রাতের খাবার এর পাট চুকে গেছে বেশ কিছুক্ষন আগে। দেয়াল ঘড়িটা সশব্দে জানান দিল এখন এগারটা বাজে। যাক্। শেষ হলো লেখাটা! আকাশ স্বস্তিতে একটা সিগারেট ধরিয়েছে। এরপর শর্ত অনু্যায়ী বাবার কাছে যেতে হবে। দাঁত ব্রাশ করে বেশ আয়োজন করে সদ্য রচিত লেখাটি নিয়ে সে বাবা’দের রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো। দরজায় মৃদু টোকা দিতেই বাবা বললেন, 'কি শেষ হলো! Come in my dear.' আকাশ রুমে ঢুকে বিছানায় বসে উঠলো। লেখাটা হাতে নিয়েই সীমান্ত চৌধুরী পড়া শুরু করলেন-
একটি ইন্টারভিউ...
তোমার নাম ?
- 'মানব'’।
তোমার বাসভূমি ?
- প্রকৃতি।
তোমার ধর্ম?
- মানবতা।
তোমার বিশ্বাস?
- সৃষ্টিকর্তা।
তোমার সম্বল?
- অভিজ্ঞতা।
তোনার চাওয়া?
- বাবা-মা’র আশীর্বাদ।
তোমার পাওয়া?
- অফুরন্ত অনুগ্রহ।
তোমার সাহস?
-বন্ধুর আশ্বাস।
তোমার ভয়?
- নারী’র মন।
তোমার বন্ধু?
- নিজের মনোবল।
তোমার শত্রু?
- আমার ক্রোধ।
তোমার লোভ?
-মনের শান্তি।
তোমার ক্ষোভ?
-দেশের অশান্তি।
তোমার শক্তি?
-বিন্দুকে কেন্দ্র করে বিশ্ববৃত্ত রচনা।
তোমার দুর্বলতা?
-মানুষের নিঃস্বার্থ ভালবাসা।
তোমার লক্ষ্য?
-সত্যের জয়যাত্রা।
তোমার পরিণাম?
-আরেকজন 'সংশপ্তক'’।।
...পড়া শেষ করেই তিনি চোখ তুলে আকাশ'কে বললেন, হুম্ম। ভাল। কম কথায় অনেক কথা বলার চেষ্টা করেছো। আকাশ মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। বাবা বললেন, প্রতিটি প্রশ্ন ব্যাপক এবং উত্তর গুলোও হয়েছে গভীর। আকাশ বললো, আসলে লেখাটিতে প্রতিটি প্রশ্নের আড়ালে যে কৌতুহল থাকে আর সব উত্তরের পেছনে যে ভাবনা থাকে - সেগুলোই আমাকে বেশ আলোড়িত করেছে। বাবা মুচকি হাসলেন। এতক্ষনে মা আকাশকে শুধালেন, কিরে তোর নায়কটা কি শেষে চাক্রী পেল? সে একটা লাজুক হাসি উপহার দিয়ে উঠে পড়লো। বাবা বললেন, Good night buddy.
-‘শুভ রাত্রি তোমাদেরকেও’ বলে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো আকাশ। সে গুনগুন করে তার প্রিয় একটা গানের তাল তুল্লো-
কত দূর আর যাওয়ার আছে,
কত পথ রয়েছে বাকি?
কত মেঘ এই আকাশে ওড়ে,
আজ রোদের হাসি কাল বৃষ্টি...।
গানটি রূপম’এর গাওয়া। গানটির কথা-সুর সুন্দর, আর গায়কও তার আবেগ দিয়ে যেন পুরো ষোল আনা ঢেলে দিয়েছেন। ওর ধারনা, যে কোন ডাক্তার 'মন খারাপ করা' রোগের প্রেসক্রিপশন হিসেবে - এই গানটি লিখে দিতে পারেন অনায়াসে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


