somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা ভ্যাক্সিন, কিছু প্রশ্ন আর ৩০টা গরীব মেয়ে !

২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানি না কেউ এই নিয়ে ইতমধ্যেই লিখে ফেলেছেন কিনা। বাংলাদেশে ঘটনার শুরু ২০০৮ থেকে এখন ২০০৯ পর্যন্ত । আমি খবর গুলো পেয়েছি নেট ঘাটতে ঘাটতে । আমারই চোখ এড়িয়ে গেলো নাকি এই নিয়ে বেশি লেখালেখি হয় নাই , আমি ঠিক বুঝতে পারছি না । তবে সাধারণ মানুষের মাঝে এসব আলোচনা হওয়া উচিৎ।

ক্যান্সার

বাংলাদেশে আরো অনেক রোগের মতই এই সারভাইকাল ক্যান্সারেরও কোন পপুলেশন বেসড স্টাডী নেই । আমাদের ন্যাশনাল কোন ক্যান্সার রেজিস্ট্রিও নেই। অর্থাৎ আমরা ঠিক সঠিক করে জানি না , জনসংখ্যার কত অংশ ক্যান্সারে আক্রান্ত , প্রতিবছর কত লোক নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয় । এর ভিতর ছেলেদের ক্যান্সার, মেয়েদের ক্যান্সার - এর সংখ্যা তত্ত্বই বা কি বলে! যা আছে তা হলো কিছু নাম কা ওয়াস্তে হসপিটাল বেসড স্টাডি । যতটুকু জানা যায় , বাংলাদেশে মেয়েদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা নেহায়েত কম নয় ।

ক্যান্সারের সাধারন সংগা হলো খুব দ্রুত বিভাজন/ মাল্টিপ্লাই করে শরীরে রোগের সৃষ্টিকারী বিকৃত কোষ। এই বিকৃতি ভাইরাসে ক্ষেত্রে তখনই ঘটে যখন ভাইরাস নিজের ডি এন এ কোষের নিউক্লিয়াস এ প্রবেশ করিয়ে (ইনফেকশন) মানুষের কোষকে নতুন ভাইরাস তৈরী করতে বাধ্য করে অতি দ্রুত নতুন নতুন বিকৃত কোষ জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে।

সারভাইকাল ক্যান্সার

এটি বিশ্বব্যাপি যেই ক্যান্সার গুলো মেয়ে / নারীদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে প্রতি বছর তার ভিতর ২য়। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষ , আর মৃত্যু ৩ লক্ষ ( ২০০২ সাল অনুযায়ী ) সারভাইকাল ক্যান্সার হলো মেয়েদের সারভিক্স বা জরায়ুর মুখের ক্যান্সার । সঠিক কারন জানা না গেলেও সবচেয়ে কমন রিস্ক ফ্যাক্টর ধরা হয় হিউমেন প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচ পি ভি । এটি কোন একটা ভাইরাস নয়। মূলত প্রায় ৭০ - ১০০ রকমের (টাইপ) ভাইরাস যা যে কোন নারীর জরায়ু পথে বসবাস করতে পারে । এদের ভিতর ১৮টি টাইপকে ক্যান্সারের সাথে সংশ্লিষ্ট ধরা হাই রিস্ক হিসেবে। ক্যান্সার সৃষ্টিতে প্রভাব অনুযায়ী এই ১৮টি টাইপকে হাইয়েস্ট রিস্ক, হাই রিস্ক ও প্রোবাবলি হাই রিস্কে ভাগ করা হয়েছে । মূলত হাইয়েস্ট রিস্কের ( টাইপ ১৬, ১৮, ৩১, ৪৫ ) মধ্যে আবার ১৬ এবং ১৮ প্রায় ৭০% এইচ পি ভি রিলেটেড সারভাইকাল ক্যান্সারের সাথে জড়িত বলে ধারনা করা হয়।

সংক্রমন থেকে ক্যান্সার কি হবেই?

