somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বাসা বদল http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28714926 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28714926 2007-06-07 00:57:45 দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালাঃ অরোরা (৬)
এখানে আসার আসল উদ্দ্যেশ্য হলো অরোরা দেখা৷ অরোরা হচ্ছে সুর্য থেকে আসা সোলার পার্টিকলের সাথে পৃথিবীর ম্যগনেটিক ফিল্ডের সংঘর্ষে এক ধরনের আলোর বিচ্ছুরণ৷ দুই মেরু এলাকাতে দেখা যায়৷ বিশেষ করে আর্কটিক কিংবা এন্টার্কটিক সার্কেলের আশেপাশে৷ যে সময় সোলার এ্যাক্টিভিটি বেশী থাকে যেমন সানস্পট (সৌরকলঙ্ক) গুলো যখন দেখা যায়, তখন অরোরাও বেশী এ্যাক্টিভ থাকে৷ দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমরা যে সময় গিয়েছিলাম ঐ সময় অরোরাল এ্যক্টিভিটি কমের দিকে ছিল৷ সবুজাভ ছাড়া আর কোন রঙের অরোরা দেখার সুযোগ হয় নি, যাওয়ার আগে ছবিতে নানা রঙের অরোরা দেখে ঐরকম দেখবো ভেবেছিলাম৷

অরোরার আশায় মোটেলটার সামনে ঘোরাঘুরি করছিলাম আমরা৷ অন্ধকার কিন্তু অনেক লোকজন, মোটেলের ভাড়াটেরা তো আছেই আমাদের মতো এরকম বহিরাগতও অনেক৷ সবাই অরোরার আশায়, একজায়গায় এক দোকানদার আবার একটা টিভিতে অরোরা দেখাচ্ছিল, প্রথমে ভেবেছিলাম লাইভ বুঝি, পরে দেখি নাহ পুরোনো কোন আমলের একটা মুখস্থ ভিডিও চালাচ্ছে কাস্টমার আকৃষ্ট করার জন্য৷ আলাস্কা আসার অল্প আগেই ক্যাননের নতুন এসএলআর টা কিনেছিলাম, তাড়াহুড়ায় ম্যানুয়ালটা পড়াও হয় নি৷ অপেক্ষা করতে করতে ভাবলাম তাহলে একবার একটা মহড়া দিয়ে নেই৷ ৩০ সেকেন্ডের লম্বা এক্সপোজারে ছবি তুলতে হবে৷

ঠিক তখনই ঝামেলা বাধিয়ে ফেললাম৷ কি যেন একটা সেটিংস চেঞ্জ করার পর দেখি এখন আর ম্যানুয়াল এক্সপোজার হচ্ছে না৷ কয়েকবার এদিক ওদিক ছবি তোলার চেষ্টা করলাম, নাহ কোন ছবিই উঠছে না৷ ঘটনা কি? সেলফোনের আলোতে ম্যানুয়াল পড়ে বোঝার চেষ্টা করতে লাগলাম, কোথায় গন্ডগোল হলো৷ এর মধ্যে দেখি লোকজনের চিৎকার অরোরা দেখা যাচ্ছে৷ পাহাড় ঘেষে অল্প অল্প করে সবুজাভ ঢেউ ছড়িয়ে পড়তে লাগলো, ক্রমশ বেশী৷ ঢেউটা একসময় মাঝ আকাশে চলে এলো, দুঃখে-কষ্টে চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে আসছিল, শালার ক্যামেরা এই সময় গোলমাল শুরু করছে৷

দেখতে দেখতে মিলিয়ে গেল অরোরা৷ দৌড়ে মোটেলের লবিতে গেলাম, ম্যানুয়ালটা এখন বুঝতে হবে, নিশ্চয়ই কোথাও আছে৷ লবিতে একটা স্টাফড বল্গা হরিন, ওটার দিকে ক্যামেরা রেখে চেষ্টা করতে দেখি এখন ঠিক হয়েছে৷ আবার আকাশের দিকে তাক করলে সেই একই সমস্যা৷ কোথায় যে ঘাপলা হয়েছে বুঝলাম না৷ হুম, কম আলোতে ছবি তুলতে গেলেই সমস্যাটা হচ্ছে, কিন্তু প্লেনে বসেও তো এভাবে ছবি তুলেছি তখন সমস্যাটা হয় নি৷ একজন বুদ্ধি দিল সব অটোমেটিক মোড বন্ধ করে দিতে, ম্যানুয়াল ঘেটে ঘটে তাই করলাম, কাজ হয়েছে বলতে হবে৷ এখন ছবি উঠছে৷

এবার খুব সিরিয়াসলি অপেক্ষা করতে লাগলাম অরোরার জন্য৷ মাঝে মাঝে সামান্য দেখা গিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে কিন্তু বড় আকারে আর হচ্ছে না৷ তবুও যা দেখা যাচ্ছে ছবি তুলে নিলাম৷ ফেরা দরকার, ঘড়িতে রাত দুটো বাজে৷ বাসে যে সব লোক এসেছিল তারা ফিরে যাচ্ছে৷ আমরাও গোছগাছ করে রওনা হলাম, অনেকে এর মধ্যে প্রথম দফা অরোরা দেখে গাড়ীতেই ঘুমিয়ে গেছে৷

হট স্প্রিং এলাকার গেট থেকে বের হয়ে ৫/১০ মিনিট আসতেই দেখি আবার বড় করে অরোরা দেখা যাচ্ছে৷ তাড়াহুড়ো করে রাস্তার পাশে গাড়ী দাড় করালাম, এমন ঘুটঘুটি অন্ধকার রাস্তার পাশে ঠিক কতটুকু জায়গা আছে বোঝা যাচ্ছে না৷ রেন্টাল কার নিয়ে খাদে পড়লে এখানে উদ্ধার পেতে সকাল হয়ে যাবে৷ একজন গাড়ী থেকে নেমে ছবি তোলা শুরু করলো (ছবিগুলো দিয়েছি এখানে)৷ বাকীরা গাড়ীতে বসে রইলাম৷ আমার একটু ভয় ভয় করছিল, বেয়ার কান্ট্রি, রাস্তার দুপাশেই খোলা জঙ্গল, কোন লোকালয়ের চিহ্ন নেই৷ অনেক ডাকাডাকির আমাদের বন্ধু ফেরৎ আসলো গাড়ীতে, একটু ওভার এক্সাইটেড হয়ে গেছে অরোরা দেখতে গিয়ে৷ ঠিক তখনই খেয়াল করলাম আমাদের গাড়ীর একটু সামনেই বাছুরের সমান সাইজের একটা সাদা নেকড়ে৷ হেড লাইটের আলোতে চোখগুলো জ্বলজ্বল করছে৷

বাকী রাস্তা নেকড়েটা আক্রমন করলে কি হত তা নিয়ে আর আমাদের বন্ধুর নির্বুদ্ধিতার জন্য সবাই মিলে কি বিপদে পড়তে যাচ্ছিলাম এই নিয়ে আলোচনা করতে করতে সময় কেটে গেল৷
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28710701 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28710701 2007-05-15 12:54:14
ঈশ্বরের সন্ধানে
আলকেমিদের উদাহরনটা এপ্রসঙ্গে উল্লেখ করার মতো মনে হয়৷ মধ্যযুগে আলকেমিদের টার্গেট ছিল লোহা বা এরকম সহজলভ্য ধাতু থেকে স্বর্ন তৈরী করা৷ আলকেমিরা জানতো না আদৌ লোহা থেকে সোনা বানানো যায় কি না৷ সম্ভব না অসম্ভব কোন পক্ষেই সিদ্ধান্তে পৌছার মতো যথেষ্ট তথ্য/জ্ঞান তখন তাদের ছিল না৷ তবে এর ভাল দিকটা হচ্ছে লোহাকে সোনা বানানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আলকেমিরা অনেক গুরুত্বপুর্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া আবিস্কার করে, পরবর্তিতে যেগুলো রসায়ন শাস্ত্রের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতো৷ উনবিংশ শতাব্দিতেই পরিস্কার হতে শুরু করলো আসলে কোন ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়াতেই লোহা থেকে সোনা বানানো সম্ভব নয়৷ বিংশ শতাব্দিতে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের কল্যানে এখন আমরা জানি কেবল মাত্র নিউক্লিয়ার রিএ্যাকশনেই লোহা বা এরকম এক ধরনের মৌলিক পদার্থ থেকে আরেক ধরনের মৌলিক পদার্থ তৈরী করা যেতে পারে, রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়৷ আলকেমিদের কথাটা বললাম এজন্য যে কয়েকশ বছরের পরে অবশেষে বোঝা গেল যে লোহা থেকে সোনা বানানো যায়, তবে এটাও সত্য যে, কোন ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয়, যেটা আলকেমিরা জানলে পন্ডশ্রম না করে অন্য কিছু করতো৷

তো ঈশ্বরের ব্যাপারে ফেরা যাক, এখানে এরকম কিছু কি প্রমান বা অপ্রমান করা যায়? বিশ্বে বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি আছে, তাতে কি প্রমান হয় ঈশ্বর আছে? কিভাবে? অথবা তাতে কি প্রমান হয় ঈশ্বর নেই? সেটাই বা কিভাবে? ধরা যাক এরকম একটা যুক্তি দেই এগুলো নিশ্চয়ই কাউকে বানাতে হয়েছে (কেন?) তাহলে সে-ই হয়তো ঈশ্বর, কিন্তু মাত্র একজনে বানিয়েছে তার প্রমান কি? হতে পারে না কয়েকজনে বানিয়েছে? এরকম আরো বলা যায়, যেমন গত সপ্তাহে আমাদের পাশের গ্যালাক্সিতে বিশাল বড় সুপারনোভা বিস্ফোরন হলো, তাতে কি প্রমান হয় ঈশ্বর আছে? থাকলে কয়জন? অথবা নেই? দিনে দুবার জোয়ার ভাটা হচ্ছে তাতে কি প্রমান হয় ঈশ্বর আছে? থাকলে কয়জন? নাকি নেই? জন্মালে সব প্রানী মারা যায়, তাতে কি প্রমান হয় ঈশ্বর আছে? থাকলে কয়জন? অথবা নেই? কিন্তু না সব প্রানী মারা যায় না, কারন বিলিয়ন বছর আগের যে এ্যামিবাটা জন্মেছিল সে কেবল কোষ বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যা বাড়িয়েছে, এখনকার সব এ্যামিবাই সেই আদি এ্যামিবার ভাঙ্গা টুকরো, তার মানে এ্যামিবা এক অর্থে কখনই মরে যাচ্ছে না৷ তাতে কি প্রমান হয় ঈশ্বর নেই, অথবা আছে, থাকলে কয়জন?

সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখলাম গাছের একটা শুকনা পাতা অদ্ভুতভাবে ঘুরে ঘুরে পড়ছে, তাতে কি প্রমান হয় আমার বস আজকে অফিসে আসবে না, অথবা আসবে? এসে মহাবিরক্তিকর একটা কাজ দেবে৷ নাহ আসলে এগুলোর কোনটাই কোনটাকে প্রমান করে না, অপ্রমানও করে না৷ ঈশ্বর আছে বা কতজন তার দ্ব্যার্থহীন সায়েন্টিফিক কোন প্রমান নেই, ঈশ্বর নেই তারও কোন সায়েন্টিফিক প্রমান নেই৷ ঈশ্বর থাকতেও পারে, হয়তো একজন আছে, হয়তো দশজন আছে, হয়তো ঈশ্বরদের একটা কমিটি আছে, সেখান থেকেই তারা ডিজাইন করে, হয়তো কয়েক শ্রেনীর ঈশ্বর আছে, কেউ পিয়ন ঈশ্বর, কেউ মহাজন৷

হয়তো এখানেই লেখাটা শেষ করা যেত, কিন্তু এই প্যারাটা না লিখলেই নয়৷ যেজন্য আলকেমিদের উদাহরন দিলাম৷ ঈশ্বর আছে বা নেই প্রমান করতে পারবো না৷ তবে এছাড়া বেশ কিছু জিনিষ আছে যেগুলো প্রমান করতে পারবো৷ যেমন আমাদের উপমহাদেশে প্রচলিত ছিল সম্ভবত সাতমাথা কচ্ছপ দেবতার মাথার ওপর পুরো পৃথিবীটা আর কচ্ছপ যখন মাথা বদলায় তখন ভুমিকম্প হয়৷ নাহ যে ঈশ্বর এই কাহিনী ফেদে ছিলেন তিনি নেই৷ যেমন আরেক ঈশ্বর দাবী করে সে নুহের বন্যা ঘটিয়েছিলো পৃথিবী ব্যাপী, এরকম ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বন্যার কোন ভুতাত্ত্বিক প্রমান নেই, তার মানে এই ঈশ্বর স্রেফ চাপাবাজ৷ আরেকজন দাবী করে যে পুরুষের বীর্য তৈরী হয় বুকের হাড় থেকে, এটাও চাপা, ভুল, মহাভূল৷ এই ঈশ্বর জানেই না মানুষের শরীর সম্বন্ধে৷ এই ভন্ড ঈশ্বর নেই৷ আরেক জায়গায় বলে যে পর্বতগুলো অনড়, ঈশ্বরের ভুগোল জ্ঞান দেখে আশ্চর্য হতে হয়৷ ধর্ম বইয়ের এই মোল্লা ঈশ্বর যার জ্ঞানের বহর হাইস্কুলের ছাত্রের চেয়েও কম সে আসলে একজন imposter, বেশ ধুরন্ধর con artist, সত্যিকার ঈশ্বর বা ঈশ্বরেরা যদি থেকেও থাকে তাদেরকে বেচে ভালই খেয়ে নিচ্ছে এই বানানো ঈশ্বর৷ এ লোক সে লোক নয় রে ভাই এ লোক সে লোক নয়৷ এজন্য চমকাই না যখন দেখি এ ঈশ্বর তার মন মতো কাজের পুরষ্কার ঘোষনা দেয় অনন্তকাল সুন্দরী সঙ্গমের প্রতিশ্রুতি দিয়ে৷ যেমন ঈশ্বর তেমন তার পুরষ্কার তেমনই তার বান্দারা৷

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28710700 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28710700 2007-05-15 12:44:42
আন্দামানে ভিনাস (Venus)
এর কারন বরফ যুগে ঠান্ডার জন্য মেরুগুলোতে আইসক্যাপ তৈরী হয়েছিল৷ আইসক্যাপ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা জুড়েই ছিল৷ আর এই আইসক্যাপে প্রচুর পানি আটকে ছিল, যে কারনে সমুদ্রে পানি ছিল কম, মানে দাড়াচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অনেকখানি কম ছিল৷ সুতরাং তখনকার উপকুল আর এখনকার উপকুল আলাদা, তখনকার উপকুল বরফযুগের শেষে আস্তে আস্তে সমুদ্রের নীচে তলিয়ে গিয়েছে, সেই সাথে যেসব আর্টিফ্যাক্ট ছিল ৭০ হাজার বছর আগের মানুষের সেগুলো ডুবে গেছে বলে মনে হয়৷

এজন্য কৌতুহল হয় বাংলাদেশের সেইসব আদি অধিবাসী কারা? তারা কোথায়? তারা দেখতে কেমন ছিল৷ আসলে ৭০ হাজার বছর আগে যারা আফ্রিকা থেকে বের হয়েছিল তারা দেখতে কেমন ছিল এটা একটা বড় কৌতুহল পৃথিবী জুড়ে অনেকেরই৷ সবচেয়ে পুরোনো মানুষের বানানো মুর্তিগুলোর অনেকগুলোই ইউরোপে পাওয়া গেছে৷ যেমন এখানে যে ছবি দিয়েছি (Venus figurine of Willendorf), এটা ২৫,০০০ বছর আগের৷ এরকম আরো অনেকগুলো নারীমুর্তি আছে যেগুলো ১০ হাজার বা তার চেয়ে বেশী পুরোনো৷ কেন শুধু ওই সব সময়ে মানুষ নারীমুর্তি বানিয়েছে (পুরুষের পরিবর্তে বা সংখ্যায় কম বানিয়েছে) তার পেছনে অনেকগুলো কারন অনুমান করা যায়৷

তবে আজকের বিষয় অন্য৷ এসব মুর্তির অনেকগুলোই ইউরোপে পাওয়া গেলেও সবগুলোর চেহারায় একটা মিল আছে৷ এই নারীদের চেহারা/ফিগার ঠিক আধুনিক ইউরোপয়ান নারীদের মতো নয়৷ এমনকি পৃথিবীর বর্তমান যুগের বেশীরভাগ নারীদের মতো নয়৷ কথা হচ্ছে ২৫ হাজার বছর আগে ইউরোপীয়ানরা এরকম বেঢপ চেহারার নারীমুর্তি কেন বানিয়েছিল৷ অথবা এই বিশেষ চেহারাটা ঠিক কোন জায়গা থেকে নকল করলো৷

পৃথিবীতে অল্প কিছু জায়গা আছে যেখানে মেয়েদের ফিগার আসলেই এই মুর্তিগুলোর মতো৷ যেমন আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন ট্রাইবের মেয়েদের ফিগার বেশ মিলে যায় এই ভিনাস ফিগারিন গুলোর সাথে৷ ২৫০০০ বছর আগে যারা ইউরোপে থাকতো তারা বঙ্গোপসাগরের আন্দামানের মেয়েদেরকে রোলমডেল হিসেবে নেয়ার একটাই কারন হতে পারে – ফ্রান্সের/অস্ট্রিয়ার তখনকার অধিবাসীরা আন্দামানের লোকের মতো দেখতে ছিল৷

এটাই খুব সম্ভব৷ ৭০ হাজার বছর আগে আফ্রিকা থেকে আমরা যখন বের হয়েছিলাম তখন আমাদের চেহারা ছিল আফ্রিকার Khoisan বা আন্দামানের Pygmy Negrito দের মতো৷ আমাদের কেউ কেউ আন্দামানে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল বলে বিবর্তিত হয়েছে কম৷ বাকীরা ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে, ন্যাচারাল সিলেকশনের চাপে আজকের চেহারা পেয়েছে৷ আর বাংলাদেশে আজকে আমরা আসলে তাদেরই বংশধর, আন্দামানিজদের অনেক বৈশিষ্ট্যই আমাদের আছে, কালো চামড়া থেকে শুরু করে, মেয়েদের মোটা নিতম্ব কোনটাই ভারতীয় উপমহাদেশে দুর্লভ নয়৷ ইউরোপে ক্রোম্যানিয়নরা শুরুতে আন্দামানের লোকের মতই দেখতে ছিল বলে ধারনা করা হয়, অন্তত ২৫/৩০ হাজার বছর আগে৷ তারপর পরিবেশের চাপে বিবর্তিত হয়েছে, এখনও হচ্ছে৷ কিন্তু মুর্তিগুলো আর বিবর্তিত হওয়ার সুযোগ পায় নি, এজনই উইলেনডর্ফের ভিনাসের চেহারা আন্দামানের মেয়েদের মতো

ছবিঃ ইন্টারনেট]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28710698 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28710698 2007-05-15 12:40:23
পোষা নেকড়ে
বিবর্তন কেন? কারন কুকুর আসলে এক ধরনের নেকড়ে৷ জংলী নেকড়ের বেশীরভাগ বৈশিষ্ট্যই আছে, কিন্তু কয়েকটা ক্ষেত্রে পার্থক্যও আছে, আর এই পার্থক্যগুলো তৈরীতে মানুষের সরাসরি ভুমিকা আছে, মানে দাড়াচ্ছে এগুলো প্রকৃতি থেকে অটোমেটিক বিবর্তিত হয়ে তৈরী হয় নি বরং মানুষের কৃত্রিম সিলেক্টিভ প্রেশারের কারনে গত ১৫-২০ হাজার বছরে এই পরিবর্তনগুলো হয়েছে৷ ২০ হাজার বছর আসলে বিবর্তনের জন্য খুব কম সময়, বলতে গেলে ২০ হাজার বছর আগের একজন মানুষের চেয়ে আমাদের পার্থক্য খুব কম (যদিও ধরা হয়ে থাকে বর্তমানে মানুষের মধ্যে সাদা-কালো-বাদামি যে বর্ন তৈরী হয়েছে তা মুলত গত ২০-৩০ হাজার বছরের মিউটেশনের ফলাফল)৷

পোষা কুকুরের সাথে নেকড়ের (এক্ষেত্রে Gray Wolf) মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ তুলনা করলে দেখা যায় ওদের পার্থক্য মাত্র ০.২%৷ যেখানে নেকড়ের সাথে কায়োটির (Coyote – শেয়ালের মতো দেখতে উত্তর আমেরিকাতে আছে) পার্থক্য ৪%৷ জেনেটিক এভিডেন্স থেকে মনে হয় কুকুর আসলে গ্রে উল্ফ থেকেই এসেছে, শেয়াল/খেক শিয়ালের সাথে তাদের পার্থক্য তুলনামুলক ভাবে বেশী৷

