somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করবেন কি ভাবে? ইফেক্টিভনেস আলোচনা ও সম্ভাব্য সমাধান- ২

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পোস্টে বলেছি , নেতিবাচক প্রেশার তৈরী করে কোন কিছুকে ঠেকানো একটা পৃথিবী খ্যাত পদ্ধতি । সিগারেট ছেড়ে দেওয়া কিংবা মদের আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়া , মাদকের এডিকশন ছাড়ানো - এই সব কাজে নেগেটিভ পিয়ার প্রেশার কাজে লাগানো হয়েছে । একটা বাচ্চা মেয়ের স্টার হইতে চাওয়া এবং বাপ মায়ের " মেয়েকে স্টার দেখতে চাওয়া" টাও একটা নেশাই । তো এই নেশা থেকে মুক্ত করার জন্য আমরা কি এই রকম কোন নেগেটিভ ইমেজ ক্যাম্পেইন করতে পারি?
পারি নিশ্চয়ই । এইটার দুই পদ্ধতি ,
১। ঝাপিয়ে পড়া
২। গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন

মানে সারা দেশব্যাপী ইউনিলিভার যে স্টার , সুপারস্টার মেয়েদের খুব প্রচার এবং প্রসার করছে , এর বিরুদ্ধ একটা স্রোত তোইরী করা । সেইটা করতে গেলে, আমাদের রাস্তা ঘাটে , দোকান পাটে , টেলিফোনে , পেপারে , টিভিতে নিন্দা , তিরস্কার , প্রতিবাদ , আন্দোলন , গালিগালাজ চালাইতে হবে । হয়ত শত শত লাল সালু , গৌরী সেন ভাড়া করতে হবে। যারা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ও বাস্তব ওয়ার্ল্ড - যেখানেই এই মেয়েদের পাবে ধরে ধরে থাপ্পড় মেরে লাল করে দেবে। তবে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে , এই ধরনের অশ্লীল ছড়া বেসড থাপ্পড় আন্দোলন হালে পানি পাবে না । শেষে আমাদের অবস্থা হবে জে এম বির মতন।

বাঙ্গালী স্বাভাবিক অবস্থায় এক্সট্রিমিজম পছন্দ করে না । ঘর হোক আর আব্রু হোক, আর হালের গরুই হোক, রক্ষার জন্য- ধরে ধরে সুন্দরী মেয়ে পিটাইলে পালটা পিটান খাওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে ।

বিকল্প হইতে পারে ডিজিটাল থাপ্পড়। ইতিহাস বলে মূলত তিনটা ক্ষেত্রে আমরা ব্লগে থাপ্পড় / গালি মেরেছি ।
১। রাজাকার
২। উলটা পালটা মডারেশন
৩। লাক্স সুন্দরী

গালি দিয়ে কি রাজাকারী পোস্ট বন্ধ করা গেসে? নাহ । তবে সামান্য কমানো গিয়েছিলো। কিন্তু , সত্যিকারের মাইল ফলক যেইটা এসেছিলো, ব্লগীয় নীতিমালা প্রণয়ন ঐটা করতে সমস্ত গালিবাজ ও গালিবিরোধী ব্লগারদের সম্মিলিত দীর্ঘ আন্দোলন করতে হয়েছিলো । কিন্তু মুশকিল হইলো , মডুদের ধরে থাপড়ানো হয় নাই, বরং গান্ধীর মত কলম বিরতি , ফ্লাডিং করে পোস্ট সরানো ইত্যাদি অসহযোগ আন্দোলন করেই সেই সাফল্য আনতে হয়েছে । নীতিমালার ভালো প্রয়োগ না ঘটলে বারংবার মডুকে লক্ষ্য করে ফান, তিরস্কার, প্রতিবাদী নানান কিসিমের পোস্ট দিয়েও কর্পোরেট মডুদের ঠিকি সোজা করা যায় নাই এখনো । আর তিন নাম্বারে সফলতার বদলে শহীদ এর ঘটনা ঘটে গেছে । আমরা আসলে এক্সট্রিমিজমকে খুব একটা পছন্দ করি না।

সুতরাং মডেলদের গালিগালাজ সমৃদ্ধ ডিজিটাল থাপ্পড় যেইখানেই ব্লগেই কাটা পড়ে গেছে , সেইখানে মেইন স্ট্রীম মিডিয়াতে প্রচার করতে পারার কোনই সম্ভাবনা নাই। এখন গাটের পয়সা খরচ করে কেউ কি পোস্টার করবে? মনে হয় না। আসলে এইগুলা হইলো উদ্ভট চিন্তাভাবনা । বেশ্যাদের ধরে ধরে ধর্ষণ করলে যেমন দেশে বেশ্যালয় বন্ধ হবে না , সেই রকম লাক্স সুন্দরীদের পদে পদে অপমান করার চেষ্টা করে নিজেদের চরিত্র, রুচি আর সৌজন্যবোধ হারানো ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হবে না ।