এইচ পি ভি এর ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টাইপ গুলো দ্বারা সংক্রমিত নারী সঠিক কি ভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না । কারন ভাইরাস থাকলেই ক্যান্সার হবে না । কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে কোষ কলায় ক্যান্সারাস পরিবর্তন গুলো আসতে। আর ১২ বছর ধরে চুপ করে বসেও থাকতে পারে কিছু না ঘটিয়ে । এই চুপ করে বসে থাকার সময়েও সংক্রমন , মানে একজন থেকে আরেকজনে ছড়াতে পারে। চুপচাপ বসে থাকলে কারো বুঝার উপায় নাই যে ভাইরাস শরীরে ঢুকেছে । তবে সারভাইকাল ক্যান্সার এর কোষ পরীক্ষা করে দেখা গেছে প্রিক্যান্সার ( ক্যান্সারের পূর্ব অবস্থা) এ এই ভাইরাসের উপস্থিতি থাকে এবং ক্যান্সার যত গুরুতর হয় , বাড়ে , এই ভাইরাসের উপস্থিতিও বাড়ে ।

স্বাভাবিক প্রতিরোধ

শরীরে কোন ভাবে এই ভাইরাসের সংক্রমন ঘটলে কয়েক মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে শরীর নিজেই এই ভাইরাস আক্রান্ত কোষ গুলোকে মেরে ফেলে। শরীরের ভিতরে কিছু প্রতিরোধক প্রোটিন আক্রান্ত কোষের আশপাশের কোষগুলোকে সতর্ক করে দেয় ও আক্রান্ত কোষ যাতে বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ জন্ম দিতে না পারে সেই প্রক্রিয়াটিকে আটকে দেয়(ইন্টারফেরন) । আর শরীরের ইমিউন সিস্টেম খবর পেয়ে ঝাপিয়ে পড়ে আক্রান্ত কোষ নিধনে। তারপর , অনেকটা ক্রিমিনাল রেকর্ড রাখার মত করে এক রকম প্রোটিন তৈরী করে (এন্টিবডি) যারা পরে একই ভাইরাস ঢুকলে তাদের মেরে ফেলে । ভাইরাসকে মেরে ফেলতে হলে তাই শরীরের ইমিউন সিস্টেম , এন্টিবডি ইত্যাদি ঠিক মত কাজ করতে হবে । যেই ভাইরাসের এন্টিবডি শরীরে নেই ( অপরিচিত , নতুন ভাইরাস) এবং যে সব ভাইরাস ইমিউন সিস্টেমকে টেক্কা দিতে পারে তাদেরকে ঠেকানো যায় না, রোগের শুরু সেইখান থেকে ।


ভ্যাক্সিন

শরীরের এই ন্যাচারাল প্রতিরো্ধ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়েই ভ্যাক্সিন কাজ করে । ভাইরাসের শরীরের কোন একটা অংশ বা আস্ত ভাইরাসটাকেই দুর্বল করে শরীরে প্রবেশ করালে একই রকম প্রতিক্রিয়া হয়ে এন্টিবডি তৈরী হয়। ভ্যাক্সিনে ব্যবহৃত টুকরো বা আস্ত ভাইরাস এর রোগ তৈরী করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়। তৈরী হওয়া এন্টিবডি এর পরিমান রক্তে সময়ের সাথে সাথে কমে যেতে পারে। তাই কোন কোন ভ্যাক্সিন দেওয়ার কয়েক বছর পর পর বুস্টার ডোজ দেওয়া লাগে ।

যার শরীরে আগে থেকেই ভাইরাসের সংক্রমন ঘটে গেছে তার শরীরে নতুন করে ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে ভাইরাস / ভাইরাসের অংশ ঢুকানোর দরকার নেই। কারন, তার এন্টিবডি এমনিতেই তৈরী হওয়ার কথা । আর এইচ পি ভি এর ভ্যাক্সিন উপস্থিত ভাইরাস দমনে কোন ভূমিকা রাখে না ।

যেহেতু ফুল ব্লোন ক্যান্সার এর প্রায় ১০০% ক্ষেত্রেই ১৮ ও ১৬ কে পাওয়া যায় ,বিশ্বের দুটি কোম্পানি দুটি ভ্যাক্সিন তৈরী করেছে সারভাইকাল ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য ।

কোম্পানি - মার্ক , ভ্যাক্সিন - গারডাসিল , প্রতিরোধ টাইপ - ৬,১১, ১৬, ১৮ ।
(৬ এবং ১১ জেনিটাল ওয়ার্ট তৈরী করে তবে ক্যান্সারে ভূমিকা নেই)