কিন্তু গ্রে উল্ফকে কুকুর বানালো কে? কালকের প্রোগ্রামে দেখাচ্ছিল পৃথিবীর নানা জায়গা থেকে পোষা কুকুরের ডিএনএ নিয়ে দেখা হচ্ছিল কুকুর পোষা কোথায় প্রথম শুরু হয়৷ অনেকটা ফরেনসিক সায়েন্সের মতো, অতীতে ফিরে গিয়ে যেহেতু সরাসরি দেখে আসার উপায় নেই, সুতরাং এখনকার এভিডেন্সগুলোকেই বিশ্লেষন করে দেখতে হচ্ছে৷ একটা উপায় হচ্ছে কোন এলাকায় পোষা কুকুরের কেমন ডাইভারসিটি হিসেব করে দেখা৷ ডাইভার্সিটি কারন, উত্স বের করার জন্য ডাইভার্সিটি বেশ গুরুত্বপু্র্ন, একটা উদাহরন দেই৷ ধরা যাক ক, খ, গ তিনটি গ্রাম পাশাপাশি৷ এখন আমি যদি ওখানকার মানুষের last name নিয়ে একটা জরীপ চালিয়ে দেখি ক গ্রামে “তালুকদার” ৪০%, খ গ্রামে ২০% আর গ গ্রামে ১৫%৷ তালুকদারদের আদিনিবাস যদি এ তিনটি গ্রামের যে কোন একটা হয় তাহলে কোনটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? নিশ্চয়ই “ক”৷ যেমন মানুষের ক্ষেত্রে আমাদের জেনেটিক ডাইভার্সিটি সবচেয়ে বেশি আফ্রিকাতে৷ হিসেব করলে বোঝা যায় সবচেয়ে পুরোনো জিন আছে এরকম লোকেরা দক্ষিন পুর্ব আফ্রিকাতে থাকে৷ এরকম একটা গোষ্ঠি হচ্ছে Khoisan-রা ৷ জেনেটিক প্রমান ছাড়া আলাদা ভাবে ফসিল এভিডেন্স থেকেও বোঝা যায় আফ্রিকার রিফ্ট ভ্যালী বা তারপাশের এলাকা আমাদের আদিনিবাস৷

তো কুকুরদের ক্ষেত্রে এরকম ডাইভার্সিটি স্টাডি করে দেখা গেল যে পোষা কুকুরদের ডাইভার্সিটি চীনে সবচেয়ে বেশী৷ মোটামুটি ধারনা করা যায় বর্তমান চীন বা সাইবেরিয়াতে কুকুর পোষা সবার আগে শুরু হয়েছিল৷ সম্ভবত হঠাত্ করেই বিচ্ছিন্নভাবে, কোন ধরনের প্ল্যান ছাড়া৷ এমনিতেই মানুষের বসতির আশে পাশে অনেক প্রানী ঘুরঘুর করে৷ ২০ হাজার বছর আগে শিকার নির্ভর যাযাবর মানুষের আশে পাশে গ্রে উল্ফ থাকা খুব স্বাভাবিক৷ কারন উল্ফ অনেক ক্ষেত্রেই opportunistic scavenger এর ভুমিকা নেয়৷ হয়তো কোন এক ক্ল্যানের মানুষ উল্ফের মধ্যে যেগুলো একটু tame সেরকম দু একটা কাছে রাখা শুরু করে৷

এবং নেকড়ে থেকে কুকুর এর পরে বেশ দ্রুত৷ নেকড়ে এমনিতে বন্য এবং হিংস্র প্রানী৷ কিন্তু নেকড়ে আবার গোষ্ঠিবদ্ধ প্রানী, দলের আলফা নেকড়েকে মেনে চলে৷ মানুষ যেটা করেছে প্রতি জেনারেশনে সেই সব নেকড়েকে বেছে নিয়েছে যেগুলোর হিংস্রতা কম, অথচ মানুষকে আলফা নেকড়ে হিসেবে মেনে চলে৷ এভাবে প্রতি জেনারেশনে বাছাই করতে করতে কয়েক হাজার বছরে শুধু সেই নেকড়ে গুলোই সুযোগ পেয়েছে যারা মানুষের সাথে খাপ খাওয়াতে পারছে৷ এমনিতে প্রকৃতি লম্বা সময়ে এ ধরনের সিলেকশন করে (যেটা বিবর্তনের কারন), এক্ষেত্রে মানুষ ইচ্ছাকৃত ভাবে সিলেক্ট করে গ্রে উল্ফকে কুকুর বানিয়ে ছেড়েছে৷

আরো অদ্ভুত হচ্ছে এখন যে এত ধরনের/আকারের কুকুর আমরা দেখি এগুলোর সবগুলোই মানুষের হাতে বানানো৷ অনেকগুলো আছে যেগুলো গত কয়েকশ বছরে বানানো হয়েছে৷ যেমন বুলডগ, গত একশ বছরে এরকম চেহারা পেয়েছে৷ কুইন ভিক্টোরিয়ার আমলেও এখনকার চেহারার বুলডগ ছিল না৷ উনবিংশ শতাব্দির শেষ থেকে শুরু করে সিলেক্টিভ ব্রিডিং এর মাধ্যমে বুলডগের আপাত হিংস্র চেহারা বানানো হয়েছে৷ আবার যেমন টেরিয়ার তৈরী করা হয়েছিল টুকটাক শিকারের জন্য৷ পিকিং এর লায়ন ডগ তৈরী করেছিল চিনের রাজারা, পরে ভিক্টোরিয়ান যুগে ইউরোপে ব্যপক জনপ্রিয় হয় ছোট সাইজের এই কুকুরগুলো৷

তবে মানুষ আর কুকুরের ২০ হাজার বছরের সম্পর্কের একটা ক্রান্তিকাল যাচ্ছে এখন৷ যেসব কারনে মানুষের জন্য কুকুর এত প্রয়োজনীয় ছিল সেগুলো বেশীরভাগই আর নেই এখন৷ আবার অতিরিক্ত ব্রিডিং এ এখন এমন কুকুর তৈরী করা হচ্ছে/হয়েছে যেগুলো বায়োলজিকালী আনফিট৷ এজন্য মনে হয় যেহেতু আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়েছে কুকুরকে তার নিজের রাস্তায় যেতে দেয়াই ভাল৷
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28709585 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28709585 2007-05-08 08:17:27
ভারত প্রসঙ্গে
ভারতের প্রসঙ্গটাও এরকম খোলামেলা আলোচনা করা উচিত৷ কারন এখানে ইনফরমেশনের সহজলভ্যতা এবং স্বচ্ছতার জন্য রাজনৈতিক কুট কৌশল বেশ কঠিন৷ যেটা সত্য সেটা লুকিয়ে ধানাই পানাই করে পার পাওয়া অসম্ভব৷ তবে ভারতের ইস্যুটা বেশ জটিল, কারন ভারতের সব কাজকর্ম একজন বাংলাদেশীর কাছে বন্ধুসুলভ বলে মেনে নেয়া কঠিন৷ মুক্তিযুদ্ধের ইস্যুর মতো সাদাকালোতে ভাগ করা যায় না৷ যেমন ফারাক্কা বা হালের টিপাই বাধ সন্দেহ নাই বাংলাদেশের জন্য হুমকি, এবং একদম কিছু না করলে সেটাও ভুল হবে৷

তবে কি করা উচিত সে আলোচনার আগে, ভারত বিরোধিতা নিয়ে কিছু গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করা যেতে পারে৷ যেমন ভারত যদি একটা মুসলিম প্রধান দেশ হতো তাহলেও কি ভারতের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম থাকতো? মনে হয় না৷ আবার যদি এমন হতো ভারত মুসলিম দেশ কিন্তু আমরা হিন্দুপ্রধান দেশ হতাম, তাহলে? ভারত বিরোধিতার সুত্রপাত পাকিস্তান আমলে, ভারতের জন্য যতটা না ভারত বিরোধিতা তার চেয়ে বেশী বিরোধিতা ভারত হিন্দু প্রধান দেশ বলে৷ এখনকার পাকিস্তান নিয়ে একটা মন্তব্য দেখেছিলাম (সম্ভবত টাইম ম্যাগাজিনে) নানা জাতি উপজাতিতে বিভক্ত সমস্যাসঙ্কুল পাকিস্তানের একমাত্র ইউনিফায়িং উপাদান হচ্ছে ভারত বিরোধিতা অথবা হিন্দু বিরোধিতা৷ হতেও পারে৷ এটা ঐ দেশের এবং আমাদের দেশের রাজনীতিতে একটা ভীষন গুরুত্বপুর্ন উপাদান, কারন এদুদেশের মানুষ আসলেই ভারতকে অপছন্দ করে৷ এর পেছনে কারনও আছে, ৪৭ এ স্বাধীন হওয়ার আগে বেশ রক্তারক্তি হয়েছিল, তখন যে একটা তিক্ততা তৈরী হয়েছিল সেটা কখনই কাটেনি, আবার সাময়িক পলিটিকাল গেইনের জন্য রাজনৈতিক/সামাজিক নেতারাও তিক্ততা/বিতৃষ্ঞা ধরে রাখতে চেয়েছেন৷ ভারতেও মুসলিম বিরোধিতা কাজে দেয়, বিজেপির এই মুলধন এতই কাজে দেয় যে, গত কয়েকবছর ধরে ওরা ক্রমাগত প্রচার চালাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে মুসলিম অনুপ্রবেশ নিয়ে৷ পশ্চিম বঙ্গের চেয়েও এই প্রচারগুলো বেশী চলে মহারাস্ট্র, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে৷ ভোটের রাজনীতিতে কংগ্রেস বা বামপন্থিদের ঘায়েল করার জন্য এটা একটা দরকারী ইস্যু হিন্দু জাতিয়তাবাদী দলগুলোর, ঠিক যেমন ভারত ইস্যু জামাত-বিএনপি (আগে মুসলিম লীগ) কাজে লাগায়৷

রাজানীতিবিদরা ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করবেন এজন্য তাদের দোষ দেই না, কারন এটা তাদের পেশা৷ কিন্তু জনগনের জন্য সমস্যাগুলোর সমাধান কিভাবে সম্ভব? যেমন ফারাক্কা ইস্যু নিয়ে আমরা যদি ভীষন আন্দোলন লংমার্চ করি, তাতে ওরা ফারাক্কা বাধ ভেঙ্গে ফেলবে? ওদের দেশে যে বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশ নিয়ে এত তুলকালাম কান্ড হচ্ছে, প্রায়ই পত্রিকার শিরোনামে আসছে, সেই খবর আমরা কয়জন পাই৷ সত্যিকার অর্থে এটা যে একটা ইস্যু হওয়ার যোগ্যতা রাখতে পারে, আমি দেশের বাইরে না আসলে বিশ্বাস করতাম না৷ কারন এমনিতে হাস্যকর একটা ব্যপার যে বাংলাদেশ থেকে লাখে লাখে মুসলিম ভারতে অনুপ্রবেশ করছে, যেটা ওদের দাবী, বাংলাদেশ থেকে লোকে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়শিয়া যায় কামলা দিতে, তাই বলে কাতারে কাতারে ভারতে যাচ্ছে, এমন রিপোর্ট কোনদিন বাংলাদেশী পত্রিকায়ও দেখিনি৷ অথচ আমার পরিচিত অনেক দক্ষিন ভারতীয়রা এটাকে সত্য বলেই বিশ্বাস করে৷ সুতরাং মিডিয়াতে ভারত বিরোধি আস্ফালন করলেই যদি সমাধান হয়ে যেত তাহলে পরিস্থিতি এতদুর গড়াতো না৷

সমাধান কিভাবে করা যেতে পারে? ধরা যাক ত্রিপুরা একটা স্বাধীন দেশ আর আমাদের সিলেট জেলা থেকে কয়েকটা নদী ত্রিপুরাতে গিয়েছে৷ আমরা সিলেটে বাধ দিয়ে ওদের বারোটা বাজিয়ে দিলাম৷ তো এখন কি করলে ত্রিপুরাবাসি এই সমস্যার থেকে মুক্তি পেতে পারে?
- প্রথমে বলে রাখি আমাদের বাধের জন্য ত্রিপুরায় যে এত সমস্যা হচ্ছে এটা আমাদের জানার সম্ভাবনা বেশ কম৷ কোন রাজনৈতিক দল এটা জানানোর দ্বায়িত্ব নেবে না ভোট হারানোর ভয়ে৷ যেমন বাস্তবে কাপ্তাই বাধ দিয়ে যে আমরা চাকমাদের অসংখ্য জমি জমা, চাকমা রাজার প্রাসাদ, আরও অন্যান্য পুরাকীর্তি ধ্বংস করেছি এটা আমরা কয়জনে জানি? আমি জানতাম না, কারো মুখে কখনও শুনিও নাই৷ এইজন্য বাংলাদেশের মুলভুখন্ডের কেউ সরব প্রতিবাদ করেছে বা এখন করছে তাও কানে আসে নি৷ দেশের ভেতরেই যদি এই অবস্থা হয়, অন্য দেশে হলে কি হতে পারে বলাই বাহুল্য৷
- এখন ত্রিপুরায় এই নিয়ে যদি আন্দোলন, মিডিয়াতে বাংলাদেশ ব্যাশিং হয় তাতে আমাদের সহানুভুতি বাড়বে?
- পাল্টা আন্দোলন আমাদের দেশেও চলতে পারে৷ এবং পাল্টা-পাল্টির এই খেলায় সমাধানের সম্ভাবনা কম৷

যেটা করা যেতে পারে তা হলো অন্যদেশটাতে জনমত তৈরী করা৷ যেমন ফারাক্কা, টিপাই, বিএসএফ এসব সমস্যাগুলো ভারতের জনগনের কাছে আমাদের দৃষ্টিকোন থেকে প্রকাশ করা৷ ওখানকার সাধারন মানুষ, বুদ্ধিজীবি এবং রাজনৈতিক মহলে এগুলোর গুরুত্ব নিয়ে জনমত তৈরী করা৷ বেশীরভাগ ভারতীয় এমনকি পশ্চিম বঙ্গের লোকজন জানেই না যে ফারাক্কার প্রভাবে বাংলাদেশে কি রকম পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে৷ আমরা অনেকে হয়তো জানি না কলকাতার বুদ্ধিজীবি সমাজ সচরাচর বাংলাদেশের পক্ষে থাকে৷ সেই একাত্তর থেকে শুরু৷ অল্প কিছু বিজেপির লোকজন ছাড়া বেশীরভাগকে বাংলাদেশের পাশে পাওয়ার কথা৷ কিন্তু আমরা কি কখনও নদী সমস্যার ভয়াবহতা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করেছি? বুদ্ধিজীবি, রাজনৈতিক নেতাদেরকে বাংলাদেশে ডেকে এনে সরেজমিনে দেখিয়ে দেয়া যায় রাজশাহী, পাবনা বা কুষ্টিয়া এলাকায় কিভাবে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে৷ ভারতীয় মিডিয়াতে এই নিয়ে কলাম লেখা যেতে পারে৷ ভারতে গিয়ে ডকুমেন্টারি দেখানো যেতে পারে, সংবাদ সম্মেলন করে জনসাধারনকে জানানোর চেষ্টা করা যেতে পারে৷ মোদ্দা কথা হচ্ছে বাধ-ফাদে যে আমাদের ভীষন সমস্যা হচ্ছে এটা ঐ দেশের আমজনতাকে জানানো দরকার, বাংলাদেশের সমস্যাটার গুরুত্ব বুঝিয়ে সিম্প্যাথি তৈরী করা দরকার৷

ঘরে বসে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে বোকামি করার মানে হয় না৷ তাও যদি ভারতের সাথে যুদ্ধ করে পোষাতো৷ একটা চড় মারতে গেলে দুটো লাথি খেয়ে আসার সম্ভাবনা আছে৷ দুদেশের শুধু রাজনৈতিক নেতা নয় বরং জনসাধারনের মধ্যে বোঝাপড়া দরকার৷ একটা সুবিধা হচ্ছে ভারত গনতান্ত্রিক দেশ, রাজনীতিবিদরা যতই কৌশলি হোক ওখানে, বাংলাদেশের পক্ষে সেন্টিমেন্ট তৈরী করতে পারলে সমস্যার সমাধান না করে উপায় নেই৷ দুঃখজনক হচ্ছে সেই চেষ্টাটা না করে আমরা ঢিল ছোড়া ছুড়ির পন্থাটা নিতে চাই৷

অবশ্য ভারতের সাথে সমস্যাগুলো না থাকলে বিএনপি জামাতের একটু অসুবিধা হবে৷ এজন্য গত ৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও তারা না ফারাক্কা না টিপাই নিয়ে কোন আলোচনা করেছে৷ আওয়ামী লীগ আমলে একবার সাময়িক কিছু সমাধান পাওয়া গিয়েছিল, তাও পরে আওয়ামী লীগের আগ্রহের অভাবে বা ইচ্ছা করেই হয়তো পুরোটা সমাধান হয় নি৷ তবে যেটা লক্ষ্যনীয় তা হলো, একবার যতটুকু সমাধান পেয়েছিলাম সেটাও আলোচনার মাধ্যমে ঘরে বসে লংমার্চ আন্দোলন করে নয়৷

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28709291 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28709291 2007-05-05 22:58:29
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালাঃ ফেয়ারব্যাংকসে সোনার খনি (৫)
সকালে বেশ বেলা করে ঘুম থেকে উঠলাম৷ এরকম আটোসাটো জার্নিতে এক ঘন্টা দেরীতে ওঠা মানে অনেক লোকসান৷ তারওপর মেয়েদের রেডী হতে অনেক সময় লাগে৷ তবে দিনটা ছিল চমত্কার, আকাশে কোন মেঘ নেই৷ আগের দুদিন এংকরেজ আর ডেনালীতে বৃষ্টি দেখতে দেখতে হয়রান লাগছিল, আবার ফেয়ারব্যংকসে একটা বড় টার্গেট রাতে অরোরা দেখা৷ মনে মনে খুব চাচ্ছিলাম রাত পর্যন্ত যেমন এরকম আকাশ থাকে৷ ইউনিভার্সিটি অফ আলাস্কার সাথে ওদের মিউজিয়াম ওখানে গেলাম৷ এ্যংকরেজের মিউজিয়ামটার চেয়ে আলাদা৷ কয়েক হাজার বছর আগেকার ফ্রোজেন বাইসন দেখলাম, এছাড়া ম্যামথ, জায়ান্ট স্লথের ফসিল ছিল৷ প্রচুর জাপানি ট্যুরিস্ট মিউজিয়ামে, বয়স্ক, একজন বললো মাত্র পাচশ ডলারে নাকি টোকিও থেকে আলাস্কা এসে ঘুরে যাওয়া যায়৷ সত্যি না মিথ্যা বুঝলাম না৷

হুড়োহুড়ি করে মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে রওনা দিলাম ফেয়ারব্যাংকসের গোল্ড মাইনের উদ্দ্যেশ্যে৷ এক সময় লোকজন আলাস্কা আসতই সোনার খনির উদ্দ্যেশ্যে৷ উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দির শুরুতে গোল্ড রাশের সময় অসংখ্য গোল্ড মাইন তৈরী হয়েছে এখানে৷ তবে গোল্ড মাইনিং এখন আর কোন লাভ জনক ব্যবসা নয়, বেশীর ভাগ গোল্ড মাইনই লাটে উঠেছে৷ কয়েকটা আছে ট্যুরিস্টদের জন্য৷ ওদেরকে জিজ্ঞাসা করে বুঝলাম মাইনিং এর খরচ এখানে এত বেশী এর চেয়ে রিসাইকেল করে বা অন্যান্য উত্স থেকে সস্তায় সোনা জোগাড় করা যায়৷

বিশ ডলার টিকেট কেটে ঢুকলাম ভিতরে৷ পুরোনো ভাঙ্গা গোল্ডমাইন৷ পাশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা পার্ট টাইম গাইডের কাজ করে৷ একটা ট্যুর দিল কিভাবে মাটি থেকে সোনা আলাদা করা হয়৷ সোনা দেখলাম খুব ছোট ছোট দানা আকারে থাকে৷ কাদা মাটি আর পাথরে থেকে বেশ কষ্ট করে আলাদা করতে হয়৷ ট্যুর শেষ হলে আমাদেরকে এক ব্যাগ করে খনি থেকে তোলা বালি-পাথর দিলো, সোনা সংগ্রহের জন্য৷ গাইড মেয়েটা প্রথমে একটা ডেমো দিলো কিভাবে সোনা আলাদা করতে হবে৷ অনেকটা আমাদের দেশে গ্রামের দিকে চাল থেকে যেভাবে পাথর আলাদা করে৷ বেশ কৌশলে পানিতে আস্তে আস্তে ধুয়ে কাদা থেকে সোনা বেছে ফেলতে হয় (ছবি)৷ গোটা বিশেক দানা পেলাম আমি, মোটামুটি ৪ ডলার দামের৷

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল সোনার খনি থেকে বের হতে হতে৷ একটা প্ল্যান ছিল Manley Hot Springs দেখতে যাবো৷ এখন মনে হচ্ছে স্রেফ ডাল্টন হাইওয়ের মুখ পর্যন্ত যেতে পারলেই হয়৷ ডাল্টন হাইওয়ে ফেয়ারব্যাংকস থেকে প্রাডোহ বে তে চলে গেছে৷ ৮০০ কিলোমিটার রাস্তা৷ এলিয়ট হাইওয়ে হয়ে জাংশন পর্যন্ত এর মধ্যে ১৩০ কিলোমিটারের মতো৷ আমাদের টার্গেট সন্ধ্যার আগে এই ১৩০ কিলোমিটার গিয়ে আবার ফিরে আসা (টোটাল ২৬০ কিমি)৷ একটানা চালালে ৩ ঘন্টা লাগার কথা৷ কিন্তু রাস্তায় প্রচুর ট্রাক৷ প্রাডো বে তে আলাস্কার তেলের খনি, আর্কটিক অয়েল ফিল্ড৷ পুরো রাস্তা জুড়ে রাস্তার সমান্তরালে ট্রান্স আলাস্কা অয়েল পাইপ লাইন৷ গল্পে গল্পে রওনা হয়ে গেলাম৷

