাইম ম্যাগাজিনে) নানা জাতি উপজাতিতে বিভক্ত সমস্যাসঙ্কুল পাকিস্তানের একমাত্র ইউনিফায়িং উপাদান হচ্ছে ভারত বিরোধিতা অথবা হিন্দু বিরোধিতা৷ হতেও পারে৷ এটা ঐ দেশের এবং আমাদের দেশের রাজনীতিতে একটা ভীষন গুরুত্বপুর্ন উপাদান, কারন এদুদেশের মানুষ আসলেই ভারতকে অপছন্দ করে৷ এর পেছনে কারনও আছে, ৪৭ এ স্বাধীন হওয়ার আগে বেশ রক্তারক্তি হয়েছিল, তখন যে একটা তিক্ততা তৈরী হয়েছিল সেটা কখনই কাটেনি, আবার সাময়িক পলিটিকাল গেইনের জন্য রাজনৈতিক/সামাজিক নেতারাও তিক্ততা/বিতৃষ্ঞা ধরে রাখতে চেয়েছেন৷ ভারতেও মুসলিম বিরোধিতা কাজে দেয়, বিজেপির এই মুলধন এতই কাজে দেয় যে, গত কয়েকবছর ধরে ওরা ক্রমাগত প্রচার চালাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে মুসলিম অনুপ্রবেশ নিয়ে৷ পশ্চিম বঙ্গের চেয়েও এই প্রচারগুলো বেশী চলে মহারাস্ট্র, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে৷ ভোটের রাজনীতিতে কংগ্রেস বা বামপন্থিদের ঘায়েল করার জন্য এটা একটা দরকারী ইস্যু হিন্দু জাতিয়তাবাদী দলগুলোর, ঠিক যেমন ভারত ইস্যু জামাত-বিএনপি (আগে মুসলিম লীগ) কাজে লাগায়৷
রাজানীতিবিদরা ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করবেন এজন্য তাদের দোষ দেই না, কারন এটা তাদের পেশা৷ কিন্তু জনগনের জন্য সমস্যাগুলোর সমাধান কিভাবে সম্ভব? যেমন ফারাক্কা ইস্যু নিয়ে আমরা যদি ভীষন আন্দোলন লংমার্চ করি, তাতে ওরা ফারাক্কা বাধ ভেঙ্গে ফেলবে? ওদের দেশে যে বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশ নিয়ে এত তুলকালাম কান্ড হচ্ছে, প্রায়ই পত্রিকার শিরোনামে আসছে, সেই খবর আমরা কয়জন পাই৷ সত্যিকার অর্থে এটা যে একটা ইস্যু হওয়ার যোগ্যতা রাখতে পারে, আমি দেশের বাইরে না আসলে বিশ্বাস করতাম না৷ কারন এমনিতে হাস্যকর একটা ব্যপার যে বাংলাদেশ থেকে লাখে লাখে মুসলিম ভারতে অনুপ্রবেশ করছে, যেটা ওদের দাবী, বাংলাদেশ থেকে লোকে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়শিয়া যায় কামলা দিতে, তাই বলে কাতারে কাতারে ভারতে যাচ্ছে, এমন রিপোর্ট কোনদিন বাংলাদেশী পত্রিকায়ও দেখিনি৷ অথচ আমার পরিচিত অনেক দক্ষিন ভারতীয়রা এটাকে সত্য বলেই বিশ্বাস করে৷ সুতরাং মিডিয়াতে ভারত বিরোধি আস্ফালন করলেই যদি সমাধান হয়ে যেত তাহলে পরিস্থিতি এতদুর গড়াতো না৷
সমাধান কিভাবে করা যেতে পারে? ধরা যাক ত্রিপুরা একটা স্বাধীন দেশ আর আমাদের সিলেট জেলা থেকে কয়েকটা নদী ত্রিপুরাতে গিয়েছে৷ আমরা সিলেটে বাধ দিয়ে ওদের বারোটা বাজিয়ে দিলাম৷ তো এখন কি করলে ত্রিপুরাবাসি এই সমস্যার থেকে মুক্তি পেতে পারে?