কোম্পানি - গ্লাস্কো স্মিথকাইন , ভ্যাক্সিন - সারভারিক্স , প্রতিরোধ টাইপ - ১৬, ১৮

২টাই জেনেটিকালি মডিফায়েড ভাইরাস দ্বারা তৈরী ভ্যাক্সিন।

খরচ

দুইটা ভ্যাক্সিনেরই দাম অনেক বেশি বলে অনুন্নত বিশ্বে এর ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি এখনো । ভ্যাক্সিন দেওয়ার আগে ভাইরাস আছে কিনা দেখার পরীক্ষারটার খরচই ৩০-৪০ আমেরিকান ডলার। দেশ ভেদে ভ্যাক্সিনের দাম ভিন্ন ভিন্ন ।

বাংলাদেশের অবস্থা

পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে যে সব নারী ক্যান্সার আক্রান্ত নন তাদের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমন ৮% ( পৃথিবীতে ১১%) । বাঙ্গালী নারী যারা সারভাইকাল ক্যান্সারে ভুগছেন তাদের ভিতর ১৮ ও ১৬ কে পাওয়া যায় ৮০% ক্ষেত্রে। এই সংক্রান্ত যে তথ্য বাংলাদেশের জন্য হু সন্নেবেশিত করেছে তার লিংক দিলাম।

ডাব্লিউ এইচ ও পরিসংখ্যান
হু এর তথ্য অনুযায়ী সারভাইকাল ক্যান্সারের রিস্কে আছে প্রায় ৫ কোটি নারী তবে প্রতিবছর আক্রান্ত হতে পারে ১৩ হাজার , মারা যেতে পারে অর্ধেক। কিন্তু বেশির ভাগ তথ্যই বাংলাদেশের নয় সরাসরি , ভারতীয় পপুলেশন স্টাডি বা অন্যান্য জায়গা থেকে নেওয়া।

বাংলাদেশ ও বিশ্বে ভ্যাক্সিন প্রোগ্রাম

বিশ্বের উন্নত দেশ গুলো ২০০৬ সাল থেকে (আমেরিকা) ২০০৮ সালের ভিতর ( অস্ট্রেলিয়া , ইউরোপ) এই ভ্যাক্সিন জন সাধারনের মাঝে দেওয়া শুরু করেছে । স্কুলে স্কুলে সদ্য কিশোরীদের ( কিশোরদেরও ) এই ভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে । সাধারনত ৬ মাসের ভিতর ৩ টা ডোজ নিতে হয়।

বাংলাদেশ সহ অন্যান্য অনেক গরীব দেশে এটা চালু হয়নি । মহা মহা তদবির হচ্ছে কিন্তু দামটাই মূল ঝামেলা । এত খরচ বেশির ভাগ দেশই দিতে পারবে না ।
বাংলাদেশে ২০০৯ সালে গ্রামীন ফোনের স্পন্সরশীপে ৩০/৫০ জন গরীব মেয়েকে এই ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছে । হার্ভার্ড সহ বি এস এম এম ইউ ও ইউনিভার্সিটি অফ আমস্টার্ডাম ১০-১৫ বছর ধরে ফলো করবে এই মেয়েদের । কোন সমস্যা হয় কিনা দেখতে । সাহায্য করবে প্রাক্তন মন্ত্রী মিজানুর রহমান শেলির গবেষনা প্রতিষ্ঠান " সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ বাংলাদেশ"।

ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্ট

গ্রামীন ফোনের ওয়েব সাইটে খবর

কাজের কাজী রিসার্চ সেন্টারের ওয়েব সাইটেই বরং কোন খবর নাই

এত অল্প বয়সে কেন?

যদিও সারভাইকাল ক্যান্সার সৃষ্টিকারী এইচ পি ভি ভাইরাস ১৮ ও ১৬ সেক্সুয়াল কন্টাক্টের মাধ্যমে ছড়ায় , তাই ভ্যাক্সিনটি সেক্সুয়ালি এক্টিভদের দেওয়াই শ্রেয় ছিলো । কিন্তু এই ভ্যাক্সিন সংক্রমিত ভাইরাস দমনে কোন সাহায্য করে না । অর্থাৎ একবার সংক্রমিত হয়ে গেলে এই ভ্যাক্সিন এর কার্যকারিতা নাই । দিতে হবে সংক্রমনের আগেই । অল্প বয়সে , সেক্সুয়ালী এক্টিভ হইবার আগেই, ভাইরাস সংক্রমনের আগেই । তাই ১২-১৩ বছরের কিশোরীদের এই ভ্যাক্সিন দেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে ।

তা সমস্যাটা কি?