এখানকার ল্যান্ডস্কেপ ডেনালীর চেয়ে আলাদা৷ পাহাড় একটু কম, রঙও কম৷ ফার গাছের সারি অনেকটা ক্যানেডিয়ান রকির মতো৷ Fall এর জন্য হলদেটে ভাব এসেছে৷ কোথাও কোন লোকালয়ের চিহ্ন নেই৷ মাইলের পর মাইল জুড়ে শুধু তৈগা বনভুমি, ভীষন নির্জন৷ জাংশনে পৌছলাম যখন, তখনও সুর্যের আলো আছে৷ ডাল্টন হাইওয়ের এর পরের অংশ আনপেভড, একদম মাটির রাস্তা না, নুড়ি পাথর ঢেলে রাখা৷ রেন্টাল কারের মালিক আগেই বলে রেখেছিল ডাল্টনের এই অংশে গাড়ি নেয়া যাবে না৷ রাস্তা দেখে বুঝলাম কথা ভুল বলেনি ৬৫০ কিলোমিটার যদি এভাবে চালাতে হয় তাহলে গাড়ির যে কয় জোড়া এক্সট্রা টায়ার লাগবে কে জানে৷

টুকটাক কয়েকটা ছবি তুললাম৷ হট স্প্রিং এ আর যাবো না৷ গাড়িতে খুব পরচর্চা হচ্ছিল৷ প্রাডো বে কিংবা আর্কটিক সার্কেলের চেয়ে লোকের দেখি গল্পেই উত্সাহ বেশী৷ তা ঠিক আছে, সহযাত্রীদের আপবিট থাকা খুব জরুরী৷ সূর্য ডুবতে ডুবতে ফেয়ারব্যংকসের কিনারায় ফিরে এলাম৷ একটা চায়নিজ বাফে তে পেটপুরে খেয়ে রওনা দিলাম আরেকটা উষ্ঞ প্রস্রবনের দিকে Chena Hot Springs৷ এটা তুলনামুলক ভাবে কাছে, ঘন্টা দেড়েক লাগা উচিত৷ রাতে যাচ্ছি কারন ওখানে একটা হোটেল আছে, আর অরোরা দেখার টার্গেট তো আছেই৷ সন্ধ্যায় (রাত দশটায়) রওনা দিয়ে বারোটার দিকে পৌছলাম চেনা-তে৷


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28709217 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28709217 2007-05-05 13:10:58
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালাঃ ফেয়ারব্যান্কসের পথে (৪)
আকাশ ছোয়া দাম প্রত্যেকটা আইটেমের৷ এক খন্ড গ্রীলড স্যামন ২০ ডলারের মতো৷ ভাবছিলাম পেটপুরে ডিনার করবো, কিন্তু সে আর হবার নয়৷ দুইজন করে ভাগে ভাগে অর্ডার দিয়ে কোনমতে খেয়ে দৌড়ে বের হলাম রেস্টুরেন্ট থেকে৷ যতদুর মনে পড়ছে এখন সাবওয়ে থেকে স্যন্ডউইচ কিনে নিয়েছিলাম গাড়িতে খাওয়ার জন্য৷

আকাশ খুব মেঘলা ছিল এইদিন৷ তারওপর আলাস্কার সন্ধ্যা খুব লম্বা৷ বাইরে তাকিয়ে বোঝা মুস্কিল কয়টা বাজে৷ যদিও ঘড়িতে রাত দশটার বেশী৷ ডেনালীর গেট এলাকা পার হতেই রাস্তা ভীষন ফাকা৷ আশে পাশে কোন জনবসতিও নাই৷ এমনকি গ্যাসস্টেশনও নাই৷ আর অন্ধকার অন্ধকার হয়ে আসায় ভালো দেখার মতো প্রাকৃতিক দৃশ্যও নাই বাইরে৷ আজকে অবশ্য গাড়ি চালাচ্ছি না আর, না খেয়ে আমার শরীর খারাপ৷ আর রাতে চালানোর একটা সমস্যা রাস্তায় মাঝে মাঝে মুজ কিংবা বল্গা হরিণ চলে আসে৷ ফেয়ারব্যন্কস যাওয়ার পথে এরকম একটা মুজের পালের মধ্যে পড়ে অল্পের জন্য দুর্ঘটনা হয় নি৷

মেয়েদের কার কার যেন আবার এর মধ্যে বাথরুম পেয়ে বসলো৷ এই বিরান এলাকায় বাথরুম পাওয়া মুস্কিল৷ আবার পুলিশের ভয়ে রাস্তার পাশে যে ছেড়ে দেবে সেই উপায়ও নেই৷ বহুদুর গিয়ে একটা পোড়ো “বার”মতো পাওয়া গেলো৷ চরম নোংরা টয়লেট৷ ঐখানেই সারতে হলো৷

রাতে বারোটার দিকে গিয়ে পৌছলাম ফেয়ারব্যাঙ্কসে৷ তেমন বড় শহর না৷ মোটেল খুজে বের করে সরাসরি ঘুমের প্ল্যান করছিলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28708404 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28708404 2007-04-30 00:27:13
“সুশীল” শব্দটা কি রেসিস্ট? http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28708398 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28708398 2007-04-29 22:56:07 প্রেমিকার আগের বয়ফ্রেন্ড ১৷ প্রেমিকার আগের বয়ফ্রেন্ডকে কিভাবে নিয়ে থাকেন?
২৷ যদি এমন হয় তার সাথে আপনার প্রেমিকার সম্পর্ক বেশ ইনটেন্স ছিল?
৩৷ যদি এমন হয় শরীরী সম্পর্ক ছিল এবং অনেকদিনের?
৪৷ উপরের সম্পর্কগুলোতে প্রেমিকার জায়গায় বৌ হলে কি করতেন?

আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে এই তথ্য আগেভাগেই জেনে ফেললে ভালো না পরে জানলে ভালো৷ নাকি আগাগোড়া কখনও না জানলেই সবচেয়ে ভালো?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28708393 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28708393 2007-04-29 22:25:19
সময়ের প্রয়োজনে
তাড়াতাড়ি শেষ করি তাহলে। সেরকম আজকের বাংলাদেশের যাদেরকে পর্দার আড়ালের চালক বলে মনে হচ্ছে তারাও আমার মনে হয় না স্রেফ পরিস্থিতির শিকারের বাইরের কিছু। এবং একই সাথে তারা নিজেদের ব্যাক্তিগত কোন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারবেন (যদি থেকে থাকে) এটা মনে হয় না। বিশ্বটা এবং বাংলাদেশ অনেক বদলে গেছে, আর বাংলাদেশের লোকের গনতন্ত্রে বদ অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অভ্যাস ছাড়ানো সহজ নয়। একবার খাচা খুলে দিলে বন্দি ভীষন করা কঠিন, যদি না অসম্ভব হয়ে থাকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28707484 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28707484 2007-04-23 10:50:05
রঁদেভু
ডকিন্সের বইয়ে উনি, মানুষের ব্রাঞ্চ নিয়ে শুরু করেছেন৷ এর পর সময়ের উল্টো দিকে গিয়ে দেখিয়েছেন পেছনে কাদের রাস্তার সাথে আমাদেরটা মিলে যায়৷ ডকিন্সসুলভ চমত্কার বর্ণনা, আর ইনফরমেশন খুব কনসাইজ আকারে আছে৷ এখানে বলে রাখা ভালো মানুষের ব্রাঞ্চের এমন কোন বিশেষত্ব নেই, এমন নয় যে এটা কোন ধরনের মুল শাখা, অথবা এটাই সর্বশেষ শাখা৷ আসলে অন্য সব শাখাও একই সাথে বিবর্তিত হচ্ছে সবসময়, কোনটাই মুল শাখা বা সর্বশেষ শাখা নয়৷ শুধু কিছু শাখা আছে যেগুলো মরে গেছে (বিলুপ্ত হয়ে গেছে), অনেকটা গাছের মতো যেকোন পাতা থেকে শুরূ করে উল্টো দিকে গেলে সবাই ঘুরে ফিরে একই মুলে গিয়ে পৌছবে, তবে এই পৌছানোর রাস্তায় আরও বড় বড় ডাল পালার সাথে দেখা হবে৷ ডকিন্স সেরকমই করেছেন গোটা চল্লিশেক রঁদেভু পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন যেগুলোতে বিবর্তনের পথে আমরা আমাদের গুরুত্ববপুর্ন কাজিনদের সাথে আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম৷

মজার ব্যপার হচ্ছে মায়ের পেটে যখন আমরা বড় হতে থাকি, তখন এই রঁদেভু পয়েন্টগুলো ঘুরেফিরে আমাদের পার হতে হয়৷ কারন আমাদের অনেক বেসিক মেকানিজম আগেরটাই রয়ে গেছে৷ ওইদিন রঁদেভু 3৫ পড়ছিলাম৷ ৩৫ অবশ্য বহু পেছনে, ১ বিলিয়ন বছরেরও আগে, যখন এমিবা-রা ছিল সবচেয়ে জটিল জীব৷ এমিবা এখনও আছে, এবং বেশ সফলই বলতে হয়৷ যেমন এন্টামিবা কোলাই আমাদের পেটেই থাকে, তবে ক্ষতিকর নয়৷ অবশ্য এর কাজিন এন্টামিবা হিস্টলাইটিকা আমাশয় তৈরী করতে পারে৷

এমিবা এককোষী প্রানী, সাধারনত একাই থাকে৷ কোন খাবার পেলে কোষপ্রাচীর দিয়ে খাবারকে ঘিরে ধরে, হজম করে শুষে নেয়৷ আমার কাছে অনেকদিন ধরেই রহস্য ছিল ঠিক কোন পর্যায়ে এমিবার মতো এককোষী প্রানী থেকে বহুকোষী প্রানী জন্মালো, কারন বহু কোষে সুবিধা যেমন আছে, আবার অসুবিধাও আছে৷ এছাড়া কোষগুলোর মধ্যে একরকম কো-অর্ডিনেশন দরকার৷ মার্কিন বায়োলজিস্ট জে টি বোনার (J. T. Bonner) অবশ্য এই নিয়ে সারাজীবন গবেষনা করেছেন৷

ওনার গবেষনার পাত্র ছিল এরকম একধরনের এমিবা, যারা আসলে এককোষী প্রানী, তবে সুযোগ পেলে বহুকোষী সেজে বসে (dictyostelids)৷ সাধারনত অনেকগুলো কোষ মিলে শামুকের মতো একটা আকার নেয়, অনেক ছোট অবশ্য লম্বায় এক মিলিমিটারের মতো৷ শুরুতে তারা আর দশটা এমিবার মতো খাবার পেলে দুইভাগে ভাগ হয়ে বিভক্ত হতে থাকে (এই এমিবাগুলো ব্যাক্টেরিয়া খায়)৷ তারপর এক পর্যায়ে হঠাত্ করেই সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে সবাই মিলে এগ্রিগেট করতে থাকে৷ একধরনের কেমিকাল দিয়ে এই এগ্রিগেশনের সিগনাল দেয়৷ এগ্রিগেশন হতে হতে একজায়গায় এমিবার স্তুপ জমে যায়৷ এক পর্যায়ে স্তুপের এমিবাগুলো লম্বা হয়ে শামুকের মতো আকার নেয়, এমনকি সবাই মিলে কো-অর্ডিনেট করে শামুকের মতো হাটতে থাকে৷ এভাবে কিছুক্ষন হাটার পর এমিবাগোষ্ঠি যে নতুন প্রানীটা বানিয়েছে সেটা মাথা নীচে দিয়ে (মাথা বলতে হাটার সময় যে অংশটা সামনে ছিল, সত্যিকার মাথা বলতে কিছু নেই এখানে), আর পেছনটা উপরে দিয়ে একটা মাশরুম টাইপের স্ট্রাকচার তৈরী করে৷ এটা হচ্ছে ওদের জীবনের ফাইনাল স্টেজ৷ মাশরুমের ছাতার কাছে যে এমিবা গুলো থাকে ওরা স্পোর হয়ে বার্স্ট করে ছড়িয়ে পড়ে৷ স্পোর গুলো থেকে আবার জীবন চক্র শুরু হয়৷

অদ্ভুত যে এই এককোষী প্রানীগুলো, এরকম অবস্থা বিশেষে বহুকোষীর মতো আচরন করতে পারে৷ ভেবে দেখলাম আসলে আমি নিজেও তো এক অর্থে কয়েক বিলিয়ন আলাদা প্রানীর এগ্রিগেশন৷ আমার শরীরের কোষগুলো চাইলে আমাকে ছাড়াও বাচতে পারে৷ সুবিধাজনক পরিবেশ পেলে আসলে পুরো স্ট্রাকচারটার দরকার নেই, যে যার রাস্তা দেখলে বাধা দেয়া কঠিন৷ আপাতত অবশ্য এরকম বিদ্রোহ যাতে না হয় সে চেষ্টা করতে হবে৷
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28707281 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28707281 2007-04-21 23:30:33
বাংলাদেশ ২.০ (সত্ ও যোগ্য প্রার্থীর খোজে)
কিন্তু আসলেই কি তাই৷ সত্ আর যোগ্য প্রার্থী হলেই সমস্যার সমাধান হবে৷ তারওপর সত্ আর যোগ্য বিচারের মাপকাঠি কি? যদি দুজন প্রার্থী পাই একজন ৯০% সত্ কিন্তু ৫০% যোগ্য, আর আরেকজন ৫০% সত্ এবং ৯০% যোগ্য কাকে বেছে নেব৷ মতিয়া চৌধুরী আর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য কে বেশী সত্ আর কে বেশী যোগ্য? কিভাবে বেছে নেব৷ আসলে এসব প্রশ্নের কোন সোজা সাপ্টা সমাধান নেই, পুরো ব্যাপারটাই আপেক্ষিক৷ আবার পারসেপশনের ব্যাপারও আছে৷ তারেক রহমান যে এত বড় দুর্নীতিবাজ হবে ২০০১ এ কয়জন ভবিষ্যদ্বানী করেছিল? এজন্য সত্ আর যোগ্য প্রার্থীর পিছনে দৌড়ঝাপ করাকে কেন যেন আমার মনে হয় পরশ পাথরের পেছনে দৌড়ানোর মতো৷

যেসব দেশ গনতান্ত্রায়নের মাধ্যমে উন্নতির মুখ দেখেছে, এবং সে উন্নতি ধরে রেখেছে, ধরা যাক যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা জার্মানী, এদের উন্নতির পেছনে সত্ বা যোগ্য লোকের নির্বাচিত হয়ে আসা কতটা ভুমিকা রেখেছে৷ ঠিক জানি না সুশীল সমাজ এসব কেস স্টাডি করেছে কি না৷ একটা ব্যাপার পরিস্কার যে যুক্তরাষ্ট্রের যে ইকোনমিক এঞ্জিন তা আসলে কে কোথায় নির্বাচিত হলো তার ওপর ভীষন ভাবে নির্ভর করে না৷ কিছু নির্ভরশীলতা তো আছেই, কিন্তু মোটের ওপর যেই আসুক না কেন দেশটা চলতেই থাকবে৷ পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশকে চালাতে মোটেই হাই আই কিউ, নোবেল লরেট বা রকেট সায়েন্টিস্টের দরকার হয় না৷ কারন দেশটা আসলে চালায় সিস্টেম, কোন এক ব্যাক্তি বা ব্যক্তি গোস্ঠি না৷ দেশের ব্যবস্থাটা এমন যে কোন খারাপ লোক ক্ষমতায় গেলেও নিয়মের খুব বেশী বাইরে যাওয়া কঠিন৷

আর কংগ্রেসম্যান, সিনেটরদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এসব লেগেই আছে, তাই বলে দেশের চাকা ঘোরা বন্ধ নেই যুক্তরাষ্ট্রে৷ ভিশনারী কোন নেতা থাকলে ভালো, না থাকলেও, বা ভিশনটা যদি ভুলও হয় দেশের ভীষন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম, বা আসলে এখন যেমন দেখতে পাচ্ছি এত বড় ইরাক যুদ্ধের পরও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ধ্বসে পড়ে নি৷ আসলে ভালই চলছে৷

তো এসব কারনে আমার মতামত হচ্ছে সত্ আর যোগ্য প্রার্থী খোজার মতো গোলমেলে, গোজামিলে ভরা লক্ষ্যের চেয়ে জরূরী হচ্ছে এমন একটা সিস্টেম দাড় করানো যেখানে অসত্ আর অযোগ্য লোকও যদি নির্বাচিত হয়ে আসে তাহলেও দেশের যেন বিচ্যুতি না ঘটে, যেমন গত ৫ বছর হয়েছে৷ ভিশনওয়ালা নেতা খোজার আসলে কোন দরকার নেই, নেতার ভিশনে কিছু যায় আসে না, কারন গনতন্ত্রের লক্ষ্য জনগনের ভিশন বাস্তবায়ন করা, কোন নেতা কোন আমলে কি স্বপ্ন দেখে রেখেছেন তা নিয়ে আমাদের নষ্ট করার মত সময় নেই৷ ভিশনবাজ নেতা ঘুরে ফিরে আবার সেই ব্যক্তিপুজার জন্ম দেবে, নিকট অতীতে ড ইউনুসকে নিয়েও তো আমরা সেরকমই দেখলাম৷

আসলে আমাদের দেশের ব্যবস্থা যদি এরকম করা যায় যে, পুরো প্রশাসনিক, এবং বিচার প্রক্রিয়া ভীষনভাবে স্বচ্ছ, এবং রেসপন্সিভ হয় তাহলে ঠিক কে দেশ চালাচ্ছে সেটা কোন ব্যপারই না৷ জবাবদীহীতার প্রক্রিয়াটা ৫ বছরের মতো বড় সাইকেলে আটকে আছে বলেই পিন্টু/লালু/ফালু রা দুর্নীতি করার সুযোগ পায়৷ কারন যদি এমন হতো ফালুকে প্রতি সপ্তাহে তার কর্মকান্ডের জন্য সরাসরি জনগনের প্রশ্নোত্তরের মুখোমুখি হতে হতো এবং সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারলে সাংসদকে সাময়িক অব্যহতি দেয়া হতো, তাহলে আমার সন্দেহ হয় ফালুর পক্ষে কতটা দুর্নীতি করা সম্ভব হতো৷

ঠিক কি কি পরিবর্তন করলে বাংলাদেশকে সামন্ততান্ত্রিক ফাদ থেকে মুক্ত করা যাবে বলা মুস্কিল, তবে উপরে যেমন বল্লাম সরকারের ভেতর স্বচ্ছতা এবং যেকোন সময় দ্রুততার সাথে (ধরা যাক ২৪ ঘন্টা টার্নএরাউন্ড টাইম) জনগনের কাছে উত্তর দিতে পারার যোগ্যতাটা আসলে খুব জরুরী৷ হিমু বেশ কিছু প্রস্তাব রাখছে তার লেখায় ইদানিং, হাতে সময় থাকলে আপনাদের পড়ে দেখা উচিত, এবং বিতর্কে অংশ নেয়া উচিত৷ হিমুর লেখার লিংক - [wjsK=http://jongli.wordpress.com/]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28707266 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28707266 2007-04-21 21:40:02
দিন্কালঃ যদি প্রধান উপদেষ্টা বা জেনারেল হইতাম তাইলে কি করতাম
ঐদিন সাধক, আর মুখফোড় MSN-এ আসছিল৷ কথা হচ্ছিল সরকার আসলে এরকম অবস্থায় কি করতে পারে৷ কারন বাঙালী আমরা সহজেই সমালোচনা করি, কোনটা ভুল তা ধরিয়ে দিতে লোকের অভাব নেই, কিন্তু কোনটা সঠিক, বা কি করলে সঠিক হবে সেই পরামর্শ দেয়ার মতো লোক কম৷ আসলে হয়তো দর্শকের ভুমিকায় থাকতে থাকতে হাততালি আর দুয়ো ধ্বনি দিতেই আমরা অভ্যস্ত, স্টেজে উঠে অভ্যস্ত নই৷ তো মুখফোড় আর শঙ্কুকে বল্লাম, যদি আপনাদেরকে দ্বায়িত্ব দেয়ার হতো বাংলাদেশের ঠিক এই মুহুর্তে তাহলে কি করতেন৷

সাধক আর মুখফোড় দুইজনের জানাশোনা যেমন বেশী, আবার ওরা মেধাবীও৷ ওদের লেখা থেকেই বোঝা যায়৷ তো আমার প্রশ্ন একটু হঠাত্ করেই ছিল, ওরা বিভিন্ন সমাধানের কথা বললো, আমিও বললাম কি করা যেতে পারে৷ ইন্টারেস্টিং হচ্ছে প্রাথমিক যে সমাধান গুলো বলতে লাগলাম সেগুলো ঘুরে ফিরে পরিচিত একনায়কদের কাজের মতো মনে হতে লাগলো৷ একজন আরেকজনের প্রস্তাবে সহসাই অনেক দুর্বলতা খুজে পেলাম, যেমন ঠিক কি ভাবে রাজনীতিতে শুদ্ধিকরন অভিযান চালানো যায়, দেখা গেল আমরা যেসব সমাধান দিচ্ছি এগুলো স্টালিন, বা হিটলারের মতো লোকেরা আরও ৫০ বছর আগে করে গেছে, এবং আমরা সবাই এখন জানি তার ফলাফল কতটা ভয়াবহ হয়েছিল৷

