আমরা কি সুখের পিছনে ছুটি ?
আমরা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যা কিছু সিদ্ধান্ত নেই , যা কিছু করি কিংবা করি না , সেই সব অগণিত "হ্যাঁ " এবং " না" এর মূলে কোন উপলব্ধি কাজ করে ? পিচ্চি কালে গুটি গুটি পায়ে মায়ের কাছে ছুটে যাওয়া থেকে বুড়াকালে মাতৃভূমির কোলেই "মরন যেন হয়" আকাঙ্খায় মিনতি -- এ কি সুখের আকাঙ্খা ? এর বিপরীতে "বৃদ্ধাশ্রমে " মা কিংবা মীরজাফরের দেশদ্রোহীতা , সেও কি সুখের জন্য নয়? আমরা কি প্রতিটা সিদ্ধান্ত নেই শেষ পর্যন্ত কোন এক সুখময় পৃথিবীতে সুখী জীবন যাপনের জন্যই ?
( খাইসে , এত প্রশ্ন কেনু ? এ ত আউলা লাগিয়া গেলো রে মোমিন !!!!
রাগ ইমন ভনে -হ্যাঁ , সবটাই সুখের জন্য । "সুখ" - কেউ পায় ভোগে, কেউ ত্যাগে; কেউ ব্যক্তিগত সীমানায় , কেউ সমষ্টিগত নিরাপত্তায়; কেউ বস্তুবাদিতায়, কেউ পারলৌকিকতায় - যে ভাবেই ব্যাখ্যা করি না কেন - আমার কাছে জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি নেওয়া কোটি কোটি সিদ্ধান্ত গুলোর শেষ লক্ষ্য মনে হয় সুখ। মানে , দুঃখ পাওয়ার জন্য আবার কে কবে কি করেছে !!! রবীন্দ্র ব্যাটা যতই বলুক " আমি যত দুখ পাই " - ব্রেকিং নিউজ হলো প্রেমিকার সুখে সুখিত হইবার চিকন ইচ্ছা থাকেই সকল "তিয়াগী প্রেমিকের মনে"।
নানা মুনির নানা মত ঃ
দৈনন্দিন জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এই " সুখকে" তাহলে হাজার বছরের চিন্তায়, চেতনায়, দর্শনে আমরা সঙ্গায়িত করতে পারিনি - এ আবার কেমন কথা ? ক্ষুধা পেলে সুস্বাদু খাবার আমাকে সুখ দেয়, সুখ দেয় প্রিয় মানুষের চুম্বন। প্রিয় দেশের জয় আমাকে সুখ দেয় , সুখ দেয় পড়ন্ত বিকেলের রোদ । সুখের অনুভবকে বিশ্লেষন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা তাই ইন্দ্রিয়কে অনুসন্ধান করেছেন , মানবের মস্তিষ্ককে কেটে ছিড়ে দেখেছেন এবং আমাদের জানিয়েছেন - সুখের স্টিমুলাস বা উত্তেজক শরীরের বাহির থেকে পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে ভেতরে আসুক , অথবা ভিতরের কোন এক উৎস থেকে মস্তিষ্কে পৌঁছাক - সুখ আসলে শেষ পর্যন্ত কিছু জৈব রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি ।
কেউ কেউ সুখকে ব্যক্তির অভিজ্ঞতা দিয়ে সংজ্ঞায়িত করলেও ( উপরের উদাহরন গুলোর মত) এটি আমি ঠিক মেনে নিতে পারিনি কারন একই ঘটনা (৭১ এর বিজয়) কারো জন্য সুখের (মুক্তিযোদ্ধা) , কারো জন্য চরম অসুখের (রাজাকার) । আর সব বিষয়ের মত আমরা সুখেরও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা দার্শনিক বিভিন্ন সংজ্ঞা পাই । অত সব উদাহরনে যেতে চাই না , কারন ঘুরে ফিরে বেশির ভাগ ব্যাখ্যাই শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির প্রতিক্রিয়াকে ধারন করে "সুখ " হিসেবে । সুতরাং , ঘটনা যাই ঘটুক , সুখ দেখা যায় একটা নির্দিষ্ট অবস্থা , যেই অবস্থায় মানুষ সুখ অনুভব করে ।
সুখ- এর জৈবিক সংজ্ঞা তাই ঃ কোন স্টিমুলাস বা উত্তেজকের প্রতি আমাদের মস্তিষ্কের রাসায়নিক ও স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া যা আমাদের ভেতর সুখের অনুভব তৈরী করে ।
আবিষ্কৃত রাসায়নিক যৌগ " এন্ডরফিন্স"গুলোকেই এই "সুখের " মূল বলে বিভিন্ন গবেষনায় জানা যায় । এখন ঘটনা হইলো , এন্ডো মানে হইলো ভিতরের আর মরফিন মানে বেদনা নাশক । তার মানে কি দাড়াইলো ? সুখের রাসায়নিক শরীরের ভিতরের বেদনাকে কিংবা অসুখের অবস্থাকে পরিবর্তন করে সুখের অবস্থায় নিয়ে যায় ।
কয়টা উদাহরন ঃ এই যেমন বিরিয়ানী খাইলে, মায়ের ফু পাইলে , বউ ফুন দিলে , পানে চুন দিলে ইত্যাদি ইত্যাদি - শরীরে এন্ডরফিন্স নিঃসৃত হয় । অতএব আমরা সুখি হই । তবে , গল্পটা বলিউডের সামাজিক এ্যাকশন ড্রামার মত কাহানিমে টুইস্ট হোতা হ্যায়, খুব একটা সোজা সাপ্টা না। যদিও ওষুধের ব্যাপারি ম্যাঙ্গো পিপলকে লুডিওমিল খেয়ে সুখি হওয়ার উপদেশ দেয় , হীরামনের দরবেশ বাবার মত তাহাদের বাংলা মাইর দিলে জানবেন, মাথার কিডনীতে না না রকম আউলা ঝাউলা হয় বলে একটা পদার্থ বাড়াইয়া কমাইয়া সুখি হইবার চেষ্টা করা নিতান্ত অপদার্থের কাজ ।
( চলিলেও চলিতে পারে । না চলিলে ড্রাফট হইবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