উন্নত বিশ্বে ঝড় বয়ে যাচ্ছে এই এইচ পি ভি ভ্যাক্সিন নিয়ে । কেন এত তাড়াতাড়ি একটা ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হইতে না হইতেই জেনারেল পপুলেশনে দেওয়ার এত উৎসাহ সব সরকারের!

১। সেফটি ইনফরমেশন কোম্পানি যা দিচ্ছে সেইটা নাকি যথেষ্ট না। সেফটির কোন লং টার্ম স্টাডি নেই । যা আছে তা শর্ট টার্ম ।

২। এই ভ্যাক্সিন দেওয়ার পরে এন্টিবডি কতদিন থাকে জানা নেই। ৫ বছর বা ১০ পর আবার বুষ্টার ডোজ নিতে হবে কিনা জানা নেই। লাইফ লং প্রোটেকশনের কথা বলা আছে যদি ভাইরাস সংক্রমনের আগেই দেওয়া হয়। তার মানে প্রতিবার প্রতিটা মেয়ে কে ভ্যাক্সিন দেওয়ার আগে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া চাই ভাইরাস এ এক্সপোজার হয়েছে কি হয়নি। কে করবে এই পরীক্ষা? কে দেবে খরচ?

৩। সারভাইকাল ক্যান্সার যাদের হয়েছে তাদের ক্ষতে এইচ পি ভি পাওয়া গেলেও নিশ্চিত করে বলা যায় না যে ঐ ভাইরাসই একমাত্র কারণ । যদি তা হয়েও থাকে , নিচের সংখ্যা গুলো খেয়াল করুন।

আমেরিকায় এইচ পি ভি আক্রান্তের সংখ্যা ২৬%
কিন্তু তাদের ভিতর ১৮ ও ১৬ (হাইরিস্ক) আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র সাড়ে ৩%
অন্য দেশে অবশ্য বেশি হতে পারে নাইজেরিয়া ( ২১% ও ১৬%)
কিন্তু বাংলাদেশে আসলেই কত জন এইচ পি ভি আক্রান্ত?
কোন স্টাডিই নেই।

৪। এইচ পি ভি এর হাইয়েস্ট রিস্ক ভাইরাস হইলো ১৬, ১৮, ৩১ ও ৪৫। দুইটা ভ্যাক্সিনই প্রতিরোধ করে শুধু ১৬ আর ১৮ । তার মানে, ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও , কেউ যদি এই টাইপ ৩১ বা ৪৫ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় , কিংবা বাকি ১৪টার কয়েকটা দিয়ে , নিশ্চিত করে বলা যায় না তার ক্যান্সার হবে না । এই জন্য আমেরিকান গাঈড লাইনে বলা হয়েছে ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও নিয়মিত চেক/ স্ক্রিনিং করাতে হবে অন্যান্য ভাইরাস প্রতিরোধে । তাইলে যেই লাউ সেই কদু?

বিস্তারিত জানতে এখানে দেখুন

৫। আবার , ঘটনা হইলো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হইলেই যে ক্যান্সার হবেই এমন কোন কথা নাই। আবার সংক্রমনের পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শরীর নিজে নিজেই ভাইরাস দমন করে ফেলে । খুব অল্প ক্ষেত্রে ভাইরাস রয়ে যায় আর তার চেয়েও কম ক্ষেত্রে ক্যান্সার হয় আর তার চেয়েও অর্ধেক ক্ষেত্রে মারা যায় । তাহলে দুনিয়া সুদ্ধ সবাইকে ভ্যাক্সিন দিয়ে কয়জনকেই বাঁচাতে পারবো?

৬। ভ্যাক্সিন না নিলেও নিয়মিত চেক আপে আগে ভাগে ধরা পড়লে এই ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য । তাইলে এত ঘটা করে ভ্যাক্সিন দিয়ে লাভটা কি?