আসলে ঘটনা হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থার কোন সহজ সমাধান নেই৷ যত সহজে আমরা সমালোচনা করি, তত সহজে এর সমাধান বের করা সম্ভব না৷ তো এখন ব্লগারদের কাছে প্রশ্ন, আপনি যদি ফখরুদ্দিন বা জে মঈনের জায়গায় থাকতেন তাহলে কি করতেন? চলুন বিতর্ক করি৷ একজন আরেকজনের প্ল্যানের দুর্বল দিকগুলো বের করি৷ হয়তো কোন সমাধান বের হয়েও আসতে পারে৷
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28707204 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28707204 2007-04-21 13:28:07
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালাঃ ডেনালী, আলাস্কা (৩)
খোলা মাঠের মতো জায়গায় বুড়ির দোতলা বাড়ি৷ আরও কাস্টমার আছে, তাই চুপচাপ চাবি নিয়ে রুমে ঢুকে গেলাম৷ কথা ছিল অরোরা দেখার চেষ্টা করব, যদিও প্লেনে দেখে আসছি, এখন মাটি থেকে দেখতে চাই৷ ঘন্টাখানেক ঘুমিয়ে নিঃশব্দে দরজা খুলে বাইরে এলাম৷ ঘুটঘুটি অন্ধকারের মধ্যে বিশাল আকাশ৷ ভয়াবহ৷ আকাশটাও কেমন অপরিচিত৷ ধ্রুবতারা সবসময় উত্তর দিগন্তে দেখে এসেছি, এখানে একদম মাথার উপরে৷ সপ্তর্ষী মন্ডলও তাই৷ আমাদের দেশে যেমন তারা গুলো পুর্ব থেকে পশ্চিমে যায়, এখানে ব্যাপারটা তা নয়৷ ধ্রুবতারা যেমন কখনই অস্ত যায় না এখানে৷ সপ্তর্ষী, লঘু সপ্তর্ষী, ড্রাকো সারারাত আকাশে থাকে, ধ্রুবতারার চারপাশে ঘুরতে থাকে৷ কেমন একটা অস্বস্তি লাগছিল আমার৷ কে জানে ঝোপঝাড়ে হয়তো কোন ভাল্লুক লুকিয়ে আছে৷ মিনিটখানেক আকাশ দেখে দৌড়ে রুমে ঢুকলাম, থাক পরে দেখবো সবার সাথে, একা দেখে কাজ নেই৷

সকালে তাড়াতাড়ি উঠলাম৷ ৮ টায় ডেনালীর বাস৷ ১৩/১৪ ঘন্টার জার্নি৷ ব্রেকফাস্ট ছিল ভালই, মাফিন, ব্রেড, ডিম, কমলার রস এসব৷ খেয়েদেয়ে বুড়ির সাথে ছবি তুলে ডেনালীর রাস্তা ধরলাম৷ একবার বাসে ঊঠলে কোন খাওয়া নেই, এজন্য সাবওয়ে থেকে স্যান্ডউইচ কিনলাম৷ বাসের টিকেট কিনতে গিয়ে দেখি আমার বাত্সরিক ন্যাশনাল পার্ক পারমিট এক্সপায়ার করে গেছে৷ আরেকটা কিনতে হলো৷ বহু লোকজনের ভীড়৷ ক্যাম্পিং করতে যাচ্ছে অনেকে, কেঊ বাসে আমাদের মতো, অনেকে আবার গাইডেড ট্যুর নিয়েছে৷

ডেনালী, আলাস্কার মধ্যভাগের বিশালাকৃতি ন্যাশনাল পার্ক৷ ৯ হাজার বর্গ মাইল আকারে, মানে বাংলাদেশের পাচ ভাগের একভাগ৷ পুরো উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে উচু চুড়া এই পার্কের মধ্যভাগে, মাউন্ট ম্যাকিনলী৷ এমনিতে পাহাড়ি পার্কটার নীচু এলাকায় তৈগা বনভুমি, একটু উচুতে গেলে তুন্দ্রা এলাকা শুরু হয়েছে৷ তুন্দ্রার ঘটনাটা হচ্ছে মাটির নীচে এখানে জমাট বাধা বরফ, সারা বছরে কখনই ঐ বরফ গলে না, এজন্য বড় গাছ জন্মাতে পারে না৷ প্রানীর মধ্যে মনে হয় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রীজলী ভালুক (বা ব্রাউন বেয়ার), বল্গা হরিণ, মূজ, ডাহ্ল ভেড়া, গ্রে উল্ফ৷

গ্রীজলী ভালুক তাদের হিংস্রতার জন্য পরিচিত৷ অনেকে দেখলাম পেপার স্প্রে (মরিচের গুড়া) নিয়ে এসেছে, ভালুককে ভয় দেখানোর জন্য৷ আমাদের অবশ্য বাস থেকে নেমে বীরত্ব দেখানোর কোন ইচ্ছা নেই৷ আর এমনিতে জংলী প্রানী খুব ভয় পাই, আমার আফ্রিকান পুর্বপুরুষরা লক্ষ বছর আগে সাভান্নাতে সিংহ দেখে যে ভয় পেত সেটা এখনও আমার ভেতরে আছে৷ চিড়িয়াখানায় ভয় লাগে না, কিন্তু যতবারই সত্যিকার জংগলে গিয়েছি ততবারই বেশ ভয় পেয়েছি৷ অথচ এখানে অনেকে বেশ অবলীলায় ক্যাম্পিং করতে যাচ্ছে৷ গ্রীজলী ভালুকের আক্রমন বেশ কমন৷ যে বিরান এলাকা, কোন সেল ফোন, বা লোকালয় নেই কয়েকশ মাইলের মধ্যে, সুতরাং বিপদে পড়লে নিজের বুদ্ধিই ভরসা৷

বাসের ড্রাইভার নেটিভ আমেরিকান, হয়তো আলেউট বা আথাবাস্কান৷ রাস্তা বেশ আকাবাকা, এবং কাচা৷ ১৪ ঘন্টা এই জার্নি করতে হবে ভেবে একটু ভয়ই লাগছিল৷ শুরুতে গতদিনের বিকেলের মতোই প্রকৃতি , একটু ইনটেন্স৷ আস্তে আস্তে ইনটেন্সিটি আরও বাড়তে লাগলো৷ বাস একপাশের পাহাড় ঘেষে যাচ্ছিল, মাঝে বিশাল ছড়ানো উপত্যকা, আর আকাবাকা নিনানা (Nenana) (ছবি দিয়েছি) এবং স্যাভেজ নদী৷

বাসের যাত্রীদের বেশির ভাগ অন্যদেশ থেকে এসেছে, জাপান বা ইউরোপ থেকে৷ সবাই হাতে ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে রেডি৷ অনেকে দেখি একদম টেলোফটো লেন্স ওয়ালা ক্যামেরাও নিয়ে এসেছে৷ এত হাকডাক দেখে বেশ দাম দিয়ে কেনা SLR টা লুকিয়ে ফেলতে ইচ্ছা হচ্ছিল৷ সবচেয়ে সহজলভ্য মনে হয় ক্যারিবু, অনেক দেখলাম রাস্তার আশে পাশে, মনে হয় এরাই গ্রীজলীর সহজ শিকার৷ আগের দিন একটা মুজ দেখলেও আজকে একটাও দেখলাম না৷ পাহাড়ের গায়ে কিছু ডাহ্ল ভেড়া (Dahl Sheep) দেখলাম, এত দুরে যে খালি চোখে বোঝা যাচ্ছিল না, দূরবীন দিয়ে দেখলে বোঝা যায়, যে ভেড়া ছিল ওগুলো৷ কিন্তু দুপুর পর্যন্ত গ্রীজলীর দেখা মিললো না৷ আরেকটা ব্যর্থতা মাউন্ট ম্যাকিনলী দেখতে না পাওয়া, মেঘে পুরোটাই ঢেকে ছিল৷

দুপুরে একটু বিরতি দিয়ে বাস চলতেই রাস্তার পাশে মনে হলো ঝোপে কালো মতো কি যেন নড়ছে৷ ড্রাইভার তাড়াতাড়ি ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল৷ নাহ, ঠিকই আছে একটা বাচ্চা ভালুক, তার মানে মা ভালুকটা নিশ্চয়ই কাছেই আছে৷ বলতে বলতেই বের হয়ে আসলো বিশালাকৃতির একটা গ্রীজলী৷ এরা মনে হয় মানুষের সাথে বেশ পরিচিত৷ তেমন পাত্তা দিল না আমাদের বাসটাকে৷ গাছগুলোর আড়ালে মনে হয় আরেকটা বাচ্চা ছিল৷ পানির ধারে একটু ঘুরে ফিরে আবার হেলে দুলে ভালুক বাচ্চা সমেত গাছের আড়ালে হারিয়ে গেল৷ উত্তেজনায় বেশী ছবি তোলা হয় নি৷ তবে ১৪ ঘন্টা জার্নির পয়সা উসুল, ভালুক না দেখলে আসলে কষ্ট লাগতো৷

বাকী রাস্তা ক্যারিবু আর তুন্দ্রা দেখতে দেখতে ৩টার দিকে ওয়ান্ডার লেকে পৌছলাম৷ লেকের আশে পাশে বেশ বড় করে ওয়ার্নিং দেয়া৷ বেয়ার কান্ট্রি৷ যেকোনো সময় ঝোপ থেকে বের হতে পারে৷ বাসের ২০-৩০ জন লোক থাকাতে তেমন ভয় করছিল না৷ আর ভালুক ব্যাটারও তো ভয় আছে৷ অনেকে ব্লু বেরী খাচ্ছিল জংলা জায়গাটা থেকে৷ আমি মুখে দিয়ে দেখলাম এমন আহামরি কিছু না, দোকানে যেগুলো পাওয়া যায় ঐগুলাই, আধোয়া আর কি৷ বাথরুম টাথরুম সেরে নিলাম৷ ক্যামকর্ডারের ব্যাটারী দেখি যায় যায় অবস্থা৷ লোকালয় থেকে এত দুরে কোন ইলেকট্রিসিটিও নাই যে চার্জ দেব৷

আসলে যে টা ভুল করেছিলাম তা হলো যথেষ্ট খাবার না নিয়ে আসা৷ বিকালের মধ্যে ভালো ক্ষুধা লাগলো৷ ফেরার পথে ক্ষুধায় দেখি প্রাকৃতিক দৃশ্যও আর ভালো লাগছে না৷ দলের দু-একজন ঘুমিয়ে ক্ষুধা চাপা দেয়ার চেষ্টা করলো৷ সন্ধ্যা নাগাদ ফিরলাম, টায়ার্ড, তারওপর আধাদিন কাচা রাস্তার জার্নিতে শরীরে হাড়গোড় অনেকগুলাই ব্যথা করা শুরু করেছে৷

[চলছে…]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28707195 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28707195 2007-04-21 12:44:40
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব ু এর পক্ষে প্রমান কি? ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28705915 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28705915 2007-04-13 03:31:00 প্যারাডাইম শিফট
আমাদের লাইফস্টাইলেও প্যারাডাইম শিফট হচ্ছে। সবচেয়ে মজার হচ্ছে মুল্যবোধের পরিবর্তন। 60 এর দশকে আমাদের বাবা-মারা তাদের বাবা মায়ের সাথে যুদ্ধ করেছেন তখনকার পরিবর্তনের অধিকার নিয়ে। আবার 90 এ এসে তারাই আবার তাদের ছেলেমেয়েদের ওপর 30 বছরের পুরোনো মুল্যবোধ চাপিয়ে দিতে চাইলেন। কে জানে এক প্রজন্ম পরে আমরাও হয়তো তাই করব, বেকে বসব নতুনকে মেনে নিতে।

এজন্য ইদানিং মনে হয় গ্যালিলিওকে যে পোপ ইনকুইজিশনের সামনে দাড়াতে বাধ্য করেছিলেন, হয়তো পোপ মানুষ হিসেবে খারাপ ছিলেন না। কেবল প্যারাডাইম শিফট টা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল। গ্যালিলিও প্রমান করলেন যে পৃথিবী আসলে বিশ্বের কেন্দ ্রথাক দুরের কথা সৌরজগতের সেন্টারেও না। এতদিনের বিশ্বাস স্রেফ গ্যালিলিওর প্রমানের ওপর ভিত্তি করে ছুড়ে ফেলা মুস্কিল, হয়তো একদিক থেকে ঠিকও আছে। আসলে মানুষ নিজেকে যেমন সৃষ্টির সেরা ভাবে সেখান থেকে তাকে সরালে মেনে নেবেই বা কেন। একই অবস্থা হলো কয়েকশ বছর পর ডারউইন যখন বললেন বানর আর মানুষের পূর্বপূরুষ একই ছিল। আবার মানুষকে তার অবস্থান থেকে সরানোর চেষ্টা। দেড়শ বছর পর এখনও বহু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠি ডারউইনের সুত্রের সরাসরি প্রমান থাকার পরও মেনে নিতে পারছে না। আসলে মানুষ তার বিশ্বাসকে সত্যের সাথে গুলিয়ে ফেলে, বিশ্বাস যে কেউ যত খুশী করতে পারে, এক বিলিয়ন লোক নিয়ে করতে পারে, কিন্তু তাই বলে বিশ্বাস করলেই সত্য হয় না। এই নিয়ে আমার একটা পোস্টও আছে, গ্যালিলিওর সময় কোটি কোটি লোক বিশ্বাস করত সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, তাই বলে মানুষের বিশ্বাসকে মুল্য দিয়ে সূর্য কিন্তু পৃথিবীর চারদিকে ঘোরা শুরু করে নি। সত্যি কথা বলতে কয়জন কিভাবে কি বিশ্বাস করছে এর সাথে সত্যমিথ্যার কোন সম্পর্ক নেই।

ঐদিন মুখফোড়ের সাথে চ্যাট হচ্ছিল। মুখফোড় ব্লগের সবচেয়ে ট্যালেন্টেড ব্লগার সন্দেহ নেই। তাকে বল্লাম 25 বছর পর মানুষের তৈরী যন্ত্রের বুদ্ধি মানুষের চেয়ে বেশী হবে। কিন্তু এই ঘটনা হঠাৎ করে ঘটবে না। তার আগে আমরা নিজেরাই যন্ত্রের সাথে ইন্টিগ্রেটেড হয়ে যাব। এ প্রক্রিয়া এখন অল্প অল্প করে শুরু হয়েছে। যেমন পকেটে আইপড বা পিডিএ হচ্ছে এর প্রথম ধাপ। উন্নতবিশ্বে মোবাইল ডিভাইস এখন এমন পার্ভেসিভ যে ক্রমশ ডেস্কটপের ওপর নির্ভশীলতা কমে যাচ্ছে। 2009 এ মোবাইল কম্পিউটারের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ডেস্কটপের চেয়ে বেশী হবে। তবে 2030 এর পরিবর্তনের তুলনায় এগুলো এখনও আদিম যুগে আছে। এখনও কম্পিউটারের সাথে মানুষ বায়োলজিকালী ইন্টিগ্রেট করে নি। হয়তো আর 5/7 বছর লাগবে তার জন্য। এর একটা সুবিধা হচ্ছে আমরা সিলিকন চিপ ইম্প্ল্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করতে পারব। শরীরের ভেতর এরকম মেমরী চিপ থাকলে যেমন কোন কিছু মনে রাখার জন্য শুধু বায়োলজিকাল নিউরনের ওপর নির্ভর না করে চিপে ঘটনা স্মৃতি সেভ করে রাখা যাবে। যেমন হঠাৎ কিছু দেখলাম, ডিজিটাল ক্যামেরা নেই সাথে, কিন্তু তাতে কি, যা দেখছি সরাসরি চোখ থেকে ইম্প্ল্যান্টেড চিপে লিখে রাখব, পরে অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারব। সবচেয়ে মজার হচ্ছে অনুভুতি সেভ করে রাখা গেলে কি হবে। যেমন কেউ যদি তার প্রেমিকাকে চুমু দিয়ে কেমন লাগছে এটা সেভ করে রাখে, তাহলে পরে অন্যরা একই অনুভুতি তাদের ব্রেইনে রিলোড করতে পারবে। আসলে সবচেয়ে বড় যে সামাজিক পরিবর্তন সে টা আসছে, 2020 দশক থেকে শুরু হয়ে যাবে।

মুখফোড়কে ব্লল্লাম একটা পর্যায়ের পরে আমাদের শরীরকে রিডিজাইন করতে হবে। কারন প্রকৃতির দেয়া শরীরটার ডিজাইন ভুলে ভরা। এজন্য আমরা বেশীদিন বাচতে পারি না। কিন্তু রিডিজাইন করেও বেশীদুর যাওয়া যাবে না। বড় জোড় 200 বছর বেচে থাকা সম্ভব। এর চেয়ে বেশী চাইলে শরীরটা ফেলেই দিয়ে পুরোপুরি সিলিকন সাবস্ট্রেটে ট্রান্সফার হয়ে যেতে হবে। মুখফোর এটুকু শুনে বেশ দুঃখ পেল, এক পর্যায়ে বলেই বসল "future looks grim"।


তবে মুখফোড় আসলে খুব স্মার্ট মুহুর্তেই সামলে নিয়ে বল্লো , আসলে আমাকে যদি কেউ বলে জেনেটিক অস্তিত্ব চাও, না কি মেমেটিক অস্তিত্ব চাও, তাহলে আমি মেমেটিক টাই নেব। আসলেই তাই। 2030 বেশ দুরে এখনও। তখন আমাদের বেশীরভাগই মেমেটিক অস্তিত্বের জন্য পাগল হয়ে যাবো। ঠিক যেমন আজকের সাইবার ওয়ার্লড 25 বছর আগে অকল্পনীয় ছিল, অথচ এখন এক মুহুর্ত ইন্টারনেট ছাড়া থাকলে মনে হয় কি যেন নেই।

কিন্তু গ্যালিলিও বা ডারউইনের মতো 2030 এর দশকেও একটা ম্যাসিভ প্যারাডাইম শিফট হতে যাচ্ছে। মানুষের তৈরী যন্ত্র মানুষকে বিদ্যা, বুদ্ধি আর ক্ষমতায় মানুষকেই হারিয়ে দেবে, তবে ভয়ের কোন কারন নেই, ঘটনাটা ম্যাট্রিক্সের মতো হবে না, বরঞ্চ আমরাই transcend করব সিলিকন সাবস্ট্রেটে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28705785 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28705785 2007-04-11 22:58:59
বাংলাদেশ 2.0 (নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অথবা অপ্রয়োজনীয়তা)
লিংকন বা এ্যরিষ্টটলের সংজ্ঞায় ঠিক নেতা নেতৃত্বের সাথে গনতন্ত্রের সম্পর্কটা পরিস্কার হয় না, অথবা যতটুকু হয় তাতে মনে হয় নেতা বিহীন অবস্থাই বরং বেশী গনতান্ত্রিক। যেমন যেখানে নেতার গুরুত্ব বেশী সবচেয়ে বেশী তাদের মধ্যে আছে রাজতন্ত্র/স্বৈরতন্ত্র বা বিভিন্ন ধরনের ধর্মভিত্তিক তন্ত্র। এগুলোতে একজন বিশেষ ব্যক্তির মতামতের গুরুত্ব অন্য সবার চেয়ে বেশী, অনেক ক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। আবার এরিস্টোক্র্যাসিতে যেমন একদল কূলীন লোকের মতামতের গুরুত্ব বেশী, কার্যক্ষেত্রে তারা নেতৃস্থানীয়। অন্যদিকে গনতন্ত্রে সবাই সমান, এবং সবার মতামতের গুরুত্বও সমান হওয়ার কথা, আর তাই যদি হয় তাহলে গনতন্ত্রে নেতার প্রয়োজনীয়তা তো না থাকারই কথা। কারন এমন যদি হয় নেতা গাড়ি ছুটিয়ে বাসায় যাবেন বলে সব রাস্তা বন্ধ রাখতে হবে, এমনকি মরনাপন্ন যাত্রিকে নিয়ে এম্বুলেন্সও নড়তে পারবে না, তাহলে ঠিক কিভাবে গনতন্ত্র হলো বোঝা মুস্কিল (এই ঘটনাটা ঘটেছিল কয়েক মাস আগে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর যাওয়ার সময়)। রাজার রথ যাত্রা রাজতন্ত্রে মানানসই, কিন্তু গনতন্ত্রে নয়।

এটুকু ভেবে আমার মনে হলো যে, গনতন্ত্রের 100% প্রয়োগে আসলে কোন নেতা থাকার কথা নয়। বরং নেতা না থাকাটাই (নিদেনপক্ষে এইসব নেতাদের গুরুত্ব কম থাকা) গনতন্ত্রের লক্ষন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ সব গনতান্ত্রিক দেশেই নেতা নির্বাচন গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটা অংশ। কিন্তু কেন? এতে কি গনতান্ত্রিক চেতনা ব্যহত হচ্ছে না। হচ্ছে বলেই তো মনে হয়। যেমন বৃটেনের জনগোষ্ঠির একটা বড় অংশ ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও ওদের নেতা ব্লেয়ার ইরাকে সৈন্য পাঠান। দেখা যাচ্ছে নেতার ইচ্ছা অনিচ্ছার গুরুত্ব সাধারনের ইচ্ছার চেয়ে বেশী গুরুত্ব পাচ্ছে, যেটা গনতন্ত্রে হওয়ার কথা নয়। এরকম আরো উদাহরন দেয়া যেতে পারে।

