somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টি এবং টেলিপ্যাথী

২৬ শে মে, ২০০৮ ভোর ৬:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিস থেকে বাড়ী ফেরার জন্য রাস্তায় নামতেই অনাহুতের মত ঝমঝম করে বৃষ্টি শুরু হলো। যাকে বলা যায় একেবারে কুকুর বিড়াল বৃষ্টি । :)

আমি সাথে সাথে উল্টা ঘুরলাম। এভাবে তো আর যাওয়া যাবেনা।
ফিরে গেলাম আবার অফিসে। কেবিনে যেয়ে বসলাম আবার।
কি করবো ভাবছি।

উঠে যেয়ে কফি মেশিনটার কাছে যেয়ে এক গ্লাস কফি নিলাম। চুমুক দিয়েই বুঝলাম, আজ আজাদ মিয়া মিক্সিং করেছে। একেবারে নিখুঁত পরিমাপ তার। চমৎকার কফিতে চুমুক দিতে দিতে জানালার পাশে এসে দাঁড়ালাম। বৃষ্টির ভাব বুঝার জন্য ভার্টিকাল ব্লাইন্ড গুলো সরালাম। ওরে বাব্বা। দেখলাম, এখনো বারিধারা সগৌরবে চলিতেছে।

কফির প্রভাব কিনা জানি না, হঠাৎ মনে হলো -আজ ভিজে ভিজেই বাড়ী ফিরবো। ব্যস্ততার যাতাকলে যে কৈশোর কোনঠাসা হয়ে থাকে আজ বুঝি চকিতে সে চঞ্চল হয়ে ওঠে।

মুঠোফোন আর দরকারী সব কিছু তালা বন্ধ করে সম্পূর্ণ ঝরঝরে হয়ে নেমে পড়লাম রাস্তায়। খাঁচা থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া পাখি যেমন অসীম আকাশ উড়াল দেয় - আমি যেন ঠিক সেভাবেই মিশে গেলাম হার না মানা জনস্রোতে।

দেখলাম অনেকেই চলছেন ঝমঝম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। কেউ কেউ ছাতা হাতে আবার কেউ বা বর্ষাতি জড়িয়ে। রিক্সাওয়ালারা বেশ কায়দা করে পলিথিন পেঁচিয়ে নিয়েছে । আর যারা বসে আছেন তারাও রং বেরং এর পলিথিন এ শরীর ঢাকতে ব্যস্ত। গাড়ীগুলোতে বড় বড় মানুষেরা বুক ফুলিয়ে ছুটে চলছে। রাস্তায় জমে থাকা পানি ছিটিয়ে তারা ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে চারপাশ।

যাত্রী ছাউনীতে তিল পরিমান জায়গা নেই। সব বিভেদ ভুলে সব্বাই যেন মিলেমিশে এক হয়ে আছে। কয়েকটা ছন্নছাড়া টোকাই মহা আনন্দে গোসল করছে ভিজে ভিজে।

আমাদের ড্রেইনেজ সিস্টেম এর যে অবস্থা তাতে খানিক বাদেই দেখলাম রাস্তায় পানি জমে গেল। পানি কেটে কেটে মানুষ -রিক্সা-গাড়ী তরতর করে এগিয়ে যেতে থাকে। সব কিছুকেই উভচর বলে মনে হচ্ছে। আর আমি বৃষ্টির প্রতিটি ফোটা উপভোগ করতে করতে বাড়ীর পথে ফিরে যাচ্ছি।

স্মৃতিপটে ভেসে উঠলো আমি আর নীলিমা রিক্সায় একদিন ঝুমা বৃষ্টিতে পুরো ঢাকা শহর ঘুরেছিলাম।অদ্ভুত ভাল লাগায় মনটা নেচে উঠলো। আর তার সাথে এও মনে এলো যে দুজনই কয়েকদিন জ্বরে ভুগেছিলাম।
আহ! মাঝে মাঝে জ্বরের স্মৃতিটাও খুব প্রিয় প্রসংগ হয়ে ওঠে...।

