১। আমরা কর্পোরেট পুঁজিবাদের পেটের মধ্যে বসবাস করেও বুঝতে পারি না আমার স্বাধীনতা কিংবা আমার প্রাচ্যের দর্শন ( যা ভোগবাদী নয়) ধারী জীবন যাত্রা কখন কি ভাবে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে ।
২। সুপারস্টারদের ক্ষমতাময়, স্বাধীন , স্মার্ট জীবন যাপন আদতে পরনির্ভরশীল এবং এই আগাছার জীবন শেষ পর্যন্ত কর্পোরেট পুঁজিবাদের হাতকেই আরো শক্ত করে ।
সাদা চোখে দেখলে এর ভিতরে খারাপ কিছু চোখে পড়বে না। কাপড়ের কম বেশি নিয়ে অনেকেরই এলার্জি নেই। পণ্য হয়ে গেছে , পণ্য হয়ে গেছে – শুনেও খারাপ লাগবে কেন যদি সে নাই বুঝে এই “ পণ্য হয়ে যাওয়ার “ আসল মানে কি? সে যে না বুঝে নিজের দেশের মানুষের ক্ষতি করছে এইটা একটা মেয়েকে কি করে বুঝাবেন যখন সে মন প্রাণ দিয়ে বাংলাদেশকে ভালোবাসে?
সে যে প্রসাধন নয়, বিক্রি করছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেড়ে থাকা কুসংস্কার ( ফর্সা ত্বক ছাড়া যোগ্য নও, ডানা কাটা পরী না হলে স্মার্ট নও) এই গুলি সে শিখবে কোথা থেকে যদি আমরা তাকে প্রতিনিয়ত না জানাই , কোন ভালোটাকে আমরা গ্রহন করতে চাই আর কোন খারাপ্টাকে বর্জন করতে চাই?
তাহলে,
১। নিজের সচেতনতাকে ব্যবহার করে সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করবেন কি ভাবে?
২। মিডিয়ার কল্যাণে আমাদের প্রাচ্যের আত্মানির্ভর ( স্পিরিচুয়াল) জীবন দর্শন কোন ঠাসা হয়ে , ভোগবাদী , স্বার্থপর , আত্মনির্ভর যে জীবন দর্শন কর্পোরেট পুঁজিবাদ চাপিয়ে দিতে চাইছে সেইটাকে ঠেকাবেন কি করে । এইটা বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে,
আত্মনির্ভর (আমিকেন্দ্রিক) জীবন দর্শন আর আত্মানির্ভর (স্পিরিচুয়াল) জীবন দর্শন কি জিনিস ?
মানুষের সচেতনতার স্তর মূলত৭ টা (ছবি দেখুন)।
নিচের প্রথম তিনটা লেভেলে আমরা নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকি। আমাদের শারীরীক বেঁচে থাকা, শরীর মনের নিরাপত্তাবোধ এবং আত্মসম্মান , এই প্রয়োজন মিটাতে সচেতন থাকি। এই আত্মনির্ভর সচেতনতার স্তর পেরিয়ে একেবারে উপরের স্তর গুলো আমার স্পিরিচুয়াল নিড বা আত্মার ক্ষুধাকে মেটাতে সাহায্য করে। যেমন ৫ থেকে ৭ হলো জীবনের মানে , পৃথিবীর জন্য কিছু একটা করার তাগিদ অনভব করা এবং সবচেয়ে উপরের স্তরের সচেতনতা হলো সেই তাগিদকে বাস্তবে রুপ দেওয়া , অর্থাৎ নিঃস্বার্থ ভাবে অপরের মঙ্গলের জন্য সেবা বা আত্মত্যাগ ।
চার নম্বর স্তরটা একটা পরিবর্তন যা আপনাকে আত্মকেন্দ্রিক থেকে আত্মাকেন্দ্রিক বা নিজের বাইরে অপরেরভালো হবে বলে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে ।
যারা শুধুমাত্র নিচের তিনটা লেভেলেই থেকে যায়, তারা সারাক্ষণ ভাবে – আমার যথেষ্ট নেই! যথেষ্ট টাকা নেই, প্রেম নেই, সম্মান নেই ইত্যাদি। এই তিনটা লেভেল আপনাকে সারাক্ষণ নিজের এই “নেই” এর অনুভূতিকে দূর করার জন্য তাড়িয়ে বেড়াবে। আপনি যা করবেন সব নিজের জন্য। কর্পোরেট পুঁজিবাদের মার্কেটিং এর কাজ হলো আপনাকে এই প্রথম তিনটা স্তরেই বেধে রাখা , কিছুতেই চতুর্থ স্তর অর্থাৎ অপরের স্বার্থ , অপরের ভালো ইত্যাদির প্রতি মনযোগী হওয়ার যে স্তর , সেই পরিবর্তনটাকে অনুভবই করতে দেবে না । কিন্তু আপনি যদি ছোটবেলা থেকেই শেষ তিনটা স্তরের সচেতনতা শিক্ষা পেয়ে আসেন, যা আমাদের প্রাচ্যের জীবন দর্শনের ভিতরে গেঁথে দেওয়া আছে , তাহলে আপনার উপর এই মার্কেটিং এর আছর কাটানো সম্ভব।