তাহলে গনতান্ত্রিক দেশগুলোতে কেন নেতা নির্বাচনের ব্যাপারটা আছে, যদি নেতা থাকলে ঘুরে ফিরে গনতান্ত্রিক চেতনা ব্যহতই হয়। আমার ধারনা এর একটা কারন টেকনিকাল প্রবলেম। যখন দেশের জনসংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে লক্ষ বা কোটিতে যায় তখন সমস্ত সিদ্ধান্তের জন্য বারবার জনগনের কাছে যাওয়া মুস্কিল। আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে, যেমন বৃটেনে তাদের গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা কয়েকশ বছরের পুরোনো। সুতরাং যুদ্ধে যাবো কি না এর জন্য, জনে জনে ভোট নেয়া কঠিন, অন্তত দুশ বছর আগে চিন্তা করলে কঠিন বা অসম্ভব ছিল। সুতরাং ব্লেয়ার সম্ভবত পার্লামেন্ট থেকে অনুমোদন নিয়েই তার কাজ সেরেছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে জনে জনে মতামত নেয়ার সমস্যা থেকে ঊদ্ধার পাওয়ার জন্য যে সমাধান তা ঘুরে ফিরে গনতন্ত্রের মৌলিক চেতনাকে আঘাত করছে।

আমাদের দেশের ইতিহাসে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। সাংসদরা প্রথম অধিবেশনেই নিজেদের বেতন ভাতা বাড়িয়ে নেন। তারপর ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমাদানী থেকে শুরু করে রিলিফের বন্দোবস্ত কোনটাই বাদ যায় না। দু'দলের মধ্যে সব ক্ষেত্রে সাপে-নেঊলে সম্পর্ক থাকলেও এসব ব্যাপারে ভিন্নমত দেখা যায় না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে টেকনিকালিটির সে সমস্যা আছে তার বর্তমান সমাধান (নেতা নির্বাচন) গনতন্ত্রকেই ধ্বংস করছে।

কিন্তু অন্য আর কি সমাধান আছে, বা আদৌ কোন সমাধান কি আছে। আমার ধারনা আছে। আসলে নেতাবিহীন ব্যবস্থা খুবই সম্ভব। তবে তার জন্য বেশ কিছু ইনফ্রাস্ট্রাকচার দরকার যা একবিংশ শতাব্দিতে মানুষের পুরোটাই আছে। আমাদের ব্যাক্তিপুজা মানসিকতা যে আমাদের কত ক্ষতি করছে আমরা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না। দেশের দুর্নীতি যে এরকম মহামারী আকার নিল তার পেছনেও নেতাভক্তি দায়ী, যে দল সমর্থন করি সে দলের নেতাদের দোষ দেখেও দেখতে চাই না, ঠিক এ কারনেই নেতারা মাথায় উঠে বসেছে। আরেকটা আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা হচ্ছে সত্যই যদি এরকম অধিকতর গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমরা যেতে পারি আমরা অদুর ভবিষ্যতে পাশ্চাত্যকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার একটা রিয়েলিস্টিক প্ল্যান করতে পারি। কারন আগের লেখাতেই আমি দেখিয়েছি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রগতির জন্য গনতন্ত্র একটা পুর্বশর্ত। যত গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমরা যেতে পারব তত বেশী আমাদের উন্নয়নের চাকা ঘুরতে থাকবে। আসলে 5 বছরে একবার 300 আসনে ইলেকশন হলেই যে দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না এটা এতদিনে নিশ্চয়ই পরিস্কার হয়েছে।

বাংলাদেশে পদে পদে যে কত ধরনের অসাম্য/বর্ণবাদ তা আমাদের চোখে সহজে ধরা পড়তে চায় না। আমাদের অনেকে যারা ভাগ্যক্রমে অবস্থাপন্ন পরিবারে জন্মেছি তাদের হয়তো কমই এসবের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আমার মনে আছে শিক্ষা বোর্ড অফিসে একবার মার্কশিট ইংরেজীতে ট্রান্সলেট করতে গিয়েছিলাম। কোথায় পড়ি শুনে বোডের্র কর্মকর্তা লাইন ভেঙ্গে আরো 50 জনের আগে আমার মার্কশীট দিয়ে দিলেন। অথচ জামালপুর, নেত্রকোনার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেকে সকাল থেকে লাইন দিয়ে দাড়িয়ে ছিল। শুধু খালেদা হাসিনাকে বদলে লাভ হবে বলে মনে হয় না, সমাজে এবং আমাদের মানসিকতায় গনতন্ত্র দরকার। এরকম ব্যবস্থা দরকার যেখানে পটুয়াখালীর আমতলী, বা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একজন তরুন, ঢাকা শহরের একজন তরুনের সমান সুযোগ পায়। আর এর শুরুটা করতে হবে বিশেষ সুবিধা দেয়ার প্রথা বাদ দিয়ে, ব্যক্তি পুজা, বংশ পুজা, কৌলিন্যবাদ ছেড়ে দিতে হবে, রাজা-রানী, রাজপুত্র, যুবরাজদের বিদায় দিতে হবে, কারন গনতান্ত্রিক দেশে আমরা সবাই রাজা।

নেতা বিহীন, অথবা নিদেন পক্ষে নেতাদের গুরুত্ব কমিয়ে ঠিক কি রকম গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্ভব, এসব নিয়ে পরের লেখাগুলোতে লিখব, আর হিমু তো লিখছেই !@!17417
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28705450 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28705450 2007-04-09 02:12:30
বাংলাদেশ 2.0 (গনতন্ত্র আর প্রযুক্তি)
আমরা একটা পোষা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি যে সত্যিই যদি বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা পাল্টানোর সুযোগ আসে তাহলে আমরা ঠিক কি করতাম। অথবা আরেকভাবে বললে যদি স্ক্র্যাচ থেকে ডিজাইন করার সুযোগ দেয়া হয় তাহলে বর্তমান অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা কেমন ব্যবস্থা চাই, যেন দেশের প্রগতির চাকাকে ত্বরান্বিত করা যায়, একুশ শতকে প্রথমার্ধেই (যেমন 2020 এর আগে) আমরা স্বল্পোন্নত দুর্নাম ঘোচাতে পারি। হিমু তার লেখাগুলো এখানে পোস্ট করছে, !@!17253 , প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিতর্ক করা যেতে পারে।

তো আজকের লেখার মূল প্রসঙ্গে আসি। বেশ কিছুদিন ধরেই আমার ধারনা হচ্ছে গনতন্ত্র আর প্রযুক্তিগত উন্নতির মধ্যে একটা সিম্বায়োটিক রিলেশনশীপ আছে। তার আগে বলে নেই আমরা উন্নয়ন বলতে যা বুঝি তা আসলে ঘুরে ফিরে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। যেমন গ্রামে বেড়াতে গিয়ে যদি দেখি গতবছরের কাচা রাস্তা এবার পাকা হয়েছে তখন মনে হয় কিছু উন্নতি হয়েছে, আবার যেমন 70 দশকে আমাদের যে খাদ্য ঘাটতি ছিল টা আর এখন নেই, যদিও দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুন হয়েছে, এটাও সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তির জন্য। আসলে মানুষ হিসেবে অন্য প্রানীর সাথে আমাদের একটা মৌলিক পার্থক্য প্রযুক্তির ব্যবহার আর তার মাধ্যমে পরিবেশকে ক্রমশ নিজের অনুকুলে ব্যবহার করার ক্ষমতা। জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসার আসলে সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি, বা আরো সংক্ষেপে বললে উন্নয়নের মূল ঊপকরন হচ্ছে knowledge।

খেয়াল করলে দেখব আধুনিক বিশ্বে যেসব দেশ তাদের knowledge base বাড়িয়েছে তারাই আসলে ঊন্নতি করছে। উদাহরন দেই, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে পৃথিবীর 5% লোক থাকে, কিন্তু বিশ্বের 25% বা তারও বেশী রিসার্চ হয় যুক্তরাষ্ট্রে, ফলাফল হিসেবে সমসাময়িক সমস্ত বড় বড় যুগান্তকারী আবিস্কার, আর প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার ঊদ্ভাবন গুলো ঘুরে ফিরে বেশীরভাগই যুক্তরাষ্ট্রে হয়। যেমন এই যে ইন্টারনেট প্রযুক্তি, ইনফরমেশন টেকনোলজি প্রায় পুরোটার জন্যই কৃতিত্ত্ব পাবে যুক্তরাষ্ট্র আর তার গবেষকরা। আমাদের দেশে খাদ্য বিপ্লবের কথা যে বললাম একটু আগে (এবং জেনেটিকালী পরিবর্তিত শস্য), তাও কিন্তু শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে এবং পরে তাদের অর্থায়নে। বড় বড় টেকনোলজি কম্পানী যেমন ইন্টেল, মাইক্রোসফ্ট বা গুগলও ওখান থেকেই শুরু করে। আবার মুসলিম দেশগুলোতে যেমন বিশ্বের জনসংখ্যার 25% বা তারও হয়তো বেশী আছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের অগ্রগতিতে এসব দেশের অবদান 5%ও কিনা সন্দেহ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিছু কিছু দেশ কেন সভ্যতার knowledge base অনেক অবদান রাখছে আবার কেউ কেউ কিছুই করছে না। যেমন বাংলাদেশ, গত 35 বছরে বিশ্বের দরবারে আমাদের অবদান কি? আমরা যদি এই 35 বছর না থাকতাম দুনিয়ার ভীষন কোন ক্ষতি হতো বলে মনে হয় না। আমাদের দেশে কেন টমাস এডিসন, বিল গেটস, বা রিচার্ড ডকিনসরা জন্মায় না, যতটুকু উন্নতি আমরা করেছি তাও পাশ্চাত্য থেকে ধার করা জ্ঞান দিয়ে। আমাদের ঊদ্ভাবনী ক্ষমতা কি এতই কম।

এর ঊত্তর ঘাটতে গিয়ে মনে হলো, মধ্যযুগে ইউরোপেও বহুদিন সভ্যতা আটকে ছিল। আবার ঠিক রেনেসার পরেই ওদের চাকা তরতর করে ঘুরতে লাগলো। অসংখ্য নতুন আবিস্কার হলো, নিঊটন, হাইগেন্স, হুক এসময়েরই লোক। এর পর একে একে স্টীম এঞ্জিনের আবিস্কার, আর তার পর ম্যাসিভ ইন্ড্রাস্ট্রিয়ালাইজেশন। হঠাত্ করে এই যে ফ্লাড গেট খুললো এর পেছনে আসলে ছিল ইউরোপে মুক্তচিন্তার আবির্ভাব, রেনেসার মাধ্যমে, চাচের্র প্রভাব ক্রমশ কমে যেতে থাকলো, ধর্ম যে শেকল দিয়ে মানুষকে বেধে রেখেছিল তা আস্তে আস্তে ভেঙ্গে যেতে বাধ্য হলো। আর মুক্তচিন্তার শেকড় জন্মদিলো গনতন্ত্রের। রাজতন্ত্র, ধর্মতন্ত্র, ঈশ্বরতন্ত্রের তিরোধানে গনতন্ত্রের আবির্ভাবেই কিন্তু ইউরোপ বাকি বিশ্বকে যোজন যোজন পিছনে ফেলে এগিয়ে গেল। আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সবচেয়ে ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্র গনতন্ত্রের দ্বিতীয় দফার পুরোনো দেশগুলোর একটা (বাকীগুলোর মধ্যে আছে বৃটেন, ফ্রান্স ইত্যাদি)।

এমনকি এখনকার বিশ্বের ধনী এবং ঊন্নত দেশগুলোর সবগুলোই গনতান্ত্রিক। মুসলিম বিশ্বের ঊদাহরন দিলাম যে একটু আগে, এই দেশগুলোতেই গনতন্ত্রের খুব অভাব, আবার এগুলোর অনেকেই বিশ্বের দরিদ্রদেশগুলোর এক একটা। অনেকে তেল বিক্রি করে সাময়িকভাবে সম্পদশালী হয়েছে, তেল শেষ হলে এরা যে কোথায় যাবে বলার অপেক্ষা রাখে না।

তো দেখা যাচ্ছে পরিস্কারভাবেই অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য উন্নতির সাথে মুক্তচিন্তা করার সুযোগ এবং গনতন্ত্রের ভীষন সরাসরি সম্পর্ক। আবার ঊল্টোটাও সত্যি। কারন গনতন্ত্র একটা ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। রাজতন্ত্র বা হারেমতন্ত্র সে তুলনায় সহজ, এবং অবভিয়াস। মানুষ ছাড়া অন্যপ্রানীদের সামাজিক ব্যবস্থাতেও তাই, জোর যার মুল্লুক তার, সবার সমান অধিকারের ধারনা, এবং বাস্তবে সেটা নিশ্চিত করা আসলে অনেক কঠিন। একটা নির্দিষ্ট পরিমান প্রযুক্তিগত সাপোর্ট না থাকলে গনতন্ত্র ধরে রাখা কঠিন।

ঠিক যে রকম হয়েছিল গ্রীক নগর সভ্যতার গনতন্ত্রের যুগে। আসলে এমনকি মধ্যযুগেও গনতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য, বিশ্বের করে বড় বড় সাম্রাজ্যে কোন ধরনের ইনফ্রস্ট্রাকচার ছিল না। সুতরাং কেউ তখন গনতন্ত্র নিয়ে হাজির হলেও কতদিন ধরে রাখতে পারত সন্দেহ আছে। এমনকি দু'শ বছর আগের ইউরোপের গনতন্ত্রের সাথে এখনকার ইউরোপের গনতন্ত্রের গুনগত পার্থক্য আছে। বিশেষ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে। এখন পুরো প্রক্রিয়াটা অনেক স্বচ্ছ এবং তার কারন প্রযুক্তির সুবিধা। যেমন রেডিও-টিভি একাই গনতন্ত্রের জন্য ভীষন সহায়ক শক্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে যখন ক্যু হয় তখন আর্মি সবার আগে রেডিও টিভি দখল করে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে গনতন্ত্রের প্রাথমিক সহায়ক শক্তি হচ্ছে প্রযুক্তি। প্রযুক্তির যতই প্রসার হচ্ছে গনতন্ত্রও তত ছড়িয়ে পড়ছে, এর একটা কারন বোধহয় প্রযুক্তি সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করে দিচ্ছে, কারন প্রযুক্তির প্রসারের একটা ফলাফল হচ্ছে, এটা সাধারন মানুষের ক্রমশ নাগালের মধ্যে চলে এসে সবাইকে সুযোগ করে দিচ্ছে জানার, বোঝার এবং মতামত প্রকাশ করার।

এজন্য আমার ধারনা আমরা যখন নতুন কিছু করব বাংলাদেশকে নিয়ে, তখন প্রযুক্তিগত অবস্থানের দিকটা সবার আগে মাথায় রাখতে হবে। যেমন গনতন্ত্র নিজে কিন্তু বলে দিচ্ছে না যে 4/5 বছর পর পর আমাদেরকে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে, যাদের হাতে আমাদের ভাগ্য সমর্পন করতে হবে। বরং ঊল্টোটাই সত্যি গুটিকয়েক লোকের হাতেই যদি আমাদের ভাগ্য নিভর্র করে, তাহলে তো ঘুরে ফিরে সেই জমিদারী প্রথাই হচ্ছে, গনতন্ত্র থাকলো কই। পার্লামেন্টারী ব্যবস্থাটা অষ্টাদেশ শতাব্দির জন্য বেশী ঊপযোগী, বিশেষ করে রেডিও, টিভি, ফোন এসব প্রযুক্তি যখন ছিল না। 14 কোটি লোক নিয়ে তো আর সংসদ বসানো যায় না। সংসদ প্রথাটা সেজন্য একধরনের শর্টকাট। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে, সুতরাং কাঊকে প্রতিনিধি বানিয়ে সর্বেসর্বা করার প্রয়োজন নেই। গত 15 বছরে আমরা দেখেছি বেড়া কিভাবে আমাদের দেশে ক্ষেত খেয়ে ফেলে। সুতরাং সময় এসেছে অষ্টাদশ শতাব্দির প্রথা বাদ দিয়ে 21শতকের ঊপযোগী একটা সিস্টেম দাড় করানো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28705299 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28705299 2007-04-07 16:04:01
আর্ট লাইফ-1
কার্ল সিমস মনে হয় প্রথম দিককার একজন যারা আর্টিফিশিয়াল লাইফ নিয়ে প্রজেক্ট করেছেন সেই 80র দশকে। তবে এখনকার সময়ে জেনেটিক আ্যলগরিদমের প্রয়োগ অবশ্য অন্য জায়গায়, যেমন জেট ইঞ্জিন ডিজাইন করা, স্টক মার্কেট এনালাইসিস ইত্যাদি। আগের লেখায় লিখছি হিমু আর আমি একটা প্ল্যান করতেছি GA দিয়ে ছড়া লেখানো যায় কি না।

তবে তার আগে আরও কিছু ছোট প্রজেক্ট করে হাত মকশো করছি। যেমন এখানে যেটা দিলাম, চাইলে ডাউনলোড করতে পারবেন GLvb থেকে। আর্টলাইফ আসলে একটা লিমিটেড এনভায়রনমেন্টে বিবর্তনবাদের এক্সপেরিমেন্ট। প্রোগ্রামটা চালিয়ে সিমুলেশন শুরু করলে randomly বেশ কিছু খাবারের সোর্স তৈরী হবে (ধরা যাক এগুলো সালফার প্রস্রবন, ছবিতে বেগুনী রঙের) আর শুরুতে বেশ কয়েকটি প্রানী ছেড়ে দেয়া হবে। শুরুর প্রানীগুলো বেশ সহজিয়া একটা মাথা, একটা পাকস্থলী, আর একজোড়া পা। ওরা চোখ দিয়ে বেশ কিছু দুর দেখতে পারে। শুরুতে সবার ক্রোমোজোম 10 টি করে, প্রত্যেক ব্লকের জন্য তিনটি আর একটা মাস্টার ক্রোমোজোম। খাবার খেয়ে একটা পরিমানের বেশী পেট ভরলে প্রানীগুলো বংশ বিস্তার করে, বংশ বিস্তার অযৌন, মানে ক্লোনিং যেমন ব্যাক্টেরিয়া বা এমিবা করে থাকে। তবে প্রতি প্রজন্মেই বেশ কিছু জিন এ মিউটেশন হবে (এখানে আমি ঠিক করেছি 10%, একটু বেশী অবশ্য)। মিউটেশন হচ্ছে বিবর্তনের চালিকাশক্তি। আর যেহেতু খাবারের উত্স সীমিত ন্যাচারাল সিলেকশন অটোমেটিক শুরু হয়ে যাবে। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে বেশ কিছুক্ষন না খেয়ে থাকলে প্রানীগুলো মারা যায়।

তো এভাবে মিনিটখানেক চালালেই দেখা যাবে এভ্যুলুশন ইন এ্যাকশন। কখনও এমন প্রানী তৈরী হয় যাদের অনেক জোড়া পা, এরা খুব দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গিয়ে খাবার খেয়ে আসে, আরেকদল আবার একাধিক পাকস্থলী বানিয়ে নিয়েছে যাতে একবারে অনেক খাবার খাওয়া যায়, আরেক দল একাধিক মাথা বানিয়েছে যেন অনেক দুর থেকে খাবার খুজে পায় ইত্যাদি। সবচেয়ে মজার হচ্ছে এর মধ্যে আরেকদল পা ঝেড়ে ফেলে শুধু মাথা আর পেট নিয়ে জন্মেছে, এবং এরা বেশ সফল, এরা যেটা করছে ঠিক একটা প্রস্রবনের সামনে ঘাটি গেরে খাবার খাচ্ছে আর সংখ্যা বাড়াচ্ছে, যেহেতু নড়াচড়ার দরকার নেই তাই পা বাদ দিয়ে দিয়েছে, সুবিধাটা হচ্ছে ছোট শরীর হওয়ায় খাবার লাগে কম, আর জন্মায় তাড়াতাড়ি ইফেক্টিভলি এরা হচ্ছে একধরনের উদ্ভিদ, আসলে আমার অজান্তেই এগুলো তৈরী হয়েছে। আমার ধারনা ছিল সবচেয়ে সফল প্রানী হবে ভীষন জটিল কোনটা, দেখা যাচ্ছে আসলে তা না, বরং অনেকে সরলীকৃত হয়ে বেশী সফল হচ্ছে।

