somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন ......৮

১১ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আকাশ দ্রুত তৈরী হয়ে নিল। সাদা একটা ফতুয়া আর নীল রং এর জীন্‌সএ ও’র পুরা ক্যাজুয়াল লুক। তার কালো ক্যারিনা’টা নিয়ে সে ঘুরে ঘুরে নীলিমার জন্য কিছু ফুল, চকলেট, একটা Archies এর কার্ড আর আড়ং থেকে একটা জুয়েলারী বক্স কিনলো।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আকাশ দেখলো পৌনে বারটা বাজে। আজ শুক্রবার সত্ত্বেও রাস্তায় প্রচুর জ্যাম। আজকাল ঢাকায় যে কোন গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সময় রাখতে হয় মূল আয়োজন অপেক্ষা বহুগুন বেশী। কখনও হাতে যথেষ্ট সময় না নিয়ে বের হলে বড় বিপাকে পড়তে হয়। তাই হিসাবটা পাকাপাকি করেই আকাশ গুলশান এর বাহারী গাড়ী ঠেলে ঠেলে ঠিক সাড়ে বারটায় সময় নীলিমাদের বাসার সামনে চলে এলো। গাড়ী থেকে নেমে মেইন গেটে বেল বাজাতে না বাজাতেই নীলিমা বেরিয়ে এলো। মনে হলো, বারান্দায় অপেক্ষা করছিল। গাড়ী দেখেই বুঝি নেমে এসেছে। হাল্কা নীল একটা ড্রেস পরেছে ও। চুমকি আর সাদা-কালো সুতার কিছু কাজ করা। সাধারন সাজ, খোলা চুল আর ওর সপ্রতিভ চেহারা-সব মিলিয়ে একটা সম্পুর্ণ ছবির ফ্রেম !
আকাশ নীলিমা’র জন্য দরজা খুলে দিয়ে এসে পাশে উঠে বসলো।

ভেতরে ভেতরে অজানা এক চাপা শিহরন তার মনের সাদা ইজেলে যেন রংধনু রং এ নানা আঁকিঝুঁকি করে চলেছে। বোধকরি অনেকদিন পর আজ যেন সে পূর্নাঙ্গ ভাললাগা’র অনুভূতিটুকু উপলব্ধি করলো।

কিছুক্ষন দু’জনই চুপচাপ। ঘটনার আলোড়ন কাটতে সময় লাগলো। নীলিমাই নৈঃশব্দকে ছুটি দিল-
- কি তোমার অডিও সেট টা নষ্ট না কি?
আকাশ হেসে দিল।
- তা কেন হবে !
তো, কাকে গান গাইতে বলবো ?
- দেখো - ছুটির দিনে কে ফ্রী আছে ?
আকাশ ড্যাশ বোর্ড থেকে একটা ক্যাসেট বের করে চালিয়ে দিল। স্পীকারে তপন চৌধুরীর মিষ্টি আওয়াজ ভেসে আসলো।
‘ মন শুধু মন ছুঁয়েছে
ও সেতো মুখ খুলেনি
সুর শুধু সুর তুলেছে
ভাষা তো দেয় নি।
মন শুধু মন...’

নীলিমা মুচকি হেসে মাথা নুইয়ে বললো,
আমার অসম্ভব প্রিয় একটা গান।
- হুম্‌ম। আমারও।

...অনবদ্য এই গানটার মূর্ছনায় কালো গাড়ীটি ছুটে চললো তালে তালে। ওরা বিশ মিনিটে ফার্মগেট ছাড়িয়ে কারওয়ানবাজার চলে এলো। নীচে ‘সুপার স্টার’ এর পার্কিং এ গাড়ী রেখে - উপরে উঠে এক পাশে যেয়ে বসলো দু’জনে।
বসার সাথে সাথেই পিছন থেকে ঠাশ্‌ করে থাবা মেরে একজন বলে উঠলো-‘আজকে তোরে পাইছি রে ব্যাটা' ’।

...আকাশ ঘুরে দেখে অফিসের হীরা ভাই ! সঙ্গে ভাবী। ও মনে মনে বললো, ভাই অদ্যই আপনার বিরিয়ানী খাবার ইচ্ছে হলো !
কপাল! আশা করা যাচ্ছে- কাল মোটামুটি আফিসের সবার মুখে মুখে এ ঘটনা’র ফুলঝুরি ফুটবে।
আকাশ সালাম দিয়ে নীলিমা’র সাথে ওদের পরিচয় করিয়ে দেয়। সবাইকে এক টেবিলেই বসতে হলো। এ সময় হীরা ভাই ঘড়ি দেখে বললো, আকাশ - চল্‌ সময় নাই। পান্থপথ জামে মসজিদ থেকে জুমা’র নামাজ’টা পড়ে আসি। দুই বঊ থাকুক। বসে বসে ভাব করুক। আকাশ হাল্কা প্রতিবাদ করতে যাচ্ছিল এই বলে যে, এখনও বিয়েটা হয়নি রে ভাই! হীরা'র দাপটের সামনে তা ধূপে টিকলো না।

নামাজ থেকে ফিরে এসে সবাই কাচ্চি বিরিয়ানি নিল। সঙ্গে বোরহানি আর শেষে ফিন্নী। জোর করেই বিলটা হীরা ভাই দিয়ে দিলেন। নীচে নেমে মিষ্টি পান খেতে খেতে ভাবী বললেন, 'ভাই, তোমাদের জুটিটা কিন্তু বেশ মানিয়েছে'।
এরপর ওনারা বিদায় নিলে আকাশ’রা গাড়ী বের করে রাস্তায় উঠলো। ওদের নেক্সট স্টপেজ -আশুলিয়া।

