বাংলাদেশের কোন দলই তেমন টানে না , মানে রাজনৈতিক দলের কথা বলছি । জন্মের পরে যখন বোধ হয়েছে সামান্য , ইস্কুলে জোর করে ধরে গান শেখাত " নতুন বাংলাদেশ গড়বো মোরা " ইত্যাদি । গানটা কিন্তু খুউউউউউব পছন্দ করেছিলাম আমরা পিচ্চি পাচ্চারা - কয় ক্লাস উপরে উঠে পেলাম ছড়া - রিটনের রাজনৈতিক ছড়া --- আর তারো পরে বন্যার সময় দেখি প্রিয় গায়ক গলা ছেড়ে গাইছে " আমি যেতে চাই বাংলার মানুষের কাছে , পানিবন্দী আকাশের নিচে ... ... " । কিন্তু ততদিনে সত্যি বোধ হয়েছে । শ্রদ্ধা হারিয়েছি লেজে হোমো , সরকারী ধর্ষক এরশাদ এর প্রতি । ম্যাডাম জিয়ার পরিবার প্রীতি আর সীমাহীন দুর্নীতি তার সাথে আপা হাসিনার হাসিন মারামারি , পিতার খুনীর সাথে পরম প্রেমজ আঁতাত --- ঘেন্না ধরে গেছে সকলের উপর । ভোট এলে তাই ভোট দিতে যাইনি । একবার শুধু বি এন পি'র কান ধরে নামাতে গিয়েছিলাম --- একটাই কারন ---- বড় , মেঝ ও ছোট শয়তানের মাঝে সবচেয়ে ছোট শয়তানকেই ভোট দেওয়া ভালো , আপা সামান্য হলেও নীতিবোধ মেনে চলেন --- আর সবচেয়ে বড় কারন - মতিয়া চৌধুরী।
"চুতিয়া " অনেক এম পি , দুধের মাছি , বসন্তের কোকিল, সি আই এর টাকা খাওয়া উকিলের ভিতর এই এক জাঁদরেল --- বাপ রে , তাঁরে সালাম!
কেন সালাম ? অন্যান্য অনেক মন্ত্রীর থেকে এক্কেবারে আলাদা , সদা আটপৌরে এই রাজনীতিক প্রতিদিন নিজের বাজার নিজে করতেন বাজারের হাল চাল বুঝতে । কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা , তার ব্যবস্থাপনায় ৫ বছরে চালের দাম বাড়েনি । স্মৃতি খুব বিশ্বাসঘাতকতা না করলে চালের দাম ১৪ টাকা কেজির আশে পাশেই ছিলো । প্রতি আমলেই দাম একবার বাড়লে আর কমে না , এবং বাড়তেই থাকে ---- আমরা এমনটাই দেখে এসেছিলাম , মেনেও নিয়েছিলাম । এই হলো আমার জ্ঞান গম্যির ভিতর একটা মাত্র সময় , যখন চালের দাম স্থির ছিলো ।
চালের দাম ঈশ্বরের পরে কেউ যদি পারে , মতিয়াই পারবে ।
এই অভাবনীয় কাজটি যিনি করেছেন , তাঁকে কাছ থেকে ধন্যবাদ জানানোর ইচ্ছে ছিলো কিন্তু মন্ত্রী , মিনিস্টারের সাথে আমার পরিবারের কারোরই পোশায় না । এদের থেকে যথা সম্ভব দূরে থাকি । কে জানতো , মতিয়া নিজেই এসে হাজির হবেন ? জ্বি হ্যাঁ , পাজেরো , হামার , বুলেট প্রুফ রাজনীতির ভীড়ে একদিন সকালে দেখি মতিয়া ডেন্টাল কলেজে এসে হাজির । টাকা থাকলেও প্রাইভেট ক্লিনিকে যাবেন না । সরকারী মন্ত্রী সরকারী হাসপাতালেই নিজের শরীরটুকু পেতে দিলেন ছুরি , কাঁচির তলায় । হায় রে ! সব কয়টা মন্ত্রী একবার করে হাসপাতাল ঘুরলে আমার কলেজ আজকে না জানি কোথায় থাকতো !
না হে , অনেকের প্রতিই কোন শ্রদ্ধা অবশিষ্ট নেই । ক্ষমতায় বসিয়েছি কাজ করার জন্য , এখন হাতে বাঁশ নিয়ে বসে থাকবো আগামী পাঁচ বছর , তেরিং বেরিং করলেই ... ... ...
শুধু মতিয়ার জন্য বাঁশি । এইটার মাথায় আসলেই কিডনী আছে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