পরের উইকএন্ডে প্ল্যান হচ্ছে আরো জেনেটিক ডাইভার্সিটি যোগ করা, একই সাথে ওদের সারভাইভাল আরো কঠিন করে দিতে হবে যেন জেনেটিক এ্যালগরিদম আরো সৃজনশীল সমাধান বের করতে পারে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28704794 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28704794 2007-04-03 12:23:10
সিঙ্গুলারিটি
সায়েন্সের বেশ কিছু আলাদা ধারা অনেক সময় অভিন্ন লক্ষে গিয়ে পৌছায়, যদিও প্রাথমিক ঊদ্দ্যেশ্য ভিন্ন ছিল। ঠিক আজকে 2007 এ যদি বিশ্নেষন করি তাহলে জেনেটিক্স, ন্যানো এঞ্জিনিয়ারিং আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে যথেষ্ট আলাদা মনে হবে। সত্যিকার অর্থে খুব কম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক্স বিষয়টি এঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির অধীনে। আবার ন্যানোটেকনোলজি যেমন সচরাচর সরাসরি কম্পিউটার সায়েন্সের বিষয় হিসেবে ধরা হয় না। রোবোটিক্স সে তুলনায় কম্পিউটার সায়েন্সের পুরোনো বিষয়গুলোর একটা, একসময় বিশেষ করে 70 এর দশকে যতটা প্রমিজিং ফিল্ড ছিল হয়তো এখন পাবলিক পারসেপশনে এর জৌলুশ কিছুটা কমে গিয়েছে বলেই মনে হয়। পাবলিকের কথা যখন চলেই আসল আরও কিছু কথা না বললেই নয়। যেমন স্পেস (মহাশুন্য) এক্সপ্লোরেশন, ষাট আর সত্তুর দশকে আমেরিকা, রাশিয়ার মধ্যে যখন প্রতিযোগিতা যখন তুঙ্গে তখন সাধারন ধারনা ছিল কয়েক দশকেই মানুষ গ্রহে গ্রহে বসতি স্থাপন করবে। আজকে 30 বছর পর আমরা দেখতে পাচ্ছি এখনও মঙ্গল গ্রহেই যাওয়া হয়নি। আবার 70 দশকে ইনফরমেশন টেকনোলজি যে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুত হচ্ছিল পরের 20 বছর গোটা পৃথিবী দখলে নেয়ার জন্য সেটা কিন্তু পরিস্কার ছিল না।

আবার যেমন ইন্টারনেট, 30 বছরের বেশী সময় ধরেই আছে, মুলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু ইন্টারনেট যে এমন বিপ্লব ঘটাবে গোটা দুনিয়া জুড়ে বেশীরভাগের ধারনায় ছিল না। 70 বা 80র দশকে তৈরী তেমন কোন সায়েন্স ফিকশনেই ইন্টারনেটের উল্লেখ নেই। প্রথমে বিপ্লবটা ছিল গবেষকদের জন্য, তারপর 90 এর দশকে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য আর এখন ইন্টারনেট স্মরনকালের সবচেয়ে বড় সামাজিক বিপ্লব ঘটাচ্ছে। তবে দুএকজন লোক আছেন যারা তাদের ভবিষ্যদ্বানী মিলাতে পেরেছেন। অবশ্য এরা কোন ওরাকল নন (ম্যাট্রিক্সে ছিল), যেমন রে কুর্যওয়াইল। অবশ্য সিঙ্গুলারিটির সম্ভাব্যতা বোঝার জন্য সবসময় ফুলটাইম গবেষক হওয়ার দরকার নেই। রে'র স্পেকুলেশন পুরোটা হয়তো মিলবে না, প্রয়োজনও নেই, কিন্তু যেটা পরিস্কার তা হচ্ছে সিঙ্গুলারিটি আসছে, আমাদের বেশীর ভাগের জীবদ্দশাতেই ঘটবে, হয়তো 2030 এ, হয়তো এর আগেই, নাহলে এর অল্প পরে।

90এর দশকে ঠিক যেমন বেশ কয়েকটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য হঠাত্ করেই কয়েকদশকের পুরোনো ইন্টারনেট দ্রুতই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল, সিঙ্গুলারিটিও ঠিক এরকম সায়েন্সের আলাদা কয়েকটা শাখার অগ্রগতির ওপর নিভর্র করছে। তার মধ্যে প্রধান তিনটি হচ্ছে Genetics, Nanotechnology, আর Robotics (GNR)। আমার ধারনা শেষমেশ GNR এর R মুলধারায় পরিনত হবে।

এখন বলা যাক সিঙ্গুলারিটি আসলে কি। সিঙ্গুলারিটি আসলে আসলে টেকনোলজির এমন একটা পর্যায় যখন মানুষের তৈরী যন্ত্রের বুদ্ধি মানুষের চেয়ে বেশী হবে। একটু অস্বাভাবিক শোনায় বটে, তবে ভয়ের কিছু নেই। অবশ্য যন্ত্র এর মধ্যেই অনেক বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ আমাদের চেয়ে ভালোভাবে করে। যেকোন ক্যালকুলেটর আমাদের যে কারও চেয়ে নির্ভুলভাবে এবং দ্রুতগতিতে হিসাব করতে পারে। একটা সময় ছিল দাবার মতো বুদ্ধির খেলা শুধু মানুষ করতে পারে বলে কল্পনা করা হতো। IBM এই উপলক্ষে একটা বড় প্রজেক্ট হাতে নেয় (!@!17081), 1997 এ তখনকার চ্যাম্পিয়ন গ্যারী কাসপারভ ডীপ ব্লুর কাছে হেরে যান। পরিস্থিতি এখন এমন যে পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ নেই যে দাবাতে কম্পিউটারকে (ডীপ ব্লু) হারাতে পারে। কাসপারভ ম্যাচের পরে বলেছিলেন যে মেশিন এমন সব ক্রিয়েটিভ চাল দিচ্ছিল যে কাসপারভ বুঝতে পারছিলেন না। এর পর অবশ্য আরও 10 বছর পার হয়েছে, মুরের সুত্র অনুযায়ী মেশিন জ্যামিতিক গতিতে তার বুদ্ধি বাড়িয়েছে। মেশিন নিয়মিত এমন সব সার্কিট ডিজাইন করে যা মানুষের পক্ষে ঊদ্ভাবন করা দুঃসাধ্য। তবে সব ব্যাপারে মানুষকে ছাড়িয়ে যেতে আরও সময় লাগবে, হয়তো আরো 25 বছর, ওই সময়টাই আমাদের সভ্যতা সিঙ্গুলারিটিতে পৌছবে। মানুষের 10 হাজার বছরের সভ্যতার সবচেয়ে বড় ঘটনা হবে সিঙ্গুলারিটি। মানব সভ্যতার একটা বস্তুগত পরিবর্তন হবে, হয়তো পরবর্তি অংশ বায়োলজিকাল মানুষের চেয়ে যন্ত্রের সভ্যতা হিসেবে অভাবনীয় গতিতে সামনে যেতে থাকবে। তবে পরিবর্তনটা হঠাত করে হবে না, আস্তে আস্তে হতে হতে আমাদের গা সহা হয়ে যাবে, যে যেদিন হবে তার আগেই বুঝে যাব যে এটা অবধারিত ছিল।

পরের লেখা গুলোয় আমি বিস্তৃত করব সিঙ্গুলারিটিতে কিভাবে পৌছানো যায়, আমাদের কি লাভ। তার আগ পর্যন্ত অবশ্য বেচে থাকা খুবই জরুরী, 25 বছর এমন দুরে নয়, সুতরাং জীবনের যত্ন নেয়া দরকার। আর প্রস্তুতিও নেয়া দরকার। হিমু আর আমি একটা প্রজেক্ট হাতে নিলাম এবার, মেশিনকে দিয়ে বাংলা ছড়া লেখাব, 4/5 লাইনের, সৃজনশীল ছড়া, পুরোপুরি মেশিনের লেখা। অবশ্য এখন মনে হচ্ছে 4/5 লাইন বের করতে আমার ডুয়াল কোর আড়াই গিগা হাজের্র মেশিনের কয়েকদিন লাগবে। তাতে অসুবিধা নেই, আমার হাতে সময় আছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28704595 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28704595 2007-04-01 23:51:10
বাংলাদেশের জন্য গনতন্ত্র 2.0
যুক্তরাজ্যের চেয়ে আমাদের গনতন্ত্র সাংবিধানিক ভাবে ভীষনভাবে আলাদা নয়, ভারতের সাথেও মিল আছে। আসলে সব গনতান্ত্রিক দেশগুলোর শাসন ব্যবস্থা ঘুরেফিরে কাছাকাছি। কিন্তু তাহলে ফলাফলে এত পার্থক্য কেন? আমাদের জনপপ্রতিনিধি হয় পিন্টু, লালু, ফালু, হাজারী, শামীম ওসমানরা। এরা নিজেরা গনতন্ত্র কতটুকু বুঝে বা বিশ্বাস করে বলা মুস্কিল।

আসলে গনতন্ত্রের সংজ্ঞায় ঠিক পরিস্কার করে বলা নেই গনতন্ত্র কিভাবে implement করতে হবে। হতে পারে সরাসরি মতামত নিয়ে (যেমন ভোট), হতে পারে প্রতিনিধির মাধ্যমে (যেমন সাংসদ একজন প্রতিনিধি)। তার মানে গনতন্ত্রে সাধারন মানুষের মনোভাবের প্রতিফলনটাই ঊদ্দ্যেশ্য হলেও ঠিক কিভাবে সেটা করা হবে তা নিয়ে অনেক টেকনিকাল সমস্যা আছে।

টেকনিকাল সমস্যা নিয়ে আরেকটু গভীরে যাই। যেমন আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো গনতান্ত্রিক দেশগুলোর একটা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, এখানে 2000 সালের নির্বাচনে আল গোর সবচেয়ে বেশী ভোট পেলেও ইলেকটোরাল কলেজ সিস্টেমের মার প্যাচে বুশকে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। যদিও গনতন্ত্রের সংজ্ঞা অনুযায়ী আল গোরেরই নির্বাচিত হওয়া উচিত ছিল। এটা ঠিক নতুন কিছু না বাংলাদেশেও 1991 নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মোট ভোটে সবচেয়ে বেশী পেয়েছিল, কিন্তু আসন ছিল বিএনপির বেশী। অন্যান্য দেশের ঊদাহরণও টানা যেতে পারে। আবার নির্বাচন ছাড়াও অনেক সময় টেকনিকালিটির কারনে গনতান্ত্রিক দেশে জনগনের মতামতের বিরুদ্ধে শাসক গোষ্ঠী অনেক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বৈধ ভাবেই। আমাদের দেশে তো হরহামেশাই সেটা হয়, বা হয়েছে যেমন সাংসদদের কোটায় শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানীর আইন, আইন হিসেবে সম্পুর্ন বৈধ, কিন্তু দেশের মানুষের সমর্থন কি ছিল? মনে হয় না। তাহলে এ ধরনের আইনকে নিশ্চয়ই লিংকনের গনতন্ত্রের মুল চেতনার সাথে সংগতিপুর্ন ধরা যায় না, অথচ সাংবিধানিক ভাবে এসব আইন সম্পুর্ন বৈধ। লিংকনের দেশেও এরকম উদাহরন আছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে বিভিন্ন দেশের সংবিধানে এসব আপাত অগনতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ কেন আছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে কেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সরাসরি ভোটে না হয়ে ইলেক্টোরাল কলেজ দিয়ে হচ্ছে। কারণ হচ্ছে টেকনিকাল সমস্যা। আড়াইশ বছর আগে টেলিফোন, ক্যালকুলেটর বা কম্পিঊটার ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের মত বড় দেশে এত রাজ্যের সবার ভোট সরাসরি হিসাব করা কঠিন ছিল। সে জন্য শর্টকাট হিসেবে ইলেক্টোরাল কলেজ। আবার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের জন্য জনগনের মতামত বারবার নেয়া কঠিন ছিল, বিশেষ করে টেলিফোন/কম্পিউটারের অনুপস্থিতিতে, সুতরাং গনতন্ত্র কাটছাট করে এমনভাবে implement করা হল যেখানে সরাসরি জন গনের বদলে তাদের প্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত নেবেন (যেমন কংগ্রেসম্যান বা সিনেটর)।

ঠিক এইখানেই সমস্যা। বাংলাদেশের মতো দেশে জনপ্রতিনিধি (সাংসদ) নির্বাচিত হয়ে আসলে বুঝতেই পারেন না তার দ্বায়িত্ব কি? তাদের অনেকের ধারনা তারা এলাকার ইজারা পেয়েছেন 5 বছরের জন্য। সুতরাং জন গনের মতামত সংসদে প্রতিফলিত করার প্রয়োজনও বোধ করেন না। এমনকি আমরা যদি ভাল সব সাংসদ ভবিষ্যতে খুজেও পাই তাহলেও এর সমাধান হবে না। একটা সংসদীয় এলাকায় যদি 5 লাখ লোক থাকে, আইন প্রনয়নের সময় এই 5 লাখ লোকের মতামত নেয়া আসলে কঠিন। সত্ ও যোগ্য সাংসদ থাকলেও যেটা হবে তারা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নিজেদের যেটা ভাল মনে হবে সেই সিদ্ধান্তই নেবেন, অথবা পার্টি লাইনে ভোট দেবেন (যুক্তরাষ্ট্রে অনেক সময়ই যেটা হয়), সুতরাং জন গনের মতামত সরাসরি প্রতিফলনের সুযোগ আসলে কম।

আসলে ঘটনা হচ্ছে এই জনপ্রতিনিধি ব্যবস্থার মধ্যেই গন্ডগোল আছে। যেমন লিখেছি আগে, এখানে এমন টেকনিকাল প্রবলেম আছে যেটা সারিয়ে তোলা অসম্ভব, ভালো লোককে সংসদে পাঠালেও। তাহলে কি করা যায়? আমার ধারনা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য যেখানে গনতান্ত্রিক মুল্যবোধ অগভীর, জনগন নিজেই অনেক সময় গনতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, সেখানে হয়তো অন্যভাবে গনতন্ত্রকে implement করতে হবে।

সমস্যাটা আরেক দিক থেকে যদি দেখি। দেশের উন্নতি করা দরকার, lean-meanপাবলিক কম্পানি গুলো যেমন করে। ধরে নেই বাংলাদেশ একটা পাবলিক কম্পানি, এর 14কোটি শেয়ার হোল্ডার। শেয়ার ননট্রান্সফারেবল, দেশের মাটিতে জন্মালে অটোমেটিক একটা শেয়ার পাওয়া যায়, মরলে শেয়ার বাতিল হয়ে যায়, লোকপ্রতি মাত্র একটা শেয়ার। যেহেতু দেশের জনগন এর ইনভেস্টর সুতরাঙ তাদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। প্রতিনিধি বা এরকম মধ্যসত্ত্বভোগী কোন দালাল গোষ্ঠির দরকার নেই। আরেকটা ব্যাপার, আমরা ধরে নেব এই ব্যবস্থা একবিংশ শতাব্দিতে হচ্ছে, যেখানে টেলিফোন/মোবাইল সুলভ, সবার টেলিভিশন দেখার সুযোগ আছে বা করা যাবে। তাহলে যেটা করা যায়ঃ
1। প্রতি নববর্ষে আমরা দেশের জন্য CEO নিয়োগ দেব, বা hire করব।
2। আগ্রহী প্রাথির্রা তাদের resume জমা দেবে আগেই, টিভিতে লাইভ ইন্টারভিউ হবে। জনগন, সাংবাদিক এরা প্রশ্ন করবে।
3। তারপর ঠিক করা কাকে একবছরের জন্য দ্বায়িত্ব দেয়া যায়।
4। অন্যান্য পোস্টগুলোতেও (এখন যেখানে একজন করে ঊপদেষ্টা আছেন) এভাবে সরাসরি জনগনের সামনে ইন্টারভ্যু দিয়ে নিয়োগ দেয়া হবে।
5। প্রতি দুমাসে পারফর্মেন্স এভাল্যুয়েট করা হবে, খারাপ CEO যেকোন সময় fire করা যাবে। বিশেষ করে যদি দেশ লাভের মুখ না দেখে।
6। যে কোন ব্যাক্তি পরপর 4 বছরের বেশী একই পোস্টে আসতে পারবে না। আর টোটাল 8 বছর হয়ে গেলে অটোমেটিক অযোগ্য হয়ে যাবে।

এসব CEO বা অন্যান্য ঊপদেষ্টারা যেহেতু জনগনের এম্প্লয়ী এবং প্রতি দুমাসে পারফর্মেন্স ঘেটে যেহেতু তাদের সেটা মনে করিয়ে দেয়া হবে, সুতরাং তারা মাথায় চড়ে বসার সুযোগ পাবে না।

ধরা যেতে পারে এটা হচ্ছে ডেমোক্রেসি ভার্সন 2.0 বাংলাদেশের জন্য। আর কোন দালাল সাংসদ চাই না, দেশের মানুষ যেহেতু দেশের মালিক, তারাই সরাসরি তাদের চাকুরেদের নিয়োগ দেবে। রানী মৌমাছি প্রথা বাতিল করা দরকার অবিলম্বে। আরো কিছু আইডিয়া আছে, লিখব, আগে আপনাদের প্রতিক্রিয়া দেখি তারপর।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28704562 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28704562 2007-04-01 14:26:16
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালাঃ অ্যাংকরেজ, আলাস্কা (2)
মোটেলের রিসেপশনিস্ট বিরক্তভাবে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। বাইরে যেমন ভাঙাচোরা অবস্থা ভিতরে আরও খারাপ। এসব মোটেলে বিছানায় প্রায়ই মানুষের লোম পড়ে থাকে, এজন্য এবার বাসা থেকে চাদর নিয়ে এসেছি। ব্যাগ থেকে ক্যামেরা, ফোন, ল্যাপটপ বের করে চার্জে দিয়ে দিলাম। প্লেনে তোলা অরোরার ছবিগুলো ল্যাপটপে ট্রান্সফার করে দেখার চেষ্টা করলাম, পুরান ল্যাপটপের এলসিডিতে দেখাই যাচ্ছিল না, মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল। আলাস্কা GMT-9 টাইম জোনে, রাত দুটার দিকে যখন ঘুমাতে যাচ্ছি তখন আমার বায়োলজিকাল ঘড়িতে প্রায় ভোর হয় হয়।
ফোনের চি্তকারে ঘুম ভাঙ্গলো, আমার বন্ধু তার দল নিয়ে রওনা দিচ্ছে। রওনা দেয়ার খবর এত ঘটা করে জানানোর দরকার ছিল না, কাচা ঘুমটা ভেঙ্গে শরীর খারাপ লাগছিল। বাথরুমে বসে একটু কসরত করলাম, আসলে এত নোংরা মনে হচ্ছিল যে ছেলে হয়েও খুব বেশীক্ষন বসে থাকতে ভাল লাগছিল না। আরেকটু গড়াগড়ি করে গোসল করে ব্যাগট্যাগ নিয়ে বের হয়ে গেলাম।

এই মোটেলে কোন ব্রেকফাস্ট নেই। বিল দিয়ে বের হয়ে আসলাম। একটা বিশাল বড় লিস্ট নিয়ে আসছি আলাস্কায় কি কি করব, আসলে বলতে গেলে 70-80 পৃষ্ঠার চোথা। নানা রকম অল্টারনেট হিসাব করা আছে ওখানে। অ্যাংকরেজ ঠিক সরাসরি প্যাসিফিকের (এক্ষেত্রে গাল্ফ অফ আলাস্কা) পাড়ে না, বরং বাংলাদেশে বরিশাল যেমন কিছুটা ভেতরে অনেকটা ওরকম। ওরা নাম দিয়েছে কুক ইনলেট। এর আবার দুটা শাখা নিক আর টার্নএগেইন আর্ম। একটা দেড় ঘন্টার লঞ্চ (এখানকার ভাষায় ferry) ট্যুর আছে আশে পাশের গ্লেসিয়ার গুলোতে, সকালে দেখি ঐটা ধরা যায় কি না।
প্রচুর ওয়ান ওয়ে রাস্তা এইখানে, এমি্নতেই নতুন জায়গায় আমি পথঘাট চিনতে পারি না। আমার চোথা অনুযায়ী যেখানে লঞ্চঘাট হওয়ার কথা সেখানে এসে দেখি একটা বড় হোটেল, আশে পাশে কোন নদী বা এরকম কিছু নেই। ব্যপার কি। ফোন করার পর টিকেট বিক্রেতা মহিলা বলল আসলে হোটেলটা হচ্ছে টিকেট কাঊন্টার, সত্যিকার লঞ্চঘাট এখান থেকে এক ঘন্টার ড্রাইভ (50 মাইল দুরে)। বলে কি এই মহিলা। ফেরী ছাড়তে আর সময় আছে 15 মিনিট। মনটা খারাপ হয়ে গেল, প্ল্যান করে আসছি কুক ইনলেট ঘুরে দেখব, ধুত্তোর।

অ্যংকরেজ মিউজিয়ামে গেলাম। চমত্কার করে সাজানো। আলাস্কার আদিবাসীদের মধ্যে আছে এস্কিমো (ইনুইট), আথাবাস্কান আর আলিউট। 15/16 হাজার বছর আগে সাইবেরিয়া থেকে বেরিঙ প্রনালী, আলাস্কা হয়ে মানুষ প্রথম আমেরিকা তে আসে। এদের বংশধররাই এখনো আলাস্কায় আছে, আর যারা আরো দক্ষিনে গিয়েছিল তাদের থেকে কালক্রমে আজটেক, মায়া, বা ইনকাদের জন্ম হয়েছে। যাদুঘরে চমত্কার সব নিদর্শন আছে এই মাইগ্রেশনের। প্রাগৈতিহাসিক সময়ে (10 হাজার বছর বা তার আগে) এসব এলাকায় ম্যামথ, ঊলি রাইনো (লোমশ গন্ডার) ছিল। ইনুইটদের তৈরী ম্যমথের (বরফ যুগের লোমশ হাতি) দাত বা হাড় থেকে বানানো অনেক সরঞ্জাম দেখলাম।

