আগের পোস্টে বলেছি , নেতিবাচক প্রেশার তৈরী করে কোন কিছুকে ঠেকানো একটা পৃথিবী খ্যাত পদ্ধতি । সিগারেট ছেড়ে দেওয়া কিংবা মদের আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়া , মাদকের এডিকশন ছাড়ানো - এই সব কাজে নেগেটিভ পিয়ার প্রেশার কাজে লাগানো হয়েছে । একটা বাচ্চা মেয়ের স্টার হইতে চাওয়া এবং বাপ মায়ের " মেয়েকে স্টার দেখতে চাওয়া" টাও একটা নেশাই । তো এই নেশা থেকে মুক্ত করার জন্য আমরা কি এই রকম কোন নেগেটিভ ইমেজ ক্যাম্পেইন করতে পারি?
পারি নিশ্চয়ই । এইটার দুই পদ্ধতি ,
১। ঝাপিয়ে পড়া
২। গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন
মানে সারা দেশব্যাপী ইউনিলিভার যে স্টার , সুপারস্টার মেয়েদের খুব প্রচার এবং প্রসার করছে , এর বিরুদ্ধ একটা স্রোত তোইরী করা । সেইটা করতে গেলে, আমাদের রাস্তা ঘাটে , দোকান পাটে , টেলিফোনে , পেপারে , টিভিতে নিন্দা , তিরস্কার , প্রতিবাদ , আন্দোলন , গালিগালাজ চালাইতে হবে । হয়ত শত শত লাল সালু , গৌরী সেন ভাড়া করতে হবে। যারা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ও বাস্তব ওয়ার্ল্ড - যেখানেই এই মেয়েদের পাবে ধরে ধরে থাপ্পড় মেরে লাল করে দেবে। তবে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে , এই ধরনের অশ্লীল ছড়া বেসড থাপ্পড় আন্দোলন হালে পানি পাবে না । শেষে আমাদের অবস্থা হবে জে এম বির মতন।
বাঙ্গালী স্বাভাবিক অবস্থায় এক্সট্রিমিজম পছন্দ করে না । ঘর হোক আর আব্রু হোক, আর হালের গরুই হোক, রক্ষার জন্য- ধরে ধরে সুন্দরী মেয়ে পিটাইলে পালটা পিটান খাওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে ।
বিকল্প হইতে পারে ডিজিটাল থাপ্পড়। ইতিহাস বলে মূলত তিনটা ক্ষেত্রে আমরা ব্লগে থাপ্পড় / গালি মেরেছি ।
১। রাজাকার
২। উলটা পালটা মডারেশন
৩। লাক্স সুন্দরী
গালি দিয়ে কি রাজাকারী পোস্ট বন্ধ করা গেসে? নাহ । তবে সামান্য কমানো গিয়েছিলো। কিন্তু , সত্যিকারের মাইল ফলক যেইটা এসেছিলো, ব্লগীয় নীতিমালা প্রণয়ন ঐটা করতে সমস্ত গালিবাজ ও গালিবিরোধী ব্লগারদের সম্মিলিত দীর্ঘ আন্দোলন করতে হয়েছিলো । কিন্তু মুশকিল হইলো , মডুদের ধরে থাপড়ানো হয় নাই, বরং গান্ধীর মত কলম বিরতি , ফ্লাডিং করে পোস্ট সরানো ইত্যাদি অসহযোগ আন্দোলন করেই সেই সাফল্য আনতে হয়েছে । নীতিমালার ভালো প্রয়োগ না ঘটলে বারংবার মডুকে লক্ষ্য করে ফান, তিরস্কার, প্রতিবাদী নানান কিসিমের পোস্ট দিয়েও কর্পোরেট মডুদের ঠিকি সোজা করা যায় নাই এখনো । আর তিন নাম্বারে সফলতার বদলে শহীদ এর ঘটনা ঘটে গেছে । আমরা আসলে এক্সট্রিমিজমকে খুব একটা পছন্দ করি না।
সুতরাং মডেলদের গালিগালাজ সমৃদ্ধ ডিজিটাল থাপ্পড় যেইখানেই ব্লগেই কাটা পড়ে গেছে , সেইখানে মেইন স্ট্রীম মিডিয়াতে প্রচার করতে পারার কোনই সম্ভাবনা নাই। এখন গাটের পয়সা খরচ করে কেউ কি পোস্টার করবে? মনে হয় না। আসলে এইগুলা হইলো উদ্ভট চিন্তাভাবনা । বেশ্যাদের ধরে ধরে ধর্ষণ করলে যেমন দেশে বেশ্যালয় বন্ধ হবে না , সেই রকম লাক্স সুন্দরীদের পদে পদে অপমান করার চেষ্টা করে নিজেদের চরিত্র, রুচি আর সৌজন্যবোধ হারানো ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হবে না ।
আরেকটা হইতে পারে ভদ্র কিন্তু শক্ত অসহযোগ আন্দোলন । আমরা এই মেয়েদের পাত্তা দিলাম না । কোম্পানির জিনিস পত্রকে পাত্তা দিলাম না । কিনলাম না । যেই সব পত্র পত্রিকা, টিভিতে এদের দেখায় , বিজ্ঞাপন নেয়, তাদের বাদ দিলাম। পুরাপুরি বয়কট অভিযান। এর আগে কোকাকোলা , কে এফ সি , ইহুদিদের জিনিস্পত্র বয়কটের অভিযান চালানো হয়েছে । কিন্তু এই ধরনের বয়কট আন্দোলনে সাধারনত যেইটা হয় , যথেষ্ট মানুষ অংশ নেয় না । মোটিভেশন ধরে রাখা যায় না । শেষ পর্যন্ত এই রকম বয়কট আন্দোলন ঝুলে যায় বা চুপ চাপ শেষ হয়ে যায়। গান্ধীর খদ্দরের আন্দোলন যদি কেউ করতে পারে , তাইলে হয়ত সম্ভব ছিলো। এই কাজে সবার কাছে প্রিয় এবং গ্রহনযোগ্য কোন ব্যক্তিত্ব লিড নিলে সফল করাটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব না । জাহানারা ইমাম সারা বাংলাদেশের তরুণ সম্প্রদায়কে ভীষণ ভাবে উজ্জীবীত করতে পেরেছিলেন , ঐ রকম কাউকে কি আমরা পেতে পারি বয়কট আন্দোলনে ?