- প্রথমে বলে রাখি আমাদের বাধের জন্য ত্রিপুরায় যে এত সমস্যা হচ্ছে এটা আমাদের জানার সম্ভাবনা বেশ কম৷ কোন রাজনৈতিক দল এটা জানানোর দ্বায়িত্ব নেবে না ভোট হারানোর ভয়ে৷ যেমন বাস্তবে কাপ্তাই বাধ দিয়ে যে আমরা চাকমাদের অসংখ্য জমি জমা, চাকমা রাজার প্রাসাদ, আরও অন্যান্য পুরাকীর্তি ধ্বংস করেছি এটা আমরা কয়জনে জানি? আমি জানতাম না, কারো মুখে কখনও শুনিও নাই৷ এইজন্য বাংলাদেশের মুলভুখন্ডের কেউ সরব প্রতিবাদ করেছে বা এখন করছে তাও কানে আসে নি৷ দেশের ভেতরেই যদি এই অবস্থা হয়, অন্য দেশে হলে কি হতে পারে বলাই বাহুল্য৷
- এখন ত্রিপুরায় এই নিয়ে যদি আন্দোলন, মিডিয়াতে বাংলাদেশ ব্যাশিং হয় তাতে আমাদের সহানুভুতি বাড়বে?
- পাল্টা আন্দোলন আমাদের দেশেও চলতে পারে৷ এবং পাল্টা-পাল্টির এই খেলায় সমাধানের সম্ভাবনা কম৷
যেটা করা যেতে পারে তা হলো অন্যদেশটাতে জনমত তৈরী করা৷ যেমন ফারাক্কা, টিপাই, বিএসএফ এসব সমস্যাগুলো ভারতের জনগনের কাছে আমাদের দৃষ্টিকোন থেকে প্রকাশ করা৷ ওখানকার সাধারন মানুষ, বুদ্ধিজীবি এবং রাজনৈতিক মহলে এগুলোর গুরুত্ব নিয়ে জনমত তৈরী করা৷ বেশীরভাগ ভারতীয় এমনকি পশ্চিম বঙ্গের লোকজন জানেই না যে ফারাক্কার প্রভাবে বাংলাদেশে কি রকম পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে৷ আমরা অনেকে হয়তো জানি না কলকাতার বুদ্ধিজীবি সমাজ সচরাচর বাংলাদেশের পক্ষে থাকে৷ সেই একাত্তর থেকে শুরু৷ অল্প কিছু বিজেপির লোকজন ছাড়া বেশীরভাগকে বাংলাদেশের পাশে পাওয়ার কথা৷ কিন্তু আমরা কি কখনও নদী সমস্যার ভয়াবহতা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করেছি? বুদ্ধিজীবি, রাজনৈতিক নেতাদেরকে বাংলাদেশে ডেকে এনে সরেজমিনে দেখিয়ে দেয়া যায় রাজশাহী, পাবনা বা কুষ্টিয়া এলাকায় কিভাবে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে৷ ভারতীয় মিডিয়াতে এই নিয়ে কলাম লেখা যেতে পারে৷ ভারতে গিয়ে ডকুমেন্টারি দেখানো যেতে পারে, সংবাদ সম্মেলন করে জনসাধারনকে জানানোর চেষ্টা করা যেতে পারে৷ মোদ্দা কথা হচ্ছে বাধ-ফাদে যে আমাদের ভীষন সমস্যা হচ্ছে এটা ঐ দেশের আমজনতাকে জানানো দরকার, বাংলাদেশের সমস্যাটার গুরুত্ব বুঝিয়ে সিম্প্যাথি তৈরী করা দরকার৷
ঘরে বসে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে বোকামি করার মানে হয় না৷ তাও যদি ভারতের সাথে যুদ্ধ করে পোষাতো৷ একটা চড় মারতে গেলে দুটো লাথি খেয়ে আসার সম্ভাবনা আছে৷ দুদেশের শুধু রাজনৈতিক নেতা নয় বরং জনসাধারনের মধ্যে বোঝাপড়া দরকার৷ একটা সুবিধা হচ্ছে ভারত গনতান্ত্রিক দেশ, রাজনীতিবিদরা যতই কৌশলি হোক ওখানে, বাংলাদেশের পক্ষে সেন্টিমেন্ট তৈরী করতে পারলে সমস্যার সমাধান না করে উপায় নেই৷ দুঃখজনক হচ্ছে সেই চেষ্টাটা না করে আমরা ঢিল ছোড়া ছুড়ির পন্থাটা নিতে চাই৷
অবশ্য ভারতের সাথে সমস্যাগুলো না থাকলে বিএনপি জামাতের একটু অসুবিধা হবে৷ এজন্য গত ৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও তারা না ফারাক্কা না টিপাই নিয়ে কোন আলোচনা করেছে৷ আওয়ামী লীগ আমলে একবার সাময়িক কিছু সমাধান পাওয়া গিয়েছিল, তাও পরে আওয়ামী লীগের আগ্রহের অভাবে বা ইচ্ছা করেই হয়তো পুরোটা সমাধান হয় নি৷ তবে যেটা লক্ষ্যনীয় তা হলো, একবার যতটুকু সমাধান পেয়েছিলাম সেটাও আলোচনার মাধ্যমে ঘরে বসে লংমার্চ আন্দোলন করে নয়৷