তবে , ছোটবেলায় যদি আপনার প্রথম তিনটা প্রয়োজন অর্থাৎ নিরাপত্তা, ভালোবাস ও সম্মান না মিটে থাকে তাহলে সারাজীবন বুকের ভিতরের এই ফাঁকা জায়গাটা আপনি পূরণের জন্য ছুটে বেড়াবেন। আর না বুঝে নতুন গাড়ি, বাড়ি, শাড়ি কিংবা প্রসাধন দিয়ে ঐ শূন্যতাকে ভরার চেষ্টা করবেন যা বস্তু দিয়ে ভরাট করা সম্ভব না ।
লাক্স সুন্দরীরা কি করছে ? আপনার এই অনেক অনেক নেইকে উস্কে দিচ্ছে আর বলছে লাক্স ব্যবহার করলেই তোমার এই শূন্যতাবোধ দূর হয়ে যাবে। এখন লাক্সকে বাধা দিবেন কি করে ? আসেন দেখি, ব্লগে লাল সালু কিংবা গৌরী সেনের মতন ‘নোংরা কথার ধাক্কা’ দিয়ে লাক্সকে ঠেকানো যায় কিনা ।
লাল সালু কিংবা গৌরী সেন এবং তাদের বন্ধুদের কথা হচ্ছে , লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী সকল মেয়ের একটা নেতিবাচক ইমেজ তৈরী করতে হবে এবং তারপর তাদেরকে " বেশ্যা" গালি দিয়ে, কিংবা তাদের ছবিশুদ্ধ নোংরা নোংরা পর্নোগ্রাফিক ছড়া লিখে " থাপ্পড় মেরে" বুঝিয়ে দিতে হবে , খবরদার , কর্পোরেট ফান্দে পড়িস না । এইটাকে বলে নেগেটিভ পিয়ার প্রেশার। এই মতবাদে বিশ্বাসীদের বার বার জিজ্ঞাসা করেও কোন সদুত্তর পাওয়া যায় নাই, এইটা লাক্স প্রতিযোগিতা কিংবা প্রতিযোগিনীদের কিভাবে বন্ধ করবে ?
মেয়েদেরকে এইভাবে টার্গেট করাটা ইফেক্টিভ কিভাবে হবে ?
তাদের জ্ঞানের ( আসলে জ্ঞানের অভাবের) নমুনা দেখে আমি একবারেই হতাশ। নিজেদের পক্ষে একটাও যদি প্রমান হাজির করতে পারতো! এই ব্লগেই একজন ব্লগারের বোন ঐ প্রতিযোগিতায় গেছে বলে পোস্ট আছে । সেই পোস্টে বিশিষ্ট এক্টিভিস্ট লাল সালুর মন্তব্যও আছে । কিন্তু তিনি সেইখানে তাঁর অব্যর্থ হাতিয়ার " নোঙরা ছড়া" লিখে উক্ত ব্লগারের বোনকে এই সম্পূর্ণ সর্বনাশা পথ থেকে ফেরানোর কোন চেষ্টাই করেন নাই। গৌরী সেনকেও সেই পোস্টে থাপ্পড় মারতে দেখা যায় নাই। তাইলে নিজেদের হাতিয়ার সম্পর্কে ইনাদের নিজেদেরই কোন ভরসা নাই?
থাক সে আলোচনা । বরং আমরা দেখি , নেগেটিভ পিয়ার প্রেশার এর সফল কোন প্রয়োগ আছে কিনা। কামাল আতাতুর্ক বোরখা বন্ধের আইন করে ব্যর্থ হোন। কেউ মানে না। তখন নতুন আইন করেন, তুরস্কের সকল বেশ্যাকে অবশ্যই হিজাব, বোরখা পরতে হবে । সাথে সাথে বোরখার প্রচলন নাই। তবে এর উল্টাটা করলে, মানে বাংলাদেশের সকল বেশ্যাদের ইভনিং গাউন পরাইলে সবাই রেখে ঢেকে চলা শুরু করবে বলে মনে হয় না।
তারপরেও আমরা দেশব্যাপি যদি এই মডেল কন্যাদের ভয়ংকর রকমের নেতিবাচক ব্যবহার উপহার দেই , তাহলে কি এই প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে?
চলেন আমরা কিছু সিনারিও আলোচনা করি ।
( অতি ভদ্ররা দয়া করে বিরক্ত হবেন না । নেগেটিভ পিয়ার প্রেশার একটা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি । অনেকেই দাবী করেন , ব্লগের জামায়াত - রাজাকারদের দৌরাত্ম্য কমানোতে গালি এবং ধর্ষকামী নানা রকম ইঙ্গিতের নাকি সফল প্রয়োগের ইতিহাস আছে । সুতরাং , সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধে এই ধরনের নেতিবাচক অত্যাচার কাজ করে কিনা , এইটা যথেষ্ট আলোচনার দাবী রাখে।
বিশেষ করে এই মতবাদের পক্ষে যেহেতু অলরেডি একজন নিক হুতি দিয়ে ফেলেছেন! )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

