somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেমন কাটলো ১৪১৫ এর প্রথম দিন ?

১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশা করি সবার দুর্দান্ত কেটেছে । এইবারের পয়লা বৈশাখ নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় ছিলাম , নানাবিধ সেই সব চিন্তা । তবে বেশির ভাগটাই জুড়ে ছিলো , বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব , এ জাতির সবচেয়ে বিস্তৃত , উজ্জ্বল , সুন্দর , আলোময় উৎসব এইবার কি মিইয়ে যাবে খাদ্য বাজারের অগ্নিমূল্য আর অর্থনীতির বৈরী ,স্থবির চাকার কারনে?

আমার সকল দুশ্চিন্তাকে অমূলক প্রমান করে রাস্তা ঘাটে মানুষের ঢল নেমেছিলো আজ । হ্যাঁ , মানুষের । ধনিক শ্রেনীর চাকচিক্যের নয় , রাজনীতির মাঠ গরম আস্ফালনের নয় ,অতি জাতীয়তাবাদের অশালীন বাড়াবাড়ির নয় - শুভ্র , সৌম , সাত্ত্বিক বাঙালীত্বের জোয়ার। প্রতিবাদ ছিলো - কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা ছিলো নান্দনিক , গভীর বোধ সম্পন্ন ।

এখন বলতে পারেন , কিসের প্রতিবাদ , কই প্রতিবাদ? সবাই তো পান্তা খাইতে আর আড্ডা মারতে ব্যস্ত ছিলো । এই হলো এক জাতি , এক সত্ত্বা হওয়ার মজা । আপনি নিজেও জানবেন না , কি অসাধারন এক প্রতীকী প্রতিবাদ আপনি করেন যখন আপনি শাড়ি পরেন,যখন আপনি বাংলায় গান করেন, যখন আপনি পিঠা পুলি নিয়ে কাড়াকাড়ি করেন , কিংবা যখন সম্পূর্ণ অপরিচিত একটা মানুষকে ঢোল , বাঁশি বাজিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান । এই সবটাই প্রতিবাদ -- জাতীয় সত্ত্বাকে নিজের ভেতর ধারন করে এই চরিত্রের পরিবর্তন ঘটানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ।

পাকিস্তান আমলে বাঙালীকে অন্য একটা কিম্ভুত কিমাকার উর্দুভাষী , শেরোয়ানী পরিহিত , রুটি -পরোটা খাওয়া জাতিতে পরিনত করার কম চেষ্টা করা হয় নাই । জাতি সত্ত্বার পরিবর্তন ঘটিয়ে শাসন করার এই "হীরক রাজার দেশ" এর পদ্ধতি এই বঙ্গে শুধু নয় , এখনো চালু আছে পশ্চিম বঙ্গেও । সেখানে দিল্লীর চাপে হিন্দী আর ইংরেজীর আগ্রাসনে বাংলার নাভিশ্বাস ! আর এই বাংলায় এখন চলছে জলপাই সবুজের সজাতি আক্রমন । গাঢ় সবুজকে বদলে যদি এখন জলপাই সবুজ বোরখা পরতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় , বাঙালী মুসলিম থেকে "মুসলিম বাংলাদেশী" বানানোর চেষ্টা চলে ,তাহলে এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে নিজের পরিচয়টা ঢাক ঢোল পিটিয়ে , রাস্তায় বেরিয়ে , নেচে গেয়ে "জানান" দেওয়াটাও প্রতিবাদ । এবং অবশ্যই এক ধরনের "সাবধান বানী" , শাসকের চোখ রাঙানির বিরুদ্ধে ।

৫২ এর ভাষা আন্দোলন , ছায়ানটের বর্ষবরণ আর ১৪১৫ সনে বাঙালীর উচ্চকিত উৎসবে নিজ আচার , আনন্দ ,সংস্কৃতিকে উদযাপন --- একই ধারায় গাঁথা । ভালো লাগে । এত কষ্টের মাঝেও ভালো লাগে ১৫ কোটি প্রানের এই মহা মিলন ।

একটি কথা একটু আলাদা করে বলতে চাই । বেশ কয়েক বছর আগে কোন এক ২১শে ফেব্রুয়ারীতে হঠাৎ দেখা গেলো "পাকিস্তানের পা চাটা কুত্তা " , বাংলা ভাষাকে "হিন্দুয়ানী" আখ্যা দেওয়া গু আযম "ভাষা সৈনিক " দাবী করে বসেছে নিজেকে । গত বছর শিবিরকে দেখা গেলো বিজয় মিছিল করতে ।এই বার নাকি তেনারা পয়লা বৈশাখ পালন করিতেছেন সাইমুমগোষ্ঠীর ইসলামী শিল্পীদের নিয়ে ।( অন্য একটা পোস্টে দেখলাম) হ্যাঁ ,এইটা সেই শিবির যারা গান বাজনা করাটাকে হারাম বলে প্রচার করে এসেছে । ঘটনা যদি সত্য হয় ,অনেকেই এই ভন্ডামি দেখে রাগে , বিরক্তিতে গালাগালি শুরু করে দিবেন । করুন, তবে সাথে এই কথাটাও মনে রাখুন যে , এইটা কিন্তু আমাদের বিজয় । বাঙালীত্বের বিজয় ।

গু আযম আর তার ক্ষমতালোভী , পরগাছা - পরজীবী জামায়াত ১৯৪৭ অথবা তারও আগে থেকে চেষ্টা করে "বাঙালী সংস্কৃতি বিরোধী" কোন পথেই সাফল্য লাভ করে নাই । উদীচী , রমনা , দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বোমা বাজি করেও কিছুই করতে পারে নাই ।বেহেস্তের লোভ আর জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে বাঙালীত্বকে ভুলানো যায় নাই । বরং , এই ১৪১৫ সনে এসে আমরা কি দেখছি ? গু আযমকে "ভাষা সৈনিক " হয়ে , শিবিরকে ১৬ই ডিসেম্বর পালন করে , আর সাইমুম গোষ্ঠীকে পয়লা বৈশাখের উৎসবে যোগ দিয়ে আমাদের "মন পাওয়ার" হীন চেষ্টাটা করতে হচ্ছে ।

কেউ যদি বলেন , একক পরাশক্তির পদানত এই পৃথিবীতে , বিদেশী -দেশী স্বার্থান্বেষী মহলের লোভী নখের তলায় পিষ্ঠ এই জাতি , এই দরিদ্র - সমস্যা জর্জরিত জনপদকে নিয়ে আমি কি আশাবাদী ?

তবে উত্তর দেব ,হ্যাঁ , আশাবাদী ।সব কিছু জেনে বুঝেও আশাবাদী । কারন , আমরা যা কিছুই হই না কেন , ইতিহাস সাক্ষী , আমরা জাতিগত মানসিকতায় সদাই স্বাধীনচেতা। হাজার বছরের বিশুদ্ধ চেতনা তাই সব রকমের আগ্রাসন এর জবাব দেবে শুভ্র পটে রক্ত লাল অক্ষরে ।

বাংলার জয় হোক !

শুভ হোক ১৪১৫ !
২৪টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×