আমার প্রিয় পোস্ট

এ কোন আমি ! দেয়ালে এ কার ছায়া !! আয়নার এ কার প্রতিবিম্ব !!!

‘কাকুম ন্যাশনাল পার্ক’এ একটি বিকেল থেকে সন্ধ্যা......২

২৪ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:৩৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

আমরা ক্যানোপী ওয়াকের কাছে গেলাম।
প্রথমে দেখে সত্যি অভিভূত হয়ে গেলাম। গহীন জঙ্গলের মাঝে উঁচু উঁচু গাছে ক্যানোপী সংযোগ করে ঝুলন্ত সেতু বানিয়েছে বেশ কায়দা করে। গাছে গাছে অ্যাংকরেজ গুলো বেশ মজবুত করে করা হয়েছে। আর তাই আমরা সবাই প্রায় একসঙ্গেই হেঁটে আসলাম পুরা পথ টুকু। মাঝে মাঝে গাছের সাথে অ্যাংকরেজ এর প্ল্যাটফর্মগুলোতে একটু অপেক্ষা। ছবি তোলাও চললো সাথে সাথে। উপর থেকে নীচে তাকালে বেশ ভয় ভয় করে। রোমাঞ্চকর অনুভূতি নিয়ে শেষ করলাম ক্যানোপী ওয়াক।

আমার পাশে এসে আমার বন্ধুটি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো- ‘আমাদের দেশেও তো জঙ্গলে এরকম আয়োজন করা যেতে পারে। এই তামাশা করে এরা কত পর্যটক আকর্ষন করছে দেখেছিস।‘ আমি উত্তরে এদিক ওদিক মাথা নেড়ে বললাম- ‘হয়তো খুব সম্ভব; কিন্তু কেন উদ্যোগ নেয়া হয়না; সে উত্তর আমায় জিজ্ঞেস করিস না।‘ আমাদের অবিবেচনা পরায়নতা আর উদাসীনতার কথা মনে করে আমার ভিতরে আরও কিছু আফসোস এর জন্ম দিয়ে শেষে একটা দীর্ঘশ্বাস হয়ে বেরিয়ে এলো।

এরপর, আমাদের পরবর্তী ইভেন্ট-হাইকিং। গহীন জঙ্গলের ভেতরে চিহ্ন করা পথে গাইড আমাদের হাঁটিয়ে নিয়ে গেল। মাঝে মাঝে সে কিছু বিরল গাছ দেখিয়ে তাদের সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা দিল। উঁচু নীচু পথে হাঁটতে অসুবিধা হওয়ায় এক বৃদ্ধা আমার কাধে হাত রেখে চলা শুরু করলেন। আমার বন্ধুর হাতেও তখন ওদের ব্যাগ আর ক্যামেরা। প্রথমে কিঞ্চিৎ বিরক্ত থাকলেও; তত্ক্ষনে চুটিয়ে গপ্পো শুরু করে দিয়েছে ও।

হাইকিং রুটে সূর্যের আলো ঢুকে না বললেই চলে। হঠাৎ হঠাৎ গাছের পাতা ভেদ করে আলোক রশ্মি চোখে পড়ে। হাঁটতে হাঁটতে এক পর্যায়ে এসে দেখলাম একটা মাচা করে খাট লাগানো আছে। মশারি টাঙ্গানো। পাশেই একটা টয়লেট। সেখানে হারিকেন জ্বালানোতে ব্যস্ত একজন বিদেশী কে দেখা গেল। গাইড বললো- এই ভদ্রলোক রাত কাটাবে এখানে। আর ভয়ংকর প্রানীদের থেকে রক্ষা করার জন্য বন্ধুকধারী গার্ড আছে জায়গায় জায়গায়। আমি মনে মনে ওস্তাদ কে সাবাশী দিলাম।

