সুখ = বেদনা নাশ ?
ক্ষুধা কিংবা যে কোন ধরনের "প্রয়োজন" না মিটলে যে বেদনার সৃষ্টি হয় , তা থেকে উত্তরন আমাদের সুখ দিয়ে থাকে । এই মতবাদ আমার মেনে নিতে কষ্ট হয় না। শিশু নাকি জন্ম নিয়ে বড় ঝামেলার ভিতর থাকে , থাকে অসহায় । তার প্রথম প্রয়োজন বাতাস ও উত্তাপ , না পেলেই বেদনায় নীল । আর তারপর খাদ্য । আমরা ব্যথা পেলে কাঁদি , শিশুও কাঁদে । সেই ব্যথা বা কষ্টের উৎসকে সরিয়ে নিলে আমরা সুখি হই । তাহলে কি শিশুও সুখ অনুভব করে ? ক্ষুধা , শৈত্য কিংবা একাকীত্ব কি তাহলে শিশুর বেদনার কারন ? এই অবস্থাকে আমরা যেমন কষ্টের উপস্থিতি হিসেবে বলতে পারি (যেমন বুকের গভীরে কোন ক্ষতের বাস) , তেমনি সুখের অনুপস্থিতিও এই একই অবস্থা বা স্টেট তৈরী করে , তাই না?
উপরের যুক্তিগুলোকে গ্রহন যোগ্য হিসেবে মেনে নিলে আমরা আরেকটু এগিয়ে লিখতে পারি , সুখ = বেদনা নাশ = অ-সুখের অনুপস্থিতি ।
বেদনা নাশ = বিস্মৃতি ?
কথায় বলে , অতি বড় মৃত্যু শোকও ১৫ দিনের বেশি স্থায়ী হয় না । মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতেই হয় । কি করে সম্ভব হয় তা?
হয়ত এটাকে বলে , প্রাকৃতিক আত্ম্ররক্ষা প্রক্রিয়া ( ন্যাচারাল ডিফেন্স মেকানিজম) আত্ম্ররক্ষার খাতিরে স্বাভাবিক জীবন যাপন দরকার, আর এই যাপনের জন্য চাই স্বাভাবিক অবস্থা । মস্তিষ্ক তাই শরীরের ভেতর ও বাহিরের প্রচন্ড প্রতিকূল অবস্থাকে আমাদের বোধের/চেতনের বাইরে, আবার কখনো স্মৃতির বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে "স্বাভাবিকতা"কে নিশ্চিত করে। এই প্রক্রিয়াটি ধীর গতিতে হতে পারে , আবার হঠাৎ ও হতে পারে ।এই জন্যই শক- এর কারনে জ্ঞান হারানো আসলে হার্টফেল = মৃত্যু থেকে আত্মরক্ষার কৌশল। অভিজ্ঞতা/ অনুভব যখন সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যায় আমরা জ্ঞান হারাই । কখনো হারাই স্মৃতি । স্মৃতিভ্রষ্ট মানুষের ডায়রী ঘাটলে তাই পাওয়া যায় কোন না কোন তীব্র বেদনা যাকে অন্ধকারে রাখা ( ব্লক আউট) জীবন রক্ষার কোন কৌশল মাত্র । কারো কারো ধারনা , একই কারনে আমাদের জীবনের প্রথম কয়েক বছরের কোন স্মৃতি আমাদের মনে থাকে না , ঐ সময়টা নাকি বেশির ভাগই কষ্টের তাই ।
গোল্ড ফিশেরাই সুখি ?
দুনিয়াতে নাকি মুর্খরাই সবচেয়ে সুখি । কেন? কারন তারা কিছু জানে না । তার মানে কষ্ট সম্পর্কে না জানা কিংবা বিস্মৃতি তাহলে সুখের অনুভব তৈরী করে । এর বহু প্রমান আমাদের নিজেদের আটপৌরে জীবনেই আছে । আমরা কিছু অস্বস্তিকর কষ্টকে কিছু সময়ের জন্য মাথার পিছন দিকে পাঠিয়ে দেই । তাই ইরাকে , কঙ্গোতে কিংবা মুম্বাইয়ে মানুষ মারা গেলেও আমাদের জীবন যাপিত হয় । এই হৃদপিন্ড ছ্যাদা করা কষ্ট গুলাকে আমরা খাওয়ার সময় , অফিসের সময় , গোসলের সময় , যৌনতার সময় ভুলে থাকি । না হলে , জীবন চলে না । না অন্য কারো অসুখের জন্য নিজের অসুখী হওয়া ঠেকানো যায় না ।
(আজ মনটা উদাস রে মোমিন, দুইনায় সুখ নাই ... তাই চলবে )
আলোচিত ব্লগ
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।