somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যদি কন্ঠ দাও , আমি তোমার গাহি গান (উৎসর্গ - ব্লগার রাশেদ)

০৭ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গান নিয়ে লেখা পড়া ?

নারে ভাই । এত সৌভাগ্য নিয়ে তো জন্মাইনি ! পেটের ভাত যোগাড়ের প্রতিযোগীতায় এই স্বপ্নটা আর কোন দিনই পূরণের নয় ।

কিন্তু কেমন কেমন করে জানি পারিবারিক আবহের ভিতরেই শিল্প এবং সাহিত্যের একটা দুষ্টু জিন ঢুকে পড়েছিলো । কোন রকম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই নানু বাড়ির সকলে এবং দাদু বাড়ির দিক থেকে আব্বু -- প্রত্যেকেই খুব ভালো লিখতে জানেন । নানু প্রাচ্যের শুদ্ধ সঙ্গীতের ভক্ত। তৎকালীন জনপ্রিয় বিভিন্ন গান শুনতেন । মামণিরা যেতেন রেডিওতে ভারতীয় শিল্পী কিংবা গ্রামোফোনের গান শুনতে । বই পড়তে সকলেই খুব ভালোবাসতেন । ভালোবাসতেন কবিতা লিখতে । ব্যাপারটা এমন যে কেউ যদি কবিতা না লিখতে পারে , আমাদের পরিবারে জেনেটিক টেস্ট করতে পাঠানো হয় যে জন্মের সময় বাচ্চা বদল হয়ে গেছে কি না । শ্বাস নেওয়ার মত, দাঁত মাজার মত কিংবা আহার -নিদ্রার মত এই পরিবারের সন্তানেরা গান - কবিতা "করে -টরে" ।

মামণিরা ছিলেন ১৩ ভাই বোন । স্কুলশিক্ষক নানাভাই আহার , পরিধেয় এর বাইরে সন্তানদের খুব কম শখই পূরণ করতে পারতেন । মা সেই ভাবে গান শেখার সুযোগ নাই। মামাকে গান শেখাতে এলে মামনি রান্না ঘরে কান খাড়া করে শুনতেন। কপাল ভালো থাকলে , বাচ্চা ভাই বোনদের দেখা , কাপড় ধোয়া কিংবা কোটা বাছার ফাঁকে হারমোনিয়ামের পাশে বসার দুর্লভ একটা- আধাটা সুযোগ মিলে যেতো ।

বিয়ের পরে আব্বু মাকে ছায়ানটে ভর্তি করে দেন । অকল্পনীয় সুন্দর তাঁর গানের গলা । আর গাওয়ার মুন্সিয়ানায় তাক লাগিয়ে দিতেন সবাইকে । দুই পৃষ্ঠা ব্যপি তান গাইতেন একটাও ভুল না করে । শান্তি নিকেতন থেকে মার নামে স্কলারশীপ এসেছিলো । আফসোস ! ভারতে যেতে পারেন নাই বা যান নাই শুধুমাত্র "আমাদের মানে পিচকি পিচকি দুই বাচ্চার" কারনে ।

সংসারের কারনে শান্তি নিকেতনে যান নাই মামণি । সন্তানই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় প্রেমের বস্তু , একান্ত সম্পদ । কিন্তু গান তাঁর জীবনে কতটা ভালোবাসার ছিলো তা বুঝি কারন এর পরে তিনি আর কোন দিনই পারিবারিক বলয়ের বাইরে গান করেন নাই । অভিমান ? শান্তি নিকেতনে স্কলারশীপ পেয়েও না যেতে পারাটা তার অন্তরে অপূরনীয় কোন ক্ষত তৈরী করেছিলো হয়ত ।

আমার গানের হাতে খড়ি আমার মামনির কাছে । হাঁটতে কিংবা খেলতে শিখার আগেই বোধ হয় আমি হাত , পা , পারলে মাথা দেয়ালে ঠুকে তাল দিতাম । রক্তের ভিতর অক্সিজেন আর ছন্দ - একই সাথে প্রান যুগিয়েছে । গান গাইতে পারা ছেলেটাকে ভালো লেগে যেতো কৈশোরে । অজয় চক্রবর্তীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম গান শুনে । সহপাঠীরা যখন মুভি স্টারদের পোস্টারে ঘর ভরে রাখে , আমি দেয়ালে দেয়ালে তানপুরা , বাঁশি আর ঢোলের ছবি আটকাই। স্বপ্ন দেখি , চশমা পরা , খুব সাধারন চেহারার কোন যুবক সেন্ট মার্টিন্সের সৈকতে দাঁড়িয়ে দরদ দিয়ে গাইছে , " খুদা কা জিকির করে , ইয়া তুমহারি বাত করে, হামে তো ইশক সে মতলব , কিসিসে পেয়ার করে ।" আমি একটা আকাশী রঙের শাড়ি পরে খোঁপায় বেলী ফুল গুঁজে বসে বসে শুনছি । স্বপ্নটা খুব অযৌক্তিক বা অসম্ভব লাগে না , কারন সবচেয়ে প্রিয় এই গানটা আমার মামার বন্ধু চন্দন দাসের গাওয়া ( বর্তমানে ভারতের বিখ্যাত গজল শিল্পী) । মামা গাইতে পারলে , মামার ভাগনে একটাও কি পাওয়া যাবে না , যে এই গানটা শুধু আমার জন্যই গাইবে ?

আমি নিজেও শান্তি নিকেতনে যেতে চেয়েছিলাম । কিন্তু , ঐ যে , মধ্যবিত্তের পিন্ডি যোগাড়ের দায় ! মামণি তার প্রাণ ঢেলে যতটুকু আমাকে শিখিয়েছিলেন , তারই ছিটে ফোটা বলি মাঝে মাঝে ।

নইলে ছেঁড়া কাঁথার রাগুদের "রাগ ইমন " নাম ধারন করে একটা "সোনার হরিণ স্বপ্নকে " অন্তর্জালে যাপন করা ছাড়া কিই বা করার থাকে ?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:১৮
৪৮টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×