আমরা আফ্রিকার গহীন জঙ্গলে হাইকিং শেষ করে যখন পার্কের এক্সিট গেটের কাছে পৌঁছুলাম। তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। বাইরে এসে গাইড জানালো এখানে বাংলো আছে রাতে থাকার জন্য। খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থাও ভালো। আমরা ওকে ধন্যবাদ দিয়ে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের দিকে পা বাড়ালাম। সেখানে একটি মাত্র গাড়ি দাঁড়ানো। পরে দেখলাম ঐটা আমাদের অপর তিন সদস্যাদের ভাড়া করা গাড়ী। পার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা ট্যাক্সির জন্য একটু চিন্তিত হয়ে পড়লাম। এমন সময়, ঐ তিন আমেরিকান মহিলা আমাদের দিকে এগিয়ে এসে কয়েকবার করে ধন্যবাদ জানালো। ইমেইল অ্যাড্রেসও নিলেন একজন। তারপর ওদের মধ্যে সবচেয়ে বয়ষ্কা যিনি (৭৩ বছর) আমার কাধ চাপড়ে বললেন -
‘You had been excellent ambassador of your country BANGLADESH. Your mom must be very proud of you.’

আমি তার ভাষাতেই উত্তরে বললাম যে -এটা আমার অনেক আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকবে। আর তাদের আমন্ত্রন জানালাম বাংলাদেশ দেখার জন্য। আমার বন্ধু হাঁটতে হাঁটতে সুন্দরবনের গল্প বলে ফেলেছে। আমি এবার বললাম কক্সবাজারের কথা। এরপর নাটকীয় টোনে বললাম যে - নতুন সপ্তমাশ্চর্যের এই দুটি কে নিজের চোখে না দেখলে অষ্টমাশ্চর্য মার্কা আফসোস নিয়ে পৃথিবী ছাড়তে হবে । এ কথা শুনেই তারা সবাই অনেক হেসে উঠলেন এবং উৎসাহ দেখিয়ে বললেন অবশ্যই আসবেন তারা বাংলাদেশে।

এরপর ফিরবার পালা । তাদের গাড়িতে গাইড বাবাজীও এসে উঠলো। ফলে সৌজন্যতা যা দেখানো যেত - সেটাও তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়লো। আমরা হেঁটেই মেইন রোডে চলে এলাম। সামনে বাস স্ট্যান্ড এর সামনের বেঞ্চিতে বসে অপেক্ষা শুরু করলাম। পরপর ক’টা ভরা মাইক্রোবাস যাওয়ার পর আমরাও একটা মাইক্রোবাস পেয়ে গেলাম। পেছনে মুরগীর খাঁচা, লোকে গাদাগাদি, ক্ষুধার্ত বাচ্চার কান্না আর কন্ডাকটারের ডাক শুনতে শুনতে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। মনে মনে যে কোন গানের সুর তুলে পারিপার্শ্বিকতা ভুলবার আয়োজন করলাম।
হঠাৎ করেই যেন মনে এলো-

রাঙ্গামাটির রঙে মন জুড়ালো।
সাম্পান মাঝির গানে মন ভরালো।
রূপের মধু সুরের জাদু কোন সে দেশে
মায়াবতী মধুমতি বাংলাদেশে।।


লম্বা সফরের পর অবশেষে ফিরলাম শহরে।
হোটেলের রূমে যেয়ে গোসল সারলাম দুজনে।
এরপর আমি বললাম- বন্ধু, এবারে আমার ভেতরে কিন্তু বিদ্রোহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে...।
এবারে ও হেসে দিল। দুজনে ঝটপট তৈরী হয়ে নেমে পড়লাম রাস্তায়।
সামনে যে হোটেল পড়বে তাতেই হামলা চালাবো দুই বন্ধু।
কোন ছাড়াছাড়ি নাই ...!