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:
ইনডিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ক, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গঠন মূলক আলোচনা করার জন্য ধন্যবাদ।আমি আমার পূর্বের আলোচনাতে বলেছি, ইনডিয়াতে অনেকেই আছেন যারা বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল। তাদের কে সাথে নিয়ে, জনমত গঠন করে সমস্যার সমাধান করতে হবে। যুদ্ধ করে বা আন্দলন করে সমাধান হবে না।
মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:
ইনডিয়ার মিডিয়া, বাঙ্গালি বুদ্ধিজীবি এবং আমলারা খুবই বাংলাদেশ বিদ্বেষী।কৌশলে তাদের বাংলাদেশ বিদ্বেষ দূর করতে হবে।
বিদ্রোহী বলেছেন:
"ব্লগটা ছিলো পুরোপুরি জামাত শিবিরদের আখড়া" - as an avid observer of somewhereinblog.net i can say that your statement is wrong and stupid.আর জামাত-শিবিররে "সাইডলাইন" করা কত সোজা ... তাই না! আসলেই কি তাদের আস্ফালন বন্ধ হইছে? নাকি এটা তোমার উইশফুল থিঙ্কিং? বোকার স্বর্গে বাস করো নাকি!
ফজল বলেছেন:
মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন :২০০৭-০৫-০৫ ২৩:৩২:০৫
ইনডিযা়র মিডিযা়, বাঙ্গালি বুদ্ধিজীবি এবং আমলারা খুবই বাংলাদেশ বিদ্বেষী।
কৌশলে তাদের বাংলাদেশ বিদ্বেষ দূর করতে হবে।
---------
জনাব আকা কাকা@ আপনি কি পান করিয়াছেন? আপনি আমাদিগকে কৌশল শিখাইয়া দিন কি করিয়া বাংলাদেশ বিদ্বেষ দূর করা যাইতে পারে।(আবাল)
মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:
বাংলাদেশের কোন পত্র-পত্রিকা ইনডিয়াতে পাওয়া যায় না। কারণ জানতে চাইলে বলে, চলে না। বাংলাদেশের কোন টিভি চ্যানেল দেখা যায় না। কারন চলে না।
বাংলাদেশের প্রতি এত উপেক্ষা! ঘৃণার চাইতেও উপেক্ষা খারাপ।
ফজল বলেছেন:
বাংলাদেশের প্রতি এত উপেক্ষা! ঘৃণার চাইতেও উপেক্ষা খারাপ।কাকা আকা@ আপনি উদ্যোগ নিন। শুধু কথা কপচাইলে তো চলিবেনা। আপনি কি ভারতীয়দের স্নেহের আশায় দিনাতিপাত করিতেছেন।
জনাব, তাহার চাইতে আপনি আঈজুদ্দিনের প্রশ্নাবলীর জবাব দিন। উহাই আপনার উপযুক্ত বিষয় বটে।
মম বলেছেন:
"যেমন ভারত যদি একটা মুসলিম প্রধান দেশ হতো তাহলেও কি ভারতের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম থাকতো? মনে হয় না। আবার যদি এমন হতো ভারত মুসলিম দেশ কিন্তু আমরা হিন্দুপ্রধান দেশ হতাম, "দিলেন তো আবার হিনদু মুসলমান প্যাচ লাগাইয়া ?
ভারো্ত সুবিধা নিছে, নিবে, হেরা সুবিধা বাদী।
এর মধেয় আপনি ধরম টানেন ক্যান?
সতরু কিমবা বনধু সংগা আপনি হিনদু মুসলমান ভাগ কৈরা কেমনে করবেন?
এই বলোয় এর বাইরে আইসা,"ভারত" কে দেখেন।
তাগো বাংলাদেশ বিরুধি চালাকি গুলান দেখেন।
ঢাকা তে হাযার মুসলমান মালু আছে, যারা ভারত নাম মুখে নিতে পারলেই নিজেরে পবিতরো মনে কোরেন?
তার বেলা?
নিতে
মম বলেছেন:
বলগ যদি জামাত এর আডডাই হবে, তাতে দোষের কি দেখলেন, ভাইয়া?তারা বাংলাদেশি ভোটার দের ভোটে নিরবাচিত গন পোরোতিনিধি। বিনপি/বাল/বাম/জাতীয় পারটি কনো দলে
আপনের সমশ্যা না থাকলে হেগো জোননো ক্যানো?