দুপুরে আমাদের দলের বাকীরা এলে আবার এয়ারপোর্ট যেতে হলো। পথে যেতে যেতে দিগন্তে চুগাছ (Chugach) পর্বতমালা দেখা যাচ্ছিল, হঠাত্ কেন যেন ঠিক রাঙামাটির পাহাড়গুলোর মতো মনে হচ্ছিল। এতদিন এখানে পাহাড় বলতে রকি মাউন্টেইন স্টাইলটাই মনে হতো, আলাস্কার পাহাড়গুলো কোনভাবে মেইনল্যান্ডের চেয়ে আলাদা। পরের দিন গুলোতে ডেনালী বা Wrangle-St Elias এও একই ব্যাপার খেয়াল করেছি। যাহোক পুরো দল একসাথে হয়ে পেট ভরে খেয়ে নিলাম, এক ফাকে আমি ওয়ালমার্ট থেকে ব্ল্যাংক সিডি কিনে নিলাম, প্রতিদিনের ছবি প্রতিদিন সিডিতে লিখে রাখব, নাহলে কখন ল্যাপটপের হার্ডড্রাইভ ক্র্যাশ করে কে জানে।

এখন গন্তব্য ডেনালী ন্যাশনাল পার্ক। ডেনালীতে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে ঊচু পর্বতের চুড়া আছে (মাউন্ট ম্যাকিনলী 20,320 ফিট, এভারেস্ট 29,000) কিন্তু ম্যাকিনলী দেখতে পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার, কারন বছরের বেশীরভাগ সময়েই মেঘে ঢাকা থাকে, বিশেষ করে বছরের এই সময়ে তো দেখা আরো কঠিন। আলাস্কাতে ফ্রীওয়ে কম, বা সেভাবে নাই বল্লেই চলে। কে চালাবে এই নিয়ে একটু বিতন্ডা হচ্ছিল, সবাই টায়ার্ড, ঝামেলা কমাতে রাজী হয়ে গেলাম।

বন্ধুদের কারো কারো সাথে বেশ অনেকদিন পরেই দেখা। সবাই সবার ব্যাপারে আপডেট নিচ্ছিল, কে কি করল, কদ্দুর এগোলো ক্যারিয়ার, কেউ কেউ সংখ্যা বাড়নোর চেষ্টায় আছে, কিন্তু এক আর একে ঠিক তিন হচ্ছে না ইত্যাদি। ওয়েবে অনেক ছবি দেখে এসেছি ডেনালীর এবং ডেনালী যাওয়ার পথের। শুরুতে খুব একটা সুবিধা হচ্ছিল না, সেই একই ফার, পাইন গাছের সারি, পার্মা ফ্রস্টে রঙচঙা গুল্মের কোন খোজ নেই।

এ্যাংকরেজ থেকে ডেনালী 400 কিমি, পাচ ঘন্টার রাস্তা। রাতে না ঘুমিয়ে চালাতে একটু খারাপ লাগছিল, আবার রাস্তায় সবজায়গায় ডিভাইডার নেই, বিপরীত দিক থেকে লরী আসতে দেখলে একটু ভয়ই লাগে। আড়াইটা-তিনটার দিকে রওনা দিয়েছিলাম, একসময় দুপুর গড়িয়ে বিকেল, সেখান থেকে সন্ধ্যা হবার জোগাড়, এখনও না কোন উল্লেখযোগ্য প্রানী না সেই রঙিন বেরী (জাম?) গুল্ম। ঠিক তখনই দেখি একটা Moose(তাড়াহুড়ায় ছবি তোলা হয় নি) রাস্তা পার হচ্ছে। আমাদের দেখে বেচারা দিল দৌড়, দৌড় দিয়েই ভালো করেছে অবশ্য কারন ধাক্কা লাগলে দুর্ঘটনা হতে পারত। একবার হরিনের সাথে ধাক্কা লেগে যে অবস্থা হয়েছিল, এরপর আর কোনদিন এসব বোকারামকে ধাক্কা দিতে চাই না। এরপরই যেন ভাগ্য খুলে গেল আমাদের। পাইন আর ফারের বন পরিষ্কার হয়ে একটু খোলা জায়গায় চলে আসলাম। রাস্তার দুপাশেই বেশ দুরে পাহাড়, তার আগে খোলা মাঠের মতো (meadow), আর মাঠ ভর্তি নানা রঙের বেরী জাতীয় গুল্ম। আলাস্কায় ঠান্ডার জন্য মাটির নিচে একটু গভীরে যে বরফ থাকে সেটা কখনই গলে না। এরা বলে পার্মাফ্রস্ট। বরফের জন্য বড় গাছ জন্মাতে পারে না, সে জন্য জন্মায় ঘাস বা নানা জাতের ছোট উদ্ভিদ।

কি যে অপার্থিব দৃশ্য খালি চোখে না দেখলে বোঝা মুস্কিল। ক্যামেরার সাধ্য নেই এই ছবি তুলে ধরার। ডেনালী পর্বতমালার ব্যাকড্রপে মনে হচ্ছিল আলাস্কা আসার 50% অলরেডি সার্থক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28704487 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28704487 2007-04-01 02:47:26
দিনকাল 3ঃ বহুদ্দিন পর ব্লগাইলাম
বাংলাদেশও পালটাইয়া গেছে এই কয়েকদিনে। লোকে স্বপ্নে দেখতেও যেইটা ভয় পাইত, ঐরকম ঘটনা এখন বাস্তবে ঘটতেছে। তবে ভয়ও লাগে আবার দেশের বেশী উন্নতির নেশায় না পাইয়া যায়। দেশের পরিবর্তন দেইখা ক্রিকেটাররাও পালটাইয়া গেছে, দেখা যাক এখন শ্রীলংকা কালকে তার শ্রী ধইরা রাখতে পারে কি না।

হিমুরে জেডি ধরছে, আমি অবশ্য খুব বেশী বই পড়ার সময় পাই নাই। কিছু ডকুমেন্টারী দেখছি। স্পেনসার ওয়েলসের একটা বক্তৃতায় গেছিলাম, মারাত্মক। খুব বেশী মালামাল না থাকায় তেমন লেখালেখি করা হবে না হয়তো। তো ঠিক আছে, দেখি কি করা যায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28702919 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28702919 2007-03-21 00:59:31
নিয়ান্ডার্টালদের কি পরকালে বিচার হবে?
সমস্যা হচ্ছে কয়েকদিন আগে পুর্ব ইউরোপের রোমানিয়াতে 40 হাজার বছর আগের মাথার খুলি পাওয়া গেছে, যেটাতে নিয়ান্ডার্টাল এবং আধুনিক মানুষ দুইরকম বৈশিষ্ট্যই আছে। দেখা যাচ্ছে এই মাথার খুলি যার সে নিয়ান্ডার্টাল এবং আধুনিক মানুষ (হোমো স্যাপিয়েন্স স্যাপিয়েন্স) দুটোই এক সাথে। তাহলে এই লোকের বিচার কে করবে?

ভালোবাসা, শোক, সহমর্মিতা, ঈর্ষা, অপরাধ প্রবনতা এগুলোকে সচরাচর আমরা মানবীয় গুনাবলি (মতান্তরে দোষাবলী সহ) ভাবি। ঘটনা হচ্ছে এগুলোর কোনটাই শুধুমাত্র মানুষের মধ্যে আছে তা নয়। অন্যান্য প্রানীর মধ্যেও এগুলো কমবেশী আছে। মা-বাবা মরলে আমরা যেমন শোক করি, দুঃখ পাই; শিম্পাঞ্জি, গরিলা, বনোবোও তাই করে। শোকে কান্নাকাটি করে, একটা টিভি প্রোগ্রামে দেখেছিলাম মা মরার পর বাচ্চা শিম্পাঞ্জি না খেয়ে 4/5 দিন মায়ের মৃতদেহের আশে পাশে গাছে বসেছিল। ঈর্ষা তুলনামুলক ভাবে আরও সহজলভ্য। সামাজিক প্রাইমেটগুলোর মধ্যে ঈর্ষা নিয়ে গোলমাল লেগেই আছে। মানুষ যেমন গলা টিপে একজন আরেকজনকে মেরে ফেলে শিম্পাঞ্জিরাও একদম একই কৌশলে খুন করে। অনেকসময় কে দলনেতা হবে এই নিয়ে যখন মারামারি হয়, তখন সবাই মিলে একজোট হয়ে গনপিটুনি দিয়ে অন্যদেরকে মেরে ফেলে। মানুষের মতই সাইকোলজি কাজ করে ওদের ভেতর, এই নিয়ে অনেক ডকুমেন্টারি আছে, দেখলে বিশ্বাস হয় না যে মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রানী এরকম সিস্টেমেটিক ওয়েতে অপরাধ করতে পারে।

তাহলে অপরাধ করলে মানুষকে যদি দোজখে যেতে হয়, শিম্পাঞ্জিকে কেন ছাড় দেয়া হচ্ছে। আরো গুরুতর হচ্ছে নিয়ান্ডার্টাল, হোমো ইরেকটাসকে ছাড় দেয়া হলে তো বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28694857 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28694857 2007-01-21 19:13:53
পার্টিকল সিস্টেম !@!14313

পুরো এ্যনিমেশন OpenGL দিয়ে করেছিলাম। শব্দগুলো ইন্টারনেট থেকে মেরে দেয়া। কয়েকটা আলাদা সিস্টেম আছে এখানে যেমন প্রথমে সুপারনোভার বিস্ফোরণ, বৃহস্পতির উপগ্রহ আইও তে আগ্নেয়গিরি, আগুন, ঝর্ণা, আতশবাজি, আর শেষে Boids । আমার যতদুর মনে আছে কার্ল সিমস মনে হয় প্রথম পার্টিকল সিস্টেম তৈরী করেছিলেন, বিশেষত্ব হচ্ছে অসংখ্য গ্রাফিক অবজেক্ট দিয়ে দৃশ্য তৈরী করা। যেমন আগুন বা ঝর্নার ক্ষেত্রে। পুরোটাই একরকম সিমুলেশন, ফিজিক্সের সুত্রগুলোর ওপর ভিত্তি করে। কম্পিউটার গেমস, এবং এ্যানিমেশনে এর বহুল ব্যবহার আছে। এখানে যেমন সুপারনোভা বিস্ফোরনে আমি চারকোনা সারফেস ব্যবহার করেছি, কিন্তু ওগুলো ঘোলাটে দেখাচ্ছে কারন সারফেসের ওপরে একটা ট্রান্সপারেন্ট ছবি আকা হয়েছে। টেকনিকটাকে বলে বিলবোর্ডিং।

আমার একটা লক্ষ্য ছিল বিবর্তনকে এভাবে সিমুলেট করা। আরো অনেকেই করেছে, এরকম আর্টিফিসিয়াল লাইফ। অনেক সময় বেশ মজার প্রানীর তৈরী হয়। কার্ল সিমসের একটা ভিডিও ছিল, ওয়েবে খুজলে হয়তো এখনো পাওয়া যাবে। অবশ্য জেনেটিক এ্যালগরিদমের অনেক দরকারী প্রয়োগও আছে, যেমন জেট ইঞ্জিন ডিজাইন।

পার্টিকল সিস্টেম সিমুলেশনের একটা মজার অংশ হচ্ছে বয়েড সিমুলেট করা। ক্রেইগ রেনল্ডস 80 দশকে ধারনাটার সুত্রপাত করেন। ব্যপারটা হচ্ছে পাখীর ঝাক, গরুর পাল বা এরকম দলবদ্ধ কিছুকে একসাথে সিমুলেশনে ফেলে দেয়া। এর উদাহরন এ্যানিমেটেড মুভিতে নিশ্চয়ই দেখেছেন আপনারা। তিনটা সরল সুত্রের ওপর নির্ভর করে বয়েডগুলোর গতিবিধি হিসাব করা হয়, এবং সারপ্রাইজিংলি এগুলোকে বাস্তবের পাখীর ঝাকের মতো মনে হয়। উপরে আমার দেয়া মুভিতে আছে একদম শেষে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28694583 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28694583 2007-01-18 23:23:30
মৃত্যুর অনিবার্যতা কতখানি গ্রহনযোগ্য?
বাবা মার মৃত্য একটা ভীষন ইমোশনাল প্রক্রিয়া, নিজে এর ভেতর না দিয়ে গেলে বোঝা অসম্ভব বলেই মনে হয়। বাবা যখন কোমায় যাচ্ছিলেন আমরা ধরে নিতাম আর হয়তো বেচে উঠবেন না। যেকোন কারনেই হোক আমি বাবাকে একা পেলে জেনে নিতাম আসলে কেমন লাগছে, কি মনে হয় আসলে স্রষ্টা আছে, মৃত্যুর পরে কি কিছু আছে। শুরুতে বাবা খুব মাইন্ড করেছিলেন। আসলে প্রথমবার বাইরে নিয়ে যাওয়ার পর বাবা বেশ খানিকটা সুস্থ হয়ে যাওয়ায় আমরা ধরে নিয়েছিলাম এ যাত্রা বোধহয় বাবা বেচেই গেলেন। বাসার অন্যরা ভালো চোখে না দেখলেও বাবা ফিরে আসার পর মৃত্য, কোমায় যাওয়া ইত্যাদি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতাম। আসলে একটা টিভি প্রোগ্রামে একবার দেখাচ্ছিল অনেকে কোমায় গিয়ে একটা টানেল দেখতে পায়, অনেকে দেখে একপ্রান্তে একটা তীব্র উজ্জল আলো। আশ্চযর্্যজনক ভাবে বাবা টানেল বা আলো কোনটাই দেখতে পান নি। টানেল রহস্যের অবশ্য এখন সমাধান হয়েছে, এর কারন মস্তিষ্কে অক্সিজেন ডেফিসিয়েন্সি, সুপার সনিক জেটের পাইলটরাও অনেক সময় এরকম দেখে থাকেন। মৃত্যুর অবব্যহিত পুর্বে ঠিক কি হয় এটা জানার কৌতুহল ছিল। অনেকে ফেরেশতা দেখে, কেউ ভয় পায়, কেউ দুঃস্বপ্ন দেখে। দুঃখজনক ভাবে মারা যাওয়ার কয়েকঘন্টা আগেও আমি খোজ নিয়েছি বাবার কাছে কোন কিছু সন্দেহজনক মনে হয় কিনা, বা এনিথিং সুপার ন্যাচারাল। কোনটাই না। বরং আগের দিন বিশ্বকাপ নিয়ে আমি একতরফা আলোচনা করলাম, বাবা টুকটাক মন্তব্য করলেন। এবং কয়েকঘন্টা পরে উনি নেই।

এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোন প্রমান দেখিনি মৃত্যুর পরের জীবন বা প্রক্রিয়া নিয়ে। তবে মৃত্যু যেহেতু এখনো রিভার্সিবল নয়, সুতরাং মৃত্যুকে গুরুত্বের সাথে না নিয়ে উপায় নেই। মানুষের ইতিহাস ঘাটলে দেখব মৃত্যু নিয়ে মানুষের কৌতুহল খুবই পুরোনো। নিয়ান্ডার্টাল, ক্রোম্যানিয়ন দের আমলে ওরাও মৃত্যুকে আলাদাভাবে দেখেছে। এবং সভ্যতার শুরু থেকেই একটা চেষ্টা ছিল কিভাবে না মরে থাকা যায়। এই চেষ্টার ওপর ভিত্তি করে দাড়িয়ে আছে নানা কাহিনী, এবং বিশেষভাবে বেশীরভাগ, হয়তো, সমস্ত ধর্ম। মিশরীয়রা যেমন বিশ্বাস করত মামি বানিয়ে রাখলে আবার বেচে ওঠা যাবে। আবার অনেক ধর্মের কাহিনীতে আছে অমৃত পান করলে আর মরতে হবে না। উপমহাদেশের অনেক ধর্মে আছে জন্মান্তরবাদ, অমর থাকার একরকম অল্টারনেট। মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মগুলোতে আছে মৃত্যুর পর বিচার ব্যবস্থা, তারপর অনন্ত উদ্দ্যেশ্যহীন জীবন। এসব কাহিনীর সত্যমিথ্যা প্রমান করা বেশ সহজ। কিন্তু লক্ষ্যনীয় হচ্ছে সবগুলোতেই কোন না কোনভাবে অনন্তকাল বেচে থাকার হাতছানি আছে।

কয়েকবছর হয়ে যাওয়ায় এতদিনে আমার বাবা, নানা, দাদা সবাই মোটামুটি রিসাইকেল্ড হয়ে গেছেন ধরা যায়। হাড়গুলো ছাড়া বেশীরভাগ বায়োলজিকাল অংশগুলো প্রকৃতি এর মধ্যেই নিশ্চয়ই রিক্লেইম করে নিয়েছে। হয়তো মাংসগুলো ইদুর, সাপ, ওয়র্ম, ব্যক্টেরিয়া খেয়ে ফেলেছে। আবার তাদেরকে খেয়েছে ফুড পিরামিডে এদের ওপরে যারা আছে, শেষমেশ অনেককিছুই হয়তো ফুড পিরমিডের মাথায় আছে মানুষ তাদের কোন সদস্যের শরীরে গিয়ে জমা হয়েছে। হয়তো আমার গায়েই আছে। আত্মার কি হয়েছে, বা আদৌ কিছু হয়েছে কি না আমার জানা নেই। ওনাদের আত্মাদের কেউ আমার সাথে কোন যোগাযোগ করে নি এখনও। আসলে আত্মা নামে আদৌ কিছু আছে কি না সন্দেহ। বায়োলজিকাল রিসোর্সগুলো না হয় পুনব্যবহ্ৃত হচ্ছে, কিন্তু বাবার যে বিশাল স্মৃতি ভান্ডার ছিল সেগুলো কোথায়। শেষ 20 বছরে লেখা ডায়েরীগুলো আছে, কিন্তু ডায়েরী তো আর পুরো স্মৃতি, অভিজ্ঞতাগুলো নয়। মৃত্যু এইদিক থেকে চিন্তা করলে একটা বিশাল অপচয়। সভ্যতার জন্য একটা বড়সড় লোকসানী ঘটনা। আর ব্যক্তিজীবনে তো অবশ্যই। পরকালে আরেকটা জীবন আছে এটা হয়তো স্রেফ স্বান্তনা। নো ওয়ান্ডার অমৃতের এত ডিমান্ড কাহিনী-উপকাহিনীতে।

আরো কিছু অনিবার্য বিষয় ছিল আগে। যেমন যক্ষা, কুষ্ঠ, গুটি বসন্ত হলে রক্ষা ছিল না। বিভিন্ন কারনে এগুলো আর অনিবার্য নয়। রোমানদের আমলে মানুষের গড় আয়ু ছিল 18। একশতক আগেও ছিল 40 এর নীচে। এখন অনেক দেশেই 80র ওপরে। বলাবাহুল্য দোয়াদুরুদ, ঝাড়ফুকের কারনে মানুষের জীবন এত লম্বা হয়ে যায় নি। যদি এসব মন্ত্র পড়লে লাভ হতো তাহলে সপ্তম শতাব্দিতে বা এরকম যখন নতুন ধর্ম এসেছে তার পরপরই মানুষের আয়ুতে তার একটা প্রভাব দেখা যেত। সেরকম কোন প্রমান নেই। প্রমান যা আছে তাহলো পেনিসিলিন বা এরকম এ্যান্টাইবায়োটিক আবিস্কারের পর হঠাত্ করে মানুষের আয়ু বেড়ে যাওয়া। বিজ্ঞানের উন্নতির কারনে মানুষ এখন বেশিদিন বাচে ঝাড়ফুক, দোয়াদুরুদের জন্য নয়।

কিন্তু মৃত্যু প্রসঙ্গে বিজ্ঞান কি করতে পারে? এই অংশটুকু পরের লেখায়। শুধু এটুকু বলে রাখি আজকে, 2035 সাল পর্যন্ত বেচে থাকা খুবই জরুরী, যদি মৃত্যুকে পাশ কাটাতে চান। হয়তো 2030 এই হবে। ঠিক মেইনস্ট্রীম মিডিয়ায় আসার মত ঘটা করে এসব গবেষনা হচ্ছে না অবশ্য। মৃত্যু থেমে গেলে আমাদেরকে দ্রুত আশেপাশের গ্রহগুলো কলোনাইজ করতে হবে। অনেক জিনিষই আছে যেগুলো মরে যায় না, অথবা যাদের জীবনকাল ভীষন দীর্ঘ শত মিলিয়ন বছর, যেমন জিন। কিন্তু কিভাবে মানুষের জন্য এরকম কৌশল প্রয়োগ করা যেতে।