৭। আমরা সাধারনত ভ্যাক্সিন দেই সেই সব বিবেচনায় যে একটা ভ্যাক্সিন দিয়ে , বা পপুলেশন ওয়াইড ভ্যাক্সিন দিয় কয়টা মৃত্যু বা রোগ রোধ করা গেলো । সেই রোগের কারণে কতটাকার চিকিৎসা বাচানো গেলো ।

সেই অর্থে সাম্প্রতিক স্টাডি বলে , এইচ পি ভি ভ্যাক্সিন এমন কি বেস্ট কেস সিনারিওতেও কস্ট এফেক্টিভ না যদি সেই ক্যান্সারের ইন্সিডেন্স কম হয়। এইটা অবশ্য দেশে ভালো স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম আছে কিনা তার উপর নির্ভর করে ।
খরচের স্টাডি

৮। সারভাইকাল ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা অনুন্নত বিশ্বেই বেশি । মৃত্যুর হারও এখানেই বেশি । ভাইরাস ছাড়াও অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টরের মধ্যে দারিদ্র, অল্প বয়সে সেক্স বা বিয়ে , ঘন ঘন বাচ্চা ইত্যাদি যার সব কয়টাই বাংলাদেশে আছে ।

তাহলে শুধু ভ্যাক্সিন দিয়ে ক্যান্সার ঠেকানোর চেষ্টা করে আদৌ কতটুকু লাভ হবে?

৯। আমেরিকায় এই ভ্যাক্সিন জনিত সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যা ৩৮ । সম্প্রতি বৃটেনে এক কিশোরীর মৃত্যুতে নতুন করে ঝড় উঠেছে । আর অস্ট্রেলিয়া বলছে তাদের কোন সমস্যা হয়নি । সব মিলিয়ে সব কেমন যেন ঘোট পাকানো অবস্থা ।

সচেতন মায়েদের ভয়

অস্ট্রেলিয়ার সাফল্য

সি ডি সি এর নতুন রিপোর্ট ও বিতর্ক

বৃটিশ কিশোরীর মৃত্যু

জার্নাল অফ আমেরিকান মেডিকেল এসোসিয়েশন এর এডিটোরিয়াল

আমার ভয়টা কিসে ?

উন্নত বিশ্বেই শত শত সচেতন মানুষ , বিভিন্ন সংস্থা, আইন আদালত, মিডিয়া , সরকারের দায়বদ্ধতা ইত্যাদির পরেও সেখানে এইচ পি ভি ভ্যাক্সিন নিয়ে নানা রকম সমস্যা, প্রশ্ন, রহস্যময়তা , আশংকা তৈরী হয়েছে । নানা প্রশ্নের এখনো উত্তর মেলেনি । এমন অবস্থায় বাংলাদেশের মত একটা দেশে এই ভ্যাক্সিন নিয়ে শেষ পর্যন্ত কি হতে যাচ্ছে , এইটাই আশংকা । আমরা কি বুঝে শুনে আমাদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবো?

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোন নতুন ড্রাগ , ভ্যাক্সিন বা মেডিকেল ডিভাইস , ট্রিট্মেন্ট প্রোটোকল - যাকে এক কথায় বলে হেলথ টেকনোলজি , তার কোন নির্দিষ্ট পলিসি আছে কিনা জানা যায় না । ন্যাশনাল কোন প্রোগ্রাম নেই যেখানে বাংলাদেশ নিজে নিজে গবেষনা করে দেখবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য কোনটা কার্যকরী ও নিরাপদ । আমরা এ যাবতকালে বিভিন্ন লবি গ্রুপ যাদের বেশির ভাগই বিদেশী বা দেশী বড় বড় কোম্পানি বা দাতা গোষ্ঠীর সাথে জড়িত , তাদের উপদেশ -নির্দেশ কিংবা শর্তের কাছে নতজানু । তাই ভয় হয় , বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের পলিসি মেকাররা কি বৈশ্বিক রাজনীতি , মাল্টিন্যাশনাল চাপ আর নিজেদের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অভাব ইত্যাদির কাছে গিনিপিগ হয়ে পড়ছে ক্রমশ ?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:৩০
৪৫টি মন্তব্য ৪৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×