মানসপটে সযত্নে লালিত এইসব সুখানুভূতি নাড়াচাড়া করতে করতে এতখানি পথ অনায়াসে বীরের মত পেরিয়ে বাড়ি পৌঁছে গেলাম।
কলিং বেল বাজাতেই মা দরজা খুলে কাকভেজা আমাকে দেখেই আৎকে উঠলেন।

তাড়াতাড়ি করে তোয়ালে এনে দিয়ে বললেন, ‘তোর পাগলামি টা এখন ও গেল না রে আকাশ ! আবার তো জ্বর বাঁধাবি। ’
আমি একটু মুচকি হাসলাম।

আমি ভেজা শার্টটা খুলে রেখে বারান্দায় বসলাম। মা রান্না ঘর থেকে সরিষার তেল এনে আমার মাথায় ঘষে দিলেন। মা’র হাতের ছোঁয়ায় আমার সমস্ত কৈশোর যেন হুরমুর করে আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়লো। আমি স্নিগ্ধ আবেশে চোখ বুজে রইলাম।

মা বললেন, ‘হ্যাঁ রে তোর মোবাইল কই? নীলিমা ফোন করেছিল। বললো তোকে পাচ্ছে না। তারপর আমিও ফোন করলাম তোকে। পেলাম না যে।‘
আমি বললাম - মা সব্বার থেকে ছুটি নিয়ে আমি আজ বৃষ্টির সাথে খেলতে খেলতে বাড়ী এলাম। দরকারী সব কিছু অফিসে রেখে এসেছি।

জানো মা, আমারও না ফিরবার সময় নীলিমার কথা মনে হচ্ছিল। তার মানে টেলিপ্যাথী বলে একটা বিষয় সত্যি তাহলে আছে। সাংঘাতিক ব্যাপার তো !
মা বললেন- অনেক লেকচার হয়েছে। যা এখন গোসল করে আয়। আমি চা দিচ্ছি।
মা বেরিয়ে গেলে আমি গোসলে ঢুকলাম।
আজ অনেকদিন পর আমি গলা ছেড়ে গান গাইলাম।

এই মেঘলা দিনে একলা
ঘরে থাকে না তো মন
কাছে যাব - কবে পাব
ওগো তোমার নিমন্ত্রন।


আমি জানি আমার কথা আর সুরে হাল্কা এদিক সেদিক হয়ে যায়। এ নিয়ে নীলিমা হাসাহাসি করে।
তথাপি আমি হাল ছাড়ছি না-

শুধু ঝরে ঝর ঝর
আজি বারি সারাদিন
আজি যেন ক্ষনে ক্ষনে
হলো মন যে উদাসীন।


গোসল শেষে বারান্দায় এসে দেখি বৃষ্টি থেমে গেছে।
ঝকঝকে চারিদিক। মনটা ফুরফুরে হয়ে ঊঠলো।
মা চা পাঠিয়ে দিয়েছেন। মা’র বৃষ্টি উপলক্ষে সুপার স্পেশাল চা। ঘন দুধ দিয়ে কড়া চা। ১০০ তে ১০০ টাইপ।

চা’র কাপ হাতে নিয়েই আমি নীলিমাকে ফোন করলাম।
ও ফোন ধরতেই কথা না বলে আমি গেয়ে উঠলাম-

আজি আমি ক্ষনে ক্ষনে
কি যে ভাবি আনমনে
হায় হায়রে দিন যায়রে
কবে হবে সে মিলন
কাছে যাব - কবে পাব
ওগো তোমার নিমন্ত্রন।


ও হেসে দিল। বললো আমার এখানে এ গানটাই বাজছে অনেকক্ষন।
এবার আমিও হেসে দিলাম।
বললাম, জী ম্যাডাম। বোঝেন এখন। বিজ্ঞানীরা তপস্যা করে এর নামই দিয়েছেন - 'টেলিপ্যাথী' !
B-)


ছবি সুত্রঃ
http://www.uvm.edu/~sgutman/rain in city.jpg
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৩৫
৩৮টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×