আরেকটা হইতে পারে ভদ্র কিন্তু শক্ত অসহযোগ আন্দোলন । আমরা এই মেয়েদের পাত্তা দিলাম না । কোম্পানির জিনিস পত্রকে পাত্তা দিলাম না । কিনলাম না । যেই সব পত্র পত্রিকা, টিভিতে এদের দেখায় , বিজ্ঞাপন নেয়, তাদের বাদ দিলাম। পুরাপুরি বয়কট অভিযান। এর আগে কোকাকোলা , কে এফ সি , ইহুদিদের জিনিস্পত্র বয়কটের অভিযান চালানো হয়েছে । কিন্তু এই ধরনের বয়কট আন্দোলনে সাধারনত যেইটা হয় , যথেষ্ট মানুষ অংশ নেয় না । মোটিভেশন ধরে রাখা যায় না । শেষ পর্যন্ত এই রকম বয়কট আন্দোলন ঝুলে যায় বা চুপ চাপ শেষ হয়ে যায়। গান্ধীর খদ্দরের আন্দোলন যদি কেউ করতে পারে , তাইলে হয়ত সম্ভব ছিলো। এই কাজে সবার কাছে প্রিয় এবং গ্রহনযোগ্য কোন ব্যক্তিত্ব লিড নিলে সফল করাটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব না । জাহানারা ইমাম সারা বাংলাদেশের তরুণ সম্প্রদায়কে ভীষণ ভাবে উজ্জীবীত করতে পেরেছিলেন , ঐ রকম কাউকে কি আমরা পেতে পারি বয়কট আন্দোলনে ?

আমার নিজের অবশ্য বিশ্বাস , নেগেটিভ ইমেজ ক্রিয়েট করে ভয়, অপমান ইত্যাদি করার চেয়ে বিকল্প পজিটিভ ইমেজ তোইরী করাটা অনেক বেশি কাজের । এই পুঁজিবাদেরই মার্কেট এর শক্তিশালী থিওরী হইলো পুশ - পুল থিওরী । অনেক ফ্যাক্টর থাকে মার্কেটে যা একটা নির্দিষ্ট পণ্যকে কিনতে বা গ্রহনযোগ্য করতে হয় মানুষকে আকর্ষণ দিয়ে টানে ( পুল ফ্যাক্টর) আরেকটা হইলো ধাক্কা দিয়ে কিছুকে সরানো (পুশ ফ্যাক্টর) ।

এখন বুঝতে হবে , এই রকম প্রতিযোগিতায় মেয়েরা কেন যায়?

১। টাকা ( দারিদ্র পুশ ফ্যাক্টর আর লোভ পুল ফ্যাক্টর)
২। খ্যাতি

এখন আমরা আগের পোস্টে দেখেছি প্রতিটা মানুষই নিজের জন্য চায় নিরাপত্তা , ভালোবাসা , সম্মান আর অপরের জন্য চায় ভালো কিছু করতে , এই পৃথিবীতে মানুষ মনে রাখবে এমন কোন অবদান রাখতে । আমরা যদি মেয়েদের কোন পজিটিভ ইমেজ তোইরী করতে পারি অন্য কোন পেশায় বা রুপে , মেয়েরা কি সেই দিকে ঝুঁকবে না ?

ছোট বেলা থেকে তাকে প্রাচ্যের দর্শন শেখানো বাপ মায়ের দায়িত্ব । টেলিভিশন থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখাটা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব । বাচ্চাকে টিভি দেখিয়ে খাওয়ানো , টিভি দিয়ে ব্যস্ত রাখা , এগুলির খারাপ ইফেক্ট এর প্রমান এখন ভুরি ভুরি । সুতরাং বাচ্চা বয়স - ২ বছর বয়স থেকেই বাচ্চাদের শিখাতে হবে , নিয়ন্ত্রিত জীবন ।

খেতে চাইলেই খাওয়াবেন না । ৪ ঘন্টা পর পর খেতে দিন। মাঝে কিচ্ছু না । একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার কাপড় পরান, খেলনা কিনে দিন। অতিরিক্ত কাপড় থাকলেও বের করবেন না । অতিরিক্ত খেলনা থাকলে গরীব বাচ্চাদের দিতে শেখান । তাকে মহৎ ব্যক্তিদের জীবন কাহিনী প্রতি রাতে পড়ে শোনান। পরিমিত জীবন , সৎ জীবন, সংযত জীবনের গল্প শোনান , প্রচুর বই পড়তে অভ্যাস করুন। আর প্রতিদিন তাকে ঘুম থেকে উঠে আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে জানান আপনি তাকে ভালোবাসেন। উতু তু তু , উম্মাহ উম্মাহ করে নয়, পরিষ্কার ভাষায় তাকে বলুন , আমি তোমাকে ভালোবাসি । তুমি যেমন দেখতে তেমনই সবচেয়ে সুন্দর । তুমি আজকে সারাদিন যা যা করেছো (ভালো কাজ) , যা যা শিখেছো, তার জন্য ভালোবাসি । আমি সব সময় তোমাকে রক্ষা করবো । তাকে জিজ্ঞেস করুন সে কি চায়, কেন চায়, কি তার ভালো লাগে , মন্দ লাগে । তার মতামত নিন। মতকে গুরুত্ব দিন । আমি বলেছি তাই করতে হবে । আমি বলেছি তাই করতে পারবে না - এই রকম আদেশের চাকর বানাবেন না । তাকে তার মত করে বুঝিয়ে বলুন। একটা বাচ্চা দুই বছর থেকেই ব্যক্তি স্বাতন্ত্র অনুভব করতে শুরু করে । একটা বাচ্চা হলেও সে একজন সম্মানিত ব্যক্তি, এইটা তাকে বুঝতে দিন।

এইভাবে গড়ে ওঠা একটা মেয়ে টিন এজ বয়সে পৌঁছে জীবনেও লাক্স সুন্দরী হওয়ার জন্য ছুটবে না । কিন্তু যদি ছুটতেই চায় , তাহলে কি করবেন?

১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×