ভোর বেলা ছোট বোনের ধাক্কায় ঘুম ভাংলো । ছুটির দিন , একটা মাত্র দিন ; যেদিন আমাকে ভোর রাতে উঠতে হয় না । এই রকম দুর্লভ ভোরে কার উঠতে ইচ্ছা করে ? শরীর তাই নিজে থেকেই সব কিছু নির্জীব এবং অ-সংবেদনশীল করে রেখেছিলো মনে হয় । কিন্তু মেয়ের মন বলে কথা! "আব্বুর শরীর খারাপ " কথাটা শোনার সাথে সাথে উল্কা বেগে আমার ফ্লাট থেকে ঐ ফ্লাটে আর তারপর সারাটা দিন তাকে নিয়ে হাসপাতালে । শিকদারের ডাক্তারকে ভালোই লাগলো কিন্তু ঠিক নিশ্চিন্ত হতে পারছি না । কারো সেকেন্ড অপনিয়ন কি নেব? কারটা নেবো ?
এখন , ভাবলে চমকে যাই , স্তুপ করে রাখা জিনিস্পত্র এর গা বাঁচিয়ে আব্বু পর্যন্ত পৌঁছালাম কি করে যখন চোখের পাতাই আমার খুলে নাই ! মেন্টাল ম্যাপ জিনিসটা আসলেই অদ্ভুত । অনেক দিন পরে হাসপাতালে রাতের ডিউটি করার অনুভূতিটা ফিরে এলো । একটা খুট শব্দেও জেগে উঠতাম আর দৌড়ে যেতাম বেড থেকে বেডে । এমনিতে আমি কুম্ভকর্নের ঘুম ঘুমাতে পছন্দ করি । কিন্তু , কোন কাজ থাকলে যে কি অবস্থা হয় তার প্রমান পেয়েছি ভাগ্নিটা জন্মের পরে । কাছে নিয়ে শুইলে সারারাত আমি জাগা । নড়লো কিনা, ঘামলো কিনা , ঠান্ডা লাগলো কি না , মশারির গায়ে হাত পড়লো কি না - আশ্চর্য মায়েদের শরীর - মন । টের পেলাম কি করে মায়েরা বাচ্চার প্রতিটা শ্বাস এর ইতিহাস জানে !
আব্বুর জন্য এখন আমি মায়ের ভূমিকায় । অতএব শনিবার থেকে ঘুমানো বন্ধ হয়ে গেছে । তার পর ও ভালো আছি । কেন যে ভালো আছি , আল্লাহ মাবুদ জানে । সব কষ্টকে মনে হচ্ছে দু হাতে মুচড়ে বাড়ি পাঠিয়ে বিদায় দিয়েছি । এই লঙ্কা কান্ডের ভিতরেও ভালো আছি ।
ঘটনা ২
বাড়িতে কাজের লোক নাই । ড্রাইভার তাফালিং করতেছে । দারোয়ান রে মাঝে মাঝেই দেখি হাওয়া হয়ে যাইতে । এই তিন প্রফেশনালদের সাথে আমার আজ পর্যন্ত বনলো না । মেজাজ তাই খারাপ হতে হতে হচ্ছে না । কোবতের খ্যাতা পুড়ি । কবিতা গবিতা হয়ে গেলো । কিরন একটা মহান দায়িত্ব পালন করছে । আমার মেজাজ খারাপ হলে সেইটা আরও মারাত্মক খারাপ করার কাজটা করছে যাতে আগের কাজটা কম খারাপ লাগে । এইটা আমার দুলাভাই এর মহান সূত্র ।
"যদি তোমার আঙ্গুলে একটা সুই ফুটে তাহলে হাতুড়ি দিয়ে কনুই এ একটা বাড়ি দিতে হবে যাতে আঙুলের ব্যথাটা ভুলে যাও।" কিরনকে শেষ পর্যন্ত হুমকি দিলাম - বেশি জ্বালাতন করলে কিন্তু তোমার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো । কিরন হাসতে হাসতে ভেঙে পড়ে আর কি ।
"এইটা শাস্তি হয় কি করে ? উলটো কমেডি দেখে মজা পাব"
আমি প্রচন্ড ক্রুর একটা হাসি দেই । " ওয়েল , তুমি যেটা ভেবে দেখছো না , সারাটা জীবন ২৪ টা ঘন্টা তোমাকে আমার গান শুনতে হবে আর কবিতা পড়ে সেইটার সমালোচনা লিখতে হবে । মু হা হা হা হা হা হা হা "
কিরনকে তারপর থেকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ।
ঘটনা তিন ৩
আজকে অফিসে আসতে আসতে এক খানা "তাকে নিয়ে রম্য ছড়া " মনে আসিলো । কবিতা আর লিখতে পারবো না । কবিতা এই বছরের মত ছুটি নিয়েছে । এইটা নিয়ে মনটা খারাপ হইতেই পারিতো । কিন্তু , অফিসে ইন্টারভিউ দিতে কে এসেছে , তাই দেখে মন পুরা "ইয়া হাবিবি"
এই মেয়েটা এর আগে এক মাস কাজ করতে এসেছিলো । সুপার মডেল ফিগার আর সেই রকম দেখতে । মনে প্রানে চাইছি , মেয়েটা আসুক । উফ ! ব্যাটা কিটস ভুল লেখে নাই - এ থিংগ অফ বিউটি ইজ জয় ফর এভার।"
ভাবছেন , অতিরিক্ত সুন্দরী মেয়ে তো আমার কি? হে হে হে
কবির চোখে বিশ্ব দেখুন । সৌন্দর্য্য হইলো ভিটামিন বি- মানে বিউটি । তার উপর বস লোক জন তারে নিয়া ব্যস্ত থাকলে আমি ফাঁকি দিলেও কেউ ধরতে আসবে না ।
ইয়া হাবিবি!
তোমার আমার ভালোবাসা আইসো বাজাই তুড়ি
খুব মিলেছি আমরা দু'জন , তোমার আমার ভুড়ি ।
আমরা দু'জন বিশাল মানুষ , বিশাল মোদের মন
দেহের ভাঁজে বিশাল সে সুখ খেলছে সারাক্ষণ
এখন থেকে ষাট পেরিয়ে নয় শূণ্যের ঘরে
জড়িয়ে দু'জন রাখবো ধরে জীবন শক্ত করে
তোমরা যখন মাত্র পঁচিশ , কিংবা ঊনিশ কুড়ি
ট্যাংগো নেচে রঙ্গ ভালোবাসবো বুড়ো বুড়ি
ভাবছো বুঝি পাগলা , এমন আদৌ কি প্রেম ঘটে ?
প্রেম কারে কয় , দ্যাখ না ! আমি রাগ ইমন তো বটে !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