র ভারত বিরুধে জনমোত এর আগে, আপনের তো জামাত এর বিরুধে জনমত করা উচিত।
কোনটা আগে কোরবেন, সেই টা তো আপনের ঘিলু'র পরিমানের উপর নিরভর করে।
বলগ এ যেই অধিকারে আপনের মতামত আপনি দিবেন, জামাত তাদের মতামত দিবে। কে কার মতামত মানবে,
শুনবে, বিশ্বাস কোরবে তা ব্যাকতি বিশেষ ভাববে।
অনেনের স্বাধীন চিনতার দায়িতত আপনেরে দিল কে???
ফজল বলেছেন:
কাকা আকা@আপনার জাতীয় পার্টির এই বিষয়ে কি মতামত তা ব্যক্ত করুন।
শমশের আলম বলেছেন:
এডভোকেট আকন্দের সাথে মিলিয়া আমরা অলরেডি সংলাপ চালাইতেছি এই সাবজেক্টে। উৎস সাহেব আপনে নিশ্চিন্ত থাকেন।
অমিত বলেছেন:
চ পোস্ট..ঐ বুড়া ভাম, দেখেন একটা বিষয় নিয়া কিভাবে লিখতে হয়..বড় বড় কথাই বইলা গেলেন খালি..পাহাড়িগো কথা কইলাম, তোতা পাখির মত মুখস্ত বলে গেলেন..কইতে পারবেন সাধারণ মানুষ কেন সারা জীবন মরে ?
১। প্রাচীন আর্যাবর্তের (আজকের মধ্যপ্রদেশ-উত্তরপ্রদেশ) মানুষেরা পূর্বের (অঙ্গ, বঙ্গ, রাঢ়, সমতট, হরিকেল ইত্যাদি) লোকের প্রতি এক ধরনে অবজ্ঞা সব সময় ছিল। মহাভারত / রামায়নে এটা দেখা যায়। এখনো এটা কমেছে বলে মনে হয় না। এই অন্চলের মানুষ যুগ যুগ ধরে এটা দেখে আসছে। এই প্রসংগে "মীম" উপর আপনার একটা লেখা মনে পড়ছে।
২। ২/৩ ফসলী বাংলার উপর দিল্লীর ঘন ঘন আক্রমন বাংলার নিরীহ মানুষ সবসময় দেখে এসেছে। মোগল আমলেও এটা একটুও কমতে দেখা যায়নি।
৩। বর্গীরা আসতো পশ্চিম দিক থেকে।
৪। বাংলাদেশের বর্তমান ভারত-বিদ্বেষ রাজনৈতিক। সাধারন মানুষের মধ্যে এটা কিছুটা ১৯৪৭ -এর পর শুরু হলেও মূলতঃ চরম আকার ধারন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর।
৫। স্বাধীনতার আগেই বাংলাদেশের মানুষ দেখলো ফারাক্কা। তার উপর মুর্শিদাবাদ আর কলকাতার কিছু
অংশ বাংলাদেশের ভূ-খন্ডে না পরার ক্ষোভ।
৬। স্বাধীনতার পর দেখলো - ভারতীয় সেনাবাহিনীর বাংলাদেশ লুট (যতটুকু ঘটেছিল, সংবাদপত্র এটাকে বেশ বড় করে তুলেছিল)।
৭। একজন বাংলাদেশী সংবাদপত্র খুললেই তো মাসে কমপক্ষে একবার দেখে - সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশী হত্যা।
৮। বানিজ্যিক বৈষম্য নিশ্চয় একটা বড় ফেকটর।
৯। বাংলাদেশীদের কলকাতার উচুদরে বুদ্ধিজীবিদের ব্যপারে একধরনের হীনমন্যতাও ভারত-বিদ্বেষে একটা ভুমিকা রাখে বলে আমার ধারনা। ভূলও হতে পারে।
১০। শুধু ভারতের ইচ্ছাই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল - এক মহলের এই অসুস্থ অপ-প্রচারনা বাংলাদেশে ভারত-বিদ্বেষের ইন্দন দেয়।
হিন্দু-মুসলিম ব্যপারটার সাথে সম্পর্কহীন আরো অনেক ইস্যুই থাকতে পারে।
পশ্চিম বঙ্গের বাঙ্গালীদের সাথে নিবির যোগাযোগ হয়তো বাংলাদেশীদের ভারত-বিদ্বেষ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
চমৎকার পোষ্ট। বাস্তবায়ন করা গেলে খুব ভাল হবে। দুইদেশের অনলাইন ফোরামগুলো এই ব্যাপারে ভাল উদ্যোগ নিতে পারে।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
থট প্রোভোকিং পোস্ট। ধর্ম ছাড়াও এই বিষয়গুলো আলোচনায় আসা দরকার। যে পদক্ষেপগুলোর কথা বললেন সেগুলো নিয়ে কিছু করছেন কিনা জানাবেন।
