মিথ্যে বলা শিখে নিলাম।কঠিন সত্যকে আরও বেশি ভালোবেসে। আমি কি বড় হলাম ? হয়ত সামান্যই । তাই এখনো ট্যাক্ট বুঝি না।খেলতে গিয়ে পা ভেঙে পড়ি। যন্ত্রনার ক্র্যাচে হাঁটতে হাঁটতে উপলব্ধি করি । মিথ্যা আমার "কোর সেলফের" বিপ্রতীপ। যদিও আমার চেতনার সংসারে আমি ব্ল্যাক শিপ ! আমি ম্যাটার তো "মিথ্যা" এ্যান্টিম্যাটার । তাই যত দূরে থাকা যায়, ততই বেটার। তাও দেখো, তোমার সংসারে মিথ্যে বলা শিখে নিলাম। একজন খালামনি আর লক্ষ কোটি পৃথ্বী কিংবা প্রাপ্তির চোখের দিকে চেয়ে ।
মিথ্যে বলে মন যখন তখন। পার্থিব প্রয়োজনে তুমিও যেমন বলো , " এই তো মা, বাসে বসে আছি। এখনি পৌঁছাবো বাসায়।" মিথ্যে বলে আমার হৃদয়। মা যখনি কষ্ট দেয়, হৃদয় পাথর চেপে বলে ," ধুর পাগলি! কষ্ট নয়, ভালোবাসা!" মিথ্যে বলে আমার চোখ। যখন দেখে আত্মা তোমার , আমায় বলে - " ওরে ভ্রষ্টা, মিথ্যে ওটা, অসৎ , চামার ।" আমিও তখন মিথ্যে বলি ।
দারুন মাথা নেড়ে স্বীকার করি । "একদম ঠিক।" "ভালোবাসি?" " কই, নাত! আমি কি পাগল না আমার পেট খারাপ! সমাজ , সংসার আছে না? ধুর, তোর মায় রে বাপ, মেজাজে শাপ।" আমার আত্মা আমূল টেনে আমায় শুধায় ," চিনতে পারো নাই ওকে? " আমি বলি , " কই নাত! "
আমি পালাই । আমি ক্রমাগত পালাই। আমার আত্মজ হবার ঋণের দায়। আমি পালাই। আমার সামাজিক হওয়ার চেষ্টা । আমি পালাই। আমার যুক্তিবাদী, বাস্তববাদী, কর্মযোগী হওয়ার উপদেশের মুখোশের আড়ালে , আমি পালাই ।
আমি মিথ্যে বলি । জানি , তুমি আমার প্রতিটা মিথ্যেকে পড়ে নিচ্ছো বিনা আয়াসে। তবু আমি মিথ্যে বলি । তোমার কাছ থেকে নয়, আমি আমার কাছ থেকে পালাই । আমার তীব্রতম ভালোবাসার কাছ থেকে পালাই । এই অনুভূত সর্বগ্রাসী প্রেমের করাল গ্রাস থেকে পালাই। আমার নিয়ন্ত্রনহীন আবেগের জোয়ার থেকে পালাই । আমার সকল সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করে নিয়ে পালাই। তোমার সততার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আড়াল করে পালাই। আমার করা নোংরা, কুতসিৎ, প্রতারক গণিতের কাছ থেকে পালাই। নিছক সহমর্মী ভালোবাসাকে প্রেম আখ্যা দিয়ে পালাই। এক লক্ষ একটা মিথ্যে বলে , তোমার বিশ্বাসকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে পালাই ।
তোমার কাছে ধরা পড়ার ভয়ে বিবস্ত্র করি নিজেকে মানবিক আয়নায় , পাশবিক সংযোগে ভাঙতে চাই স্বীয় সৌকর্য ! নিজেকে বার বার বেঁচে দেই "উচিতের" প্রতারক পতিতালয়ে, আমি হই হন্তারক নিজ বাসভূমে!
তোমাকে ভালোবাসার ভয়ে আমি তোমার ঘৃণা অর্জন করি।
প্রচন্ড অভিমানী , হতচকিত , বিভ্রান্ত ঘৃণা। জানতাম, আমি প্রকাশিত তোমার কাছে সম্পূর্ণ । আমার বিবেক যতটা জানে , তুমি জানো ঠিক ততটাই । জানো আমি কখন ,কোথায়, কতবার মিথ্যে বলেছি তোমাকে। আমি পালাতে চেয়েছি । আমি ভয় পেয়েছি । এই একবার আমি আমার আত্মার সাথে করেছি নিখাঁদ ভন্ডামি ! সৎ আমি থাকিনি। আমার পাপ তাই জ্বলে উঠেছে নারকীয় আগুনে। একি অদ্ভুত চিতা আমার চারিপাশে! এমন কি পিতা মাতার অপরিশোধ্য ঋণও পারে না সইতে আত্মার পাপ। আমার ভিতরে বাহিরে সততার অভিশাপ! আত্মাকে মিথ্যা বলা মানে স্রষ্টাকে মিথ্যা বলা । তাই দু'দিনও থাকতে পারিনি দূরে। লুকাতে পারিনি অন্তঃপুরে। পারিনি গাইতে না বেঁধে প্রাণ সত্যের সুরে।
আবার ফিরে এসেছি সততার মন্দিরে ।
মাঝের কটা ক্লেদাক্ত প্রহর । মাথা ডুবিয়ে অন্ধ হওয়ার নিষ্ফল আগ্রাসন । আমি পাপ করেছি । আমি এইবার সত্যি একটা পাপ করেছি। ভুল নয় , পাপ। দাউ দাউ পুড়েছে তাই এক অবিনশ্বর অনুতাপ । এবার অঙ্গার রুপে দাও শুদ্ধতার ছাপ। আমি আবার হই পবিত্র , নিষ্কলুষ । শাস্তি দাও, ফালা ফালা করে দাও মাধুর্যের ভাস্কর । গুড়ো গুড়ো করে দাও আলোময় ঝাঁড়বাতি। টুকরো টুকরো করো সমুদ্র সুনীল । বিলিয়ে দাও তৃতীয় যুগের ঐশ্বর্য্য । যত ভুল, ক্লেদ, বিবমিষা, কলঙ্ক - মুছে দাও মানব বর্জ্য !
তারপর নয় গড়ে নাও । সাহসী আর সৎ। তবু ক্ষমা করো ! দীর্ঘতম নরকবাসের পরে নাকি স্বর্গ থাকে! নির্মমতম শাস্তির পরে তবে ক্ষমা দাও ।
আমি তো অসাধারণ নই । স্রেফ মানুষ । নারী।
আমি অনুতপ্ত ।
আমি অপরাধী ।
আমি সম্পূর্ণ নত ।
"তোমাকে ভালোবাসি না" বলার অপরাধে দিও না অনন্ত রাত্রিবাসের ক্ষত !
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