B-)
ছবির জন্য কৃতজ্ঞতাঃ
আমার প্রিয় বন্ধুর প্রতি।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কাকুম ন্যাশনাল পার্ক ;
প্রকাশ করা হয়েছে: স্মৃতি  বিভাগে ।

 

  • ২৪ টি মন্তব্য
  • ১৯৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৪ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:৫৯
comment by: চাঙ্কু বলেছেন: আরে আত তাড়াতাড়ি এইটা পোষ্টাইলেন কেমতে ??

এইডা ভালা হইছে । কিন্তু বর্ননা আত ছোট কেন X( ?
পার্কটা আসলেই সুন্দর ।
২৪ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:০৭

লেখক বলেছেন:
:)
আসলে লেখা হয়েছিল একসাথেই।
ব্লগের সহনীয় দৈর্ঘ্য রক্ষার্থে দুই পর্বে দিলাম।

বর্ণণা বড় করে করতে পারলে আমিও সুখী হতাম।
এবেলা তো তা আর করা গেলনা।
তাই আফসুসটা রয়েই গেল !
;)

ভাল থাকুন নিরন্তর।

২. ২৪ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:০১
comment by: রাতিফ বলেছেন: খুব সুন্দর বর্ননা ভাইয়া.......দুইটা পর্বই পড়লাম।

পার্কটা তো আমারও দেখতে ইচ্ছা করছে।:(
২৫ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:২৪

লেখক বলেছেন:
হুম্‌ম রাতিফ।
আসলেই সুন্দর।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
ভাল থেকো।
:)

৩. ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ২:২১
comment by: সবাক বলেছেন:
আমি কবিতা চাই............
২৫ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ২:৩২

লেখক বলেছেন:
হুম্‌ম...।
লেখাটা দেনা হয়েছিল।
খুব ঘটা করে বলিনি যদিও বলি নি -
তোমায় বলি -
ব্লগ এর সংখ্যা পঞ্চাশ ছুঁবে বলে
খুব সচেতনে প্রিয় দেশের মুখটা
অন্যের চোখ দিয়ে দেখার লোভ
সংবরন করতে পারলাম না !

:)

কবিতারা ডানা ঝাপ্টাইতেছে
আসিবে কিছু পরেই...

৪. ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ২:৪৯
comment by: সবাক বলেছেন:
আমার লেখায় তোমার করা মন্তব্যের জবাব দিতে পারছি না এক রহস্যময় কারণে। কালকে দিতে হবে জবাবটা। প্লীজ মনে কষ্ট নিওনা ভাইয়া।


কবিতা তারাতারি দাও:)
২৫ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:৩৮

লেখক বলেছেন:
রহস্য আমায় সব সময় আন্দোলিত করে !
;)

হুম্‌ম - সে চেষ্ঠায় আছি রে !!
:)

৫. ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:২৬
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: "পেছনে মুরগীর খাঁচা, লোকে গাদাগাদি, ক্ষুধার্ত বাচ্চার কান্না আর কন্ডাকটারের ডাক শুনতে শুনতে চোখ বন্ধ করে ফেললাম।"
এইটার সাথে বান্দরবানের চান্দের গাড়ির বর্ণনা বেশ মিলে:)
২৫ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:৩৭

লেখক বলেছেন:
হে হে...
:)

ঠিক ধরছেন ফারহান ভাই।

আমি বিদেশ বিভূঁইয়ে বসে বসে হয়তো ফেলে আসা দেশটারেই খুঁজে ফিরি-
আর তাই তেনাদের চোখেও এঁকে দিছি শ্যামল ম আ'র সুখছবি।

অনেক শুভেচ্ছা নিন।

৬. ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৫:০৫
comment by: নির্বাসিত বলেছেন: দুটো পর্বই পড়লাম। খুবই সুন্দর বর্ণনা আর ছবি।
চমৎকার!
২৫ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৫:৪০

লেখক বলেছেন:
এ আমার পরম সৌভাগ্য নির্বাসিত দা।

আপনার লেখা আমার খুব ভাল লাগে।
আমার কেন এ ব্লগে সবচেয়ে জনপ্রিয় সিরিজ উপহার দিয়েছেন আপনি।