আমি আমার পড়ালেখা জীবনের কিছুদিন ভারতে কাটিয়েছি । ভারতে যাবার আগে ওদের সম্পর্কে ধারনা যা পেয়েছিলাম -- ভারতীয়রা মোটামুটি সবাই ভীষন কিপটা, সংকীর্নমনা খুব চালাক চতুর ধুরন্দর টাইপের এবং হিন্দু মৌলবাদী। গিয়ে দেখলাম বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ধারনা বাংলাদেশ এখনো মোটামুটি একটা জংলা, মুসলিম মৌলবাদী দেশ যেখানে মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়না, গেলে ও সবাই বোরকা পড়ে , ছেলেরা ৪ টা করে বিয়ে করে ।
বলা বাহুল্য আমার ধারনাগুলোর প্রায় সবই পরে মিথ্যে প্রমান পেয়েছি । বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারনা ও বদলেছে ,অন্তত আমার বন্ধুদের কাছে ।
সো , যোগাযোগটা খুব জরুরী । আমাদের একটা সুবিধা হলো বাংলাদেশ মানে, পুরোটা জুড়েই বাংলাদেশ । ভারত কিন্তু তার পুরো মানচিত্রে একক ভারত নয় । পশ্চিম বাংলার ভারত, মনিপুরের ভারত, পাঞ্জাবের ভারত আর কেন্দ্রের শাসক ভারত এক নয় । ফারাক্কায় যেমন বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত, তেমনি ভুক্তভোগী পশ্চিমবাংলা ।টিপাইমুখ বাঁধ হলে যেমন বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মনিপুর। তাই সেখানে ও এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে ।
তাই সস্তা রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর বদলে এফেক্টিভ কমিউনিকেশন আর টার্গেটবেইসড প্রজেকশন বাংলাদেশের জন্য লাভজনক ।
উৎস কে ধন্যবাদ , জরুরী পোষ্টের জন্য ।
বিজলীর খড়ি বলেছেন:
বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কারনে ভারত বিরোধিতা করে এটাও ঠিক, আবার আ.লী. রাজনৈতিক কারনে ভারতের পা চাটতে পারলে ধন্য হয় তাও ঠিক।ভারতের সাথে আমাদের পরিবেশ এবং বানিজ্যগত সমস্যাগুলো হিকমতের সাথে মোকাবিলা করতে হবে। আবার এও ঠিক, ছোট দেশ হিসেবে আমরা যদি হীনমন্যতায় ভুগি, তাহলেও হবে না, সময়মত লাঠি ঘুরাতে হবেই।
বিএসএফ এত মানুষ মারছে তা বিডিআর কি ঘাস কাটে?
উৎস বলেছেন:
ধন্যবাদ মোটামুটি সবাইকে। দেখি এই নিয়ে পরে আবার লিখব। তবে ভারত প্রসঙ্গটার সমাধান জরুরী, জল ঘোলা করলে তাতে ভারতই মাছ শিকার করবে বেশী, হয়তো বিএনপি/জামাত টাইপের রাজনৈতিক নেতাদের লাভ হবে তাতে। কিন্তু সমর্থকদের তো কোন লাভ দেখি না।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
সহমত বাংলাভাষী ।ধন্যবাদ উত্স সুন্দর পোষ্টের জন্য ।
কিছু কিছু ভারতীয় কিন্তু ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে আমাদেরকে -'খরায় শুকিয়ে মারা আর বর্ষায় ডুবিয়ে মারাতে গর্বিত !'
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















আমগো একটা বুনেদী অভ্যাস আছে ... সবকিছুতে ধর্ম আইনা প্যাঁচাইয়া খিচুড়ী খাওনের
ভারতের সাথে মিটমাটের জন্য খুব চালু লেভেলের ডিপ্লোম্যাট দরকার, আমাদের সেটার খুবই অভাব!!
আর ভারত যেভাবে আন্তর্জাতিক বাঁশ দিয়ে যাচ্ছে, সেরকম আন্তর্জাতিকভাবে সেটা তুলে ধরা দরকার।
ভারতের জনগন এখন নিজেদের উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর ... কারণ তারা অন দ্য ওয়ে ...তারা আমাদের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাবে বলে মনে হয়না।