হিমু, আপনার কথা ছিল সিঙ্গুলারিটির বাংলা একটা সমার্থক বের করে আমাকে দেবেন। এখন লাগবে আমার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28694578 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28694578 2007-01-18 22:20:44
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালাঃ আলাস্কা-1
এক সপ্তাহের ট্রিপের জন্যে আমি প্ল্যান করি তিন মাস ধরে। কে জানে অপচয় কি না, হয়তো অন্যরা অন্যভাবে করে, কিন্তু আমার কাছে ঘাটাঘাটি করতে ভালই লাগে। আলাস্কা যুক্তরাস্ট্রের একটা প্রদেশ হলেও সাইজে বেশ বড়। আয়তনে মোটামুটি ভারতের অর্ধেক, বাংলাদেশের 10গুনেরও বেশী। জনসংখ্যা 6 লক্ষ, মানে ঢাকার মিরপুরের চেয়েও কম। এদের অনেকেই আবার পর্যটক। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় রাস্তা ঘাট কম। এক সময় আলাস্কা রাশিয়ার অধীনে ছিল, পরে রাশিয়ার জার মাত্র সাত মিলিয়ন ডলারে আলাস্কা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেচে দেয় (1867 সালে)। যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ায় অবশ্য আলাস্কার ভাগ্য বদলে গেছে বলতে হবে, নাইলে হয়তো সাইবেরিয়ার মত হয়ে বসে থাকত।

আলাস্কা কিন্তু সাইবেরিয়ার ঠিক পাশে, ম্যাপ নিয়ে বসলে দেখবেন রাশিয়া ইউরোপ থেকে শুরু হয়ে এশিয়া হয়ে আমেরিকায় এসে ঠিক আলাস্কার আগে শেষ হয়েছে। আলাস্কা আর সাইবেরিয়ার মাঝে বেরিং প্রনালী। বেরিং প্রনালী আগে ছিল না, আগে মানে বেশ আগে, 16 হাজার বছর আগে বরফ যুগের সময়। তখন ওখানে একটা মহাদেশ ছিল বেরিঞ্জিয়া। এশিয়া আর আমেরিকা বেরিঞ্জিয়ার কারনে সংযুক্ত ছিল। ঐ সময় সাইবেরিয়ানরা হেটেই পুর্ব এশিয়া থেকে আমেরিকায় এসেছে। আজকের যুগের নেটিভ আমেরিকান বা রেড ইন্ডিয়ান বলতে যাদের বুঝি তারা আসলে ওই সাইবেরিয়ানদের বংশধর। একটু খেয়াল করলেই অবশ্য নেটিভ আমেরিকানদের সাথে সাইবেরিয়ান এমনকি চিন বা কোরিয়ানদের চেহারার মিল খুজে পাওয়া যায়। মানুষের ইতিহাসে একটা গ্রেট জার্নি হচ্ছে বরফ যুগে এশিয়া থেকে আমেরিকায় যাওয়া। এরপর বরফ যুগ শেষ হয়ে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকলে বেরিঞ্জিয়া পানির নীচে তলিয়ে যায়, আলাস্কা এক পর্যায়ে সাইবেরিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ঠিক কোন সময়ে যাওয়া যায় ভেবে পাচ্ছিলাম না। শীতে অরোরা দেখা যায় সহজে, একটা নামকরা ডগ স্লেডিং রেস হয় ঐ সময়। অনেক সিনেমাতে আলাস্কার গোল্ডমাইন, স্লেডিং আর মাইনারদের নিয়ে কাহিনী দেখেছি। কিন্তু শীতে ঠান্ডাটা একটা বিরাট সমস্যা, বিশেষত আলাস্কার ঠান্ডা। জুনে গেলে গরমের সময় সুবিধা হচ্ছে 22-24 ঘন্টা দিন পাওয়া যায়। সংক্ষিপ্ত গ্রীষ্মে গাছপালা আর পশুপাখী দেখার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। গ্রীষ্মের তিন মাস ছাড়া বাকী সময় ন্যাশনাল পার্কগুলো বন্ধ থাকে। কিন্তু দিনের আলোর কারনে অরোরা দেখার কোন রাস্তা নেই। অরোরা আমার লিস্টে খুব হাই প্রায়োরিটি, ফাইভ থেকে অপেক্ষা করছি অরোরা দেখব বলে। শরতকালে (অথবা এখানকার ভাষায় ফল) কয়েক ঘন্টার জন্য রাত হয়, সুতরাং অরোরা দেখার একটা সুযোগ আছে, আবার সেপ্টেম্বর 15র আগে যেতে পারলে ন্যাশনাল পার্ক খোলা থাকার একটা সম্ভাবনা আছে। সমস্যা হচ্ছে ঐ সময় আলাস্কাতে সবচেয়ে বেশী বৃষ্টি হয়। আকাশ মেঘলা থাকলে অরোরা দেখার চান্স শুন্য। আবার বৃষ্টি থাকলে ন্যাশনাল পার্কে গিয়েও যে খুব একটা ওয়াইল্ড লাইফ দেখা যাবে এমন আশা কম। অনেক ভেবে চিন্তে বাজেটের কথা হিসাব করে সেপ্টেম্বরেই যাব ঠিক করলাম, গ্যাম্বল, কিন্তু যদি পে অফ করে তাহলে দুই ট্যুরের দেখা একবারে হয়ে যাবে।

আরেকটা সম্ভাবনা মাথায় আসলো যে প্লেন যেহেতু 30,000 ফুট ওপর দিয়ে যাবে, সুতরাং আবহাওয়া মেঘলা হলেও প্লেন মেঘের ওপরেই থাকবে। সুতরাং যদি আমি এমনভাবে টিকেট কাটি যে প্লেন যখন আলাস্কার ওপর দিয়ে যাবে তখন রাত, তাহলে প্লেনে বসেই অরোরা দেখতে পাবো বা পাওয়া উচিত। কিন্তু অনেক ওয়েব ঘেটেও কেউ এভাবে অরোরা দেখেছে তার প্রমান পেলাম না। মাথায় ঢুকছিল না যে প্লেন থেকে কেন অরোরা দেখা যাবে না।

আবার একটা টাইট প্ল্যান করলাম, বহু ব্রাঞ্চ তার। মানে একটা হ-ধৎু ট্রি এর মতো, যদি অমুক তারিখে আবহাওয়া এমন হয় তাহলে এই কাজ করব, যদি অমুক জায়গায় গিয়ে এরকম দেখি তাহলে এরকম ব্যবস্থা নেব। এর মধ্যে আরও অনেক ট্রাভেল প্ল্যান করে হাত পেকে গেছে, ট্রাভেলে কি কি সমস্যা হতে পারে, কোথায় কি অল্টারনেট রাখতে হবে। একটা বড় সমস্যা হচ্ছে পিপল ম্যানেজমেন্ট। সবাই সব জিনিস সমান ভাবে উপভোগ করবে না। দলে আবার বেশ কয়েকজন মেয়ে আছে, তাদের মেজাজ মর্জির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সমস্যা হচ্ছে ন্যাকা মেয়ে কম, ন্যকা মেয়েদের সহজে নিয়ন্ত্রন করা যায়, কিন্তু আমার সঙ্গিরা টুকটাক ভুজুং ভাজুঙে মানবে না। কয়েকটা স্লট রাখলাম সহযাত্রি তোষনের জন্য, এছাড়া আগেই সবাইকে আলাস্কা নিয়ে নানা কাহিনী শুনিয়ে ত্যাক্তবিরক্ত করে ফেললাম।

ফল এর সময়টাতে প্লেন ভাড়া সামারের চেয়ে একটু কম। ভালই হয়েছে অন্য খাতে ব্যায় বেশী করা যাবে। কাপড় চোপড় কিনতে একটু বেশী খরচ হয়ে গেল আবার। পরে বুঝতে পেরেছি একটু বেশী কিনে ফেলেছিলাম আমি, আসলে শীত অত বেশী না। অবশ্য যাওয়ার আগে পারলে আমি প্রায় তোষক কিনে ফেলি গায়ে দেয়ার জন্য। টাইম জোন চেঞ্জ হবে, তবে যেহেতু পশ্চিমে যাচ্ছি টাইম গেইন করব আমরা। যুক্তরাষ্ট্র পার হয়ে প্লেনে ক্যানাডিয়ান রকির ওপরে আসতেই দেখলাম নীচে ঘন অন্ধকার। কোন শহর দেখা যায় না। মনে মনে বললাম, খাইছে, প্লেন ভেঙ্গে পড়লে না শেষে ঐ সিনেমার মত মানুষের মাংস খেয়ে থাকতে হয়।পুরো বৃটিশ কলম্বিয়া আর ইউকন টেরিটরিজে শহর খুব কম মনে হলো। পুরোটাই ঘোলাটে অন্ধকার।

এয়ারপোর্টে যখন অপেক্ষা করছিলাম, এক কোরিয়ান পরিবার দেখি যাচ্ছে আমাদের সাথেই আলাস্কায়। সাথে 10/12 বছরের ছেলে। আরেক আমেরিকান ফ্যামিলির সাথে দেখলাম ভাল খাতির জমে গেল ওদের। আমেরিকাদের দলে অনেক লোক মনে হলো, বাবা, মা, ছেলে, দাদা, দাদী, আরো মনে হয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ওয়েটিং রুমে। তো সেই আমেরিকান লোক গল্প করছে কোরিয়ানের সাথে, যে সে মোট 6 বার আলাস্কা গেছে কখনও অরোরা দেখেনি। এমনকি ফেয়ারব্যাংকসে গিয়েও দেখে নি। শুনে তো আমার মাথায় হাত। বলে কি এই লোক। অরোরা এত দূর্লভ?

কানাডা পার হয়ে আলাস্কার প্যান হ্যান্ডেলের ওপর আসতেই উত্তর দিগন্তে মনে হল সবুজ আভা ফুটে উঠেছে। প্রথমে ভাবলাম হয়তো মেঘ, কিন্তু রাতের বেলায় মেঘ সবুজ কেন? এয়ার হোস্টেসের কাছে জানতে চাইলাম, নাহ, ঠিকই আছে "অরোরা" দেখা যাচ্ছে। প্লেনটা এসময় নাক ঘুরিয়ে পশ্চিমমুখী যাচ্ছিল। আমি আগে থেকেই হিসাব করে ডান পাশের সারিতে জানালার পাশে সিট নিয়েছি। যদিও এয়ারপোর্টের আলোচনা শুনে একটু দমে গিয়েছিলাম, এখন ওভার এক্সাইটেড না হওয়ার চেষ্টা করলাম। কোরিয়ানরা পাশের সারিতে ঘুমাচ্ছে, একবার ভাবলাম ধাক্কা দিয়ে তুলে ফেলি, যে অরোরা দেখা যাচ্ছে। পরে ভাবলাম থাক, শেষে না ক্ষেপে যায়। প্লেনে গন্ডগোল করলে এয়ার মার্শাল এসে আবার ঘাপলা করতে পারে। অরোরা মেরু বরাবর সেমি সার্কেল তৈরী করে দেখা যাচ্ছিল। সার্কেলের অন্য অংশ সাইবেরিয়া, স্ক্যান্ডিনেভিয়া থেকে দেখা যাবে। অরোরা কিন্তু চলমান, "ব্রাদার বেয়ার" মুভিটা দেখে থাকলে ওখানে যেমন দেখায় অনেকটা সেরকম। ছবি তুললাম অনেকগুলো, কিন্তু আমার ক্যামকর্ডারটা অত ভালো ছিল না, এজন্য ভিডিওতে আসে নি।

(আরো আছে ৃ)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28693957 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28693957 2007-01-14 13:01:58
বছর শেষের পোস্টঃ কি পেলাম, কি হারালাম
শুরুতেই সামহয়্যারের ক্রুদের অসংখ্য অভিনন্দন এরকম উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মের সুযোগ করে দেয়ার জন্য। আমাদের দেশের সামাজিক, পারিবারিক পরিবেশে মুক্ত চিন্তা, নির্ভয়ে মনের কথা প্রকাশ করতে অভ্যস্ত নই। কিন্তু মুক্তচিন্তা যে কতটা শক্তিশালী হতে পারে সামহয়্যার তা দেখিয়ে দিল, এজন্য আমি এবং আমার মতো অনেকেই কৃতজ্ঞ। ব্লগে গত নয়/দশ মাসে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন বেশ কিছু সমমনা বন্ধু বান্ধব খুজে পাওয়া। দু-একজনকে আগে থেকে চিনলেও এক ফ্রিকোয়েন্সীতে কখনই ছিলাম না। হিমু, রাসেল, সুমন চৌ, শোমচৌ, অমি ভাই, ধুসর গোধুলী, হযবরল, চোর, আড্ডাবাজ, অরূপের সাথে বন্ধুত্ব এখন সম্পদে পরিনত হয়েছে। ভিন্ন পেশার, ভিন্ন গন্তব্যের এরকম চমত্কার কিছু মেধাবী এবং প্রতিভাবান মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য সামহ্য়্যার টীম অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

আমার দ্বিতীয় অর্জন হচ্ছে সাহস করে লেখা লেখি করা। সিক্সে থাকতে একবার স্কুলের বার্ষিকীতে লিখেছিলাম, তারপর কোনদিন কোথাও লিখিনি (পরীক্ষার খাতায় ছাড়া)। খোলা ফোরামে লিখতে গিয়ে নিজের দুর্বলতা গুলো বুঝতে পারলাম। পাঠকের মন্তব্যেও বোঝা যায় কোনটা ভালো হচ্ছে আর কোনটা খারাপ হচ্ছে। এজন্য গল্প কবিতা লেখার চেষ্টা করি নি। এমনকি ভ্রমনকাহিনী লিখেও এই লাইনে নিজের সৃজনশীলতার অভাব বুঝতে পারছি।

সামহয়্যারে আরেকটা অর্জন কোন মডারেশন না থাকা। ভয় না করেই লেখা যায়, মন্তব্য করা যায়। শত শত ফোরাম ইয়াহু গ্রুপ আছে বাঙালীদের। আমি যেগুলোর সদস্য কোনটাই এত জনপ্রিয় না, আর কোনটাতেই এত ভাল মানের লেখা পাওয়া যায় না। যদিও ভাল ব্যপারটা আপেক্ষিক, তবে স্রেফ পোশাকি ভাল লেখার চেয়ে, সত্যিকার সৃষ্টিশীল লেখাও এখানে অনেক। মুখফোড় বা রাসেলের স্যাটায়ার সমসাময়িক যে কোন পত্রিকার লেখার চেয়ে উপভোগ্য। অনেক ব্লগে মন্তব্যও (যেমন চোরের) যে কোন রম্য রচনাকে হার মানায়।

এক বছরে যা হারালাম তার মধ্যে প্রথমেই হচ্ছে সময় নষ্ট হওয়া। ব্লগ যে কত শত ঘন্টা খেয়ে ফেলেছে আমার তার হিসাব নেই। তারপর না চাইলেও বেশ কিছু বিপজ্জনক শত্রু তৈরী হয়েছে, তাদের অনেকে প্রতিক্রিয়াশীল মুভমেন্টের সাথে জড়িত। দেখা যাক শেষমেশ কি হয়।

সার্বিকভাবে আমি হিসাব করি নি, লাভ বেশী হলো, না ক্ষতি বেশী হল ব্লগিং করে। যেটাই হোক ব্লগিং করে মজা পাচ্ছি যতক্ষন ততক্ষন করবো, তাতে খরচ না হয় কিছুটা হলই।

আমার নিয়মিত পাঠকদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা, এবং ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28692584 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28692584 2007-01-01 18:30:35
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালাঃ কুয়াশা
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম অংশে বড় বড় কিছু পর্বতমালা আছে, নর্থ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সাথে, প্যাসিফিক, হুয়ান ডি ফুকা ইত্যাদি প্লেটের যেখানে সংঘর্ষ হচ্ছে। অনেকগুলো জীবন্ত আগ্নেয়গিরিও আছে এখানে। এর মধ্যে মাউন্ট সেন্ট হেলেন্স এ 1980 তে বেশ বড় বিস্ফোরণ হয়েছিল। আমি তখন থাকতাম যেখানে ওটা ছিল প্লেটের পশ্চিমাংশে, আর জার্মান শহরটা পুর্বাংশে। মাঝে ক্যাসকেড পর্বতমালা। পর্বতমালার মধ্য দিয়ে বেশ কয়েকটি গিরিপথ তৈরী করেছে এরা, (যেমন ভুগোল বইয়ে আমরা পড়তাম পাকিস্তানের খাইবার গিরিপথ), গিরিপথগুলো বেশীরভাগই পুর্ব-পশ্চিম হাইওয়ের ওপরে। কত বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে কে জানে, কারণ একটা স্টপেজে সাইনবোর্ড দেখলাম লেখা, আগে মাইন্টেন পাস থেকে কাছের শহরে যেতে লাগত একদিন, এখন হাইওয়ে আর পাহাড় কেটে রাস্তা বানানোর পর লাগে এক ঘন্টা।

সকালে ক্যামেরা, কিছু কাপড়-চোপড় নিয়ে রওনা হওয়ার প্ল্যান ছিল। নানা আলসেমীতে রওনা দিতে দিতে দুপুর হয়ে গেল। এমনিতেই বেশ শীত, তার ওপর গিরিপথের ওপাশে আরও বেশী ঠান্ডা। পাহাড়ের ওপর শীতকালে মেঘগুলো একটু কম উচুতে থাকে, প্রায়ই রাস্তার ওপরে মেঘের কুয়াশা তৈরী হয়। ঘন্টাখানেক গাড়ি চালানোর পর যখন পাহাড় চড়তে শুরু করলাম, দেখি কুয়াশায় অবস্থা খারাপ। রাস্তার পাশে অল্প বিস্তর শক্ত হয়ে যাওয়া বরফ। তুষারের চেয়ে শক্ত বরফ বেশী বিপদজনক, কারন চাকা পিছলে যেতে পারে। আর আমার গাড়ি 4WDও না যে একচাকা আটকে গেলেও অসুবিধা নাই। ডিসেম্বরের হলিডে সিজনে এখানে সবচেয়ে বেশী এক্সিডেন্ট হয়, কারন বোঝাই যাচ্ছিল, এত কুয়াশার মধ্যেও স্থানীয় লোকজন বেশ দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছে।

ঠান্ডায় চারপাশে কেমন একটা মৃত অবস্থা, মাঝে মাঝে ছোট শহর, গ্যাস স্টেশন দেখা যায়, তারাও জীবন্মৃত। প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখব ভাবছিলাম, কিন্তু প্রকৃতির মনে হয় মন ভালো নাই। ভ্যালীতে আসতে আসতে সন্ধ্যা নেমে এল, এখানে শীতকালে 4টার মধ্যেই রাত হয়ে যায়, আর ওইদিন কুয়াশা আর মেঘের জন্য মনে হয় রাত একটু তাড়াহুড়া করেই চলে এল। রাস্তার ওপরে বেশ ভালই বরফ পড়েছিল, দেখলাম কিছুটা পরিস্কার করেছে, তবে প্রতি রাতেই মনে হয় নতুন করে পড়ে। বেশ ভয় ভয় করছিল ফেরত যাবো কিভাবে এটা চিন্তা করে।

গন্তব্যে পৌছলাম রাত নামার পরেই। শহরের লোকজন বেশ নিরাসক্ত মনে হল। আমারও আগ্রহ শেষ, বিশেষ করে প্রথম 50 মাইল রাস্তার যে দশা, কেন আসলাম, আর কেন দেরী করে আসলাম এই ভেবে নিজের ওপর খুব রাগ হচ্ছিল। এরকম বেঘোরে দুর্ঘটনায় পড়ার কোন মানেই হয় না। 10-15 মিনিট এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করে জার্মান টাউন দেখা শেষ, গাড়ি ঘুরিয়ে বাসার পথ ধরলাম। মাইল বিশেক আসতে আসতেই ঘন কুয়াশা চেপে ধরল। হেডলাইটের আলোতে কিছুই দেখা যাচ্ছে না, ফগ লাইট জ্বালালেও তেমন উন্নতি নাই। এদিকে রাস্তার স্পিড লিমিট 50 মাইল। সাথে যেসব গাড়ি ছিল তারা বহু আগে আমাকে পার হয়ে গেছে, বিরান এলাকায় আমি একা। 15-20 মাইলের মধ্যে কোন জনবসতি আছে কিনা সন্দেহ। অনেকক্ষন পরপর উল্টো দিক থেকে দুএকটা গাড়ি আসে, তখন আরো ভয় লাগে যে ভালোমতো না দেখে না মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে যায়। কুয়াশায় যে পরিস্থিতি এত খারাপ হতে পারে কোন অনুমান ছিল না। এর মধ্যে দেখি উপরে ঘোলাটে পুর্নিমার চাদ দেখা যাচ্ছে, ভয়াবহ চেহারা। 40 মিনিটের রাস্তা ঘন্টাখানেকের বেশী লাগল, লোকালয়ে পৌছে কি যে ভালো লাগলো। কুয়াশাও এদিকে হালকা। তাও দেখলাম অনেক পুলিশের গাড়ি, এ্যাম্বুলেন্স, জায়গায় জায়গায় গাড়ি উল্টে আছে। আমার সাথের গাড়ি গুলোর কোনটা কি না কে জানে, এরা তো আমাকে কুয়াশার মধ্যে একা ফেলে এসেছিল। ফ্রিওয়েতে উঠে বেশ ভালো লাগলো, ফ্রিওয়েতে অনেক গাড়ি, কুয়াশা কিছুটা থাকলেও নির্জন না অন্তত।

আরও ঘন্টাখানেক পর বাসায় ফিরলাম, আহত-নিহত না হয়ে যে ফিরলাম এজন্য নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছিল। কুয়াশায় ড্রাইভিং আর না, পাহাড়ে তো নাই। ঘরের ছেলে ছুটিতে ঘরেই ভালো আছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28692525 http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog/28692525 2006-12-31 15:02:23