শুক্রবার বলে আশুলিয়া লোকে লোকারণ্য।
ঢাকা শহরে বিনোদন বলতে তো আর কিছুই নাই !
আকাশ অনেকখানি পথ পেরিয়ে একটু খোলা জায়গায় থামলো।
গাড়ী থেকে নেমেই সে একটা সিগারেট ধরালো। ও গাড়ীতে সিগারেট খায় না।
নীলিমা ভ্রু কুঁচকিয়ে বললো - এ বদ অভ্যাসটা ছাড়তে পারো না?হুস করে ধোঁয়া ছেড়ে দিয়ে আকাশ বললো,
-এর সাথে আমার বন্ধুত্ব অনেক দিনের । সুখে দুখে সব সময় সে আমার সাথে থেকেছে।
- হুম্‌ম। সাথে থেকেছে আর পুড়িয়েছে। এসব কিন্তু আর চলবে না।
সে হাত উঁচু করে মিছিলে স্লোগান দেয়ার ভঙ্গিতে বললো, ‘শুধু গাড়িতে নয় বাড়িতেও সিগারেট’কে না বলুন’।


আকাশ হেসে দিল।
কিছু সময় লাগবে ম্যাডাম।
অতো চট করে ছাড়লে সব গোলমাল হয়ে যাবে যে ! বলতে বলতে সে গাড়ী’র ডিকি খুলে নীলিমা’র জন্য আনা উপহার গুলো বের করলো। সিগারেটএ শেষ টানটা দিয়ে শেষাংশ ছুঁড়ে ফেলে ও দিয়ে নীলিমা’র সামনে গেলো।

নীলিমা বনেটে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আকাশ একে একে তার উপহার গুলো দিচ্ছে আর সাথে মাখিয়ে দিচ্ছে খানিকটা ভুমিকা...।

‘ফুল’-মনের আনন্দ প্রকাশের এর চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই প্রকৃতির বুকে। অকৃত্রিম।
- থ্যাংক্স।

‘চকলেট’- সুস্বাদু বটে। আর এর উপাদান রক্তে মিশে সুগার এর পরিমান বাড়িয়ে দেয়, মন চনমনে হয়। দু-বন্ধু’র মধ্যকার দূরত্ব কমে আসার সম্ভাবনা শতকরা আশি ভাগ।
- নীলিমা হেসে দিয়ে বললো - যথার্থ।

এরপর, কার্ড- ‘Special way to say something special to someone special.’
-তোতা পাখির মত শোনালো ওকে। তারপর মুচকি হেসে বললো, ব্যাটাদের দাম বেশী, তবে লেখা গুলো চমৎকার।

নীলিমা হাতে নিয়ে চোখ বুলালো-
“Every Time I Try To Walk Away...
Something Makes Me
Turn Around
And
Stay.
I Can’t Tell YOU Why…..! ”

নীলিমা বিস্মিত হয়ে চোখ তুলে তাকাতেই আকাশ বলে উঠলো,
আজকের শেষ নিবেদন- জুয়েলারী বক্স।
আমরা জানি, মেয়েদের প্রিয় গহনা।
আর তাদের প্রিয় জিনিষগুলো সযত্নে তুলে রাখবার অভিপ্রায়ে এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্ঠা।

নীলিমা লাজুক ভঙ্গিমায় মাথা দুলিয়ে বললো,
-থ্যাংক ইয়্যু।
সত্যি খুব সুন্দর সব গুলো উপহার। আর তার থেকেও প্রানবন্ত তোমার বর্ননাটুকু।

-‘You are Welcome Neelima’.

এবারে নীলিমা ওর হাতব্যাগ থেকে রাংতা পাতায় মোড়ানো একটা বক্স বের করলো।
আকাশের দিকে বক্সটা বাড়িয়ে দিয়ে ও বললো,
নাও খুলো
বক্সটা খুলে আকাশ দেখলো- সেটা একটা হাত ঘড়ি।
রোলেক্স-ব্ল্যাক ডায়াল।
ও বললো- সুন্দর। থ্যাংক্স।
নীলিমা যোগ করলো- তোমার মত অত সুন্দর করে তো বলতে পারবনা। তবে আমি চাই, এটা তোমাকে ক্ষনে ক্ষনে মনে করিয়ে দেবে -
তুমি আমার। শুধুই আমার।


...তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল। অস্তনমিত সুর্যটা টকটকে কমলা রং এ ভরিয়ে দিচ্ছে দূরের দিগন্তটাকে !
আকাশ নিষ্পলক কিছুক্ষন নীলিমা’র পানে চেয়ে রইলো। তারপর কাছে এসে ওর হাত দুটি ধরলো। অনুরাগের ছোঁয়া যেন খেলে গেল দুটি প্রাণে-দুটি দেহে।
আকাশ দুহাতে নীলিমার চিবুক ধরে লজ্জায় অবনমিত তার মুখখানি উঁচু করে ধরলো।
নীলিমা চোখ বুজে ফেললো।
আকাশ খুব আলতো করে ওর ঠোঁটে একটা চুম্বন এঁকে দিল।।
;)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৩১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×