আমার নিজের অবশ্য বিশ্বাস , নেগেটিভ ইমেজ ক্রিয়েট করে ভয়, অপমান ইত্যাদি করার চেয়ে বিকল্প পজিটিভ ইমেজ তোইরী করাটা অনেক বেশি কাজের । এই পুঁজিবাদেরই মার্কেট এর শক্তিশালী থিওরী হইলো পুশ - পুল থিওরী । অনেক ফ্যাক্টর থাকে মার্কেটে যা একটা নির্দিষ্ট পণ্যকে কিনতে বা গ্রহনযোগ্য করতে হয় মানুষকে আকর্ষণ দিয়ে টানে ( পুল ফ্যাক্টর) আরেকটা হইলো ধাক্কা দিয়ে কিছুকে সরানো (পুশ ফ্যাক্টর) ।
এখন বুঝতে হবে , এই রকম প্রতিযোগিতায় মেয়েরা কেন যায়?
১। টাকা ( দারিদ্র পুশ ফ্যাক্টর আর লোভ পুল ফ্যাক্টর)
২। খ্যাতি
এখন আমরা আগের পোস্টে দেখেছি প্রতিটা মানুষই নিজের জন্য চায় নিরাপত্তা , ভালোবাসা , সম্মান আর অপরের জন্য চায় ভালো কিছু করতে , এই পৃথিবীতে মানুষ মনে রাখবে এমন কোন অবদান রাখতে । আমরা যদি মেয়েদের কোন পজিটিভ ইমেজ তোইরী করতে পারি অন্য কোন পেশায় বা রুপে , মেয়েরা কি সেই দিকে ঝুঁকবে না ?
ছোট বেলা থেকে তাকে প্রাচ্যের দর্শন শেখানো বাপ মায়ের দায়িত্ব । টেলিভিশন থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখাটা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব । বাচ্চাকে টিভি দেখিয়ে খাওয়ানো , টিভি দিয়ে ব্যস্ত রাখা , এগুলির খারাপ ইফেক্ট এর প্রমান এখন ভুরি ভুরি । সুতরাং বাচ্চা বয়স - ২ বছর বয়স থেকেই বাচ্চাদের শিখাতে হবে , নিয়ন্ত্রিত জীবন ।
খেতে চাইলেই খাওয়াবেন না । ৪ ঘন্টা পর পর খেতে দিন। মাঝে কিচ্ছু না । একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার কাপড় পরান, খেলনা কিনে দিন। অতিরিক্ত কাপড় থাকলেও বের করবেন না । অতিরিক্ত খেলনা থাকলে গরীব বাচ্চাদের দিতে শেখান । তাকে মহৎ ব্যক্তিদের জীবন কাহিনী প্রতি রাতে পড়ে শোনান। পরিমিত জীবন , সৎ জীবন, সংযত জীবনের গল্প শোনান , প্রচুর বই পড়তে অভ্যাস করুন। আর প্রতিদিন তাকে ঘুম থেকে উঠে আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে জানান আপনি তাকে ভালোবাসেন। উতু তু তু , উম্মাহ উম্মাহ করে নয়, পরিষ্কার ভাষায় তাকে বলুন , আমি তোমাকে ভালোবাসি । তুমি যেমন দেখতে তেমনই সবচেয়ে সুন্দর । তুমি আজকে সারাদিন যা যা করেছো (ভালো কাজ) , যা যা শিখেছো, তার জন্য ভালোবাসি । আমি সব সময় তোমাকে রক্ষা করবো । তাকে জিজ্ঞেস করুন সে কি চায়, কেন চায়, কি তার ভালো লাগে , মন্দ লাগে । তার মতামত নিন। মতকে গুরুত্ব দিন । আমি বলেছি তাই করতে হবে । আমি বলেছি তাই করতে পারবে না - এই রকম আদেশের চাকর বানাবেন না । তাকে তার মত করে বুঝিয়ে বলুন। একটা বাচ্চা দুই বছর থেকেই ব্যক্তি স্বাতন্ত্র অনুভব করতে শুরু করে । একটা বাচ্চা হলেও সে একজন সম্মানিত ব্যক্তি, এইটা তাকে বুঝতে দিন।
এইভাবে গড়ে ওঠা একটা মেয়ে টিন এজ বয়সে পৌঁছে জীবনেও লাক্স সুন্দরী হওয়ার জন্য ছুটবে না । কিন্তু যদি ছুটতেই চায় , তাহলে কি করবেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