আজ আপনি আমায় এভাবে উৎসাহ দেয়ায়-
আমি সত্যি অনেক সুখী হলাম।
:)
নিরন্তর শুভেচ্ছা জানাই আপনাকে।

৭. ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৫:৫৫
comment by: আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: ভ্রমণ কাহিনী পড়লে মন খারপ হয়ে যায়। :( কতকিছু হয়নি দেখা। :(
২৫ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:০৫

লেখক বলেছেন:
হুম্‌ম।
ঠিক বলেছেন।
আবার লিখতে যেয়ে ভাবছিলাম-
সবার সাথে শেয়ার করলে ভাল লাগবে।
কিন্তু এখানে যে আপনার মনটা খারাপ হলো।
সে জন্য আমারও খারাপ লাগলো।
:(

আপনার ধারে কাছে যা আছে-
ঘুরে আসুন সময় করে।
:)

৮. ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:০৭
comment by: আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: মক্কাবাসীর হজ্ব হয়না, জানেন তো? ধারেকাছের জিনিসে মন বসে না। :)
২৫ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:১৮

লেখক বলেছেন:
হা হা !
ভাল বলেছেন।

তথাপি, লাইগ্যা থাকেন !
:)

৯. ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৩৪
comment by: দূরন্ত বলেছেন: ভালো লাগলো।
আমারও কাকুম ন্যাশনাল পার্কে যেতে ইচ্ছা করছে। দেখি টাকা পয়সা হলে নিশ্চয়ই যাবো।
ভালো থাকবেন।
২৫ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৩৫

লেখক বলেছেন:

ইনশাআল্লাহ।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
:)
আপনি ও ভাল থাকুন - এই কামনায়।

১০. ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৫২
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: চমৎকার বর্ণনা তবে আমাদের এতো কম বলেছেন ক্যান???
এটা কি এখানেই শেষ নাকি আরো পাবো???
২৫ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:০৭

লেখক বলেছেন: ইমন ভাই,

এখানেই শেষ।
:P
আমার বন্ধুর অনুরোধে একটু তাড়াতাড়ি করেই দিলাম।
বড় করতে পারলে আমিও খুশী হতাম। হয়ে উঠলো না।
ভ্রমন কাহিনী নিয়ে হাল্কা ভীতি ছিল।
তাই বেশী বকবক করা হয়ে উঠেনি।
:)
এভাবে অভয় দিলে আগামীতে আরও সাহসী হয়ে উঠবো।

১১. ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:১০
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: পুরা ইকো ফরেস্ট টাইপ, অনেক থ্রিলিং মনে হলো। ইস, ক্যানোপির ছবিটা দেখে এখনই হেটে আসতে ইচ্ছা হচ্ছে।

অনেক ভালো লাগলো বর্ননা।
২৫ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:২৩

লেখক বলেছেন:
আসলেই পার্কটা চমৎকার - আসিফ ভাই।

আপনার ভালো লেগেছে জেনে প্রীত হলাম।
:)

১২. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:০২
comment by: সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: ভালো লাগলো.........
গত সপ্তাহে একটা জায়গা বেড়িয়ে এলাম.........
নাম মন্ট ত্রম্বলে............
ক্যাবল কার এ করে পাহাড়ের এ মাথা থেকে ও মাথা,
নামার সময় Luge এ নামলাম.........
কি যে মজার ব্যাপার।লিখবো সহসা।সময় পাচ্ছি না।
ভালো থেকো।
০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:১৭

লেখক বলেছেন:
যাক আপু,

আমার অনুরোধে আসায় তোমার আগাম ভ্রমন কাহিনীর মহরৎ হয়ে গেল এখানে...
:)

শুভেচ্ছা অফুরন্ত...

 



 


জীবন মানে উঁচু নীচু পথে অবিরাম গড়িয়ে যাওয়া।
পথ চলতে ভাবনাগুলো বয়ে যায় বহতা সময়ের সাথে।
কিছু হারিয়ে যায় -...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২৪১৬৯